শিশু সোহানা হত্যা: সৎ মায়ের দায় স্বীকার

শিশু সোহানা হত্যা: সৎ মায়ের দায় স্বীকার

৯ বছর বয়সী সোহানাকে আদর্শনগরের বাসায় নিয়ে আসেন তার বাবা। সোহানাকে দিয়ে সব ধরনের গৃহস্থালি কাজ করাতেন সৎ মা শাহিনুর। ব্যত্যয় ঘটলেই সোহানাকে নির্যাতন করা হতো। শুক্রবার সকালে সামান্য অপরাধে সোহানার মাথায় আঘাত করেন পারভীন।

রাজধানীর মিরপুরে শিশু সোহানা আক্তার হত্যা মামলায় সৎ মা শাহিনুর বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই আতাউল মাহমুদ আসামিকে আদালতে হাজির করেন।

আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম আবু সুফিয়ার মো. নোমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ।

জানা যায়, সোহানার মা কুলসুমের সঙ্গে ৪ বছর আগে বিচ্ছেদ হয় ওর বাবা সোহেলের।

পরে শাহিনুরকে বিয়ে করেন রিকশাচালক সোহেল।

৯ বছর বয়সী সোহানাকে আদর্শনগরের বাসায় নিয়ে আসেন তার বাবা।

সোহানাকে দিয়ে সব ধরনের গৃহস্থালি কাজ করাতেন সৎ মা শাহিনুর।

ব্যত্যয় ঘটলেই সোহানাকে নির্যাতন করা হতো।

শুক্রবার সকালে সামান্য অপরাধে সোহানার মাথায় আঘাত করেন পারভীন।

সোহানা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ ঘটনায় সোহানার নানা মো. ইয়াছির পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।

সোহানা স্থানীয় স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পডাশোনা করতো।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

নাসির উদ্দিন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে (পরীমনি) হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

র‍্যাবের অভিযানে আটক আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযানের মধ্যে বুধবার বিকেলে তিনি নিউজবাংলাকে এ কথা জানান।

পরীমনি গত ৯ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সারা দেশে তোলপাড় ফেলেন।

এরপর ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও অমির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নাসির।

১ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান নাসির উদ্দিন মাহমুদ। শুরু থেকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

পরীমনির বাসায় বুধবার র‌্যাবের অভিযানের সময় নাসির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সম্পর্কে সে (পরীমনি) মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, যা সত্য নয় তা বলেছিল। ভিডিও ফুটেজ এবং তার কথাবার্তা সবকিছুতেই অসংগতি ছিল। বাস্তবে এর কোনো মিল ছিল না।

‘এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে, ফেসবুকে মিথ্যাচার করেছে, বোট ক্লাবে ড্রিংক নিয়ে জোরাজুরি করেছে। আমি মামলা তো করবই। তাকে তো ছাড় দেয়া যায় না। আমি আমার মতো করে লিখে রেখেছি, যেকোনো সময় বিমানবন্দর থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করব।’

শেয়ার করুন

আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন

আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে মৃতদের লাশ হস্তান্তরের সময় স্বজনের ভিড়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

২৪ জনের মরদেহ আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘনিষ্ঠজনরা।

মায়ের পুড়ে যাওয়া দেহ বুঝে নিতে এসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়া আক্তার। তার বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে এলাকা।

১২ বছর বয়সী সুমাইয়া আর ফিরে পাবে না মায়ের কোল। রূপগঞ্জের হাশেম ফুডের সেজান জুস কারখানায় কাজ করার সময় গত ৮ জুলাই পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন তার মা ফিরোজা বেগম।

কিশোরগঞ্জের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মো. মুন্নাও এখন হারিয়ে যাওয়া এক নাম। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছিল মুন্না। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পরিবারকে সাহায্য করতে বড় তিন ভাইবোনের সঙ্গে সেও ঢুকেছিল জুস ফ্যাক্টরিতে। তবে আগুনে পুড়ে থেমে গেছে কিশোর মুন্নার জীবন।

ডেমরার বাসিন্দা নাজমা ও তার ছেলে নাজমুল হোসেন কাজ করতেন হাশেম ফুডের কারখানায়। সেদিন মায়ের আগেই নাজমুলের ছুটি হয়েছিল, বিকেল ৪টায় বের হয়েছিলেন তিনি। তাই প্রাণে বেঁচে যান, তবে মা নাজমা চলে গেছেন অন্তিম ছুটিতে।

ফিরোজা, মুন্না, নাজমার মতো ২৪ জনের পোড়া দেহ স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বুধবার দুপুরে। অন্যরা হলেন মো. আয়াত হোসেন, মো. নাঈম ইসলাম, নুসরাত জাহান টুকটুকি, হিমা আক্তার, মোসাম্মৎ সাগরিকা শায়লা, খাদেজা আক্তার, মোহম্মদ আলী, তাকিয়া আক্তার, শাহানা আক্তার, মিতু আক্তার, জাহানারা, ফারজানা, ফাতেমা আক্তার, নাজমা খাতুন, ইশরাত জাহান তুলি, মো. রাশেদ, মো. রাকিব হোসেন, মো. তারেক জিয়া, মো. রিপন মিয়া, শাহানা আক্তার ও রিয়া আক্তার।

২৪ জনের মরদেহ আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘনিষ্ঠজনরা।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড প্রোডাক্টসের জুস কারখানায় গত ৮ জুলাই ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ৫১ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় পুড়ে অঙ্গার ৪৮ জনের দেহ উদ্ধারের পর ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। তাদের মধ্যে ২৪ জনের দেহ বুধবার হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দেহগুলো হস্তান্তর করা হবে শনিবার।

শেয়ার করুন

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন

প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল চক্রটি।

প্রতারণার দায়ে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দেয়া আল আমিন ও তার দুই সহযোগীকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে, হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভি জয়যাত্রায় প্রতারণায় সহায়ক বিজ্ঞাপন দিতেন।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় কথিত জিনের বাদশার প্রতারণার কৌশলসহ নানা তথ্য। প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তাদের বিজ্ঞাপনে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। তার মাধ্যমেই যোগাযোগ ও প্রতারণা।’

সিআইডি জানায়, মঙ্গলবার ভোলায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে অভিযান চলে রাজধানীর ডেমরা এলাকায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগী রাসেল ও সোহাগকে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, তিনটি সিমকার্ড, পাসপোর্ট, চেক বইসহ নানা উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন
প্রতারণার অভিযোগে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে ছয় মাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারকদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানায়, চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী থাকেন বিদেশে। তিনি জটিল রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখে ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। যোগাযোগ করলে জিনের বাদশার মাধ্যমে তার রোগ সারানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু হয়।

বিশ্বাস তৈরির জন্য প্রতারকরা প্রথমে ৯৯৯ টাকা নেয় গরিব মানুষদের খাওয়ানো হবে জানিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রিয়জনের ক্ষতি করা ভয় দেখাত কথিত জিনের বাদশা।

প্রতারণার শিকার নারী চট্টগ্রামের খুলশি থানায় মামলা করলে সিঅআইডি তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনসহ তিনজনকে। প্রায় অভিন্ন কৌশলে চক্রটি গত ছয় মাসে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সিআইডি জানতে পেরেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নানা রকম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিত। এর মধ্যে রয়েছে জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষকে সুস্থ করা, বিদেশে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা, মামলা-মোকাদ্দমা থেকে মুক্তি, দাম্পত্যকলহ দূর করা, বিয়ের বাধা দূর করা, অবাধ্যকে বাধ্য করা ও চাকরিতে পদোন্নতি। সাধারণ মানুষ একবার তাদের ফাঁদে পা দিলে আর বের হতে পারতেন না।

শেয়ার করুন

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচার

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচার

আটকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে পাকস্থলিতে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে আটকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়।’

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের বেইজ টাওয়ার বসানোর নামে চট্রগ্রাম থেকে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে র‍্যাব।

এরা হলেন ইমন হোসেন, আজিজুল ইসলাম, শাহিন মণ্ডল, মামুনুর রশিদ, হাসিবুর রহমান ইয়াছিন ও মো. ইমরান।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‍্যাব জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে পাকস্থলিতে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে আটকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য। এরা কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় আসত। পরে ইয়াবার চালানগুলো বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত।’

তিনি জানান, আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা পেশায় শ্রমজীবী। তিন মাস ধরে তারা পাকস্থলিতে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন। এর আগে ইয়াবার ১০-১২টি চালান রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন তারা।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

সম্প্রতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

‘আমরাও ভিকটিম, আমরাও চাকরি করতাম জয়যাত্রা টিভিতে, টাকা পয়সা যা নেয়ার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিয়েছেন। তার জন্য তিনি তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে আবারও রিমান্ডে গেছেন। আমরা তো শুধু ম্যানেজার আর রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম, তাও অনেক আগে চাকরি ছেড়ে অব্যহতি নিয়ে চলে এসেছি।’

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

এভাবেই শুনানি করেন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম এবং জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) হাজেরা খাতুন অনির আইনজীবী মো. ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্লাহ নুরীর পক্ষের আইনজীবী আমানুল করিম লিটন।

শুনানির একপর্যায়ে তারা আদালতকে বলেন, ‘যদি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার থাকে তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিন। দয়া করে রিমান্ড দিবেন না। এই মামলার আসল আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে গতকাল আবারও রিমান্ডে গেছেন।’

শুনানিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা নিজেরা যেখানে ভিকটিম, আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কী থাকতে পারে?’

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে হাজেরা খাতুন অনি ও সানাউল্লাহ নূরীকে হাজির করা হয়।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ এ দুই আসামি ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জয়যাত্রা টিভি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি নিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল।

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার, আসামিদের কাছ থেকে জয়যাত্রা টিভির সকল নিয়োগপত্র, প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আত্মসাৎ ও আদায় করা চাঁদার টাকা উদ্ধারের জন্য তাদের রিমান্ড নেয়র জরুরি বলে মন্তব্য করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হাজেরা খাতুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে।

রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ মামলায় মঙ্গলবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়ও তার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড আবার তিন দিন এবং মাদক মামলায়ও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনা করে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১ টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইলফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জামাদি- ৪৫৬টি চিপস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতেই র‌্যাব-৪ বিটিআরসির সহযোগিতায় মিরপুরে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করে এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপরই আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ হারান হেলেনা জাহাঙ্গীর।

শেয়ার করুন

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী হাজেরা-নুরি রিমান্ডে

হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী হাজেরা-নুরি রিমান্ডে

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ এই দুই আসামি ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জয়যাত্রা টিভি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি নিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল।

আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী হাজেরা খাতুন অনি ও সানাউল্লাহ নুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত পল্লবী থানায় করা প্রতারণার মামলায় রিমান্ডের আদেশ দেন।

হাজেরা খাতুন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম এবং জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। আর সানাউল্লাহ নূরী জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ এই দুই আসামি ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জয়যাত্রা টিভি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি নিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল।

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার, আসামিদের কাছ থেকে জয়যাত্রা টিভির সব নিয়োগপত্র, প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আত্মসাৎ ও আদায় করা চাঁদার টাকা জব্দের জন্য রিমান্ডে পাঠানোর প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হাজেরা খাতুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ মামলায় মঙ্গলবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়ও তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড আবার তিন দিন এবং মাদক মামলায়ও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনা করে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১ টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইলফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জামাদি- ৪৫৬টি চিপস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতেই র‌্যাব-৪ বিটিআরসির সহযোগিতায় মিরপুরে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করে এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপরই আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ হারান হেলেনা জাহাঙ্গীর।

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা। ছবি: কবিরুল বাশার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, খোলা জায়গা, মাঠ, ফুলের টব, পানির পাম্প বা পানি জমে এমন পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার ট্রে, পানির ট্যাপের আশেপাশের জায়গা, বাথরুম, বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, নির্মাণাধীন ভবন, লিফট, সিঁড়ি, পরিত্যাক্ত বস্তু যেসবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে বা দুই দিনের বেশি পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা অফিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করাসহ চার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ জন্য ৪ দফা নির্দেশনা আদেশ জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও আশেপাশের খোলা জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২. শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, খোলা জায়গা, মাঠ, ফুলের টব, পানির পাম্প বা পানি জমে এমন পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার ট্রে, পানির ট্যাপের আশেপাশের জায়গা, বাথরুম, বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, নির্মাণাধীন ভবন, লিফট, সিঁড়ি, পরিত্যাক্ত বস্তু যেসবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে বা দুই দিনের বেশি পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. শিক্ষকদের অনলাইন ও ভার্চুয়াল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনা ও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানাতে হবে।

৪. শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সরকর প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই দেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে।

এখন প্রতিদিনই ঢাকায় অন্তত ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

জুলাইয়ে দুই হাজার ২৮৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭২। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতাল সুনির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে আক্রান্ত হয় ১ লাখের বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে মারা যায় ১৭৯ জন। গত বছর সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কম থাকলেও এ বছর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর এই বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এডিস মশা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ভবনে অভিযান চালিয়ে এডিস বিস্তারের পরিবেশ থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে চলছে প্রচারণা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে। আর অন্য মশার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশার পার্থক্য আছে। মূলত এই মশাগুলোর জন্ম হয় আবদ্ধ পরিবেশে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারপরও ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যান।

শেয়ার করুন