নাৎসিবাদ ‘ঠেকাবে’ হিটলারের আত্মজীবনীর নতুন সংস্করণ

নাৎসিবাদ ‘ঠেকাবে’ হিটলারের আত্মজীবনীর নতুন সংস্করণ

‘মাইন কাম্ফ’-এর নতুন ফরাসি সংস্করণটির নাম দেয়া হয়েছে ‘হিস্তোরিসিজের ল্যু মাল, উনে এদিশ্যঁ ক্রিতিক দ্য মাইন কাম্ফ’। অর্থাৎ মাইন কাম্ফের একটি সমালোচনামূলক সংস্করণ এটি।

জার্মানির স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের আত্মজীবনী ‘মাইন কাম্ফ’-এর নতুন অনূদিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের প্রকাশনা সংস্থা ফারইয়াদ।

হিটলারের জাতিবিদ্বেষী, ইহুদিবিরোধী দীর্ঘ এ উপাখ্যান নিয়ে বিতর্কের জেরে কয়েক বছর আটকে ছিল বইটির প্রকাশ। তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত বুধবার বইটির মোড়ক উন্মোচন করে ফারইয়াদ।

বইটি নিয়ে কাজ করা ইতিহাসবিদদের দাবি, এ বইয়ের মাধ্যমে নাৎসিদের আদর্শের বিশদ বর্ণনা পাবেন ফরাসি পাঠকরা। এর মাধ্যমে নাৎসিদের মানসিকতা বর্জনের শিক্ষাও দেয়া হবে।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কের জবাবে সংস্করণটির শিক্ষণীয় দিকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ফারিয়াদ।

বইটির প্রচ্ছদে হিটলারের নাম বা ছবি নেই। এমনকি হিটলারের আত্মজীবনীর মূল সংস্করণের নাম অনুসারে নতুন বইটির নাম ‘মাইন কাম্ফ’ও রাখা হয়নি।

‘মাইন কাম্ফ’-এর নতুন ফরাসি সংস্করণটির নাম দেয়া হয়েছে ‘হিস্তোরিসিজের ল্যু মাল, উনে এদিশ্যঁ ক্রিতিক দ্য মাইন কাম্ফ’। অর্থাৎ মাইন কাম্ফের একটি সমালোচনামূলক সংস্করণ এটি।

প্যারিসের সোরবন ইউনিভার্সিটির জার্মান ইতিহাসের অধ্যাপক হেলেন মিয়ার্দ বলেন, ‘বইটিতে মূলত হিটলারের লেখা নিয়ে ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

‘ইতিহাস নিয়ে এক দশকের গবেষণার ফল এই বই। এর দুই-তৃতীয়াংশে রয়েছে হাজারো পাদটীকার বিশদ ব্যাখ্যা আর সমালোচকদের মন্তব্য। কাজেই এই বইকে সরাসরি অনুবাদ বলার উপায় নেই।’

মাইন কাম্ফের প্রথম ফরাসি অনুবাদ প্রকাশ হয় ১৯৩৪ সালে। বইটিতে হিটলারের লেখার ধরনে পরিবর্তন আনা হলেও তার জাতিবিদ্বেষী ও ইহুদিবিরোধী আদর্শের পুরোটাই অক্ষুণ্ন রাখা হয়।

অধ্যাপক হেলেন মিয়ার্দ বলেন, ‘নতুন বইয়ে অনুবাদকরা শব্দে সাহিত্যগুণ যোগ করার চেষ্টা করেছেন। কারণ হিটলারের সাহিত্যগুণ বলতে কিছু ছিল না।’

মাইন কাম্ফের ফরাসি অনুবাদটি কোনো বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে না। কেবল অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমেই পাঠকরা বইটি পাবেন, যার দাম পড়বে ১০০ ইউরো।

ফারিয়াদ জানিয়েছে, বই বিক্রির লভ্যাংশ অশউইৎজ-বিয়ারকিনাউ ফাউন্ডেশনে দান করা হবে।

নাৎসি বাহিনীর সবচেয়ে বড় কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প ছিল হিটলারের দখলকৃত পোল্যান্ডের অশউইৎজে। সেখানকার ভয়াবহ স্মৃতি সংরক্ষণে তহবিল সংগ্রহ করার লক্ষ্যে কাজ করে অশউইৎজ-বিয়ারকিনাউ ফাউন্ডেশন।

মাইন কাম্ফের পটভূমি

হিটলার জার্মান চ্যান্সেলর হওয়ার প্রায় ১২ বছর আগে ১৯২৩ সালে মিউনিখে তার নেতৃত্বে নাৎসিদের একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

‘বিয়ার হল পুচ’ হিসেবে পরিচিত ওই অভ্যুত্থানচেষ্টা করতে গিয়ে বন্দি হন হিটলার। এরপর কারাগারে বসে ১৯২৪ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ‘মাইন কাম্ফ’ লেখেন তিনি। জার্মান ভাষায় ‘মাইন কাম্ফ’-এর বাংলা অর্থ ‘আমার সংগ্রাম’।

বইটি লেখার প্রায় এক দশক পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে হিটলারের নেতৃত্বে ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য গণহত্যা সংঘটন করে নাৎসি বাহিনী। ইউরোপের তৎকালীন জার্মান নিয়ন্ত্রিত অংশে হত্যা করা হয় ৬০ লাখ ইহুদিকে, যা সে সময় ইউরোপের মোট ইহুদি জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ।

ওই গণহত্যার বিষয়ে হিটলারের নাৎসি মতবাদের প্রমাণ তার আত্মজীবনী। বইটিতে অস্ট্রিয়ায় নিজের শৈশব ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন তিনি।

ইংরেজি, জার্মান, তুর্কি, আরবি, পার্সি, উর্দু, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে মাইন কাম্ফ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

নিজের আঁকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী আবদুল রহমান হামদি। ছবি সংগৃহীত

আবদুল রহমান হামদির শিল্পকর্ম হলিউডের বিলাসবহুল বাড়ির দেয়ালের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সৌন্দর্যের মূল্য এতটাই যে, দেড় কোটি ডলারের বেশি দাম দিয়ে হলেও এই ছবি কিনতে রাজি ধনী হলিউডবাসী।

হলিউডের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে এক সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম।

চলচ্চিত্র দুনিয়ার রাজধানীতে আবদুল রহমান হামদি সম্প্রতিক সময়ে ঝড় তোলা এক নাম। যার হাতের জাদুর ছোঁয়া হলিউডি বিলাসকে নিয়ে গেছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। তার একেকটি ছবি বিকোচ্ছে দেড় কোটি ডলারের বেশি মূল্যে।

রোজ সকালে তার বিমূর্ত চিত্রকর্ম নতুন এক অর্থ নিয়ে ধরা দেয় বাড়ির বাসিন্দাদের চোখে। অর্থের এই ভিন্নতাই ছবির গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

হামদি পেশাদার শিল্পী হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এলেম নিয়েছেন আইন বিষয়ে। সে চর্চা ছেড়ে এখন তার সমস্ত মনযোগ আঁকাআঁকিতে। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত শিল্পী হয়ে ওঠার বৈরী এক যাত্রায় মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

হামদির সাফল্যে দরজা খুলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি প্রিমিয়ার স্টেজারের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। তার চিত্রকর্মের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এই কোম্পানিটি।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
হামদির ছবি হলিউডের একটি বাড়ির দেয়ালে। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি তার চিত্রকর্ম নিয়ে প্রচ্ছদ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক আবাসন বিষয়ক একটি সাময়িকী। ‘ভোগ এরাবিয়া’ তার আরেকটি চিত্রকর্ম নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

হামদির শিল্প প্রতিভার প্রকাশ ঘটে কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় থেকেই। তার সহপাঠীদের ওই সময়গুলো কাটত ফুটবলের মাঠে বা অঙ্ক খাতার পৃষ্ঠায়। আঁকাপ্রীতির কারণে বহুবার শিক্ষকদের বিদ্রুপেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী হামদি আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেন, এক সময় ছবি আঁকা তাকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, ‘ওই সময়টা আমার কিন্ডারগার্টেনের সহপাঠীরা খেলার ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করত। আর আমি প্রহর গুনতাম কখন ড্রয়িং ক্লাস শুরু হবে। ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে যে সালামি পেতাম সেটাও যত্ন করে রেখে দিতাম রং, পেন্সিল আর তুলি কেনার জন্য।’

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
এভাবেই ছবি আঁকেন হামদি। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় বিমূর্ত চিত্রকর্মের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ওই সময় তিনি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ইন্টাগ্রামে দিতে শুরু করেন। আশা ছিল এক সময় পেশাদার শিল্পী হয়ে উঠবেন।

‘বিমূর্ত শিল্প আমার কাছে একটি বড় সুযোগ হয়ে ধরা দেয়। এ ধরনের ছবির সবচেয়ে মজার দিকটি হচ্ছে, প্রতিদিন এর একটি নতুন দিক আপনার সামনে উন্মোচিত হবে।’

হামদি জানান, ২০১৪ সাল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার কারণে বিছানাবন্দী হয়ে পড়েন তিনি। হামদি বলছিলেন, যন্ত্রণা আর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলাম আমি। স্মৃতি হাতড়ানো ছাড়া করার মতো আর কোনো কাজই ছিল না।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
দেয়ালে দেয়ালে হামদির চিত্রকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

‘নিজের কষ্ট, যন্ত্রণা কাউকে বলতেও পারতাম না। পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। তখন বুঝতে পারি, এই কষ্ট থেকে একমাত্র ছবি আঁকাই আমাকে মুক্তি দিতে পারে। এই দুঃসময় কেটে যাওয়ার পর আমি আবার রঙ দিয়ে খেলতে শুরু করি। আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায় এই রঙ। জীবন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। আমি নতুন করে বাঁচতে শুরু করি।’

গোড়ার দিকে মানুষকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে অস্বস্তি হতো। এক প্রদর্শনীতে তার ছবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

তিনি প্রথম চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন ২০১৭ সালে। প্রদর্শনীর নাম ছিল মিনস্ক হিস্টরিক জেদ্দা। পরের বছর আবার মিনস্ক আর্টে অংশ নেন তিনি। এর পর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শেয়ার করুন

‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছরিই দেয় শিল্পকলা পদক। ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারীর কারণে ২০১৯ এবং ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণের মেডেল ও এক লাখ করে টাকা প্রদান করা হবে।

দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য ১৮ গুণীজন ও ২ সংগঠনকে শিল্পকলা পদক প্রদানের জন্য চুড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছর ‘শিল্পকলা পদক’ পদক প্রদান করে থাকে।

করোনা মহামারির কারণে ২০১৯ এবং ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সুবিধামতো সময়ে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণের মেডেল ও এক লাখ করে টাকা প্রদান করা হবে।

২০১৯ সালে শিল্পকলা পদকে মনোনীতরা হলেন-

যন্ত্র সঙ্গীতে (বাঁশি) জনাব মনিরুজ্জামান, নৃত্যকলায় লুবনা মারিয়াম, কণ্ঠসংগীতে হাসিনা মমতাজ, চারুকলায় আবদুল মান্নান, নাট্যকলায় মাসুদ আলী খান, ফটোগ্রাফিতে এম. এ তাহের, লোকসংস্কৃতিতে শম্ভু আচার্য (পট শিল্পী), আবৃত্তিতে হাসান আরিফ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক (অতিরিক্ত ক্ষেত্র) ছায়ানট এবং চলচ্চিত্রে অনুপম হায়াত।

২০২০ সালে শিল্পকলা পদকে মনোনীতরা হলেন-

যন্ত্র সংগীতে (সানাই) সামসুর রহমান, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ, কণ্ঠসংগীত মাহমুদুর রহমান বেণু, চারুকলায় শহিদ কবীর, নাট্যকলায় মলয় ভৌমিক, ফটোগ্রাফিতে মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম স্বপন, লোকসংস্কৃতিতে শাহ্ আলম সরকার, আবৃত্তিতে ডালিয়া আহমেদ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক (অতিরিক্ত ক্ষেত্র) দিনাজপুর নাট্য সমিতি এবং চলচ্চিত্রে শামীম আখতার।

শেয়ার করুন

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার

শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন দুই বাংলার খ্যাতিমান এই কথা সাহিত্যিক। শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দুই বাংলার খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছে তার।

শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সমরেশ মজুমদারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই সাহিত্যিকের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা হচ্ছিল। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চেস্ট এক্সরে, সিটিস্ক্যানসহ একাধিক রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার করোনা করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

সমরেশের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায়। শুধু উপন্যাস নয়, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনীতেও তিনি সমান জনপ্রিয়।

তার উপন্যাস সমগ্রর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালবেলা, কালপুরুষ, উত্তরাধিকার, সাতকাহন, তেরো পার্বণ, আট কুঠুরি নয় দরজা, গঙ্গা।

সাহিত্যে অসাধারণ স্বীকৃতি হিসেবে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সমরেশ। ১৯৮২ সালে পান আনন্দ পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইআইএমএস পুরস্কারে সম্মানিত হন।

সমরেশ মজুমদারের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার অগণিত পাঠক। তার সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।

শেয়ার করুন

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

ওয়েবিনারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

শিগগিরই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘এ জন্য জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনে নেয়া প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

‘আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ ২০২১’ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর আয়োজিত ‘এম্পাওয়ারিং আরকাইভস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় আরকাইভসের বিকল্প নেই জানিয়ে কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় আরকাইভসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শেষ করতে শিগগিরই এর তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’

রোববার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভ বিল, ২০২১’ উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘আইন এবং প্রকল্প দুটি (অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশন) বাস্তবায়িত হলে জাতীয় আরকাইভসের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।’

বাংলাদেশ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিসচিব বদরুল আরেফীন।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর সাবেক আইজিপি মো. সানাউল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, বাংলাদেশ আরকাইভস ও রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ।

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আরকাইভস (আইসিএ) অনলাইনে আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ পালন করছে। ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এবার আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, আরকাইভসের সক্ষমতা।

মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিল ও সরকারের স্থায়ী রেকর্ডস ও আর্কাইভস সংরক্ষণে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার দপ্তর যাত্রা শুরু করে।

শেয়ার করুন

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

রবির ভুলর ব্যাখ্যা চেয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

ভুলের ব্যাখ্যা চেয়ে রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৬ জুন ইস্যু করা সেই চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রবিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে তার প্রতি সম্মান জানাতে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টার পোস্ট করেছিল। যেখানে কাজী নজরুল ইসলামের বদলে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যুবক বয়সের ছবি।

সেই ভুলের ব্যাখ্যা চেয়ে রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৬ জুন ইস্যু করা সেই চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রবিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘রবি টেলিকম’ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি না দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেয়া হয়।

কবি নজরুল রচিত একটি সংগীতের কয়েকটি লাইন তুলে ধরা হয়, সেখানেও অনেক ভুল ছিল। এ রকম চরম অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে ‘রবি টেলিকম’ বাংলা সাহিত্যের দুই কবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। ‘রবি টেলিকম’ এর এহেন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ গোটা বাঙ্গালি জাতি।

গত ২৭ মে কবির নাতনি খিলখিল কাজী বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘যারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে চেনে না। তাদের এই দেশে থাকার অধিকার নেই। ধিক ধিক ধিক রবি কে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কবিকেই অপমান করা হলো। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।’

পরে রবিকে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়।

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
ভুল স্বীকার করে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

এই ভুলের জন্য ২৮ মে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ভুল স্বীকার করে।

পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি লেখে, ‘গত ২৫শে মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সি রবির ফেসবুক পেইজের একটি পোস্টে ভুল ছবি প্রকাশ করে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরকিভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে আমরা পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি।’

শেয়ার করুন

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের লক্ষ্য ১০০ ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি করা। ছবি; সৌদি গেজেট

বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।  

ধীরে ধীরে নিজেদের কক্ষপথ ছেড়ে বের হতে শুরু করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটির পাঠ্য বইয়ে রামায়ণ, মহাভারত পাঠ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

এবার দেশটি জোর দিয়েছে নিজেদের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইন উন্নয়নে। এ জন্য ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামে একটি নতুন প্রোগ্রাম উন্মোচন করেছে দেশটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সৌদি গেজেট জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন চালু করা সংস্থা দ্য ফ্যাশন কমিশন ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামের ওই প্রোগ্রাম ফ্যাশন ম্যাগাজিন ও ব্র্যান্ড ভোগ-এর সঙ্গে শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বৃহস্পতিবার।

এই প্রোগ্রাম হবে এক বছরের। বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।

সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামটি বৃহৎ আকারে করা হচ্ছে, যেখানে থাকছে ব্র্যান্ডিং, ধারণা, সেলস পারফরম্যান্স স্ট্র্যাটেজি, জনসংযোগ ও বিপণন, ক্লায়েন্ট নির্বাচন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি এবং নেতৃত্ব দক্ষতার প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌদি ডিজাইনার ও ব্র্যান্ডকে কীভাবে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া যায় অংশগ্রহণকারীদের সেটিও শেখানো হবে। এ জন্য অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক দলের কাছ থেকে বিষয়গুলো জানতে ও শিখতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এই প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কাজটি করবে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে থাকছে এলভিএমএইচ, কেরিং, ভ্যালেন্তিনো ফ্যাশন গ্রুপ, চানেল, বুলগারি অ্যান্ড স্করোভস্কি। সেই সঙ্গে শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ দেবে সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিনস, রয়েল কলেজ অফ আর্ট, ইয়েল অ্যান্ড পারসনস।

স্থানীয় বাজারে ক্রেতা বাড়াতে এবং সরাসরি বিক্রিকে উৎসাহিত করতে প্রোগ্রামটি প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ডিসেম্বরে রিয়াদে একটি সম্মেলন করবে। পাশাপাশি অনলাইনে ই-সেল, পাইকারি ও আন্তর্জাতিক বিক্রি বাড়াতে ২০২২ সালের প্রথমদিকে করা হবে একটি ক্যাম্পেইন।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাশন কমিশন ভোগের সঙ্গে সহযোগী হয়ে স্থানীয় ও আঞ্চলিক রিটেইল গড়ে তুলবে। ভোগ আরবিয়া শুধু মিডিয়ায় ব্র্যান্ডগুলোর প্রসারেই কাজ করবে এমন নয়, পাশাপাশি ফ্যাশন সম্পর্কিত সম্পাদকীয় ও সামাজিক মাধ্যমে এর প্রসারেও কাজ করবে।

আঞ্চলিক রিটেইলররা ভার্চুয়াল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেবে এবং ২০২২ সালের রমজান মাসকে সামনে রেখে বিক্রি পরিচালনাসহ রিটেইল স্টোর চালুর ব্যবস্থা করবে।

অবশ্য ‘সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড’ থেকে কিছু ব্র্যান্ড অধিগ্রহণের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রিতে সহায়তাও দেবে ভোগ আরবিয়া।

ফ্যাশন কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বুরাক চাকমাক বলেন, ‘সৌদি আরব ফ্যাশনসহ এখন সব খাতেই উন্নতি করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ফ্যাশনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচরণের এটা খুব ভালো সুযোগ।

‘স্থানীয় সৃজনশীলতা, ডিজাইন স্টুডিও, বিপণন ও কমিউনিকেশন এজেন্সি, উৎপাদক ও পরিবেশকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ফ্যাশন ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০-এর মতো প্রোগ্রাম দিয়ে আমরা সৌদি ডিজাইনারদের নিয়ে শুধু স্থানীয় নয়, বিশ্বমঞ্চও কাঁপিয়ে দিতে চাই।’

ভোগ আরবিয়ার এডিটর ইন চিফ ম্যানুয়েল আরনাট বলেন, ‘ভোগ আরবিয়া স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তুলে আনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের সঙ্গে সহযোগী হওয়া তারই ধারাবাহিকতা। আমরা সৌদি ফ্যাশন কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। আমরা কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বরং বৈশ্বিকভাবেই উদ্ভাবনের এই যাত্রাকে দীর্ঘ করতে পারব।’

সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড প্রোগ্রাম মূলত দেশটির ১০০ ডিজাইনরাকে এবং বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি করানো, ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোকে অন্যদেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া, ব্যবসায়িক সুবিধা দেয়া। সেই সঙ্গে ফ্যাশন কমিশনের এমন চেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগসহ অন্য সুবিধা দেয়ার কাজও করবে ভোগ।

এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে ব্র্যান্ডগুলোকে নিবন্ধনের (www.saudi100brands.com ) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

কবি ফররুখ আহমদের বাড়ির চারদিকে এখন লাল ফিতার খুঁটি দেয়া। লাল নিশান দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে কবির জন্মঘরটিও। ছবি: নিউজবাংলা

কবির ভাতিজি সৈয়দা দিলরুবা বলেন, ‘রেললাইনের সংযোগে আমাদের পুরো বাড়িটি বিশেষ করে কবির জন্মঘর, পাঠাগার, কবির পিতামাতার কবরসহ পরিবারের অন্যান্যের কবর পড়েছে। এ কারণে আমাদের পারিবারিক সবকিছুই এখন রেললাইনের সীমানায় লাল দাগে পড়ে গেছে। এ জন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

মাগুরা-ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী কামারখালী সেতুর দক্ষিণেই মাঝাইল গ্রাম। প্রধান সড়ক দিয়ে পাঁচ মিনিট হেঁটে গেলেই মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে খ্যাত ফররুখ আহমদের বাড়ি।

সেখানে গিয়ে দেখা গেল, কবির বাড়ির চারদিকে এখন লাল ফিতার খুঁটি দেয়া। লাল নিশান দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে কবির জন্মঘরটিও।

মধুখালী-মাগুরা রেললাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণে এই লাল নিশানা দিয়ে গেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এটি ঘিরে চলছে সমালোচনা। স্থানীয়রা চাইছেন, কবির বাড়ি যেন অক্ষত থাকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ কামাল বলেন, ‘কবির বসতভিটা রক্ষা শুধু আমাদের কাজ নয়। তিনি বাংলাদেশের একজন জাতীয় পর্যায়ের কবি। তাকে সবাই চেনে। তার জন্মভিটা আমরা আগলে রেখেছি প্রায় দেড় শ বছর। এটা আমরা ভাঙতে দেব না।’

কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুরের মাঝাইলে পৈতৃক বাড়িতে জন্ম নেন। পিতা খান বাহাদুর সৈয়দ হাতেম আলীর বাড়ি এটি। এখানেই তার পূর্বপুরুষদের আদিবাস।

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত সেই বাড়িতে কবির অনেক স্মৃতি। কবি ও তার পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত একমাত্র ঘরটির আশপাশে রেললাইনের সীমানা পড়েছে। কবির স্বজনদের উদ্বেগ, কবে না ঘরদোর ভেঙে ফেলে কর্তৃপক্ষ।

রেললাইনটি ফরিদপুরের মধুখালী-কামারখালী হয়ে মধুমতী নদীর ওপর দিয়ে মাগুরা সদরের রামনগর এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ি ঘিরে চারটি লাল কাপড় বাঁধা খুঁটি মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। কবির মূল ঘরটির একটি দরজায় লাল চিহ্ন দিয়ে তীর চিহ্ন দেয়া। এ ছাড়া কবির স্বজনরা যেখানে থাকেন, সে ঘরটির বাইরের ছোট সিঁড়িতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নের সংখ্যা দেয়া।

ভাতিজি সৈয়দা দিলরুবা কবির বাসভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। মাগুরার জেলা প্রশাসক বরাবর বসতভিটা রক্ষার আবেদনের কথা জানালেন তিনি।

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

পুরো বাড়ি ঘুরে দেখিয়ে বললেন, ‘এটি ছাড়া আমাদের আর কোনো বসত নেই। বাপ-দাদার স্মৃতি তো বটেই, কাকার (কবি ফররুখ আহমদ) স্মৃতি এই ঘর।’ কবির একমাত্র ঘরটির বয়স প্রায় দেড় শ বছর বলে জানান তিনি।

দিলরুবা বলেন, ‘মাগুরাতে রেললাইন সংযোগ আসছে আমরা সবাই খুশি। কিন্তু একমাত্র ভিটেবাড়ি বলতে এটাই আমাদের সম্বল। রেললাইনের সংযোগে আমাদের পুরো বাড়িটি বিশেষ করে কবির জন্মঘর, পাঠাগার, কবির পিতামাতার কবরসহ পরিবারের অন্যান্যের কবর পড়েছে। এ কারণে আমাদের পারিবারিক সবকিছুই এখন রেললাইনের সীমানায় লাল দাগে পড়ে গেছে। এ জন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

দিলরুবা বলেন, ‘জেলা প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, বাড়িটি অক্ষত রেখেই রেললাইনের কাজ চলবে। আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। সে আশায় বসে আছি।’

কবির বাড়ির প্রতিবেশী ও স্বজনরা বলেন, ‘মধুমতী নদীর ওপর দিয়ে রেলব্রিজ হবে। আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। ওখান থেকে কবির বাড়ির ভেতর দিয়ে রেললাইন হবে শুনেছি। যারা সীমনা র্নিধারণের কাজে এসেছিলেন, লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছে।’

স্থানীয় মুদি দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কবির বাড়ি দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসে। আমার দোকানে বসে, গল্প করে, আমাদের এলাকার গল্প শুনতে চায়। তখন প্রাণডা জুড়ায়া যায়। কবির জন্য আমরা শুধু সম্মানিত হইনে। আমার মনে হয় দেশের সবাই তার নাম জানে। সেই কবির বাড়ি আমরা কোনোভাবেই ভাঙতে দেব না।’

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়র রশীদ মুহিত বলেন, ‘কবির বাড়ির চারদিকে রেললাইনের সীমানা ঠিক আছে। লাল পতাকাও বাঁধা হয়েছে। বিষয়টি আমি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন সীমানা দাগাঙ্কিত হলেও মূল রাস্তায় কবির বাড়ির কোনো ক্ষতি হবে না। তাই চিন্তার কারণ দেখি না।’

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কবি তো আমাদের জাতীয় পর্যায়ের কবিদের একজন। তার বাড়ি রক্ষায় তো সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিছুদিন আগেও কবির বাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট ও বিশ্রামাগার বানানো হলো। তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কবির বাড়ির পাশ দিয়ে রেললাইন হবে।’

মাগুরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. আশরাফুল আলম বলেন, ‘মধুখালী-মাগুরা অংশে নতুন রেললাইনের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে তার মধ্যে কবি ফররুখ আহমদের বসতভিটা পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাগুরার জনপ্রতিনিধিসহ নানা পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সবার পরামর্শে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

ডিসি বলেন, ‘কবির জন্ম নেয়া বাড়িটিসহ পুরো বাড়িটি অক্ষত রাখতে রেললাইনের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নকশায় একটা ওভার ব্রিজ নির্মাণ দেখানো হয়েছে। কবির বাড়ির পাশ দিয়ে ওভার ব্রিজের মাধ্যমে রেললাইন চলে যাবে।’

প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বাড়লেও কবির বাড়ির কোনো স্থাপনা ভাঙা পড়বে না বলেও জানান ডিসি।

শেয়ার করুন