চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

ওয়েবিনারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: সংগৃহীত

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

শিগগিরই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘এ জন্য জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনে নেয়া প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

‘আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ ২০২১’ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর আয়োজিত ‘এম্পাওয়ারিং আরকাইভস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় আরকাইভসের বিকল্প নেই জানিয়ে কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় আরকাইভসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শেষ করতে শিগগিরই এর তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’

রোববার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভ বিল, ২০২১’ উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘আইন এবং প্রকল্প দুটি (অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশন) বাস্তবায়িত হলে জাতীয় আরকাইভসের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।’

বাংলাদেশ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিসচিব বদরুল আরেফীন।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর সাবেক আইজিপি মো. সানাউল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, বাংলাদেশ আরকাইভস ও রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ।

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আরকাইভস (আইসিএ) অনলাইনে আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ পালন করছে। ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এবার আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, আরকাইভসের সক্ষমতা।

মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিল ও সরকারের স্থায়ী রেকর্ডস ও আর্কাইভস সংরক্ষণে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার দপ্তর যাত্রা শুরু করে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরোনো তৈলচিত্র

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরোনো তৈলচিত্র

ছবিটি নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত শিল্পী স্যামুয়েল ফন হুগসট্রাটেনের আসল চিত্রকর্ম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন শিল্পবোদ্ধা বাঁধাই করা শিল্পকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেগুলো আসল বলে মতামত দেন তিনি।

জার্মানিতে রাস্তার ধারে এক ডাস্টবিনে সপ্তদশ শতাব্দীর দুটি মূল্যবান তৈলচিত্র পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, কুড়িয়ে পাওয়া শিল্পকর্মগুলো ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের দুই শিল্পীর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জার্মানির বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের উজবুর্গ শহরের একটি মোটরওয়ে সার্ভিস স্টেশনে এক ব্যক্তি ওই ছবি দুটি দেখতে পান। পরে কোলন শহরের পুলিশের কাছে ছবিগুলো হস্তান্তর করেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ছবি দুটির স্বত্ব কেউ দাবি করেনি।

জার্মান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন শিল্পবোদ্ধা বাঁধাই করা শিল্পকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেগুলো আসল বলে মতামত দেন তিনি।

তৈলচিত্রের একটিতে লাল টুপি পরা এক ছেলে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তাকিয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, স্যামুয়েল ফন হুগসট্রাটেন নামে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও লেখক ছবিটি আঁকেন। ১৬২৭ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৬৭৮ সালে মৃত্যু হয় ওই শিল্পীর।

ইতালীয় শিল্পী পিয়েত্রো বেল্লোত্তির হাসিখুশি আত্মপ্রতিকৃতিও পাওয়া যায় ডাস্টবিনটিতে। ১৬২৫ সালে জন্ম নিয়ে ১৭০০ সালে মারা যান স্বল্পপরিচিত ওই শিল্পী।

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরোনো তৈলচিত্র

ইতালির পিয়েত্রো বেল্লোত্তির হাসিখুশি আত্মপ্রতিকৃতি।

শিল্পকর্মগুলোর মালিক কে বা কীভাবে সেগুলো ডাস্টবিনে এলো এ-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কোলন শহরের পুলিশ।

২০১৯ সালে লন্ডনে বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বনহ্যামস ডাচ শিল্পী হুগসট্রাটেনের ষষ্ঠদশ শতাব্দীর ছবি (যেখানে এক রাখাল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছে) ৫৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে।

শেয়ার করুন

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে উন্মোচন করা হয় বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা বইয়ের ফরাসি ফরাসি সংস্করণ। ছবি: সংগৃহীত

এ বইয়ের অনুবাদক ফিলিপে বেনোয়াঁ বইটি থেকে উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় পড়ে শোনান। বঙ্গবন্ধুর লেখনীরও ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, তার অনুবাদে বঙ্গবন্ধুর আবেগকে প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ফরাসি সংস্করণ ‘জার্নাল দে প্রিজন’ (Journal de Prison)-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। নিউ ইয়র্ক থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ফরাসি লেখক, দার্শনিক ও চলচ্চিত্রকার বের্নার্ড-অঁরি লেভি ( Mr. Bernard-Henri Lévy)।

বিশেষ বক্তা হিসেবে ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি ভাষায় এ গ্রন্থের অনুবাদক অধ্যাপক ফিলিপে বেনোয়াঁ (Professor Phillipe Benoit)। বইটির প্রকাশক সংস্থা স্লাটকিন অ্যান্ড সিএ-এর প্রতিনিধি বার্টান্ড ফাভিউ (Mr. Bertrand Favreul)।

কোভিড অতিমারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এ আয়োজনে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন অনুবাদক, প্রকাশক সংস্থার প্রতিনিধি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা। অনলাইনে অংশ নেন ফ্রান্সে অবস্থিত অন্যান্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট গুণীজনসহ প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি।

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
কারাগারের রোজনামচা-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা বইটি বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিজীবনের দিনলিপি।

তিনি বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু নিজের পরিবার-পরিজনের চেয়েও দেশ, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেছেন। কীভাবে পাকিস্তানি শাসক বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন, দেশের মানুষকে মুক্তির আন্দোলনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন তা বিধৃত হয়েছে এ গ্রন্থে।

রাষ্ট্রদূত আশা ব্যক্ত করেন যে, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ, তার জীবনদর্শন সারা বিশ্বের ফরাসি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এ বইটির অনুবাদ বিশেষ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রন্থটির অনুবাদ জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবনের ১৩টি বছর পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েছেন, পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে কারাগারে অন্তরিন জীবন যাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব সচেতনতা তৈরিতে এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর।

টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বাংলায় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠা অনিবার্য। শান্তির যে বার্তা তিনি প্রচার করে গেছেন, সেটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল মন্ত্র- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর জীবনদর্শন আমাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।’

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ জাতিসংঘের সকল ভাষায় অনুবাদ, বঙ্গবন্ধুর নামে ইউনেস্কোতে সৃজনশীল অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অবদান রাখবে।

এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, এমপি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এবং বের্নার্ড-অঁরি লেভি দূতাবাসে যৌথভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

বিশিষ্ট ফরাসি লেখক, দার্শনিক ও চলচ্চিত্রকার বের্নার্ড-অঁরি লেভি তার বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এ বইয়ে আমি বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠস্বর শুনতে পাই।’

বের্নার্ড অঁরি জানান, তিনি ফ্রান্সে বসবাসরত শেষ প্রজন্মের মানুষ, যিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন। এ উদ্যোগ তাকে ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।

‘এ গ্রন্থের মাধ্যমে একদিকে যেমন মিষ্টতার প্রকাশ অনুভব করতে পেরেছি, তেমনি দৃঢ়তাও ফুটে উঠেছে। তার ওপর যন্ত্রণার অনুভূতি যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতের আশাবাদও ব্যক্ত হয়েছে।’

বের্নার্ড অঁরি আরও বলেন, ‘এ গ্রন্থের মাধ্যমে জনমানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর মমত্ববোধ আস্বাদন করতে পেরেছি। এটি স্থায়ীভাবে এ গ্রন্থে গ্রথিত হলো। বঙ্গবন্ধু তার বইয়ে যেভাবে ফরাসি বিপ্লবের কথা বলেছেন, ফরাসি জনগোষ্ঠীর সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতাকে সমর্থন করেছেন, সে একইভাবে ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক অঁন্দ্রে মার্লোও বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে তার সমর্থন প্রকাশ করেন।

‘বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তার বীজ এ গ্রন্থে আমি দেখতে পাই।’

এ বইয়ের অনুবাদক ফিলিপে বেনোয়াঁ বইটি থেকে উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় পড়ে শোনান। জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতির ক্ষেত্রে সহিংসতা বিরোধী ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর লেখনীরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার অনুবাদে বঙ্গবন্ধুর আবেগকে প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

বইটির প্রকাশক সংস্থার প্রতিনিধি বার্টান্ড ফাভিউ জানান, এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পেরে তিনি গর্বিত এবং বিশ্বময় ফরাসি ভাষাভাষীদের কাছে এ গ্রন্থ পৌঁছে দিতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষে কারাগারের রোজনামচা ফরাসি অনুবাদকৃত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ গ্রন্থটি শুক্রবার থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব

উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০টি চলচ্চিত্র জমা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছে। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের সিলেকশন কমিটি ১১৯টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু ও নির্মল চলচ্চিত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১৮ জুলাই থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১।’

উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেনকে এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

এই উৎসব নিয়ে বুধবার এক শিল্পকলা একাডেমির এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

একাডেমির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০টি চলচ্চিত্র জমা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছে। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের সিলেকশন কমিটি ১১৯টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন।

যার মধ্যে রয়েছে ৮১টি কাহিনি চলচ্চিত্র ও ৩৮টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্র সিলেকশন কমিটির সদস্যরা হলেন, চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদের উপদেষ্টা সাজ্জাদ জহির, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান, চলচ্চিত্র সমালোচক ও চিত্রনাট্যকার সাদিয়া খালিদ রীতি এবং শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সহকারী পরিচালক চাকলাদার মোস্তাফা আল মাস্উদ।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

এ উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ২টি বিভাগে (কাহিনি ও প্রামাণ্য) শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষ জুরি শাখায় মোট ৭টি পুরস্কার দেয়া হবে।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় আরও ৪টি পুরস্কার দেয়া হবে।

এর জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি জুরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

এই কমিটিতে আরও রয়েছেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদের সভাপতি ফরিদুর রহমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহমান অঞ্জন, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিভাত রেজা চৌধুরী ও কমিটির সদস্য সচিব একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৭টি বিভাগে পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রদান করা হবে।

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ১ লাখ, বিশেষ জুরি পুরস্কার ৫০ হাজার, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ সম্প্রাদনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় ২৫ হাজার পুরস্কার দেয়া হবে।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৮ জুন বিকেল ৫টায় ভার্চুয়ালি এই চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল আট দিনব্যাপি এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

বইঘরের গল্প প্রতিযোগিতার বিচারক সাদাত, মৌরি ও শানজানা

বইঘরের গল্প প্রতিযোগিতার বিচারক সাদাত, মৌরি ও শানজানা

নির্বাচিত ১০টি গল্প নিয়ে প্রকাশ হবে একটি ইবুক সংকলন। পুরস্কার হিসেবে এই ১০জন পাবেন সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম রচিত ও স্বাক্ষরিত বই।

বাবা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও গল্প লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বই পড়া ও বই শোনার অ্যাপ বইঘর।

এবার এই প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন এ সময়ের জনপ্রিয় তিন কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম।

বইঘরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বইঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, আসন্ন বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে ‌‘বাবাকে যেমন দেখি’ গল্প লেখার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জীবিত বা প্রয়াত বাবার আদর্শ, স্বপ্ন, ত্যাগ কিংবা জীবনযুদ্ধের গল্প লিখে পাঠাতে পারবেন বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী যে কেউ। লেখা ৫০০ থেকে দুই হাজার শব্দের মধ্যে হতে হবে।

বইঘর অ্যাপে (https://cutt.ly/unumvHM) গল্প জমা দিতে হবে।

গল্পের শেষে লেখকের নাম, ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি যুক্ত করতে হবে। গল্প জমা দেয়ার শেষ সময় ১৮ জুন।

নির্বাচিত ১০টি গল্প নিয়ে প্রকাশ হবে একটি ইবুক সংকলন। পুরস্কার হিসেবে এই ১০জন পাবেন সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম রচিত ও স্বাক্ষরিত বই।

এ প্রসঙ্গে সাদাত হোসাইন বলেন, ‌‌‘শুরু থেকে বইঘর-এর সঙ্গে আছি। গত বছরও বাবা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় আমি বিচারক ছিলাম। বেশ কিছু ভালো গল্প পড়ার সুযোগ হয়েছিল। এবারও অনেক গল্প জমা পড়বে বলে অপেক্ষায় আছি।’

মৌরি মরিয়ম বলেন, ‌‘এটি একটি দারুন আয়োজন। প্রিয় দুই লেখকের সঙ্গে বইঘরের আয়োজনে থাকছি, এটি নিঃসন্দেহে সুখকর ঘটনা। অনেক অনেক ভালো গল্প পড়ার অপেক্ষায় আছি।’

শানজানা আলম বলেন, ‘প্রিয় লেখকদের সঙ্গে কোনো আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছি, এটা আমার জন্য বেশ ভালোলাগার ব্যাপার। আমি মনে করি গল্পের মানুষেরা ভালো কিছু গল্প পেতে যাচ্ছি। বইঘরকে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজনের জন্য।’

শেয়ার করুন

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

নিজের আঁকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী আবদুল রহমান হামদি। ছবি সংগৃহীত

আবদুল রহমান হামদির শিল্পকর্ম হলিউডের বিলাসবহুল বাড়ির দেয়ালের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সৌন্দর্যের মূল্য এতটাই যে, দেড় কোটি ডলারের বেশি দাম দিয়ে হলেও এই ছবি কিনতে রাজি ধনী হলিউডবাসী।

হলিউডের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে এক সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম।

চলচ্চিত্র দুনিয়ার রাজধানীতে আবদুল রহমান হামদি সম্প্রতিক সময়ে ঝড় তোলা এক নাম। যার হাতের জাদুর ছোঁয়া হলিউডি বিলাসকে নিয়ে গেছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। তার একেকটি ছবি বিকোচ্ছে দেড় কোটি ডলারের বেশি মূল্যে।

রোজ সকালে তার বিমূর্ত চিত্রকর্ম নতুন এক অর্থ নিয়ে ধরা দেয় বাড়ির বাসিন্দাদের চোখে। অর্থের এই ভিন্নতাই ছবির গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

হামদি পেশাদার শিল্পী হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এলেম নিয়েছেন আইন বিষয়ে। সে চর্চা ছেড়ে এখন তার সমস্ত মনযোগ আঁকাআঁকিতে। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত শিল্পী হয়ে ওঠার বৈরী এক যাত্রায় মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

হামদির সাফল্যে দরজা খুলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি প্রিমিয়ার স্টেজারের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। তার চিত্রকর্মের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এই কোম্পানিটি।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
হামদির ছবি হলিউডের একটি বাড়ির দেয়ালে। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি তার চিত্রকর্ম নিয়ে প্রচ্ছদ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক আবাসন বিষয়ক একটি সাময়িকী। ‘ভোগ এরাবিয়া’ তার আরেকটি চিত্রকর্ম নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

হামদির শিল্প প্রতিভার প্রকাশ ঘটে কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় থেকেই। তার সহপাঠীদের ওই সময়গুলো কাটত ফুটবলের মাঠে বা অঙ্ক খাতার পৃষ্ঠায়। আঁকাপ্রীতির কারণে বহুবার শিক্ষকদের বিদ্রুপেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী হামদি আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেন, এক সময় ছবি আঁকা তাকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, ‘ওই সময়টা আমার কিন্ডারগার্টেনের সহপাঠীরা খেলার ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করত। আর আমি প্রহর গুনতাম কখন ড্রয়িং ক্লাস শুরু হবে। ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে যে সালামি পেতাম সেটাও যত্ন করে রেখে দিতাম রং, পেন্সিল আর তুলি কেনার জন্য।’

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
এভাবেই ছবি আঁকেন হামদি। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় বিমূর্ত চিত্রকর্মের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ওই সময় তিনি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ইন্টাগ্রামে দিতে শুরু করেন। আশা ছিল এক সময় পেশাদার শিল্পী হয়ে উঠবেন।

‘বিমূর্ত শিল্প আমার কাছে একটি বড় সুযোগ হয়ে ধরা দেয়। এ ধরনের ছবির সবচেয়ে মজার দিকটি হচ্ছে, প্রতিদিন এর একটি নতুন দিক আপনার সামনে উন্মোচিত হবে।’

হামদি জানান, ২০১৪ সাল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার কারণে বিছানাবন্দী হয়ে পড়েন তিনি। হামদি বলছিলেন, যন্ত্রণা আর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলাম আমি। স্মৃতি হাতড়ানো ছাড়া করার মতো আর কোনো কাজই ছিল না।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
দেয়ালে দেয়ালে হামদির চিত্রকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

‘নিজের কষ্ট, যন্ত্রণা কাউকে বলতেও পারতাম না। পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। তখন বুঝতে পারি, এই কষ্ট থেকে একমাত্র ছবি আঁকাই আমাকে মুক্তি দিতে পারে। এই দুঃসময় কেটে যাওয়ার পর আমি আবার রঙ দিয়ে খেলতে শুরু করি। আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায় এই রঙ। জীবন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। আমি নতুন করে বাঁচতে শুরু করি।’

গোড়ার দিকে মানুষকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে অস্বস্তি হতো। এক প্রদর্শনীতে তার ছবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

তিনি প্রথম চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন ২০১৭ সালে। প্রদর্শনীর নাম ছিল মিনস্ক হিস্টরিক জেদ্দা। পরের বছর আবার মিনস্ক আর্টে অংশ নেন তিনি। এর পর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শেয়ার করুন

‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছরিই দেয় শিল্পকলা পদক। ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারীর কারণে ২০১৯ এবং ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণের মেডেল ও এক লাখ করে টাকা প্রদান করা হবে।

দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য ১৮ গুণীজন ও ২ সংগঠনকে শিল্পকলা পদক প্রদানের জন্য চুড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছর ‘শিল্পকলা পদক’ পদক প্রদান করে থাকে।

করোনা মহামারির কারণে ২০১৯ এবং ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সুবিধামতো সময়ে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণের মেডেল ও এক লাখ করে টাকা প্রদান করা হবে।

২০১৯ সালে শিল্পকলা পদকে মনোনীতরা হলেন-

যন্ত্র সঙ্গীতে (বাঁশি) জনাব মনিরুজ্জামান, নৃত্যকলায় লুবনা মারিয়াম, কণ্ঠসংগীতে হাসিনা মমতাজ, চারুকলায় আবদুল মান্নান, নাট্যকলায় মাসুদ আলী খান, ফটোগ্রাফিতে এম. এ তাহের, লোকসংস্কৃতিতে শম্ভু আচার্য (পট শিল্পী), আবৃত্তিতে হাসান আরিফ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক (অতিরিক্ত ক্ষেত্র) ছায়ানট এবং চলচ্চিত্রে অনুপম হায়াত।

২০২০ সালে শিল্পকলা পদকে মনোনীতরা হলেন-

যন্ত্র সংগীতে (সানাই) সামসুর রহমান, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ, কণ্ঠসংগীত মাহমুদুর রহমান বেণু, চারুকলায় শহিদ কবীর, নাট্যকলায় মলয় ভৌমিক, ফটোগ্রাফিতে মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম স্বপন, লোকসংস্কৃতিতে শাহ্ আলম সরকার, আবৃত্তিতে ডালিয়া আহমেদ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক (অতিরিক্ত ক্ষেত্র) দিনাজপুর নাট্য সমিতি এবং চলচ্চিত্রে শামীম আখতার।

শেয়ার করুন

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার

শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন দুই বাংলার খ্যাতিমান এই কথা সাহিত্যিক। শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দুই বাংলার খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছে তার।

শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সমরেশ মজুমদারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই সাহিত্যিকের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা হচ্ছিল। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চেস্ট এক্সরে, সিটিস্ক্যানসহ একাধিক রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার করোনা করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

সমরেশের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায়। শুধু উপন্যাস নয়, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনীতেও তিনি সমান জনপ্রিয়।

তার উপন্যাস সমগ্রর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালবেলা, কালপুরুষ, উত্তরাধিকার, সাতকাহন, তেরো পার্বণ, আট কুঠুরি নয় দরজা, গঙ্গা।

সাহিত্যে অসাধারণ স্বীকৃতি হিসেবে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সমরেশ। ১৯৮২ সালে পান আনন্দ পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইআইএমএস পুরস্কারে সম্মানিত হন।

সমরেশ মজুমদারের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার অগণিত পাঠক। তার সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।

শেয়ার করুন