লঞ্চ ছেড়েছে, প্রাণ ফেরেনি সদরঘাটে

লঞ্চ ঘাট

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫টি লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছেড়ে গেছে, দুটি লঞ্চ ঢাকায় এসেছে। তবে দূরের লঞ্চগুলো এখনও আসেনি। এগুলো চাঁদপুরের লঞ্চ। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, হুলারহাটসহ দূরের লঞ্চগুলো এখন আসেনি কিংবা ছেড়েও যায়নি।’

দেড় মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার চালু হয়েছে লঞ্চ চলাচল। ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট থেকে সকাল থেকে ছেড়ে গেছে বেশ কয়েকটি লঞ্চ। তবে লঞ্চ ছাড়লেও প্রাণ ফেরেনি ঘাটে। আগের মতো ব্যস্ততা ছিল না লঞ্চ ছাড়ার, শোনা যায়নি বিকট শব্দের সাইরেন আর দেখা যায়নি ঘাটে কুলিদের হাঁকডাক; যাত্রীদের ভিড়।

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেয়া যায় ফাঁকা সদরঘাট। নেই যাত্রীদের লঞ্চে ওঠার তাড়া, কিংবা কুলিদের মালামাল বহনের ব্যস্ততা।

লঞ্চের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কর্মচারীরা নানা বিষয়ে গল্প করছেন। যাত্রীদের জন্য প্রস্তুত করছেন লঞ্চ।

মর্নিং সান লঞ্চের ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশ অনুসারে আমরা লঞ্চ পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। আজ সন্ধ্যা থেকে আমরা যাত্রা শুরু করব। সরকারি নির্দেশ মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই যাতায়াত করবে আমাদের লঞ্চগুলো।’

সৌরভ লঞ্চের কর্মকতা ফিরোজ বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করছি না। কেননা টিকিটের মূল্য কেমন হবে, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কিছুই বলা হয়নি। তাই আমরা সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।

‘এর আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালুর ক্ষেত্রে আমাদের অর্ধেক যাত্রী নিতে বলা হয়েছিল। তাই ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি।’

বরিশাল গমনেচ্ছুক যাত্রী সোহেল পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবারসহ বাড়িতে ঈদ করতে পারিনি। তাই পরিবারের সবার জন্য টিকিট কাটতে এসেছি। কিন্তু দাম নির্ধারণ না হওয়ায় টিকিট দিচ্ছে না। এদিকে বরিশাল যেতে ইচ্ছুক যাত্রীরা এরই মধ্যে কিছু কিছু লঞ্চের ডেকে ভিড় করা শুরু করেছেন।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘লঞ্চে যাতে কেউ অর্ধেকের বেশি যাত্রী নিতে না পারে, সেটা তদারকি করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‘এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের সহযোগিতায় আমরা যাবতীয় সতর্কতা মেনে চলতে পারব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫টি লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছেড়ে গেছে, দুটি লঞ্চ ঢাকায় এসেছে। তবে দূরের লঞ্চগুলো এখনও আসেনি। এগুলো চাঁদপুরের লঞ্চ। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, হুলারহাটসহ দূরের লঞ্চগুলো এখন আসেনি কিংবা ছেড়েও যায়নি।’

এদিকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে কয়েক লাখ মানুষ গ্রামে গিয়েছেন। তাদের অনেকেই লঞ্চ চলাচল শুরু হলে আসার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মডেলদের’ দিয়ে অনৈতিক পার্টি করতেন মিশু

প্রবাসীদের জন্য দুবাই-আমেরিকায় প্লেজার ট্রিপ

‘মডেলদের’ দিয়ে অনৈতিক পার্টি করতেন মিশু

মঙ্গলবার রাতে আটক হন মিশু ও জিসান। ফাইল ছবি

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হয়। একইভাবে বড়লোক প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়। তারা ক্লাইন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীতে পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে নিয়মিত বসানো হতো মাদকের আসর। এসব পার্টিতে অংশ নিতেন পিয়াসা-মৌদের মতো অর্ধশত ‘মডেল’। এরা পার্টিতে অংশ নেয়া অভিজাত শ্রেনির লোকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও তুলে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে তিন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব মডেলের নাম-পরিচয় জেনেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এই ‘মডেল’ ও টিভি কর্মীদেরকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করতো শরফুল হাসান বা মিশু হাসান। দেশের বাইরে দুবাই বা ইউরোপ-আমেরিকার প্রবাসীদের জন্য এরা বিদেশে গিয়ে পার্টির ব্যবস্থা করত।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ শরফুল হাসান বা মিশু হাসান ও তার এক সহযোগী জিসানকে আটকের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

বুধবার বিকেল পৌনে ৬টায় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা যায়। র‌্যাব এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মিশু হাসান ও তার জিসানকে আটক করা হয়।

এ সময় জব্দ করা হয় ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ইয়াবা ১৩ হাজার ৩০০ পিস, একটি বিলাসবহুল ফেরারি মডেলের গাড়ি, শিশার সরঞ্জামাদি, ২টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ভারতীয় জালমুদ্রা ৪৯ হাজার ৫০০ রুপি।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, আটকরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০-১২ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে তারা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য।

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করা হয়। একইভাবে বড়লোক প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হয়। তারা ক্লায়েন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা/পছন্দে গুরুত্ব দেয়া হতো। এই অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় (গাড়ির ব্যবসা, আমদানি ও গরুর ফার্ম) বিনিয়োগ করেছে মিশু হাসান ও জিসান। এই ব্যবসায় তাদের গ্রুপের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও বিনিয়োগ রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, আটক শরফুল হাসান বা মিশু হাসান বাংলাদেশে নামিদামি ব্রান্ডের বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা করে থাকে। সে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। সে নিজেও দামি ব্রান্ডের গাড়ি ব্যবহার করত। তার ব্যক্তিগত ২টি রেঞ্চ রোভার, অ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন ও ফেরারিসহ ৫টি গাড়ি রয়েছে। সে অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করেছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক জিসানের এলাকায় একটি গরুর ফার্ম রয়েছে। শরফুল হাসান ইতিপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে।

‘উচ্চবিত্ত শ্রেণির লোকদের টার্গেট করে আসর বসানো হতো। এই চক্রের ক্লাইয়েন্টের তালিকায় পিয়াসা-মৌসহ দেশি-বিদেশি ৫০ ক্লায়েন্টের নাম পেয়েছি। যাদেরকে বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করে পাঠানো হতো। একইভাবে উচ্চবিত্তের প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করে পিয়াসা-মৌদের মতো কথিত মডেলদের পাঠানো হতো।’

আটকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মাদক আইনে, ভারতীয় জালমুদ্রার রাখা ও অননুমোদিত গাড়ি আমদানি ও ব্যবহারে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ আলাদা আলাদা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন

আগুনে অঙ্গার ২৪ শ্রমিকের দেহ পেল শোকাহত স্বজন

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে মৃতদের লাশ হস্তান্তরের সময় স্বজনের ভিড়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

২৪ জনের মরদেহ আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘনিষ্ঠজনরা।

মায়ের পুড়ে যাওয়া দেহ বুঝে নিতে এসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়া আক্তার। তার বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে এলাকা।

১২ বছর বয়সী সুমাইয়া আর ফিরে পাবে না মায়ের কোল। রূপগঞ্জের হাশেম ফুডের সেজান জুস কারখানায় কাজ করার সময় গত ৮ জুলাই পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন তার মা ফিরোজা বেগম।

কিশোরগঞ্জের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মো. মুন্নাও এখন হারিয়ে যাওয়া এক নাম। পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছিল মুন্না। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পরিবারকে সাহায্য করতে বড় তিন ভাইবোনের সঙ্গে সেও ঢুকেছিল জুস ফ্যাক্টরিতে। তবে আগুনে পুড়ে থেমে গেছে কিশোর মুন্নার জীবন।

ডেমরার বাসিন্দা নাজমা ও তার ছেলে নাজমুল হোসেন কাজ করতেন হাশেম ফুডের কারখানায়। সেদিন মায়ের আগেই নাজমুলের ছুটি হয়েছিল, বিকেল ৪টায় বের হয়েছিলেন তিনি। তাই প্রাণে বেঁচে যান, তবে মা নাজমা চলে গেছেন অন্তিম ছুটিতে।

ফিরোজা, মুন্না, নাজমার মতো ২৪ জনের পোড়া দেহ স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বুধবার দুপুরে। অন্যরা হলেন মো. আয়াত হোসেন, মো. নাঈম ইসলাম, নুসরাত জাহান টুকটুকি, হিমা আক্তার, মোসাম্মৎ সাগরিকা শায়লা, খাদেজা আক্তার, মোহম্মদ আলী, তাকিয়া আক্তার, শাহানা আক্তার, মিতু আক্তার, জাহানারা, ফারজানা, ফাতেমা আক্তার, নাজমা খাতুন, ইশরাত জাহান তুলি, মো. রাশেদ, মো. রাকিব হোসেন, মো. তারেক জিয়া, মো. রিপন মিয়া, শাহানা আক্তার ও রিয়া আক্তার।

২৪ জনের মরদেহ আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহতদের দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি মৃতদেহ বুঝে নেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘনিষ্ঠজনরা।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড প্রোডাক্টসের জুস কারখানায় গত ৮ জুলাই ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ৫১ জন প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় পুড়ে অঙ্গার ৪৮ জনের দেহ উদ্ধারের পর ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। তাদের মধ্যে ২৪ জনের দেহ বুধবার হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দেহগুলো হস্তান্তর করা হবে শনিবার।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন

প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল চক্রটি।

প্রতারণার দায়ে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দেয়া আল আমিন ও তার দুই সহযোগীকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে, হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভি জয়যাত্রায় প্রতারণায় সহায়ক বিজ্ঞাপন দিতেন।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় কথিত জিনের বাদশার প্রতারণার কৌশলসহ নানা তথ্য। প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তাদের বিজ্ঞাপনে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। তার মাধ্যমেই যোগাযোগ ও প্রতারণা।’

সিআইডি জানায়, মঙ্গলবার ভোলায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে অভিযান চলে রাজধানীর ডেমরা এলাকায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগী রাসেল ও সোহাগকে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, তিনটি সিমকার্ড, পাসপোর্ট, চেক বইসহ নানা উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন
প্রতারণার অভিযোগে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে ছয় মাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারকদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানায়, চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী থাকেন বিদেশে। তিনি জটিল রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখে ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। যোগাযোগ করলে জিনের বাদশার মাধ্যমে তার রোগ সারানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু হয়।

বিশ্বাস তৈরির জন্য প্রতারকরা প্রথমে ৯৯৯ টাকা নেয় গরিব মানুষদের খাওয়ানো হবে জানিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রিয়জনের ক্ষতি করা ভয় দেখাত কথিত জিনের বাদশা।

প্রতারণার শিকার নারী চট্টগ্রামের খুলশি থানায় মামলা করলে সিঅআইডি তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনসহ তিনজনকে। প্রায় অভিন্ন কৌশলে চক্রটি গত ছয় মাসে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সিআইডি জানতে পেরেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নানা রকম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিত। এর মধ্যে রয়েছে জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষকে সুস্থ করা, বিদেশে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা, মামলা-মোকাদ্দমা থেকে মুক্তি, দাম্পত্যকলহ দূর করা, বিয়ের বাধা দূর করা, অবাধ্যকে বাধ্য করা ও চাকরিতে পদোন্নতি। সাধারণ মানুষ একবার তাদের ফাঁদে পা দিলে আর বের হতে পারতেন না।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচার

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচার

আটকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে পাকস্থলিতে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে আটকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়।’

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের বেইজ টাওয়ার বসানোর নামে চট্রগ্রাম থেকে পাকস্থলিতে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে র‍্যাব।

এরা হলেন ইমন হোসেন, আজিজুল ইসলাম, শাহিন মণ্ডল, মামুনুর রশিদ, হাসিবুর রহমান ইয়াছিন ও মো. ইমরান।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‍্যাব জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবার বড় একটি চালান কক্সবাজার থেকে পাকস্থলিতে করে রাজধানীর দিকে নিয়ে আসছে। চক্রটিকে আটকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে গতিবিধি অনুসরণ করে তাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা এলাকা থেকে আটক করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য। এরা কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকায় আসত। পরে ইয়াবার চালানগুলো বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত।’

তিনি জানান, আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা পেশায় শ্রমজীবী। তিন মাস ধরে তারা পাকস্থলিতে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন। এর আগে ইয়াবার ১০-১২টি চালান রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেছেন তারা।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

‘মামলা আমাদের করার কথা, আমরাও টাকা দিয়েছি’

সম্প্রতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

‘আমরাও ভিকটিম, আমরাও চাকরি করতাম জয়যাত্রা টিভিতে, টাকা পয়সা যা নেয়ার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিয়েছেন। তার জন্য তিনি তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে আবারও রিমান্ডে গেছেন। আমরা তো শুধু ম্যানেজার আর রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম, তাও অনেক আগে চাকরি ছেড়ে অব্যহতি নিয়ে চলে এসেছি।’

‘টাকাপয়সা যা লেনদেন করার হেলেনা জাহাঙ্গীর করেছে। আমরা কেনো এসবের দায় নিতে যাব। আমরা যখন দেখেছি জয়যাত্রা টিভির কোনো বৈধ কাগজপত্র নাই, তখন আমরা অব্যাহতি নিয়ে চলে এসেছি। মামলা তো আমাদের করার কথা, আমরাও হেলেনাকে টাকা দিয়েছি।’

এভাবেই শুনানি করেন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম এবং জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) হাজেরা খাতুন অনির আইনজীবী মো. ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্লাহ নুরীর পক্ষের আইনজীবী আমানুল করিম লিটন।

শুনানির একপর্যায়ে তারা আদালতকে বলেন, ‘যদি কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার থাকে তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিন। দয়া করে রিমান্ড দিবেন না। এই মামলার আসল আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর তিন দিনের রিমান্ড ফেরত এসে গতকাল আবারও রিমান্ডে গেছেন।’

শুনানিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা নিজেরা যেখানে ভিকটিম, আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কী থাকতে পারে?’

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে হাজেরা খাতুন অনি ও সানাউল্লাহ নূরীকে হাজির করা হয়।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ এ দুই আসামি ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও জয়যাত্রা টিভি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি নিয়োগ করে মোটা অংকের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। তারা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল।

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার, আসামিদের কাছ থেকে জয়যাত্রা টিভির সকল নিয়োগপত্র, প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আত্মসাৎ ও আদায় করা চাঁদার টাকা উদ্ধারের জন্য তাদের রিমান্ড নেয়র জরুরি বলে মন্তব্য করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হাজেরা খাতুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে।

রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এ মামলায় মঙ্গলবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায়ও তার তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড আবার তিন দিন এবং মাদক মামলায়ও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনা করে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১ টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইলফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জামাদি- ৪৫৬টি চিপস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাতেই র‌্যাব-৪ বিটিআরসির সহযোগিতায় মিরপুরে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করে এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। এরপরই আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ হারান হেলেনা জাহাঙ্গীর।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

কাকরাইলে গ্যারেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

কাকরাইলে গ্যারেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিবেন জানান, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগে গ্যারেজে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আগুন লাগার কারণ প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেন নি ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিবেন।

রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পাশে একটি গ্যারেজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগে গ্যারেজে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে।

বুধবার রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিবেন জানান, তাদের ১০টি ইউনিট প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টা করে রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাত ১২ টা ২৬ মিনিটে আগুন লাগার তথ্য পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপরই কাছাকাছি থাকা ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট পাঠানো হয়। একে একে ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়।

আগুন লাগার কারণ প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেন নি মাহফুজ রিবেন। তিনি বলেন, কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

নাসির উদ্দিন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে (পরীমনি) হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

র‍্যাবের অভিযানে আটক আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযানের মধ্যে বুধবার বিকেলে তিনি নিউজবাংলাকে এ কথা জানান।

পরীমনি গত ৯ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সারা দেশে তোলপাড় ফেলেন।

এরপর ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও অমির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নাসির।

১ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান নাসির উদ্দিন মাহমুদ। শুরু থেকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

পরীমনির বাসায় বুধবার র‌্যাবের অভিযানের সময় নাসির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সম্পর্কে সে (পরীমনি) মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, যা সত্য নয় তা বলেছিল। ভিডিও ফুটেজ এবং তার কথাবার্তা সবকিছুতেই অসংগতি ছিল। বাস্তবে এর কোনো মিল ছিল না।

‘এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে, ফেসবুকে মিথ্যাচার করেছে, বোট ক্লাবে ড্রিংক নিয়ে জোরাজুরি করেছে। আমি মামলা তো করবই। তাকে তো ছাড় দেয়া যায় না। আমি আমার মতো করে লিখে রেখেছি, যেকোনো সময় বিমানবন্দর থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করব।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনেই শুরু লঞ্চ চলাচল, ঘাটে নেই যাত্রীর চাপ
কর্মমুখর লঞ্চঘাট
লঞ্চ চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ  
‘মোগো ঈদের খবর আল্লাহর ধারে’
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির জন্য দায়ী কার্গো জাহাজের চালক

শেয়ার করুন