দেশ ঋণচক্রে পড়বে: চরমোনাই পীর

দেশ ঋণচক্রে পড়বে: চরমোনাই পীর

চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী গৌরববোধ করলেও সাধারণ জনগণ এর কতভাগ সুফল পাবে, তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আয়ের উৎস এবং আয় প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধি না করে বাজেটের আকার বৃদ্ধি দেশকে ঋণ ও সুদের চক্রে ফেলে দেবে বলে মনে করেন চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মূল অর্থ জোগানদাতা এনবিআর। গত অর্থবছরে তাদের ওপরে দায়িত্ব ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করার। পরে দেখা গেল এটা সম্ভব না। সে জন্য এটা সংশোধন করে ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু এনবিআর ১০ মাসে সংগ্রহ করে মাত্র ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও যা ১ লাখ ৩ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা কম।

তিনি বলেন, বাজেটের আয়ের উৎসের এই দুর্বলতা নিয়ে আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি এবং এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে আগের মতো ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী গৌরববোধ করলেও সাধারণ জনগণ এর কতভাগ সুফল পাবে, তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বাজেটে আয়ের উৎস না বাড়িয়ে এবং আয় প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধি না করে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা দেশকে ঋণ ও সুদের চক্রে ফেলে দেবে।

তিনি বলেন, ‘অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি আটকাতে হবে। বাংলাদেশে বছর ঘুরলেই অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বিদেশি ঋণের সুদ দিতেই বাজেটের বড় অংশ চলে যায়। এরপরেও আগামী অর্থবছরে ঋণ নেয়া হবে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উচ্চ সুদের ঋণ নেয়া হবে ৩২ হাজার কোটি টাকা। এভাবে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা ও ঋণের সুদ মেটানোর এক ভয়ংকর ঘূর্ণিপাকে পড়ে যাচ্ছে দেশ।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের কর ছাড়, শুল্ক ছাড় দেয়া অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনে সত্য, কিন্তু তার প্রধান শর্ত হলো ব্যবসায়ীদের সততার সঙ্গে ব্যবসা করা। বাংলাদেশে আমরা তা দেখি না। বরং ব্যবসার ছলে অর্থ পাচার ও দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অভিশাপ হয়ে আছে। সে জন্য আগামী অর্থবছরে ব্যবসায়ীদের কর ছাড়ের সঙ্গে তাদের সততা নিশ্চিত করতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’

চরমোনাই পীর বলেন, ‘কালোটাকা সাদা করার সুযোগ সংকুচিত করায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। তবে এটা পুরোপুরি বন্ধ করা দরকার ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এমন সব প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে, যা বিলাসী ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বা কর্মসংস্থানের সহায়তা করবে না। এটা হতাশাজনক। এই দুঃসময়ে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ, বাংলো ও সার্কিট হাউস, পাঁচ তারকা হোটেল, পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ, ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণের মতো প্রকল্প করা হয়েছে। এটা হতাশাজনক। একদিকে বাজেটের টাকা জোগাড় করতে সুদের ওপরে ঋণ নিতে হচ্ছে; অন্যদিকে ভবন, পার্ক ও হোটেল নির্মাণ করতে এডিপিতে প্রকল্প ঢোকানো হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি এবং এসব প্রকল্প এডিপি থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বেদে, আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে চাকরি দেয়ার শর্তে ৫ শতাংশ কর ছাড়ের ঘোষণা ইতিবাচক, কিন্তু এর সঙ্গে রূপান্তরিত (ট্রান্সজেন্ডার) নারী-পুরুষের চাকরির শর্ত যোগ করাকে আমরা ভালো নজরে দেখতে পারছি না। প্রকৃতির বিকৃত সাধনকারী রূপান্তরিত নারী-পুরুষদের আলাদা করে সুবিধা দেয়া বাংলাদেশের নীতিনৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর অবকাশের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক, কিন্তু নতুন উদ্যোক্তারা যেন ঝামেলামুক্তভাবে ঋণ পেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
দারিদ্র্য হার ১২.৩ শতাংশে নামানোর ঘোষণা
বিনিয়োগ সহায়ক সামাজিক নিরাপত্তার বাজেট: ডিসিসিআই
কোর্ট হবে ডিজিটাল, আসামি হাজিরা ভিডিও কনফারেন্সে
বাজেট বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা দেখছে সিপিডি
কমিউটার ট্রেন যুক্ত করবে শহরতলিকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য