ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ। ছবি: নিউজবাংলা

হামলায় জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে আমির হামজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘ছাত্রদল সন্ত্রাসী সংগঠন ৷ এরা বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে ঢুকে অরাজকতার চেষ্টা করে। আমরা খবর পেয়েছি, আজকেও তারা বড় ধরনের অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করবে। এই সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আমরা হালকা ‘নাশতা পানি’ খাওয়াইছি।”

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ প্রায় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমানুল্লাহ আমান।

আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুর ১২টায় পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি ছিল। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়াতে খাবার তৈরি করতে একটু দেরি হচ্ছিল ৷ তাই নেতা-কর্মীরা টিএসসির ভিতরে এসে অবস্থান নেন।

‘এ সময় ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান পিকুলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বহিরাগত অনেক নেতা-কর্মীসহ আমাদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় আমাদের ছয়জন গুরুতর আহতসহ প্রায় ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে পিকুলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি বারবার ফোন কেটে দেন।

এক ভিডিওতে দেখা যায়, পিকুলের নেতৃত্বে হামলার সময়ে সেখানে ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা।

হামলায় জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে আমির হামজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছাত্রদল সন্ত্রাসী সংগঠন ৷ এরা বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে ঢুকে অরাজকতার চেষ্টা করে।

‘‘আমরা খবর পেয়েছি, আজকেও তারা বড় ধরনের অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করবে। এই সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আমরা হালকা ‘নাশতা পানি’ খাওয়াইছি।”

কী ধরনের অরাজকতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খুনি জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসে মিলাদ মাহফিল, খাবার বিতরণ এগুলোই অরাজকতা।”

ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্বপালনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আমজাদ হোসেন হৃদয়।

আমজাদ বলেন, ‘ছাত্রদলের ওপর হামলা শুরু হলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় আমির হামজা আমাকে থাপ্পড় দেন। আমি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি আমার ওপর আরও চড়াও হন।'

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ। পূর্ব অনুমিত ব্যতিত তাদের (ছাত্রদল) এ ধরণের অপকর্ম ও স্বেচ্ছাচারী কাজের দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না। তাদেরই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থির করার কোন অপচেষ্টার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না, বরং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

যারা হামলা চালিয়েছে তাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী ঘটেছে সেটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ, প্রক্টরিয়াল টিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘সৎ সাহস থাকলে মাদকের বিরুদ্ধে প্রোগ্রাম করুন’
ঢাবিতে ছাত্রদল নেত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
হেফাজতের তাণ্ডব: ছাত্রদলের মিছিল থেকে গাড়িতে ঢিল
ছাত্রদলের ১৩ নেতা-কর্মী রিমান্ডে
ঢাবিতে ছাত্রদলের ঝটিকা মিছিল

শেয়ার করুন

মন্তব্য