বাস্তবায়নযোগ্য নয়: বাজেট পেশের আগেই ফখরুল

বাস্তবায়নযোগ্য নয়: বাজেট পেশের আগেই ফখরুল

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘সরকার এবার ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার যে বাজেট দিতে যাচ্ছে সেটি বিশাল, অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী, গতানুগতিক।… জেনেশুনে এ ধরনের অবাস্তব টার্গেট তাই তামাশা ছাড়া আর কী হতে পারে?’

আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশের আগেই এটিকে বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মূল্যায়ন করেছে বিএনপি। করোনাকালে গতানুগতিক বাজেট না দিয়ে ছয় মাসের জন্য বিশেষ বাজেট দেয়ার প্রস্তাব করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামী ৩ জুন প্রস্তাব করা হচ্ছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। তার পাঁচ দিন আগে বিএনপির বাজেট ভাবনা তুলে ধরতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন ফখরুল।

গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত বছরও তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে সরকার যে বাজেট দিয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন করা যায়নি, আগামী বাজেটও বাস্তবায়ন করা যাবে না।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার এবার ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার যে বাজেট দিতে যাচ্ছে সেটি বিশাল, অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী, গতানুগতিক।

‘আসন্ন অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রথম আট মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যা ৫০ শতাংশেরও নিচে। বাকি চার মাসে আদায় করতে হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা’- বলেন বিএনপি নেতা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ৪৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বলে বাস্তবায়ন, পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডির প্রতিবেদনও উল্লেখ করেন ফখরুল। বলেন, ‘দুই মাসে খরচ করতে হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

বাস্তবায়নযোগ্য নয়: বাজেট পেশের আগেই ফখরুল

অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

‘এমনিতেই বরাদ্দ কম, তার ওপর বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারে না মন্ত্রণালয়। তাহলে এ বাজেটের অর্থ কী?’- প্রশ্ন রাখেন বিএনপি নেতা।

গত বছরও বিএনপি একই দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু সরকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট দিয়েছে, সেটি গতানুগতিক, অবাস্তবায়নযোগ্য হয়েছে বলে দাবি করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এই বাজেট যা জাতিকে হতাশ করেছে। শেষ পর্যন্ত এই বাজেটের কোনো লক্ষ্যই সেভাবে পূরণ হয়নি। না রাজস্ব আহরণে, না প্রক্ষেপণকৃত উন্নয়ন, প্রণোদনা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে।’

করোনাভাইরাসে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরকার ব্যর্থ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জেনেশুনে এ ধরনের অবাস্তব টার্গেট তাই তামাশা ছাড়া আর কী হতে পারে?’

এবার বাজেট ঘাটতি অনুমান করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৬ শতাংশ। ফখরুল বলেন, এত বিশাল পরিমাণ বাজেট ঘাটতি এই প্রথম।

ক্রান্তিকালে গতানুগতিক বাজেট নয়

করোনা মহামারির কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘জীবন ও জীবিকার টানাটানিতে জনজীবন ও অর্থনীতি দুটোই মহাসংকটে রয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধ করতে না পারলে কোনোভাবেই অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

গতানুগতিক বাজেট না দেয়ার দাবি করে তিনি বলেন, ‘করতে হবে বিশেষ সময়ের বিশেষ বাজেট। এর মুখ্য উদ্দেশ্য হবে করোনার প্রভাব মোকাবিলার মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও দুর্ভোগ উপশম করা। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনা। এ জন্য দরকার হবে সহায়ক নীতি-সহায়তা।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, করোনার ভয়াবহতা না কমলে গতানুগতিক বাজেট করে কোনো লাভ নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত আগামী ছয় মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট করা।’

করোনার কারণে পূর্ণাঙ্গ বাজেটের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির অস্বাভাবিক সংকোচনে প্রচলিত বাজেটব্যবস্থা থেকে সরে এসে তিন বছরের মধ্যমেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আলোকে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।’

বাস্তবায়নযোগ্য নয়: বাজেট পেশের আগেই ফখরুল
করোনায় চাকরি হারিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়েছে অনেককে। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘জীবন-জীবিকার টানাটানির এ দুর্যোগকালে প্রবৃদ্ধি কোনো ইস্যু নয়। এখন প্রবৃদ্ধির কথা না বলে বরং কর্মসংস্থান এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার কথাই বলতে হবে। কারণ, জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

‘তবে মনে রাখতে হবে জীবিকার চেয়ে জীবন আগে। তাই এবারের বাজেট হতে হবে মূলত জীবন বাঁচানোর বাজেট। এ বাজেট হওয়া উচিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বাজেট। এ বাজেট হতে হবে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার বাজেট।’

মাথাপিছু আয় কীভাবে বাড়ল?

সরকার জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ ডলার হয়েছে। এই পরিসংখ্যানে সংশয় প্রকাশ করেন ফখরুল। বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক জীবন বিপর্যয়ের যে চিত্র চারদিকে তাতে তো তা প্রতিভাত হয় না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আয় কমেছে ৩৭ শতাংশ। বেতননির্ভর মানুষের আয় কমেছে ৪৯ শতাংশ। দেশে গত কোভিড সময়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ নতুন দরিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাহলে মাথাপিছু আয় বাড়লটা কার?’

কালোটাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা

বিএনপির প্রতিটি বাজেটেই এই সুযোগ দেয়া হলেও ফখরুল এখন এর বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘হরিলুট করে সঞ্চিত কালোটাকা জায়েজ করার দরজা অবারিত করে দিলেন অর্থমন্ত্রী, যা অনৈতিক এবং ন্যায়নীতি মেনে আইন পালনকারী নাগরিকদের প্রতি অবিচার।’

‘কোভিডকালীন এত কালোটাকা কারা আয় করেছে জাতি তা জানতে চায়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতি জানতে চায়, এরা কারা? যদিও এরই মধ্যে সরকারদলীয় ও সরকারের মদদপুষ্ট অনেক রাঘব বোয়ালের নাম বেরিয়ে পড়েছে।’

অপ্রদর্শিত আয়ের বিরাট অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বছরে পাচার হয় ১ লাখ কোটি টাকার অধিক। সাত বছরে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ডলার, টাকার অঙ্কে যা সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ সালের জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান।

প্রণোদনা পাচ্ছে না সবাই

কোভিড থেকে উত্তরণে সরকার যে প্রণোদনা দিচ্ছে, সেটি টার্গেট গ্রুপের কাছে পৌঁছাতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, বড় শিল্পপতিরা প্রণোদনা তহবিল যতটা পেয়েছে, তার চেয়ে কম পেয়েছে মাঝারি শিল্প এবং তার চেয়েও কম পেয়েছে ছোট উদ্যোক্তারা। কুটিরশিল্প পেয়েছে আরও কম। অথচ উচিত ছিল সবচেয়ে ছোট যারা, তাদের ক্ষেত্রেই তহবিলের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন। কারণ, তাদের প্রয়োজনটাই বেশি।

প্রণোদনা প্যাকেজে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ, গরিব, দিনমজুর, শ্রমিকেরা উপকৃত হয়নি অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের ৫০ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা বিতরণই সম্ভব হয়নি, যা মোট অর্থের প্রায় ৪২ শতাংশ।

মেগা বাজেটে বরাদ্দের সমালোচনা

বাজেটে ১০টি মেগা প্রকল্পের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, এসব মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে সে অর্থ নিঃস্ব, বেকার, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ বণ্টনের জন্য বরাদ্দ করা যেত।

স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতায় মানুষ মারা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, গত এক দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বরাদ্দের মাত্র ২৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

স্বাস্থ্য খাতের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অবহেলিত রেখে বিশাল বাজেট প্রণয়ন করে কী হবে?- প্রশ্ন রাখেন বিএনপি নেতা।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১৫ শতাংশ এবং জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ করারও দাবি জানান বিএনপি নেতা। তার অভিযোগ, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই সবচেয়ে কম ব্যয় করে এই খাতে।

টিকা নিয়ে ‘বালখিল্যতা’

করোনার টিকা আনতে শুরু থেকেই একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি না করারও সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলেছিলাম টিকার জন্য একক উৎসের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প সূত্র খুঁজতে। তখন সরকার বলেছিল, বিএনপি নাকি টিকা নিয়ে রাজনীতি করছে। অথচ সরকার এখন চীন এবং রাশিয়া থেকে টিকা আনার চেষ্টা করছে। অবশেষে প্রমাণিত হলো, টিকা নিয়ে বিকল্প অন্বেষণে আমাদের পরামর্শটিই সঠিক ছিল।’

বাস্তবায়নযোগ্য নয়: বাজেট পেশের আগেই ফখরুল

গণটিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর টিকা নিচ্ছেন এক নারী। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, বিএনপির পরামর্শ শুরুতে মানলে সরকারকে এখন ‘লেজেগোবরে’ অবস্থায় পড়তে হতো না।

টিকা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশেই উৎপাদনের পরামর্শও দেন ফখরুল।

দেশে শ্রেণিবৈষম্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিত্তবান-বিত্তহীনের ব্যবধান দশমিক ৪ পর্যন্ত সহনীয় বলে মনে করা হয়। আমাদের দেশে এটা বর্তমানে দশমিক ৫-এর কাছাকাছি রয়েছে। এটা অসহনীয় একটি অবস্থা।

‘সমাজে যখন ন্যায়-অন্যায়ের কোনো ব্যবধান থাকে না, দুর্নীতি আর অসৎ পন্থাই অর্থ আয়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে থাকে।’

ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাতে হলে সবার আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা।

মেগা প্রকল্পের বাজেট বেশি ধরা হয়েছে বলে আগের করা দাবি নতুন করে আবার তুলে ধরেন বিএনপি নেতা। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিও তুলে ধরেন।

সড়ক নির্মাণে বিশ্বে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘এতেই বোঝা যায় নির্মাণ খাতে কী ধরনের রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে।’

তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চার লেনের সড়কের চেয়ে ইউরোপে চার লেনের সড়ক নির্মাণের খরচ অর্ধেক।

ব্যাংকে লুটপাট

ব্যাংকিং খাতকে রীতিমতো লুট করা হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের বিশেষ নীতিমালার কারণে ঋণ গ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করছে না।

ঋণখেলাপিদের কবল থেকে দেশকে ও অর্থনীতিকে মুক্ত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলা হলেও তাদের আবার বিপুল ঋণ অবলোপন করে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকমালিকদের অনৈতিক সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে জোরদার হওয়ার চেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে অবলোপনের দিকে, যা কোনো ভালো সমাধান নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার ঐতিহাসিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আগের মতো পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ব্যাংকমালিকদের পরিবারের সদস্যদের অনৈতিকভাবে বছরের পর বছর পরিচালক পদে বহাল থাকার স্থায়ী সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণখেলাপিরা তুলনামূলকভাবে কম খেলাপি।’

বিএনপির মতে বাজেট যেমন হওয়া উচিত

স্বাস্থ্য খাতকে বাজেটের সর্বাধিক তালিকায় রাখা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা, প্রতিটি মানুষকে জাতীয় স্বাস্থ্যকার্ড প্রদান, প্রতিটি জেলায় ডেডিকেটেড সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দ বাড়ানো ও নতুন দরিদ্রদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সামাজিক সুরক্ষার অর্থ পৌঁছে দেয়া, দরিদ্রদের জন্য তিন মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা এককালীন নগদ প্রদান, উপকারভোগীদের তালিকা নিরপেক্ষভাবে করা, এসএমই, শিল্প ও কৃষি খাতে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বিশেষ প্রণোদনা অর্থ বরাদ্দ, প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ঋণ, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ বছর করছাড়, সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ, ছাঁটাই না করার শর্তে প্রণোদনা দেয়া, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখা, দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেয়ার দাবি জানান ফখরুল।

শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ে একটি অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করারও পরামর্শ দেয় বিএনপি।

এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ভর্তুকি বাদ দেয়া, অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে আয়কর আদায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো থেকে কর বৃদ্ধি, দেশি কোম্পানিকে পুনর্নিরীক্ষণ, বিদেশি অনুদান বাড়ানোর চেষ্টা করার পরামর্শ দেন ফখরুল।

ব্যাংক খাত থেকে আর ঋণ না নেয়া, মুদ্রা সম্প্রসারণ নীতি অব্যাহত রাখার কথাও বলেন ফলরুল।

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংসদে বাজেট পাস

সংসদে বাজেট পাস

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে।

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে।

এর আগে বাজেট অধিবেশনে ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবি তুলে ধরেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা।

কয়েকজন সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১’ পাস হয়। এর মাধ্যমে শেষ হয় নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস কার্যক্রম; রক্ষা হয়েছে ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

বাজেট পাসের পর বুধবারই রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দেবেন। পরদিন ১ জুলাই নতুন অর্থবছর থেকে তা বাস্তবায়ন ‍শুরু হবে।

এর আগে গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। পরে দুই দিন আলোচনা করে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়।

পরে সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে টানা চার দিন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। পরে আরও ১০ দিন বিরতি দিয়ে ফের দুই দিন বাজেটের ওপর আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার বাজেট আলোচনা শেষ হয়।

এরপর পাস হয় অর্থ বিল। সব মিলিয়ে প্রায় এক শর মতো সংসদ সদস্য এবার বাজেটের ওপর আলোচনা করেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্পূরকসহ বাজেটের ওপর ৬ দিনে ১৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন হয়েছিল। গত বছর ৯ দিনের বাজেট অধিবেশনে ১৮ জন সংসদ সদস্য ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট আলোচনা করেছিলেন।

বুধবার সংসদে অধিবেশনের শুরুতে ২০২১-২২ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আনীত ছাটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর একে একে অন্য মন্ত্রীরা তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কণ্ঠভোটে সে সকল প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১ জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য উত্থাপণ করা হলে তা কন্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এ সময় সংসদে উপস্থিত সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংসদে সরকারি বিরোধীদলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ০৩ জুন বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সূদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ।’

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল এ বছরের বাজেটকে মানবিক, মানুষের জন্য ও স্বপ্নপূরণের বাজেট আখ্যা দিয়ে এর আকার নির্ধারণ করেছেন ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৭ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের জন্য সংসদে পাশ হওয়া বাজেটে ঘাটতি রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা যোগাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাজেট ঘাটতির এই হার জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সকল প্রকার বিলাসী বিশেষ করে আমদানি করা বিদেশি পণ্যের উপর ট্যাক্স ধার্য করেছেন। বাড়ির নকশা অনুমোদন করতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করেছেন। ফলে শহরে বা গ্রামে যেকোনো জায়গায় বাড়ি করতে হলে টিআইএন নিতে হবে। এতে বাড়ির মালিক করের আওতায় আসবেন। এ ছাড়া যে কোনও সমবায় সমিতির নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

করোনার নেতিবাচক প্রভাবে সাধারন অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বলয়ের পরিধি বাড়িয়ে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছে সরকার। ৮ লাখ বাড়ানো হয়েছে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

অপ্রত্যাশিত করোনা মহামারিকে নির্মুল করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাখাতে ৩২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর বাইরে করোনা মোকাবিলায় এবারও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্যখাতের অর্জনসমূহকে টেকসই করা ও ভবিষ্যতে মহামারির অভিঘাত হতে পরিত্রাণ পেতে মানসম্পন্ন গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যশিক্ষার সম্প্রসারণে আগামী অর্থবছরেও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

বুধবার বাজেট পাস

বুধবার বাজেট পাস

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বুধবার পাস হচ্ছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। ফাইল ছবি

৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে কয়েকজন সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১’ পাস হবে। এর মাধ্যমে শেষ হবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস কার্যক্রম।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় বুধবার পাস হচ্ছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাসের এই বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে কয়েকজন সংসদ সদস্যের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর ‘নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২১’ পাস হবে। এর মাধ্যমে শেষ হবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস কার্যক্রম।

বাজেট পাসের পর বুধবারই রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দেবেন। পরদিন ১ জুলাই নতুন অর্থবছর থেকে তা বাস্তবায়ন ‍শুরু হবে।

এর আগে গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। পরে দুই দিন আলোচনা করে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়। এরপর সপ্তাহখানেক বিরতি দিয়ে টানা চার দিন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। পরে আরও ১০ দিন বিরতি দিয়ে ফের দুই দিন বাজেটের ওপর আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, জাতীয় পার্টি-জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাজেট আলোচনা শেষ হয়।

এরপর পাস হয় অর্থ বিল। সব মিলিয়ে প্রায় একশ’র মতো সংসদ সদস্য এবার বাজেটের ওপর আলোচনা করেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্পূরকসহ বাজেটের ওপরে ৬ দিনে ১৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে ।

এর আগে গত বছর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বাজেট অধিবেশন হয়েছিল। গত বছর (২০২০ সালে) ৯ দিনের বাজেট অধিবেশনে ১৮ জন সংসদ সদস্য ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট আলোচনা করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

এবার কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ

এবার কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগ

‘এবার নতুন যে সুযোগটি দেয়া হয়েছে, সেটি হলো কোথা থেকে টাকা এসেছে, সে প্রশ্ন সরকারের কোনো সংস্থাই করবে না। বিদায়ী বাজেটে যে সুযোগ ছিল, তাতে টাকা কোথা থেকে এসেছে, সে প্রশ্নের উত্তর সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হতো। এবার সে ধরনের কিছুই করতে হবে না।’

কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করা যাবে। তবে এবার কর দিতে হবে ২৫ শতাংশ। সেই সঙ্গে করের ওপর জরিমানা গুনতে হবে ৫ শতাংশ।

জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে এই বিশেষ সুযোগ রেখে অর্থবিল ২০২১ পাস হয়।

৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন, তাতে পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ ছিল না।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ (সিএসই) বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে পাস হয় অর্থবিল।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী। এ সুযোগ পুঁজিবাজারের জন্য ‘খুবই ভালো’ হবে বলেও মনে করছেন তিনি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এবার নতুন যে সুযোগটি দেয়া হয়েছে, সেটি হলো কোথা থেকে টাকা এসেছে, সে প্রশ্ন সরকারের কোনো সংস্থাই করবে না। বিদায়ী বাজেটে যে সুযোগ ছিল, তাতে টাকা কোথা থেকে এসেছে, সে প্রশ্নের উত্তর সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হতো। এবার সে ধরনের কিছুই করতে হবে না।

‘কেউ যদি টাকা ডাকাতি করেও আনে, তাতে কোনো সমস্যা নেই; সেই টাকা দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

‘আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বিশাল অঙ্কের এই কালোটাকা তো অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে ১০০ বছর আগে এই সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

সার্বিকভাবে এই সুযোগ পুঁজিবাজারে আরও ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে করেন এই পুঁজিবাজার বিশ্লেষক।

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার যে সুযোগ ছিল, তাতে ১০ শতাংশ কর দিতে হতো। তবে টাকা কোথা থেকে এসেছে, তার জবাব দিতে হতো।

১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে কালোটাকা সাদা রাখার সুযোগের বিষয়ে শাকিল রিজভী বলেন, ‘এবার কর বাড়লেও বাড়তি যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তাতে আরও বেশি টাকা পুঁজিবাজারে আসবে। বাজার আরও ভালো হবে। আর ৫ শতাংশ যে জরিমানা দিতে হবে, সেটি করের ওপর দিতে হবে। মোট হিসাবে খুব সামান্যই হবে সেটা।’

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন, পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে উত্থান, তার পেছনে কালোটাকার প্রভাব রয়েছে। পুঁজিবাজার চাঙা হয়েছে কালোটাকায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এক বছর লকইনসহ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের আওতায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১১ জন করদাতা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।

‘এই বিনিয়োগ থেকে সরকার ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৮ টাকা আয়কর পেয়েছে। যার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

পাবনায় নান্দনিক শহর গড়ার প্রত্যয়, বাজেট ঘোষণা

পাবনায় নান্দনিক শহর গড়ার প্রত্যয়, বাজেট ঘোষণা

মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে পাবনা পৌরসভাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করা হবে। সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত মডেল শহর গড়ে তুলব। মেয়র নয়, পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে পাবনা পৌরসভাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করা হবে। সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত মডেল শহর গড়ে তুলব। মেয়র নয়, পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

নান্দনিক শহর গড়ার প্রত্যয়ে পাবনা পৌরসভার ১৫০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে পৌর ভবনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন নবনির্বাচিত মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান।

মেয়র বলেন, আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আয়ের খাত ১৫০ কোটি ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৩৮ টাকা এবং ব্যয় সমপরিমাণ ধরা হয়েছে।

বাজেটে রাজস্ব আয় ৩৫ কোটি ৫৪ লাখ, উন্নয়ন আয় ১০৮ কোটি ৯২ লাখ, মূলধন ৩ কোটি ৮৪ লাখ, সম্ভাব্য প্রারম্ভিক স্থিতি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

ব্যয় ধরা হয়েছে রাজস্ব ১৩ কোটি ৪০ লাখ, উন্নয়ন ১ কোটি ১১ লাখ, মূলধন ব্যয় ৩ কোটি ৫৫ লাখ, সম্ভাব্য সমাপনী স্থিতি ৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বাবু, ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান, সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মামুন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুন নাহার রেখাসহ অনেকে।

মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে এনেছে। উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে পাবনা পৌরসভাকে একটি নান্দনিক শহরে পরিণত করা হবে। সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত মডেল শহর গড়ে তুলব। মেয়র নয়, পৌরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

কালোটাকা সাদার সুযোগ রেখে অর্থবিল পাস

কালোটাকা সাদার সুযোগ রেখে অর্থবিল পাস

এবার কালোটাকা সাদা করার জন্য ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ জরিমানা থাকবে।

শেয়ারবাজার, ফ্ল্যাট, জমি কেনাসহ আরও কয়েকটি খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে অর্থবিল ২০২১ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই বিল পাস হয়।

৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন, তাতে ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে অর্থবিল পাস হয়।

তবে এবার এসব খাতে কালোটাকা সাদা করার জন্য ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এর সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ জরিমানা থাকবে।

অর্থবিল পাসের সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

নিজের দেয়া বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

‘এই সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় ৬৮৬ ডলার থেকে ৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ ডলারে। জিডিপির আকার ৯১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ বিলিয়ন ডলারে। রপ্তানির পরিমাণ ১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন হতে সাড়ে ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই করছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এত বেশি পরিমাণ রিজার্ভ নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। তারপর প্রবাসী আয় ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে সাড়ে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁইছুঁই করছে। মাত্র ১ বছরে প্রবাসী আয় খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্জন নিঃসন্দেহে আরও একটি অনন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড।’

মুস্তফা কামাল জানান, সারা বিশ্বই করোনার কারণে ঘাটতি বাজেট প্রণয়নের পথ বেছে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এ বছর বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অথচ সারা বিশ্বে অর্থনীতিতে ঘাটতি বাজেটের হার ৪১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বের অর্থনীতি পাল্টে গেছে, লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশ্বে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যখন এমন করুণ, সে অবস্থায়ও বাংলাদেশের অর্থনীতি ততটা খারাপ হয়নি। পাকিস্তানও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করছে। আমরা যেতে চাই বহুদূর।’

এর বাইরে কর প্রস্তাবে বড় ধরনের কোনো সংশোধনী ছাড়াই অর্থবিল পাস হয় সংসদে।

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

৯ কার্যদিবস পর শুরু বাজেট অধিবেশন

৯ কার্যদিবস পর শুরু বাজেট অধিবেশন

ফাইল ছবি

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, এই অধিবেশনে মঙ্গলবার মূল বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং এ দিনই অর্থবিল পাস হবে। এরপর বুধবার মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। ১ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্ব, বেসরকারি বিল উত্থাপন ও সরকারি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হবে।

নয় কার্যদিবস বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন।

সোমবার বেলা ১১টায় প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়।

বাজেট আলোচনার মাধ্যমে এই অধিবেশনেই ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন হয়। বর্তমানে বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আলোচনা চলছে।

জাতীয় সংসদের সর্বশেষ বাজেট অধিবেশন ছিল গত ১৭ ‍জুন।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য বলছে, এই অধিবেশনে মঙ্গলবার মূল বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে এবং এ দিনই অর্থবিল পাস হবে।

এরপর বুধবার মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। ১ জুলাই প্রশ্নোত্তর পর্ব, বেসরকারি বিল উত্থাপন ও সরকারি বিল পাসের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শেষ হবে।

অধিবেশনের সমাপনী দিনে বক্তব্য দেবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রীতি অনুযায়ী তার আগে বিরোধীদলীয় নেতাও বক্তব্য দেবেন।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও অধিবেশন স্থগিত করা যায়নি। কারণ ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো সতর্কতা মেনে যেন কোরাম পূর্ণ হয়, এমন সংখ্যক সংসদ সদস্য নিয়ে অধিবেশন চলছে।

গত ৩ জুন সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর দুই দিনের আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস এবং ১৪ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।

সংসদের চলতি অধিবেশন শুরু হয় ২ জুন, যা আগামী ১ জুলাই শেষ হবে। করোনা মহামারির কারণে গত বছর মাত্র ৯ কার্যদিবস চলে বাজেট অধিবেশন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন।

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন

জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ

জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর করার তাগিদ

গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: ফাইল ছবি

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীর মাত্র ৭-৮টি দেশে এ পদ্ধতির অর্থবছর হিসাব করা হয়। জুন-জুলাই মেয়াদের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন শুরুতে বর্ষকাল থাকে। অর্থবছরে শুরুতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছরের শেষে গিয়ে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। কিন্তু বেশির ভাগ দেশে অর্থবছর থাকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর। এমনকি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও একই সময় অর্থবছর হিসাব করে।’

বাজেট বাস্তবায়নের সমস্যা দূরীকরণে দেশের অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে সরিয়ে বিশ্বের অন্য দেশের মতো জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কি বৈষম্যমূলক পুনরুদ্ধারের পথে?’ শীর্ষক ওয়েবিনারের শুক্রবার এ তাগিদ দেয়া হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সিজিএসের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

বাজেট প্রণয়নের অর্থবছর পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে সিজিএস চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো সনাতন পদ্ধতিতে জুলাই-জুন অর্থবছর ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হয়, যা অন্যান্য দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাজেট বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। সরকারকে এই সনাতনী পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর মাত্র ৭-৮টি দেশে এ পদ্ধতির অর্থবছর হিসাব করা হয়। জুন-জুলাই মেয়াদের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন শুরুতে বর্ষকাল থাকে। অর্থবছরে শুরুতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছরের শেষে গিয়ে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। কিন্তু বেশির ভাগ দেশে অর্থবছর থাকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর। এমনকি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও একই সময় অর্থবছর হিসাব করে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘কিছুটা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও সরকার উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে অবিচল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছে। গত ২০ বছর আগেও তা কেউ ভাবতে পারেনি। দুই তৃতীয়াংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও গ্রাম অবহেলিত ছিল। এ সরকার গ্রামের উন্নয়নে কাজ করেছে। শহরের মতো গ্রামেরও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরাও বলছেন বাজেট ভালো হয়েছে। কিছু এরিয়া পলিশ করার দরকার আছে। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা অর্থমন্ত্রীও সবচেয়ে সেরা বাজেট দিতে পারেন না। কিছু সমস্যা থাকবেই।’

বাজেট প্রণয়ন অর্থনীতির চেয়েও বেশি রাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে একটি বিশেষ শ্রেণি। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্ত বাজার অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাজেটের বরাদ্দও হয়ে পড়েছে গোষ্ঠীতান্ত্রিক। ফলে অর্থনীতিতে বাজার মূল্য ধারণাটির অধঃপতন হয়েছে।

‘এতে বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মডেল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। এখানে সম্পদ কেবল এক শতাংশ মানুষের হাতে পুঞ্জিভূত। দেশে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলমান থাকবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘মহামারিকালীন মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। এ সময় সরকারের বেশি ব্যয় করার কথা। কিন্তু চলতি বছরেই রাজস্ব ব্যয় সবচেয়ে সংকুচিত হয়েছে। অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়ছে, সম্পদ চলে যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষের হাতে, প্রান্তিক হয়ে পড়ছে অপর শ্রেণি। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘করোনায় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, বৈষম্য বেড়েছে, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানও নেই। এতে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যে আশা রয়েছে, তা সংকটের মুখে পড়ছে। সংকট উত্তরণে সঠিক নীতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।’

তিতুমীর জানান, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে সবচেয়ে বেশি মানুষের অন্তর্ভুক্তি থাকলেও এই খাতে বরাদ্দকৃত অধিকাংশ অর্থই মানুষের কাছে এসে পৌঁছায় না। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতে বরাদ্দ ১৩ শতাংশ বাড়লেও মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ কমেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বিগত বছরের চেয়ে কম। গোষ্ঠী স্বার্থ চিন্তা না করে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ চিন্তা করলেই বৈষম্যমূলক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে তিনটি ধাপ- বাজেট প্রণয়ন, বাজেট পরবর্তী আলোচনা এবং বাস্তবায়ন। বলা হয়- বাজেট জনগণের জন্য। তাহলে, জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বাজেট আলোচনা হয় পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। বাজেট প্রস্তাবের পরেও মুক্ত আলোচনার সুযোগ থাকে না। এতে বাজেট বাস্তবায়নেও জবাবদিহিতা এবং স্বছতার অভাব থাকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বাজেট বাস্তবায়নের গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কর ব্যবস্থাপনাকে প্রগতিশীল করতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে বিভাজন ব্যবস্থা রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে করপোরেট করের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে আরও বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়া।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে যে ধরনের কর সুবিধা রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের শিল্পগুলো সেধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

রিকন্ডিশনড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক বলেন, বাজেট ব্যবসাবান্ধব হলেও ব্যবসায়ীদের বাজেটের মাধ্যমেই বিভিন্ন কৌশলে আটকে দেয়া হচ্ছে। যার ফলে দেশে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

বেসরকারি খাতগুলোকে দলীয়করণ না করে গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ করার মত দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
শেয়ারে লভ্যাংশে আরও কর ছাড় দেয়া উচিত
‘উচ্চ করই তামাক ব্যবহারে লাগাম টানতে পারে’
আগামী বাজেট হবে মানুষের কল্যাণে: অর্থমন্ত্রী
ঘাটতি অর্থায়ন, কমছে ব্যাংকঋণের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে চাই পরিকল্পনা

শেয়ার করুন