মধুমাসের সন্ধান

মধুমাসের সন্ধান

‘চৈত্রমাসকে কেন মধুমাস বলা হয়, তার কারণ জানা যায় ‘বসন্ত’ শব্দ থেকে। দুধের থেকে সর, সর থেকে ঘোল-মাখন হয়ে ঘি-এ পৌঁছানো যায়। সেই সুবাদে মধু হলো ঘি। ঠিক সেইরূপ বৈশাখ থেকে বসবাস ও বর্ষের শুরু এবং তার চূড়ান্ত হয় বসন্তে। সেই বসন্তের শেষ মাস হলো চৈত্রমাস। গ্রহণ-বর্জন-পুনরুৎপাদনের নীতিতে চলা মানবজীবনের জৈবিক সার্থকতা পুনরুৎপাদনে। বসন্তের অন্তে বা চৈত্র মাসে মানুষের প্রতিপালন প্রাচীন শব্দবিদগণের অখণ্ড চিন্তাশৃঙ্খলার সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়। সেই কারণে তারা চৈত্র মাসকে মধুমাস নাম দিয়েছিলেন।’

স্বর্গের বারান্দায় তখন গুনগুন করছিলেন কবিগুরু।

‘অযুত বৎসর আগে হে বসন্ত, প্রথম ফাল্গুনে

মত্ত কুতূহলী,

প্রথম যেদিন খুলি নন্দনের দক্ষিণ-দুয়ার

মর্তে এলে চলি,

অকস্মাৎ দাঁড়াইলে মানবের কুটিরপ্রাঙ্গণে

পীতাম্বর পরি,

উতলা উত্তরী হতে উড়াইয়া উম্মাদ পবনে

মন্দারমঞ্জরী,

দলে দলে নরনারী ছুটে এল গৃহদ্বার খুলি

লয়ে বীণা বেণু-

মাতিয়া পাগল নৃত্যে হাসিয়া করিল হানাহানি

ছুঁড়ি পুষ্পরেণু।

সখা, সেই অতিদূর সদ্যোজাত আদি মধুমাসে

তরুণ ধরায়

এনেছিলে যে কুসুম ডুবাইয়া তপ্ত কিরণের

স্বর্ণমদিরায়...

পুরোটা শেষ করতে পারলেন না রবীন্দ্রনাথ। হঠাৎ কে যেন বলে উঠল, এ আপনি কী শোনালেন গুরুদেব! মধু, মধু!

গুরুদেব খুশি হলেন নাকি রাগ করলেন, বোঝা গেল না। গোঁফ যে তার মুখটাই আড়াল করে রেখেছে বিজ্ঞাপনের মতো। তবে জবাব দিলেন, এটা আমার ‘বসন্ত’ কবিতা। কেবল শুরু করেছিলাম, এর মধ্যেই বাগড়া বাধিয়ে দিলে। তুমি কে ভাই?

গুরুদেব, আমি মধুমাস।

মধুমাস! গুরুদেব পারলে লাফিয়ে ওঠেন। ওহে মধুমাস, তুমিও স্বর্গে চলে এসেছ? আহা!

আবারও গুনগুন করে উঠলেন গুরুদেব-

ব্যর্থ জীবনের সে কয়খানি পরম অধ্যায়

ওগো মধুমাস,

তোমার কুসুমগন্ধে বর্ষে বর্ষে শূন্যে জলে স্থলে

হইবে প্রকাশ।

বকুল চম্পকে তারা গাঁথা হয়ে নিত্য যাবে চলি

যুগ যুগান্তরে,

বসন্তে বসন্তে তারা কুঞ্জে কুঞ্জে উঠিবে আকুলি

কুহুকলস্বরে।

অমর বেদনা মোর হে বসন্ত, রহি গেল তব

মর্মরনিশ্বাসে

উত্তপ্ত যৌবনমোহ রক্তরৌদ্রে রহিল রঞ্জিত

চৈত্রসন্ধ্যাকাশে।

কবিতাটা শেষ করে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন গুরুদেব। তারপর জানতে চাইলেন, ওহে মধুমাস, এ কবিতাখানা কেমন লাগল?

কিন্তু কোনো জবাব নেই। গুরুদেব বললেন, জবাব দিচ্ছ না কেন ওহে প্রিয় মধুমাস?

মধুমাস বলল, আমি তো মৃতপ্রায়।

আর্তনাদ করে উঠলেন গুরুদেব। বলো কী!

জি গুরুদেব। বাংলাদেশে আমি মৃতপ্রায়।

কিন্তু কেন?

তা তো জানি না। দু-একটি বাদে বাংলাদেশের প্রায় সব পত্রপত্রিকা আমার ঠিকানাই বদলে দিয়েছে। জ্যৈষ্ঠকেই মধুমাস বলে প্রচার করছে।

গুরুদেবের কপালে এবার কয়েকটা ভাঁজ পড়ল। বলো কী হে!

এই তো দেখুন না গুরুদেব।

বলেই ট্যাব খুলে কয়েকটা পত্রিকার ওয়েবসাইট দেখিয়ে দিল মধুমাস। গুরুদেবও অবাক হয়ে পত্রিকার শিরোনামগুলো দেখতে লাগলেন। দেখতে দেখতে গুরুদেবের চেহারাটা লাল হয়ে উঠতে লাগল।

গুরুদেব বললেন, কিন্তু এ কী করে সম্ভব! বাঙালি কবিদের অন্যতম কবি পঞ্চদশ শতকের বিদ্যাপতিও বলেছেন-

‘মধু ঋতু, মধুকর পাঁতি;

মধুর-কুসুম-মধু-মাতি।

মধুর বৃন্দাবন মাঝ,

মধুর মধুর রসরাজ।

মধুর-যুবতীগণ-সঙ্গ

মধুর মধুর রস রঙ্গ।

মধুর যন্ত্র সুরসাল,

মধুর মধুর করতাল।

মধুর নটন-গতিভঙ্গ,

মধুর নটনী-নট-রঙ্গ।

মধুর মধুর রস গান,

মধুর বিদ্যাপতি ভান।’

এটা বিদ্যাপতির পদাবলী-কীর্তনের ‘মধু ঋতু মধুকর পাঁতি’ কবিতা। ষোড়শ শতকের আরেক বাঙালি কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। চণ্ডীকাব্যের ‘ফুল্লরার বারমাস্যা’ কবিতায় মুকুন্দরাম লিখেছেন-

‘...মধুমাসে মলয়-মারুত বহে মন্দ

মালতীর মধুকর পিয়ে মকরন্দ।

বনিতা পুরুষ যত পীড়য়ে মদনে

ফুল্লরার অঙ্গ পুড়ে উদর-দহনে।’

এটুকু বলে গুরুদেব থামলেন। মধুমাস বলল, গুরুদেব, আপনার গীতবিতানেও তো এই গানটা আছে-

এবার গুন গুন করে গাইতে শুরু করল মধুমাস-

‘বিদায় করেছ যারে নয়ন-জলে,

এখন ফিরাবে তারে কিসের ছলে।

আজি মধু সমীরণে, নিশীথে কুসুম-বনে,

তারে কি পড়েছে মনে বকুল-তলে?’

এটুকু গেয়েই হঠাৎ থেমে গেল মধুমাস। বলল, আপনার আরেকটা গানের কথা মনে পড়ল গুরুদেব। এটাও আপনার গীতবিতানে ‘নাট্যগীতি’ শিরোনামে ৫৬ নম্বর গান হিসেবে আছে।

‘আজি উন্মাদ মধুনিশি ওগো চৈত্রনিশীথশশী।

তুমি এ বিপুল ধরণীর পানে কী দেখিছ একা বসি

চৈত্রনিশীথশশী।...

এবার গুরুদেব বললেন, আমার ‘আশ্রমপীড়া’ নাটকের প্রথম দৃশ্যের কথা মনে আছে? নবকান্তের সংলাপ দিয়ে এভাবে শুরু করেছিলাম-

‘ওঃ! প্রেমের রহস্য কে ভেদ করতে পারে! না জানি সে কিসের বন্ধন যাতে এক হৃদয়ের সঙ্গে আর এক হৃদয় বাঁধা পড়ে! কী জ্যোৎস্নাপাশ, কী পুষ্পসৌরভের ডোর, কী মুকুলিত মধুমাসের মধুর মলয়ানিলের বন্ধন!’

মনে পড়ে মধুমাস?

মধুমাস মাথা নেড়ে বলল, মনে পড়ে গুরুদেব। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’র সে কথাগুলোও মনে পড়ে-

‘না দিল দানব-বালা হুহুঙ্কার রবে, মাতঙ্গিনী-যূথ যথা মত্ত মধুকালে।’

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসেও আছে-

‘এমত নহে যে, একেবারে বায়ু বহিতেছিল না, মধুমাসে দেহ¯স্নিগ্ধকর বায়ু অতি মন্দ-একান্ত নিঃশব্দ বায়ু মাত্র, তাহাতে কেবলমাত্র বৃক্ষের সর্বাগ্রভাগারূঢ় পত্রগুলি হেলিতেছিল, কেবলমাত্র আভূমিপ্রণত শ্যামা লতা দুলিতেছিল; কেবলমাত্র নীলাম্বরসঞ্চারী ক্ষুদ্র শ্বেতাম্বুদখ-গুলি ধীরে ধীরে চলিতেছিল।’

মধুমাস এবার জানতে চাইল, গুরুদেব, ‘মধুমাস’ নামটা কী করে এল?

গুরুদেব বললেন, ওটা পাওয়া যাবে কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর ‘বঙ্গীয় সমার্থকোষ অভিধান’ থেকে। ওখানে বলা হয়েছে- ‘চৈত্রমাসকে কেন মধুমাস বলা হয়, তার কারণ জানা যায় ‘বসন্ত’ শব্দ থেকে। দুধের থেকে সর, সর থেকে ঘোল-মাখন হয়ে ঘি-এ পৌঁছানো যায়। সেই সুবাদে মধু হলো ঘি। ঠিক সেইরূপ বৈশাখ থেকে বসবাস ও বর্ষের শুরু এবং তার চূড়ান্ত হয় বসন্তে। সেই বসন্তের শেষ মাস হলো চৈত্রমাস। গ্রহণ-বর্জন-পুনরুৎপাদনের নীতিতে চলা মানবজীবনের জৈবিক সার্থকতা পুনরুৎপাদনে। বসন্তের অন্তে বা চৈত্র মাসে মানুষের প্রতিপালন প্রাচীন শব্দবিদগণের অখণ্ড চিন্তাশৃঙ্খলার সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়। সেই কারণে তারা চৈত্র মাসকে মধুমাস নাম দিয়েছিলেন।’

এছাড়া হিন্দি ভাষায় ‘বাহারি’ মানে মধুকাল বা মধুমাস। আবার ‘বাহারকে দিন’ মানে বসন্তকাল। অপরদিকে ফারসিতে ‘বহার’ মানে বসন্তকাল। ‘বহারী’ অর্থ বাসন্তী বা বসন্তকাল সম্বন্ধীয়। ষোড়শ শতকের বাংলা ভাষার বিখ্যাত কবি দৌলত উজির বাহরাম খান তার কাব্যে বলেছেন, ‘মধুমাসে উতলা বাতাস, কুহরে পিক; যদি সে কমল শিশিরে দহল কি করিব মধুমাসে।’ বসন্তের সখা কোকিল। এই কোকিলের আরেক নাম হলো ‘মধুসখা’।

মধুমাস বলল, গুরুদেব, খনার বচনেও শুনেছি-

‘মধুমাসে ত্রয়োদশ দিনে রয় শনি

খনা বলে সে বৎসর হবে শস্য হানি।’

অথবা-

‘মধুমাসে প্রথম দিবসে হয় যেই বার।

রবি শোষে, মঙ্গল বর্ষে, দুর্ভিক্ষ বুধবার।’

এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন গুরুদেব। জানতে চাইলেন, শুধু কি বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাতেই তোমার ঠিকানা বদল হয়েছে মধুমাস?

জি গুরুদেব। শুধু বাংলাদেশের কিছু পত্রিকা। ভারতের বাংলা ভাষার রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের কোনো পত্রিকা আমার ঠিকানা বদলায়নি- চৈত্রই রেখেছে।

এবার মুচকি হাসলেন গুরুদেব। বললেন, কিন্তু সাহিত্য থেকে তোমাকে বদলাবে কেমন করে?

মধুমাসের কণ্ঠে আফসোস, ওরা তো সাহিত্য পড়ে না। দিন দিন সাহিত্যপড়ুয়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

গুরুদেব বললেন, তা বুঝলাম। সাহিত্য পড়ে না, কাজেই কী করে জানবে? কিন্তু অভিধানও কি দেখে না?

কী যে বলেন না গুরুদেব! কেউ অভিধান ঘাঁটলে তো! এখন কেউ আর অত কষ্ট করে না। গুগলে সার্চ দেয়। সবকিছু গুগল থেকেই জোগাড় করে।

তাহলে তো বড্ড মুশকিল হলো! বসন্তে সবচেয়ে বেশি ফুল ফোটে। এটুকু তো সবাই জানে?

জি গুরুদেব, এটা সবাই জানে।

তাহলে তো বিষয়টা সহজ হয়ে গেল। ফাল্গুনে ফুল ফুটতে শুরু করে। চৈত্রে গিয়ে ফুলগুলো মধুতে ভরে যায়। আর ফুল মানেই মধু। কাজেই মধুমাস মানেই চৈত্রমাস। কারণ মধু থাকে ফুলে, ফলে নয়।

গুরুদেব, আপনিই তো বসন্তকে মানে মধুমাসকে বাঙালির মধ্যে জনপ্রিয় করেছেন। উৎসব পালনের রীতি চালু করেছেন। সে জন্যই আমি আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। কিছু একটা করুন। আমি নিজের ঠিকানায় থাকতে চাই।

গুরুদেব বললেন, হতাশ হয়ো না প্রিয় মধুমাস। নিশ্চয়ই সবার মধুমাসোদয় মানে বোধোদয় হবে। মর্ত্য ছেড়ে এখানে থাকলে শেষে দেখবে তোমার ঠিকুজিই বদলে গেছে। তুমি মর্ত্যইে ফিরে যাও হে মধুমাস।

গুরুদেবের নির্দেশ। না মেনে উপায় আছে! আবার মর্ত্যের পথে পা বাড়াল মধুমাস। তার কণ্ঠে তখন শচীনদেব বর্মণের গান-

‘বঁধু গো

এই মধুমাস বুঝিবা বিফল হলো

ভুলে গেছ তুমি সেই মধু নামে ডাকা

মিলনছায়া মধুমাস আজিকে ঢাকা...’

লেখক: শিশু সাহিত্যিক, কলাম লেখক।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চলে গেলেন ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ মহিউদ্দিন আহমেদ

চলে গেলেন ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ মহিউদ্দিন আহমেদ

ইউপিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মাহরুখ মহিউদ্দিন সেই স্ট্যাটাসে জানান, মহিউদ্দিন আহমেদ প্রায় ২০ বছর ধরে মস্তিষ্কের রোগ পারকিনসনসে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সেরেও ওঠেন।

দেশের খ্যাতিমান প্রকাশক ও শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রতিষ্ঠাতা, ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ খ্যাত মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে মৃত্যু হয় ৭৭ বছর বয়সী এ প্রকাশকের।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন তার মেয়ে মাহরুখ মহিউদ্দিন।

মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা হবে।

মাহরুখ মহিউদ্দিন তার স্ট্যাটাসে জানান, মহিউদ্দিন আহমেদ প্রায় ২০ বছর ধরে মস্তিষ্কের রোগ পারকিনসনসে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সেরেও ওঠেন।

মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১৯৮১ সাল থেকে মোট ১৬ বার ইউপিএল ‘ন্যাশনাল বুক সেন্টার’ পুরস্কার পায়।

অ্যারিজোনার বেনসনে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি’র আন্তর্জাতিক কার্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে তাকে ‘পাবলিশিং ম্যানেজমেন্ট’ (প্রকাশনা ব্যবস্থাপনা) বিষয়ে ‘কালচারাল ডক্টরেট’ ডিগ্রি দেওয়া হয়।

মহিউদ্দিন আহমেদকে ২০১৪ সালে ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

প্রধানমন্ত্রীর শোক

এক শোকবার্তায় মহিউদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শেয়ার করুন

রুদ্রর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার’ ৩০ বছর

রুদ্রর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার’ ৩০ বছর

আজ কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তার কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের বন্দনা।

‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

দিনটি উপলক্ষে কবির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলার মিঠাখালিতে সোমবার সকালে তার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছে রুদ্র স্মৃতি সংসদের সদস্যরা। পরে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান। অকাল প্রয়াত এই কবি অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তার কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের বন্দরা।

১৯৫৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছরের জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুর করেছেন।

এর মধ্যে ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে ওঠেছে তারুণ্যের তীপ্ত হাতিয়ার। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

শেয়ার করুন

‘জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির নয়’

‘জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির নয়’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু উপাধি যেমন অবিচ্ছেদ্য, তেমনি কাজী নজরুল ইসলাম ও জাতীয় কবি উপাধি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির বিষয় নয়।’

মৃত্যুর পরে সাড়ে চার দশকেও জাতীয় কবি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়নি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম। তবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির বিষয় নয়।’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় রোববার বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নজরুল চেতনায় দেশপ্রেম’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু উপাধি যেমন অবিচ্ছেদ্য, তেমনি কাজী নজরুল ইসলাম ও জাতীয় কবি উপাধি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় কবির স্বীকৃতি সম্মানের, গেজেটভুক্তির বিষয় নয়।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে যেমন ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়েছে, তেমনি কবি কাজী নজরুল ইসলামকে তার কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় কবি’ উপাধি দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

কে এম খালিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কালজয়ী কবি, সাহিত্যিক ও সংগীতজ্ঞ। বাংলা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সব শাখায় রয়েছে তার সুদীপ্ত পদচারণ। তিনি তার সুনিপুণ সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব বাঙালির হৃদয়ে সমানভাবে স্থায়ী আসন পেতে আছেন।’

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও কবির নাতনি খিলখিল কাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন।

খিলখিল কাজী বলেন, ‘কবি নজরুলের চেতনা ও দর্শন ছিল অন্যায়, অত্যাচার, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংগঠক, সমাজ সংস্কারক ও স্বাধীনতাসংগ্রামী। তিনি তার বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। রচনা করেছেন অজস্র কবিতা ও গান।’

নজরুলের চেতনা ও দর্শন থেকে সকল প্রজন্মকে দীক্ষা নিয়ে একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান খিলখিল।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও বাঁশরীর পরিচালক ড. খালেকুজ্জামান, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং নজরুল গবেষক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিন।

শেয়ার করুন

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরোনো তৈলচিত্র

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরোনো তৈলচিত্র

ছবিটি নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত শিল্পী স্যামুয়েল ফন হুগসট্রাটেনের আসল চিত্রকর্ম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জার্মান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন শিল্পবোদ্ধা বাঁধাই করা শিল্পকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেগুলো আসল বলে মতামত দেন তিনি।

জার্মানিতে রাস্তার ধারে এক ডাস্টবিনে সপ্তদশ শতাব্দীর দুটি মূল্যবান তৈলচিত্র পাওয়া গেছে। পুলিশের ভাষ্য, কুড়িয়ে পাওয়া শিল্পকর্মগুলো ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের দুই শিল্পীর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসির শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জার্মানির বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের উজবুর্গ শহরের একটি মোটরওয়ে সার্ভিস স্টেশনে এক ব্যক্তি ওই ছবি দুটি দেখতে পান। পরে কোলন শহরের পুলিশের কাছে ছবিগুলো হস্তান্তর করেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ছবি দুটির স্বত্ব কেউ দাবি করেনি।

জার্মান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন শিল্পবোদ্ধা বাঁধাই করা শিল্পকর্মগুলো মূল্যায়ন করেছেন। প্রাথমিক মূল্যায়নে সেগুলো আসল বলে মতামত দেন তিনি।

তৈলচিত্রের একটিতে লাল টুপি পরা এক ছেলে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তাকিয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, স্যামুয়েল ফন হুগসট্রাটেন নামে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও লেখক ছবিটি আঁকেন। ১৬২৭ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৬৭৮ সালে মৃত্যু হয় ওই শিল্পীর।

ইতালীয় শিল্পী পিয়েত্রো বেল্লোত্তির হাসিখুশি আত্মপ্রতিকৃতিও পাওয়া যায় ডাস্টবিনটিতে। ১৬২৫ সালে জন্ম নিয়ে ১৭০০ সালে মারা যান স্বল্পপরিচিত ওই শিল্পী।

ডাস্টবিনে ৩৫০ বছরের পুরোনো তৈলচিত্র

ইতালির পিয়েত্রো বেল্লোত্তির হাসিখুশি আত্মপ্রতিকৃতি।

শিল্পকর্মগুলোর মালিক কে বা কীভাবে সেগুলো ডাস্টবিনে এলো এ-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কোলন শহরের পুলিশ।

২০১৯ সালে লন্ডনে বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বনহ্যামস ডাচ শিল্পী হুগসট্রাটেনের ষষ্ঠদশ শতাব্দীর ছবি (যেখানে এক রাখাল গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছে) ৫৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে।

শেয়ার করুন

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে উন্মোচন করা হয় বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা বইয়ের ফরাসি ফরাসি সংস্করণ। ছবি: সংগৃহীত

এ বইয়ের অনুবাদক ফিলিপে বেনোয়াঁ বইটি থেকে উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় পড়ে শোনান। বঙ্গবন্ধুর লেখনীরও ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, তার অনুবাদে বঙ্গবন্ধুর আবেগকে প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের ফরাসি সংস্করণ ‘জার্নাল দে প্রিজন’ (Journal de Prison)-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। নিউ ইয়র্ক থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ফরাসি লেখক, দার্শনিক ও চলচ্চিত্রকার বের্নার্ড-অঁরি লেভি ( Mr. Bernard-Henri Lévy)।

বিশেষ বক্তা হিসেবে ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি ভাষায় এ গ্রন্থের অনুবাদক অধ্যাপক ফিলিপে বেনোয়াঁ (Professor Phillipe Benoit)। বইটির প্রকাশক সংস্থা স্লাটকিন অ্যান্ড সিএ-এর প্রতিনিধি বার্টান্ড ফাভিউ (Mr. Bertrand Favreul)।

কোভিড অতিমারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এ আয়োজনে সশরীরে অংশগ্রহণ করেন অনুবাদক, প্রকাশক সংস্থার প্রতিনিধি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা। অনলাইনে অংশ নেন ফ্রান্সে অবস্থিত অন্যান্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট গুণীজনসহ প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি।

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
কারাগারের রোজনামচা-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা বইটি বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিজীবনের দিনলিপি।

তিনি বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু নিজের পরিবার-পরিজনের চেয়েও দেশ, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেছেন। কীভাবে পাকিস্তানি শাসক বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন, দেশের মানুষকে মুক্তির আন্দোলনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন তা বিধৃত হয়েছে এ গ্রন্থে।

রাষ্ট্রদূত আশা ব্যক্ত করেন যে, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ, তার জীবনদর্শন সারা বিশ্বের ফরাসি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এ বইটির অনুবাদ বিশেষ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রন্থটির অনুবাদ জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবনের ১৩টি বছর পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েছেন, পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে কারাগারে অন্তরিন জীবন যাপন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব সচেতনতা তৈরিতে এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর।

টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বাংলায় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠা অনিবার্য। শান্তির যে বার্তা তিনি প্রচার করে গেছেন, সেটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল মন্ত্র- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তাঁর জীবনদর্শন আমাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।’

‘কারাগারের রোজনামচা’-এর ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ জাতিসংঘের সকল ভাষায় অনুবাদ, বঙ্গবন্ধুর নামে ইউনেস্কোতে সৃজনশীল অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অবদান রাখবে।

এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, এমপি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এবং বের্নার্ড-অঁরি লেভি দূতাবাসে যৌথভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

বিশিষ্ট ফরাসি লেখক, দার্শনিক ও চলচ্চিত্রকার বের্নার্ড-অঁরি লেভি তার বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এ বইয়ে আমি বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠস্বর শুনতে পাই।’

বের্নার্ড অঁরি জানান, তিনি ফ্রান্সে বসবাসরত শেষ প্রজন্মের মানুষ, যিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন। এ উদ্যোগ তাকে ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।

‘এ গ্রন্থের মাধ্যমে একদিকে যেমন মিষ্টতার প্রকাশ অনুভব করতে পেরেছি, তেমনি দৃঢ়তাও ফুটে উঠেছে। তার ওপর যন্ত্রণার অনুভূতি যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতের আশাবাদও ব্যক্ত হয়েছে।’

বের্নার্ড অঁরি আরও বলেন, ‘এ গ্রন্থের মাধ্যমে জনমানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর মমত্ববোধ আস্বাদন করতে পেরেছি। এটি স্থায়ীভাবে এ গ্রন্থে গ্রথিত হলো। বঙ্গবন্ধু তার বইয়ে যেভাবে ফরাসি বিপ্লবের কথা বলেছেন, ফরাসি জনগোষ্ঠীর সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতাকে সমর্থন করেছেন, সে একইভাবে ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক অঁন্দ্রে মার্লোও বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে তার সমর্থন প্রকাশ করেন।

‘বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তার বীজ এ গ্রন্থে আমি দেখতে পাই।’

এ বইয়ের অনুবাদক ফিলিপে বেনোয়াঁ বইটি থেকে উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় পড়ে শোনান। জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতির ক্ষেত্রে সহিংসতা বিরোধী ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর লেখনীরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার অনুবাদে বঙ্গবন্ধুর আবেগকে প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

বইটির প্রকাশক সংস্থার প্রতিনিধি বার্টান্ড ফাভিউ জানান, এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পেরে তিনি গর্বিত এবং বিশ্বময় ফরাসি ভাষাভাষীদের কাছে এ গ্রন্থ পৌঁছে দিতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষে কারাগারের রোজনামচা ফরাসি অনুবাদকৃত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ গ্রন্থটি শুক্রবার থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব

উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০টি চলচ্চিত্র জমা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছে। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের সিলেকশন কমিটি ১১৯টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু ও নির্মল চলচ্চিত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১৮ জুলাই থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১।’

উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেনকে এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

এই উৎসব নিয়ে বুধবার এক শিল্পকলা একাডেমির এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

একাডেমির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০টি চলচ্চিত্র জমা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছে। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের সিলেকশন কমিটি ১১৯টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন।

যার মধ্যে রয়েছে ৮১টি কাহিনি চলচ্চিত্র ও ৩৮টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্র সিলেকশন কমিটির সদস্যরা হলেন, চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদের উপদেষ্টা সাজ্জাদ জহির, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান, চলচ্চিত্র সমালোচক ও চিত্রনাট্যকার সাদিয়া খালিদ রীতি এবং শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সহকারী পরিচালক চাকলাদার মোস্তাফা আল মাস্উদ।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

এ উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ২টি বিভাগে (কাহিনি ও প্রামাণ্য) শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষ জুরি শাখায় মোট ৭টি পুরস্কার দেয়া হবে।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় আরও ৪টি পুরস্কার দেয়া হবে।

এর জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি জুরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

এই কমিটিতে আরও রয়েছেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদের সভাপতি ফরিদুর রহমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহমান অঞ্জন, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিভাত রেজা চৌধুরী ও কমিটির সদস্য সচিব একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৭টি বিভাগে পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রদান করা হবে।

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ১ লাখ, বিশেষ জুরি পুরস্কার ৫০ হাজার, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ সম্প্রাদনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় ২৫ হাজার পুরস্কার দেয়া হবে।

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব
উৎসবের প্রদর্শিত হবে এমন কয়েকটি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৮ জুন বিকেল ৫টায় ভার্চুয়ালি এই চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল আট দিনব্যাপি এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

বইঘরের গল্প প্রতিযোগিতার বিচারক সাদাত, মৌরি ও শানজানা

বইঘরের গল্প প্রতিযোগিতার বিচারক সাদাত, মৌরি ও শানজানা

নির্বাচিত ১০টি গল্প নিয়ে প্রকাশ হবে একটি ইবুক সংকলন। পুরস্কার হিসেবে এই ১০জন পাবেন সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম রচিত ও স্বাক্ষরিত বই।

বাবা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও গল্প লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বই পড়া ও বই শোনার অ্যাপ বইঘর।

এবার এই প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন এ সময়ের জনপ্রিয় তিন কথা সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম।

বইঘরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বইঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, আসন্ন বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে ‌‘বাবাকে যেমন দেখি’ গল্প লেখার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জীবিত বা প্রয়াত বাবার আদর্শ, স্বপ্ন, ত্যাগ কিংবা জীবনযুদ্ধের গল্প লিখে পাঠাতে পারবেন বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী যে কেউ। লেখা ৫০০ থেকে দুই হাজার শব্দের মধ্যে হতে হবে।

বইঘর অ্যাপে (https://cutt.ly/unumvHM) গল্প জমা দিতে হবে।

গল্পের শেষে লেখকের নাম, ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি যুক্ত করতে হবে। গল্প জমা দেয়ার শেষ সময় ১৮ জুন।

নির্বাচিত ১০টি গল্প নিয়ে প্রকাশ হবে একটি ইবুক সংকলন। পুরস্কার হিসেবে এই ১০জন পাবেন সাদাত হোসাইন, মৌরি মরিয়ম ও শানজানা আলম রচিত ও স্বাক্ষরিত বই।

এ প্রসঙ্গে সাদাত হোসাইন বলেন, ‌‌‘শুরু থেকে বইঘর-এর সঙ্গে আছি। গত বছরও বাবা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় আমি বিচারক ছিলাম। বেশ কিছু ভালো গল্প পড়ার সুযোগ হয়েছিল। এবারও অনেক গল্প জমা পড়বে বলে অপেক্ষায় আছি।’

মৌরি মরিয়ম বলেন, ‌‘এটি একটি দারুন আয়োজন। প্রিয় দুই লেখকের সঙ্গে বইঘরের আয়োজনে থাকছি, এটি নিঃসন্দেহে সুখকর ঘটনা। অনেক অনেক ভালো গল্প পড়ার অপেক্ষায় আছি।’

শানজানা আলম বলেন, ‘প্রিয় লেখকদের সঙ্গে কোনো আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছি, এটা আমার জন্য বেশ ভালোলাগার ব্যাপার। আমি মনে করি গল্পের মানুষেরা ভালো কিছু গল্প পেতে যাচ্ছি। বইঘরকে ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজনের জন্য।’

শেয়ার করুন