এটা ধনী তোষ‌ণের বা‌জেট: মনীষা

বাংলা‌দেশ সমাজতা‌ন্ত্রিক দল ব‌রিশাল জেলা শাখার সদস্য স‌চিব মনীষা চক্রবর্তী।

এটা ধনী তোষ‌ণের বা‌জেট: মনীষা

মনীষা ব‌লেন, এই ক‌রোনাকা‌লে দে‌শের প্রায় দুই কো‌টি মানুষ যেখা‌নে দা‌রিদ্র্যসীমার নি‌চে র‌য়ে‌ছে, তা‌দের কীভা‌বে কর্মসংস্থান দেয়া হ‌বে বা তা‌দের জন্য কী করা হ‌বে, সেই সং‌শ্লিষ্ট কো‌নো নি‌র্দেশনা বা প্রস্তাবনা নেই বা‌জে‌টে।

এবারের বা‌জে‌ট হ‌চ্ছে ধনী তোষণ এবং গরিব মানুষ‌দের ঠকা‌নোর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা‌দেশের সমাজতা‌ন্ত্রিক দল ব‌রিশাল জেলা শাখার সদস‌্যস‌চিব মনীষা চক্রবর্তী।

স্বাস্থ‌্য খা‌তে গত বছ‌রে বরাদ্দ ছি‌লে ৫ ভাগ, তাও কমা‌নো হ‌য়ে‌ছে। শিক্ষাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগু‌লোতে বরাদ্দ কমা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

মনীষা ব‌লেন, ‘এই ক‌রোনাকা‌লে দে‌শের প্রায় দুই কো‌টি মানুষ যেখা‌নে দা‌রিদ্র্যসীমার নি‌চে র‌য়ে‌ছে, তা‌দের কীভা‌বে কর্মসংস্থান দেয়া হ‌বে বা তা‌দের জন‌্য কী করা হ‌বে, সেই সং‌শ্লিষ্ট কো‌নো নি‌র্দেশনা বা প্রস্তাবনা নেই বা‌জে‌টে।

‘এবা‌রে বেসরকা‌রি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ শতাংশ ভ‌্যাট আ‌রোপ করা হ‌য়ে‌ছে। একবার ভ‌্যাটবি‌রোধী আ‌ন্দোল‌নের মু‌খে সরকার এই ভ‌্যাট প্রত‌্যাহার ক‌রে নি‌লেও সেই শিক্ষা হয়‌তো তারা ভুলে গে‌ছে। ‌শিক্ষা‌কে তারা ব‌্যবসা ম‌নে ক‌রে সেটা বা‌ণিজ্যিকীকরণ শুরু ক‌রে‌ছে।

‘আমরা ম‌নে ক‌রি, ক‌রোনাকা‌লে যেখা‌নে স্বাস্থ‌্য খাত‌কে বে‌শি গুরুত্ব দেয়া উ‌চিত ছি‌ল, সেখা‌নে তা দেয়া হয়‌নি। এটা ধনী তোষ‌ণের বা‌জেট, জনবান্ধব বাজেট নয়। তাই এই বা‌জেট আমরা প্রত‌্যাখ‌্যান কর‌ছি।’

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাজেটে টিকার বরাদ্দ ‘যথেষ্ট নয়’

বাজেটে টিকার বরাদ্দ ‘যথেষ্ট নয়’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেও টিকাপ্রদান প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে রপ্তানির প্রধান বাজারগুলো হারাতে হবে। তাই, এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মধ্য দিয়েই বাজেট পাস করতে হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রেহাই পেতে প্রস্তাবিত বাজেটে টিকার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখার হয়েছে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেও টিকাপ্রদান প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে রপ্তানির প্রধান বাজারগুলো হারাতে হবে। তাই, এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মধ্য দিয়েই বাজেট পাস করতে হবে। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা (রোড ম্যাপ) নিয়ে কাজ করতে হবে।

রোববার ঢাকায় ২০২১-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় এফবিসিসিআই প্রধান এ দাবি করেন।

ঢাকায় কর্মরত অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এই আলোচনার আয়োজন করে। ‘রিফ্লেকশনস অন দ্যা বাজেট ২০২১-২২’ শিরোনামে এই আলোচনায় এফবিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে একমত পোষণ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ও এফবিসিসিআই সভাপতি ছাড়াও পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্স পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ, ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভীর ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

টিকায় জোর দেয়া জরুরি মন্তব্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মান্নান বলেন, ‘বাজেটকে বিজনেস ফ্রেন্ডলি বলে অনেকেই বলছেন। আমরা বিজনেস সহায়ক সরকার। বিজনেসটা প্রায়রিটি দিতে হবে তা আমরা বুঝি। ব্যবসায়ীদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।

‘ভ্যাকসিন নিয়ে সবাই কথা বলছেন। ভ্যাকসিন না নিলে, হার্ড ইমিওনিটি না হলে আমাদের বায়াররা এখানে আসবে না। এটা হলে আমরা কোথায় যাব? আমার মনে হয়, এ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে আমি মনে করি।’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম বলেন, ‘বাজেটে করপোরেট করহারে ছাড়ের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। তবে বাজেটটি এমন সময় হয়েছে যখন আমাদের সামনে করোনা সংকট থেকে উত্তোরণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রণোদনার পাশাপাশি ভ্যাকসিনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

‘আমাদের ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া শেষ না হলে বায়াররা আসবেন না। ভ্যাকসিন দিতে না পারলে আমাদের সঙ্গে বায়ার দেশের বিমান চলাচলও স্বাভাবিক থাকবে না। ফলে রপ্তানি বাজার হারানোর শঙ্কা রয়েছে।’

‘এলডিসি গ্রাজুয়েশন উত্তোরণ পরবর্তীতে সময়কে মাথায় রেখে বাজেটটি প্রণয়ন হওয়া দরকার ছিল। কয়েক বছর ধরেই আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ কম। পেটেন্ট সুবিধা হারালে আমাদের জন্য অনেক কিছুতে চ্যালেঞ্জ আসবে।’

কর সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এটিআইটি বাতিলের কথা বলেছিলাম। এটি ব্যবসায়ীদের মূলধন আটকে দেয়। কিন্তু সরকার কিছু পণ্যে ২০ শতাংশ এটিআইটি দিয়েছে। অনেক পণ্যে অ্যাডভান্স ভ্যাট রাখা হচ্ছে। এগুলো থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।’

টিকাপ্রদান জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে মন্তব্য করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিনেশনে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এটি বাড়াতে হবে। ভ্যাকসিনেশনে পিছিয়ে থাকলে রপ্তানিতেও পিছিয়ে যেতে হবে।’

বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটেনি উল্লেখ করে ফারুক হাসান বলেন, ২০১৯-২০ সালে তেমন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। বিশেষ করে করোনার সমেয়ে তো বিনিয়োগ একেবারেই হয়নি। রপ্তানি কয়েক মাস খারাপ থাকার পর তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্স বেশ ভালো। সরকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রজেক্টগুলো চলেছে। ফলে অর্থনীতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ব্যক্তি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সেভাবে হয়নি।

প্রস্তাবিত বাজেটে টিকার জন্য বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি যথার্থ নয় উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবিলায় থোক বরাদ্দের সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকাও ব্যবহারের পরামর্শ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনেশন না হলে আমাদেরকে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। ফলে যতদ্রুত সম্ভব মানুষকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করার দরকার ছিল স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায়। কিন্তু হয়নি। বরাদ্দ আগের বছরের মতোই থেকেছে। এখন ভ্যাকসিনিশেনটা মূল চ্যালেঞ্জ। ভ্যাকসিনটা অতি জরুরি দরকার।

আবু ইউসুফ বলেন, ‘পেনডেমিক চ্যালেঞ্জ, এলডিসি গ্রাজুয়েশন উত্তোরণ, এসডিজি গোল অর্জন এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সামনে রেখে বাজেট ঘোষিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এই লক্ষ্যগুলো ঠিক রেখে প্রণয়নের দরকার ছিল।’

তিনি বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ১ শতাংশের মতো। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এটি ২ শতাংশ করার কথা বলা রয়েছে। ফলে বাজেটে এর বাস্তবায়ন নেই। সিএমএইচসহ ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলের মতো জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল স্থাপন করা দরকার। আর সেজন্য বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ দরকার।

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবার ঠিকাদারদের জন্য দুঃসংবাদ। ঠিকদারি ব্যবসাসহ সরবরাহ পর্যায়ে ‘উৎসে কর’ হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে এ খাতের জন্য উৎসে কর কাঠামোর স্তরে আনা হয়ছে পরিবর্তন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঠিকাদারি ব্যবসা কোনোরকম টিকে আছে। নতুন বাজেটে বর্ধিত হারে উৎসে কর কার্যকর হলে এ ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়কর খাতে আদায়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আসে উৎসে কর থেকে। মোট আয়করের ৬০ শতাংশ আসে উৎসে কর থেকে। এর মধ্যে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসার অবদান ৩০ শতাংশ।

বর্তমানে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকে মেয়াদি আমানত বা এফডিআই, রপ্তানি, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাভেল এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ কমিশনসহ ৫৮টি খাত থেকে উৎসে কর আদায় করে সরকার। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎসে কর আসে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে কর হার গড়ে ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তরের পরিবর্তে তিনটি স্তরে উৎসে কর আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির অন্যতম খাত নির্মাণশিল্পে ব্যবহৃত রড ও সিমেন্টের দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। পাথর, ইলেকট্রিক্যাল কেব্‌লসহ অন্যান্য উপকরণের দাম গড়ে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এসব কারণে নির্মাণশিল্প এমনিতেই স্থবির। তার ওপর ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায় উৎসে কর বাড়ানোর ফলে এ খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় দেশের নামি-দামি অনেক ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। যারা নতুন, তাদের অনেকেই খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে করের বোঝা আরও চাপানোর ফলে এ ব্যবসা ব্যাপক চাপে পড়বে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলা অবস্থা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মককর্তা বলেন, তারা এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কাঠামোতে কিছুটা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করেছেন। এই কর প্রস্তাব কার্যকর করলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে, বাড়বে বড় ব্যবসায়ীদের ওপর।

এবারের বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ৫০ লাখ টাকার বেশি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তন হবে ৩ শতাংশ, ৫০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজে ৫ শতাংশ এবং এবং ২ কোটি টাকার বেশি কাজের বেলায় ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।

ঠিকাদারি ও সরবরাহকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য বর্তমান করকাঠামোই বহাল রাখার দাবি জানান বিএসিআইএর সভাপতি সফিকুল হক তালুকদার।

বর্তমানে এ খাতে সর্বোনিম্ম উৎসে কর হার ২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ঠিকাদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত।

সরকারি উন্নয়ন কাজের বা এডিপির ৯৫ শতাংশই করে থাকে ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা। নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অসংখ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের আদেশ পাওয়ার পরও মাসের পর মাস বসে আছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজই শুরু করতে পারছে না তারা। এ অবস্থায় বাড়তি করের চাপ এ খাতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

পাঁচ বছরেও উৎসে কর খাতে সংস্কার নেই

২০১৬ সালে উৎসে কর বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল এনবিআর। এতে বলা হয়, উৎস কর আহরণে বড় গলদ রয়েছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে উৎসে কর আদায় বাড়াতে একটি সংস্কার কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে। এতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে উৎসে কর আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং বিছিন্নভাবে আদায় না করে কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর আহরণের কথা বলা হয়। এ জন্য আলাদা একটি কর অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু পাঁচ বছরেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় নি।

নির্মাণশিল্প রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি

বিপর্যয়ের মুখ থেকে নির্মাণখাত রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই)। তাতে এ খাতের সংকট উত্তরণে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির মধ্যে আছে: সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী সকল কাজে মূল্য সমন্বয় (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) চালু করা, সরকারি পরিপত্র জারি করে চলমান প্রকল্পের মূল্য তারতম্য (ভেরিয়েশন) সমন্বয় করা, এমএস রড় ও সিমেন্টের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা ও নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর জন্য অতি দ্রুত শুল্কমুক্ত রড সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করা।

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। ফাইল ছবি

এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেননি।

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিল মাস শেষে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিচ্ছে না কেউ।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যের কিনারায় পড়ে আছে।

বছরের শেষ দুই মাস মে ও জুনেও উন্নতি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দেয়ার পর থেকে নতুন ঋণ বিতরণ হচ্ছে না বললেই চলে; সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করছে। ঋণ বিতরণ যেটা বেড়েছে, সেটা আসলে প্রণোদনার ঋণে ভর করেই বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; গত অর্থবছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিল শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল শেষে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে ৮৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

আর এই এক বছরে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এতেই বোঝা যায়, মহামারিকালে নতুন কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি; সামান্য কিছু যা বিতরণ হয়েছে, তা চলমান কিছু ভালো প্রকল্পের ঋণ।

গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ২৩টি প্যাকেজের আওতায় মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এই এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেনি।

তবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, মহামারির ধাক্কায় গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সরকারি ঋণপ্রবাহেও একই হাল

প্রবৃদ্ধি কমেছে সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহেও। এপ্রিল শেষে সরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের অঙ্ক ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে এই এক বছরে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এই ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও এই একই লক্ষ্য ধরা ছিল, বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, প্রণোদনার ঋণ ছাড়া ব্যাংকগুলো এখন অন্য কোনো ঋণ বিতরণ করছে না। কোভিড-১৯-এর কারণে বিশেষ ছাড়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণের কিস্তিও আদায় করেনি ব্যাংকগুলো। সে কারণে নতুন ঋণ বিতরণের টাকাও নেই অনেক ব্যাংকের।

তিনি বলেন, ‘তাই, মাঝে প্রণোদনার ঋণের কারণে কয়েক মাস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও এখন তা আবার কমে এসেছে। এখন সেটা কতটা কমবে; সেটাই উদ্বেগের বিষয়।’

গত বছরের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ; যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে এপ্রিল মাস শেষে দেশে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

গত বছরের এপ্রিল শেষে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। আর সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবেই এপ্রিল শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সরকারি ঋণের ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ; আর বেসরকারি খাতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন ঋণের চাহিদাই নেই। সাম্প্রতিককালে যেসব খাতে ভালো ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি শেষ অবধি কোথায় গিয়ে ঠেকে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- সে জন্য উদ্যোক্তারা অপেক্ষা করছেন।’

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

নতুন বাজেটে বেগবান হবে দেশীয় ব্র্যান্ড: এম এ রাজ্জাক

নতুন বাজেটে বেগবান হবে দেশীয় ব্র্যান্ড: এম এ রাজ্জাক

এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি ও মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ

এফবিসিসিআই-এর সহ সভাপতির মতে, স্থানীয় শিল্পের জন্য বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোয় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত ফ্রিজ, এসি, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সেই সঙ্গে এসব পণ্যের দাম কমার সঙ্গে মানও ভালো হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান ও বাংলাদেশি ব্র্যান্ড তৈরির স্বপ্ন সুসংহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সহ সভাপতি ও মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ। বলেছেন, দেশি ব্র্যান্ড তৈরির অগ্রযাত্রার পথে নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবারের বাজেট।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের জন্য বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোয় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত ফ্রিজ, এসি, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সেই সঙ্গে এসব পণ্যের দাম কমার সঙ্গে মানও ভালো হবে।

ব্যবসায়ীদের এই নেতার মতে, দেশীয় শিল্প বিকাশের জন্য ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প, ওষুধ শিল্প, কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, খেলনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগি মাছের খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্যানিটারি ন্যাপকিন অর্ডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ নানান শিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। এতে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতিও বাড়বে।

নতুন বাজেট দেশীয় শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব হলেও দরকার নীতির ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দেন রাজ্জাক।

এবারের বাজেটে শিল্পের ১৯টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা থাকছে। তার মধ্যে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর (এআইটি) এক শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রিজার, রেফ্রিজারেটর ও এর কম্প্রেসারের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। এয়ারকন্ডিশনার ও এর কম্প্রেসার, মোটর কার ও মোটর ভেহিক্যাল উৎপাদনেও বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। তাছাড়া, দেশীয় গৃহস্থালি কাজের জন্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য বিশেষ করে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রনিক কেটলি, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার পেসার কুকারে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে। একই সুবিধা দেয়া হয়েছে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রনিক ওভেনের স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে।

দেখা যায়, ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশে কর্পোরেট কর হার কম এবং কর কাঠামো সহজ। ভারতে করপোরেট কর হার দুটি। বড় কোম্পানির জন্য ৩০ শতাংশ এবং স্থানীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে কর্পোরেট কর হার যথাক্রমে ২৮ ও ৩০ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে একটিমাত্র কর্পোরেট কর হার এবং তা মাত্র ১৩ শতাংশ। এটা বিবেচনা করেই সরকার এবারের বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

বর্তমানে দেশের উদীয়মান শিল্প হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক শিল্প। এ শিল্প বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করছে। ফলে এ শিল্পকে আরও চাঙ্গা রাখতে ফ্রিজ, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনসহ এসব পণ্য দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স শিল্প মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। আবার যারা এসব কারখানা স্থানীয়ভাবে স্থাপন করবেন, তাদের জন্য ১০ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধা (ট্যাক্স হলিডে) দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে এ বাজেটে।

বাজেটে সরকারি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ২৫ শতাংশ হতে ২২.৫ শতাংশ, নন-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩২.৫ শতাংশ হতে ৩০ শতাংশ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর ব্যাংকের মতো করার মাধ্যমে শিল্প খাতকে আরও সম্প্রসারিত করতে সরকার যে শিল্পবান্ধব বাজেট নিয়ে এসেছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান রাজ্জাক। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে দেশীয় শিল্পখাত। কারণ, দেশীয় শিল্প ঘুরে দাঁড়ালে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকা- তৈরি হবে -কর্মসংস্থান বাড়বে-উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি বলেন, করোনাকালের বাজেট শিল্পবান্ধব হওয়ায় দেশীয় শিল্প খাতের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ব্যাপক সুবিধা পাবে এবং মার্কেটেরও প্রসার হবে। কিন্তু এই শিল্পগুলোকে শুধু দেশের ভেতরে না রেখে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

‘প্রস্তাবিত তামাক কর তরুণ ও দরিদ্রদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে’

‘প্রস্তাবিত তামাক কর তরুণ ও দরিদ্রদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে’

প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ স্তরে ১০ শলাকার প্যাকেটে ৫ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ৭ টাকা বাড়ানো হলেও নিম্ন ও মাঝারি স্তরের সিগারেটের দাম ও শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এ প্রস্তাবনাকে তরুণ ও দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবেও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

তামাক কোম্পানিতে সরকারের ক্ষুদ্র মালিকানা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠান মালিকেরা তামাকজাত পণ্যে প্রত্যাশিত কর আরোপ করতে দেয় না বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তামাক কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি মানবাধিকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভয়েসের ‘তামাক কর বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এ মতামত দেন।

তামাকের ওপর প্রস্তাবিত কর নিয়ে হতাশ হয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘খুব নগণ্য হলেও তামাক কোম্পানিতে সরকারি মালিকানা বা শেয়ার আছে। যার কারণে একটা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। তামাক কোম্পানিগুলো তাদের অশুভ চক্র কাজে লাগিয়ে সুবিধা ভোগ করে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ স্তরে ১০ শলাকার প্যাকেটে ৫ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ৭ টাকা বাড়ানো হলেও নিম্ন ও মাঝারি স্তরের সিগারেটের দাম ও শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এ প্রস্তাবনাকে তরুণ ও দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবেও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত না হলেও এই করের হার সংশোধনের সম্ভাবনা কম বলেও মনে করেন ড. নাসির।

তিনি বলেন, ‘তামাক কর বাড়াতে হলে ভবিষ্যতে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর কৌশল বদলাতে হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আইন সংশোধনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আলোচনার জায়গা বৃদ্ধি করতে হবে।’

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ তুলে করেন ভয়েসের প্রকল্প সমন্বয়কারী জায়েদ সিদ্দিকী।

প্রবন্ধে প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ার পাবার আশঙ্কা করা হয়। এতে বলা হয়, বাজারে ৮৪ শতাংশ সিগারেট নিম্ন ও মধ্যম মানের হলেও সেগুলোর ওপর কর বাড়ানো হয়নি। আর এসব সিগারেটের মূল ভোক্তা হচ্ছে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ‘বিশ্বে সর্বোচ্চ তামাক ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম প্রথম দিকে। দেশের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাকে আসক্ত। প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে প্রাণ হারায়। অনেকে অকালে পঙ্গু হয়ে যান।’

করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, ‘বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য ক্ষতি কমিয়ে আনতে তামাকের বহুস্তরভিত্তিক ব্যবস্থা লোপ করা থেকে শুরু করে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন নেই।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রধান হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘সাধারণত বাজেটের সময় এমনভাবে কর ধার্য করা হয় যাতে নিম্ন আয়ের মানুষের চাপ কম হয়। কিন্তু বিড়ি-সিগারেটের মত ক্ষতিকর পণ্যের জন্য নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বরং ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমাতে ধনী এবং দরিদ্র্য সবার জন্য সমান কর আরোপ করা উচিত।’

প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন ও মধ্য স্তরের সিগারেটের মূল্য ও শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে ছাড় দেয়ার একটা প্রবণতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের গ্র্যান্ট ম্যানেজার মনে করিয়ে দেন, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাক মুক্ত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেট তার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে কী না তা নিয়ে সংশয় আছে তার।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের প্রধান পলিসি অ্যাডভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যদিও আমরা এ বছর রাষ্ট্রযন্ত্রের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছি। তবুও আমাদের থেমে গেলে চলবে না। আমাদের কাজ করে যেতে হবে। সফলতা একদিন আসবেই।’

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদের পরিচালনায় এই সম্মেলনে অংশ নেন ঢাকা আহসানিয়া মিশন, প্রজ্ঞা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, উন্নয়ন সমন্বয় এবং ডর্পের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ ‘উপেক্ষিত’ দাবি বিশ্লেষকদের

অতিরিক্ত ধুলায় অতিষ্ঠ ঢাকার জনজীবন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাকৃতিক পরিবেশের অবনতি রোধ নিয়ে তেমন কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সবুজায়নের কথা বললেও পরিবেশ রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে করছে পরিবেশবাদীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট: স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ’-শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় এ সব কথা উঠে আসে।

সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক ড. এ এম জাকির হোসেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংগঠটির পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি কমিটির সদস্য-সচিব গবেষক বিধান চন্দ্র পাল এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরিবশে-বান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও আর্থিক বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর পরিবেশবিরোধী অন্যায় কার্যকলাপ বন্ধ করা। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। এটা কত সময় মধ্যে দেয়া হবে, তা উল্লেখ্য নেই। যেহারে টিকা প্রয়োগ করছে, এইভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে আগামী ৫ বছর সময় লাগবে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে। টিকার সংগ্রহ বরাদ্দ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিশ্চিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘করোনাকালে আমরা বঝুতে পেরেছি প্রকৃতিতে বিনিয়োগ হলো সঠিক বিনিয়োগ। এখন দেখার বিষয় আমার সঠিক বিনিয়োগ করছি কি না। এখন প্রকৃতিকে বিনিয়োগ করলে আমার সন্তানরা এর সুফল পাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাজেটে যে বরাদ্দ দেয়া সেটা সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে খরচ করতে হবে।’

সীমান্তে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে প্রবেশ করায় সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে আরও ভয়ের বিষয় সীমান্ত এলাকায় যেভাবে সংক্রমণ বেড়েছে, সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’

তিনি আরও বলেন, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোবারক হোসেন সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন, সেখানে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় ১০০ শতাংশ মাস্ক ব্যবহার করেছে, সেই সব এলাকায় করোনা সংক্রমণ অনেক কম গেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই।

অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, পানি, নদী ও সুন্দরবন নিয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে, এ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই পরিবেশ ও জলুবায়ু ক্ষতি হচ্ছে। যে উন্নয়ন প্রকল্প পরিবেশ ক্ষতি করে, এসব প্রকল্প বন্ধ কারার দাবি তোলেন তিনি।

পানি ও বায়ুদূষণ বন্ধ এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখছি না।’

তিনি বলেন, এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার থাকলেও এই খাতে সরকারের অবহেলার কারণে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সার্বিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রকল্পে যদি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ে, তাহলে জনগণের এই বরাদ্দ জনগণের কাজে আসে না। দেশে কিছুসংখ্যাক মানুষের সুবিধার্থে বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে। দেশে প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বায়ুদুষণ প্রতিরোধে সরকারকে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে, যা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। তাই সেখানে কর আরোপ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় ব্যয় বাড়বে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। কারণ বাড়তি করের বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরই বহন করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ধরনের কর আরোপ উচ্চশিক্ষার ব্যয়ই শুধু বাড়াবে না, উচ্চশিক্ষার সুযোগকেও সংকুচিত করবে। ফলে সবার পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা তো আইন মোতাবেক সরকার করতে পারে না। কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে, যা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো চলে, সেখানে কর আরোপ করা যায় না। তাই এটি বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর আরোপের ফল হবে বহুমুখী। এতে শুধু শিক্ষার্থীরা নন, শিক্ষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বলা যায়, এর প্রভাব গোটা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়বে, যা খুবই বাজে নজির সৃষ্টি করবে। আমি সরকারকে বলব, অবিলম্বে এ ধরনের কর আরোপ থেকে বিরত থাকতে।’

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, এ ধরনের কর আরোপের ফলে দুঃখজনকভাবে ড্রপ আউট বাড়বে, যা উচ্চশিক্ষার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, শিক্ষায় এ ধরনের কর আরোপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়। তাই অবিলম্বে এ ধরনের কর আরোপের চিন্তা পরিহার করা উচিত।

শিক্ষার্থীরা কী বলছেন?

প্রাইম ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা কি কোনো পণ্য? তাহলে কেন বাজেটে বেসরকারি শিক্ষায় কর আরোপের প্রস্তাব করা হলো? এর ফলে আমরা যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তারা তো উচ্চশিক্ষা গ্রহণই করতে পারব না।’

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘এর আগেও সরকার একবার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। আমার ভাবতে অবাক লাগে সরকার কেন বারবার শিক্ষাকে পণ্য ভাবে?’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করের প্রস্তাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

নো ভ্যাট অন এডুকেশন

বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে তারা একই দাবিতে মানববন্ধনও করেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলও করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা আমার অধিকার’, ‘শিক্ষা ও বাণিজ্য, একসাথে চলে না’র মতো স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’-এর সংগঠক মুক্ত রোজোয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার যে ১৫ শতাংশ কর বসানোর চেষ্টা করছে, তা হলো শিক্ষাকে পণ্য বানানোর চক্রান্ত মাত্র। এ চক্রান্ত আমরা ২০১৫ সালে যেভাবে রুখে দিয়েছিলাম, এবারও সেভাবেই রুখে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১০ জুনের মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

বন্ধের শঙ্কায় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হলে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)।

সম্প্রতি এপিইউবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী ট্রাস্টের অধীন পরিচালিত অলাভজনক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আরোপ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক সংকটে পড়বে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় বাড়ার কারণে উচ্চশিক্ষা অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০৪১ অর্জনের লক্ষ্য ব্যাহত হবে।’

এ বিষয়ে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল বেনজীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ট্রাস্ট অ্যাক্ট দিয়ে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আমরা দেশের উচ্চশিক্ষার সহায়ক হিসেবে কাজ করি।

‘ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশনির ওপরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে। আর উদ্বৃত্ত ফান্ড থাকলে সেটা উন্নয়নকাজে ব্যয় হয়। ট্রাস্টিরা এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ নেন না। কোনো কর আরোপ করা হলে এটা আলটিমেটলি শিক্ষার্থীদের ওপরই বর্তাবে অথবা উন্নয়নকাজ ব্যাহত হবে।’

বাজেট প্রস্তাবে কী আছে

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১০ বছর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময়ে এই কর আরোপের প্রস্তাব করা হলেও মামলা ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ কর আদায় সম্ভব হয়নি।

বাজেট বক্তৃতায় মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ করহার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে উদ্ভূত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। মহান এ সংসদে আমি এ কর হার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

আন্দোলনের মুখে ভ্যাট প্রত্যাহার

২০১৫-১৬ অর্থবছরের খসড়া বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়। সমালোচনার মুখে সরকার পরে তা কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করে। পরে সম্পূর্ণভাবে তা প্রত্যাহার করা হয়।

সে সময় বাজেট ঘোষণার পরের দিন আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আফতাবনগরের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ভ্যাট মওকুফের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন।

পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালায়। এতে প্রায় ২৩ শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনার পর সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

আন্দোলনের মুখে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই দিনই অর্থ মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

আরও পড়ুন:
জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির বাজেট: চট্টগ্রাম চেম্বার
আবাসন খাতে ছাড়ের সুফল নিয়ে সংশয়
বাজেটের ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করে আ. লীগ: তথ্যমন্ত্রী
বাজেট নিয়ে চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব: যুবলীগ
বড় প্রকল্পে বেশি টাকা

শেয়ার করুন