৯ কার্যদিবস পর শুরু বাজেট অধিবেশন

৯ কার্যদিবস পর শুরু বাজেট অধিবেশন

ফাইল ছবি

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, এই অধিবেশনে মঙ্গলবার মূল বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং এ দিনই অর্থবিল পাস হবে। এরপর বুধবার মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। ১ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্ব, বেসরকারি বিল উত্থাপন ও সরকারি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হবে।

নয় কার্যদিবস বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন।

সোমবার বেলা ১১টায় প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়।

বাজেট আলোচনার মাধ্যমে এই অধিবেশনেই ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন হয়। বর্তমানে বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আলোচনা চলছে।

জাতীয় সংসদের সর্বশেষ বাজেট অধিবেশন ছিল গত ১৭ ‍জুন।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, এই অধিবেশনে মঙ্গলবার মূল বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং এ দিনই অর্থবিল পাস হবে।

এরপর বুধবার মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। ১ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্ব, বেসরকারি বিল উত্থাপন ও সরকারি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হবে।

অধিবেশনের সমাপনী দিনে বক্তব্য দেবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রীতি অনুযায়ী তার আগে বিরোধীদলীয় নেতাও বক্তব্য দেবেন।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও অধিবেশন স্থগিত করা যায়নি। কারণ ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো সতর্কতা মেনে যেন কোরাম পূর্ণ হয়, এমন সংখ্যক সংসদ সদস্য নিয়ে অধিবেশন চলছে।

গত ৩ জুন সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর দুই দিনের আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস এবং ১৪ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।

সংসদের চলতি অধিবেশন শুরু হয় ২ জুন, যা আগামী ১ জুলাই শেষ হবে। করোনা মহামারির কারণে গত বছর মাত্র ৯ কার্যদিবস চলে বাজেট অধিবেশন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন।

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাপানি গাড়িসহ নিলাম হবে ৭৫ লট পণ্যের

জাপানি গাড়িসহ নিলাম হবে ৭৫ লট পণ্যের

চট্টগ্রাম বন্দরের একাংশ

২৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় ৭৫ লট পণ্য নিলামে তোলা হবে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৯৩ লট পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিভিন্ন মডেলের তিনটি জাপানি গাড়ি, সাড়ে ১৫ হাজার কেজি ড্রাগন ফলসহ ৭৫ লট পণ্য নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানিকারকরা পণ্যগুলো খালাস না করায় ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই নিলাম।

নিলামের জন্য অপেক্ষারত জাপানি গাড়ি তিনটি যথাক্রমে টয়োটা মাইক্রোবাস, নিশান মাইক্রোবাস, টয়োটা কেআর-৪২ মডেলের।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্যমতে, এবারের নিলামে গাড়ি ছাড়াও রয়েছে ১৫২ কেজি সালফিউরিক এসিড, ১ ব্যাগ টেক্সটাইল কেমিক্যাল, ১৫ হাজার ৫০০ কেজি ড্রাগন ফল, ১ হাজার ৩১৩ রোল ফেব্রিক্স পণ্য, ৬২ কার্টন প্লাস্টিক হ্যাঙ্গার, ২৪ লাখ ৬০৯ টাকা মূল্যের থান কাপড়, ২০ ব্যাগ জিংক অক্সাইড, ২ হাজার ৫৩০ কার্টন আউটডোর ওয়াল টাইলস, ৩১ হাজার ২০৫ টাকা মূল্যের রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্য, ১৯৫ কার্টন জেন্টস আন্ডারওয়্যার, ৭ কার্টন পেপার ট্যাগ, ১৩৩ কেজি প্লাস্টিক ফিতা, ২১ কার্টন ওয়েস্ট বেল্ট, ৫০ কেজি পেইন্টিং পণ্য, ৫৯ কার্টন ফ্লাড লাইট, ২২ পিস ল্যাবরেটরি সাপ্লাইজ, ৭৪ কার্টন হ্যান্ড গ্লোভস, ৫৭০ রোল ফ্লোর ম্যাট, ৭৬২ ব্যাগ এলুমিনিয়াম পাউডার, ৩ কার্টন কটন ড্রকর্ড, ৫৩ হাজার কেজি ওজনের এমপিইটি ফিল্ম, ৫১ কার্টন ইলেকট্রিক এয়ার পাম্প, ১৫ হাজার ৭০০ কেজি ওজনের ব্র্যান্ড ফেজার লিফট, ১৫০ কেজি ওজনের পুস্তক নিলামে তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়াও ২ হাজার ৬৭০ পিস মোটরসাইকেল টায়ার, ৯৫ হাজার ৮৭৯ টাকা মূল্যের কসমেটিক্স, ৫ হাজার ৩৬৭ টাকার ডিপ লাইনার, ২ হাজার ২৪১ টাকার আই লাইনার, ১৩ লাখ ১২ হাজার ৩৪১ টাকার ক্যাপিটাল মেশিনারি, ৯৮ হাজার ৪২৫ টাকার মেশিনারি পণ্য, ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬১ টাকার পিভিসি মেশিন, ১ ইউনিট ডায়নামিক ব্যালেন্সিং মেশিন, ৯১ পিস খালি ড্রাম, ২৭ হাজার ১৫০ কেজি ওয়্যার রোপ, ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৬ কেজি ওজনের চেইন ক্যাবল, ৩০ পিস ইলেকট্রিক স্ট্যান্ড ফ্যান, ৬ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকার বয়লার পণ্য, ৪ হাজার ৭৭৪ কেজি ওজনের শার্ট ফেব্রিক্স, ৬২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৭ কেজি ওজনের উল ফেব্রিক্স, ১ হাজার ৪৩০ কেজি ওজনের আমব্রেলা ফেব্রিক্স, ১৮ পিস ওয়াল ফ্যান, ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২০৯ টাকার ব্লক ও ব্লেড পণ্য, ৪৬ রোল কম্বল, ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৯২ টাকার জিংক শিট পণ্য উঠছে নিলামে।

সরকারি নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে এম করপোরেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিলামে অংশ নিতে হলে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালীন ২০০ টাকা দরে ক্যাটালগ ও ১০০ টাকা দরে দরপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টেন্ডার বক্সে দরপত্র জমা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (নিলাম শাখা) মো. আল আমিন জানান, বন্দরে আমদানি করা পণ্য যথাসময়ে খালাস না করলে তা নির্দিষ্ট সময় পর নিলামে তোলা হয়। কারণ খালাস না করা পণ্য বন্দরের ইয়ার্ডগুলো দখল করে রাখে। এতে কনটেইনার জটের সম্ভাবনা থাকে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনটি নিলাম ডাকার চেষ্টা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

২৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় ৭৫ লট পণ্য নিলামে তোলা হবে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৯৩ লট পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল।

বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য অনেক সময় খালাস করেন না আমদানিকারকরা। পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনতে গিয়ে কায়িক পরীক্ষায় আটক হয় এসব পণ্যের বড় একটা অংশ। নিয়মনুযায়ী আমদানিকারকদের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পণ্য খালাসের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু যথাসময়ে পণ্য খালাস না করলে এগুলোকে নিলামে তোলে কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

অনলাইনে গরু কিনে ঠকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইনে গরু কিনে ঠকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।’

অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিজেও ঠকেছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেছেন, গত বছর কোরবানির ঈদে অনলাইনে একটি গরু অর্ডার করে সে অনুযায়ী তিনি পাননি; পেয়েছেন অন্য একটি গরু।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত রোববার এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিপু মুনশি বলেন, ‘প্রথমবার অনলাইনে কোরবানির গরু কিনে আমি নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছি। এই কোরবানির আগের কোরবানির ঈদে দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কোরবানির হাট বসে। ওই হাট উদ্বোধনের দিন মন্ত্রী হিসেবে আমাকেও রাখা হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি একটি কোরবানির গরু কিনলাম। তার আগে আমি জানতে চাইলাম কত দাম? আমাকে জানানো হলো ১ লাখ টাকা। গরু আমি কিনলাম। আগাম পেমেন্ট করলাম।

‘বসে আছি চার-পাঁচ দিন। কোনো খবর নেই। ছয়-সাত দিন পর আমাকে জানাল, সেই গরু আর নেই। বলেছিলাম কী হলো সেটা? ওটা আরেকজন নিয়ে গেছেন। জানতে চাইলাম আমার গরু আরেকজন নিয়ে চলে গেলেন? আপনারা সেটা দিয়ে দিলেন? আমি বললাম, আমি মন্ত্রী। আমারই যদি গরু না থাকে, তাহলে?’

বাণিজ্যমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘তিন দিন পর কোম্পানি জানাল, চিন্তা কইরেন না আমরা আপনাকে আরেকটা গরু দিচ্ছি। তারা আরেকটা গরুর ছবি দেখায়; দাম চায় ৮৭ হাজার টাকা।

‘কী বলব। আমি তো তাদের কাছে বন্দি। বলল, বাকি ১৩ হাজার টাকায় আমাকে একটা ছাগল দেবে। সবকিছু তারাই বলল। আর আমি শুনেই যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত তাদের বললাম ওটা কোরবানি করে এক ভাগ আমার বাসায় পাঠিয়ে দাও। বাকি দুই ভাগ বিলি করে দাও। তবে ছাগলটা জ্যান্ত আমাকে পাঠাও।’

সব উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কিন্তু প্রথমবার। দ্বিতীয়বার সমস্যা হয়নি। তখন এ সুযোগটা তাদের দেয়া হয়েছে। ঠিক আছে আমি নিজে ভুক্তভোগী, কিন্তু যদি শুনতাম আমার টাকাও নাই গরুও নাই, তাহলে হয়তো মামলা-টামলা করা যেত।’

নিজের এ অভিজ্ঞতা বলার উদ্দেশ্য নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।

‘দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে এর দায় এড়াতে চাই না বলেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছে। উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে। কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য পৃথক আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার।’

যৌথ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। এ সময় ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

ধামাকার পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে প্রতারণার মামলা

ধামাকার পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে প্রতারণার মামলা

মামলার বাদী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি তার অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও আমার পণ্য সরবরাহ করেনি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এক মাস অপেক্ষা করার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার সই করা ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।’

প্রতারণার অভিযোগ এনে ধামাকা শপিং ডটকমের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী।

থানার উত্তর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামীম খান বৃহস্পতিবার এই মামলা করলেও শনিবার রাতে তা জানাজানি হয়।

শামীম পোশাক কারখানার পার্টস ব্যবসায়ী।

আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিমউদ্দিন চিস্তী, চেয়ারম্যান এম আলী ওরফে মোজতবা আলী, সিইও সিরাজুল ইসলাম রানা, প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ, নাজিম উদ্দিন আসিফ, হেড অব অ্যাকাউন্টস্ সাফোয়ান আহমেদ, ডেপুটি ম্যানেজার আমিরুল হোসাইন, আসিফ চিশতী, সিস্টেম ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম স্বপন ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরোধ বারান রয়।

মামলার বাদী বলেন, ‘গত ২০ মার্চ ধামাকা শপিং ডটকমের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভার্চুয়াল সিগনেচার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনার অফার দেয়া হয়। অনলাইনে অফারটি দেখে আমি প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করি। যোগাযোগ করার পর আমাকে জানানো হয়, পণ্য অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। সে অনুযায়ী আমি ৮৪টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইনভয়েসে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

‘প্রতিষ্ঠানটি তার অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও আমার পণ্য সরবরাহ করেনি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এক মাস অপেক্ষা করার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার সই করা ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

‘৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সিও মামলার ৩ নম্বর আসামি সিরাজুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি টাকা না দিয়ে তাকে হুমকি দেন। ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ধামাকা অনলাইন শপিংয়ের ১১ জনের বিরুদ্ধে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতারণার মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল

এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল

এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল বলেন, ‘অনেক সময় ব্যাংকাররা ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা বলে মনে করেন দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ব্যাংকাররা ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছুর পাশে দেশ, মানুষ, সমাজের কথা চিন্তা করতে হবে।’

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং কমিশন গঠন ‘খুবই জরুরি’ বলেও মন্তব্য করেন তারিক আফজাল।

করোনার ধাক্কার পর বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে গত বছরের শুরুর দিকে। সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সোয়া লাখ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে সেই প্রণোদনার অঙ্ক বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। গত বছর প্রণোদনা ছাড়া ঋণ বিতরণ খুব একটা ছিল না। তবে এখন মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতির দিকে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। সব খাতেই এখন পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। ঋণ বিতরণও বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ শিরোনামে নিউজবাংলা ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) তারিক আফজাল।

করোনা মহামারির মধ্যেও জরুরি সেবার আওতায় নিরলস সেবা দিয়ে গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। সেই ব্যাংক খাতের অবস্থা এখন কেমন?

ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সব শ্রেণির মানুষ জড়িত। করোনার সময়ে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকলকারখানা বন্ধ ছিল। মহামারির ক্ষতি কাটাতে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল বলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিছুটা সচল ছিল।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সচল অবস্থা এবং ব্যাংক খাতের মাধ্যমে সরকারের প্রণোদনার অর্থের সঠিক প্রয়োগ ব্যবসাকে সচল এবং দেশের অর্থনীতিকেও সচল রেখেছে।

বাংলাদেশে কোভিডসংক্রান্ত অর্থনৈতিক যে নীতিমালা করা হয়, সেগুলো ছিল পজিটিভ। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং সেটার সঠিক প্রয়োগের ফলে অর্থনীতির কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অগ্রগামী রেখেছে।

আমাদের আমদানি-রপ্তানি অগ্রসর ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়নকাজও থেমে থাকেনি। পদ্মা সেতু সেটার বড় উদাহরণ।

দেশে কয়েক বছর ধরে মন্দ ঋণের প্রভাব রয়েছে। সেই মন্দ ঋণের প্রভাব কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাংকিং খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। করোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কিছু সুবিধা দিয়েছে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ছাড় দেয়া হয়েছে। চলতি বছরেও কিছু নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

করোনায় ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, সে কিস্তিগুলোর আংশিক শোধ করার পরেও ব্যাংকগুলো মোটামুটিভাবে বেশ ভালো মুনাফা করেছে। তবে করোনার কারণে বিভিন্ন ব্যাংকের অগ্রগতির যে পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কিন্তু ব্যাংক কর্মীদের বেতন-বোনাস দেয়াসহ সার্বিক দিক মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি আমরা।

অন্যান্য সময় ব্যাংক যেভাবে চলছে, তার সঙ্গে যদি মহামারির এ সময় ব্যাংক খাতের অবস্থা তুলনা করি, সেটা নিয়মমাফিক হবে না।

অন্য ব্যাংকের মতো এবি ব্যাংকও ব্যতিক্রম নয়। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক নীতিমালা মেনে আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের কিছু ঘাটতি ছিল সেগুলো পূরণ করেছি।

প্রণোদনা প্যাকেজ বিষয়ে অনেক অভিযোগ আছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বণ্টন করছে ব্যাংক। কিন্তু বলা হচ্ছে, বড় বড় ব্যবসায়ীকেই প্রণোদনার অর্থ দেয়া হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে দেখেছি, প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করার কারণে ১৬টি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শোকজ করেছে।

এবি ব্যাংক প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে বিতরণের চেষ্টা করেছে। বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট শিল্পে প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। এ শিল্পের প্রসার অর্থনীতির মন্দাভাব ও মন্দঋণ দুটোই প্রতিহত করবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গ্রাহক তৈরি করে যদি তাদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ দিতে পারি, তাহলে ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে।

বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা ঋণের টাকা ফেরত দেয়। ব্যাংক খাতে এসব গ্রাহক তৈরি করা হলে মন্দ ঋণের মাত্রা অনেক কমে যাবে। কারণ মন্দ ঋণ বৃহৎ শিল্পে পুঞ্জিভূত।

প্রণোদনার ঋণ হয়তো অনেক ব্যাংক সঠিকভাবে বিতরণ করতে পারেনি। আবার অনেক ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে কিছু জটিলতা আছে। এখানে গ্রাহকের অভাব আছে।

ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যাংক ঋণগ্রহীতার আনুষঙ্গিক বিষয় পরিপালন করেই ঋণ দেয়, কিন্তু গ্রাহকের অভাব থাকলে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ না-ও হতে পারে। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের কম ঋণ দেয়া হলে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

ব্যাংকে গ্রাহক পাওয়া, আনুষঙ্গিক বিষয় পরিপালন, গ্রাহকের সামর্থ্য, ব্যাংকের আন্তরিকতা সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। না হলে ঋণ না দেয়ায় শুধু ব্যাংকের ওপর দায় দেয়া হলে সেটা অন্যায় হবে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। দেশের ব্যাংক খাতের এখন অন্যতম প্রধান সমস্যাও এটি। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদৌ কি আদায় করা সম্ভব? এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন।

২০১৮ সালের অক্টোবের আমি এবি ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করি। তখন থেকে মন্দ ঋণের মাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়েছি। সামনে এটা আরও কমে আসবে।

খেলাপি ঋণ থেকে বের হওয়ার দুটি সুযোগ আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রসার এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে ঋণ আদায় করা গেলে খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা দরকার। আমানতকারীদের যে অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকে, তার প্রতি ব্যাংক থেকে শুরু করে সরকারেরও দায়বদ্ধতা আছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে আলোচিত বিষয় আমানতের সুদহার। অর্থাৎ আমানতের সুদহার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ কিছু কিছু ব্যাংক আমানতে ২ থেকে আড়াই শতাংশ সুদ দিচ্ছে। আমানতে মূল্যস্ফীতির কম সুদ না দেয়ার এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ কী?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের আমানতকারী রয়েছেন। সবার প্রতি ব্যাংকের কর্তব্য আছে। ব্যাংক শুধু ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করবে সেটা নয়।

আমানতকারীদের নিম্নমানে সুদ দেয়া আইনের পরিপন্থি। কারণ, প্রত্যেকে কিছু আশায় ব্যাংকে সঞ্চয় করে থাকে। কিন্তু সেই আমানতে টাকায় যদি কোনো আশানুরূপ রোজগার না হয়, তবে সেটা আমানতকারীদের প্রতি অন্যায়। ব্যাংক আমানতকারীকে নিম্ন সুদ দিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় অর্থ বিনিয়োগ করছেন নিজেদের মুনাফার জন্য। এতে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ভারসাম্য থাকছে না। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি।

ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে একাধিবার ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠনের আলোচনা হয়েছে, ‘কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন আছে বলে কি মনে করেন? কেন করেন?

সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য কর্মকর্তার কাছে বলতে চাই, আমাদের ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কমিশন গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে ৬০টি ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে এগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা সহজ নয়। একটি ডেডিকেটেড ব্যাংকিং কমিশন যদি গঠন করা যায়, তাহলে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

ব্যাংক খাতে ইন্টারফেয়ারেন্স (হস্তক্ষেপ) একটা সমস্যা। অনেক সময় ব্যাংকাররা এটির কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছুর পাশে দেশ, মানুষ, সমাজের কথা চিন্তা করতে হবে।

বর্তমান সরকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটাকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুশাসন জরুরি। অনুশাসন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, বাংলাদেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’

জেলা প্রশাসক বরাবর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন কৃষক ও পাম্প অপারেটর। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি কৃষকের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ পাস হলেও কৃষকরা পেয়েছেন পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। অথচ ওই কৃষকদের ৫০ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। আবার কারও নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাশ হলেও তারা কোনো টাকাই পাননি।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সাড়ে সাত কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করিয়ে সেই টাকা কৃষকদের না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সোলারগাঁও অ্যাগ্রো ইঞ্জিনিয়ার্স এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এটি ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির আট কর্মকর্তা।

এরইমধ্যে টাকা লোপাটের ঘটনায় বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন কৃষক ও পাম্প অপারেটর।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সোলারগাঁও অ্যাগ্রো ইঞ্জিনিয়ার্স এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি ঋণ দেয়ার কথা বলে তাদের অগোচরে একটি করে নতুন সিম রেজিস্ট্রেশন করে। ওই সিম নম্বরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কয়েকশ মোবাইলে সিমগুলো চালু রাখা হয়।

এতে বলা হয়েছে, প্রতি কৃষকের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ পাস হলেও কৃষকরা পেয়েছেন পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। অথচ ওই কৃষকদের ৫০ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। আবার কারও নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাশ হলেও কৃষকরা কোনো টাকাই পাননি।

কৃষকদের অভিযোগে বলা হয়েছে, এভাবে বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল, খানসামা, বোচাগঞ্জ ও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কয়েকশ কৃষককে ঠকিয়ে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা লোপাট করেছে সোলারগাঁও অ্যাগ্রো ইঞ্জিনিয়ার্স এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

কাহারোলের উত্তর নওগাঁ গ্রামের গভীর নলকূপের অপারেটর সমারু মালাকার বলেন, ‘২০২০ সালের প্রথম দিকে সোলারগাঁও অ্যাগ্রোর লোকজন আমার জমিতে একটি ডিপ মেশিন বসানোর জন্য আসে। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়।

‘চুক্তি অনুযায়ী আমার জমি থেকে ১৫ শতক নিয়ে তাদের বছরে ২০ হাজার টাকা দেয়ার কথা। এছাড়াও প্রতিমাসে তারা আমাকে তিন হাজার টাকা বেতন ও পাম্প থেকে আয়ের ২০ শতাংশ টাকা কমিশন হিসেবে দিতে চায়। প্রথম দুই মাস তারা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে তারা আমার বেতন বন্ধ করে। পরে সোলারগাঁও অ্যাগ্রোর লোকজন আমার কাছে এসে ওই গ্রামের কৃষকদের কৃষি ঋণ দেয়া হবে বলে জানায়। পরে আমি তাদের ৮০ জনের তালিকা দিই। তাদের লোকজন গ্রামে এসে ৮০ জনের নামে ঋণ প্রস্তাব করে নিয়ে যায়।’

সমারু মালাকার বলেন, ‘এসময় তাদের সঙ্গে দুটি করে ল্যাপটপ ছিল। একটি ল্যাপটপে ঋণ নেয়ার জন্য প্রতি কৃষকের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়েছিল। অপরটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ কৃষকের মোবাইল নম্বর নেয়। পরে আমরা জানতে পারি আমাদের অগোচরে অপর ল্যাপটপে ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে কৃষকদের নামে একটি করে নতুন সিম রেজিস্ট্রেশন করে তারা। ওই সিমগুলো কোম্পানির হেফাজতে ছিল।

‘কিছুদিন পর কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায়, ৮০ জনের ঋণ প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র ১০ জনের ১০ হাজার টাকা করে ঋণ মঞ্জুর হয়েছে। অথচ যাদের নামে ঋণ মঞ্জুর হয়েছে, তারা মোবাইলে কোনো মেসেজ পায়নি। তারা ৮০ জনের নামে ঋণ পাস করিয়ে ১০ জন কৃষককে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষকের ‘কোটি টাকা লোপাট’

তিনি বলেন, ‘১০ জন কৃষক ঋণের টাকা তাদের কাছে নিয়ে আবার কিস্তিতে পরিশোধ করেছে। তবে অনেক কৃষকের মোবাইলে নম্বরে মেসেজ আসছে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের। আমাদের এখন পথে বসার মতো অবস্থা।’

সমারু জানান, একইভাবে কাহারোলের শংকরপুর গ্রামের পাম্প অপারেটর জুয়েল ইসলামের মাধ্যমে ৬০ জন, মাধবগাঁও গ্রামের পাম্প অপারেটর যতীশ চন্দ্র রায়ের মাধ্যমে ৯০ জন, রসুলপুর গ্রামের পাম্প অপারেটর রহিদুল ইসলামের মাধ্যমে ৩০ জনসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাম্প অপারেটরদের মাধ্যমে কয়েকশ কৃষকের নামে ঋণ প্রস্তাব করে ওই টাকা লোপাট করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠানের আট কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে সোলারগাঁও অ্যাগ্রো ইঞ্জিনিয়ার্স এন্টারপ্রাইজ।

এ বছরের ১৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের কালেকশন অ্যান্ড লোন রিকোভারি অফিসার পদ থেকে মো. জীবন, শামীম ইসলাম, বিল্লাল আলী, আল মামুন ও নুরুল ইসলাম নামে পাঁচ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে সোলারগাঁও অ্যাগ্রো।

এর আগে এক সঙ্গে চাকরিচ্যুত করা হয় আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফাতাউর ইসলাম ও আবুল বাসার নামে আরও তিন কর্মকর্তাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষকদের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা এর প্রতিবাদ করি। পরে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে আমাদের চাকরিচ্যুত করে কর্তৃপক্ষ।

‘আমরা তাদের কাছে বেতনসহ বিভিন্ন খাতের বহু টাকা পাব। তারা ওই টাকাও দিচ্ছে না। কৃষকদের মতো আমরাও এখন রাস্তায় বসে গেছি। এমনকি তাদের অপকর্মের বিষয়ে কাউকে যেন না বলি সেজন্য নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে নিজেদের অফিসের জিনিসপত্র অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে সোলারগাঁও অ্যাগ্রো। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া আর আমাদের বাঁচার পথ নেই।’

জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগের পর ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বীরগঞ্জের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা আসাদুজ্জামানকে।

তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। শিগগিরই প্রতিবেদন দেয়া হবে।

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্যাংক এশিয়া দিনাজপুর শাখার ম্যানেজার চঞ্চল কুমার বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমরা বীরগঞ্জ এজেন্ট সোলারগাঁও অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জানতে পেরেছি। আমি বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে সোলারগাঁও অ্যাগ্রো ইঞ্জিনিয়ার্স এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ম্যানেজার বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে কয়েজন কর্মকর্তাকে আর্থিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও হয়েছে। এরপর থেকে তারা সোলারগাঁও অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাগজপত্র দেখতে চেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আমরা সময় মতো তাদের কাগজপত্র দেখাব। আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

ম্যানেজার বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কৃষকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ আমরা যে কৃষকদের ঋণ দিয়েছি, তারা আবার ঋণের টাকা ফেরত দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

বিআরআইসিএস জোটের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বাংলাদেশ

বিআরআইসিএস জোটের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বাংলাদেশ

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশের যোগদান নিশ্চিত হয়। এ সদস্যপদ বাংলাদেশকে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ভোট দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করবে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত বিআরআইসিএস জোটের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ মিশন থেকে শনিবার রাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এটিকে সময়োপযোগী অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বৈদেশিক অর্থায়নের একটি নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত করবে। যা আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটিতে বাংলাদেশের যোগদান নিশ্চিত হয়। এ সদস্যপদ বাংলাদেশকে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ভোট দেয়ার ক্ষমতা দেবে।

২০১৫ সালে স্থাপিত এ ব্যাংকে বিআরআইসিএস জোটের বাইরে বাংলাদেশই প্রথম সদস্যপদ লাভ করল। এর ফলে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পাশাপাশি আরও একটি বহুজাতিক ব্যাংকে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত হলো।

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ধরে রাখার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন এবং বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী-সমৃদ্ধ-উন্নত দেশে পরিণত করতে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মেধাভিত্তিক উন্নত দেশে পরিণত করতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুগুণে বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সফল করতেও বৈদেশিক অর্থায়ন জরুরি।

বাংলাদেশ এখন রূপকল্প-২০৪১ অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে। ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো এবং নগর উন্নয়নে সরকার প্রচুর বিনিয়োগ করছে। এ ছাড়া সরকারের বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন আছে।

নতুন ব্যাংকটির সদস্যপদ অর্জন করায় বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’

‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জড়িত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লগো

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখলাম, একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। প্রতিযোগিতা কমিশন দ্রুততার সঙ্গে এই বিষয়ে কাজ করবে।’

মোবাইল ব্যাংকিং খাতে দ্রুত শৃঙ্খলা না ফেরালে এ খাতের পরিণতি হবে ই-কমার্সের মতো। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সার্ভিস চার্জ আরও কমিয়ে কীভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা আনা যায় এবং ছোট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা যায় সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ‘মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশন আইন ২০১২ সালে হলেও আমরা ২০২০ সাল থেকে কাজ শুরু করেছি। তবে এখনও আমাদের লোকবল ও কর্মযজ্ঞে অনেক ঘাটতি। মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় আমরা জানতাম দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। কিন্তু পরে মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখলাম, একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। প্রতিযোগিতা কমিশন দ্রুততার সঙ্গে এই বিষয়ে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘সার্ভিস চার্জ যাতে জনগণের সাধ্য ও সামর্থ্যের মধ্যে থাকে এ বিষয়টিও আমরা দেখবো। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় যেহেতু এ খাতে রেগুলেটরি তাই তাদেরই এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা দরকার।’

‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
‘মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুভ্রত রায় মৈত্র বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং খাতে আমরা শুধু নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন সেবা দেই। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি করার সময় একজনের আইডি ব্যবহার করে অন্যজন সিম ব্যবহার করার কারণে কিছু অ-নিরাপত্তা এখনও রয়েছে। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সার্ভিস চার্জ আরও কমিয়ে আনা যায় কীভাবে, সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘কমিশনগুলো নিজেরা শক্তিশালী না হবার কারণে দাঁত, নখবিহীন কমিশনে পরিণত হয়েছে। একচেটিয়া বাজার আধিপাত্য রোধ করতে প্রতিযোগিতা কমিশনকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাহকদের ভেতর সমন্বয় না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি ও বাজারে মনোপলি ও মুনাফাখোররা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি কোম্পানি কীভাবে একক আধিপাত্য বিস্তার করল এবং উচ্চ মূল্যের সার্ভিস চার্জ আদায় করল এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী তাও ভেবে দেখা দরকার।’

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারা অপারেটররাসহ আরও নতুন নতুন বিনিয়োগ এ খাতে আনা জরুরি।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশে একটি মোবাইল অপারেটর ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিত। সেটি কমে এখন ৪৫ পয়সা হয়েছে। কেবলমাত্র অন্যান্য অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তাই মোবাইল ব্যাংকিং খাতেও প্রতিযোগিতা আনা গেলেও এর সার্ভিস চার্জ দ্রুত কমে আসবে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজির হোসাইন বলেন, ‘মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা দ্রুত ফিরিয়ে আনা না গেলে এর পরিণতি হবে ই-কমার্সের মতো। বাজারে দ্রুত আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার মধ্যে এনে সার্ভিস চার্জ কমিয়ে কীভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা আনা যায় এবং ছোট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা যায় এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশনকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মহোদয়ের ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন করতে হলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সার্ভিস চার্জ কমিয়ে আনা ও বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টির বিকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ
নির্মাণশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
রড-সিমেন্টের দামে কর-সুবিধার প্রভাব নেই
ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে
বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

শেয়ার করুন