টিকা দেয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে

চিররঞ্জন সরকার

টিকা দেয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে

করোনা থাকলে যোগাযোগ, যাতায়াত, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে হবে না। আর সবকিছু স্বাভাবিক না হলে অর্থনীতির গতিও স্বাভাবিক হবে না। করোনার প্রধান দাওয়াই হচ্ছে টিকা। ব্যাপকভাবে টিকাকরণের ওপর তাই সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে আসন্ন বাজেটে।

টিকা দেয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবেমহামারি করোনাভাইরাসের আঘাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও তছনছ হয়ে গেছে। পাল্টে গেছে সব হিসাব-নিকাশ।

অদৃশ্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। যতদিন এই ভাইরাসটিকে তাড়ানো না যাবে, ততদিন কোনো কিছুতেই স্বস্তি আসবে না। আর এ জন্য প্রয়োজন দেশের সব মানুষের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

সে কারণেই নতুন বাজটে সরকারের টিকাকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

‘স্বাস্থ্য ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে’—এই ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং টিকাকরণের জন্য এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অবশ্যই বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। করোনা সংক্রমণ কতদিন চলবে, তা কেউ জানে না। কাজেই করোনা নিয়ন্ত্রণই এ মুহূর্তে সবার কাছে প্রধান আকাঙ্ক্ষা।

করোনা থাকলে যোগাযোগ, যাতায়াত, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে হবে না। আর সবকিছু স্বাভাবিক না হলে অর্থনীতির গতিও স্বাভাবিক হবে না। করোনার প্রধান দাওয়াই হচ্ছে টিকা। ব্যাপকভাবে টিকাকরণের ওপর তাই সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে আসন্ন বাজেটে।

টিকা কেনা বা দেশে বানানো, প্রক্রিয়া যাই হোক না কেন, টিকার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই টিকা ব্যাপকভাবে প্রয়োগের জন্যও উদ্যোগ থাকতে হবে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটে টিকাকরণকে আমি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে চাই।

জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর, আইসিইউ, অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধা, এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান মেশিন ইত্যাদির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা খাতকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখতে হবে। গত বছরের মার্চ মাস থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবক সবাই প্রায় দিশেহারা। দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্মার্ট ফোন, ট্যাব, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি সব শিক্ষার্থীর জন্য সুলভ করতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী করোনায় নতুন বাস্তবতা বা নিউ নরমালের সঙ্গতি বিধান করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য জাতীয় আয়ের অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষায় খরচ করতে হবে।

সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে বরাদ্দ দুর্ঘটনা রোধে ব্যবহার করতে হবে। সড়ক উন্নয়ন, নৌ ও রেলপথের বিস্তৃতি ও উন্নয়ন ইত্যাদির পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক যন্ত্রপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

সড়কের মান ও জনঘনত্ব বিবেচনায় যান চলাচলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এমন প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে নির্দিষ্ট গতিসীমা অতিক্রম করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই যানবাহনের বিস্তারিত তথ্য (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইত্যাদি) নথিভুক্ত হয় এবং সেই যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

যুবদের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ করে দেওয়া যায়। কোন দেশে কোন ধরনের দক্ষ শ্রমিক দরকার তা জেনে সেই অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বেকার সমস্যার যেমন সমাধান হবে, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও আসবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতেও বাজেট বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি গবেষণা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। সংক্রামক ব্যাধি ও রোগ নিয়ন্ত্রণ, কৃষি গবেষণা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশে আরও বাজেট বাড়ানো দরকার।

কৃষকরা ধান মাড়াই করার সময় শ্রমিক পায় না। তারা যেন সস্তায় ধান মাড়াই যন্ত্র কিনতে পারে, তাহলে অনেক বেশি লাভবান হতে পারে। এসব দিকে নজর দেয়া দরকার। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারেও নজর দিতে হবে।

আয়করের হার কমাতে হবে। কর-ছাড় পাওয়ার যে ধারাগুলো চালু করলে গরিব ও মধ্যবিত্তরা উপকৃত হয়, তা কার্যকর করতে হবে। গরিব-মধ্যবিত্তদের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে।

বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের (বিয়ে, জন্মদিন, অন্যান্য দাওয়াত) ওপর কর ধার্য এবং বিত্তবানদের ওপর অধিক হারে কর আদায়ের মতো সৃজনশীল উদ্যোগ নিতে হবে।

কর প্রদানের পদ্ধতি সহজ ও ডিজিটাল করতে হবে।

জিনিসপত্রের দাম যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষকে যেন নাকাল হতে না হয়, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা বাজেটে অবশ্যই থাকতে হবে।

চাল, ডাল, আলু, তেল লবণ ও পেঁয়াজ এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যেন কোনো অবস্থাতেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

চিররঞ্জন সরকার: ব্র্যাকের উন্নয়নকর্মী

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুর রহিম হারমাছি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে

ঘাটতি বাজেট শুধু দায় নয়, আয়ও সৃষ্টি করে

অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদ বাবদ এবারের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। গত পাঁচ অর্থবছরে এ খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা দিয়ে ৯টি পদ্মাসেতু তৈরি করা যেত।

ঘাটতি না উদ্বৃত্ত বাজেট – এ বিতর্ক বহু পুরোনো। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই বর্তমানে ঘাটতি বাজেট করা হয়। বাংলাদেশ শুরু থেকে এ নিয়ম অনুসরণ করে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করে আসছে।

তবে এবারের বাজেটে যে ঘাটতি ধরা হয়েছে, তা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মূলত, করোনাকালে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙা করতে ধার করে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে ঘোষণা করা হয় প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট।

তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক অর্থসচিব ড. আকবর আলি খান রচিত বাংলাদেশে বাজেট অর্থনীতি ও রাজনীতি বইয়ে বলা হয়েছে: ‘ইতিহাস বলে বেশির ভাগ সময়ই রাজাদের অর্থাভাব ছিল। আয় ও বেশি ব্যয়ের ফলে আর্থিক অনটনের সমস্যা দেখা যেত।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন ঘাটতি বাজেট করা হয়। বাংলাদেশে বাজেট ঘাটতি সহনীয় থাকলেও করোনার অভিঘাতে তা বেড়ে যায়। এ ছাড়া আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, যে কারণে বাজেট অর্থায়নে ধার বা ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অর্থনীতিতে ঘাটতির প্রভাব নিয়ে তর্ক আছে। যারা এর বিপক্ষে, তাদের মতে, বাজেট ঘাটতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বোঝা সৃষ্টি করে। কারণ, ঋণের প্রতিটি টাকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শোধ করতে হবে।

তাদের মতে, অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কর হার কমিয়ে বেসরকারি খাতকে সুবিধা দিতে হবে, যাতে তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়।

অপরদিকে যারা ঘাটতি বাজেটের পক্ষে তাদের মতে, ঘাটতি হলেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং ব্যয় বেশি করলে উৎপাদন কর্মকাণ্ড বেগবান হবে। ফলে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান।

ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ঘাটতি শুধু দায় সৃষ্টি করে না। ঘাটতি দিয়ে যদি অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হয়, তা হলে আয়ও সৃষ্টি করতে পারে।’

ঋণের সুদের পেছনে ব্যয়

বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় ঋণের সুদ পরিশোধে। এটা এখন মোট বাজেটের ১৮ শতাংশের বেশি। প্রতি বছর বাজেটে এই বরাদ্দ বাড়ছেই। এবার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সুদ পরিশোধে মোট বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করা হবে। বাকি ১০ শতাংশ বিদেশি ঋণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি ধরা হয়েছে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে।

যে অর্থবছরটি শেষ হতে যাচ্ছে, তাতেও ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ। তবে অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, চূড়ান্ত হিসাব শেষে এই ঘাটতি কমবে।

কারণ, অর্থবছরের শুরুতে সরকার ব্যয়ের বিশাল যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, শেষ পর্যন্ত তা খরচ করতে পারবে না।

সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা

জিডিপির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ঘাটতি ধরে বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়নের রেওয়াজ আছে। এতদিন তা মেনেই বাজেট ঘোষণা করে আসছিল সরকার।

কিন্তু করোনাকালে এই নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ঘাটতি ৬ শতাংশের বেশি ধরে দুটি বাজেট দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে: বেশি বেশি খরচ করে মন্দায় অচল অর্থনীতিকে চাঙা করা।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ অর্থবছরে ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা, যা দিয়ে ৯টি পদ্মা সেতু বানানো যেত। পাঁচ বছরে এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বিদ্যমান বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির চেয়ে বেশি।

পাঁচ বছরে ঘাটতির চিত্র

অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৩ হাজার ৮২৩ কোটি কোটি টাকা।

এতে মূল বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৫৮ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। ওই অর্থবছর মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ৫ শতাংশ।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের শেষ সময়ে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

ওই বাজেটে সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৪৯ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। আর ঘাটতি ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

ওই বাজেটকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট বলে দাবি করেছিলেন মুহিত।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশ।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, মূল বাজেট ঘোষণার পর সংশোধন করা হয়। অর্থবছর শেষে দেখা যায়, সংশোধিত বাজেটও ঠিকমতো খরচ হয় না। ফলে প্রকৃত খরচেরে পর ঘাটতি কমে আসে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে দুর্বলতার কারণেই বাজেট ঘাটতি পূরণে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এতে উদ্ধিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

কারণ, করোনাকালে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, ভোগ ব্যয় বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙা করা। এ জন্য ঋণের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষাসহ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করার পরামর্শ দেন তারা।

সাবেক অর্থউপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাটতি বেশি হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না আমি। এখন আমাদের বেশি বেশি খরচ করতে হবে ধার করে। তবে এই টাকা ব্যয় করতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অবকাঠামো খাতে। এর ফলে নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

বিদেশি ঋণ সস্তা

বিদেশি ঋণের সুদ হার নমনীয় হওয়ায় এটি বেশি করে সংগ্রহের পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদরা। যে পরিমাণ ঋণ জমেছে, তার বিপরীতে বছরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার সুদ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে।

তবে এ কথাও সত্যি, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে। এ কারণে ঋণের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফ-এর সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদের হার অনেক বেশি, গড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ। আর বিদেশি ঋণের জন্য মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। অর্থাৎ দেশীয় ঋণের খরচ অনেক বেশি। এ কারণেই দেশি ঋণে সুদ অনেক বেড়ে যায়।’

সক্ষমতা বেড়েছে

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রেডিট রেটিংও ভালো।

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা অনেক ভালো। ঋণ-অনুপাত জিডিপির ৪০ শতাংশের নিচে। এ ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থানে আছি।

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ঋণ একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও কয়েক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ কখনও খেলাপি হয় নি। ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দিতে আগ্রহী।

শেয়ার করুন

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন

২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বরিশালে মানববন্ধন করেছে সাত শ্রমিক সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে। এটি দুর্নীতিবাজদের সুযোগ দেয়ার বাজেট। বাজেট বিলাসী ও লুটেরা মুক্ত করতে হবে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বরিশালে মানববন্ধন করেছে সাতটি শ্রমিক সংগঠন।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই মানববন্ধন হয়।

সেখানে বক্তারা শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করে বিবেচনার আহ্বান জানান।

বরিশাল মহানগর দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন দত্ত এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক আবুল বাসার, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা কিশোর বালা, শ্রমিক নেতা তুষার সেন, আকতার রহমান স্বপনসহ অনেকে।

এ কে আজাদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে। এই বাজেট দুর্নীতিবাজদের সুযোগ দেয়ার বাজেট।

বাজেট প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বাজেট বিলাসী ও লুটেরা মুক্ত করতে হবে। এটি পরনির্ভরশীল ও দুর্নীতিবাজ কালো টাকার মালিকদের বাজেট হয়েছে, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা নেই, সামাজিক সুরক্ষায় দুস্থ, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের কোনো ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি ৫৬ লাখ শ্রমিক উপেক্ষিত। বিদেশ ফেরত ৬ লাখ শ্রমিক এবং ২২ লাখ বেকার যুবকের চাকরির নিশ্চয়তা নেই। ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত করে শিক্ষাকে আরও বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে সিপিবি নেতা আজাদ বলেন, এই বাজেট গরিব মানুষের ব্যবহৃত নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করবে। এটি কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক ও প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্তরায়। বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের রেশনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, নারী ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মহানগর দর্জি শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি, জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, জেলা বস্তিবাসী ইউনিয়ন ও রিকশা ভ্যান ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

শেয়ার করুন

বেতন-ভাতায় খরচ বাড়ছে, সেবা বাড়ছে না

বেতন-ভাতায় খরচ বাড়ছে, সেবা বাড়ছে না

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতর বৃদ্ধির চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

১১ বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ। কিন্তু জনগণকে দেয়া তাদের সেবার মান বাড়েনি। কমেনি দুর্নীতি।

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোট ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ চলতি অর্থবছর থেকে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি।

প্রতিবছরই বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হলেও প্রশ্ন ওঠে; জনগণকে দেয়া তাদের সেবার মান কি বেড়েছে, কমেছে কি দুর্নীতি?

অর্থনীতিবিদ সাধারণ মানুষ একবাক্যে স্বীকার করেন, সরকারি সেবার মান বাড়েনি, দুর্নীতি তো কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল হোসেন একটি বাড়ি বানিয়েছেন তিন বছর আগে। এখনও সব ইউটিলিটি সেবার সংযোগ পাননি। দপ্তরে দপ্তরে দরখাস্ত দিয়ে ঘুরছেন। শুধু বাসা-বাড়ি নয়, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত শিল্প-কলকারখানায় সময়মতো অত্যাবশকীয় সেবা মিলছে না।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘আমাদের দেশে শিল্পায়নে এখনও বড় বাধা অবকাঠামো দুর্বলতা।’

প্রস্তাবিত অর্থবছরের বাজেটে সরকারি বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। বেতন-ভাতার বাইরে পেনশন খাতেও বিশাল অংকের ব্যয় হয়।

নতুন বাজেটে বেতন ভাতায় বরাদ্দ দেয় হয় ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা এবং পেনশন বাবদ ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৯৭ হাজার ৩২১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের সাড়ে ১৯ শতাংশ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, করপোরেট ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ জনপ্রশাসনে বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ চাকরিজীবী আছেন, যারা নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। আর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের সংখ্যা সাত থেকে আট লাখের মতো।

প্রতি বছর বাজেটে এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ নিয়ে সবার মনে একটি প্রশ্নই জাগে, সরকারি সেবার মানও কি বরাদ্দের সঙ্গে বাড়ছে?

একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, উত্তরটি হবে, নিশ্চয়ই না।

বলা হয়ে থাকে, সরকারি চাকরিজীবীরা অনিয়ম আর দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে দেশ। এর প্রধানতম কারণ, সরকারি খাতে কম বেতন। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, জনগণসহ সংশ্লিষ্টমহলের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর দাবি ওঠে।

এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে পে কমিশন গঠন করে, যাতে সরকারি খাতে বেতন আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের জন্য অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়। এ ছাড়া তাদের ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার জন্য অল্প সুদে ঋণ নেয়ার সুবিধা ও দেয়া হয়।

নতুন বেতন স্কেল (অষ্টম) ২০১৫ সালে পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছিল এবং এর জন্য সরকারকে তখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ করতে হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনের জন্য বাজেটে ২৬ হাজার ৮২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নতুন বেতন স্কেল চালু হওয়ার পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৪৩ কোটি টাকায়।

এর পর থেকে প্রতিবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছেই।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেতন-ভাতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৬৬ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকার মধ্যে ভাতা ৩৩ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতন বাবদ ২৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ও কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ ১১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।

বর্তমানে ২০টি গ্রেডে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গ্রেড-১ সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের (২০তম গ্রেড) মূল বেতন ৮ হাজার ২৬০ টাকা।

এর বাইরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, বেতন বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা যায় যে, সেবার মান বাড়বে এবং দুর্নীতি কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষক, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেতন বাড়লেই যে দুর্নীতি কমবে, তার সাথে আমি একমত নই। মানুষ দুর্নীতি করে অভাবের কারণে নয়। ঘুষ নেয়া যাদের অভ্যাস হয়ে গেছে, তাদের বেতন বাড়িয়ে দিলেও এ অভ্যাস থেকে বের হতে পারবে না।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া এবং যতটা সম্ভব কর্মকাণ্ডকে ডিজিটালাইজ করা হলে দুর্নীতি রোধ করা যাবে বলে মত দেন এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষক।

‘বিশ্ব প্রতিযোগিতার সক্ষমতার’ সবশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সেবা খাত আরও নিচে নেমে গেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এর দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২০-এ বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ শুধুমাত্র আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।

বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ নিচের দিক থেকে ১২তম স্থান দখল করেছে। সূচকে উচ্চক্রম (ভালো থেকে খারাপের দিকে) অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে বাংলাদেশের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুরের মতে, পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছে সরকার। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল দেখা যায়নি। দুর্নীতিও কমেনি। বাড়েনি সরকারি সেবার মান।

তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা নিচ্ছে, সরকারের উচিত তাদের ওপর প্রতিবছর নির্দিষ্ট সেবা বিষয়ে জরিপ করা। এটা করা হলে সেবার মান বাড়াতে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর চাপ বাড়বে।

১১ বছরে বেতন-ভাতার খরচ বৃদ্ধি ২৩০%
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ২১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। আর নতুন বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭০ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। এ প্রস্তাব ঠিক রেখে বাজেট পাস হলে ১১ বছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ গুণ হবে। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে ২৩০ শতাংশ বাড়ছে।

নানা ধরনের ভাতা

সরকারি চাকরিতে নানা ধরনের ভাতা রয়েছে। যেমন ধোলাই ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ও দুর্গম ভাতা, বিশেষ ভাতা, অবসর ভাতা, কিট ভাতা, রেশন ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, ক্ষতিপূরণ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, ইন্টার্নি ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা, মহার্ঘ্য ভাতা, অধিকাল ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা ইত্যাদি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সব ভাতা সবাই পান না।

এর মধ্যে দেশের ভেতরে ভ্রমণ ভাতা দেয়া হয় এলাকা ও কিলোমিটার অনুযায়ী। বিদেশে ভ্রমণে করলে প্রতিদিনের থাকা-খাওয়ার জন্য ভাতা দেয়া হয়। আর বিশেষ ভাতা দেওয়া হয় বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের।

শেয়ার করুন

বাজেটে টিকার বরাদ্দ ‘যথেষ্ট নয়’

বাজেটে টিকার বরাদ্দ ‘যথেষ্ট নয়’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেও টিকাপ্রদান প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে রপ্তানির প্রধান বাজারগুলো হারাতে হবে। তাই, এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মধ্য দিয়েই বাজেট পাস করতে হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রেহাই পেতে প্রস্তাবিত বাজেটে টিকার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখার হয়েছে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেও টিকাপ্রদান প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে রপ্তানির প্রধান বাজারগুলো হারাতে হবে। তাই, এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর মধ্য দিয়েই বাজেট পাস করতে হবে। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা (রোড ম্যাপ) নিয়ে কাজ করতে হবে।

রোববার ঢাকায় ২০২১-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় এফবিসিসিআই প্রধান এ দাবি করেন।

ঢাকায় কর্মরত অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এই আলোচনার আয়োজন করে। ‘রিফ্লেকশনস অন দ্যা বাজেট ২০২১-২২’ শিরোনামে এই আলোচনায় এফবিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে একমত পোষণ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ও এফবিসিসিআই সভাপতি ছাড়াও পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্স পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ, ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভীর ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

টিকায় জোর দেয়া জরুরি মন্তব্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মান্নান বলেন, ‘বাজেটকে বিজনেস ফ্রেন্ডলি বলে অনেকেই বলছেন। আমরা বিজনেস সহায়ক সরকার। বিজনেসটা প্রায়রিটি দিতে হবে তা আমরা বুঝি। ব্যবসায়ীদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।

‘ভ্যাকসিন নিয়ে সবাই কথা বলছেন। ভ্যাকসিন না নিলে, হার্ড ইমিওনিটি না হলে আমাদের বায়াররা এখানে আসবে না। এটা হলে আমরা কোথায় যাব? আমার মনে হয়, এ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে আমি মনে করি।’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম বলেন, ‘বাজেটে করপোরেট করহারে ছাড়ের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। তবে বাজেটটি এমন সময় হয়েছে যখন আমাদের সামনে করোনা সংকট থেকে উত্তোরণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রণোদনার পাশাপাশি ভ্যাকসিনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

‘আমাদের ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া শেষ না হলে বায়াররা আসবেন না। ভ্যাকসিন দিতে না পারলে আমাদের সঙ্গে বায়ার দেশের বিমান চলাচলও স্বাভাবিক থাকবে না। ফলে রপ্তানি বাজার হারানোর শঙ্কা রয়েছে।’

‘এলডিসি গ্রাজুয়েশন উত্তোরণ পরবর্তীতে সময়কে মাথায় রেখে বাজেটটি প্রণয়ন হওয়া দরকার ছিল। কয়েক বছর ধরেই আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ কম। পেটেন্ট সুবিধা হারালে আমাদের জন্য অনেক কিছুতে চ্যালেঞ্জ আসবে।’

কর সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এটিআইটি বাতিলের কথা বলেছিলাম। এটি ব্যবসায়ীদের মূলধন আটকে দেয়। কিন্তু সরকার কিছু পণ্যে ২০ শতাংশ এটিআইটি দিয়েছে। অনেক পণ্যে অ্যাডভান্স ভ্যাট রাখা হচ্ছে। এগুলো থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।’

টিকাপ্রদান জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে মন্তব্য করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিনেশনে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এটি বাড়াতে হবে। ভ্যাকসিনেশনে পিছিয়ে থাকলে রপ্তানিতেও পিছিয়ে যেতে হবে।’

বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটেনি উল্লেখ করে ফারুক হাসান বলেন, ২০১৯-২০ সালে তেমন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। বিশেষ করে করোনার সমেয়ে তো বিনিয়োগ একেবারেই হয়নি। রপ্তানি কয়েক মাস খারাপ থাকার পর তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্স বেশ ভালো। সরকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রজেক্টগুলো চলেছে। ফলে অর্থনীতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ব্যক্তি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সেভাবে হয়নি।

প্রস্তাবিত বাজেটে টিকার জন্য বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি যথার্থ নয় উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবিলায় থোক বরাদ্দের সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকাও ব্যবহারের পরামর্শ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনেশন না হলে আমাদেরকে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। ফলে যতদ্রুত সম্ভব মানুষকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করার দরকার ছিল স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায়। কিন্তু হয়নি। বরাদ্দ আগের বছরের মতোই থেকেছে। এখন ভ্যাকসিনিশেনটা মূল চ্যালেঞ্জ। ভ্যাকসিনটা অতি জরুরি দরকার।

আবু ইউসুফ বলেন, ‘পেনডেমিক চ্যালেঞ্জ, এলডিসি গ্রাজুয়েশন উত্তোরণ, এসডিজি গোল অর্জন এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সামনে রেখে বাজেট ঘোষিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এই লক্ষ্যগুলো ঠিক রেখে প্রণয়নের দরকার ছিল।’

তিনি বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ১ শতাংশের মতো। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এটি ২ শতাংশ করার কথা বলা রয়েছে। ফলে বাজেটে এর বাস্তবায়ন নেই। সিএমএইচসহ ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলের মতো জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল স্থাপন করা দরকার। আর সেজন্য বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ দরকার।

শেয়ার করুন

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারদের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা

ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবার ঠিকাদারদের জন্য দুঃসংবাদ। ঠিকদারি ব্যবসাসহ সরবরাহ পর্যায়ে ‘উৎসে কর’ হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে এ খাতের জন্য উৎসে কর কাঠামোর স্তরে আনা হয়ছে পরিবর্তন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাকালে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঠিকাদারি ব্যবসা কোনোরকম টিকে আছে। নতুন বাজেটে বর্ধিত হারে উৎসে কর কার্যকর হলে এ ব্যবসা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়কর খাতে আদায়ের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আসে উৎসে কর থেকে। মোট আয়করের ৬০ শতাংশ আসে উৎসে কর থেকে। এর মধ্যে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসার অবদান ৩০ শতাংশ।

বর্তমানে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকে মেয়াদি আমানত বা এফডিআই, রপ্তানি, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাভেল এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ কমিশনসহ ৫৮টি খাত থেকে উৎসে কর আদায় করে সরকার। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎসে কর আসে ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে কর হার গড়ে ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তরের পরিবর্তে তিনটি স্তরে উৎসে কর আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির অন্যতম খাত নির্মাণশিল্পে ব্যবহৃত রড ও সিমেন্টের দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। পাথর, ইলেকট্রিক্যাল কেব্‌লসহ অন্যান্য উপকরণের দাম গড়ে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এসব কারণে নির্মাণশিল্প এমনিতেই স্থবির। তার ওপর ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসায় উৎসে কর বাড়ানোর ফলে এ খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএসিআই) সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল হক তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় দেশের নামি-দামি অনেক ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। যারা নতুন, তাদের অনেকেই খেলাপির খাতায় নাম লিখিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে করের বোঝা আরও চাপানোর ফলে এ ব্যবসা ব্যাপক চাপে পড়বে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলা অবস্থা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মককর্তা বলেন, তারা এ ক্ষেত্রে উৎসে কর কাঠামোতে কিছুটা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করেছেন। এই কর প্রস্তাব কার্যকর করলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে, বাড়বে বড় ব্যবসায়ীদের ওপর।

এবারের বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ৫০ লাখ টাকার বেশি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তন হবে ৩ শতাংশ, ৫০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত কাজে ৫ শতাংশ এবং এবং ২ কোটি টাকার বেশি কাজের বেলায় ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।

ঠিকাদারি ও সরবরাহকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তাদের মুনাফা গড়ে ১০ শতাংশ। উচ্চ হারে উৎসে কর কর্তন করা হলে ব্যবসায় আর কিছুই থাকবে না।

ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য বর্তমান করকাঠামোই বহাল রাখার দাবি জানান বিএসিআইএর সভাপতি সফিকুল হক তালুকদার।

বর্তমানে এ খাতে সর্বোনিম্ম উৎসে কর হার ২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ঠিকাদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত।

সরকারি উন্নয়ন কাজের বা এডিপির ৯৫ শতাংশই করে থাকে ঠিকাদার ব্যবসায়ীরা। নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অসংখ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের আদেশ পাওয়ার পরও মাসের পর মাস বসে আছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কাজই শুরু করতে পারছে না তারা। এ অবস্থায় বাড়তি করের চাপ এ খাতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

পাঁচ বছরেও উৎসে কর খাতে সংস্কার নেই

২০১৬ সালে উৎসে কর বিষয়ে একটি সমীক্ষা করেছিল এনবিআর। এতে বলা হয়, উৎস কর আহরণে বড় গলদ রয়েছে।

এই দুর্নীতি বন্ধে উৎসে কর আদায় বাড়াতে একটি সংস্কার কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে। এতে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে উৎসে কর আদায়ের পরিকল্পনা নেয়া হয় এবং বিছিন্নভাবে আদায় না করে কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর আহরণের কথা বলা হয়। এ জন্য আলাদা একটি কর অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

কিন্তু পাঁচ বছরেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় নি।

নির্মাণশিল্প রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি

বিপর্যয়ের মুখ থেকে নির্মাণখাত রক্ষায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই)। তাতে এ খাতের সংকট উত্তরণে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

এসব দাবির মধ্যে আছে: সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী সকল কাজে মূল্য সমন্বয় (প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট) চালু করা, সরকারি পরিপত্র জারি করে চলমান প্রকল্পের মূল্য তারতম্য (ভেরিয়েশন) সমন্বয় করা, এমএস রড় ও সিমেন্টের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা ও নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর জন্য অতি দ্রুত শুল্কমুক্ত রড সরকারি বিপণনকারি সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করা।

শেয়ার করুন

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নিচ্ছে না কেউ

প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। ফাইল ছবি

এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেননি।

৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিল মাস শেষে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রণোদনার ঋণ ছাড়া অন্য কোনো ঋণ নিচ্ছে না কেউ।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যের কিনারায় পড়ে আছে।

বছরের শেষ দুই মাস মে ও জুনেও উন্নতি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দেয়ার পর থেকে নতুন ঋণ বিতরণ হচ্ছে না বললেই চলে; সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকই এখন প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করছে। ঋণ বিতরণ যেটা বেড়েছে, সেটা আসলে প্রণোদনার ঋণে ভর করেই বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ; গত অর্থবছরের এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিল শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল শেষে এর পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে ৮৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

আর এই এক বছরে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এতেই বোঝা যায়, মহামারিকালে নতুন কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি; সামান্য কিছু যা বিতরণ হয়েছে, তা চলমান কিছু ভালো প্রকল্পের ঋণ।

গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার এখন পর্যন্ত ২৩টি প্যাকেজের আওতায় মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এই এক বছরের পুরোটা সময় ধরেই ছিল করোনাভাইরাস মহামারির ধকল। সেই ধাক্কায় নতুন ঋণ বিতরণ করতে সাহস পায়নি ব্যাংকগুলো। উদ্যোক্তারাও ঋণ নিতে এগিয়ে আসেনি।

তবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, মহামারির ধাক্কায় গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। এরপর সরকারের প্রণোদনা ঋণে ভর করে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। আগস্টে তা আরও বেড়ে ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশে এবং সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে।

কিন্তু অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি কমে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ হয়। ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়।

২০২১ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫১ ও ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সরকারি ঋণপ্রবাহেও একই হাল

প্রবৃদ্ধি কমেছে সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহেও। এপ্রিল শেষে সরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের অঙ্ক ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে এই এক বছরে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এই ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও এই একই লক্ষ্য ধরা ছিল, বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, প্রণোদনার ঋণ ছাড়া ব্যাংকগুলো এখন অন্য কোনো ঋণ বিতরণ করছে না। কোভিড-১৯-এর কারণে বিশেষ ছাড়ে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণের কিস্তিও আদায় করেনি ব্যাংকগুলো। সে কারণে নতুন ঋণ বিতরণের টাকাও নেই অনেক ব্যাংকের।

তিনি বলেন, ‘তাই, মাঝে প্রণোদনার ঋণের কারণে কয়েক মাস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও এখন তা আবার কমে এসেছে। এখন সেটা কতটা কমবে; সেটাই উদ্বেগের বিষয়।’

গত বছরের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ; যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে এপ্রিল মাস শেষে দেশে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

গত বছরের এপ্রিল শেষে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। আর সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

এ হিসাবেই এপ্রিল শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সরকারি ঋণের ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ; আর বেসরকারি খাতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন ঋণের চাহিদাই নেই। সাম্প্রতিককালে যেসব খাতে ভালো ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি শেষ অবধি কোথায় গিয়ে ঠেকে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- সে জন্য উদ্যোক্তারা অপেক্ষা করছেন।’

শেয়ার করুন

নতুন বাজেটে বেগবান হবে দেশীয় ব্র্যান্ড: এম এ রাজ্জাক

নতুন বাজেটে বেগবান হবে দেশীয় ব্র্যান্ড: এম এ রাজ্জাক

এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি ও মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ

এফবিসিসিআই-এর সহ সভাপতির মতে, স্থানীয় শিল্পের জন্য বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোয় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত ফ্রিজ, এসি, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সেই সঙ্গে এসব পণ্যের দাম কমার সঙ্গে মানও ভালো হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান ও বাংলাদেশি ব্র্যান্ড তৈরির স্বপ্ন সুসংহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সহ সভাপতি ও মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ। বলেছেন, দেশি ব্র্যান্ড তৈরির অগ্রযাত্রার পথে নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে এবারের বাজেট।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের জন্য বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোয় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত ফ্রিজ, এসি, ব্লেন্ডারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সেই সঙ্গে এসব পণ্যের দাম কমার সঙ্গে মানও ভালো হবে।

ব্যবসায়ীদের এই নেতার মতে, দেশীয় শিল্প বিকাশের জন্য ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প, ওষুধ শিল্প, কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, খেলনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগি মাছের খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্যানিটারি ন্যাপকিন অর্ডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ নানান শিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। এতে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতিও বাড়বে।

নতুন বাজেট দেশীয় শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব হলেও দরকার নীতির ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দেন রাজ্জাক।

এবারের বাজেটে শিল্পের ১৯টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা থাকছে। তার মধ্যে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর (এআইটি) এক শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রিজার, রেফ্রিজারেটর ও এর কম্প্রেসারের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। এয়ারকন্ডিশনার ও এর কম্প্রেসার, মোটর কার ও মোটর ভেহিক্যাল উৎপাদনেও বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। তাছাড়া, দেশীয় গৃহস্থালি কাজের জন্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য বিশেষ করে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রনিক কেটলি, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার পেসার কুকারে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে। একই সুবিধা দেয়া হয়েছে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রনিক ওভেনের স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে।

দেখা যায়, ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশে কর্পোরেট কর হার কম এবং কর কাঠামো সহজ। ভারতে করপোরেট কর হার দুটি। বড় কোম্পানির জন্য ৩০ শতাংশ এবং স্থানীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে কর্পোরেট কর হার যথাক্রমে ২৮ ও ৩০ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে একটিমাত্র কর্পোরেট কর হার এবং তা মাত্র ১৩ শতাংশ। এটা বিবেচনা করেই সরকার এবারের বাজেটে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

বর্তমানে দেশের উদীয়মান শিল্প হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক শিল্প। এ শিল্প বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করছে। ফলে এ শিল্পকে আরও চাঙ্গা রাখতে ফ্রিজ, টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনসহ এসব পণ্য দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স শিল্প মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। আবার যারা এসব কারখানা স্থানীয়ভাবে স্থাপন করবেন, তাদের জন্য ১০ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধা (ট্যাক্স হলিডে) দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে এ বাজেটে।

বাজেটে সরকারি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ২৫ শতাংশ হতে ২২.৫ শতাংশ, নন-তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩২.৫ শতাংশ হতে ৩০ শতাংশ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর ব্যাংকের মতো করার মাধ্যমে শিল্প খাতকে আরও সম্প্রসারিত করতে সরকার যে শিল্পবান্ধব বাজেট নিয়ে এসেছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানান রাজ্জাক। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে দেশীয় শিল্পখাত। কারণ, দেশীয় শিল্প ঘুরে দাঁড়ালে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকা- তৈরি হবে -কর্মসংস্থান বাড়বে-উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি বলেন, করোনাকালের বাজেট শিল্পবান্ধব হওয়ায় দেশীয় শিল্প খাতের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ব্যাপক সুবিধা পাবে এবং মার্কেটেরও প্রসার হবে। কিন্তু এই শিল্পগুলোকে শুধু দেশের ভেতরে না রেখে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে হবে।

শেয়ার করুন