হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ

চিকিৎসক সাবিরা রহমান

হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেটা বোঝা যাচ্ছে, সাবিরাকে ধারাল অস্ত্র দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। তার ঘাড়ে ও পিঠে ক্ষতের দাগ পাওয়া গেছে। ঘাড়ের নিচে গভীর ক্ষতের দাগ আছে। তাকে মার্ডার করার পরেই শরীরে আগুন লাগানো হয়েছে।’

চিকিৎসক সাবিরা রহমানকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। সুরতহালে তার শরীরে ধারাল অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মুখমণ্ডল ছিল ঝলসানো।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের ৫০/১ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রমনা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।

সাবিরা যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন, সেটি তিনি এ বছরের জানুয়ারিতে ভাড়া নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বাড়িওয়ালা মাহবুব। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি এই সময় লালমাটিয়া ছিলাম। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া দেখতে পান পাশের বাসার এক নারী।

‘তার এই বাড়িতে একটা ফ্ল্যাট আছে। তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই সাবলেটে ভাড়া থাকা মেয়েটা আসে। মেয়েটিকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি রুম লক করা। পরে মিস্ত্রি এনে লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি রুম ধোঁয়াচ্ছন্ন। এর কিছুক্ষণ পরে দেখি তিনি বেডের ওপরে পড়ে আছেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে ফোন করা হয়।’

সাবিরার আত্মীয়রা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাবিরা। স্বামী শামসুদ্দীন আজাদের সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। এক বছর ধরে তারা আলাদা থাকছিলেন। অবশ্য তাদের ভেতর ভালো যোগাযোগ ছিল।

সাবিরার দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছেলে আগের স্বামীর। তার ছেলে বিবিএ পড়ছে; আর মেয়ের বয়স ৯ বছর।

হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ

চিকিৎসক সাবিরার এক আত্মীয় জাকিয়া খন্দকার মমি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাবিরা গ্রিন লাইফ হাসপাতালে বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরি করছেন। ফ্ল্যাটে উনি আর ওনার মেয়ে থাকতেন।

‘তার স্বামী এক্স ব্যাংকার, ন্যাশনাল ব্যাংকে ছিলেন। আজকে সাবিরার অফিস ছিল এবং বেশ কয়েকজনের সাথে বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। মেয়ে গতকাল নানুর বাসায় গিয়েছিল। ছেলে নানুর বাসায় থাকে। আমার মনে হয় আশপাশের কেউ শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করেছে।’

ঘটনাস্থলে ছুটে আসা সাবিরার স্বামী শামসুদ্দীন আজাদ বলেন, ‘আমি বেলা ১১টার দিকে খবর পেয়ে এখানে আসি। পুলিশ প্রথমে ভেতরে ঢুকতে দেয় নাই। পরে ভেতরে ঢুকে দেখি রক্তাক্ত লাশ। আমি কাউকে সন্দেহ করতে পারছি না। পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

সাবিরা রহমানের মামাতো ভাই মো. দুলাল বলেন, ‘প্রথমে আমি শুনেছিলাম আমার বোন আগুনে পুড়ে মারা গেছে। পরবর্তীতে পুলিশের সাথে কথা বলি এবং এখানে এসে দেখলাম যে তার গলা এবং পিঠে আঘাতের দাগ আছে। এখন মনে হচ্ছে এটা একটা হত্যাকাণ্ড।’

সাবিরা যে ফ্ল্যাটটিতে ভাড়া থাকতেন সেখানে দুই নারী শিক্ষার্থী সাবলেটে ভাড়া নিয়েছিলেন। একজন ঈদের পর বাড়ি থেকে আসেননি। অপরজন ঢাকাতেই ছিলেন।

ঢাকায় থাকা সাবলেট ভাড়াটিয়া জানান, মর্নিংওয়াক করে সকাল আনুমানিক ১০টায় এসে দেখতে পান সাবিরার রুমটা বন্ধ। রুম থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। পরে তিনি বাড়ির সুপারভাইজার এবং দারোয়ানকে ডেকে রুমের লকটি ভাঙেন। ভাঙার পর দেখেন রুমটা ধোঁয়াচ্ছন্ন এবং সাবিরা বেডে শুয়ে আছেন। এরপর পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

পুলিশ সাবিরার গায়ে তিন-চারটি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, এটি হত্যাকাণ্ড। পরে ভবনের সুপারভাইজার, দারোয়ান ও সাবলেটে ভাড়ায় থাকা নারী শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেটা বোঝা যাচ্ছে, সাবিরাকে ধারাল অস্ত্র দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। তার ঘাড়ে ও পিঠে ক্ষতের দাগ পাওয়া গেছে। ঘাড়ের নিচে গভীর ক্ষতের দাগ আছে। তাকে মার্ডার করার পরেই শরীরে আগুন লাগানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাবিরার রুমের ভেতরে সবকিছু এলোমেলোভাবে ছড়ানো-ছিটানো ছিল। তার বালিশ, কাঁথা এলোমেলো ছিল। সে উপুড় হয়ে ছিল। আঘাতগুলো সব পেছন থেকে করা হয়েছে। ঘাড়ে দুইটা ও পিঠে দুইটাসহ মোট চারটি আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। এর বাইরে গলার নিচে আঁচড়ের মতো দাগ আছে। শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে মারা হয় নাই, তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয়েছে। যে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয়েছে, সে অস্ত্রটি এখানে পাওয়া যায়নি। এই কিলারকে প্রফেশনাল কিলার মনে হয়নি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চাঁন-জাদু ও ব্যান্ডেজের ৫ জন গ্রেপ্তার

চাঁন-জাদু ও ব্যান্ডেজের ৫ জন গ্রেপ্তার

কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতরা গ্যাং কালচারের নামে নিজেদের হিরোইজম প্রদর্শন করতো। তারা পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সমাজে অরাজকতা তৈরি করতো। দল বেঁধে চলাফেরা করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দিষ্ট গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারিতে লিপ্ত হতো। মেয়েদের ইভটিজিং করতো।

রাজধানীর মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা মুগদা এলাকার ‘চাঁন-জাদু’ ও ‘ব্যান্ডেজ’ গ্রুপের সদস্য।

মুগদা থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার এ নিয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয় বিস্তারিত।

গ্রেপ্তার কিশোররা হলেন চাঁন-জাদু গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী মো. জাদু, মো. রবিন ও নয়ন ইসলাম শুভ এবং ব্যান্ডেজ গ্রুপের মো. হিরা ও মো. রিপন।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আবদুল আহাদ জানান, জাদু-চাঁন ও ব্যান্ডেজ গ্রুপ ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের দুটি সক্রিয় গ্যাং। তাদের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে একটা তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সবাইকে গ্রেপ্তারে মতিঝিল বিভাগ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা গ্যাং কালচারের নামে নিজেদের হিরোইজম প্রদর্শন করতো। তারা পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সমাজে অরাজকতা তৈরি করতো। দল বেঁধে চলাফেরা করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দিষ্ট গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারিতে লিপ্ত হতো। মেয়েদের ইভটিজিং করতো।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্যাং দুটির সদস্যরা বিভিন্ন অনলাইন গেমের নামে সমবয়সী কিশোরদের সংঘবদ্ধ করে জুয়া খেলার ব্যবস্থা করতো। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও সিঁধেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হওয়ার তথ্য আছে পুলিশের হাতে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে বলে জানান আবদুল আহাদ।

শেয়ার করুন

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলে গরুর গাড়ি দিয়ে রাজপথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সিপিবি। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব। রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে না দিলে রাজপথে গরুর গাড়ি চালানোর হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সমানে বুধবার রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ হুমকি দেন।

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সরকারি ঘোষণার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এতে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, রিকশাভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদৎ খাঁ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল ইসলাম নাদিমসহ অনেকে।

বিক্ষোভ সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইজিবাইক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেয়া না হলে সরকারকেও আমরা চলতে দেব না। সরকারকে শিক্ষা দিতে আমরা গরুর গাড়ি চালাব।

‘রাজপথ গরুর গাড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব। একটা এসি গাড়িও আমরা চলতে দেব না।’

আরও পড়ুন: সারা দেশে বন্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান

তিনি বলেন, ‘রিকশার গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ব্রেক কীভাবে আরেকটু উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাকে দায়িত্ব দিলে রিকশাচালক ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করে সেসব ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু অহেতুক অজুহাত তুলে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক বন্ধ করা চলবে না।’

গরুর গাড়িতে সরকারকে শিক্ষার হুঁশিয়ারি সিপিবির

সমাবেশে বলা হয়, সারা দেশে লাখ লাখ রিকশাচালক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অথবা সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছেন। এই রিকশা শ্রমিকদের অমানবিক শ্রম লাঘব করেছে। গণপরিবহন হিসেবে দেশের শহর কিংবা গ্রামে রিকশা অপরিহার্য। এ অবস্থায় সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে চালকদের পথে বসিয়ে দিতে চাইছে।

এতে এক বক্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে আমরা রিকশা নিয়ে গর্ব করে থাকি। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে পাঁচ তারকাবিশিষ্ট হোটেলগুলোতে রিকশার ঝলমলে প্রদর্শনী হয়।

‘প্রবাসী বাঙালিরা পরিবেশবান্ধব যানটিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।’

শ্রমিকনেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে সারা দেশে অন্তত পাঁচ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাবে। ‘অমানবিক’ এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

তাদের ভাষ্য, বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে হবে। রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দিতে হবে। সমস্যার যুক্তিসংগত সমাধানে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খানও

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার পথে আগা খানও

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আগা খান মিন্টু

ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আগা খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৪ আসনে উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগা খান মিন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহজালাল বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোস্তাকুর রহমান, বিএনএফের কে ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ও জাসদের আবু হানিফ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে আগা খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুলাই।

এর মধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আসনটিতে আর ভোট হচ্ছে না।

তবে ২৮ তারিখের উপনির্বাচনে ভোট হবে সিলেট-৩ আসনে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সঙ্গে লড়বেন জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী।

শেয়ার করুন

ঢাকায় নতুন বিধিনিষেধের পরিকল্পনা নেই

ঢাকায় নতুন বিধিনিষেধের পরিকল্পনা নেই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার সংক্রমণের মাত্রা কমে আসবে। ফাইল ছবি

ঢাকাকে আশপাশের জেলাগুলো থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ফলে ঢাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে এসেছে। কিন্তু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আবারও বিধিনিষেধ দেয়া হতে পারে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। রাজধানীকে ঘিরে রাখা সাত জেলায় চলছে কঠোর লকডাউন। বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন।

এই লকডাউন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ঢাকাতে নতুন করে লকডাউন দেয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে বুধবার এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার চারপাশে যেসব জেলা থেকে করোনা রোগী আসার আশঙ্কা ছিল, সেই স্থানগুলোতে লকডাউন দেয়া হয়েছে। সেই সব জেলা থেকে যদি ঢাকাতে রোগী আসা আমরা বন্ধ করতে পারি, তাহলে ঢাকায় লকডাউন দেয়ার দরকার হবে না।

‘তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঢাকার চারপাশ থেকে যদি রোগী আসতে থাকে, তাহলে এমন না-ও হয়ে পারে। ঢাকার করোনা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে লকডাউনের প্রয়োজন হবে। বর্তমান সময়ে ঢাকাকে রক্ষা করতে আশপাশে জেলাগুলোতে লকডাউনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে ঢাকামুখী মানুষের চাপ একটু হলেও কমে আসছে।’

বর্তমানে করোনা দ্বিতীয় না তৃতীয় ঢেউ চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রোবেদ আমিন বলেন, ‘আমরা এখনও করোনা দ্বিতীয় ঢেউ শেষ করেতে পারিনি। কিন্তু আমরা যদি সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে রেখে দিতে পারতাম, তাহলে করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকতো। এমন পরিস্থিতি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ রেখে দিতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো। কিন্তু আমার সেটা পারিনি। যে কারণে এটাকে দ্বিতীয় ঢেউ অথবার তৃতীয় ঢেউ যা-ই বলেন না কেন, সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে—এটা ভালো খবর নয়।’

সারা দেশে লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনা গঠিত কারিগরি কমিটি এখন সারা দেশ নতুন করে লকডাউনের পরার্মশ দেয়নি। সারা দেশে লকডাউন তখনই দেয়া হবে যখন সারা দেশে সংক্রমণের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হবে। এটা এখনও হয়নি। এ ছাড়া কোনো স্থানে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে স্থানীয়ভাবে সেই সব এলাকায় লকডাউন দেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

‘নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিতে নকশা তৈরি করব’

‘নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিতে নকশা তৈরি করব’

নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিয়ে যেতে মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র বলেন, ‘নর্দমাগুলোর নকশা যেভাবে করা হয়েছে, তাতে ঢাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার ধারণক্ষমতা সেগুলোর নেই। আমরা যে মহাপরিকল্পনা করছি, তার আওতায় সেভাবেই নকশা তৈরি করব, যাতে করে বৃষ্টির পানি সরাসরি খালে চলে যেতে পারে। পানি সরাসরি খালে চলে গেলে ইনশাল্লাহ আমাদের আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এটা সম্ভব কিন্তু অত্যন্ত কঠিন কাজ।’

নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিয়ে যেতে নকশা তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নর্দমাগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার নগরীর মৌচাক-মালিবাগ রেলগেটের মাঝামাঝি ফরচুন শপিং মলের কাছে নর্দমা পরিষ্কারকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, ‘আজ আমি যেখানে আসলাম, আপনারা দেখেছেন এখানে যেভাবে নর্দমা করা হয়েছে, তাতে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা যে মহাপরিকল্পনা করছি, তার আওতায় সেভাবেই নকশা তৈরি করব, যাতে করে বৃষ্টির পানি সরাসরি খালে চলে যেতে পারে। পানি সরাসরি খালে চলে গেলে ইনশাল্লাহ আমাদের আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এটা সম্ভব কিন্তু অত্যন্ত কঠিন কাজ।’

ব্যারিস্টার শেখ তাপস আরও বলেন, ‘নর্দমাগুলোর নকশা যেভাবে করা হয়েছে, তাতে ঢাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার ধারণক্ষমতা সেগুলোর নেই। সুতরাং আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হাতে নিতে হবে, বন্দোবস্ত করতে হবে এবং মূল নর্দমা, নালা, প্রশাখাগুলো- সবগুলো নতুনভাবে নকশা করতে হবে।’

‘বৃষ্টির পানি ধারণক্ষমতা আমাদের বাড়াতে হবে। আমরা এখন যে ধারণক্ষমতা দেখি, তাতে এক পশলা বৃষ্টি হলেই পানি যাওয়ার সুযোগ থাকে না, নর্দমাগুলো উপচে পড়ে।’ এমন মন্তব্য করেন ডিএসসিসি মেয়র।

‘নর্দমার পানি সরাসরি খালে নিতে নকশা তৈরি করব’

নগরীর মৌচাক-মালিবাগ রেলগেট এলাকায় নর্দমা পরিষ্কারকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কীটনাশক ও তেল চুরিরোধে কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস ।

এরপরে ঢাকা সিটি মেয়র খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজার, বিনত বিবি'র মসজিদ, সিক্কা টুলি পার্ক পরিদর্শন করেন। তার আগে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের ও মুন্সি আবুল হাশেমসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

জামিন পেলেও বিদেশ যেতে পারবেন না ডিআইজি পার্থ

জামিন পেলেও বিদেশ যেতে পারবেন না ডিআইজি পার্থ

ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন পার্থ বণিক। ছবি: নিউজবাংলা

ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনায় করা মামলায় গত ১৮ জুন জামিন পেয়েছেন পার্থ বণিক। দুদকের আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ বিচারাধীন। তিনি বিদেশ চলে যেতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচার মামলার পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) পার্থ গোপাল বণিকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ইকবাল হোসেন এ আদেশ দেন। পার্থর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদনটি করেন দুদকের বিশেষ পিপি মোশারফ হোসেন কাজল ।

ঘুষের ৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনায় করা মামলায় গত ১৮ জুন জামিন পেয়েছেন পার্থ বণিক।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ বিচারাধীন। তিনি বিদেশ চলে যেতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি যাতে বিদেশ যেতে না পারেন সেজন্য পুলিশের বিশেষ শাখাকে (এসবি) নির্দেশ দেয়া জরুরি।

শুনানি শেষে আদালত এসবিকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নির্দেশ দেয়। সেইসঙ্গে সব বন্দরের ইমিগ্রেশনকে আদেশের অনুলিপি দিতে বলে।

পার্থ গোপাল বণিক গত ১৭ জুন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ইকবাল হোসেনেরই ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরদিন সকালে মুক্তি পান।

এরপর ২১ জুন দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, পার্থ বণিকের জামিন বাতিলে উচ্চ আদালতে যাবে দুদক।

তিনি বলেন, ডিআইজি প্রিজন্স থাকা অবস্থায় পার্থ বণিকের বাড়িতে ৮০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে টাকাটা অবৈধ বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। সেই মামলার বিচারকাজ চলছে।

‘গত বৃহস্পতিবার পার্থর হিয়ারিং হয়েছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে জামিন হয়েছে। আমি মনে করি, তার জামিনের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নেয়া উচিত এবং জামিনটা যাতে বাতিল করা যায় সেজন্য আমাদের কার্যক্রম চলছে।’

কার্যক্রমটা কীভাবে করবেন জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পার্থর যে জামিন হয়েছে, সেটা বাতিলের জন্য আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ৪ নভেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১৫ ডিসেম্বর।

চার্জশিটে বলা হয়, পার্থ বণিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন বলে দুদকের অনুসন্ধান টিম তথ্য পায়। ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই পার্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ জানান, তার বাসায় নিজ হেফাজতে ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। তবে অর্থের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। তাৎক্ষণিকভাবে পার্থকে নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান টিম ঢাকার কলাবাগান গ্রিন রোডে আবাসিক এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরদিন পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে সেদিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) পার্থর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চার্জশিটে ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

রুমমেটকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা

রুমমেটকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা

নদীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার রুমমেট মারিয়াম খানম। তিনি জানান, নদী ও তিনি মালিবাগের বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকেন। তারা দুজনই বনশ্রী এলাকায় একটি বোরকা হাউসে চাকরি করতেন। আজ তিনি কাজে গেলেও নদী যাননি। বেলা ৩টার দিকে নদী তাকে ভিডিও কল দিয়ে বাসায় আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ভিডিও কলে রেখেই নদী ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তিনি নিজেই বাসায় এসে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকার একটি বাসায় রুবিনা ইয়াছমিন নদী নামের এক তরুণীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার তথ্য মিলেছে।

তার রুমমেট জানান, তাকে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেন ২২ বছর বয়সী নদী।

বুধবার বেলা ৩টার দিকে মালিবাগের গুলবাগের একটি বাসায় ঘটনাটি ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নদীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার রুমমেট মারিয়াম খানম। তিনি জানান, নদী ও তিনি মালিবাগের বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকেন। তারা দুজনই বনশ্রী এলাকায় একটি বোরকা হাউসে চাকরি করতেন। আজ তিনি কাজে গেলেও নদী যাননি।

বেলা ৩টার দিকে নদী তাকে ভিডিও কল দিয়ে বাসায় আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ভিডিও কলে রেখেই নদী ফ্যানের সঙ্গে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তিনি নিজেই বাসায় এসে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

মারিয়াম জানান, দুই বছর আগে সম্পর্ক করে সামিউল নামে একটি ছেলেকে বিয়ে করেন নদী। কিন্তু তার পরিবার এ বিয়েতে রাজি ছিল না। কিছুদিন পরেই তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে নদীর তেমন সম্পর্ক ছিল না। আর বিষয়টি নিয়ে তিনি ভীষণ বিরক্ত ছিলেন।

নদীর খালাতো বোন তামান্না আক্তার জানান, তাদের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। নদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন।

কিন্তু কী কারণে নদি গলায় ফাঁস দিয়েছেন, তা বলতে পারেনি তিনি।

এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নদী ছিলেন বড়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহজাহানপুর থানাকে জানানো হয়েছে।

শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক তমা বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে এসেছি। লাশ কী অবস্থায় ছিল, কীভাবে ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন