স্যানিটেশন ও হাইজিনে আরও বরাদ্দ দাবি

স্যানিটেশন ও হাইজিনে আরও বরাদ্দ দাবি

‘নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিনে অবশ্যই জোর দিতে হবে। কারণ, মহামারির কারণে ওয়াশ খাতে বাজেটের ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।’

করোনা মোকাবিলায় আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানোসহ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিনে আরও বিনিয়োগের দাবি করেছে এ খাতের আটটি সংগঠন। সংগঠনগুলো সম্মিলতিভাবে সাতটি সুপারিশও প্রস্তাব করেছে।

রোববার ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ওয়াশ খাতের সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায্য বরাদ্দ বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব করা হয়।

ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল, ওয়াশ অ্যালায়েন্স ও এমএইচএম নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার, পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিনে অবশ্যই জোর দিতে হবে। কারণ, মহামারির কারণে ওয়াশ খাতে বাজেটের ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।

‘করোনা মোকাবিলায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে মাস্ক পরার ওপর যত জোর দেয়া হচ্ছে, হাত ধোয়ায় তা দেয়া হচ্ছে না। অথচ দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। হাইজিনের বিষয়টি এখনো স্বাস্থ্য খাতের একটি সাব-সেক্টর হয়ে রয়ে গেছে। যার কারণে বরাবরই এই খাতে বরাদ্দ কম দেয়া হয়। তবে এ বছর এই খাতে যথাযথভাবে মনোযোগ না দেয়া হলে মহামারি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘হাইজিন সার্ভে ২০১৮-তে দেখা গেছে, প্রতি ১১৫ শিক্ষার্থীর জন্য একটি টয়লেট রয়েছে। আবার মাত্র ৩৪ শতাংশ স্কুলে টয়লেট ও পানির সুব্যবস্থা রয়েছে। ২২ শতাংশ টয়লেটের কাছে সাবান ছিল। ২০ শতাংশ স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেট ছিল না। তাই হাইজিনের বিষয়টি কাগজে-কলমের বাইরে গিয়ে বাস্তবে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

‘আবার বিভিন্ন স্থানে ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রয়েছে অসমতা। গ্রামাঞ্চল, চর, পার্বত্য অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় ওয়াশ বাজেট বরাদ্দ বেশি প্রয়োজন হলেও শহর ও বড় মহানগরে বেশি দেয়া হয়েছে।’

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘করোনা স্বাস্থ্য খাতের জন্য চলতি বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তা খরচের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল না। তাই সে টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে তা জানা যায়নি। করোনা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার উপকরণ জোগানে সামর্থ্য হারিয়েছে। বিশেষ করে নারীরা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের ক্রয়ক্ষমতাও হারিয়েছে। তাই আসন্ন বাজেটে স্যানিটারি ন্যাপকিনে অতিরিক্ত ভ্যাট এবং ট্যাক্স কর্তন এবং তা সামর্থ্যের মধ্যে রাখার জন্য মূল্য হ্রাস করাকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।’

ওয়াটারএইড ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় করা পিপিআরসির এক বিশ্লেষণ তুলে ধরে এ সময় বলা হয়, স্যানিটেশন ও হাইজিনসহ (ওয়াশ) স্বাস্থ্য খাতে ২০০৭-০৮ সাল থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। এ সময় ২ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা হয়েছে। বিগত বছরগুলোর বাজেটে এ খাতে আর্থিক বরাদ্দের ধারা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিপির অধীনে ওয়াশ খাতে ৫ শতাংশেরও কম বরাদ্দ করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন জরিপের ফল তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের উন্নত স্যানিটেশনের সুবিধা রয়েছে। মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত যথেষ্ট জ্ঞান থাকলেও হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি চর্চার হার খুব কম। মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষের হাত ধোয়ার স্থানে সাবান ও পানির সুবিধা রয়েছে। তাই হ্যান্ড হাইজিনের ক্ষেত্রে দেশব্যাপী প্রচারণাও চালানো দরকার।

সম্মিলিত সুপারিশ

করোনা মহামারি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধিকে শুধু মূলধারার এজেন্ডায় ফুটনোটে না রেখে এর সামগ্রিকতা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধিতে ব্যাপকভাবে আলোকপাত করতে হবে, এ খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

কিশোরী মেয়ে ও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্য এবং অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

করোনার বাস্তবতা ও এসডিজি বাস্তবায়ন বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন প্রসারের জাতীয় কৌশলপত্র পরিমার্জন ও হালনাগাদ করতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়েই গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বাজার-মার্কেট, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ জনসমাগমস্থলে হাত ধোয়ার সুবিধা রাখা এবং সেগুলো কার্যকর রাখতে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।

ওয়াশ খাতে বরাদ্দে আঞ্চলিক বৈষ্যম্য ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের পক্ষপাত দূর করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি চর্চার মাধ্যমে সামগ্রিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিধি পরিস্থিতির উন্নয়নে বিভিন্ন খাত ও সংস্থাভিত্তিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে বাজেটের ফোকাস বাড়াতে হবে।

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য পরিবেশবান্ধব সৌরচালিত পানি লবণমুক্ত করার প্ল্যান্ট চালু এবং সেগুলো চলমান রাখতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে

জালিয়াতি করে এটিএম বুথ থেকে আড়াই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। ছবি: ফেসবুক

২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে একই ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৬৩৭ গ্রাহকের ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র।

২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল।

ডিবি জানায়, জালিয়াতির মাধ্যমে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন চক্রের ছয়জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সায়মা আক্তার, আল-আমিন বাবু, মেহেদী হাসান মামুন ও আসাদুজ্জামান আসাদ।

জালিয়াতির এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এডিসি ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার মীর মো. শাহারুজ্জামান রনি দেশের বাইরে পালিয়েছেন বলে জানায় ডিবি।

টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলার পর তদন্ত শুরু করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

এটিএম বুথের আড়াই কোটি টাকা চক্রের পকেটে
জালিয়াতি করে এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার একটি চক্রের কয়েক সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

তাদের অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এডিসি ডিভিশনে সিনিয়র অফিসার হিসাবে মীর মো. শাহারুজ্জামান রনি এই পদে কর্মরত থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী সহ অন্যান্য গ্রেপ্তার সহযোগীদের দিয়ে এটিএম বুথে লেনদেন করাতেন লেনদেনের পর এটিএম এর ইলেকট্রনিক জার্নাল এমনভাবে পরিবর্তন করে দিতেন যাতে পরবর্তী সময়ে এটিএম থেকে টাকা না পাওয়ার অভিযোগ সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ডাচ্‌বাংলা ব্যাংকের এটিএম মনিটরিং রোস্টার টিমে কর্মরত থাকা অবস্থায় রনি উপস্থিত থেকে এবং কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন এটিএমের ইলেকট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেন হয়।

এর মাধ্যমে জালিয়াতরা ২ কোটি ৫৭ লাখ ১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে রনি দেশের বাহিরে আত্মগোপনে আছে। তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।’

শেয়ার করুন

পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী

পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী

পল্লবী থানার এসআই শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকে একাধিকবার ফোন করেছি। কখনো তিনি নরসিংদী আবার কখনো নারায়নগঞ্জে আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি থানায় আসেননি।’

বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাড়া দিচ্ছেন না তিনি পুলিশের ডাকে। এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার ও থানায় অভিযোগকারী বিড়ালপ্রেমীরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলে পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। বুধবার সকাল ১১টার দিকে সব পক্ষের বসার কথা ছিল পল্লবী থানায়। পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে যথাসময়ে এএলবি অ্যানিম্যাল শেল্টারের চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি ও বিড়ালপ্রমীরা পল্লবী থানায় উপস্থিত হন। তবে পুচি ফ্যামিলির পক্ষ থেকে কেউ হাজির হননি।

পল্লবী থানার এসআই শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকে একাধিকবার ফোন করেছি। কখনো তিনি নরসিংদী আবার কখনো নারায়নগঞ্জে আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি থানায় আসেননি।’

এএলবি এনিম্যাল শেল্টারের কর্মী ও বিড়ালপ্রেমীরা জানান, তাপসী দাশ বাইরে বের হওয়ার পুরনো একটি ভিডিও নতুন করে ইউটিউবে আপ করেছেন। যার মাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি বেড়াতে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি বাসাতেই আছেন।

এএলবি এনিম্যাল শেল্টারের চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ নিয়ে তাপসীর বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য তাপসীর বাসায় যেসব বিড়াল নির্যাতনের শিকার সেগুলো উদ্ধার করা।’

সংস্থাটির কর্মী তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পুলিশ নিয় প্রথমে ডিওএইচএস পরিষদে যাবো। সেখানে গিয়ে পরিষদ ও পুলিশের মাধ্যমে পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকে ডাকা হবে। তিনি সাড়া না দিলে তার বাসায় গিয়ে বিড়াল উদ্ধার করবো।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য 'পুচি ফ্যামিলি'র তাপসী দাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিড়াল নিয়ে বিবাদের বিষয়ে আমাদের সিনিয়র স্যাররা সবাই অবগত। এখন সবাইকে নিয়ে ডিওএইচএসের পরিষদে বসা হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পল্লবী থানায় ১৩ জুন করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাপসী দাশের ডিওএইচএসের বাসায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগে ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক - ইউটিউবে বিড়ালের নানা কর্মকান্ডের ভিডিও প্রচার নিয়ে আলোচিত- সমালোচিত 'পুচি ফ্যামিলি' র তাপসী দাশ। তার বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৩ জুন পল্লবী থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের তাজকিয়া দিলরুবা ও বিড়ালপ্রেমী আরেক নারী। ওই দুটি লিখিত অভিযোগে বিড়ালের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

শেয়ার করুন

অমির অফিসে অভিযান, শতাধিক পাসপোর্ট-স্ট্যাম্প উদ্ধার

অমির অফিসে অভিযান, শতাধিক পাসপোর্ট-স্ট্যাম্প উদ্ধার

পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসিরউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে অমি। ছবি: নিউজবাংলা

উত্তরা বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তার অফিসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্নজনের ১০২টি পাসপোর্ট, কিছু ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প, ১৯ হাজার উদ্ধার করা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমির দক্ষিণখানে রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে শতাধিক পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখান থেকে দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

দক্ষিণখান থানায় অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বুধবার পাসপোর্ট আইনে মামলা করেছে সাভার থানা পুলিশ।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মোহাম্মদ শামীম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উত্তরা বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তার অফিসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্নজনের ১০২টি পাসপোর্ট, কিছু ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প, ১৯ হাজার উদ্ধার করা হয়েছে।

অমির ওই অফিসে সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার ছিল বলে জানান ডিসি।

তিনি বলেন, ‘দুটি জায়গায় অভিযান ছিল। এক জায়গায় কিছু পাওয়া যায়নি। পাসপোর্ট ও অন্য জিনিস দক্ষিণখানের অফিস থেকে পাওয়া গেছে।’

মামলায় অমিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি দুজন অমির অফিসের কর্মচারী বাছির ও মশিউর। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ডিসি সাইফুল ইসলাম।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ জুন পরীমনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মামলা করেন।

এ ছাড়া রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অমিসহ পাঁচজনকে আসামি করে আরেকটি মামলা হয় মঙ্গলবার। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন নাসির উদ্দিন, নাজমা আমিন বৃষ্টি, লিপি আক্তার ও সুমি আক্তার।

শেয়ার করুন

জামিন পেলেন নিপুণ রায়

জামিন পেলেন নিপুণ রায়

বিএনপির নির্বাহী সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতির মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার নিপুণ রায় চৌধুরীর জামিন আদেশ দেয়।

নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে দুই মামলায় বিএনপির নির্বাহী সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতির মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও নিতাই রায় চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন অর রশিদ।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় গাড়িতে আগুন দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন এমন একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই অভিযোগে নিপুণ রায়কে রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকা থেকে হেফাজতের হরতালের দিন অর্থাৎ গত ২৮ মার্চ আটক করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

পরে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার করা বেআইনি সমাবেশ, গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা আরেক মামলায় নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়।

দুটি মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ দিল।

শেয়ার করুন

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে

আষাঢ়ে প্রকৃতিতে বেড়েছে সজিবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরেছে মৃদুমন্দ। তবে কালো মেঘের দাপট আকাশজুড়ে। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তফাত খুব একটা দেখা না গেলেও, আষাঢ়ের মন ভাসিয়ে দেয়া অনুভূতি দোলা দিয়েছে অনেককে। প্রকৃতিতে বেড়েছে সজীবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম।

গরমের দাপট কমিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি ঝরছে দেশজুড়ে। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাবে সেটি গ্রীষ্মের অনিয়মিত বর্ষণ, আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষাকালের বৃষ্টি ঝরল মঙ্গলবার। কারণ, এই দিনটিতেই শুরু আষাঢ়ের।

বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীতে বৃষ্টি ঝরেছে মৃদুমন্দ। তবে কালো মেঘের দাপট আকাশজুড়ে। কখনও কখনও সেই মেঘ সরিয়ে উঁকি দেয়া সূর্যে ঝলমলিয়ে উঠেছে নগরী। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তফাত খুব একটা দেখা না গেলেও, আষাঢ়ের মন ভাসিয়ে দেয়া অনুভূতি দোলা দিয়েছে অনেককে। প্রকৃতিতে বেড়েছে সজীবতা, ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম।

বর্ষার প্রথম দিনে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। তবে এর দাপট ছিল কম। ফলে গুমোট ভাব দূর হয়নি নগরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাগজে-কলমে আর বাংলার দিনপঞ্জিতে আষাঢ়-শ্রাবণ অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ষাকাল বলা হয়। তবে আমাদের কাছে তা ভিন্ন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জুনের শুরুকেই বর্ষাকাল ধরে থাকি। এ সময় দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিরাজ করে। আমাদের কাছে বর্ষাকাল মানে জুন থেকে সেই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দেশে তিন মাস শীতকাল থাকে, বাকি ৯ মাস বৃষ্টি আর গরম।’

আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে জানতে চাইলে শাহীনুল বলেন, ‘ঢাকায় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তারপর আরও কিছু সময় বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির পরিমাণ এখনও রেকর্ড হয়নি।’

মৃদুমন্দ বৃষ্টি নিয়ে আষাঢ় এলো দেশে
বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে।

এবার কেমন যাবে নগরের বর্ষা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথাও কখনও নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টি হবে না। মেঘে ঢাকা থাকবে আকাশ। তবে মাঝে মাঝে একটু সোনালি রোদের দেখা পাওয়া যাবে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থেকে মাঝে মাঝে হালকা বা মাঝারি বর্ষণ হতে পারে।’

‘মৌসুমি বায়ু আসার আগে দেশে মে মাসে গড়ে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও এবার হয়েছে ২০৩ মিলিমিটার। জুন মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রায় ৪৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হবে।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও কোথাও বর্ষাবরণ উৎসব ছিল না। ফলে অনেকটা নীরবেই ঋতু পরিবর্তন ঘটেছে বাংলা দিনপঞ্জিতে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খন্ড ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

শেয়ার করুন

হেফাজতের আজহারুল রিমান্ডে

হেফাজতের আজহারুল রিমান্ডে

ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

হেফাজত নেতা আজহারুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাশকতার একাধিক মামলার আসামি। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (সিএমএম) বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস মঙ্গলবার রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিন আজহারুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক কামরুজ্জামান।

আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. পারভেজ, খাদেমুল ইসলাম ও আল মাহমুদ খান রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলামকে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহাবুব আলম।

আজহারুল ইসলামকে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর ঠেকাতে হেফাজত দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায়।

মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন মামলায় গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠনটির অন্তত ৩৫ নেতা। নাশকতার বিভিন্ন ঘটনায় এসব নেতার ভূমিকা যাচাইয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

শেয়ার করুন

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

প্রটোকলের আশা ছিল, পাইনি: পরীমনি

ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

আলোচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি মঙ্গলবার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি প্রটোকল পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে সেটা না পেয়ে শেষপর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়েই বনানী থেকে রওনা হন মিন্টো রোডের উদ্দেশে।

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। আর সে জন্যই ডাকা হয় পরীমনিকে।

এতে সাড়া দিয়ে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নিজের বাসা থেকে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারে বেরিয়ে যান পরীমনি। এ সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করছিলাম যে, কেউ আমাকে প্রোটোকল দিয়ে নেয় কিনা। আসলে কেউ আসে নাই। সো আমারই যেতে হচ্ছে। কারণ আমার তো যাইতে হবে। কথা বলতে হবে তাদের সাথে।’

কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি শুরুতে বলেন, ‘ডিসি অফিস।’ পরে সংশোধন করে বলেন, ‘ডিবি অফিস।’

পরীমনিকে পুলিশের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল না। তবে আমি আশা করছিলাম যে, আমি একটা প্রোটোকল পাব।’

তাহলে প্রোটোকল ছাড়াই যাচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নে পরীমনি বলেন, ‘আমার তো এখন সাংবাদিক ভায়েরা আছেন। আপনারা আছেন। তবে আমি কোনো প্রোটোকল চাইনি। আসলে মনে মনে আশা করছিলাম, কিন্তু মনে মনে চাইলে তো আর হয় না। আমি বলিনি তাদেরকে।

‘এখন তো আমার মনে হয় রাস্তায় হঠাৎ করে আমাকে কেউ আক্রমণ করবে না। আমি এখন নিরাপদ আমার মনে হয়। কারণ সবাই এখন জানে জিনিসটা।’

বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছান পরীমনি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেরিয়ে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরীমনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি আসলে মেন্টালি কতটা স্ট্রং হয়ে গেছি। সবাই এত সাপোর্ট দিয়েছেন…।’

এর আগে রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন পরীমনি। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা (প্রধানমন্ত্রী)।’

তবে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পুলিশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ছিল পরীমনির কণ্ঠে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা উনিই ছিলেন। আমি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতেছিলাম না বলেই এসব কথা। তিনি যখন জেনেছেন এই কথাটা, বেনজীর স্যার যখন জেনেছেন, তার কান অবধি গেছে, কান অবধি পৌঁছাতে পেরেছি, তখন তো আপনারা দেখলেন, কয়েক ঘণ্টা লাগছে মাত্র।

‘আমার তো মূল বিশ্বাসটা ওইটাই ছিল, তার কান অবধি পৌঁছালে সে একদম সেটা নিজের মতো করে দেখে নেবে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম দিকে হতাশার কারণ জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘আমি ওই পর্যন্ত যেতে পারছিলাম না, এটা নিয়েই তো এতক্ষণ কথা বলছি।’

ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘এখানে এসে আমি আসলে মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমাকে এই শক্তিটা তারা (পুলিশ) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে। আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদেরও প্রশংসা করেন পরীমনি। বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি হারুন স্যার যেভাবে ম্যাজিকের মতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে…। ঘুমিয়ে মানুষ জাগে সকালে, সেইটাও আমি সুযোগটা পাইনি। মানে ঘুমানোরই আমি টাইম পাইনি। তার আগেই দেখলাম যে এত দ্রুত কাজগুলো (আসামিদের গ্রেপ্তার) হয়ে গেছে।’

শেয়ার করুন