চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি

চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি

চিকিৎসক সাবিরা রহমান

রমনা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, কলাবাগান থানা ও রমনা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। সেখানে কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগও।

রাজধানীর কলাবাগানের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে সিআইডি।

ওই চিকিৎসকের নাম সাবিরা রহমান। দুপুরের দিকে কলাবাগানের ৫০/১ নং বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে তার মরদেহ পাওয়ার খবর পায় কলাবাগান থানা পুলিশ।

রমনা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, কলাবাগান থানা ও রমনা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। সেখানে কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগও।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলছেন, প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে ওই চিকিৎসককে হত্যা করা হয়েছে।

১৫০৯ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে

জাকিয়া খন্দকার মমি নামে সাবিরার এক আত্মীয় বলেন, ‘সে (সাবিরা) আমার মেজো খালার মেয়ে। বয়স ৪৭ এর মতো। গ্রিন লাইফ হাসপাতালে বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরি করছেন। ফ্লাটে উনি আর ওনার মেয়ে থাকতো। তার স্বামী এক্স ব্যাংকার, ন্যাশনাল ব্যাংকে ছিলেন। আজকে সাবিরার অফিস ছিল এবং বেশ কয়েকজনের সাথে বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। মেয়ে গতকাল নানুর বাসায় গিয়েছিলেন। ছেলে নানুর বাসায় থাকে। আমার মনে হয় আশেপাশের কেউ শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করেছে।’

১৫০৯ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে

সাবিরা ফ্ল্যাটটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভাড়া নিয়েছিলেন বলে জানালেন বাড়িওয়ালা মাহবুব। তিনি বলেন, ‘আমি এই সময় লালমাটিয়া ছিলাম। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া দেখতে পান পাশের বাসার এক নারী। তার এই বাড়িতে একটা ফ্ল্যাট আছে। তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই সাবলেট মেয়েটা আসে। মেয়েটিকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখে রুম লক করা। পরে মিস্ত্রি এনে লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি রুম ধোঁয়াচ্ছন্ন। এর কিছুক্ষণ পরে দেখি তিনি বেডের উপরে পড়ে আছেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে ফোন দেয়া হয়।’

১৫১০ ঘন্টা ০৬ মিনিট আগে

সিআইডি অফিসার রাসেল জানান, সাবিরার রুমের ভিতরে সবকিছু এলোমেলোভাবে ছড়ানো-ছিটানো ছিল। তার বালিশ কাঁথা এলোমেলো ছিল। সে উপর হয়েছিল। আঘাতগুলো সব পেছন থেকে করা হয়েছে। ঘাড়ে দুইটা ও পিঠে দুইটাসহ মোট চারটি আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। এর বাইরে গলার নিচে আঁচড়ের মতো দাগ আছে। শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে মারা হয় নাই তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয়েছে। যে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয়েছে সে অস্ত্রটি এখানে পাওয়া যায়নি। এই কিলারকে প্রফেশনাল কিলার মনে হয়নি।

১৫১০ ঘন্টা ০৬ মিনিট আগে

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির বলেন, ‘যেটা বোঝা যাচ্ছে সাবিরাকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা হত্যা করা হয়েছে। তার ঘাড়ে ও পিঠে ক্ষতের দাগ পাওয়া গেছে। ঘাড়ের নিচে গভীর ক্ষতের দাগ আছে। তাকে মার্ডার করার পরেই শরীরে আগুন লাগানো হয়েছে। আগুন লাগার কোনো আলামত আমরা পাইনি। আগুনটা লাগানো হয়েছে তার শরীরে।’

১৫১০ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
শামসুদ্দীন আজাদ সাবিরার দ্বিতীয় স্বামী। তার আগের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছেলে আগের স্বামীর ঘরের।
১৫১০ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে

সাবিরার স্বামী সামসুদ্দীন আজাদ বলেন, ‘আমি সকাল এগারোটার দিকে খবর পেয়ে এখানে আসি। পুলিশ প্রথমে ভেতরে ঢুকতে দেয় নাই। পরে ভেতরে ঢুকে দেখি রক্তাক্ত লাশ। আমি কাউকে সন্দেহ করতে পারছি না। পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

১৫১০ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে

সাবিরার মামাতো ভাই জানান, সাবিরার এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে বড় মেয়ে ছোট। ছেলে বিবিএ পড়ে, মেয়ের বয়স ৯ বছরের মত। ওনার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এখানে থাকেন না। মনোমালিন্যের কারণে এক বছর ধরে আলাদা থাকেন সাবিরা-আজাদ। তবে ওনাদের ভেতরে যোগাযোগ ছিল এবং ভালো সম্পর্ক ছিল।

১৫১০ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে

সাবিরা রহমানের মামাতো ভাই মো. দুলাল বলেন, ‘আমার বাসা মোহাম্মদপুর। আমি অফিসে ছিল আমার এক চাচাতো ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে আমি এখানে আসি। প্রথমে আমি শুনেছিলাম আমার বোন আগুনে পুড়ে মারা গেছে। পরবর্তীতে পুলিশের সাথে কথা বল এবং এখানে এসে দেখলাম যে তার গলা এবং পিঠে আঘাতের দাগ দাগ আছে। এখন মনে হচ্ছে এটা একটা হত্যাকাণ্ড।’

১৫১০ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে

পুলিশ এসে দেখতে পান, সাবিরার গায়ে তিনটা আঘাতের দাগ আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা একটা হত্যাকাণ্ড। ভবনের সুপারভাইজার, দারোয়ান ও সাবলেটে ভাড়ায় থাকা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির অফিসে নেয়া হচ্ছে।

১৫১০ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ ফাস্ট লেনের যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেখানে দুই নারী শিক্ষার্থীও সাবলেটে ভাড়া ছিলেন। একজন ঈদের পরে আসেননি। অপর জন ঢাকাতেই ছিলেন। তিনি জানান, মর্নিং ওয়াক করে সকাল আনুমানিক ১০টায় এসে দেখতে পান সাবিরার রুমটা বন্ধ। রুম থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বাড়ি সুপারভাইজার এবং দারোয়ানকে ডেকে রুমের লকটি ভাঙেন। ভাঙার পর দেখেন রুমটা ধোঁয়াচ্ছন্ন হওয়া এবং তিনি বেডে শুয়ে আছেন। এরপর উনারা পুলিশকে খবর দেন।

১৫১০ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

রমনা জোনের ডিবির উপ-পুলিশ কমশনার এইস. এম আজিমুল হক জানান, চিকিৎসক সাবিরার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা বুড়িচংয়ে। রাজধানীর গ্রিন হাসপাতালের রেডিওলজিস্টের দায়িত্বে ছিলেন।

১৫১১ ঘন্টা ০৪ মিনিট আগে

সুরতহাল করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসক সাবিরা রহমানের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত পেয়েছেন। তার মুখমণ্ডলও ঝলসানো। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন:
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য