কোরবানির ছুরি দিয়ে জবাই, পরে প্রেমিকাকে ইমামের ফোন

ইমাম আব্দুর রহমান ও আসমা।

কোরবানির ছুরি দিয়ে জবাই, পরে প্রেমিকাকে ইমামের ফোন

‘কাছে থাকা কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে আঘাত করতে যান। ভুক্তভোগীও টের পেয়ে যান। এতে তাদের দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আজহারুল ইমামের কক্ষ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে পড়ে যান। ইমাম তখনই তার গলার ডান দিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মারা গেলে তিনি মরদেহ টেনেহিঁচড়ে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ওই ছুরি-চাপাতি দিয়ে মরদেহ ছয় খণ্ডে খণ্ডিত করেন।’

পোশাকশ্রমিক মো. আজহার। আরবি পড়েন ইমাম আবদুর রহমানের কাছে। সেই সুবাদে পরিবারে যাতায়াত।

এর মধ্যে স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে দুই সন্তানের জনক ইমাম আব্দুর রহমানের। টের পেয়ে যান আজহার। ইমামের সঙ্গে করেন রাগারাগি। বলেন, আর বাসায় যেন তিনি না যান।

হঠাৎ করেই ১৯ মে থেকে নিখোঁজ আজহার। স্ত্রী কিছু জানাননি পুলিশকে। তবে ভাই জানান র‌্যাবকে।

২৫ মে খোলাসা হয় অনেক কিছু। মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আসে র‌্যাব। ট্যাংক খুলে দেখা যায়, টুকরা টুকরা মরদেহ। সব মিলিয়ে ছয়টি।

আজহারকে খুন করে ছয় টুকরা করে সেখানে ফেলা হয়।

এর মধ্যে ইমাম আবদুর রহমান ও আজহারের স্ত্রী আসমার মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠার তথ্য জানে র‌্যাব। দুজনের ফোনে কথোপকথনও খতিয়ে দেখে তারা। আর এতেই হত্যারহস্য উঠে আসার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি।

র‌্যাব জানায়, রমজান শুরুর এক সপ্তাহ আগে আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসমা ও ইমাম আবদুর রহমান। কিন্তু আজহার অসুস্থ হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সুস্থ হওয়ার পর চলে আসে ঈদ। আজহার সে সময় স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে।

ঈদের পর অনেকটা জোর করে আজহারকে ঢাকায় পাঠান আসমা। আর ফেরার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী মসজিদে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করেন ইমাম আবদুর রহমান।

দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের নেয়া হয়েছে রিমান্ডেও।

যেভাবে পরিকল্পনা

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য গণমাধ্যমকে জানাতে বুধবার র‌্যাব সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘মার্চের শেষের দিকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও মসজিদের ইমাম দুজনে মিলে আজহারুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তারা সিদ্ধান্ত নেন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আজহারুলকে হত্যা করবেন। পরে আসমা পরামর্শ দেন হত্যার ঘটনাটি যেন ইমামের রুমে করা হয়।’

হত্যার পরিকল্পনা করতে আলাপ-আলোচনার জন্য মক্তবের এক ছাত্রের নামে একটি সিমকার্ড ও একটি মোবাইল ফোন আসমাকে দেন ইমাম। এর মাধ্যমে তাদের নিয়মিত সলাপরামর্শ চলে।

র‌্যাব পরিচালক মঈন বলেন, ‘রমজান মাসের ৭ দিন আগে আজহারুলকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ সময় আজহারুল কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

‘ওই সময় হাসপাতলে ভর্তি ছিলেন আজহারুল। আজহার সুস্থ হলে ঈদের আগের দিন তারা টাঙ্গাইলের কালিহাতী গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখানেও নিয়মিত আসমা আক্তারের সঙ্গে আবদুর রহমানের যোগাযোগ চলছিল।

‘পরে আসমা আক্তার ইমামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সলাপরামর্শ করে গত ১৮ মে অনেকটা প্ররোচনা দিয়ে আজহারুলকে ঢাকায় পাঠান। পরদিন আজহারুলকে ফোন করে মসজিদে আসার জন্য বলেন ইমাম।”

খুন যেভাবে

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজহারুল কাজ শেষে গার্মেন্টস থেকে সরাসরি ইমামের সঙ্গে দেখা করতে এশার নামাজের সময় মসজিদে যান। তখন ইমাম তাকে বলেন, ‘তুমি আমার কক্ষে বিশ্রাম নাও। নামাজ শেষ করে আমি আসছি’।

‘তখন আজহারুল ইমামের কক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নেন। সারা দিন কাজের ফলে ক্লান্ত থাকায় সে ঘুম ঘুম অনুভব করতে থাকেন।

‘ওই সময়টি কাজে লাগান ইমাম আবদুর রহমান। কাছে থাকা কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে আঘাত করতে যান। ভুক্তভোগীও টের পেয়ে যান। এতে তাদের দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আজহারুল ইমামের কক্ষ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে পড়ে যান।

ইমাম তখনই তার গলার ডান দিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মারা গেলে তিনি মরদেহ টেনেহিঁচড়ে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ওই ছুরি-চাপাতি দিয়ে মরদেহ ছয় খণ্ডে খণ্ডিত করেন।’

‘এরপর খণ্ড করা মরদেহ নিয়ে ব্যাগে ভরে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন এবং ওই ট্যাংকের মুখটি সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখেন’- বলেন র‌্যাব পরিচালক।

খুন করে মসজিদ ত্যাগ ইমামের

ঘটনার পর থেকে মসজিদের ওই কক্ষে অবস্থান না করে ইমাম আবদুর রহমান পাশের ঢাকা মাদ্রাসায় অবস্থান নেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ২৫ মে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জানান, সিঁড়ির মধ্যে রক্তের দাগ ছিল এবং সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে র‍্যাব ছায়া তদন্ত করে এবং আজহারুলের নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারে।

অধিকতর তদন্ত করে ইমামকে গ্রেপ্তার করে এবং তার দেখানো ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারের মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে। আর তার তথ্যে গ্রেপ্তার করা হয় আসমাকে।

খুন করে আসমাকে ফোন

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, হত্যার আগে এবং পরে মসজিদের ইমাম আবদুর রহমান মোবাইল ফোনে আসমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই হত্যা কীভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়টি তাকে জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম রহমান র‌্যাবকে জানান, আজহারকে হত্যার জন্য আগে থেকেই একটি চাপাতি ও একটি ছুরি তার কক্ষে এনে রেখেছিলেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আজহারুল ছিলেন আসমার তৃতীয় স্বামী। তিনি ২০১৫ সালে আজহারুলের বড় ভাইকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। পরে আসমার সঙ্গে আজহারুলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তারা পালিয়ে বিয়ে করেন‌।

তিনি বলেন, আসমাই হত্যার পরিকল্পনা ও প্ররোচনা দেন। তিনি বলতেন, আজহারুলকে খুন করলে তিনি ইমাম আবদুর রহমানকে বিয়ে করবেন।

ইমামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রবাসীদের হোটেল কোয়ারেন্টিনের টাকা জালিয়াতি, আটক ২

প্রবাসীদের হোটেল কোয়ারেন্টিনের টাকা জালিয়াতি, আটক ২

প্রতীকী ছবি।

শাহজালাল বিমানবন্দর পরিচালক তৌহিদ উল আহসান বলেন, সরকারের নির্দেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রলায়ের তত্ত্বাবধানে সৌদিগামী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এই টাকা বিমানবন্দরে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দেয়া হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সৌদি প্রবাসী যাত্রীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে দালাল চক্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পূরণের মাধ্যমে প্রবাসী যাত্রীদের বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এমন অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)।

আটককৃতরা হলেন- মুশফিকুর রহমান ও ফাতেমা আক্তার।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তাদের আটক করা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দর পরিচালক তৌহিদ উল আহসান গনমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রলায়ের তত্ত্বাবধানে সৌদিগামী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সৌদি আরবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এই টাকা বিমানবন্দরে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে দেয়া হয়।

তৌহিদ উল আহসান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে ধরতে সক্ষম হয় যারা প্রবাসী যাত্রীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে দালাল চক্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পূরনের মাধ্যমে প্রবাসী যাত্রীদের বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এভসেক সৌদি আরবগামী এসভি-৮০৯ ফ্লাইটের ভুক্তভোগী ছয়জন যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ দালালচক্রের দুইজন সদস্যকে আটক করে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে তদন্তের জন্য দালালচক্রের দুইজন সদস্যকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

‘সানমুন টাওয়ার’ নিয়ে তদন্ত চায় সংসদীয় কমিটি

‘সানমুন টাওয়ার’ নিয়ে তদন্ত চায় সংসদীয় কমিটি

রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) জায়গায় গড়ে উঠেছে এই টাওয়ার। নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এমআর ট্রেডিং টাওয়ারে বিজেএমসির অংশ বুঝিয়ে দেয়নি বলে অভিযোগ আছে।

আলোচিত ‘সানমুন টাওয়ার’-এর ভাড়ার দেনা-পাওনা তদন্তের সুপারিশ করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) জায়গায় গড়ে উঠেছে এই টাওয়ার। নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এমআর ট্রেডিং টাওয়ারে বিজেএমসির অংশ বুঝিয়ে দেয়নি বলে অভিযোগ আছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিজেএমসি ও এমআর ট্রেডিং কোম্পানির মালিকের উপস্থিতিতে সানমুন টাওয়ারের ভাড়ার দেনা-পাওনাসংক্রান্ত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিজেএমসি ও এমআর ট্রেডিং কোম্পানির মধ্যকার আর্থিক দেনা-পাওনার বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তদন্ত সাপেক্ষে একটি প্রতিবেদন পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘বৈঠকে ওই ভবন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেটা পেলে বিস্তারিত আলোচনা করে আমরা সুপারিশ দেব।’

সানমুন টাওয়ার নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও এমআর ট্রেডিংয়ের মালিক মো. মিজানুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ৮২৭ কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভবনের জমিটি ছিল বিজেএমসির। তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জমিটি বিজেএমসি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। ভবনটি নির্মাণে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও রাজউকের অনুমোদন নেয়া হয়নি।

বঙ্গভবনের খুবই কাছে হওয়ায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়ার কথা থাকলেও তা নেয়া হয়নি। ভবনটির নির্মাণ নিয়ে নানা ধরনের দুর্নীতি হয়েছে- এমন তথ্য স্থানীয় সরকার বিভাগের এক তদন্তেও উঠে আসে।

বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় নিজ উদ্যোগে এক একর করে জমি দান করে একটি করে ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।

কমিটির সভাপতি মির্জা আজমের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহীন আক্তার, আব্দুল মমিন মণ্ডল, খাদিজাতুল আনোয়ার ও তামান্না নুসরাত বুবলী।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়ায় যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ গাবতলী এলাকায় তীব্র যানজট কমছে না। গাবতলী থেকে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের রাস্তায়ও ছিল এমন চিত্র। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে হেঁটে পথ পাড়ি দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে গত মঙ্গলবার থেকে চারপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। একই দিন থেকে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং রাজবাড়ীতেও কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়, যা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিভিন্ন বাসের স্টাফরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণার পর ঢাকাগামী সব ধরনের যানবাহন আমিনবাজারের আগেই আটকে দেয়া হচ্ছে। এরপর বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে ইউটার্ন নেয়ায় সেখানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

একই কথা বলছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঢাকার বাইরের কোনো বাস রাজধানীতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত যানজট তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

সাভার থেকে গাবতলীগামী যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে বাম পাশ থেকে ইউটার্ন নিয়ে ডান পাশের রাস্তায় ঘুরাতে গিয়ে দুই পাশেই যানজট তৈরি করছে।

গাবতলীতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই যানজট আছে। সেটা ঢাকার বাইরে। বাসগুলো ইউটার্ন করায় এই জট তৈরি হয়েছে।’

বাসযাত্রীরা বলছেন, বাসে স্বাস্থ্যবিধির দিকে কোনো নজর নেই। রাস্তায় গাড়ি আটকে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তোলা হচ্ছে। অনেক যাত্রীই জটলা বেঁধে হেঁটে চলছেন। এক রিকশায় চারজনও চড়ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও গাদাগাদি করে বাইরের লোকজন রাজধানীতে ঢুকছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের।

ঢাকার প্রবেশমুখে তীব্র যানজট, ক্ষোভ যাত্রীদের

এমন পরিস্থিতির জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার পরিবহন নামের বাসের যাত্রী মো. সোলায়মান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেমায়েতপুর থেকে সকাল ১০টায় রওনা দিয়ে বলিয়ারপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসেই ছিলাম। তারপর পায়ে হেঁটে গাবতলী পৌঁছাই। রাস্তায় মানুষ যেভাবে একে আরেকজনের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সুমন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসের ডাবল সিটে ডাবল যাত্রী টেনে ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। লকডাউন দিয়ে কী লাভ হচ্ছে?’

রিকশাচালক রানা জানান, এই লকডাউন শুধুই ভোগান্তির। এতে কোনো লাভ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

রাজধানীতে অস্ত্র-গুলি জব্দ, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীতে অস্ত্র-গুলি জব্দ, গ্রেপ্তার ২

জমি দখল নিয়ে কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তার রফিক আলোচিত সানু হত্যা মামলায় ২২ বছর কারাভোগ শেষে ২০১৭ সালে মুক্তি পান। ২০১৯ সালে অপর এক অস্ত্র মামলায় এক বছর কারাভোগ শেষে আবারও তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রফিকুল ইসলাম রতন ও মো. আরমান।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থানার শিকারীটোলা এলাকায় আবুল হাশেম ও মো. মামুনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত ৪ জুন আবুল হাশেম ভাড়াটে সন্ত্রাসী রফিক বাহিনীর ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে দেয়াল নির্মাণ করতে যান।

এ সময়ে মামুনসহ তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এতে হাশেমের নির্দেশে রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকসহ আরমান, রাসেল ও মহসিন ভিকটিম মামুনকে গুলি করলে তিনি আহত হন। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়। মামলাটির তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মামলাটির তদন্তকালে ২৩ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাভার ও হাজারীবাগ এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, জমি দখল নিয়ে কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার রফিক আলোচিত সানু হত্যা মামলায় ২২ বছর কারাভোগ শেষে ২০১৭ সালে মুক্তি পান। ২০১৯ সালে অপর এক অস্ত্র মামলায় এক বছর কারাভোগ শেষে আবারও তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

ক্র্যাবে ফল উৎসব

ক্র্যাবে ফল উৎসব

মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ক্র্যাব পরিবারের সঙ্গে আমার হৃদ্যতা তৈরি হয়, আজও তা আছে।

ক্র্যাব কার্যালয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করে বলেন, ‘কিছু কিছু ফল রয়েছে সাধারণত আমাদের খাওয়া হয় না। কিন্তু দেখলে সেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে। এ ক্ষেত্রে এটা সময়োপযোগি আয়োজন। আমরা দেশের ঐতিহ্যকে মন থেকে ধারণ করি।’

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্র্যাব কার্যালয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন।

এ সময় মনিরুল ইসলাম বলেন, এই মহামারির সময় সাধারণত একজনের সঙ্গে আরেক জনের দেখা হয় না। এরপরেও উৎসবমুখর পরিবেশে ক্র্যাবের এই আয়োজন প্রশংসনীয়।

তিনি ক্র্যাবের আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কিছু কিছু ফল রয়েছে সাধারণত আমাদের খাওয়া হয় না। কিন্তু দেখলে সেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে।’

‘এ ক্ষেত্রে এটা সময়োপযোগি আয়োজন। আমরা দেশের ঐতিহ্যকে মন থেকে ধারণ করি।’ এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবেও এই আয়োজনের জন্য ক্র্যাব নেতাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ক্র্যাব পরিবারের সঙ্গে আমার হৃদ্যতা তৈরি হয়, আজও তা আছে। এই সম্পর্ক থাকবে। আমার কখনও কখনও মনে হয় আমি এই সংগঠনেরই একজন সদস্য। এটা ভালো লাগার বিষয়।’

ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিকের সভাপতিত্বে ফল উৎসবে আরও বক্তব্য রাখেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, বিএফইউজের ট্রেজারার দীপ আজাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও ক্র্যাব সদস্য রফিকুল ইসলাম আজাদসহ ক্র্যাবের সিনিয়র সদস্যরা।

ফল উৎসব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ।

ফল উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি এস এম আবুল হোসেন,

ক্র্যাবের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মর্তুজা হায়দার লিটন, ক্র্যাবের সাবেক সাধারন

সম্পাদক আজহার মাহমুদসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিক ক্র্যাব সদস্যসহ সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য পেলে সাংবাদিকরা সেই সঠিক তথ্যই জনগণকে জানাতে পারেন।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

ঢাকায় পরীক্ষামূলক রুটভিত্তিক বাস সেপ্টেম্বরে

ঢাকায় পরীক্ষামূলক রুটভিত্তিক বাস সেপ্টেম্বরে

কেরানিগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত একটি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস চালুর কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। করোনার লকডাউনের কারণে সেটি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হবে।

এ বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে রাজধানীতে রুটভিত্তিক বাসের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরুর কথা থাকলেও তা পিছিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস জানালেন, এটি চালু হবে সেপ্টেম্বর থেকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানজট নিরসনে গঠিত ‘বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন’ কমিটির ১৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মেয়র জানান, এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বাস চলাচল শুরু হবে।

শেখ তাপস বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে আমরা আজকে বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন কমিটির ১৭তম সভা সম্পন্ন করলাম। গত সভায় একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত ছিল - ১ এপ্রিলের মধ্যে একটি রোডে পরীক্ষামূলকভাবে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম আরম্ভ করব। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে সেটার ব্যাঘাত ঘটে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে ১ হাজার ৬৪৬টি বাস কোনো রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করছে। এসব বাসের জন্য নগরীতে সীমাহীন যানজট লেগে থাকে। এই বাসগুলা চলতে দেওয়া হবে না। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও বিআরটিএসহ অভিযান পরিচালনা করবে।’

তিনি বলেন, এ সময়ে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা বন্ধ থাকার কারণে তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস চালুর কার্যক্রম শুরু করতে পারেন নি। সেটা কার্যকর করার জন্যেই এই সভা ডাকা হয়েছে।

ঢাকায় পরীক্ষামূলক রুটভিত্তিক বাস সেপ্টেম্বরে


মেয়র তাপস বলেন, ‘এই কার্যক্রম কার্যকর করতে আমাদের ঘাটারচরে একটি বাস ডিপোর জন্য জায়গা প্রয়োজন। আমরা দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকলে মিলে সেখানে পরিদর্শন করেছি। সেখানে ১২ বিঘার মতো জমি আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি। এখন সেটার কার্যক্রম আমরা আরম্ভ করব, সেখানে একটি বাস ডিপো করা হবে।’

এ সময় যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন বাস-বে ও যাত্রী ছাউনী নির্মাণের জন্য দরপত্র সম্পন্ন করেছে এবং ইতোমধ্যে সেটার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান ঢাকা দক্ষিণের মেয়র।

এই রুটে মালিকপক্ষের যারা বাস পরিচালনা করবেন, তাদের সাথে যে চুক্তি হবে তার খসড়া প্রণয়ন হয়ে গেছে উল্লেখ করতে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালাও প্রণয়ন হয়ে গেছে। সেই চুক্তি আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। মালিকপক্ষ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং বিশেষজ্ঞ মহল চুক্তি চূড়ান্ত করবে এবং আমরা আশা করছি, আগামী ২৯ জুলাই সেই চুক্তিটা সম্পাদন হবে।’

সিটি বাস সিটিতে চলাচল করবে আর আন্তঃজেলা বাস ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না জানিয়ে তাপস বলেন, কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, বাটুলিয়া এবং কেরানীগঞ্জের বাঘাইরে আমরা টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণ করব।’

সভায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন

কদমতলীতে ৩ খুন: মেহজাবিনের দোষ স্বীকার

কদমতলীতে ৩ খুন: মেহজাবিনের দোষ স্বীকার

বাবা মা বোনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেহজাবিন মুন। ছবি: নিউজবাংলা

মেহজাবিন পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সদস্যদের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল তার। বিশেষ করে বোন জান্নাতুলের সঙ্গে স্বামী শফিকুলের সম্পর্ক রয়েছে বলে তার সন্দেহ ছিল। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। বিষয়টি মা বাবাকে বলার পরও কোনো লাভ হয়নি।

রাজধানীর কদমতলী থানার মুরাদপুরের হাইস্কুল রোডের একটি বাসা থেকে মধ্যবয়সী এক দম্পতি ও তাদের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ওই দম্পতির বড় মেয়ে মেহেজাবিন মুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জাকির হোসাইন আসামিকে চারদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন।

এরপর আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মেহজাবিনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে মেহজাবিনের বাচ্চার হেফাজতের জন্য তার দাদা-দাদির জিম্মায় দিয়েছেন ঢাকার অপর একজন মহানগর হাকিম ।

গত ২০ জুন আসামিকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

১৯ জুন শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই ঘটনায় তাদের মেয়ে মেহেজাবিন মুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহতরা হলেন, মাসুদ রানা, তার স্ত্রী জোসনা মৌসুমী এবং তাদের কন্যা সন্তান জান্নাত।

মেহজাবিন পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সদস্যদের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল তার। বিশেষ করে বোন জান্নাতুলের সঙ্গে স্বামী শফিকুলের সম্পর্ক রয়েছে বলে তার সন্দেহ ছিল।

এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। বিষয়টি মা বাবাকে বলার পরও কোনো লাভ হয়নি।

উল্টো মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে।

গত ২০ জুন মেহজাবিন ইসলাম ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা দায়ের তার চাচা সাখাওয়াত হোসেন।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ‘হত্যা’
গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
বন্ধু হত্যা মামলায় ৪ কিশোর কারাগারে
পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
যুবককে হত্যা: সিলগালা হচ্ছে যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

শেয়ার করুন