ছয় টুকরা মরদেহ: ইমাম আবদুর রহমান রিমান্ডে

দক্ষিণখানে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুল ইসলামের ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার ইমাম পাঁচ দিনের রিমান্ডে। ফাইল ছবি

ছয় টুকরা মরদেহ: ইমাম আবদুর রহমান রিমান্ডে

গত ১৯ মে রাতে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদে ইমামের কক্ষে গিয়েছিলেন আজহার। তার স্ত্রীর সঙ্গে ইমাম রহমানের পূর্বপরিচয় ছিল। দুজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক আছে সন্দেহে ইমামকে কয়েক দফা সাবধানও করেছেন আজহারুল। সেদিন আজহারকে তার শয়নকক্ষে ডেকে নেন ইমাম। সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন।

রাজধানীর দক্ষিণখানে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে পোশাককর্মী আজহারুল ইসলামের ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার ইমাম আবদুর রহমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আজহারুলের স্ত্রী আছমা আক্তারকেও।

বুধবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ দেন।

এই মামলার আসামি আবদুর রহমান দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখানা থানার সাব-ইন্সপেক্টর অনুজ কুমার সরকার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চান।

অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবীরা করেন জামিনের আবেদন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

গত ২৫ মে রাতে এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন আসামি আছমা আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলায় বলা হয়, গত ১৯ মে রাতে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদে ইমামের কক্ষে গিয়েছিলেন আজহার। তার স্ত্রীর সঙ্গে ইমাম রহমানের পূর্বপরিচয় ছিল।

দুজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক আছে সন্দেহে ইমামকে কয়েক দফা সাবধানও করেছেন আজহারুল। সেদিন আজহারকে তার শয়নকক্ষে ডেকে নেন ইমাম। সেখানে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন।

মামলায় বলা হয়, এরপর ছুরি ও রামদা দিয়ে মরদেহ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে ফেলেন তিনি।

আজহারুল পেশায় একজন পোশাককর্মী। তিনি দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন।

নিকটস্থ সরদারবাড়ি জামে মসজিদে প্রায় ৩৩ বছর ধরে ইমামতি কর আসছেন আবদুর রহমান। আজহারের ছেলে আরিয়ান ওই মসজিদের মক্তবে পড়ালেখা করত।

আজহার নিজেও আবদুর রহমানের কাছে কোরআন শিক্ষা নিতেন। সেই সুবাদে আজহারের বাসায় যাতায়াতও ছিল আবদুর রহমানের।

১৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজহারুল। র‌্যাব তাকে খুঁজে পেতে অনুসন্ধান শুরু করে।

এর মধ্যে গত ২৪ মে মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ ও সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে র‌্যাব ইমাম আবদুর রহমানকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনা জানতে পারে।

তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত তিনটি চাকু উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুই বাসের পাল্লায় পিষে গেল তরুণের মাথা

দুই বাসের পাল্লায় পিষে গেল তরুণের মাথা

পুলিশ জানিয়েছে, মেহেদী তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। তিনি বাসের পেছনের দিকে জানালার পাশের এক সিটে ছিলেন। তার মাথা বাসের জানালার বাইরে ছিল। এ সময় আকাশ পরিবহনের একটি বাস তুরাগের বাসটির সঙ্গে পাল্লা দেয়। আকাশ পরিবহনের বাসটি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীর মাথা পিষে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাজধানীর মালিবাগের চৌধুরীপাড়া এলাকায় তুরাগ ও আকাশ পরিবহনের দুটি বাসের পাল্লায় মাঝে পড়ে মাথা পিষে গেছে মেহেদী হাসান নামের এক তরুণের।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ওই তরুণের মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকের দুটি বাসই জব্দ করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান নিউজবাংলাকে বলেন, মেহেদী তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে করে যাচ্ছিলেন। তিনি বাসের পেছনের দিকে জানালার পাশের এক সিটে ছিলেন। তার মাথা বাসের জানালার বাইরে ছিল। এ সময় আকাশ পরিবহনের একটি বাস তুরাগের বাসটির সঙ্গে পাল্লা দেয়। আকাশ পরিবহনের বাসটি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীর মাথা পিষে দেয়। ঘটনার পর থেকে বাস দুটির চালক ও তাদের সহকারীরা পলাতক রয়েছেন।

তিনি বলেন, নিহত তরুণের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান এসআই শাহজাহান।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীর সার্ক ফোয়ারার কাছে দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারান মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। এর কয়েকদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির ইউ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নাসির মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আটক নাসির ইউ মাহমুদ মদের ব্যবসা করেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। তা ছাড়া যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ভাড়া করা মেয়েদের সঙ্গে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

পরীমনির ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

গ্রেপ্তারের পর সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ আরও বলেন, ‘আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজন হলে তাদের রিমান্ডে আনব। যেহেতু আমরা মাদক পেয়েছি, সেই কারণে আমরা মাদকের একটি মামলা করব ডিএমপি থেকে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সাভারে একটি স্বাভাবিক মামলা হয়েছে, আমরা সাভার থানা পুলিশকে জানাব।’

হারুন-অর-রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শনিবার রাত থেকেই খোঁজখবর রাখছিলাম। যেহেতু মামলা হয়নি তাই গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এখন মামলা হয়েছে, আমরা তাকে আজ ৩টার সময় উত্তরার বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এই বাসায় অমি থাকে। নাসির এই বাসায় এসে পালিয়ে ছিলেন। সাথে তিনজন রক্ষিতাকে নিয়ে এসেছিলেন। তার আগের অভিযোগের আমরা তদন্ত করছি।’

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ইউ মাহমুদ

হারুন বলেন, ‘পরীমনি স্বনামধন্য নায়িকা। তিনি সেখানে যেতেই পারেন। তার মানে তো এই না যে তাকে হ্যারাস করবে। আবার আসলেই সেখানে কী ঘটেছে সেটিও দেখতে হবে।’

শনিবার পরীমনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি থানায় আমলে নেয়া হয়নি– এই বিষয়ে কী করবেন জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমনির সাথে কথা বলব। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে খতিয়ে দেখছি। আমরা তো এদের সাভার থানার মামলা থেকেই গ্রেপ্তার করেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান। গ্রেপ্তার অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরীমনি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নায়িকা পরীমনি

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘যারা এভাবে রাতের বেলা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সী মেয়েদের ব্যবহার করে, অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে এখন থেকে আমাদের অভিযান চলবে। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী স্থানে রাত ৮টা-৯টার দিকে উঠতি বয়সী মেয়ে ক্লাবে গিয়ে ডিজে পার্টির নামে অনাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বোট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে হারুন বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে সাভার থানায়, আমরা একটা রিকুইজিশন পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এখন যেহেতু একটা মামলা আমাদের এখানে আছে, মাদকের মামলা, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বোট ক্লাবে যাব। আরও কোনো আসামি যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখব।’

এই ঘটনায় এত তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হলেও সাম্প্রতিক অপর একটি ঘটনায় সায়েম সোবহান আনভির কেন গ্রেপ্তার হননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যখন আমাদেরকে রিকুইজিশন দেবে, আমরা তখন তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিচ্ছি। আনভিরের মামলা যদি গুলশান থানা পুলিশ আমাদের রিকুইজিশন দেয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’

পরীমনি কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি জানতে পেরেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যেহেতু গ্রেপ্তার করেছি, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আমরা পরীমনিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তখন আমরা জানাব।’

আসামিকে সাভার থানায় পরে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘আমরা যেহেতু মাদক পেয়েছি, সেহেতু এখানে একটি মামলা হবে। এরপর সাভার থানা পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত শনাক্ত

রোগীটি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

খুলনা থেকে ডানচোখে সমস্যা নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীটি দুই দিন আগেই শনাক্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. ফরহাদ হাছান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে একজন পুরুষ শনাক্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহে খুলনা চিকিৎসা নিতে হাসপতালে ভর্তি হন। এর আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।’

এই রোগীর চিকিৎসা চলছে জানিয়ে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমি তাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন সন্দেহ করি এবং নাক কান গলা বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে সাইনাস অপারেশন করি। তারপর ওখানকার স্যাম্পল নিয়ে ফাঙ্গাস টেস্ট করতে দিই। রোগীর হিস্টোপ্যাথলজি, মাইক্রোস্কপি আর কালচার তিনটাতেই মিউকর মাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়। বর্তমানে রোগীর এম্ফোটেরিসিন-বি দিয়ে চিকিৎসা চলছে। মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষাগুলো করেন বারডেম হাসপাতালের প্রফেসর লাভলি বাড়ৈ।

তিনি জানান, রোগীটির মাথাব্যথা, সাইনোসাইটিস এবং ডানচোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসক শাহরিয়ার আহমেদ সৌরভের অধীনে চিকিৎসা চলছে। চোখে যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ছড়িয়েছে এটা রিমুভ করার সুযোগ নেই।

চোখ ফেলে দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জাবাবে ফরহাদ হাছান বলেন, ‘আমরা চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা আশা করছি, ওনি সুস্থ হয়ে যাবেন।’

আর আগে গত ২৫ মে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছিল বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার তিনদিন আগে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে তিনজনের শরীরে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নতুন আতঙ্কের নাম এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। মহামারিতে নাজেহাল ভারতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও রোগটি শনাক্তের খবর আসছে।

গত এক-দেড় মাসে ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তদের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার কিছুদিনের মধ্যে ছত্রাকটিতে আক্রান্ত হন।

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে আটক ১৩ ‘দালাল’

পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে আটক ১৩ ‘দালাল’

আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে আটক ‘দালাল চক্রের’ ১৩ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে দালাল চক্রের সক্রিয় ছয় সদস্যকে আটক করে ১ মাস করে কারাদণ্ড ও সাত জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।’

রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে ‘দালাল চক্রের’ সক্রিয় ১৩ সদস্যকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত র‌্যাব-২ এর উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আনিছুর রহমান ও র‌্যাব-২ এর সিপিসি-২ কোম্পানী কমান্ডার মেজর মির্জা আহমদ সাইফুর রহমান।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে দালাল চক্রের সক্রিয় ছয় সদস্যকে আটক করে ১ মাস করে কারাদণ্ড ও সাত জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।’

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, তুহিন শেখ, মো. সোহাগ, মেহেদী হাসান হান্নান, মো. নুরুজ্জামান, মো. সেলিম, ইমদাদ হোসেন, মো. সুমন, আবুল খায়ের, জসিম উদ্দিন, সুমন কাজী, মো. দারোগালী, খোরশেদ আলী ও সোহেল রানা।

এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অল্প সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে জনসাধারণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। এমনকি পাসপোর্ট ফি জমা দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া, ভুয়া সিল, সত্যয়ন, জাল ব্যাংক ভাউচার, ভুয়া চিঠিপত্র তৈরী করা, ভুয়া পাসপোর্ট দিয়ে জনসাধারণকে হয়রানি করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে সে সমস্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিছুর রহমান আটকদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে।

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

সাভারের বিরুলিয়ায় বোট ক্লাবের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

 ঢাকা বোট ক্লাবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীমনি ওই দিন ক্লাবে এসেছিলেন, এটি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে সেখানে অপরাধমূলক কিছু ঘটেছে কি না এটা তারা ঘটনার সময় বুঝতে পারেননি।

ক্লাবের পক্ষ থেকে এটির এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য (অ্যাডমিন) বখতিয়ার আহমেদ খান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত, তিনি এই ক্লাবের একজন সদস্য। আমাদের ক্লাবে প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছেন।

‘পরীমনি এই ক্লাবের সদস্য না। তিনি কোনো সদস্যের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ওই দিন পরীমনি এসেছিলেন, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা বলতে পারছি না। এখানে একটা লাইসেন্সড বার রয়েছে। সদস্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বারের ভিতরে কোনো সিসি ক্যামেরা রাখা হয়নি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব সদস্য বারে প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণত যাদের ড্রিঙ্কিং লাইসেন্স রয়েছে, তারা প্রবেশ করেন। হয়তো দু-একজন অতিথিও সেখানে প্রবেশ করেন।

‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।

‘তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ দেখে আমরা বুঝতে পারলাম, এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। তবে তা ক্লাবের নির্দিষ্ট সময়ের পর বা রাত ১১টার পর ঘটেছে।

এই ঘটনা নিয়ে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করছে, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, এই ঘটনা ক্লাবের ভাবমূর্তির সাথে যায় না।

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

আরমানের জেল খাটার দায় সাত পুলিশের

আরমানের জেল খাটার দায় সাত পুলিশের

মো. আরমান। ফাইল ছবি

ভুল পরিচয়ে মিরপুরের পল্লবী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর পাঁচ বছর জেল খাটতে হয় তাকে। পিবিআই তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ রকম ভুল এড়াতে চার দফা সুপারিশ করেছে।

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর পল্লবী থেকে নিরাপরাধ মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ সাত পুলিশ সদস্যকে দায়ী করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এই তদন্ত প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, আরেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. দাদন ফকির, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) সিরাজুল ইসলাম খান, আরমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনাকারী টিম প্রধান এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মো. রাসেল, এএসআই (বর্তমানে এসআই) হযরত আলী, ডিউটি অফিসার এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মনিয়ারা আক্তার এবং এএসআই (বর্তমানে অবসরে) খান ইমদাদুল হককে দায়ী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আরমান যেন আরেক জাহালম

এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম দফায় বলা হয়েছে, আসামির নামের সঙ্গে তার পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে লিখতে হবে। দ্বিতীয় সুপারিশে আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার ছবি ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে, আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান স্লিপের (ই/এস) সঙ্গে আসামির ছবি সংযুক্ত করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত অনুসন্ধান স্লিপের পরিবর্তে তদন্ত কমিটির প্রস্তাবিত ফরম ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য ওই ফরম ছাপিয়ে সব থানায় সরবরাহ করতে হবে।

চার নম্বর সুপারিশে আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট (যদি থাকে), ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে) এবং জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আরমানকে বেআইনিভাবে আটকের ঘটনায় দায় নিরূপণে পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইয়ের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) গত বছর ৩১ ডিসেম্বর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের আলোকে পিবিআই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। কমিটির প্রতিবেদন সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে ২০১৯ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রথমে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন একটি রিট আবেদন করে।

কিন্তু সেই আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় আদালত। পরবর্তীতে এ নিয়ে আরমানের মা বানু পৃথক একটি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে শুনানি নিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ৭ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন এবং তার দুই সহযোগী সোহেল মোল্লা ও মামুন ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এরপর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় দুই বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান শাহাবুদ্দিন।

আরও পড়ুন: অবশেষে মুক্তি পেলেন আরমান

মামলায় বিচার শেষে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর রায় দেয় ঢাকার একটি আদালত। রায়ে শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের দিন শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পুলিশ বেনারসি কারিগর মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

মামলার মূল আসামি শাহাবুদ্দিনের পিতার নাম ইয়াসিন ওরফে মহিউদ্দিন। আর আরমানের পিতার নামও ইয়াসিন। উভয় ইয়াসিনই ছিলেন মৃত।

পিতার নামের এমন মিলের কারণে শাহাবুদ্দিন বিহারি হিসেবে মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন

গুলশানে সুইমিংপুলের পাশে নারীর মরদেহ

গুলশানে সুইমিংপুলের পাশে নারীর মরদেহ

গুলশান থানার এসআই রনি নিউজবাংলাকে জানান, গুলশান-২-এর ৬৯ নম্বর রোডের, ৯ নম্বর বাড়ির সুইমিংপুলের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ‘ভবনটি ১২তলা। আমরা যতটুকু দেখলাম তিনি ওপর থেকে নিচে পড়েছেন। কীভাবে পড়েছেন তার তদন্ত চলছে। ইসরাত জেবিন মিতুর স্বামী নাইম আহম্মেদ একটা ডেভেলপার কোম্পানির ডিরেক্টর। মিতুও ওই কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন।’

রাজধানীর গুলশানের একটি বহুতল ভবনের সুইমিংপুলের পাশ থেকে ইসরাত জেবিন মিতু নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মিতু একটি আবাসন কোম্পানির পরিচালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রনি নিউজবাংলাকে জানান, সোমবার বেলা পৌনে ২টার দিকে গুলশান-২-এর ৬৯ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির সুইমিংপুলের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রনি বলেন, ‘ভবনটি ১২তলা। আমরা যতটুকু দেখলাম তিনি ওপর থেকে নিচে পড়েছেন। কীভাবে পড়েছেন তার তদন্ত চলছে। ইসরাত জেবিন মিতুর স্বামী নাইম আহম্মেদ একটা ডেভেলপার কোম্পানির ডিরেক্টর। মিতুও ওই কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন।’

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই রনি বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।’

তিনি জানান, মিতুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনার সময় তার স্বামী বাসায় ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই নারীর স্বামীর নাম নাজ রাজন নাইম আহমেদ। তার বাবার নাম আব্দুল মুকিত দেওয়ান। যতদূর শুনেছি আব্দুল মুকিত হোটেল লা মেরিডিয়ানের মালিকের একজনের ভাই। তারা ৭ ভাই। তিনি তাদের একজন। তবে বড় ভাই নাকি ছোট ভাই সেটা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৃতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আছে। আমাদের পুলিশ সেখানে আছে। এখনও মামলা হয় নাই।’

ভবনটির সিকিউরিটি গার্ড হুমায়ুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডামকে গতকাল সন্ধার আগে দেখেছি নিচ দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে। তার বান্ধবীরা আসছিলেন। তাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে ডিউটিতে এসে আগের ডিউটিতে যারা ছিলেন তাদের কাছ থেকে শুনলাম, সুইমিংপুলের পাশে ম্যাডামকে পাওয়া গেছে। এও শুনলাম, উনি নাকি উপর থেকে পড়েছেন। ম্যাডাম স্বামীর সঙ্গে ৯ তলায় থাকতেন। সুইমিংপুল বাড়ির পেছনের দিকে।’

আরও পড়ুন:
লাশ ছয় টুকরা করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে, স্ত্রী আটক
লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে

শেয়ার করুন