বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলা কবিতার হিন্দি অনুবাদগ্রন্থ

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলা কবিতার হিন্দি অনুবাদগ্রন্থ

উদ্যোগটি ২০১৯ সালে গ্রহণ করলেও অনুবাদ এবং তা গ্রন্থাকারে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনা পরিস্থিতি। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘করোনার লকডাউনের প্রথম পাঁচ মাস লেগেছিল এক শ কবিতা অনুবাদ করতে। বইটির কাজ শেষ করতে পেরে আনন্দিত হয়েছিলাম। সেই আনন্দ উপচে পড়ছে প্রকাশিত হওয়ার খবরে।’

বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত নির্বাচিত এক শ বাংলা কবিতার হিন্দি অনুবাদ সম্প্রতি গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে নয়াদিল্লির কেবিএস পাবলিশার্স থেকে। গ্রন্থের নাম: জনমশতবরষ কী শ্রদ্ধাঞ্জলি: বাংলাদেশ কে রাষ্ট্রপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কো নিবেদিত সৌ কবিতায়েঁ

বঙ্গবন্ধুকে হিন্দিভাষী বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে কাব্যিক মাধ্যমে তুলে ধরার এই প্রয়াস নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী।

উদ্যোগটি ২০১৯ সালে গ্রহণ করলেও অনুবাদ এবং তা গ্রন্থাকারে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনা পরিস্থিতি। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘করোনার লকডাউনের প্রথম পাঁচ মাস লেগেছিল এক শ কবিতা অনুবাদ করতে। বইটির কাজ শেষ করতে পেরে আনন্দিত হয়েছিলাম। সেই আনন্দ উপচে পড়ছে প্রকাশিত হওয়ার খবরে।’ গত মার্চ মাসে আলোর মুখ দেখে এই অনুবাদগ্রন্থ।

অনন্য এই কাজটি তিনি সম্পাদনা করেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসীম ভালোবাসা থেকে। এতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রোথিতযশা কবিদের নির্বাচিত কবিতা। তার মতে,বাংলা ভাষায় রচিত যেকোনো সৃষ্টকর্ম যতই ভিনভাষীদের কাছে তুলে ধরা যাবে, ততই তাঁর মাহাত্ম্য বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশের প্রধান কবিদের কবিতা তো বটেই, বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় অর্থাৎ স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গের কবিরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসংখ্য কবিতা রচনা করেছেন।

একাত্তরের সেই ক্রান্তিকালে রাজনৈতিকভাবে কেবল নয়, পশ্চিমবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকরা সত্যিকারের বন্ধু হয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে ছিলেন, তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও বাংলাদেশের জনসাধারণের মতোই ছিলেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং আশাবাদী। কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে সেই সময়ে রচিত কবিতাসমূহ।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলা কবিতার হিন্দি অনুবাদগ্রন্থ

সেই সময়ের বেশ কিছু কবিতা অনুবাদের জন্য বিবেচনায় নিয়েছেন সফিকুন্নবী সামাদী। বঙ্গবন্ধুর প্রতি বাঙালি কবিদের অকৃত্রিম আবেগ ও হার্দিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হবে হিন্দিভাষী অগণিত পাঠক। তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে বাংলা কবিতার হিন্দি অনুবাদ নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করল।

সফিকুন্নবী সামাদী ইতিমধ্যেই অনুবাদকর্মে নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। উর্দু ও হিন্দি সাহিত্যের বেশ কিছু কবিতা ও গ্রন্থ এরই মধ্যে অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে গুলজারের কবিতা ত্রিবেণী, মৃত্যুঞ্জয় প্রভাকরের নাটক খোয়াহিশেঁ, কৃষণ চন্দরের উপন্যাস উল্টোগাছ। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে মীনা কুমারী ও জাভেদ আখতারের কবিতা নিয়ে আলাদা আলাদা অনুবাদগ্রন্থ।

তিনি প্রগতি লেখক সংঘের নেতা সাজ্জাদ জহিরের কবিতা এবং মুন্সী প্রেমচাঁদের সাহিত্য-বিষয়ক প্রবন্ধ অনুবাদ করছেন নিয়মিত। প্রকাশিত হচ্ছে শিল্প-সাহিত্যের পোর্টাল উঠোনে (uthon.com)। এ ছাড়া অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের উর্দু কবি নওশাদ নূরীর বঙ্গবন্ধু-বিষয়ক কবিতা।

সফিকুন্নবী সামাদী অনুবাদে হাত পাকিয়েছেন নব্বইয়ের দশকে পিএইচডি (১৯৯৪) পর্যায়ে গবেষণাকালে। তিনি গবেষণা করেছেন বাংলা ও হিন্দি ভাষার প্রখ্যাত দুই কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চটোপাধ্যায় ও মুন্সী প্রেমচাঁদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে। বঙ্গবন্ধু-বিষয়ক বাংলা কবিতার হিন্দিকৃত অনুবাদগ্রন্থ পাওয়া পাচ্ছে রাজশাহীর বিপণিবিতান বিদ্যাসাগরে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বইঘরের গল্প প্রতিযোগিতার বিচারক সাদাত, মৌরি ও শানজানা

বইঘরের গল্প প্রতিযোগিতার বিচারক সাদাত, মৌরি ও শানজানা

নির্বাচিত ১০টি গল্প নিয়ে প্রকাশ হবে একটি ইবুক সংকলন। পুরস্কার হিসেবে এই ১০জন পাবেন সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম রচিত ও স্বাক্ষরিত বই।

বাবা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও গল্প লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বই পড়া ও বই শোনার অ্যাপ বইঘর।

এবার এই প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন এ সময়ের জনপ্রিয় তিন কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম।

বইঘরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বইঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, আসন্ন বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে ‌‘বাবাকে যেমন দেখি’ গল্প লেখার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জীবিত বা প্রয়াত বাবার আদর্শ, স্বপ্ন, ত্যাগ কিংবা জীবনযুদ্ধের গল্প লিখে পাঠাতে পারবেন বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী যে কেউ। লেখা ৫০০ থেকে দুই হাজার শব্দের মধ্যে হতে হবে।

বইঘর অ্যাপে (https://cutt.ly/unumvHM) গল্প জমা দিতে হবে।

গল্পের শেষে লেখকের নাম, ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি যুক্ত করতে হবে। গল্প জমা দেয়ার শেষ সময় ১৮ জুন।

নির্বাচিত ১০টি গল্প নিয়ে প্রকাশ হবে একটি ইবুক সংকলন। পুরস্কার হিসেবে এই ১০জন পাবেন সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম রচিত ও স্বাক্ষরিত বই।

এ প্রসঙ্গে সাদাত হোসাইন বলেন, ‌‌‘শুরু থেকে বইঘর-এর সঙ্গে আছি। গত বছরও বাবা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় আমি বিচারক ছিলাম। বেশ কিছু ভালো গল্প পড়ার সুযোগ হয়েছিল। এবারও অনেক গল্প জমা পড়বে বলে অপেক্ষায় আছি।’

মৌরি মরিয়ম বলেন, ‌‘এটি একটি দারুন আয়োজন। প্রিয় দুই লেখকের সঙ্গে বইঘরের আয়োজনে থাকছি, এটি নিঃসন্দেহে সুখকর ঘটনা। অনেক অনেক ভালো গল্প পড়ার অপেক্ষায় আছি।’

শানজানা আলম বলেন, ‘প্রিয় লেখকদের সঙ্গে কোনো আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছি, এটা আমার জন্য বেশ ভালোলাগার ব্যাপার। আমি মনে করি গল্পের মানুষেরা ভালো কিছু গল্প পেতে যাচ্ছি। বইঘরকে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজনের জন্য।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম

নিজের আঁকা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শিল্পী আবদুল রহমান হামদি। ছবি সংগৃহীত

আবদুল রহমান হামদির শিল্পকর্ম হলিউডের বিলাসবহুল বাড়ির দেয়ালের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই সৌন্দর্যের মূল্য এতটাই যে, দেড় কোটি ডলারের বেশি দাম দিয়ে হলেও এই ছবি কিনতে রাজি ধনী হলিউডবাসী।

হলিউডের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে এক সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম।

চলচ্চিত্র দুনিয়ার রাজধানীতে আবদুল রহমান হামদি সম্প্রতিক সময়ে ঝড় তোলা এক নাম। যার হাতের জাদুর ছোঁয়া হলিউডি বিলাসকে নিয়ে গেছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। তার একেকটি ছবি বিকোচ্ছে দেড় কোটি ডলারের বেশি মূল্যে।

রোজ সকালে তার বিমূর্ত চিত্রকর্ম নতুন এক অর্থ নিয়ে ধরা দেয় বাড়ির বাসিন্দাদের চোখে। অর্থের এই ভিন্নতাই ছবির গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

হামদি পেশাদার শিল্পী হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এলেম নিয়েছেন আইন বিষয়ে। সে চর্চা ছেড়ে এখন তার সমস্ত মনযোগ আঁকাআঁকিতে। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত শিল্পী হয়ে ওঠার বৈরী এক যাত্রায় মায়ের সহযোগিতা পেয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

হামদির সাফল্যে দরজা খুলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি প্রিমিয়ার স্টেজারের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর। তার চিত্রকর্মের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এই কোম্পানিটি।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
হামদির ছবি হলিউডের একটি বাড়ির দেয়ালে। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি তার চিত্রকর্ম নিয়ে প্রচ্ছদ করেছে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক আবাসন বিষয়ক একটি সাময়িকী। ‘ভোগ এরাবিয়া’ তার আরেকটি চিত্রকর্ম নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

হামদির শিল্প প্রতিভার প্রকাশ ঘটে কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় থেকেই। তার সহপাঠীদের ওই সময়গুলো কাটত ফুটবলের মাঠে বা অঙ্ক খাতার পৃষ্ঠায়। আঁকাপ্রীতির কারণে বহুবার শিক্ষকদের বিদ্রুপেরও শিকার হতে হয়েছে তাকে।

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী হামদি আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেন, এক সময় ছবি আঁকা তাকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, ‘ওই সময়টা আমার কিন্ডারগার্টেনের সহপাঠীরা খেলার ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করত। আর আমি প্রহর গুনতাম কখন ড্রয়িং ক্লাস শুরু হবে। ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে যে সালামি পেতাম সেটাও যত্ন করে রেখে দিতাম রং, পেন্সিল আর তুলি কেনার জন্য।’

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
এভাবেই ছবি আঁকেন হামদি। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় বিমূর্ত চিত্রকর্মের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। ওই সময় তিনি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ইন্টাগ্রামে দিতে শুরু করেন। আশা ছিল এক সময় পেশাদার শিল্পী হয়ে উঠবেন।

‘বিমূর্ত শিল্প আমার কাছে একটি বড় সুযোগ হয়ে ধরা দেয়। এ ধরনের ছবির সবচেয়ে মজার দিকটি হচ্ছে, প্রতিদিন এর একটি নতুন দিক আপনার সামনে উন্মোচিত হবে।’

হামদি জানান, ২০১৪ সাল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। ওই বছর ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার কারণে বিছানাবন্দী হয়ে পড়েন তিনি। হামদি বলছিলেন, যন্ত্রণা আর হতাশায় ডুবে গিয়েছিলাম আমি। স্মৃতি হাতড়ানো ছাড়া করার মতো আর কোনো কাজই ছিল না।

হলিউডে কোটি ডলারে বিকোচ্ছে সৌদি শিল্পীর চিত্রকর্ম
দেয়ালে দেয়ালে হামদির চিত্রকর্ম। ছবি: সংগৃহীত

‘নিজের কষ্ট, যন্ত্রণা কাউকে বলতেও পারতাম না। পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। তখন বুঝতে পারি, এই কষ্ট থেকে একমাত্র ছবি আঁকাই আমাকে মুক্তি দিতে পারে। এই দুঃসময় কেটে যাওয়ার পর আমি আবার রঙ দিয়ে খেলতে শুরু করি। আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায় এই রঙ। জীবন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। আমি নতুন করে বাঁচতে শুরু করি।’

গোড়ার দিকে মানুষকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে অস্বস্তি হতো। এক প্রদর্শনীতে তার ছবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

তিনি প্রথম চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেন ২০১৭ সালে। প্রদর্শনীর নাম ছিল মিনস্ক হিস্টরিক জেদ্দা। পরের বছর আবার মিনস্ক আর্টে অংশ নেন তিনি। এর পর আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

‘শিল্পকলা পদক’ এ মনোনীত ১৮ জন ও ২ সংগঠন

শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছরিই দেয় শিল্পকলা পদক। ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারীর কারণে ২০১৯ এবং ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণের মেডেল ও এক লাখ করে টাকা প্রদান করা হবে।

দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য ১৮ গুণীজন ও ২ সংগঠনকে শিল্পকলা পদক প্রদানের জন্য চুড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছর ‘শিল্পকলা পদক’ পদক প্রদান করে থাকে।

করোনা মহামারির কারণে ২০১৯ এবং ২০২০ দুই বছরের পদক একসঙ্গে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সুবিধামতো সময়ে পদক প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের হাতে স্বর্ণের মেডেল ও এক লাখ করে টাকা প্রদান করা হবে।

২০১৯ সালে শিল্পকলা পদকে মনোনীতরা হলেন-

যন্ত্র সঙ্গীতে (বাঁশি) জনাব মনিরুজ্জামান, নৃত্যকলায় লুবনা মারিয়াম, কণ্ঠসংগীতে হাসিনা মমতাজ, চারুকলায় আবদুল মান্নান, নাট্যকলায় মাসুদ আলী খান, ফটোগ্রাফিতে এম. এ তাহের, লোকসংস্কৃতিতে শম্ভু আচার্য (পট শিল্পী), আবৃত্তিতে হাসান আরিফ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক (অতিরিক্ত ক্ষেত্র) ছায়ানট এবং চলচ্চিত্রে অনুপম হায়াত।

২০২০ সালে শিল্পকলা পদকে মনোনীতরা হলেন-

যন্ত্র সংগীতে (সানাই) সামসুর রহমান, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ, কণ্ঠসংগীত মাহমুদুর রহমান বেণু, চারুকলায় শহিদ কবীর, নাট্যকলায় মলয় ভৌমিক, ফটোগ্রাফিতে মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম স্বপন, লোকসংস্কৃতিতে শাহ্ আলম সরকার, আবৃত্তিতে ডালিয়া আহমেদ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক (অতিরিক্ত ক্ষেত্র) দিনাজপুর নাট্য সমিতি এবং চলচ্চিত্রে শামীম আখতার।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার

শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন দুই বাংলার খ্যাতিমান এই কথা সাহিত্যিক। শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দুই বাংলার খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছে তার।

শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সমরেশ মজুমদারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই সাহিত্যিকের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা হচ্ছিল। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চেস্ট এক্সরে, সিটিস্ক্যানসহ একাধিক রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার করোনা করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

সমরেশের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায়। শুধু উপন্যাস নয়, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনীতেও তিনি সমান জনপ্রিয়।

তার উপন্যাস সমগ্রর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালবেলা, কালপুরুষ, উত্তরাধিকার, সাতকাহন, তেরো পার্বণ, আট কুঠুরি নয় দরজা, গঙ্গা।

সাহিত্যে অসাধারণ স্বীকৃতি হিসেবে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সমরেশ। ১৯৮২ সালে পান আনন্দ পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইআইএমএস পুরস্কারে সম্মানিত হন।

সমরেশ মজুমদারের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার অগণিত পাঠক। তার সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

ওয়েবিনারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

শিগগিরই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘এ জন্য জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনে নেয়া প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

‘আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ ২০২১’ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর আয়োজিত ‘এম্পাওয়ারিং আরকাইভস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় আরকাইভসের বিকল্প নেই জানিয়ে কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় আরকাইভসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শেষ করতে শিগগিরই এর তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’

রোববার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভ বিল, ২০২১’ উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘আইন এবং প্রকল্প দুটি (অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশন) বাস্তবায়িত হলে জাতীয় আরকাইভসের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।’

বাংলাদেশ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিসচিব বদরুল আরেফীন।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর সাবেক আইজিপি মো. সানাউল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, বাংলাদেশ আরকাইভস ও রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ।

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আরকাইভস (আইসিএ) অনলাইনে আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ পালন করছে। ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এবার আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, আরকাইভসের সক্ষমতা।

মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিল ও সরকারের স্থায়ী রেকর্ডস ও আর্কাইভস সংরক্ষণে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার দপ্তর যাত্রা শুরু করে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

রবির ভুলর ব্যাখ্যা চেয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

ভুলের ব্যাখ্যা চেয়ে রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৬ জুন ইস্যু করা সেই চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রবিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে তার প্রতি সম্মান জানাতে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টার পোস্ট করেছিল। যেখানে কাজী নজরুল ইসলামের বদলে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যুবক বয়সের ছবি।

সেই ভুলের ব্যাখ্যা চেয়ে রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৬ জুন ইস্যু করা সেই চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রবিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘রবি টেলিকম’ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি না দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেয়া হয়।

কবি নজরুল রচিত একটি সংগীতের কয়েকটি লাইন তুলে ধরা হয়, সেখানেও অনেক ভুল ছিল। এ রকম চরম অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে ‘রবি টেলিকম’ বাংলা সাহিত্যের দুই কবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। ‘রবি টেলিকম’ এর এহেন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ গোটা বাঙ্গালি জাতি।

গত ২৭ মে কবির নাতনি খিলখিল কাজী বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘যারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে চেনে না। তাদের এই দেশে থাকার অধিকার নেই। ধিক ধিক ধিক রবি কে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কবিকেই অপমান করা হলো। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।’

পরে রবিকে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়।

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
ভুল স্বীকার করে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

এই ভুলের জন্য ২৮ মে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ভুল স্বীকার করে।

পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি লেখে, ‘গত ২৫শে মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সি রবির ফেসবুক পেইজের একটি পোস্টে ভুল ছবি প্রকাশ করে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরকিভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে আমরা পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের লক্ষ্য ১০০ ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি করা। ছবি; সৌদি গেজেট

বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।  

ধীরে ধীরে নিজেদের কক্ষপথ ছেড়ে বের হতে শুরু করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটির পাঠ্য বইয়ে রামায়ণ, মহাভারত পাঠ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

এবার দেশটি জোর দিয়েছে নিজেদের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইন উন্নয়নে। এ জন্য ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামে একটি নতুন প্রোগ্রাম উন্মোচন করেছে দেশটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সৌদি গেজেট জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন চালু করা সংস্থা দ্য ফ্যাশন কমিশন ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামের ওই প্রোগ্রাম ফ্যাশন ম্যাগাজিন ও ব্র্যান্ড ভোগ-এর সঙ্গে শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বৃহস্পতিবার।

এই প্রোগ্রাম হবে এক বছরের। বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।

সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামটি বৃহৎ আকারে করা হচ্ছে, যেখানে থাকছে ব্র্যান্ডিং, ধারণা, সেলস পারফরম্যান্স স্ট্র্যাটেজি, জনসংযোগ ও বিপণন, ক্লায়েন্ট নির্বাচন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি এবং নেতৃত্ব দক্ষতার প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌদি ডিজাইনার ও ব্র্যান্ডকে কীভাবে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া যায় অংশগ্রহণকারীদের সেটিও শেখানো হবে। এ জন্য অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক দলের কাছ থেকে বিষয়গুলো জানতে ও শিখতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এই প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কাজটি করবে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে থাকছে এলভিএমএইচ, কেরিং, ভ্যালেন্তিনো ফ্যাশন গ্রুপ, চানেল, বুলগারি অ্যান্ড স্করোভস্কি। সেই সঙ্গে শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ দেবে সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিনস, রয়েল কলেজ অফ আর্ট, ইয়েল অ্যান্ড পারসনস।

স্থানীয় বাজারে ক্রেতা বাড়াতে এবং সরাসরি বিক্রিকে উৎসাহিত করতে প্রোগ্রামটি প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ডিসেম্বরে রিয়াদে একটি সম্মেলন করবে। পাশাপাশি অনলাইনে ই-সেল, পাইকারি ও আন্তর্জাতিক বিক্রি বাড়াতে ২০২২ সালের প্রথমদিকে করা হবে একটি ক্যাম্পেইন।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাশন কমিশন ভোগের সঙ্গে সহযোগী হয়ে স্থানীয় ও আঞ্চলিক রিটেইল গড়ে তুলবে। ভোগ আরবিয়া শুধু মিডিয়ায় ব্র্যান্ডগুলোর প্রসারেই কাজ করবে এমন নয়, পাশাপাশি ফ্যাশন সম্পর্কিত সম্পাদকীয় ও সামাজিক মাধ্যমে এর প্রসারেও কাজ করবে।

আঞ্চলিক রিটেইলররা ভার্চুয়াল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেবে এবং ২০২২ সালের রমজান মাসকে সামনে রেখে বিক্রি পরিচালনাসহ রিটেইল স্টোর চালুর ব্যবস্থা করবে।

অবশ্য ‘সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড’ থেকে কিছু ব্র্যান্ড অধিগ্রহণের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রিতে সহায়তাও দেবে ভোগ আরবিয়া।

ফ্যাশন কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বুরাক চাকমাক বলেন, ‘সৌদি আরব ফ্যাশনসহ এখন সব খাতেই উন্নতি করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ফ্যাশনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচরণের এটা খুব ভালো সুযোগ।

‘স্থানীয় সৃজনশীলতা, ডিজাইন স্টুডিও, বিপণন ও কমিউনিকেশন এজেন্সি, উৎপাদক ও পরিবেশকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ফ্যাশন ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০-এর মতো প্রোগ্রাম দিয়ে আমরা সৌদি ডিজাইনারদের নিয়ে শুধু স্থানীয় নয়, বিশ্বমঞ্চও কাঁপিয়ে দিতে চাই।’

ভোগ আরবিয়ার এডিটর ইন চিফ ম্যানুয়েল আরনাট বলেন, ‘ভোগ আরবিয়া স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তুলে আনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের সঙ্গে সহযোগী হওয়া তারই ধারাবাহিকতা। আমরা সৌদি ফ্যাশন কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। আমরা কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বরং বৈশ্বিকভাবেই উদ্ভাবনের এই যাত্রাকে দীর্ঘ করতে পারব।’

সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড প্রোগ্রাম মূলত দেশটির ১০০ ডিজাইনরাকে এবং বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি করানো, ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোকে অন্যদেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া, ব্যবসায়িক সুবিধা দেয়া। সেই সঙ্গে ফ্যাশন কমিশনের এমন চেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগসহ অন্য সুবিধা দেয়ার কাজও করবে ভোগ।

এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে ব্র্যান্ডগুলোকে নিবন্ধনের (www.saudi100brands.com ) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববন্ধু হওয়ার দিন
এসএসএফ নিরাপত্তা পাবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকাররাও
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট

শেয়ার করুন