চলে গেলেন ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ মহিউদ্দিন আহমেদ

চলে গেলেন ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ মহিউদ্দিন আহমেদ

ইউপিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মাহরুখ মহিউদ্দিন সেই স্ট্যাটাসে জানান, মহিউদ্দিন আহমেদ প্রায় ২০ বছর ধরে মস্তিষ্কের রোগ পারকিনসনসে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সেরেও ওঠেন।

দেশের খ্যাতিমান প্রকাশক ও শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রতিষ্ঠাতা, ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ খ্যাত মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে মৃত্যু হয় ৭৭ বছর বয়সী এ প্রকাশকের।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন তার মেয়ে মাহরুখ মহিউদ্দিন।

মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা হবে।

মাহরুখ মহিউদ্দিন তার স্ট্যাটাসে জানান, মহিউদ্দিন আহমেদ প্রায় ২০ বছর ধরে মস্তিষ্কের রোগ পারকিনসনসে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সেরেও ওঠেন।

মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১৯৮১ সাল থেকে মোট ১৬ বার ইউপিএল ‘ন্যাশনাল বুক সেন্টার’ পুরস্কার পায়।

অ্যারিজোনার বেনসনে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি’র আন্তর্জাতিক কার্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে তাকে ‘পাবলিশিং ম্যানেজমেন্ট’ (প্রকাশনা ব্যবস্থাপনা) বিষয়ে ‘কালচারাল ডক্টরেট’ ডিগ্রি দেওয়া হয়।

মহিউদ্দিন আহমেদকে ২০১৪ সালে ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

প্রধানমন্ত্রীর শোক

এক শোকবার্তায় মহিউদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়নে আইজিপি

‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়নে আইজিপি

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে মঞ্চায়িত হয়েছে নাটক ‘অভিশপ্ত আগস্ট’।

‘‘এই নাটকটি যিনি লিখেছেন, যারা অভিনয় করেছেন সবকিছু মিলিয়ে ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ চমৎকার হয়েছে। এ নাটক একটি ঐতিহাসিক দলিল। এটি একটি ফ্যাক্ট বেইজড ডকুমেন্ট। প্রত্যেকেই খুব মর্মস্পর্শী অভিনয় করেছে। আমার মনে হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নিজেদেরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে। আমাদের পুলিশ নাট্য শিল্পীরা নাট্য সাহিত্যে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’’

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ মঞ্চায়িত হয়েছে।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের নাট্যদল নাটকটির মঞ্চায়ন করে। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘‘এই নাটকটি যিনি লিখেছেন, যারা অভিনয় করেছেন সবকিছু মিলিয়ে ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ চমৎকার হয়েছে। এ নাটক একটি ঐতিহাসিক দলিল। এটি একটি ফ্যাক্ট বেইজড ডকুমেন্ট। প্রত্যেকেই খুব মর্মস্পর্শী অভিনয় করেছে। আমার মনে হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নিজেদেরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে। আমাদের পুলিশ নাট্য শিল্পীরা নাট্য সাহিত্যে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’’

নাটক মঞ্চায়ন শেষে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ ১৫ আগস্টে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগস্ট মাস আমাদের কাছে খুব আবেগ ও কষ্টের মাস। আমরা এতোই দুর্ভাগা যে, বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

নাটকের মঞ্চায়ন সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অভিশপ্ত আগস্ট নাটকে সে সময়কার প্রকৃত ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মঞ্চে এ নাটক প্রদর্শনের চেষ্টা করব।

‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়নে আইজিপি


১৫ আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যসহ স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে রাজারবাগে যেসব পুলিশ সদস্য নিহত হন, তাদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ডিএমপি কমিশনার।

নাটকটির গবেষণা ও তথ্য সংকলক ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজারবাগ থেকে প্রথম প্রতিরোধ করেছে পুলিশ। প্রথম রক্ত দিয়েছে পুলিশ, প্রথম শহীদ হয়েছে পুলিশ। ১৫ আগস্ট কালরাতে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে তা এখন ইতিহাসের পাতায়।

‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়নে আইজিপি


‘আমরা এই বিষয়টি তুলে ধরার জন্য জাতির পিতার জীবন ও কাজ নিয়ে আমাদের পুলিশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। ১৫ আগস্টের ঘটনায় হত্যা মামলার নথিপত্র ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এ নাটকটি রচনা করা হয়েছে।’

‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহিদুর রহমান। নাটকটির প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদল।

শেয়ার করুন

বিতর্কিত শিল্পকর্ম ভারতে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

বিতর্কিত শিল্পকর্ম ভারতে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

তামিলনাড়ুর শৈব কবি ও ঋষি সমবন্দরের দ্বাদশ শতাব্দীর এই ভাস্কর্যও ফেরত পাঠাবে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: ন্যাশনাল গ্যালারি অফ অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল গ্যালারির পরিচালক নিক মিৎজেভিচ বলেন, ‘শিল্পকর্মগুলো ফেরতের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসের জটিল এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে।’

চুরি, লুট বা বেআইনিভাবে রপ্তানি করার অভিযোগ ওঠায় ভারতের ১৪টি শিল্পকর্ম ফিরিয়ে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল গ্যালারি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৯ কোটি টাকা মূল্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ওইসব শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ভাস্কর্য, ছবি এবং একটি পত্রফলক।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল গ্যালারির পরিচালক নিক মিৎজেভিচ বলেন, ‘শিল্পকর্মগুলো ফেরতের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসের জটিল এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে।’

শিল্পকর্মগুলোর একটি নিউ ইয়র্কের সাবেক আর্ট ডিলার ও অভিযুক্ত পাচারকারী ভারতীয় নাগরিক সুভাষ কাপুরের।

ভারতীয় শিল্পকর্ম বিদেশে পাচারসংক্রান্ত মামলার রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সুভাষ।

অস্ট্রেলিয়ায় শিল্পকর্ম পাচারের অভিযোগ আগেই প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল গ্যালারিতে থাকা ভারতীয় শিল্পকর্মের মধ্যে কয়েকটি দ্বাদশ শতাব্দীর। তামিলনাড়ুতে সে সময় চোলা সাম্রাজ্য শিল্পের ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করে।

সুভাষের কাছ থেকে পাওয়া বেশ কয়েকটি শিল্পকর্ম এরই মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

বিতর্কিত শিল্পকর্ম ভারতে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

২০০৯ সালে এই চিত্রকর্ম কেনে ন্যাশনাল গ্যালারি অফ অস্ট্রেলিয়া।

এগুলোর মধ্যে হিন্দু দেবতা শিবের একটি ব্রোঞ্জ মূর্তিও রয়েছে। ২০০৮ সালে ওই মূর্তিটি ৪২ কোটি টাকায় কেনে ন্যাশনাল গ্যালারি।

ন্যাশনাল গ্যালারির পরিচালক মিৎজেভিচ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘কয়েক মাসের মধ্যে ভারত সরকারের কাছে ১৪টি শিল্পকর্ম হস্তান্তর করা হবে।’

এদিকে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের হাইকমিশনার মনপ্রীত ভোহরা।

এ উদ্যোগকে ‘বন্ধুত্বের অসাধারণ নিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

উজান প্রকাশনের বই আলোচনা প্রতিযোগিতা

উজান প্রকাশনের বই আলোচনা প্রতিযোগিতা

কোরিয়ার বিশ ও একুশ শতকের উল্লেখযোগ্য কবিদের কবিতার সংকলন ‘কোরিয়ার কবিতা’ এবং একই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিকদের রচনার অনুবাদ সংকলন ‘কোরিয়ার গল্প’। এই দুটি বই নিয়ে আলোচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে উজান প্রকাশন।

বাঙালির পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে অনেক মিল আছে কোরীয় উপদ্বীপের সংস্কৃতির। অমিলও কম নেই। ঘনবসতির দিক থেকে রাজধানী ঢাকা যেমন, তেমনি আবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলও। দেশের অর্ধেক লোকই থাকে সিউলে।

যুদ্ধ ও সংগ্রামে কোরীয় উপদ্বীপ আমাদের এই বাংলার মতো বিভক্ত দুই ভাগে। তবে ভাগাভাগির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ ভিন্ন। দক্ষিণ কোরিয়া এখন উন্নয়ন ও গণতন্ত্রে আমাদের থেকে এগিয়ে।

সুবিচার, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানব উন্নয়ন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো দিয়ে এরই মধ্যে তারা নজর কেড়েছে বিশ্বের। ‘কেড্রামা’, ‘কেমুভি’ ও ‘কেপপ’ নামে কোরিয়ার নাটক, চলচ্চিত্র ও সংগীতের নানা উপাদান এখন ইন্টারনেট দুনিয়ার বহুল জনপ্রিয়। এই রকম একটি সময়ে নজর পড়ছে কোরিয়ার সাহিত্যের দিকেও।

কোরিয়ার সাহিত্য নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ সংকলন প্রকাশ করেছে উজান প্রকাশন। কোরিয়ার বিশ ও একুশ শতকের উল্লেখযোগ্য কবিদের কবিতার সংকলন ‘কোরিয়ার কবিতা’ এবং একই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিকদের রচনার অনুবাদ সংকলন ‘কোরিয়ার গল্প’।

এই দুটি বই নিয়ে আলোচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে উজান। তাদের এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে লিটারেচার ট্রান্সলেশন ইনস্টিটিউট অফ কোরিয়া।

এই প্রতিযোগিতায় এ বছর দুটি বইয়ের আলোচনা আহ্বান করা হয়েছে। ‘কোরিয়ার কবিতা’ ও ‘কোরিয়ার গল্প’ বই নিয়ে হবে এই আলোচনা। আলোচনায় সর্বোচ্চ পুরস্কার ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা। এই প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সর্বোচ্চ ১০ আলোচকের প্রত্যেককে দেয়া হবে ৫ হাজার টাকা মূল্যমানের বই।

আলোচনাগুলো বাছাই করবেন দেশের উল্লেখযোগ্য কবি, সাহিত্যিক ও অনুবাদকদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারক কমিটি। একজন একটি বই নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। আলোচনা বাংলাভাষায় লিখিত বা ভিডিও মাধ্যমে হতে হবে। অংশগ্রহণে ইচ্ছুকরা অনলাইনে ফরম পূরণ করতে করতে পারবেন এসব লিংকে www.ujaninfo.com, www.porospor.info

২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আলোচনা জমা দিতে হবে [email protected] এ। বিস্তারিত জানতে এবং বই সংগ্রহ করতে পারবেন www.ujaninfo.com, www.facebook.com/UjanPrakashan, https://www.facebook.com/UjanBooks থেকে।

শেয়ার করুন

‘একুশে পদক ২০২২’-এর মনোনয়ন আহ্বান

‘একুশে পদক ২০২২’-এর মনোনয়ন আহ্বান

আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মনোনয়ন বা প্রস্তাব সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

একুশে পদক ২০২২-এর জন্য মনোনয়ন আহ্বান করেছে সরকার। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মনোনয়ন বা প্রস্তাব সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রোববার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একুশে পদক প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য বছরের মতো ২০২২ সালেও সরকার কর্তৃক ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, চারুকলাসহ সকল ক্ষেত্র), মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, রাজনীতি, ভাষা ও সাহিত্য এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি (জীবিত/মৃত), গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে একুশে পদক প্রদান করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এ লক্ষ্যে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সকল জেলা প্রশাসক এবং স্বাধীনতা পদক/একুশে পদকে ভূষিত সুধীবৃন্দকে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২১-এর মধ্যে মনোনয়ন/প্রস্তাব সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এ-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি ও একুশে পদক নীতিমালা এবং মনোনয়ন প্রস্তাবের ফরম সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় (www.moca.gov.bd) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের (www.moi.gov.bd) ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলেও সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

করোনায় চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্তের প্রয়াণ

করোনায় চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্তের প্রয়াণ

প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত। ছবি: নিউজবাংলা

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন, অরবিন্দ দাশগুপ্ত কেবলমাত্র একজন গুণি চিত্রশিল্পীই ছিলেন না, তাকে সিলেট অঞ্চলের চিত্রশিল্পের পথিকৃতও বলা চলে। তিনি এই অঞ্চলের অসংখ্য তরুণকে চিত্র শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত।

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব এই শিল্পী। সেখানেই রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

এ খবর নিশ্চিত করে অরবিন্দের ছেলে শিল্পী ইসমাইল গনি হিমন বলেন, সিলেটের চালিবন্দরের মহাশ্মশান ঘাটে রোববার দুপুরে তার শেষকৃত্য হবে।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে স্নাতক শেষ করে শিল্পচর্চায় মনোনিবেশ করেন অরবিন্দ।

শিক্ষাজীবন শেষে নিভৃতচারী এই শিল্পী রাজধানীর জৌলুস ছেড়ে নিজ জন্মস্থান সিলেটে থিতু হন। সেখানে থেকে নিজের শিল্পচর্চার চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তরুণদের ছবি আঁকায় আগ্রহী করতে গড়ে তুলেন ‘চারুকলি’ নামের প্রতিষ্ঠান।

১৯৫৩ সালের মার্চে জন্ম নেয়া অরবিন্দ দাসের এ পর্যন্ত তিনটি একক চিত্র প্রদর্শনী ও বেশ কয়েকটি যৌথ প্রদর্শনী হয়েছে।

হিমন জানান, গত ২৬ জুন অরবিন্দ দাসগুপ্তের করোনা শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগে অরবিন্দের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হতে থাকে। রোববার সকালে তিনি মারা যান।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন, অরবিন্দ দাশগুপ্ত কেবলমাত্র একজন গুণি চিত্রশিল্পীই ছিলেন না, তাকে সিলেট অঞ্চলের চিত্রশিল্পের পথিকৃতও বলা চলে। তিনি এই অঞ্চলের অসংখ্য তরুণকে চিত্র শিল্পের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন।

মিশু বলেন, জীবনভর শিল্পে নিমগ্ন অরবিন্দ দাস নিজের জীবনের প্রতি ছিলেন চরম উদাসীন। ফলে সবসময়ই তাকে জীবিকার টানাপোড়েনে থাকতে হয়েছে। অসুখ-বিসুখও তার নিত্যসঙ্গী ছিল।

শেয়ার করুন

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক কবি নূরুল হুদা

মুহম্মদ নূরুল হুদা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

নূরুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতালার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি আমাকে যে গুরুদায়িত্বটা দিয়েছেন, আমি যেন সেটা ভালোভাবে পালন করতে পারি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে যে দায়িত্বটা এসেছে সেটা যেন সাফল্যের সঙ্গে পালন করতে পারি।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হয়েছেন কবি, ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ নূরুল হুদা। আগামী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার দেয়া এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কবি, ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ নূরুল হুদাকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম সম্পর্ক ছাড়ার শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ করা হলো।

গত ২৫ মে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর থেকেই শূন্য ছিল পদটি।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ৭১ বছর বয়সী নূরুল হুদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতালার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি আমাকে যে গুরুদায়িত্বটা দিয়েছেন, আমি যেন সেটা ভালোভাবে পালন করতে পারি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে যে দায়িত্বটা এসেছে সেটা যেন সাফল্যের সঙ্গে পালন করতে পারি।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অপর এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে তিন বছরের জন্য পুনঃনিয়োগ দেয়া হয়েছে মিনার মনসুরকে।

শেয়ার করুন

চেক পেল ময়মনসিংহের ১০৫ সংস্কৃতিকর্মী

চেক পেল ময়মনসিংহের ১০৫ সংস্কৃতিকর্মী

অনুদানের চেক গ্রহণ করছেন ময়মনসিংহের সংস্কৃতিকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রকল্পটির ডিপিপি অনুমোদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রকল্পটিতে রয়েছে আধুনিক মানের কয়েকটি সংগ্রহশালা, ৩টি মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারিসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।

ময়মনসিংহ জেলায় করোনার কারণে কর্মহীন ১০৫ জন অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে। সোমবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত অনুদানের চেক বিতরণ করে জেলা প্রশাসন।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। গতবছর এককালীন ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে সংস্কৃতি কর্মীদের মধ্যে। এবছরও আর্থিক অনুদান প্রদানের কার্যক্রম চালু আছে। যার অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার অসচ্ছল সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করা হচ্ছে।’

প্রধান অতিথি বলেন, ‘ময়মনসিংহকে সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা জিমনেসিয়ামের সামনে মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অবস্থিত জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা ঘিরে সাংস্কৃতিক বলয় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

চেক পেল ময়মনসিংহের ১০৫ সংস্কৃতিকর্মী
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রকল্পটির ডিপিপি অনুমোদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রকল্পটিতে রয়েছে আধুনিক মানের কয়েকটি সংগ্রহশালা, ৩টি মিলনায়তন, আর্ট গ্যালারিসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) নাসরিন সুলতানা, জেলা কালচারাল অফিসার মো. হামিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০৫ জন সংস্কৃতিকর্মীর মধ্যে ১২ জনের হাতে সরাসরি অনুদানের চেক তুলে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন