বইমেলা শেষ হচ্ছে সোমবার

বইমেলা শেষ হচ্ছে সোমবার

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের বইমেলা সোমবার শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

শনিবার তিনি এ কথা জানান।

মেলা ১৪ এ্রপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দুই দিন আগেই শেষ হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ ও মেলা নিরুৎসাহিত করে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনার পর ৩১ মার্চ থেকে বইমেলার সময় কমিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা করা হয়।

৩ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে ৫-১১ এপ্রিল সাত দিনের লকডাউনের ঘোষণা আসে। লকডাউন বাস্তবায়ন হলেও খোলা থাকে বইমেলা। তা নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়। এমন অবস্থায় বইমেলা খোলা রাখা হবে কি না, তা চলতি সপ্তাহে জানানোর কথা ছিল।

নিয়মানুযায়ী প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হলেও করোনার কারণে এই ধারায় এবার ব্যত্যয় হয়েছে। দেড় মাসেরও বেশি পিছিয়ে ১৮ মার্চ শুরু হয় মেলা, শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৪ এপ্রিল।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায় বসছে মেলা। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭ প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪০৩ প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি স্টলে মেলা বসেছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

এবারও লিটল ম্যাগাজিন চত্বর বসেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি পাঁচটি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল রয়েছে।

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সোহরাওয়ার্দীতে গাছ কাটা বিরোধী পারফর্মিং আর্ট

সোহরাওয়ার্দীতে গাছ কাটা বিরোধী পারফর্মিং আর্ট

‘সবুজহীনতায় মৃত্যুর উপাখ্যান’ পারফর্মিং আর্টের অংশ। ছবি: সংগৃহীত

আয়োজনটি নিয়ে আয়োজক অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রকৃতিকে নিরাপদ রেখেই এগিয়ে যেতে চাই উন্নয়নের পথে। প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন চাই।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদে সোমবার বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ব্যতিক্রমধর্মী এক পারফর্মিং আর্ট প্রদর্শনী। যার শিরোনাম ছিল ‘সবুজহীনতায় মৃত্যুর উপাখ্যান’।

পারফর্মিং আর্টের আয়োজন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহাদাত রাসএল, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা।

শাহাদাত রাসএল বলেন, ‘জাতীয়ভাবে ঐতিহ্যবাহী ও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ৭ মার্চের প্রতিটি স্তরের স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। আমরা প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন চাইনা। এভাবে প্রকৃতি ধ্বংস পৃথিবীকেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

আয়োজনটি নিয়ে আয়োজক অভিনেত্রী কাজী নওশাবা বলেন, ‘আমরা প্রকৃতিকে নিরাপদ রেখেই এগিয়ে যেতে চাই উন্নয়নের পথে। প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন চাই।’

পারফর্মিং আর্টে আরও অংশ নেন মনীষা অর্চির, প্রকৃতি এবং ঊষশী।

সোহরাওয়ার্দীতে গাছ কাটা বিরোধী পারফর্মিং আর্ট
‘সবুজহীনতায় মৃত্যুর উপাখ্যান’ পারফর্মিং আর্টের অংশ। ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া

দিলদার, হুমায়ুন ফরীদি ও এটিএম শামসুজ্জামানের দেয়ালচিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

তারা এতটাই জনপ্রিয় ও সবার ভালোবাসার যে, মৃত্যুও তাদের ম্লান করতে পারেনি এতটুকু। সম্প্রতি হুমায়ুন ফরীদি, এটিএম শামসুজ্জামান ও দিলদারের তিনটি দেয়ালচিত্রের ছবি ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার পর আলোচনায় আসে।

কাজ করতেন রিলের জগতে অর্থাৎ সিনেমায়। ফ্রেমে বন্দি ছিল জীবন। এখন তাদের জীবনে নেই কোনো গণ্ডি। মিলে গেছেন অসীমে। হুমায়ুন ফরীদি, এটিএম শামসুজ্জামান ও দিলদার- তিন অভিনয়শিল্পীই মারা গেছেন।

যত দিন পর্দায় ছিলেন, সবার নজর কেড়েছেন। তাদের অভিনয় মাইলফলক হয়ে আছে দেশের সিনেমা ইতিহাসে। তারা কেউ না থাকলেও যেখানেই তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে, সেই কাজটিই সবার নজর কাড়ে।

তারা এতটাই জনপ্রিয় ও সবার ভালোবাসার যে, মৃত্যুও তাদের ম্লান করতে পারেনি এতটুকু। সম্প্রতি হুমায়ুন ফরীদি, এটিএম শামসুজ্জামান ও দিলদারের তিনটি দেয়ালচিত্রের ছবি ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার পর আলোচনায় আসে।

এসব দেয়ালচিত্র করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কাছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের জন্য ব্যবহৃত ঘরের দেয়ালে আঁকা হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনের এই তিন কিংবদন্তি অভিনেতার দেয়ালচিত্র।

কাজটি করেছেন আবদুল্লাহ মামুর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল ইটের সুন্দর দেয়ালগুলো রাজনৈতিক লেখনী, বিভিন্ন পোস্টার আর স্প্রে রঙে ভরে থাকত। দেয়ালগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করতেই আমার এই উদ্যোগ।’

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া
হুমায়ুন ফরীদির দেয়ালচিত্রের সামনে ছবি তুলছেন এক দর্শনার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই মামুর করছেন দেয়ালচিত্র। আগের আরও অনেক কাজের মতো ফরীদি, এটিএম ও দিলদারের দেয়ালচিত্রটি নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের। ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন তারা।

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া
দেয়ালচিত্র আঁকছেন দুজন শিল্পী। ছবি: সংগৃহীত

মামুর নিজ উদ্যোগেই রাঙিয়ে তুলছেন দেয়ালগুলোকে। এ নিয়ে তেমন সমস্যার মধ্যে পড়েননি এখনও। তিনি বলেন, ‘কিছু শিক্ষক বলেছেন, ভালো ব্যাপারটা। অন্যদের কোনো মাথাব্যথা নেই আর কী। মানে তারা বাধাও দেয় নাই আর করতে উৎসাহও দেয় নাই।’

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রী ছাউনিতে দেয়ালচিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

এই কাজের অর্থের জোগান নিজেই দিচ্ছেন মামুর। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সিনিয়র, জুনিয়র, বন্ধুরা নানাভাবে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন সময়। এই শিল্পী মনে করেন, দেয়ালচিত্র বেশি দিন থাকার দরকার নেই। মাঝে মাঝেই নতুন কিছু হোক।

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া
ঘনাদা, টেনিদা আর ফেলুদাকে নিয়ে দেয়ালচিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

তিন কিংবদন্তি অভিনেতা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে রয়েছে মামুরের আঁকা চিত্র। ট্রান্সপোর্টে যাত্রী ছাউনির পিছনে ঘনাদা, টেনিদা আর ফেলুদা; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দেয়ালে আঁকা হয়েছে জাতির পিতার প্রতিকৃতি। বিভিন্ন স্থানের যাত্রী ছাউনি এবং অনুষদের ভিতর ও বাইরের দেয়ালে আঁকা হয়েছে দেয়ালচিত্র।

রিল থেকে দেয়াল, সবখানেই তারা নজরকাড়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে আঁকা চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

মামুরের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্নজন এঁকেছেন এসব দেয়ালচিত্র। তবে অপর্ণ অধিকারী সিক্তর নাম বিশেষ করে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিকল্পনা জানিয়ে মামুর বলেন, ‘প্রত্যেকটা জেলা শহরে আমার আঁকার ইচ্ছা আছে। এ ছাড়া পর্যটন স্পট যেমন, সেন্টমার্টিন, বান্দরবানের মতো কিছু জায়গায় কাজ করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

লিওনার্দোর ‘ভল্লুকের মাথা’ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারে নিলামে

লিওনার্দোর ‘ভল্লুকের মাথা’ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারে নিলামে

ক্রিস্টি’সের কর্মকর্তা স্টেইন এলসটিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “জুলাইয়ে ‘ভল্লুকের মাথা’ রেকর্ড দামে বিক্রি হবে বলে মনে করি। এটি লিওনার্দোর শেষ দিকের চিত্রকর্মের একটি।”

লন্ডনে চলতি বছরের জুলাইয়ে নিলামে তোলা হচ্ছে রেনেসাঁ যুগের ইতালির চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘ভল্লুকের মাথা’।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি’সের ধারণা, ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে চিত্রকর্মটির দাম। আর সেক্ষেত্রে লিওনার্দোর চিত্রকর্মের মধ্যে এটির দাম হবে সর্বোচ্চ।

ক্রিস্টি'সের বরাত দিয়ে শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সাত সেন্টিমিটার বর্গক্ষেত্রের ‘ভল্লুকের মাথা’ সম্পর্কে ক্রিস্টি'স জানায়, ব্রিটিশ রয়্যাল কালেকশন ও ডেভোনশায়ার কালেকশনসের বাইরে লিওনার্দোর আটটির মতো চিত্রকর্ম এখনও ব্যক্তি মালিকানাধীন। তার মধ্যে ‘ভল্লুকের মাথা’ একটি।’

লন্ডনে ৮ জুলাই ক্রিস্টি’সের ‘ব্যতিক্রমী বিক্রির’ সামনের সারিতে থাকা লিওনার্দোর চিত্রকর্মটির দাম ১ কোটি ১১ লাখ থেকে ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ধরা হয়েছে।

ক্রিস্টি’সের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে ১ কোটি ১২ লাখ ডলারের বেশি দামে নিলামে বিক্রি হয় লিওনার্দোর ‘হর্স অ্যান্ড রাইডার’।

ক্রিস্টি’সের কর্মকর্তা স্টেইন এলসটিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “জুলাইয়ে ‘ভল্লুকের মাথা’ রেকর্ড দামে বিক্রি হবে বলে মনে করি। এটি লিওনার্দোর শেষ দিকের চিত্রকর্মের একটি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভল্লুকের মাথা’ ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী টমাস লরেন্সের মালিকানায় ছিল। ১৮৩০ সালে তার মুত্যৃর পর এটি ব্যবসায়ী স্যামুয়েল উডবার্নের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৮৬০ সালে ক্রিস্টি’সের কাছে , ‘ভল্লুকের মাথা’ সাড়ে তিন ডলারে বিক্রি করেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে ‘ভল্লুকের মাথা’ বর্তমান মালিকের কাছে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

‘শ্রীভূমি’তে রবীন্দ্রনাথ

‘শ্রীভূমি’তে রবীন্দ্রনাথ

মণিপুরী পল্লীর মন্ডপপ্রাঙ্গণে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ ভাস্কর্য। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট ভ্রমণকালে ৬ নভেম্বর টাউন হল প্রাঙ্গণে ও ৭ নভেম্বর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের উদ্যোগে কবি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুটি বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ। পরবর্তী সময়ে টাউন হলের বক্তৃতা ‘বাঙালীর সাধনা’ নামে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় আর এমসি কলেজের বক্তৃতার সারমর্ম ‘আকাঙ্খা’ শিরোনামে ‘শান্তিনিকেতন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

‘কোন পাথেয় নিয়ে তোমরা এসেছ? মহৎ আকাঙ্ক্ষা। তোমরা বিদ্যালয়ে শিখবে বলে ভর্তি হয়েছ। কী শিখতে হবে ভেবে দেখ। পাখি তার বাপ-মায়ের কাছে কী শেখে? পাখা মেলতে শেখে, উড়তে শেখে। মানুষকেও তার অন্তরের পাখা মেলতে শিখতে হবে, তাকে শিখতে হবে কী করে বড় করে আকাঙ্ক্ষা করতে হয়। পেট ভরাতে হবে। এ শেখাবার জন্যে বেশি সাধনা দরকার নেই; কিন্তু পুরোপুরি মানুষ হতে হবে- এই শিক্ষার জন্যে যে অপরিমিত আকাঙ্ক্ষার দরকার তাকেই শেষ পর্যন্ত জাগিয়ে রাখবার জন্যে মানুষের শিক্ষা।’

১৯১৯ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজে দেয়া বক্তৃতায় এমনটি বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথের এই বক্তৃতা মুগ্ধ করেছিল উপস্থিত শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে একজন পরে এ নিয়ে চিঠি লিখেন কবিকে। চিঠির এক জায়গায় প্রশ্ন রাখেন- ‘আকাঙ্ক্ষা বড় করতে হলে কী করতে হবে?’ এই শিক্ষার্থীর নাম সৈয়দ মুজতবা আলী। পরবর্তী সময়ে স্বনামে খ্যাত ও রসসাহিত্যের অনন্য অবস্থানে পৌঁছার পরও তার স্বীকারোক্তি- ‘আমার অন্তর্জগৎ রবীন্দ্রনাথের গড়া’।

এমসি কলেজে বক্তৃতা দেয়ার দুদিন আগেই রবীন্দ্রনাথ আসেন সিলেটে। যা তখন শ্রীহট্ট নামেও খ্যাত ছিল, কবিগুরু ভালোবেসে যার নাম দিয়েছিলেন ‘সুন্দরী শ্রীভূমি’।

১৯১৯ সালের ৫ নভেম্বর। হেমন্তের শীত শীত সকাল। চারদিকে কুয়াশার আঁধার। তার ভেতর থেকেই যেন একটা ট্রেন এসে থামল সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে। প্রতিদিনই যেমন থামে। তবে এই ট্রেন থেকে নেমে এলেন দীর্ঘ শুভ্রকেশ আর শ্মশ্রুমণ্ডিত বিশেষ একজন। ছয় বছর আগে যিনি উপমহাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল জয় করেছেন। অবশ্য গান আর কবিতায় তারও আগেই তিনি জয় করে নিয়েছেন বাঙালির হৃদয়। শ্রীহট্টে পা রাখলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

‘শ্রীভূমি’তে রবীন্দ্রনাথ

সিলেটে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কবিগুরুর এই সফর নিয়ে প্রখ্যাত সম্পাদক নলিনীকুমার ভদ্র লেখেন- ‘কবির জীবনী থেকে এ তিনটি দিনের কাহিনি (সিলেট ভ্রমণের ৩ দিন) বাদ দিয়ে যদি কোনো শ্রীহট্টের ইতিহাস লেখা হয় তাহলে তা হবে অসম্পূর্ণ। অনাগত যুগে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশীয়রা এ কাহিনি পড়ে গর্ব অনুভব করবে- যদিও ঈর্ষা করবে তারা আমাদের অপরিসীম সৌভাগ্যকে।’

সিলেট ভ্রমণের আনন্দস্মৃতির কথা উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ ১৯১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ইতিহাসবিদ ও কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কালিদাস নাগকে এক চিঠিতে লেখেন, ‘আশ্রমে ফিরে এসেছি। পাহাড় (শিলং) থেকে নেমে আসবার পথে গৌহাটি, শিলেট (সিলেট) ও আগরতলা ঘুরে এলুম। বলা বাহুল্য বক্তৃতার ত্রুটি হয়নি। দিনে চারটে করে বেশ প্রমাণসই বক্তৃতা দিয়েছি এমন দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এমনতর রসনার অমিতাচারী আমি যে রাজি হয়েছি তার কারণ ওখানকার লোকেরা এখনও আমাকে হৃদয় দিয়ে আদর করে, এটা দেখে বিস্মিত হয়েছিলুম। বুঝলুম কলকাতা অঞ্চলের লোকের মতো ওরা এখনও আমাকে এত বেশি চেনেনি। ওরা আমাকে যা-তা একটা কিছু মনে করে। তাই সেই সুযোগ পেয়ে খুব করে আমার মনের কথা ওদের শুনিয়ে দিয়ে এলুম।’ (চিঠিপত্র-১২)

সিলেটে ভ্রমণকালে ৬ নভেম্বর টাউন হল প্রাঙ্গণে ও ৭ নভেম্বর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের উদ্যোগে কবি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুটি বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ। পরবর্তী সময়ে টাউন হলের বক্তৃতা ‘বাঙালীর সাধনা’ নামে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় আর এমসি কলেজের বক্তৃতার সারমর্ম ‘আকাঙ্খা’ শিরোনামে ‘শান্তিনিকেতন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

এমসি কলেজের বক্তৃতার কিছু অংশ শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘যে দেশে বিদ্যালয়ে কেবল দেখতে পাই, ছাত্র নোটবুকের পত্রপুট মেলে ধরে বিদ্যার মুষ্টিভিক্ষা করছে কিংবা পরীক্ষায় পাশের দিকে তাকিয়ে টেক্সট বইয়ের পাতায় পাতায় বিদ্যার উঞ্ছবৃত্তিতে নিযুক্ত, যে দেশে মানুষের বড় প্রয়োজনের সামগ্রী মাত্রই পরের কাছে ভিক্ষা করে সংগ্রহ করা হচ্ছে, নিজের হাতে লোকে দেশকে কিছুই দিচ্চে না- না স্বাস্থ্য, না অন্ন, না জ্ঞান, না শক্তি; যে দেশে কর্মের ক্ষেত্র সংকীর্ণ, কর্মের চেষ্টা দুর্বল, যে দেশে শিল্পকলায় মানুষ আপন প্রাণমন আত্মার আনন্দকে নব নব রূপে সৃষ্টি করছে না; যে দেশে অভ্যাসে বন্ধনে সংস্কারের জালে মানুষের মন এবং অনুষ্ঠান বদ্ধ বিজড়িত; যে দেশে প্রশ্ন করা, বিচার করা নতুন করে চিন্তা করা ও সেই চিন্তা ব্যবহারে প্রয়োগ করা কেবল হাতে যে নেই তা নয়, সেটা নিষিদ্ধ এবং নিন্দনীয়, সেই দেশে মানুষ আপন সমাজে আত্মাকে দেখতে পায় না, কেবল হাতকড়া, পায়ের বেড়ি এবং মৃতযুগের আবর্জনারাশিকেই চারিদিকে দেখতে পায়, জড় বিধিকেই দেখে, জাগ্রত বিধাতাকে দেখে না।’

ভ্রমণকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়ে সিলেটকে নিয়ে একটি কবিতাও লেখেন রবীন্দ্রনাথ। সে সময় বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সিলেটকে আসামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। এ নিয়ে আক্ষেপও ফুটে ওঠে রবীন্দ্রনাথের কবিতায়। শতাধিক বর্ষ পরেও সিলেটের বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনও অনেকেই দ্বারস্থ হন সেই কবিতার।-

‘মমতাবিহীন কালস্রোতে/ বাঙলার রাষ্ট্রসীমা হতে/ নির্বাসিতা তুমি/ সুন্দরী শ্রীভূমি।/ ভারতী আপন পুণ্য হাতে/ বাঙালির হৃদয়ের সাথে/ বাণীমালা দিয়া/ বাঁধে তব হিয়া/ সে বাঁধনে চিরদিনতরে তব কাছে/ বাঙলার আশীর্বাদ গাঁথা আছে।’

এই কবিতা থেকে ধার করে সিলেটকে ‘সুন্দরী শ্রীভূমি’ হিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকেন কেউ কেউ।

‘শ্রীভূমি’তে রবীন্দ্রনাথ

লেখক ও রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্র লাল দাশ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ কেবলমাত্র সিলেটকে নিয়েই কবিতা লিখেছেন। অন্য কোনো স্থান সম্পর্কে কোথাও কবিতা লিখেছিলেন কি না, জানা যায় না। রবীন্দ্র হস্তাক্ষরে লেখা কবিতাটির শিরোনাম ছিল না। তারিখও ছিল না। স্থান নামও ছিল না। পরে কবিপ্রণামে ‘শ্রীভূমি’ নামে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্র গবেষকদের অনুমান ১৯৩৬ সালে এই কবিতা রচিত হয়েছিল।’

সিলেটে এসে মণিপুরী নৃত্য দেখে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ। মণিপুরী কাপড়ও তাকে মুগ্ধ করে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা তর ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষে ফিরে দেখা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ মণিপুরী নৃত্যকলায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, কলকাতায় ফিরবার পথে ত্রিপুরার রাজার সাহায্য নিয়ে একজন নাচের শিক্ষককে শান্তিনিকেতনে নিয়ে যান সেখানকার শিক্ষার্থীদের নাচ শেখাবার জন্যে।’

কবিগুরুর সিলেট সফরের শতবর্ষ পূর্ণ হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। গর্ব আর ঈর্ষাজাগানিয়া সেই স্মৃতির স্মরণে সে বছর সিলেটে ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে ‘শ্রীহট্টে রবীন্দ্রনাথ: শতবর্ষে স্মরণোৎসব’ শিরোনামে রবীন্দ্রনাথের পরিভ্রমণের একশ’ বছর পূর্তি পালন করা হয়। রবীন্দ্র স্মরণোৎসব বিশাল আয়োজনে পালন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরেই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে রবীন্দ্রস্মৃতিচিহ্নগুলো।

সিলেট ভ্রমণকালে নগরীর নয়াসড়কের মিশনারি বাংলোয় (পাদ্রী বাংলা নামে পরিচিত) থাকার ব্যবস্থা হয় রবীন্দ্রনাথের। এই বাংলোটির এখন আর অস্তিত্বই নেই। খ্রিষ্টান মিশনারি নেতারা বাংলোসহ ওই জায়গাটি অনেকটা গোপনে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে সেখানে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে।

নগরীর চৌহাট্টা এলাকার এতিহ্যবাহী সিংহ বাড়িতে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এ বাড়িটিকে অর্পিত সম্পত্তি উল্লেখ করে একটি প্রভাবশালী মহলকে বন্দোবস্ত করে দেয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলনের মুখে পরে বন্দোবস্ত বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এমসি কলেজেও নেই রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার মতো কোনো উদ্যোগ।

সিলেট ভ্রমণকালে নগরীর বন্দরবাজারের ব্রাহ্মমন্দিরে দুইবার যান রবীন্দ্রনাথ। সেখানে সমবেত প্রার্থনায়ও অংশ নেন। ব্রাহ্মমন্দিরটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় কোনো রকমে টিকে আছে।

রবীন্দ্রনাথের মন কেড়েছিল সিলেটের মণিপুরী নৃত্য। নগরীর মাছিমপুরের মণিপুরী পল্লির মণ্ডপে বসে নৃত্য দেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের দাবির পর গত বছর এই মণ্ডপপ্রাঙ্গণে রবীন্দ্রনাথের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করে সিলেট সিটি করপোরেশন। এটি নিয়েও আপত্তি জানায় মৌলবাদী গোষ্ঠী।

‘শ্রীভূমি’তে রবীন্দ্রনাথ

এ প্রসঙ্গে কবি তুষার কর বলেন, ‘কেবল গানবাজনা আর লোকদেখানো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রস্মরণ নয়। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নগুলোও আমাদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাতে আগামী প্রজন্ম এ বিষয়ে জানতে পারবে।’

আজ ইংরেজি সালে ৮ মে, বাংলায় ২৫ বৈশাখ। বাঙালি সত্তা ও সংস্কৃতির মহানায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মদিন। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম এই প্রবাদপুরুষের।

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বাংলায়

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বাংলায়

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। ছবি: এএফপি

বইটি স্টিফেন হকিং ও লিওনার্দ ম্লোদিনোর যৌথভাবে লেখা গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের অবশ্য সরাসরি অনুবাদ নয়। বরং বইটিতে হকিংদের মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে এবং একই নামে হকিংয়ের কণ্ঠস্বরে চিত্রিত একটি তথ্যচিত্র ট্রিলজির বাংলা রূপান্তর এই বই। যার মূল উপজীব্য সৃষ্টি, মহাসৃষ্টি, মানব-অস্তিত্ব, মানবজীবন, মানব-জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য।

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের অনবদ্য ভাষ্য ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’-এর বাংলা রূপান্তর করা হয়েছে। এটি রূপান্তর করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. সেলিম মোজাহার।

বইটি স্টিফেন হকিং ও লিওনার্দ ম্লোদিনোর যৌথভাবে লেখা গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের অবশ্য সরাসরি অনুবাদ নয়। বরং বইটিতে হকিংদের মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে এবং একই নামে হকিংয়ের কণ্ঠস্বরে চিত্রিত একটি তথ্যচিত্র ট্রিলজির (ডিড গড ক্রিয়েট দ্য ইউনিভার্স, মিনিং অব লাইফ, কি টু দ্য কসমস) এর বাংলা রূপান্তর এই বই। যার মূল উপজীব্য সৃষ্টি, মহাসৃষ্টি, মানব-অস্তিত্ব, মানবজীবন, মানব-জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য।

বৃহস্পতিবার অনলাইনে বইটির পাঠ উন্মোচন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) চেয়ারম্যান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস এবং বিজ্ঞানবক্তা ও বিজ্ঞান-বিষয়ক পত্রিকা ‘মহাবৃত্ত’-এর সম্পাদক আসিফুর রহমান।

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বইটি বাংলায় আনা হয়েছে
বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের গ্র্যান্ড ডিজাইন বইটি বাংলায় আনা হয়েছে

অনুষ্ঠানে সেলিম মোজাহার বলেন, ‘কেবল বিজ্ঞান নয়, সাহিত্য-শিল্প-সমাজ-দর্শনসহ জ্ঞানের সব শাখার পাঠকের কাছে বইটি প্রয়োজনীয় ও সুখপাঠ্য হবে।’

বিজ্ঞানবক্তা আসিফ বলেন, ‘বইটি বাংলা ভাষার বিজ্ঞান-সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন।

‘এটা নিঃসন্দেহে এক দারুণ কাজ।’

অধ্যাপক সুশান্ত দাস বলেন, ‘বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত বইটি যেকোনো বিষয়ের পাঠকের কাছে সহজবোধ্য ও সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস। বইটি বিজ্ঞানে আগ্রহীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে।’

বুকিশ পাবলিকেশন্স গ্র্যান্ড ডিজাইন বইটি প্রকাশ করেছে।

মনন সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উন্মোচন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও গবেষক ড. মাহবুবুল হক।

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

অনুপ ভট্টাচার্যের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। কাজল ঘোষ আরও জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। অনুপের মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে। শুক্রবার পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটে হবে শেষকৃত্য।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সুরকার অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। আজ (৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানরি আসগর আলী হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিউজবাংলাকে বিষয়নি নিশ্চিত করেছেন তার আত্মীয় কাজল ঘোষ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বাসা থেকেই তার চিকিৎসা চলছিল। আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

অনুপ ভট্টাচার্যের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। কাজল ঘোষ আরও জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না।

অনুপের মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে। শুক্রবার পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটে হবে শেষকৃত্য। তার আগে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত না বলে জানান কাজল।

অনুপ ভট্টাচার্যের দুই মেয়ে, তারা দুজনেই এখন দেশের বাইরে আছেন।

‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘নোঙর তোলো তোলো’- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এমন সব ঐতিহাসিক গানে সমবেতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপ ভট্টাচার্য।

অনেক গানের সুর করেছেন তিনি। গাইতেন রবীন্দ্রসংগীত।

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন

যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

নয়া দামানের সবশেষ কাভারের গায়িকা তোশিবা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

তোশিবার অভিযোগ, ‘টেলিভিশনে নিউজ হয়েছে কিন্তু আমার নাম সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ছায়াছবি নাকি বিখ্যাত করেছে। অথচ ছায়াছবি আমার গান ব্যবহার করেছে। তোশিবা-মুজার মাধ্যমেই এই গান জনপ্রিয় হয়েছে।’

‘হায়রে হায়রে হায়, ও মুজা খালি গান গাইতে থাকো, সারা সিলেটোর লাগি একটা গান গাও না কেনে বা?’ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় এই কথাগুলোর পরই শোনা যায় একটি নারীকণ্ঠ গেয়ে ওঠে, ‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তেরা/ বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেড়া/ দামান বও দামান বও।’

‘সারা সিলেটোর লাগি’ গাওয়ার কথা বলা হলেও এই গান আর শুধু ‘সারা সিলেটোর লাগি’ থাকেনি। বরং প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজার সংগীতায়োজনে এই গানটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সিলেট অঞ্চলে গীত হয়ে আসা ‘নয়া দামান’ গানে এখন মজেছে সবাই।

‘নয়া দামানের’ এই পুনর্জাগরণের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেটেরই এক তরুণী। তার কণ্ঠে ভর করেই সিলেট অঞ্চলের এই বিয়ের গানটি এখন ভাইরাল। গানের সঙ্গে সেই তরুণীও এখন সবার পরিচিত। তার নামও আর কারও অজানা নয়। তিনি তোশিবা বেগম।

সিলেটি তরুণী তোশিবা সদ্য এইচএসসি পাস করেছেন। গান গাইতে ভালো লাগলেও শেখা হয়নি কখনো। তবে দরদ দিয়ে গাওয়ায় গানগুলো হৃদয় কাড়ছে সবার। তার গায়কীতে মুগ্ধ শ্রোতারা।

নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কথা হয় তোশিবার সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয় তার গানের জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প।

তোশিবা জানান, গান না শিখলেও ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে গান করেন। মূলত সিলেট অঞ্চলের লোকগানই করে থাকেন। বছর দুয়েক ধরে ফেসবুকে খালি গলায় গাওয়া নিজের কিছু কিছু গান আপলোড করা শুরু করেন। অনেকে তা পছন্দ করে।

ধীরে ধীরে তার গাওয়া গান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর ৭-৮ মাস আগে থেকে টিকটক ব্যবহার শুরু করেন। টিকটকে পছন্দের কিছু গানের ২ থেকে ৩ লাইন গাইতেন। দ্রুতই টিকটকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচের সেই ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে তোশিবার গাওয়া গানটি। মুজার সংগীতায়োজনে এই গানে বাঁশি বাজিয়েছেন মীম।

তোশিবা বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে ‘আইলারে নয়া দামান’ গানের দুই লাইন গেয়ে টিকটকে দিয়েছিলাম। অনেক মানুষ এটা পছন্দ করে। এটি দেখে মুজা ভাই (প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজা) যোগাযোগ করেন। তিনি তার সঙ্গে এই গানটি করার প্রস্তাব দেন। আমি এতে সম্মত হই।’

মাসখানেক আগে নয়া দামান গানের ‘মুজা ফিচারিং তোশিবা’ ভার্সন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন মুজা।

এরপরের গল্প তো সবার জানা। নেটিজেনদের মাঝে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।

শনিবার পর্যন্ত মুজার ইউটিউব চ্যানেলে এই গান শুনেছেন অর্ধকোটি শ্রোতা। এই গানের সঙ্গে খুলনার এক কনের নাচের ভিডিও ধারণ করে ইউটিউবে আপলোড করে ছায়াছবি নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। সেই ভিডিও দেখেছেন কোটি খানেক দর্শক।

আর করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচের ভিডিও তো সবার মোবাইলে মোবাইলে।

আগেকার দিনে শিল্পীদের তারকা হওয়ার মাধ্যম ছিল শুধু রেডিও-টেলিভিশন। জনপ্রিয় শিল্পীদের অনেকগুলো অ্যালবাম বের হতো। বছরজুড়ে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে গান গাইতেন।

কয় বছর আগেও এটিই ছিল বাস্তবতা। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন আর শিল্পী হওয়ার জন্য রেডিও-টেলিভিশনের আশায় বসে থাকতে হয় না, প্রযোজকদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরতে হয় না।

প্রতিভা ও ইচ্ছা থাকলে সহজেই নিজের গান পৌঁছে দিতে পারেন মানুষের কাছে। পেয়ে যেতে পারেন তারকাখ্যাতি।

যেমন, তোশিবার কথাই ধরা যাক। রেডিও-টেলিভিশন তো দূরে থাক, জীবনে কোনো দিন কোনো অনুষ্ঠানেও গান করেননি। বের হয়নি কোনো অ্যালবাম। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তার সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে।

তোশিবা বেগম

তোশিবার নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। ‘তোশিবা বেগম’ নামের ওই ইউটিউব চ্যানেলে তিনি নিজের গাওয়া গান আপলোড করেন।

এ ছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ইমরানের চ্যানেল ‘মেড ইন বাংলাদেশের’ জন্য ৪-৫টা গান গেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে ‘দুই আনার পিরীত’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তোশিবাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। এখন থাকেন সিলেটের খাদিমপাড়ায়। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মেজো তোশিবার লক্ষ্য সিলেটের গান সারা বিশ্বে তুলে ধরা।

তোশিবা বলেন, ‘আমি সিলেটের পুরোনো গানগুলি গাইতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সিলেটের গানের বিপুল ভান্ডার তুলে ধরতে চাই। তবে ঠিক রাখতে চাই মূল সুর ও কথা, যাতে এগুলো বিকৃত হতে হতে হারিয়ে না যায়।

তবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, তোশিবার গাওয়া এই রিমিক্সে তিনি গানের মূল সুর নষ্ট করেছেন।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি মূল সুর নষ্ট করিনি। রিমিক্স করা হয়েছে কিন্তু গানের সুর ঠিক রাখা হয়েছে।’

হঠাৎ করে পাওয়া এই তারকাখ্যাতি কেমন লাগে জানতে চাইলে তোশিবা বলেন, ‘সবাই নাম জানছে, গান শুনছে, প্রশংসা করছে। এটা ভালো লাগে। তবে আগামীতে আরও ভালো করতে চাই।’

তবে এই গান নিয়ে আক্ষেপও আছে তোশিবার। গানটি তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পেলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তার নাম তেমন আসছে না।

তোশিবার অভিযোগ, ‘টেলিভিশনে নিউজ হয়েছে কিন্তু আমার নাম সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ছায়াছবি নাকি বিখ্যাত করেছে। অথচ ছায়াছবি আমার গান ব্যবহার করেছে।

‘ছায়াছবির অনেক আগে আমি টিকটকে গানের মাত্র দুই লাইন দিয়েছিলাম। সেটায় দুই লাখ ভিউ হয়েছে। মুজার চ্যানেলেও প্রচুর ভিউ হয়েছে। তোশিবা-মুজার মাধ্যমেই এই গান জনপ্রিয় হয়েছে।’

পুনশ্চ: ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে

গত ৩০ এপ্রিল ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে শিরোনামে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে নয়া দামান গানের উৎস, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, সময়কাল এই তথ্যগুলো খোঁজার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিবেদনে লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ ‘গীতিকারের নাম না থাকায় এটি লোকগান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তবে ২০১৩ সালে আমাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগীতজ্ঞ রামকানাই দাশ গানটি তার মা দিব্যময়ী দাশের রচনা বলে জানিয়েছিলেন। অবশ্য সে গানের কথায় দামান শব্দের বদলে জামাই শব্দ রয়েছে।’

পণ্ডিত রামকানাই দাশের মেয়ে কাবেরী দাশও এমন তথ্য জানিয়েছেন, যা ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রামকানাই দাশের বড় বোন শিল্পী সুষমা দাশ বলেছেন, এই গান কার লেখা তা তিনি জানেন না।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনটি পড়ে শুক্রবার রাতে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন রামকানাই দাশের কানাডাপ্রবাসী ছেলে পিনুসেন দাশ।

তিনি বলেন, ‘এই গানটি আমার ঠাকুরমা দিব্যময়ী দাশের। আমি ছোটবেলা থেকেই এটা শুনে আসছি। আমার বাবা রামকানাই দাশ বিভিন্ন বই ও সাক্ষাৎকারে তা বলে গেছেন। বাবা গীতিকার হিসেবে দিব্যময়ী দাশের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন জায়গায় এই গান গেয়েছেনও। ফলে এ নিয়ে বিতর্ক বা কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।’

দিব্যময়ী দাশের মেয়ে সুষমা দাশের না জানা প্রসঙ্গে পিনুসেন বলেন, ‘তার (সুষমা দাশ) অনেক ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায়। এরপর তিনি স্বামীর বাড়ি চলে যান। ফলে ঠাকুরমার সব গান সম্পর্কে তিনি না-ও জানতে পারেন। এ ছাড়া ঠাকুরমার গানগুলো আমার বাবাই খুঁজে খুঁজে বের করেছেন।’

নিজের বড় বোনের বরাত দিয়ে পিনুসেন বলেন, ‘আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। তবে আমার বড় বোনের কাছে শুনেছি, আমার বাবার ছাত্রী এয়ারুন্নেছা খানম আমাদের বাড়ি থেকে গানটি নিয়ে এসে রেডিওতে গেয়েছিলেন।’

সুমনকুমার দাশকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রামকানাই দাশ বলেছেন, দিব্যময়ী দাশের লেখা গানের প্রথম লাইন ছিল ‘আইলারে নয়া জামাই’। এয়ারুন্নেছা গেয়েছেন ‘আইলারে নয়া দামান’। বর্তমানে দামান শব্দটিই গানে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

শব্দ বদলে ফেলা হলেও তখন কেন কোনো প্রতিবাদ করা হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিনুসেন বলেন, ‘তখন বাবা আপত্তি করেছিলেন। তবে আরও জোরালো প্রতিবাদ করা দরকার ছিল।’

রেডিওর আর্কাইভে এই গানের গীতিকারের জায়গায় সংগৃহীত লেখা থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেডিওর তালিকাভুক্ত না হলে গীতিকারের নাম লেখা থাকে না।’

তোশিবাও বলেন, ‘এই গানটি দিব্যময়ীর বলে আমি শুনেছি। গান গাওয়ার সময় তার নাম উল্লেখ করা উচিত।’

তবে তোশিবাও জামাইয়ের পরিবর্তে দামান শব্দ ব্যবহার করেই গান গেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
রিকশা চলছে তাই বইমেলা চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউনেও বন্ধ হচ্ছে না বইমেলা
লকডাউন: বইমেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত রোববার
ছোটুর নতুন মা
বইমেলায় তিতাস সরকারের ‘ক্যারিয়ার ইন আইটি’

শেয়ার করুন