জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের দাবি বিএনএফের

জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের দাবি বিএনএফের

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‍বুধবার এক সভায় করোনা মহামারি, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ, রোহিঙ্গা ইস্যু, আকাশসীমা ইস্যু, হেফাজত কানেকশন ইস্যু ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে এই দাবি জানানো হয়।

দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমমনাদের নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদ।

সংগঠনের আয়োজনে রাজধানীর তোপখানায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি তুলে ধরেন।

সভায় করোনা মহামারি, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ, রোহিঙ্গা ইস্যু, আকাশসীমা ইস্যু, হেফাজত কানেকশন ইস্যু ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনএফের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান খান নাজিম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. শফিউল্লাহ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব এস এম ইসলাম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম জেন্টু, সৈয়দ মাহবুব হাসান আজাদ শাওন ও খলিলুর রহমান খান, আইনবিষয়ক সম্পাদক সারোয়ার ই কায়নাত, যুববিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল আহসান রনি, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সজীব কায়সার মিথুনসহ অনেকে।

এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সময় থাকতে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব করছি। হেফাজত-জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্র/চক্রান্ত নির্মূল করতে এর কোনো বিকল্প নেই।’

কোভিড-১৯ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর গজব থেকে পানা পাওয়ার জন্য মসজিদের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়া দরকার। টিকা দেয়া নিশ্চিতে সরকারপ্রধানের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের গাফিলতির কারণে টিকার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে ভারতের যে এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছিল, সে অনুযায়ী অবিলম্বে পানিবণ্টন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ হবেই।’’ কিন্তু এখনও গঙ্গা বাঁধ হয়নি। এ জন্য বিএনএফকে দায়িত্ব দেয়া হলে বিএনএফ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে হাইকমিশন অফিস ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করত।’

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও ছিটমহল বিনিময় চিহ্নিত করা হলেও আকাশসীমা চিহ্নিত করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তিন মাস আগে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বলেছিলেন, আকাশসীমা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।’

হেফাজতের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও এরা নীরব নয়, এরা ধীরে ধীরে গতিশীল হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনএফের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সরকারের উচিত বিএনএফসহ সব দেশপ্রেমিক দলকে সঙ্গে নিয়ে হেফাজতসহ সব ষড়যন্ত্রকারীকে প্রতিরোধ করা।’

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের মতো করে ফেরত যাবে, সেই দায়িত্ব সরকার নেবে না, সেটা আন্তর্জাতিক মহলকে নিতে হবে।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে, তাহলে ফিলিস্তিনের শান্তি ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেন বিএনএফ প্রেসিডেন্ট। বলেন, গত দশম সংসদে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের জন্য আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্রের একটা রেজল্যুশন পাস হয়েছিল।

কালোটাকা সাদা করতে দেয়া যাবে না, এটা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে কোনো অবদান রাখে না, বরং কালোটাকা সাদা হয়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য অবিলম্বে দুর্নীতি দমন মন্ত্রণালয় গঠন করা জরুরি।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৭০ মিটার নর্দমায় ১০৭ টন বর্জ্য

১৭০ মিটার নর্দমায় ১০৭ টন বর্জ্য

ডিএসসিসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া কার্যক্রমে চার দিনে মোট ৩০৫০ ব্যাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাগে ৩০ কিলোগ্রাম গড় ওজনে প্রায় ১০৬.৭৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে হস্তান্তর করা ঢাকা ওয়াসার

বদ্ধ নর্দমারগুলোর মধ্যে চানমারি-শাহজাহানপুর ঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দমার চানমারি মোড় থেকে সাতটি পিটের মধ্যবর্তী ১৭০ মিটার অংশ থেকে চার দিনে ১০৭ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

রোববার ডিএসসিসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চানমারি মোড়ের পিটে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। রোববার পর্যন্ত সাত পিটের মধ্যবর্তী ১৭০ মিটার অংশ থেকে মোট ৩০৫০ ব্যাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ সব বর্জ্যের প্রায় অর্ধেকই চানমারি মোড়ের পিট থেকে পরবর্তী পিটের মধ্যবর্তী মাত্র ৩৫ মিটার অংশ থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

চানমারি-শাহজাহানপুর ঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত নর্দমা দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না হওয়ায় নর্দমার ভেতরে বর্জ্য ও পলি জমাটবদ্ধ হয়ে পানিপ্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করছিল। সেই বাঁধা সরাতে পালাক্রমে তিনজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি অক্সিজেন মাস্ক পরিধান করে নর্দমার মধ্যে জমে থাকা জমাটবদ্ধ বর্জ্য অপসারণ কাজে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রতিদিন ১৭ জন করে পরিচ্ছন্নকর্মী এই অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

১৭০ মিটার নর্দমায় ১০৭ টন বর্জ্য

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে চার দিনে মোট ৩০৫০ ব্যাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। প্রতিটি ব্যাগে ৩০ কিলোগ্রাম গড় ওজনে প্রায় ১০৬.৭৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

অপসারিত বর্জ্যের মধ্যে পলিথিন ব্যাগ, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল, গাম বুট, বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিকস ও কাপড়, ইট, ইটের খোয়া, কাঠের টুকরা ইত্যাদি রয়েছে। তবে প্লাস্টিক বোতল, ফেব্রিকস ও পলিথিন ব্যাগ বেশি ছিল।

১৭০ মিটার নর্দমায় ১০৭ টন বর্জ্য

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিউল্লাহ সিদ্দিক ভুঁইয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অঞ্চল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. পারভেজ রানার সহযোগিতায় এবং ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মির্জা আসলাম আসিফ, ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খ ম মামুন রশিদ শুভ্র ও ৪নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলির তদারকিতে এই কার্যক্রম চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস চানমারি মোড়ে যান। সেখানে বদ্ধ নর্দমা পরিদর্শনকালে জমে থাকা বর্জ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

ইতালিতে ফিরতে সরকারের সহযোগিতা চান প্রবাসীরা

ইতালিতে ফিরতে সরকারের সহযোগিতা চান প্রবাসীরা

‘ইতালিতে ফিরতে না পারায় আমরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তেমনি আমাদের দেশ বঞ্চিত হচ্ছে রেমিটেন্স থেকে। এজন্য ইতালিয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত আটকেপড়া বাংলাদেশিদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ছুটিতে দেশে এসে আটকে পড়া ইতালি প্রবাসীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে চান। এজন্য ফ্লাইট চালু, বৈধ অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানো ও সহজ শর্তে রি-এন্ট্রি ভিসা দেয়ার দাবিতে তারা রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন।

রোববার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ইতালির সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব বাধা অপসারণে দ্রুত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

‘ইতালি প্রবাসী, বাংলাদেশি’ ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন রতন, মো. অনিক হাওলাদার, শাহজাহান মোল্লা, মো. গিয়াসউদ্দিন, ছান্টু কাজী, শিমনে বাবুসহ অনেকে।

অ্যাডভোকেট ইমাম হোসাইন রতন বলেন, ‘আমরা ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ইতালির নাগরিকদের সঙ্গে কাজ ও সংস্কৃতিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে আসছি। চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমতে থাকায় বহু প্রবাসী পরিবারপরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজে অল্পসময়ের জন্য দেশে আসি।

‘কিন্তু ভারতীয় বা ডেল্টা ভেরিয়েন্টের অজুহাতে গত এপ্রিলের শেষ দিকে ইতালি প্রবেশে দেশটির সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দেয়, সেখানে ভারত, শ্রীলংকার সঙ্গে বাংলাদেশও রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও চলমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্তত সাড়ে ৫ হাজার ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি ফেরত যেতে পারেননি। এর ফলে আমরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। অনেকেই স্ত্রী-সন্তানদের ইতালিতে রেখে দেশে এসে আটকা পড়েছেন, অনেকেই ইতিমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন, কারও চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, অনেকের ডকুমেন্টস নবায়নের সময় শেষ হয়ে গেছে।

‘ইতালিতে ফিরতে না পারায় আমরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তেমনি আমাদের দেশ বঞ্চিত হচ্ছে রেমিটেন্স থেকে। এজন্য ইতালিয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত আটকেপড়া বাংলাদেশিদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং ডিসি ডিপ্লোমেটিক গুলশানের মাধ্যমে ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াতা বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপে মুদ্রা পাচার, গ্রেপ্তার ৫

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপে মুদ্রা পাচার, গ্রেপ্তার ৫

বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ পাঁচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: সিআইডি

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাকৃতরা এসব অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের নাম এসেছে এবং তাদের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে প্রায় শত কোটি টাকারও বেশি লেনদেন এর তথ্য পাওয়া গেছে।

লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ বিগো লাইভ ও লাইকির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাঁচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন বিদেশি নাগরিকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রাজধানী বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে রোববার ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোস্তফা সাইফ রেজা, আরিফ হোসেন, এস এম নাজমুল ও আসমা উল হুসনা সেঁজুতী এবং অজ্ঞাত বিদেশি এক নাগরিক।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ মহাপরিদর্শক জামিল আহমেদ জানান, এই অ্যাপগুলোতে সাধারণত দেশের উঠতি বয়সী তরুণ তরুণী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা যুক্ত হতেন। বিগো লাইভে দুই ধরনের আইডি আছে। ব্রডকাস্টার আইডি ও সাপোর্টার আইডি বা সেন্ডার আইডি। ব্রডকাস্টার আইডি ব্যবহার করে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা ভিডিও লাইভ স্ট্রিম করে থাকে। এই ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে তথাকথিত বিনোদনের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হতো।

তিনি বলেন, ‘সাপোর্টার আইডি বা সেন্ডার আইডির মাধ্যমে যারা ভিডিও স্ট্রিমিং করতো, বিনিময়ে তাদেরকে ডিজিটাল কয়েন সদৃশ ডায়মন্ড উপহার দেয়া হতো। পরবর্তীতে এই ডায়মন্ড টাকায় রূপান্তরের মাধ্যম অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতেন তারা।’

জামিল আহমেদ জানান, এদের টার্গেট মূলত দেশের যুব সমাজ এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। লাইভ স্ট্রিমিংয়ে তাদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার প্রলোভনে অ্যাপে ঢোকেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। তার জন্য ডায়মন্ড নামে একটি ভার্চ্যুয়াল টাকা কিনতে হয় তাদের। সাধারণত বাংলাদেশে ব্যবহৃত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ডায়মন্ড কেনা যায়। সেই টাকা উপহার হিসেবে দিয়ে আড্ডায় যুক্ত হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।

সিআইডি বলছে, এই ডায়মন্ড সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিভিন্ন নামে অনেক এজেন্সি রয়েছে। এরকম একাধিক এজেন্ট বাংলাদেশে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, ভার্চুয়াল টাকা ও ব্যাংকের মাধ্যমে এইসব ডিজিটাল টাকা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার করা হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাকৃতরা এসব অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেকের নাম এসেছে এবং তাদের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে প্রায় শত কোটি টাকারও বেশি লেনদেন এর তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তার নাজমুলের কাছ থেকে দুইটি মোবাইলফোন, দুইটি ল্যাপটপ, একটি প্রাইভেটকার বিভিন্ন ব্যাংকের ৭টি ক্রেডিট কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি চেক বই, নগদ ৫০ হাজার ৪৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আরিফ হোসের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার মোস্তফা সাইফ রেজা ও আসমা উল হুসনা সেজুঁতীর কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও দুইটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানায় সিআইডি।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

চাকরিচ্যুত পাটকলশ্রমিকদের ৬ দাবি

চাকরিচ্যুত পাটকলশ্রমিকদের ৬ দাবি

সরকারি পাটকল থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা ৬ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ২ জুলাই রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে উৎপাদন বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়। এর ফলে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিক মিলিয়ে এক ধাক্কায় প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের কর্মক্ষম হাতকে বেকারের হাতে পরিণত করা হয়েছে। শুধু শ্রমিক নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি-পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও তাদের পরিবারসহ কয়েক লাখ মানুষ।

সব বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন সরকারি করিম ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার শ্রমিকদের আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি ও হুঁশিয়ার জানানো হয়।

শ্রমিকদের দাবিগুলো হচ্ছে:

# নামের ভুল দ্রুত সংশোধন করে অবশিষ্ট স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করা।

# ২০১৯ সালের বকেয়া সপ্তাহের মজুরি প্রদান করা।

# ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন অনুযায়ী গত চার বছরের ছুটি ও ৯টি বোনাস, চিকিৎসা-শিক্ষা ভাতার ডিফারেন্স, বৈশাখী ভাতার টাকা পরিশোধ করা।

# বেসরকারি পাটকলে ২০১৫ সালের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা।

# রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ নয়, আধুনিকায়নসহ চালু করা।

# ক্যাজুয়াল ভিত্তিতে নয়, বদলি বা স্থায়ী হিসেবে পুরোনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকারে নিয়োগ দেয়া।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর ২০২০ সালের ২ জুলাই রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে উৎপাদন বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়। এর ফলে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিক মিলিয়ে এক ধাক্কায় প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের কর্মক্ষম হাতকে বেকারের হাতে পরিণত করা হয়েছে। শুধু শ্রমিক নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি-পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও তাদের পরিবারসহ কয়েক লাখ মানুষ।

শ্রমিকরা জানান, সরকারি পাটকল বন্ধের সময় বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে শ্রমিকদের ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’জনিত ক্ষতিপূরণসহ সব পাওনা মিটিয়ে দিয়ে পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে। কিন্তু এক বছর হতে চললেও এখনও সব স্থায়ী শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ হয়নি। বদলি শ্রমিকদের পাওনা দেয়া এখনও শুরুই করা হয়নি। করোনা মহামারিজনিত লকডাউনের মধ্যে বিকল্প কাজ ও আয়ের অভাবে এই শ্রমিকদের দুর্দশা বর্ণনাতীত। পাওনার টাকাটুকু হাতে পেলে এই অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে তারা কোনোমতে চলতে পারতেন।

তারা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের পেছনে সরকারের বড় অজুহাত লোকসান। কিন্তু কেন লোকসান, কাদের কারণে লোকসান, লোকসান কাটাতে কী কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর নেই। এর দায় শ্রমিকের নাকি ম্যানেজমেন্ট ও নীতিনির্ধারকদের। শ্রমিকরা একা কেন শাস্তি পাবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকরা জানান, পরিবেশ সচেতনতার কারণে ক্ষতিকর পলিথিন-প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। চাল, গম, আটা, চিনিসহ ১৮টি পণ্যের মোড়ক ব্যবহারে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আদেশ ‘ম্যানডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০’ বাস্তবায়ন হলে দেশের বাজারে পাটের বিপুল চাহিদার সৃষ্টি হবে। ফলে পাটশিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। সম্ভাবনা আছে বলেই বেসরকারি পাটকলগুলো লাভ করছে।

পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু এবং লোকসানের কারণগুলো দূর করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে, দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা করতে পারলে রাষ্ট্রীয় খাতে রেখেই পাটকলগুলো লাভজনক করা সম্ভব বলে জানান শ্রমিকরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন করিম জুট মিলের শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ গোফরান, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য ফখরুদ্দিন কবির আতিক, করিম জুট মিলের শ্রমিকনেতা জাফর উল্লাহ, এরশাদ-উজ-জামান, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা কামালসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

‘গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের কারাগার থেকেই পরীক্ষা দিতে দিন’

‘গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের কারাগার থেকেই পরীক্ষা দিতে দিন’

মতিঝিল শাপলা চত্বরে গত ২৫ মার্চ পুলিশ সদস্যের ওপর বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ কর্মীদের হামলা। ফাইল ছবি

নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভের সময় আসামি ছিনতাইয়ের একটি মামলায় ৪ এপ্রিল তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের জামিন নাকচ হয়েছে।

দুই মাস ধরে কারাগারে আছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। জুলাই থেকে তার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারাগারে থেকেই ইয়ামিন যেন চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ করেছেন তার মা হাসিনা বেগম ও বাবা রফিকুল ইসলাম মোল্লা।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অনুরোধ জানান।

কারাবন্দি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ৷ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনের বাবা হাফেজ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনও।

গত ৪ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা এবং সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় শাহবাগ থানায় পুলিশের করা মামলার আসামি ছিলেন তারা।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও পুলিশকে মারধর করার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান কবির। এ মামলার আসামি হিসেবে ইয়ামিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাইকোর্ট তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেয় গত ১ জুন।

রোববারের সংবাদ সম্মেলনে বিন ইয়ামিনের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘দুই মাস ধরে ছেলের জন্য ঢাকায় আসছি এবং যাচ্ছি। উপাচার্যের কাছে অনুরোধ করব, কারাগারে থেকে হলেও আমার ছেলেদের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিন, আমাদের প্রতি একটু দয়া করুন। একটু চেষ্টা করুন, যেন তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হয়।’

বিন ইয়ামিনের বাবা রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘মোদি বিরোধী আন্দোলনের কারণে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রের রাজনীতি করার অধিকার আছে। এটি সাংবিধানিক আইন। তাই বলে এ শিক্ষার্থীদের জেলখানায় আটকে রেখে তাদের মেধাশূন্য করে দিতে হবে? সর্বশেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো দিতে না পারলে তাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

আকরাম হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি ছয় বছর ধরে ঈদের নামাজ পড়াই। কিন্তু আমার ছেলে আকরাম গ্রেপ্তার হওয়ায় ঈদের নামাজও পড়াতে পারিনি। আমার ছেলেকে যখন কোর্টে আনা হয়েছে, তখন আমি ছেলেকে সালাম দিলাম। সেই সালামের উত্তর পর্যন্ত গ্রহণ করতে আমাকে সুযোগ দেয়নি। এটি রাজনীতি না, প্রতিহিংসা।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে উপাচার্য স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের অনুমতি পেলে কারাগারে পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ আছে। আমি তাদের বুঝিয়ে বলেছি। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবকিছু করা হবে। আমাদের তরফ থেকে সহযোগিতার কোনো ঘাটতি থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

ধর্মীয় বক্তা আবু তোহা মোহাম্মদ আদনান। ফাইল ছবি

ফেসবুক, ইউটিউব ঘেঁটে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রংপুর সদরের বাসিন্দা তোহা নিজেকে ইসলামি স্কলার দাবি করেন। পড়াশোনা শেষ না হলেও তিনি ইসলাম ধর্মীয় বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের মতো করে ব্যাখা দিয়ে যাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই, যা নিয়ে বিতর্কও আছে।

রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে একসঙ্গে চারজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এদের একজন সামাজিক মাধ্যমে নানা ধর্মীয় বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হয়ে উঠা আবু তোহা মোহাম্মদ আদনান। অন্যরা হলেন তার সহযাত্রী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দীন ফয়েজ।

বৃহস্পতিবার রংপুর থেকে ঢাকায় প্রবেশের সময় গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন আবু তোহার শ্যালক জাকারিয়া হোসেন।

তিনি জানান, তার ভগ্নিপতির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয় গাবতলী থেকে রাত ২টা ৩৬ মিনিটে। এরপর থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ, দুষ্কৃতকারীরা তাদের অপহরণ করেছে।’

নিখোঁজ হওয়ার পর দিন শুক্রবার তোহার স্ত্রী দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাকারিয়া।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার এ এস এম মাহতাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা তো থানাতেই যাননি। ফোনে ওসিকে জানিয়েছে। ওসি তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমার ধারণা লোকজন কোথায় আছে, বিষয়টা তারা জানে।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে শনিবার রাতেও নিউজবাংলা কথা বলেছিল আবু তোহার শ্যালক জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে।

তখন তিনি বলেন, ‘চারজন একসঙ্গে মিসিং হয়েছে। তবে আপনাকে কোনো তথ্য দিতে পারছি না। কারণ, আপনার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করতে পারছি না।’

এরপর প্রতিবেদকের পরিচয়পত্র, নিউজবাংলার লিংক হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পর তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, আপনাকে পরে তথ্য সরবরাহ করা হবে।’

কে এই আবু তোহা মুহাম্মদ আদনান?

ফেসবুক, ইউটিউব ঘেঁটে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রংপুর সদরের বাসিন্দা তোহা নিজেকে ইসলামি স্কলার দাবি করেন। পড়াশোনা শেষ না হলেও তিনি ইসলাম ধর্মীয় বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের মতো করে ব্যাখা দিয়ে যাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই, যা নিয়ে বিতর্কও আছে।

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত তার বক্তব্যে ঢাকা শহরকে ‘কেয়ামতের শহর’ হিসাবে উল্লেখ করেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, ‘যে নারী পুরুষের সঙ্গে পাবলিক বাসে উঠে অফিসে যায়, যে নারী সহকর্মী পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন তারা দাজ্জালের বাহিনীর সদস্য। ইমাম মাহাদীর বিরুদ্ধে এই নারীরাই যুদ্ধ করবে।’

ইসলাম ধর্মমতে দুনিয়া ধ্বংস তথা কিয়ামতের আগে মুসলিমদের সঙ্গে দাজ্জালের বাহিনীর লড়াই হবে। আর মুসলিমদের নেতৃত্ব দেবেন ইমাম মাহাদী।

ইমাম মাহাদী পৃথিবীতে কবে আসবেন, এ নিয়ে অবশ্য ইসলামিক বক্তাদের মধ্যে বিরোধ আছে। কেউ কেউ নিজেকে ইমাম মাহাদী পরিচয়ও দিয়েছেন নানা সময়।

তোহার দাবি, পরকালে দোজখে নারীদের সংখ্যা বেশি হবে। আর এর জন্য তার ভাষায় ‘নারীর উদ্ধত’ আচরণ দায়ী।

প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও তোহা নানা সময় উসকানি দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন

গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুজন রিমান্ডে

গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুজন রিমান্ডে

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় শনিবার অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একদিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ ।

রোববার ঢকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এ আদেশ দেন।

এর আগে বিকেল চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম মিয়া আসামিদের তিন দিনের হেফাজতে নিতে আদালতে আবেদন করেন।

আসামি পক্ষে আইনজীবী হান্নান ভূইয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড চেয়ে ও জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই মো. ফরিদ মিয়া ।

তিনি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে বলেন, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এসআই ফরিদ মিয়া আরও বলেন, গ্রেপ্তার করা দুজনের নাম মো. রাকিব ব্যাপারী ও মো. শফিকুল ইসলাম।

এর আগে আসামিদের শনিবার গ্রেপ্তারের পর ডিবির মতিঝিল বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শিকদার মো. হাসান ইমাম সাংবাদিকদের জানান, ডিবি সংবাদ পায় কিছুসংখ্যক লোক তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ক্যাফে নিউ নাইওরি রেস্তোরাঁ এলাকার ফুটপাতে মাদকদ্রব্য বিক্রয় করার জন্য অবস্থান করছে। শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদের আটক করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদককারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মাদক আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন:
গণবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়: বিএনএফ

শেয়ার করুন