ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!

বিজিবি সদরদপ্তরের গেটে (বাঁয়ে) এবং এলিফ্যান্ট রোডে হাতির ভাস্কর্য। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!

বিজিবি সদরদ প্তরের গেটের পাশে বেঢপ গড়নের ভাস্কর্যে হাতির বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাথা, দীর্ঘ প্যাঁচানো শুঁড়, দেহের তুলনায় সরু পা, ঘাড় থেকে নিচের দিকে প্রায় সোজা নেমে যাওয়া দেহ, এমনকি এমন ধবধবে সাদা রঙের হাতি আফ্রিকার কোথাও নেই। আর এলিফ্যান্ট রোডে ঢোকার মুখে বাচ্চা হাতির দাঁত কীভাবে গজালো সেই প্রশ্নের কোনো জবাব নেই।

ধানমন্ডির শংকর এলাকা থেকে প্রতিদিনই সাতমসজিদ রোড-সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে ফকিরাপুল যাতায়াত করেন প্রিন্টিং ব্যবসায়ী সোহান পারভেজ। এই পথে দুটি জায়গায় রয়েছে ‘হাতির’ ভাস্কর্য। একটি পিলখানার বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের পাশে, আরেকটি সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে।

বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের পাশের ভাস্কর্যকে প্রথম দর্শনে হাতির বলে মেনে নেয়া বেশ কঠিন। গেটের দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি এবং আরও একটি আছে গেটের ওপরে।

প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ানো বা চিড়িয়াখানায় বন্দি হাতির যত ছবি দেখেছেন, তার কোনোটির সঙ্গেই ভাস্কর্যের ‘হাতি’ মেলাতে পারেন না সোহান পারভেজ। এলিফ্যান্ট রোডের দুটি হাতির অবয়ব নিয়েও আপত্তি রয়েছে তার।

এই ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বলতে গেলে প্রতিদিনই একবার করে চোখ আটকায় এই ভাস্কর্যগুলোতে। আমার কাছে সবচেয়ে অদ্ভুত লাগে বিজিবির গেটের হাতিগুলো।

‘হাতি দেখতে কি এ রকম হয় বলেন? দেখতে কেমন যেন! আর সায়েন্সল্যাবের মাথার হাতির দিকে তাকানো যায় না। না বড় হাতি, না বাচ্চা হাতি কেমন জানি সাইজ এগুলোর। অনেক দিন ধরে আবার সেটার মুখ, দাঁত, লেজ ভাঙা, চারদিকে নোংরা।’

বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের হাতির প্রতিটিতে দাঁত রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হাতির বাহ্যিক কিছু বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণের সাধারণ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। সে অনুযায়ী, আফ্রিকান হাতির ক্ষেত্রে পুরুষ বা মাদি- দুই ধরনের হাতিতেই লম্বা দাঁত দেখা যায়। তবে এশিয়ান মাদি হাতির লম্বা দাঁত নেই, কখনও কখনও এ ধরনের মাদি হাতির দৃশ্যমান দাঁতই থাকে না। এ ছাড়া, হাতির প্রতিটি দলে পুরুষের পাশাপাশি মাদি হাতিও থাকে।

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
বিজিবি সদর দপ্তরের গেটে হাতির ভাস্কর্য

বিজিবি গেটের ভাস্কর্যে সবগুলো হাতির লম্বা দাঁত থাকায় ধরে নেয়া যেতে পারে, সেগুলো আফ্রিকান প্রজাতির পুরুষ ও মাদি হাতির একটি দল। বিশালাকার কান থেকেও ধরে নেয়া যায়, ভাস্কর এশিয়ান হাতি নয়, তৈরি করতে চেয়েছেন আফ্রিকান প্রজাতির হাতি।

তবে মাথা থেকে শুরু করে দেহের আর কোনো গড়ন থেকেই এই ভাস্কর্যে হাতির বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাথা, দীর্ঘ প্যাঁচানো শুঁড়, দেহের তুলনায় সরু পা, ঘাড় থেকে নিচের দিকে প্রায় সোজা নেমে যাওয়া দেহ, এমনকি এমন ধবধবে সাদা রঙের হাতি আফ্রিকার কোথাও নেই।

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
এলিফ্যান্ট রোডে হাতির ভাস্কর্য

এলিফ্যান্ট রোডে ঢোকার মুখের দুটি হাতি এসব জটিলতা কিছুটা এড়াতে পারলেও প্রাপ্তবয়স্ক হাতির পাশে থাকা বাচ্চা হাতিরও দাঁত কীভাবে গজালো সেই প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। তাছাড়া, এই হাতির শুঁড়ও দেহের তুলনায় লম্বা, দেহের গড়ন নিয়েও আছে বিস্তর প্রশ্ন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভাঙা পড়েছে দাঁত, লেজ।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা দিশেহারা

বাঘ ও হাতি বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলছেন, এসব ভাস্কর্য যারা বানাচ্ছেন তাদের হাতি নিয়ে বাস্তব কোনো ধারণা নেই।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেউ যদি কোনো প্রাণীর ভাস্কর্য বানান, তার প্রথম দায়িত্ব হলো রিয়েল ওয়ার্ল্ডে প্রাণীটিকে দেখা, ইভেন নট ইন ফটোগ্রাফ। আমাদের এখানে হয় কি, যিনি এটা বানান, ইন্টারনেটে তিনি হয়তো একটা ছবি দেখে সেটা বানানোর চেষ্টা করেন। যিনি এগুলো বানাচ্ছেন, তার উচিত ছিল এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলা।’

বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের পাশের ভাস্কর্যকে আফ্রিকান প্রজাতির হাতি হিসেবে শনাক্ত করার পক্ষে ড. আজিজ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আফ্রিকান প্রজাতির হাতির কান অনেক বড় হয়, তাছাড়া সামনের দিক থেকে এদের অ্যাপিয়ারেন্স কিছুটা অ্যাগ্রেসিভ। এশিয়ান এলিফ্যান্টের অ্যাপিয়েরেন্স অতটা অ্যাগ্রেসিভ নয়।’

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
আফ্রিকান হাতি (বাঁয়ে) এবং এশিয়ান হাতি

হাতির গায়ে সাদা রং চড়ানোর বিষয়ে প্রচণ্ড আপত্তি আছে ড. আজিজের। তিনি বলেন, কোনো হাতির বায়োলজিক্যাল কোনো প্রবলেম হলে গায়ের রং কিছুটা সাদা হতে পারে। তবে একেবারে সাদা বলতে যা বোঝায় এটা কিন্তু সেই সাদা না। তাছাড়া সাদা হাতি আমি কেন করব! ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ডে এটা তো এক্সেপশনাল ঘটনা। মানুষের মধ্যেও আমরা কারও কারও শ্বেত রোগ দেখে থাকি, কিন্তু সেটা তো কমন নয়। আপনি হয়তো বনে এক শটা হাতি দেখলেন, তার মধ্যে একটা হয়তো পাওয়া যাবে কিছুটা সাদা। আমি সেটাই কেন ভাস্কর্যের জন্য বেছে নেব?’

ভাস্কর্যের হাতির শুঁড় তুলনামূলক লম্বা জানিয়ে তিনি বলেন, বিজিবি গেটের হাতির শুঁড়ে যেভাবে কয়েক প্যাঁচ রয়েছে সেটাও অসম্ভব।

অধ্যাপক ড. এম এ আজিজের কাছে এলিফ্যান্ট রোডের বাচ্চা হাতির দাঁত গজানোর কোনো ব্যাখ্যা নেই। তিনি বলেন, ‘নরমালি বাচ্চা হাতির দাঁত বাইরে ওইভাবে এক্সপোজড থাকে না। আমাদের বাচ্চাদেরও তো শুরুতে থাকে না। এরপর তার দুধদাঁত ওঠে, তারপর সেগুলো পড়ে গিয়ে স্থায়ী দাঁত ওঠে।’

ড. আজিজ মনে করেন, এ ধরনের ভাস্কর্য কেবল সৌন্দর্যহানিই ঘটাচ্ছে না, প্রাণী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিরও জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাচ্চারা বা ইয়াং জেনারেশন হয়তো ১০ বছর পরে আর হাতিই দেখবে না। তখন এসব ভাস্কর্য থেকে তারা একটা ধারণা নেবে। ক্লাসে টিচার যখন বলবে, এশিয়ান মাদি হাতির দাঁত থাকে না, তখন তারা বলবে, কই আমরা তো এলিফ্যান্ট রোডের সব হাতিরই দাঁত দেখেছি।’

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
বাচ্চাসহ এশিয়ান হাতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামানও দিচ্ছেন একই মত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাতির কানটা কতটুকু লম্বা হয়, শুঁড়টা কতটুকু লম্বা হয়, মাথার সঙ্গে বডির রেশিও কত, এসব চিন্তা করা হচ্ছে না। ভাস্কর্য বানাতে পারে বানিয়ে রেখে দেয়। সেটা কিসের ভাস্কর্য হলো, মানুষের হলো না জন্তুর হলো, এগুলো তারা চিন্তা করে না।

‘ওই জায়গাগুলোতে ভাস্কর্য বসিয়েছে কেন, উদ্দেশ্য কী? এখন এই প্রাণীগুলো অতি বিপন্ন হয়ে গেছে। এই অতি বিপন্ন প্রাণীগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য, দরদ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন জায়গায় এসব ভাস্কর্য আমরা করে থাকি। সেখানে আমরা একটা হাতির ভাস্কর্য বসাতে গিয়ে সেটা হাতি না হয়ে যদি অন্য কিছু বোঝায় তাহলে এটা খারাপ অবশ্যই।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করি, কখনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় না। সারা পৃথিবীতে যেকোনো জিনিস সরকার যখন করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজে; এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কে, তাদের পরামর্শ নেয়, সেই অনুয়ায়ী কাজ করে। আর আমাদের দেশে তোয়াক্কা করে না এগুলো।

‘আপনি একটা প্রাণী যখন ডিসপ্লে করবেন, কোন মোশনে সেটা থাকা উচিত, সেই প্রাণীটা বসলে কীভাবে বসে থাকে, কত অ্যাঙ্গেলে মাথাটা ঘুরিয়ে থাকে, কত অ্যাঙ্গেলে বডিটা ঘোরানো থাকে। হাতিটা থাকলে শুঁড়টা কীভাবে থাকে? কোন অ্যাঙ্গেলে ঘোরানো থাকে।’

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
বিজিবি সদর দপ্তরের গেটে ভাস্কর্যের হাতির শুঁড়ে আছে বিস্ময়কর প্যাচ

শিল্পবোদ্ধা, নগর বিশেষজ্ঞরাও দুশ্চিন্তায়

এসব ভাস্কর্য নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওরিয়েন্টাল আর্টের শিক্ষক গুপু ত্রিবেদীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘এই ভাস্কর্যগুলো কে করেছে আমি জানি না, কিন্তু কাজগুলো খুবই দুর্বল। সোজা কথা এগুলো ডিসপ্রোপরসন ওয়ার্ক। ভাস্কর্যের যে প্রোপরসন থাকে, সেটা ঠিক নাই। চোখের জায়গায় চোখ নাই, দাঁতের জায়গায় দাঁত নাই। মাথা আর বডির কোনো সম্পৃক্ততা নাই। অ্যাবনরমাল একটা ব্যাপার।

‘আর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের বাচ্চা হাতির তো দাঁত হয়ে আছে। এই কাজগুলো নিয়ে যদি বলি তাহলে এগুলো না শিল্প, না অশিল্প, কিছুর মধ্যেই পড়ে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ভাস্কর মুকুল কুমার বাড়ৈ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ভাস্কর্যগুলো দিয়ে আমাদের আরবান কর্তৃপক্ষের শিল্পবোধের যে জায়গাটা, সেখানে কিছুটা হলেও দুর্বলতার প্রকাশ পায়। সবকিছু মিলেই তো আমাদের প্রকাশ এবং আমরা আমাদেরই প্রকাশিত করছি। সে ক্ষেত্রে আমাদের শিল্প উৎকর্ষে র যে জায়গাটা সেটা অপ্রকাশিত হচ্ছে।’

নগর পরিকল্পনাবিদ, গবেষক ও শিল্পসমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন একটা হাতির ভাস্কর্য বসানো হয়েছিল, সেটা তো করেছিল নিশ্চয় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য। হাতি, ঘোড়া যাই হোক, এগুলো তো সৌন্দর্যের জন্য বসাতেই পারে।

‘সেটা ঠিক আছে, কিন্তু জায়গাটা যেন সুন্দরভাবে পরিকল্পিত হয় ও স্থাপনাটা সুন্দর হয় এবং সবচেয়ে বড় কথা বসানোর পরে যেন এটা যত্নের সঙ্গে সংরক্ষিত হয়। তা না করে একটা কিছু বানালাম, অযত্নে ফেলে রাখলাম, তাতে শহরের সৌন্দর্য সেটাও বাড়ে না আর শিল্পকর্মের প্রতি আমাদের যে অবজ্ঞা সেটা প্রমাণ দেয়। আর আমরা জন্তু-জানোয়ারকে কতটা ভালোবাসি বা বাসি না সেটাও প্রমাণ রাখে।’

এসব ভাস্কর্য কার পরামর্শে এবং কার অনুমতি নিয়ে করা হচ্ছে- প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, ‘এটায় তো অবশ্যই সিটি করপোরেশনের অনুমোদন লাগবে। এখন আমাদের এত বড় শহর, রাজধানী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুলের শহরের একটা। কিন্তু এখানে শিল্পকর্ম কোথায় কীভাবে স্থাপন করা হবে, কে সংরক্ষণ করবে কোনো নিয়মকানুন নাই। কোনো চিন্তাভাবনা নাই।’

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
এলিফ্যান্ট রোডের হাতির ভাস্কর্যের দাঁত, মুখও ভেঙে গেছে

ভাস্কর অধরা, কর্তৃপক্ষের চোখে শিল্প

বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের পাশে ও এলিফ্যান্ট রোডের ভাস্কর্যের নির্মাতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি নিউজবাংলা। তবে বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিজিবি গেটের ভাস্কর্যের নির্মাতার নাম কবীর চৌধুরী। দেশে আর কোথাও তার কোনো শিল্পকর্ম আছে কি না, সে ব্যাপারে ভাস্কর্যশিল্পীরাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

বিজিবির গেটের হাতিগুলোকে শুধু শিল্পকর্ম হিসেবেই দেখতে চান বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান।

হাতির ভাস্কর্যের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি নিউজবাংলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘শুঁড় নিয়ে বলবেন তো? শুঁড়টা অনেক লম্বা তাই তো? দেখেন সবকিছু তো স্কেল হিসেবে হয় না। সেই হিসেবে প্রতীকী অর্থে ধরে নেয়াটাই সবচেয়ে শৈল্পিক হবে আরকি।’

ঢাকার বুকে হাতির মতো এ কী!
বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের উপরেও আছে ভাস্কর্যের একটি হাতি

বিজিবির এই কর্মকর্তা দাবি করেন, হাতির ভাস্কর্য বানানো হয়েছে ঢাকা ও পিলখানার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে।

এই ধরনের শ্বেতশুভ্র এবং বেঢপ হাতি ঐতিহ্য বহন করে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটার যৌক্তিকতা একেবারেই একেকজনের কাছে একেক রকম। একেকজনের চিন্তার লাইন একেক রকম হবে। তবে যে উদ্দেশ্যে করা সেটা মূলত ঐহিত্যকে ধারণ, স্মৃতিকে ধরে রাখা। আমরা নিজেদেরকে ঐতিহ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি; হ্যাঁ পিলখানায় সিম্বল অফ হাতি।’

আর ঢাকায় হাতির ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম।

তিনি বলেন, ‘সংবাদ সংক্রান্ত এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাদের পাবলিক রিলেশন অফিসার আছে, তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার আইসিইউতে

সমরেশ মজুমদার

শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন দুই বাংলার খ্যাতিমান এই কথা সাহিত্যিক। শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

দুই বাংলার খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছে তার।

শুক্রবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমরেশকে কলকাতার বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো গ্লেনেগলসে ভর্তি করানো হয়। শ্বাসনালী ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। তবে রাতের তুলনায় তার অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সমরেশ মজুমদারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই সাহিত্যিকের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা হচ্ছিল। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চেস্ট এক্সরে, সিটিস্ক্যানসহ একাধিক রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার করোনা করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

সমরেশের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায়। শুধু উপন্যাস নয়, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, গোয়েন্দা কাহিনীতেও তিনি সমান জনপ্রিয়।

তার উপন্যাস সমগ্রর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালবেলা, কালপুরুষ, উত্তরাধিকার, সাতকাহন, তেরো পার্বণ, আট কুঠুরি নয় দরজা, গঙ্গা।

সাহিত্যে অসাধারণ স্বীকৃতি হিসেবে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সমরেশ। ১৯৮২ সালে পান আনন্দ পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইআইএমএস পুরস্কারে সম্মানিত হন।

সমরেশ মজুমদারের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন তার অগণিত পাঠক। তার সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

চূড়ান্ত হচ্ছে আরকাইভস ডিজিটাইজেশন প্রকল্প

ওয়েবিনারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

শিগগিরই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, ‘এ জন্য জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনে নেয়া প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

‘আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ ২০২১’ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর আয়োজিত ‘এম্পাওয়ারিং আরকাইভস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অচিরেই জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল আরকাইভস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ডিজিটাইজেশনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের প্রকল্প দলিল চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় আরকাইভসের বিকল্প নেই জানিয়ে কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় আরকাইভসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শেষ করতে শিগগিরই এর তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’

রোববার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভ বিল, ২০২১’ উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘আইন এবং প্রকল্প দুটি (অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশন) বাস্তবায়িত হলে জাতীয় আরকাইভসের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।’

বাংলাদেশ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিসচিব বদরুল আরেফীন।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর সাবেক আইজিপি মো. সানাউল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, বাংলাদেশ আরকাইভস ও রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক অতিরিক্ত সচিব জালাল আহমেদ।

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন আরকাইভস (আইসিএ) অনলাইনে আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহ পালন করছে। ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এবার আন্তর্জাতিক আরকাইভস সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, আরকাইভসের সক্ষমতা।

মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিল ও সরকারের স্থায়ী রেকর্ডস ও আর্কাইভস সংরক্ষণে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার দপ্তর যাত্রা শুরু করে।

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

রবির ভুলর ব্যাখ্যা চেয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

ভুলের ব্যাখ্যা চেয়ে রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৬ জুন ইস্যু করা সেই চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রবিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে তার প্রতি সম্মান জানাতে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টার পোস্ট করেছিল। যেখানে কাজী নজরুল ইসলামের বদলে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যুবক বয়সের ছবি।

সেই ভুলের ব্যাখ্যা চেয়ে রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ৬ জুন ইস্যু করা সেই চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে রবিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৫ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘রবি টেলিকম’ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয়। পোস্টে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি না দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেয়া হয়।

কবি নজরুল রচিত একটি সংগীতের কয়েকটি লাইন তুলে ধরা হয়, সেখানেও অনেক ভুল ছিল। এ রকম চরম অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে ‘রবি টেলিকম’ বাংলা সাহিত্যের দুই কবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। ‘রবি টেলিকম’ এর এহেন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ গোটা বাঙ্গালি জাতি।

গত ২৭ মে কবির নাতনি খিলখিল কাজী বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘যারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে চেনে না। তাদের এই দেশে থাকার অধিকার নেই। ধিক ধিক ধিক রবি কে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই কবিকেই অপমান করা হলো। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।’

পরে রবিকে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশও পাঠানো হয়।

নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
ভুল স্বীকার করে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

এই ভুলের জন্য ২৮ মে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ভুল স্বীকার করে।

পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি লেখে, ‘গত ২৫শে মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সি রবির ফেসবুক পেইজের একটি পোস্টে ভুল ছবি প্রকাশ করে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরকিভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে আমরা পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের লক্ষ্য ১০০ ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি করা। ছবি; সৌদি গেজেট

বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।  

ধীরে ধীরে নিজেদের কক্ষপথ ছেড়ে বের হতে শুরু করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটির পাঠ্য বইয়ে রামায়ণ, মহাভারত পাঠ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

এবার দেশটি জোর দিয়েছে নিজেদের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইন উন্নয়নে। এ জন্য ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামে একটি নতুন প্রোগ্রাম উন্মোচন করেছে দেশটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সৌদি গেজেট জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন চালু করা সংস্থা দ্য ফ্যাশন কমিশন ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামের ওই প্রোগ্রাম ফ্যাশন ম্যাগাজিন ও ব্র্যান্ড ভোগ-এর সঙ্গে শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বৃহস্পতিবার।

এই প্রোগ্রাম হবে এক বছরের। বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।

সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামটি বৃহৎ আকারে করা হচ্ছে, যেখানে থাকছে ব্র্যান্ডিং, ধারণা, সেলস পারফরম্যান্স স্ট্র্যাটেজি, জনসংযোগ ও বিপণন, ক্লায়েন্ট নির্বাচন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি এবং নেতৃত্ব দক্ষতার প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌদি ডিজাইনার ও ব্র্যান্ডকে কীভাবে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া যায় অংশগ্রহণকারীদের সেটিও শেখানো হবে। এ জন্য অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক দলের কাছ থেকে বিষয়গুলো জানতে ও শিখতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এই প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কাজটি করবে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে থাকছে এলভিএমএইচ, কেরিং, ভ্যালেন্তিনো ফ্যাশন গ্রুপ, চানেল, বুলগারি অ্যান্ড স্করোভস্কি। সেই সঙ্গে শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ দেবে সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিনস, রয়েল কলেজ অফ আর্ট, ইয়েল অ্যান্ড পারসনস।

স্থানীয় বাজারে ক্রেতা বাড়াতে এবং সরাসরি বিক্রিকে উৎসাহিত করতে প্রোগ্রামটি প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ডিসেম্বরে রিয়াদে একটি সম্মেলন করবে। পাশাপাশি অনলাইনে ই-সেল, পাইকারি ও আন্তর্জাতিক বিক্রি বাড়াতে ২০২২ সালের প্রথমদিকে করা হবে একটি ক্যাম্পেইন।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাশন কমিশন ভোগের সঙ্গে সহযোগী হয়ে স্থানীয় ও আঞ্চলিক রিটেইল গড়ে তুলবে। ভোগ আরবিয়া শুধু মিডিয়ায় ব্র্যান্ডগুলোর প্রসারেই কাজ করবে এমন নয়, পাশাপাশি ফ্যাশন সম্পর্কিত সম্পাদকীয় ও সামাজিক মাধ্যমে এর প্রসারেও কাজ করবে।

আঞ্চলিক রিটেইলররা ভার্চুয়াল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেবে এবং ২০২২ সালের রমজান মাসকে সামনে রেখে বিক্রি পরিচালনাসহ রিটেইল স্টোর চালুর ব্যবস্থা করবে।

অবশ্য ‘সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড’ থেকে কিছু ব্র্যান্ড অধিগ্রহণের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রিতে সহায়তাও দেবে ভোগ আরবিয়া।

ফ্যাশন কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বুরাক চাকমাক বলেন, ‘সৌদি আরব ফ্যাশনসহ এখন সব খাতেই উন্নতি করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ফ্যাশনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচরণের এটা খুব ভালো সুযোগ।

‘স্থানীয় সৃজনশীলতা, ডিজাইন স্টুডিও, বিপণন ও কমিউনিকেশন এজেন্সি, উৎপাদক ও পরিবেশকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ফ্যাশন ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০-এর মতো প্রোগ্রাম দিয়ে আমরা সৌদি ডিজাইনারদের নিয়ে শুধু স্থানীয় নয়, বিশ্বমঞ্চও কাঁপিয়ে দিতে চাই।’

ভোগ আরবিয়ার এডিটর ইন চিফ ম্যানুয়েল আরনাট বলেন, ‘ভোগ আরবিয়া স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তুলে আনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের সঙ্গে সহযোগী হওয়া তারই ধারাবাহিকতা। আমরা সৌদি ফ্যাশন কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। আমরা কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বরং বৈশ্বিকভাবেই উদ্ভাবনের এই যাত্রাকে দীর্ঘ করতে পারব।’

সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড প্রোগ্রাম মূলত দেশটির ১০০ ডিজাইনরাকে এবং বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি করানো, ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোকে অন্যদেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া, ব্যবসায়িক সুবিধা দেয়া। সেই সঙ্গে ফ্যাশন কমিশনের এমন চেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগসহ অন্য সুবিধা দেয়ার কাজও করবে ভোগ।

এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে ব্র্যান্ডগুলোকে নিবন্ধনের (www.saudi100brands.com ) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

কবি ফররুখ আহমদের বাড়ির চারদিকে এখন লাল ফিতার খুঁটি দেয়া। লাল নিশান দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে কবির জন্মঘরটিও। ছবি: নিউজবাংলা

কবির ভাতিজি সৈয়দা দিলরুবা বলেন, ‘রেললাইনের সংযোগে আমাদের পুরো বাড়িটি বিশেষ করে কবির জন্মঘর, পাঠাগার, কবির পিতামাতার কবরসহ পরিবারের অন্যান্যের কবর পড়েছে। এ কারণে আমাদের পারিবারিক সবকিছুই এখন রেললাইনের সীমানায় লাল দাগে পড়ে গেছে। এ জন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

মাগুরা-ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী কামারখালী সেতুর দক্ষিণেই মাঝাইল গ্রাম। প্রধান সড়ক দিয়ে পাঁচ মিনিট হেঁটে গেলেই মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে খ্যাত ফররুখ আহমদের বাড়ি।

সেখানে গিয়ে দেখা গেল, কবির বাড়ির চারদিকে এখন লাল ফিতার খুঁটি দেয়া। লাল নিশান দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে কবির জন্মঘরটিও।

মধুখালী-মাগুরা রেললাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণে এই লাল নিশানা দিয়ে গেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এটি ঘিরে চলছে সমালোচনা। স্থানীয়রা চাইছেন, কবির বাড়ি যেন অক্ষত থাকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ কামাল বলেন, ‘কবির বসতভিটা রক্ষা শুধু আমাদের কাজ নয়। তিনি বাংলাদেশের একজন জাতীয় পর্যায়ের কবি। তাকে সবাই চেনে। তার জন্মভিটা আমরা আগলে রেখেছি প্রায় দেড় শ বছর। এটা আমরা ভাঙতে দেব না।’

কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুরের মাঝাইলে পৈতৃক বাড়িতে জন্ম নেন। পিতা খান বাহাদুর সৈয়দ হাতেম আলীর বাড়ি এটি। এখানেই তার পূর্বপুরুষদের আদিবাস।

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত সেই বাড়িতে কবির অনেক স্মৃতি। কবি ও তার পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত একমাত্র ঘরটির আশপাশে রেললাইনের সীমানা পড়েছে। কবির স্বজনদের উদ্বেগ, কবে না ঘরদোর ভেঙে ফেলে কর্তৃপক্ষ।

রেললাইনটি ফরিদপুরের মধুখালী-কামারখালী হয়ে মধুমতী নদীর ওপর দিয়ে মাগুরা সদরের রামনগর এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ি ঘিরে চারটি লাল কাপড় বাঁধা খুঁটি মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। কবির মূল ঘরটির একটি দরজায় লাল চিহ্ন দিয়ে তীর চিহ্ন দেয়া। এ ছাড়া কবির স্বজনরা যেখানে থাকেন, সে ঘরটির বাইরের ছোট সিঁড়িতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নের সংখ্যা দেয়া।

ভাতিজি সৈয়দা দিলরুবা কবির বাসভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। মাগুরার জেলা প্রশাসক বরাবর বসতভিটা রক্ষার আবেদনের কথা জানালেন তিনি।

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

পুরো বাড়ি ঘুরে দেখিয়ে বললেন, ‘এটি ছাড়া আমাদের আর কোনো বসত নেই। বাপ-দাদার স্মৃতি তো বটেই, কাকার (কবি ফররুখ আহমদ) স্মৃতি এই ঘর।’ কবির একমাত্র ঘরটির বয়স প্রায় দেড় শ বছর বলে জানান তিনি।

দিলরুবা বলেন, ‘মাগুরাতে রেললাইন সংযোগ আসছে আমরা সবাই খুশি। কিন্তু একমাত্র ভিটেবাড়ি বলতে এটাই আমাদের সম্বল। রেললাইনের সংযোগে আমাদের পুরো বাড়িটি বিশেষ করে কবির জন্মঘর, পাঠাগার, কবির পিতামাতার কবরসহ পরিবারের অন্যান্যের কবর পড়েছে। এ কারণে আমাদের পারিবারিক সবকিছুই এখন রেললাইনের সীমানায় লাল দাগে পড়ে গেছে। এ জন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

দিলরুবা বলেন, ‘জেলা প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, বাড়িটি অক্ষত রেখেই রেললাইনের কাজ চলবে। আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। সে আশায় বসে আছি।’

কবির বাড়ির প্রতিবেশী ও স্বজনরা বলেন, ‘মধুমতী নদীর ওপর দিয়ে রেলব্রিজ হবে। আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। ওখান থেকে কবির বাড়ির ভেতর দিয়ে রেললাইন হবে শুনেছি। যারা সীমনা র্নিধারণের কাজে এসেছিলেন, লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছে।’

স্থানীয় মুদি দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কবির বাড়ি দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসে। আমার দোকানে বসে, গল্প করে, আমাদের এলাকার গল্প শুনতে চায়। তখন প্রাণডা জুড়ায়া যায়। কবির জন্য আমরা শুধু সম্মানিত হইনে। আমার মনে হয় দেশের সবাই তার নাম জানে। সেই কবির বাড়ি আমরা কোনোভাবেই ভাঙতে দেব না।’

কবির বাড়িতে রেলের লাল নিশান

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়র রশীদ মুহিত বলেন, ‘কবির বাড়ির চারদিকে রেললাইনের সীমানা ঠিক আছে। লাল পতাকাও বাঁধা হয়েছে। বিষয়টি আমি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন সীমানা দাগাঙ্কিত হলেও মূল রাস্তায় কবির বাড়ির কোনো ক্ষতি হবে না। তাই চিন্তার কারণ দেখি না।’

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কবি তো আমাদের জাতীয় পর্যায়ের কবিদের একজন। তার বাড়ি রক্ষায় তো সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিছুদিন আগেও কবির বাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট ও বিশ্রামাগার বানানো হলো। তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কবির বাড়ির পাশ দিয়ে রেললাইন হবে।’

মাগুরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. আশরাফুল আলম বলেন, ‘মধুখালী-মাগুরা অংশে নতুন রেললাইনের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে তার মধ্যে কবি ফররুখ আহমদের বসতভিটা পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাগুরার জনপ্রতিনিধিসহ নানা পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সবার পরামর্শে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

ডিসি বলেন, ‘কবির জন্ম নেয়া বাড়িটিসহ পুরো বাড়িটি অক্ষত রাখতে রেললাইনের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নকশায় একটা ওভার ব্রিজ নির্মাণ দেখানো হয়েছে। কবির বাড়ির পাশ দিয়ে ওভার ব্রিজের মাধ্যমে রেললাইন চলে যাবে।’

প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বাড়লেও কবির বাড়ির কোনো স্থাপনা ভাঙা পড়বে না বলেও জানান ডিসি।

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান

এবার উর্দু সিরিয়ালে পাওয়া গেল বাংলা লোকগান

গানটির দৃশ্য (বাঁয়ে) ও সিরিয়ালের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

নতুন ভিডিওটিতে দেখা যায়, সিরিয়ালের অভিনেত্রী বৃষ্টিতে ভিজছেন এবং ‘পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানাইয়া আমি রই, আমি তো সেই ঘরের মালিক নই’ গানটির সঙ্গে নৃত্য করছেন।

এবার নেট দুনিয়ায় পাওয়া উর্দু সিরিয়ালের এক ভিডিওতে পাওয়া গেল বাংলা লোকগানের ব্যবহার। টুইটারে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন আদিল হুসেন নামের এক টু্ইটার ব্যবহারকারী।

উর্দু সিরিয়ালটির নাম সাঙ্গ ই মার মার। সিরিয়ালের একটি ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানাইয়া আমি রই, আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’

দেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলিম গেয়েছিলেন গানটি। তবে উর্দু সিরিয়ালে গানটি শোনা গেছে নারী কণ্ঠে। কণ্ঠশিল্পীর নাম জানা যায়নি।

সাঙ্গ ই মার মার সিরিয়ালটি পাকিস্তানের হাম টিভিতে প্রচার হয়েছে। সিরিয়ালটি শুরু হয় ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বরে এবং শেষ হয় ২০১৭ সালের ৯ মার্চে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালে গাওয়া একটি রবীন্দ্রসংগীতের ভিডিও ভাইরাল হয় ভারত ও বাংলাদেশে। তাতে দেখা যায়, সিরিয়ালের এক নারী চরিত্র ড্রইং রুমে বন্ধুদের সামনে গাইছেন ‘আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই, তাই গো’ শিরোনামের রবীন্দ্রসংগীত।

এই ভিডিওটিও অনলাইনে প্রকাশের প্রায় ছমাস পর ভাইরাল হয়। আদিল হুসেনের শেয়ার করা নতুন লোকগানের ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েছে চলতি বছরের মে মাসের ১৮ তারিখে।

নতুন ভিডিওটিতে দেখা যায়, সিরিয়ালের অভিনেত্রী বৃষ্টিতে ভিজছেন এবং ‘পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানাইয়া আমি রই, আমি তো সেই ঘরের মালিক নই’ গানটির সঙ্গে নৃত্য করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে সন্দেহ রেখে জানিয়েছে, এটা কি বাংলাদেশি দর্শক টানার কৌশল? বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে। সেই পাকিস্তানের দুটি সিরিয়ালে ব্যবাহার করা হলো বাংলা গান! বাংলা ভাষাভাষি মানুষের আপ্লুত হওয়ার ঘটনা দেখে নেটিজেনরাও তেমন সন্দেহ করছেন। ভিন্ন মতও রয়েছে অনেকের।

আদিল হুসেনের সেই টুইটের মন্তব্যের ঘরেই কয়েকজন জানিয়েছেন, বাংলাদেশি দর্শকদের পাক ধারাবাহিকের দিকে নজর টানার জন্যই এই কৌশল।

সাঙ্গ ই মার মার ধারাবাহিকটি বেশ পুরনো। সে ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি দর্শক টানার তেমন কোনো সম্ভবনা নেই- এ কথাও জানয়েছেন নেটিজেনরা।

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন

বিশ্বভারতীর শিক্ষকরা অনুমতি ছাড়া কোনো অনুষ্ঠানে নয়

বিশ্বভারতীর শিক্ষকরা অনুমতি ছাড়া কোনো অনুষ্ঠানে নয়

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিশ্বভারতীর কোনো অধ্যাপক কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বভারতীর কোনো শিক্ষক অনুমতি ছাড়া বাইরের কোনো ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে এক নির্দেশনায়।

ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও অন্য শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে শিক্ষকরা বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের বাইরে, অনলাইনে বা কোনো ধরনের অনুষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অংশ নিতে পারবেন না।

অনুমতি ছাড়া কেউ বাইরের কোনো ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে ওই নির্দেশনায়।

সোমবারের দেয়া নির্দেশনাটি নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বভারতীতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, নির্দেশিকা জারি করে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

সংগীত ভবনের অধ্যক্ষ স্বপন ঘোষের সই করা একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, সংগীত ভবনের অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন বিশ্বভারতীর বাইরে কোনো সংস্থা, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক পেলে অনুষ্ঠানে অংশ না নেন। এমনকি অনলাইনের অনুষ্ঠান করতেও না করা হয়েছে নির্দেশিকায়।

এমন নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বভারতীর শিক্ষকদের সংগঠন বিভিইউএফএ।

তাদের মতে, ‘এই ধরনের নির্দেশনা শিক্ষকদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

‘কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো অধ্যাপক কিছু বললে তাকে বাইরে অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে না। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করতে এই কৌশল নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, সুশান্ত দত্তগুপ্ত উপাচার্য থাকার সময় সংগীত ভবনের শিক্ষকদের অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক ওঠে। তারপর এ রকম একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

বিশ্বভারতীর মুখপাত্র অনির্বাণ সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে চাননি।

গত বছর থেকে মহামারির কারণে বিশ্বভারতীর প্রত্যক্ষ ক্লাস বন্ধ রয়েছে। এখন সংগীত ভবনের অধ্যাপকদের অনলাইন অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেল।

দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ পান। এই নির্দেশনায় সেটিও বন্ধ হয়ে গেল।

রবীন্দ্রভাবনা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে বছরের পর বছর তুলে ধরেছে সংগীত ভবন, কলাভবন।

রবীন্দ্রনাথের সময় থেকেই এখানকার অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছেন এই গুরুদায়িত্ব।

শুধুমাত্র রবীন্দ্রসংগীত নয়, শাস্ত্রীয় সংগীত, বিভিন্ন যন্ত্রসংগীতের চর্চায় সারা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এই সংগীত ভবন।

ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে বসেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অধ্যাপকদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সুযোগ পেতেন, সেটিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে মত শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন:
টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

শেয়ার করুন