চলে গেল শিশু মোরসালিন, সংকটাপন্ন মা-বাবা

রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শনিবার মৃত্যু হয়েছে দগ্ধ শিশু মোরসালিনের। ফাইল ছবি

চলে গেল শিশু মোরসালিন, সংকটাপন্ন মা-বাবা

শিশুটি হাসপাতালের সাততলায় ভর্তি ছিল। তার মা লাবনী আক্তার (২৫) সেখানেই ভর্তি। আর শিশুটির বাবা সোহেল (৩৫) আইসিইউতে আছেন। তাদের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি টিনশেড ঘরে আগুনে দগ্ধ দুই বছর বয়সী শিশু মোরসালিনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে সংকটাপন্ন তার মা ও বাবা।

রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শনিবার রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, শিশুর বাবা-মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন প্রতিবেশী কবির হোসেন।

তার ভাষ্য, শিশুটি হাসপাতালের সাততলায় ভর্তি ছিল। তার মা লাবনী আক্তার (২৫) সেখানেই ভর্তি। আর শিশুটির বাবা সোহেল (৩৫) আইসিইউতে আছেন। তাদের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, সোহেলের শরীরের ৭৫ শতাংশ এবং লাবনীর শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শিশু মোরসালিন ৮০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

গত শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুরের ওই টিনশেড ঘরে আগুন লাগে। এতে দগ্ধ তিনজনের চিৎকারে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা।

তারা ওই তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে তাদের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপে মুদ্রা পাচার, গ্রেপ্তার ৫

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপে মুদ্রা পাচার, গ্রেপ্তার ৫

বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ পাঁচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: সিআইডি

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাকৃতরা এসব অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের নাম এসেছে এবং তাদের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে প্রায় শত কোটি টাকারও বেশি লেনদেন এর তথ্য পাওয়া গেছে।

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ বিগো লাইভ ও লাইকির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাঁচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন বিদেশি নাগরিকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রাজধানী বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে রোববার ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোস্তফা সাইফ রেজা, আরিফ হোসেন, এস এম নাজমুল ও আসমা উল হুসনা সেঁজুতী এবং অজ্ঞাত বিদেশি এক নাগরিক।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ মহাপরিদর্শক জামিল আহমেদ জানান, এই অ্যাপগুলোতে সাধারণত দেশের উঠতি বয়সী তরুণ তরুণী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা যুক্ত হতেন। বিগো লাইভে দুই ধরনের আইডি আছে। ব্রডকাস্টার আইডি ও সাপোর্টার আইডি বা সেন্ডার আইডি। ব্রডকাস্টার আইডি ব্যবহার করে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা ভিডিও লাইভ স্ট্রিম করে থাকে। এই ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে তথাকথিত বিনোদনের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হতো।

তিনি বলেন, ‘সাপোর্টার আইডি বা সেন্ডার আইডির মাধ্যমে যারা ভিডিও স্ট্রিমিং করতো, বিনিময়ে তাদেরকে ডিজিটাল কয়েন সদৃশ ডায়মন্ড উপহার দেয়া হতো। পরবর্তীতে এই ডায়মন্ড টাকায় রূপান্তরের মাধ্যম অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতেন তারা।’

জামিল আহমেদ জানান, এদের টার্গেট মূলত দেশের যুব সমাজ এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তাদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার প্রলোভনে অ্যাপে ঢোকেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। তার জন্য ডায়মন্ড নামে একটি ভার্চ্যুয়াল টাকা কিনতে হয় তাদের। সাধারণত বাংলাদেশে ব্যবহৃত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ডায়মন্ড কেনা যায়। সেই টাকা উপহার হিসেবে দিয়ে আড্ডায় যুক্ত হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।

সিআইডি বলছে, এই ডায়মন্ড সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন নামে অনেক এজেন্সি রয়েছে। এরকম একাধিক এজেন্ট বাংলাদেশে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, ভার্চুয়াল টাকা ও ব্যাংকের মাধ্যমে এইসব ডিজিটাল টাকা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার করা হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাকৃতরা এসব অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের নাম এসেছে এবং তাদের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে প্রায় শত কোটি টাকারও বেশি লেনদেন এর তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তার নাজমুলের কাছ থেকে দুইটি মোবাইলফোন, দুইটি ল্যাপটপ, একটি প্রাইভেটকার বিভিন্ন ব্যাংকের ৭টি ক্রেডিট কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি চেক বই, নগদ ৫০ হাজার ৪৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরিফ হোসের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার মোস্তফা সাইফ রেজা ও আসমা উল হুসনা সেজুঁতীর কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও দুইটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানায় সিআইডি।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

চাকরিচ্যুত পাটকলশ্রমিকদের ৬ দাবি

চাকরিচ্যুত পাটকলশ্রমিকদের ৬ দাবি

সরকারি পাটকল থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা ৬ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ২ জুলাই রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে উৎপাদন বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়। এর ফলে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিক মিলিয়ে এক ধাক্কায় প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের কর্মক্ষম হাতকে বেকারের হাতে পরিণত করা হয়েছে। শুধু শ্রমিক নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি-পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও তাদের পরিবারসহ কয়েক লাখ মানুষ।

সব বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন সরকারি করিম ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার শ্রমিকদের আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি ও হুঁশিয়ার জানানো হয়।

শ্রমিকদের দাবিগুলো হচ্ছে:

# নামের ভুল দ্রুত সংশোধন করে অবশিষ্ট স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করা।

# ২০১৯ সালের বকেয়া সপ্তাহের মজুরি প্রদান করা।

# ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন অনুযায়ী গত চার বছরের ছুটি ও ৯টি বোনাস, চিকিৎসা-শিক্ষা ভাতার ডিফারেন্স, বৈশাখী ভাতার টাকা পরিশোধ করা।

# বেসরকারি পাটকলে ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা।

# রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ নয়, আধুনিকায়নসহ চালু করা।

# ক্যাজুয়াল ভিত্তিতে নয়, বদলি বা স্থায়ী হিসেবে পুরোনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকারে নিয়োগ দেয়া।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর ২০২০ সালের ২ জুলাই রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে উৎপাদন বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়। এর ফলে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিক মিলিয়ে এক ধাক্কায় প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের কর্মক্ষম হাতকে বেকারের হাতে পরিণত করা হয়েছে। শুধু শ্রমিক নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি-পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও তাদের পরিবারসহ কয়েক লাখ মানুষ।

শ্রমিকরা জানান, সরকারি পাটকল বন্ধের সময় বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে শ্রমিকদের ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’জনিত ক্ষতিপূরণসহ সব পাওনা মিটিয়ে দিয়ে পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে। কিন্তু এক বছর হতে চললেও এখনও সব স্থায়ী শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ হয়নি। বদলি শ্রমিকদের পাওনা দেয়া এখনও শুরুই করা হয়নি। করোনা মহামারিজনিত লকডাউনের মধ্যে বিকল্প কাজ ও আয়ের অভাবে এই শ্রমিকদের দুর্দশা বর্ণনাতীত। পাওনার টাকাটুকু হাতে পেলে এই অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে তারা কোনোমতে চলতে পারতেন।

তারা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের পেছনে সরকারের বড় অজুহাত লোকসান। কিন্তু কেন লোকসান, কাদের কারণে লোকসান, লোকসান কাটাতে কী কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর নেই। এর দায় শ্রমিকের নাকি ম্যানেজমেন্ট ও নীতিনির্ধারকদের। শ্রমিকরা একা কেন শাস্তি পাবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকরা জানান, পরিবেশ সচেতনতার কারণে ক্ষতিকর পলিথিন-প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। চাল, গম, আটা, চিনিসহ ১৮টি পণ্যের মোড়ক ব্যবহারে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আদেশ ‘ম্যানডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০’ বাস্তবায়ন হলে দেশের বাজারে পাটের বিপুল চাহিদার সৃষ্টি হবে। ফলে পাটশিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। সম্ভাবনা আছে বলেই বেসরকারি পাটকলগুলো লাভ করছে।

পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু এবং লোকসানের কারণগুলো দূর করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে, দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা করতে পারলে রাষ্ট্রীয় খাতে রেখেই পাটকলগুলো লাভজনক করা সম্ভব বলে জানান শ্রমিকরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন করিম জুট মিলের শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ গোফরান, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য ফখরুদ্দিন কবির আতিক, করিম জুট মিলের শ্রমিকনেতা জাফর উল্লাহ, এরশাদ-উজ-জামান, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা কামালসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

‘গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের কারাগার থেকেই পরীক্ষা দিতে দিন’

‘গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের কারাগার থেকেই পরীক্ষা দিতে দিন’

মতিঝিল শাপলা চত্বরে গত ২৫ মার্চ পুলিশ সদস্যের ওপর বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ কর্মীদের হামলা। ফাইল ছবি

নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভের সময় আসামি ছিনতাইয়ের একটি মামলায় ৪ এপ্রিল তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের জামিন নাকচ হয়েছে।

দুই মাস ধরে কারাগারে আছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। জুলাই থেকে তার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারাগারে থেকেই ইয়ামিন যেন চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ করেছেন তার মা হাসিনা বেগম ও বাবা রফিকুল ইসলাম মোল্লা।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অনুরোধ জানান।

কারাবন্দি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ৷ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনের বাবা হাফেজ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনও।

গত ৪ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা এবং সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় শাহবাগ থানায় পুলিশের করা মামলার আসামি ছিলেন তারা।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও পুলিশকে মারধর করার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান কবির। এ মামলার আসামি হিসেবে ইয়ামিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাইকোর্ট তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেয় গত ১ জুন।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে বিন ইয়ামিনের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘দুই মাস ধরে ছেলের জন্য ঢাকায় আসছি এবং যাচ্ছি। উপাচার্যের কাছে অনুরোধ করব, কারাগারে থেকে হলেও আমার ছেলেদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিন, আমাদের প্রতি একটু দয়া করুন। একটু চেষ্টা করুন, যেন তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হয়।’

বিন ইয়ামিনের বাবা রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘মোদি বিরোধী আন্দোলনের কারণে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রের রাজনীতি করার অধিকার আছে। এটি সাংবিধানিক আইন। তাই বলে এ শিক্ষার্থীদের জেলখানায় আটকে রেখে তাদের মেধাশূন্য করে দিতে হবে? সর্বশেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো দিতে না পারলে তাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

আকরাম হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি ছয় বছর ধরে ঈদের নামাজ পড়াই। কিন্তু আমার ছেলে আকরাম গ্রেপ্তার হওয়ায় ঈদের নামাজও পড়াতে পারিনি। আমার ছেলেকে যখন কোর্টে আনা হয়েছে, তখন আমি ছেলেকে সালাম দিলাম। সেই সালামের উত্তর পর্যন্ত গ্রহণ করতে আমাকে সুযোগ দেয়নি। এটি রাজনীতি না, প্রতিহিংসা।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে উপাচার্য স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের অনুমতি পেলে কারাগারে পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ আছে। আমি তাদের বুঝিয়ে বলেছি। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবকিছু করা হবে। আমাদের তরফ থেকে সহযোগিতার কোনো ঘাটতি থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

ধর্মীয় বক্তা আবু তোহা মোহাম্মদ আদনান। ফাইল ছবি

ফেসবুক, ইউটিউব ঘেঁটে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রংপুর সদরের বাসিন্দা তোহা নিজেকে ইসলামি স্কলার দাবি করেন। পড়াশোনা শেষ না হলেও তিনি ইসলাম ধর্মীয় বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের মতো করে ব্যাখা দিয়ে যাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই, যা নিয়ে বিতর্কও আছে।

রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে একসঙ্গে চারজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এদের একজন সামাজিক মাধ্যমে নানা ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হয়ে উঠা আবু তোহা মোহাম্মদ আদনান। অন্যরা হলেন তার সহযাত্রী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন ফয়েজ।

বৃহস্পতিবার রংপুর থেকে ঢাকায় প্রবেশের সময় গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন আবু তোহার শ্যালক জাকারিয়া হোসেন।

তিনি জানান, তার ভগ্নিপতির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয় গাবতলী থেকে রাত ২টা ৩৬ মিনিটে। এরপর থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ, দুষ্কৃতকারীরা তাদের অপহরণ করেছে।’

নিখোঁজ হওয়ার পর দিন শুক্রবার তোহার স্ত্রী দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাকারিয়া।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার এ এস এম মাহতাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা তো থানাতেই যাননি। ফোনে ওসিকে জানিয়েছে। ওসি তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমার ধারণা লোকজন কোথায় আছে, বিষয়টা তারা জানে।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে শনিবার রাতেও নিউজবাংলা কথা বলেছিল আবু তোহার শ্যালক জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে।

তখন তিনি বলেন, ‘চারজন একসঙ্গে মিসিং হয়েছে। তবে আপনাকে কোনো তথ্য দিতে পারছি না। কারণ, আপনার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করতে পারছি না।’

এরপর প্রতিবেদকের পরিচয়পত্র, নিউজবাংলার লিংক হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পর তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, আপনাকে পরে তথ্য সরবরাহ করা হবে।’

কে এই আবু তোহা মুহাম্মদ আদনান?

ফেসবুক, ইউটিউব ঘেঁটে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রংপুর সদরের বাসিন্দা তোহা নিজেকে ইসলামি স্কলার দাবি করেন। পড়াশোনা শেষ না হলেও তিনি ইসলাম ধর্মীয় বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের মতো করে ব্যাখা দিয়ে যাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই, যা নিয়ে বিতর্কও আছে।

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত তার বক্তব্যে ঢাকা শহরকে ‘কেয়ামতের শহর’ হিসাবে উল্লেখ করেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, ‘যে নারী পুরুষের সঙ্গে পাবলিক বাসে উঠে অফিসে যায়, যে নারী সহকর্মী পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন তারা দাজ্জালের বাহিনীর সদস্য। ইমাম মাহাদীর বিরুদ্ধে এই নারীরাই যুদ্ধ করবে।’

ইসলাম ধর্মমতে দুনিয়া ধ্বংস তথা কিয়ামতের আগে মুসলিমদের সঙ্গে দাজ্জালের বাহিনীর লড়াই হবে। আর মুসলিমদের নেতৃত্ব দেবেন ইমাম মাহাদী।

ইমাম মাহাদী পৃথিবীতে কবে আসবেন, এ নিয়ে অবশ্য ইসলামিক বক্তাদের মধ্যে বিরোধ আছে। কেউ কেউ নিজেকে ইমাম মাহাদী পরিচয়ও দিয়েছেন নানা সময়।

তোহার দাবি, পরকালে দোজখে নারীদের সংখ্যা বেশি হবে। আর এর জন্য তার ভাষায় ‘নারীর উদ্ধত’ আচরণ দায়ী।

প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও তোহা নানা সময় উসকানি দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুজন রিমান্ডে

গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুজন রিমান্ডে

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় শনিবার অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একদিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ ।

রোববার ঢকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এ আদেশ দেন।

এর আগে বিকেল চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম মিয়া আসামিদের তিন দিনের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন করেন।

আসামি পক্ষে আইনজীবী হান্নান ভূইয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড চেয়ে ও জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মো. ফরিদ মিয়া ।

তিনি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে বলেন, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এসআই ফরিদ মিয়া আরও বলেন, গ্রেপ্তার করা দুজনের নাম মো. রাকিব ব্যাপারী ও মো. শফিকুল ইসলাম।

এর আগে আসামিদের শনিবার গ্রেপ্তারের পর ডিবির মতিঝিল বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শিকদার মো. হাসান ইমাম সাংবাদিকদের জানান, ডিবি সংবাদ পায় কিছুসংখ্যক লোক তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ক্যাফে নিউ নাইওরি রেস্তোরাঁ এলাকার ফুটপাতে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করার জন্য অবস্থান করছে। শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদের আটক করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদককারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মাদক আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ভাই’ বলায় জবি ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ

ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ভাই’ বলায় জবি ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্লাবন। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি বললাম, ভাই, আমি লেখাপড়া করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে তুললেন। ওনার সঙ্গে একজন সহকারী ছিলেন। উনি বলতেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরে ভাই বল?’ 

নড়াইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম তওসীবুল আলম প্লাবন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্লাবন জানান, শনিবার সন্ধ্যার আগে তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হন। এ সময় নড়াইলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসান তাদের পরিচয় জানতে চান। প্লাবন ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে গাড়িতে তোলা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান।

প্লাবন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক বন্ধুর সঙ্গে আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। তখন তিনি (জাহিদ হাসান) এসে জানতে চান, আপনারা কী করেন?

‘আমি বললাম, ভাই, আমি লেখাপড়া করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে তুললেন। ওনার সঙ্গে একজন সহকারী ছিলেন। উনি বলতেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরে ভাই বল?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা ঘ‌টে‌নি। এটি সম্পূর্ণ অসত্য।

‘আমাদের নড়াইল শহরে লকডাউন দেয়া হয়েছে। এখানে যদি মাস্ক ছাড়া কাউ‌কে পাওয়া যায়, তাহলে আমরা তাকে ধরছি। এখানে শুধু একজনকে নয়, অনেককেই ধরে গাড়িতে তোলা হইছে।’

তবে প্লাবনের দাবি ঘটনার সময় তিনি মাস্ক পরেছিলেন।

একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে ভাই বলা যায় কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান বলেন, ‘এটা আপনি বলতে পারেন, এটাতে কোনো সমস্যা নেই।’

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন

জগন্নাথে শিক্ষক রাজনীতিতে উত্তেজনা

জগন্নাথে শিক্ষক রাজনীতিতে উত্তেজনা

নীলদলের একাংশ নতুন কমিটি ঘোষণার পর তার প্রত্যাখ্যান করে অন্যপক্ষ। এর মধ্যেই সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি দুই পক্ষের মুখোমুখী অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।  

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নীলদলের এক অংশের নতুন কমিটি দেয়ার পর নতুন করে নীলদলের দুটি অংশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

একাংশ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে অপরাংশের সদ্য সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ওই অংশের সমালোচনা করছেন।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন সভাপতি ও ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার নীলদলের এই কমিটিকে প্রত্যাখান করে বক্তব্য দিয়েছে অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া ও ড. মোস্তফা কামালের নেতৃত্বাধীন নীলদল।

এই প্রত্যাখানের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে এর সমালোচনা করেন নীলদলের (অপরাংশ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন।

অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের নীল দল নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মিথ্যাচার চলছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ৩০ লক্ষ শহীদের এবং বঙ্গবন্ধু রক্তের নাম করে এহেন মিথ্যাচার এবং ভণ্ডামি করার অধিকার কারো নাই। এই চিহ্নিত মহলটি ইতোপূর্বে সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দল করে, করতেই পারে আমিও দল করি। কিন্তু এটা নিয়ে তারা দলাদলি করে, গ্রুপিং করে। সারাদিন ভিসির রুমে দলে দলে শিক্ষকরা ঢুকে আর বের হয়। কারণটা কি? উপাচার্যের তো বলা উচিত আপনারা ক্লাসে যান, গবেষণা করেন, বই লিখেন, পিএইচডির জন্য বাইরে যান। এই দলাদলি করে তারা একটু সুবিধা নেয়, প্রক্টর হয়, মাসে কিছু পায়, দুটা প্যাকেট ফ্রি খায়। এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পড়েই না।’

নিউজবাংলাকে তিনি আরও বলেন, আমার কথা হলো উপাচার্যকে কেনো শিক্ষকরা ঘিরে থাকবেন। বিশেষ করে জুনিয়র শিক্ষকরা। এরা যে ভবিষ্যতে কী হবে আল্লাহই জানে।

‘এত তেলবাজ এরা, এরা ঢুকছেও ওইভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যা আছে এরা সিনিয়র হলে তাও থাকতে দিবে না। সিনিয়র শিক্ষকরা উপাচার্যের কাছে যেতে পারেন। মাঝেমধ্যে বুদ্ধিসু্দ্ধি লাগে। ভিসি এক-দুইজনকে ডাকতে পারেন। অনেকসময় একা পারা যায় না। কিন্তু এ কি অবস্থা? জগন্নাথ একটা রঙ্গমঞ্চ। আগের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়কে রঙ্গমঞ্চ বানাই গেছে এখন ওইভাবে তারা নাচতেছে।’

এ বিষয়ে নীলদলের (একাংশ) সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে কে কী করছে এটা নিয়ে বিতর্ক করে তো লাভ নেই। সবাই জানে, আর তারা বলুক মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কে কী করছে। আর একজন অধ্যাপকের তো উচিত শালীনতার সঙ্গে কথা বলা। আমরা উনি কিংবা অন্য কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাই না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে নভেম্বরে অনলাইনে একটি সাধারণ সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তেরও তীব্র নিন্দা জানায় নীলদের একাংশ। এরপর থেকেই উত্তপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রাজনীতি।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুরে টিনশেডে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৩
শিকলে বাঁধা প্রাণ গেল কয়েলের আগুনে
মাঝরাতে আশুলিয়ায় কারখানায় আগুন
আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর
আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ১০ লাখ

শেয়ার করুন