ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ

গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই দিনভর শত শত মানুষ যাচ্ছেন ভালোবাসার দান নিয়ে। কেউ অর্থ সাহায্য দিচ্ছেন, আবার কেউ ওষুধ দিয়ে সাহায্য করছেন। অনুদান দেয়া যায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট, নগদেও।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর পাশে দাঁড়াতে উদগ্রীব বাংলাদেশিরা টাকা পয়সা দিয়ে চেষ্টা করছেন সহযোগিতার।

বারিধারায় দূতাবাসে গিয়েই তারা দিয়ে আসছেন টাকা। আর তাদের জন্য দূতাবাসের প্রধান ফটক আংশিক খোলা রাখা হয়েছে।

ভেতরে সাধারণ মানুষের আনাগোনা। বাইরে ব্যস্ততা গণমাধ্যম কর্মীদের।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটায় দূতাবাসে গিয়ে দেখা যায়, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য অনুদান নিয়ে যাচ্ছেন বহুজন। নিরাপত্তারক্ষী সবাইকে হাসিমুখে অনুদান দেয়ার জায়গা নির্দেশ করে দিচ্ছেন।

দূতাবাসে ঢুকতেই দেখা যায়, বাইরে অনেকগুলো ওষুধের বাক্স রয়েছে। ভেতরে ঢুকেই দেখা গেল, দেয়ালে ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের ছবি।

কেউ অর্থ সাহায্য দিচ্ছেন, আবার কেউ ওষুধ দিয়ে সাহায্য করছেন। দুইজন নারী ও একজন পুরুষ ব্যস্ত আছেন অনুদান নিতে।

রাজধানীর বাসিন্দা এক তরুণ সেখানে জমা দিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা, আরেকজন দিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা। এমন আরও অনেকে দিচ্ছেন, এমনকি ৫০০ টাকা দিতেও দেখা গেল।

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ

কর্মীরা জানান, গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই দিনভর শত শত মানুষ যাচ্ছেন ভালোবাসার দান নিয়ে।

মিরপুর থেকে ওষুধ নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থী সাজিদ হোসেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার কয়েকজন বন্ধু মিলে কিছু ওষুধ কিনেছি।’

তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে অনুদান দেয়ার বিষয়টি জেনেছিলাম। সেখানে কিছু ওষুধের কথা বলা হয়েছিল। তাই কয়েকজন বন্ধু মিলে উল্লেখিত ওষুধ কিনেছি।’

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ

রাজধানীর খিলগাঁও থেকে রাইসিন গাজী এসেছেন প্রতিবাদ জানাতে। হাতে প্ল্যাকার্ড আর গায়ে জড়িয়েছেন ফিলিস্তিনের পতাকা। অনুদানের বিষয়টি তার জানা ছিল না।

রাইসিন নিউবাংলাকে বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের অগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। তবে এখানে এসে আমি অবাক হয়েছি। সবাই অর্থ অথবা ওষুধ সাহায্য নিয়ে এসেছে। আমার এটা একদম জানা ছিল না। আমিও এর পরের বার অর্থ সাহায্য নিয়ে আসব।’

ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান একমি থেকে একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানে ওষুধ এসেছে অনুদান হিসেবে। আরও অনেকগুলো মানবিক সংস্থা থেকেও এসেছে একই ধরনের উপাদান।

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাহসিন আল জাবিও এসেছেন ওষুধ নিয়ে। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কিছু ওষুধ কিনে এনেছি। আমার কাছে দূতাবাসের দেয়া একটি রশিদ রয়েছে। আমি এটা ফেসবুকে আপলোড করব যাতে অন্যরা বিশ্বাস করে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুইজন কর্মকর্তা মো. ফখরুল ও তানভীরকেও দেখা গেল সেখানে।

ফখরুল বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য ভালোবাসা থেকেই এসেছি। সেখানে গিয়ে তো আর কিছু করতে পারব না। তাই এখানে এসে কিছু সাহায্য করেছি। আমাদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের যারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছেন তারা সবাই মিলে কিছু অর্থ নিয়ে আসলাম। এখানে ছাড়া তো বিশ্বস্ত কোন জায়গা নেই অনুদানের। এখানে এসে দূতাবাসে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছি।’

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ

দূতাবাসের একজন কর্মচারী বলেন, ‘গত দুই দিন থেকেই এখানে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক সাহায্য দিতে আসছেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা মানা রয়েছে। আপনি চাইলে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তবে স্যার অনেক ব্যস্ত আছেন।’

কী কী সাহায্য দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অর্থ ও ওষুধ সাহায্য করা হচ্ছে। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি থেকে ওষুধ এসেছে।’

পরে রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে অনুদান নিয়ে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। তিনি শুক্রবার এই বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ

অনুদানের আহ্বান

এর আগে গত সোমবার দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় অনুদান আহ্বান সংক্রান্ত বার্তা দেয়া হয়। সেটি দূতাবাসের ফেসবুক পেইজেও দেয়া হয়।

বার্তায় জানানো হয়, নিম্নোক্ত নম্বরে অর্থ পাঠানো যাবে-

০১৭১৫৮৩৩৩৩০২ (রকেট, পারসোনাল), ০১৭১৫০৮১৮৩৯ (বিকাশ, পারসোনাল), ০১৭১৫০৮১৮৩৯ (নগদ, পারসোনাল), ০১৩০১৭৯৪২৯৫ (বিকাশ, পারসোনাল), ০১৫৩১৭১২৯৪৫ (বিকাশ, পারসোনাল)।

তবে দূতাবাস থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র ফিলিস্তিন দূতাবাসের অফিশিয়াল বিকাশ-রকেট-নগদে টাকা দেয়া যাবে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ফিলিস্তিন দূতাবাসে ফোন অথবা ই-মেইল করতে হবে। ফিলিস্তিন দূতাবাসের ফোন নম্বর, ঠিকানা এবং ই-মেইল গুগলে পাওয়া যাবে। অথবা ফিলিস্তিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গিয়ে তথ্য জেনে নিতে হবে।

কেউ যদি সরাসরি টাকা অথবা ওষুধ দিতে চায় তাহলে বারিধারায় অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসে আসতে হবে।

এসব নম্বরে অনুদান পাঠানোর পর অর্থের অঙ্ক ও প্রেরকের পরিচয় ০১৯৮৮১৪১৪১৪ নম্বরে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

কী চলছে ফিলিস্তিনে?

মুসলমান ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র ভূমি খ্যাত অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল উত্তেজনা। এর জেরেই শুরু হয় সহিংসতা।

আল-আকসা থেকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ইসরায়েলে রকেট ছোড়ে হামাস। পাল্টা জবাবে ১০ মে থেকে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে অনুদানের ঢেউ
গাজায় একের পর এক বোমা হামলায় গুঁড়িয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর

২০১৪ সালের পর অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলায় এ পর্যন্ত ৫৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এদের মধ্যে ৪৭ হাজার মানুষের ঠাঁই হয়েছে জাতিসংঘ পরিচালিত বিভিন্ন স্কুলে।

অবরুদ্ধ গাজায় ১০ দিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কমপক্ষে ১০০ জন নারী ও ৬৪ জন শিশু।

১১তম দিনের মতো চলছে সহিংসতা। উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার ভোরেই ১০০ দফার বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহীরাও।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বিদেশে চাকরির নামে মানব পাচার করতেন অমি’

‘বিদেশে চাকরির নামে মানব পাচার করতেন অমি’

পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসিরউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে অমি, যাকে এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী বলছেন এই অভিনেত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, অমি ও তার সহযোগীরা শত শত লোককে অধিক বেতনে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেন। এই মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিলেন। এ ছাড়া আরও অনেক নিরীহ সরল লোককে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গেল ১৪ জুন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তুহিন সিদ্দিকী অমি। এরপর বেরিয়ে আসে অমির মানব পাচারের সংশ্লিষ্টতা। রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় অমি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে।

এই মামলায় সিআইডি এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন, সালাউদ্দিন, মুসা, রাকিবুল ইসলাম রানা, গোলাপ হোসেন বুলবুল, জাকির হোসেন, নাজমুল, আলম ও শাহজাহান সরকার।

সিআইডি বলছে, তারা সবাই সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র। আর এই চক্রের মূল হোতা হলেন অমি।

মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সংস্থাটির ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ‘দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে ভালো চাকরির কথা বলে শত শত মানুষকে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন তুহিন সিদ্দিকী অমি ও তার সহযোগীরা। এভাবে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।’

ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের ওই ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৯৫টি পাসপোর্ট, পাচারকারী চক্রের মূল হোতা তুহিন সিদ্দিকী অমির চারটি বিলাসবহুল গাড়ি, ২২টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, সম্পত্তির দলিল, ক্রেডিট কার্ড, অলিখিত স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ব্যাংক কার্ড, পেনড্রাইভ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অমি ও তার সহযোগীরা শত শত লোককে অধিক বেতনে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেন। এই মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিলেন। এ ছাড়া আরও অনেক নিরীহ সরল লোককে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘চক্রটি ভিকটিমদের যথাযথ পদ্ধতিতে বিদেশ পাঠায়নি বলে তারা কাজ পাচ্ছেন না। ফলে ভিকটিমরা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।’

‘অমি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করে আসছেন। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।’

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

এক লাখ জাল টাকা ২৫ হাজারে

এক লাখ জাল টাকা ২৫ হাজারে

র‍্যাবের হাতে আটক তৌফিক রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৈরি হয় এই জাল টাকা। যেখানে একটি পক্ষ এই জাল টাকার কাগজ, রাংতাসহ নিরাপত্তার সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে থাকে। টাকা তৈরির পরে তা বিক্রি করা হয় অনলাইনে। এই চক্রের সাঙ্গে জড়িত আরও দুইজনের সন্ধান পেয়েছেন র‍্যাব। তাদের আটকে অভিযান চলছে।

রাজধানীতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে জাল টাকা। এরই মধ্যে জাল টাকা বিক্রি ও তৈরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, চক্রটি এক লাখ টাকার জাল টাকার বান্ডিল বিক্রি করতো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়।

মঙ্গলবার বিকেলে কারওয়ান বাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ সব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।

তিনি বলেন, সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে বিপুল পরিমান জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ এই চক্রের এক সদস্য নাইমুল হাসান তৌফিককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। তৌফিক রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র।

অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৈরি হয় এই জাল টাকা। যেখানে একটি পক্ষ এই জাল টাকার কাগজ, রাংতাসহ নিরাপত্তার সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে থাকে। টাকা তৈরির পরে তা বিক্রি করা হয় অনলাইনে। এই চক্রের সাঙ্গে জড়িত আরও দুইজনের সন্ধান পেয়েছেন র‍্যাব। তাদের আটকে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, র‍্যাব-১০ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, রাজধানীতে জাল নোট প্রস্তুতকারী একটি সক্রিয় চক্র জালনোট তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপনন করে আসছে।

‘এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে র‍্যাব-১০ একটি গোয়েন্দা দল নিয়োগ করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মেরুল বাড্ডা হাজ্বী জয়নব উদ্দিন লেন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ ২৮ হাজার টাকা সমমূল্যের জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ তৌফিককে গ্রেপ্তার করা হয়।’

প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানায়, ‘গ্রেপ্তারকৃত তৌফিক একটি সংঘবদ্ধ জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তিনি প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে এই জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে জাল নোট তৈরি করে আসছেন। প্রতি এক লাখ টাকা জাল নোট ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করছিল তাদের চক্রটি। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন গরুর হাটসহ অন্যান্য বাজারে সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমান জাল টাকা তৈরি করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। ইতিমধ্যে চক্রটির মাধ্যমে শতাধিক চালানে কোটি টাকারও বেশি জাল টাকা ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে।’

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

কোথায় লকডাউন, আমি তো দেখি না: ফখরুল

কোথায় লকডাউন, আমি তো দেখি না: ফখরুল

রাজধানীতে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে যানজট, এতে প্রশ্ন উঠেছে লকডাউন নিয়ে।

‘যার যেখানে খুশি যাচ্ছে, যার যেখানে যা খুশি করছে এমনকি বিয়েও হচ্ছে। আমি পরশুদিন দেখলাম একটা হোটেলে বিয়েও হচ্ছে। অথচ দেয়ার ইজ ব্যান। এই যে সরকারের পুরোপুরি যে উদাসিনতা এবং এটা লোক দেখানো একটা ব্যাপার। এটা প্রতারণা মানুষের সঙ্গে যে, আমরা লকডাউন দিচ্ছে, চেষ্টা করছি।‘

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেয়া লকডাউন কেন কার্যকর হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা (লকডাউন) ওয়ার্কেবল না কিন্তু। একটাও কাজ করে না। ঢাকাতেও লকডাউন আছে। আপনি লকডাউন কোথাও দেখতে পান? কোথায় লকডাউন? আমি তো দেখতে পাই না।’

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ায় গত ৫ এপ্রিল সরকার প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দেয়। পরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় বিধিনিষেধ। যদিও অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন সব চালু করে দেয়া হয়েছে। এগুলো যেসব স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চালুর কথা, সেগুলো পালন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন আছে।

এর মধ্যে এখন আবার ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াতের চার পথ গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লঞ্চ চলাচলও বন্ধ। ট্রেনও বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে। এখন খোলা কেবল আকাশপথ।

ফখরুল বলেন, ‘যার যেখানে খুশি যাচ্ছে, যার যেখানে যা খুশি করছে এমনকি বিয়েও হচ্ছে। আমি পরশুদিন দেখলাম একটা হোটেলে বিয়েও হচ্ছে। অথচ দেয়ার ইজ ব্যান। এই যে সরকারের পুরোপুরি যে উদাসিনতা এবং এটা লোক দেখানো একটা ব্যাপার। এটা প্রতারণা মানুষের সঙ্গে যে, আমরা লকডাউন দিচ্ছে, চেষ্টা করছি।‘

কোথায় লকডাউন, আমি তো দেখি না: ফখরুল
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিলৃপ্ত বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে, ল অ্যান্ড ফোর্সেস এজেন্সিজ, যাদের এই লকডাউন ইমপ্লিমেন্ট করার কথা, তাদেরকেও দেখা যায় না আজকাল। দে আর নট ভিজিবল, তারা ভিজিবল না এখন।

‘দেখলাম পত্রিকায় একজন কনস্টেবল মারা গেছেন। তার আবার ছবি দিয়ে বিরাট করে ছাপা হয়েছে। আর এদিকে শত শত লোক মারা যাচ্ছে তাদের কোনো কথা নেই।‘

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগও আনেন ফখরুল। বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আর বলতে চাই না। বিশেষ প্রাণী পানি খায়, ঘোলা করে খায় আরকি। আমরা বহু আগেও তাদেরকে (সরকার) বার বার সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, করোনা মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তারা নেননি। বহুদিন পরে তারা এখন এসব ব্যবস্থা (লকডাউন) নিচ্ছেন।’

এখন আর বলে বলে আর বলতে ইচ্ছা করে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কী বলবেন? এদের তো চামড়া মোটা মানে আরকি?’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক, উল্টো তারা ডিফেন্ড করছে সবাই সবাইকে। খুব ভালো কাজ করছে। এতো ভালো স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাকি আর হয় না।‘

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় নেয়া সিদ্ধান্তও তুলে ধরেন ফখরুল। বলেন, ‘সভায় অবিলম্বে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের রোড ম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। জনগণ জানতে চায়, সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে?’

গত ২০ জুন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। বিএনপি নেতা জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিএনপির সব সাংগঠনিক কর্মসূচি এখন থেকে ভার্চুয়ালি হবে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

কোরবানিতে নেই পশুসংকট

কোরবানিতে নেই পশুসংকট

দেশে উৎপাদিত পশু দিয়েই মেটানো যাবে কোরবানির পশুর চাহিদা। রাজধানীর বসিলায় গরুর খামার। ছবি: সাইফুল ইসলাম।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহায় যে পরিমাণ কোরবানির পশুর প্রয়োজন হবে, তার চেয়ে অনেক বেশি পশু দেশে রয়েছে। এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় আমদানির প্রয়োজন নেই। তাই বন্ধ থাকবে পশু আমদানি।’

করোনাভাইরাসের তীব্র সংক্রমণের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের মানুষ। তবে চলমান মহামারির মধ্যেও কোরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকট হবে না বলছে সরকার। দেশের পশু দিয়েই মেটানো যাবে কোরবানির পশুর চাহিদা।

দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত আছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পশুগুলোর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার। ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার। অন্যান্য পশুর সংখ্যা ৪ হাজার ৭৬৫।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহায় যে পরিমাণ কোরবানির পশুর প্রয়োজন হবে, তারচেয়ে অনেক বেশি পশু দেশে রয়েছে। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে, যা কোরবানির জন্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে হাটবাজারে বিভিন্ন স্থানে নেয়া হবে।’

গত বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ পশু। তবে হাট থেকে মানুষ কিনেছিল এক কোটির চেয়ে সামান্য সংখ্যক বেশি পশু। মন্ত্রী বলেন, এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় আমদানির প্রয়োজন নেই। তাই বন্ধ থাকবে পশু আমদানি।

দেশের অভ্যন্তরে খামারিরা যে পশু উৎপাদন করেছে তা দিয়েই আমাদের কোরবানির চাহিদা মেটানো সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশি কোনো দেশ থেকে কোরবানির পশু আমদানির কোন প্রয়োজন হবেনা। চোরাইপথেও যাতে কোনো কোরবানির পশু ভারত-মিয়ানমার বা অন্য কোন দেশ থেকে না আসতে পারে এজন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশ র‌্যাব এবং বর্ডারগার্ড সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবে।’

কোরবানি ঈদকে ঘিরে সীমান্তে চোরাচালানকারিদের তৎপরতা বন্ধে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কী-না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনোভাবে যেন দেশের বাইরে থেকে কোনো গবাদিপশু দেশের ভেতরে না আসতে পারে সেজন্য বর্ডার গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব কাজ করছেন। আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট থাকবে। ফলে অঘোষিত কোনো পথ থেকেও কোনোভাবে গবাদিপশু বাংলাদেশের প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আমরা কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপ করছি।’

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু যাতে রোগাক্রান্ত না হয় এজন্য ১ হাজার ২০০ মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। প্রতিটি মেডিক্যাল টিমে একজন করে ভেটেরিনারি সার্জন থাকবেন, সঙ্গে থাকবেন অন্যান্য বিশেষজ্ঞরাও।

‘বাজারে অথবা বিক্রয় কেন্দ্রে যে পশুটি আসুক, সেটাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে রোগগ্রস্ত কী-না। কারণ রোগগ্রস্ত একটা পশুর মাংস অন্য কেউ খেলে, সেটা তার শরীরেও প্রবাহিত হতে পারে।’

পশু বিক্রি ও ব্যবস্থাপনা এবং এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আনা নেয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো জটিলতা বা সমস্যা তৈরি না হয় সেজন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কোরবানির হাট বসানো হলেও অনলাইনে পশু বিক্রিকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার।

সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে খোলা জায়গায় পশুর হাট বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘গতবার অনলাইনে গরু বিক্রিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকটা অনলাইন গরুর বাজার উদ্বোধন করেছি। কেনা বেচাও হয়েছে। সেটাকে এবার আরও বেশি প্রমোট করা ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

পশুর হাট সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘যে সমস্ত খোলা জায়গা আছে, বা যেখানে করলে মানুষের সংক্রমণ ঝুঁকি থাকবে না সেখানেই করা হবে। স্থানীয়ভাবে ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, তারা সবাই মিলে মিটিং করবে। মিটিং করে স্থানগুলো নির্ধারণ করবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করি বলেন, ‘কোরবানির নির্ধারিত হাটের বাইরে রাস্তা ঘাটেও যদি কেউ গবাদি পশু বিক্রি করতে চান, বা তার নিজের বাড়িতে বসে বিক্রি করতে চান সেটা অনুমোদন দেয়া হবে।’

হাটের সংখ্যা বাড়ানো হবে কী-না জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে যেখানে যেখানে দরকার হবে, মানুষের সুবিধা হবে, সেখানে বসানো হবে।’

সীমান্তবর্তী জেলা এবং দেশের কোনো স্থানে লকডাউন কার্যকর থাকলে সেখানে ‘তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত’ নেয়া হবে বলে জানান তাজুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

নারী পাচার: নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

নারী পাচার: নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

ভারতে নারী পাচারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে ওঠা নদী। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ বলছে, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা মেয়েদের যশোর সীমান্তে বাড়িতে রেখে সুযোগমতো ভারতে পাচার করত চক্রটি। পাচারকৃত প্রত্যেক মেয়ের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এক হাজার টাকা করে নিতেন। পাচারকালে কোনো মেয়ে বিজিবির কাছে আটক হলে সেই ইউপি সদস্য তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতেন।

হাতিরঝিল থানার মামলায় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের সদস্য সন্দেহে গ্রেপ্তার নদী আক্তার ইতিসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চার দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নদী আক্তার ইতি বা নুর জাহান, তরিকুল ইসলাম, আল আমিন সোহেল, সাইফুল ইসলাম, বিনাস সিকদার, আমিরুল ইসলাম ও পলক মণ্ডল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক (নিরস্ত্র) আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে ১০ দিন করে হেফাজতে নিতে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে হাতিরঝিল থানার নারী ও শিশু আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাফাত আরা সুলতানা রিমান্ড আবেদন অনুমোদনের আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। মাঠেঘাটে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।’

‘কাজ করার সময় যশোর এবং নড়াইল থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাউকে সাত দিন আবার কাউকে ১৫ দিন আগেও গ্রেপ্তার করেছে। অনেক দিন তারা থানায় ছিলেন। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও বেশি কিছু জানার থাকলে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া, দুবাইয়েও নারী পাচারে নদীর নাম

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের শার্শা থেকে আল আমিন, সাইফুল, আমিরুলকে; বেনাপোল থেকে নদী আক্তার, পলক মণ্ডল, তরিকুলকে এবং নড়াইল থেকে বিনাস সিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা মেয়েদের যশোর সীমান্তে বাড়িতে রেখে সুযোগমতো ভারতে পাচার করত চক্রটি।

পাচারকৃত প্রত্যেক মেয়ের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এক হাজার টাকা করে নিতেন। পাচারকালে কোনো মেয়ে বিজিবির কাছে আটক হলে সেই ইউপি সদস্য তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতেন।

এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের পাচার করে আসছিল এই চক্রটি।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

বিকট শব্দ ও গতিতে গাড়ি চালিয়ে আটক ১৪

বিকট শব্দ ও গতিতে গাড়ি চালিয়ে আটক ১৪

প্রতীকী ছবি।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা নিউজবাংলাকে জানান, ‘বখে যাওয়া যুবকদের গাড়ি চালানোর নামে উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএমপির গুলশান বিভাগকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।’

রাজধানী গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় উচ্চগতি ও বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগ ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই দফায় গাড়িসহ এদের আটক করা হয়।

এরই মধ্যে আটক প্রতিটি গাড়ি এবং সেগুলোর প্রত্যেক চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা নিউজবাংলাকে জানান, ‘বখে যাওয়া যুবকদের গাড়ি চালানোর নামে উচ্ছৃঙ্খখলতার অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএমপির গুলশান বিভাগকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।’

‘এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর নির্দেশে দুই দফায় অভিযান চালিয়ে বখাটে বাইকার ও তাদের গাড়িগুলো আটক করেছে পুলিশ।’

গুলশানের ডিসির উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে গত ২০ জুন গুলশান বিভাগ ও গুলশান ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ যৌথ অভিযান চালায়। ওই অভিযানে উচ্চগতি এবং বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৫টি গাড়িচালককে আরোহীসহ আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে পুনরায় গুলশান বিভাগ ও গুলশান ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এতে নতুন করে আরও ৯টি গাড়ি আটক করা হয়।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন

ঢাকা পিছিয়ে থাকবে কেন, প্রশ্ন কাদেরের

ঢাকা পিছিয়ে থাকবে কেন, প্রশ্ন কাদেরের

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সারা বিশ্বকে উন্নয়ন-অর্জনে শেখ হাসিনা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা শহর কেন পিছিয়ে থাকবে?’

রাজধানী শহর ঢাকা কেন পিছিয়ে থাকবে, সে প্রশ্ন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) বোর্ডসভায় মঙ্গলবার সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রশ্ন করেন।

সভায় রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে দুই মেয়রের সহযোগিতা চান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বকে উন্নয়ন-অর্জনে শেখ হাসিনা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা শহর কেন পিছিয়ে থাকবে?

‘সমন্বয়হীনভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়ক খনন করা যাবে না।’

এ সময় ঢাকা মহানগরীতে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইনার রিং রোডের ইস্টার্ন বাইপাস এবং ওয়েস্টার্ন অংশের হালনাগাদকরণে ডিটিসিএর মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে হবে। ডিটিসিএ প্রদত্ত বহুতল ভবনের জন্য ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স ছাড়পত্র গ্রহণের বিষয়টি আইনগত বিধিবিধানের আওতায় রাজউকের সঙ্গে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করতে হবে।’

রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।

তিনি বলেন, ‘এ দেশের রাজনীতিতে হিংস্রতা আর ষড়যন্ত্রের হোতা বিএনপি।’

‘শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃত্ববাদী নয়, কারো ওপর হিংস্র আচরণও করেনি; বরং প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নানান উসকানির মুখে অত্যন্ত সহনশীলতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিই দানবীয় আচরণ করছে। শত উসকানির বিপরীতে শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।’

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘যাদের হাতে ২১ হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হয়েছে, তারা আজ আওয়ামী লীগকে হিংস্রতার কথা বলে! বিএনপি দেশে স্থিতিশীলতা চায় না। তারা চায় দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে।

‘আন্দোলনের নামে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করাই বিএনপির রাজনীতি। জনগণের প্রতি রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দায়িত্বশীলতা রয়েছে, তা পালনে বিএনপি অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার উদারতা দেখে ভাববেন না এটা আমাদের দুর্বলতা। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারবে না বুঝতে পেরে বিএনপি যে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে, তা কারও অজানা নয়। নির্বাচন ছাড়া সরকার গঠনের আর কোনো বিকল্প পথ নেই, এটাই সংবিধানসম্মত পথ।

‘বিএনপিকে মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের পথ ত্যাগ করে জনগণের জন্য রাজনীতি করার আহ্বান জানাই। জনগণ চাইলেই নির্বাচিত হবেন এবং সরকার গঠন করবেন। আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে বলেই জনগণের প্রতি আস্থাশীল।’

ডিটিসিএর বোর্ডসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সমর্থনে তেল আবিবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজায় অস্ত্রবিরতির আশা হামাসের, উল্টো বক্তব্য নেতানিয়াহুর
গাজা ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স
গাজায় প্রাণহানি বেড়ে ২২৭, ভোরেই ১০০ দফা হামলা
যুদ্ধবিরতি চেয়ে নেতানিয়াহুকে আবারও বাইডেনের ফোন

শেয়ার করুন