এবার জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনী ভার্চুয়াল ও সশরীরে

এবার জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনী ভার্চুয়াল ও সশরীরে

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছে ছিল ২৪তম জাতীয় সম্মেলন সরাসরি ও ভার্চুয়ালি দুই ভাবেই আমরা এটির আয়োজন করবো। ভার্চুয়ালি তো অবশ্যই হবে। সশরীরে হয়তো শুরু থেকে আমরা রাখতে পারবো না, যদি লকডাউন হয়। কিন্তু আমরা আশা করছি যখনই লকডাউনটা শিথিল হবে তখন থেকে আমরা এই প্রদর্শনীটা সশরীরের দেখাতে পারব।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের মাসব্যাপী জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ভার্চুয়াল ও সশরীর দুভাবেই আয়োজনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমি। যতদিন লকডাউন থাকবে ততদিন প্রদর্শনী হবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে; পরিস্থিতি শিথিল হলে প্রদর্শনী হবে সশরীরে।

জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি থেকে রোববার বিকেলে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল ২৪তম জাতীয় সম্মেলন সরাসরি ও ভার্চুয়ালি দুভাবেই আয়োজন করব। ভার্চুয়ালি তো অবশ্যই হবে। সশরীরে হয়তো শুরু থেকে আমরা রাখতে পারব না, যদি লকডাউন হয়। কিন্তু আমরা আশা করছি যখনই লকডাউনটা শিথিল হবে তখন থেকে আমরা প্রদর্শনীটা সশরীরের দেখাতে পারব।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান, এই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে ৭৮৬ জন শিল্পীর সহস্রাধিক শিল্পকর্মের আবেদন পরে। সেখান থেকে ৩২৩ জন শিল্পীর ৩৪৭টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

শিল্পকর্ম নির্বাচক মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন শিল্পী মামুন কায়সার, শিল্পী মাহমুদা বেগম, শিল্পী মোসলেম মিয়া, শিল্পী স্বপন কুমার শিকদার ও শিল্পী ফারুক আহমেদ মোল্লা।

এসব শিল্প কর্মের মধ্য রয়েছে ১৫৭টি চিত্রকলা, ৫৩টি ছাপচিত্র, ১৭টি আলোকচিত্র, ৪৭টি ভাস্কর্য, ১০টি প্রাচ্যকলা, ৭টি মৃৎশিল্প, ২০টি কারুশিল্প, ৫টি গ্রাফিক্স ডিজাইন, স্থাপনা শিল্প ১৮টি, নিউ মিডিয়া আর্ট ৭টি এবং পারফরমেন্স আর্ট ৬টি।

এ বছরই প্রথম ১১টি মাধ্যমে আলাদা আলাদা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্প কলা অ্যাকাডেমির শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

মাধ্যম ভিত্তিক শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা এবং সকল মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা, একটি গোল্ড মেডেল, একটি ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

এ ছাড়া ৫টি সম্মান সূচক পুরস্কারও দেয়া হচ্ছে। যার প্রতিটি মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা করে।

পুরস্কার প্রদানের জন্য নির্বাচক জুড়ি কমিটির সদস্য ছিলেন, শিল্পী আবদুল মান্না, শিল্পী আবুল বারক আলভী, ফরিদা জামান, মোস্তফা শরীফ আনোয়ার, সৈয়দা মাহমুদা করিম ও শিল্পী মোস্তফা জামান।

জাতীয় চিত্রশালার ১, ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারিতে ২৯ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, গ্যালারিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রদর্শনী করার যে সিদ্ধান্ত ছিল, সেটি অবশ্যই সরকারের নির্দেশাবলি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হবে। যদি লকডাউন বা শাটডাউন দেয়া হয় সেই সময়টা অবশ্যই সশরীরে প্রদর্শনী দেখা যাবে না। তবে ভার্চুয়ালি ঘরে বসে সারা পৃথিবীর যে কোনো জায়গা থেকেই এই প্রদর্শনী আমরা দেখতে পারব।

শিল্পকলা একাডেমির ওয়েব সাইট (shilpakalaacademy.portal.gov.bd) ও ফেসবুক পেজ (www.facebook.com/shilpakalapage) থেকে ভার্চুয়ালি এই প্রদর্শনীটি দেখা যাবে।

২৯ জুলাই ভার্চুয়ালি এই প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য