মিশরের রাজপথে আবারও ফারাওরা

জমকালো এক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শনিবার নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হয় মমিগুলোকে। ছবি: এএফপি

মিশরের রাজপথে আবারও ফারাওরা

জাঁকজমকপূর্ণ ও ব্যয়বহুল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার ১৮ রাজা ও চার রানির অক্ষতপ্রায় মমি নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশনে।

বিস্ময়কর রাজত্বের অবসানের প্রায় চার হাজার বছর পর আবার মিশরের রাজপথে এলেন ফারাও সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীরা।

ফারাও শাসনামলে শোভাযাত্রাগুলো কেমন ছিল, সেটি কেবল অনুমানই করা সম্ভব। তবে এই যুগে জমকালো আয়োজন বলতে যা বোঝায়, তার সবই ছিল সেখানে।

পদযাত্রায় অংশ নেয়া রাজা-রানীর মধ্যে ছিলেন রাজা দ্বিতীয় রামজেজ, রাজা সেকনেন রা, রাজা তৃতীয় তুথমোজিজ, রাজা প্রথম সেতি, রানী হাতশেবুত, রানী মেরিত আমুন, রাজা প্রথম আমেনহোটেপের স্ত্রী, রানী আহমোজ-নেফেরতারি ও রাজা আহমোজের স্ত্রী।

কিংবদন্তির এই শাসকরা চার হাজার বছর পরেও তাদের পূর্ণ অবয়ব নিয়ে শুয়ে আছেন দেশটির জাদুঘরে।

এতদিন মমিগুলো রাখা ছিল রাজধানী কায়রোর এক প্রান্তে। সেগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে মহানগরের ফুসতাত এলাকায় স্থাপিত নতুন জাদুঘরে।

সম্রাটের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাত্রা সাধারণ হতে পারে না। এই স্থানান্তরই যেন তার প্রমাণ।

পুরো আয়োজনে ব্যয় হয়েছে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

কায়রোর রাস্তা দিয়ে সারি সারি করে চলবেন দেশটির কয়েকশো বছর আগের শাসকেরা, এই অভিজ্ঞতা নিতে আয়োজনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতির কমতি ছিল না।

জাঁকজমকপূর্ণ ও ব্যয়বহুল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার ১৮ রাজা ও চার জন রানির অক্ষতপ্রায় এসব মমি নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশনে।

এ সময় ২১ বার গান স্যালুট দিয়ে তাদের স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল সিসি।

মমিবাহী প্রতিটি গাড়ি সুন্দর করে সাজানো হয়। রাস্তায় চলার পথে এগুলো যাতে ঝাঁকুনি না খায় সেজন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইউনেস্কো ও বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রধানরাও নতুন জাদুঘর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফারাও রাজা দ্বিতীয় রামজেজের মমি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পদযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল মিসরের নিউ কিংডমের সবচেয়ে বিখ্যাত ফারাও রাজা দ্বিতীয় রামজেজ। ৬৭ বছরের শাসনামলে তিনিই প্রথম শান্তিচুক্তিতে সই করেছিলেন।

মিসরের প্রাচীন রাজধানী থিবসের ধ্বংসাবশেষ থেকে ১৮৮১ ও ১৮৯৮ সালে মমিগুলো আবিষ্কার করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বাংলায়

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বাংলায়

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। ছবি: এএফপি

বইটি স্টিফেন হকিং ও লিওনার্দ ম্লোদিনোর যৌথভাবে লেখা গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের অবশ্য সরাসরি অনুবাদ নয়। বরং বইটিতে হকিংদের মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে এবং একই নামে হকিংয়ের কণ্ঠস্বরে চিত্রিত একটি তথ্যচিত্র ট্রিলজির বাংলা রূপান্তর এই বই। যার মূল উপজীব্য সৃষ্টি, মহাসৃষ্টি, মানব-অস্তিত্ব, মানবজীবন, মানব-জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য।

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের অনবদ্য ভাষ্য ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’-এর বাংলা রূপান্তর করা হয়েছে। এটি রূপান্তর করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. সেলিম মোজাহার।

বইটি স্টিফেন হকিং ও লিওনার্দ ম্লোদিনোর যৌথভাবে লেখা গ্র্যান্ড ডিজাইন বইয়ের অবশ্য সরাসরি অনুবাদ নয়। বরং বইটিতে হকিংদের মূল ভাবনাগুলোকে নিয়ে এবং একই নামে হকিংয়ের কণ্ঠস্বরে চিত্রিত একটি তথ্যচিত্র ট্রিলজির (ডিড গড ক্রিয়েট দ্য ইউনিভার্স, মিনিং অব লাইফ, কি টু দ্য কসমস) এর বাংলা রূপান্তর এই বই। যার মূল উপজীব্য সৃষ্টি, মহাসৃষ্টি, মানব-অস্তিত্ব, মানবজীবন, মানব-জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য।

বৃহস্পতিবার অনলাইনে বইটির পাঠ উন্মোচন করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি) চেয়ারম্যান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস এবং বিজ্ঞানবক্তা ও বিজ্ঞান-বিষয়ক পত্রিকা ‘মহাবৃত্ত’-এর সম্পাদক আসিফুর রহমান।

স্টিফেন হকিংয়ের ‘গ্র্যান্ড ডিজাইন’ বইটি বাংলায় আনা হয়েছে
বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের গ্র্যান্ড ডিজাইন বইটি বাংলায় আনা হয়েছে

অনুষ্ঠানে সেলিম মোজাহার বলেন, ‘কেবল বিজ্ঞান নয়, সাহিত্য-শিল্প-সমাজ-দর্শনসহ জ্ঞানের সব শাখার পাঠকের কাছে বইটি প্রয়োজনীয় ও সুখপাঠ্য হবে।’

বিজ্ঞানবক্তা আসিফ বলেন, ‘বইটি বাংলা ভাষার বিজ্ঞান-সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন।

‘এটা নিঃসন্দেহে এক দারুণ কাজ।’

অধ্যাপক সুশান্ত দাস বলেন, ‘বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত বইটি যেকোনো বিষয়ের পাঠকের কাছে সহজবোধ্য ও সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস। বইটি বিজ্ঞানে আগ্রহীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে।’

বুকিশ পাবলিকেশন্স গ্র্যান্ড ডিজাইন বইটি প্রকাশ করেছে।

মনন সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত উন্মোচন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও গবেষক ড. মাহবুবুল হক।

শেয়ার করুন

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন

শব্দ সৈনিক অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

অনুপ ভট্টাচার্যের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। কাজল ঘোষ আরও জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। অনুপের মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে। শুক্রবার পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটে হবে শেষকৃত্য।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সুরকার অনুপ ভট্টাচার্য মারা গেছেন। আজ (৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানরি আসগর আলী হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিউজবাংলাকে বিষয়নি নিশ্চিত করেছেন তার আত্মীয় কাজল ঘোষ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং বাসা থেকেই তার চিকিৎসা চলছিল। আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

অনুপ ভট্টাচার্যের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। কাজল ঘোষ আরও জানান, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না।

অনুপের মরদেহ রাখা হয়েছে বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে। শুক্রবার পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটে হবে শেষকৃত্য। তার আগে শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত না বলে জানান কাজল।

অনুপ ভট্টাচার্যের দুই মেয়ে, তারা দুজনেই এখন দেশের বাইরে আছেন।

‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘নোঙর তোলো তোলো’- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এমন সব ঐতিহাসিক গানে সমবেতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপ ভট্টাচার্য।

অনেক গানের সুর করেছেন তিনি। গাইতেন রবীন্দ্রসংগীত।

শেয়ার করুন

যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

নয়া দামানের সবশেষ কাভারের গায়িকা তোশিবা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

তোশিবার অভিযোগ, ‘টেলিভিশনে নিউজ হয়েছে কিন্তু আমার নাম সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ছায়াছবি নাকি বিখ্যাত করেছে। অথচ ছায়াছবি আমার গান ব্যবহার করেছে। তোশিবা-মুজার মাধ্যমেই এই গান জনপ্রিয় হয়েছে।’

‘হায়রে হায়রে হায়, ও মুজা খালি গান গাইতে থাকো, সারা সিলেটোর লাগি একটা গান গাও না কেনে বা?’ সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় এই কথাগুলোর পরই শোনা যায় একটি নারীকণ্ঠ গেয়ে ওঠে, ‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তেরা/ বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেড়া/ দামান বও দামান বও।’

‘সারা সিলেটোর লাগি’ গাওয়ার কথা বলা হলেও এই গান আর শুধু ‘সারা সিলেটোর লাগি’ থাকেনি। বরং প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজার সংগীতায়োজনে এই গানটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে সিলেট অঞ্চলে গীত হয়ে আসা ‘নয়া দামান’ গানে এখন মজেছে সবাই।

‘নয়া দামানের’ এই পুনর্জাগরণের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেটেরই এক তরুণী। তার কণ্ঠে ভর করেই সিলেট অঞ্চলের এই বিয়ের গানটি এখন ভাইরাল। গানের সঙ্গে সেই তরুণীও এখন সবার পরিচিত। তার নামও আর কারও অজানা নয়। তিনি তোশিবা বেগম।

সিলেটি তরুণী তোশিবা সদ্য এইচএসসি পাস করেছেন। গান গাইতে ভালো লাগলেও শেখা হয়নি কখনো। তবে দরদ দিয়ে গাওয়ায় গানগুলো হৃদয় কাড়ছে সবার। তার গায়কীতে মুগ্ধ শ্রোতারা।

নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কথা হয় তোশিবার সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয় তার গানের জনপ্রিয়তার পেছনের গল্প।

তোশিবা জানান, গান না শিখলেও ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে গান করেন। মূলত সিলেট অঞ্চলের লোকগানই করে থাকেন। বছর দুয়েক ধরে ফেসবুকে খালি গলায় গাওয়া নিজের কিছু কিছু গান আপলোড করা শুরু করেন। অনেকে তা পছন্দ করে।

ধীরে ধীরে তার গাওয়া গান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর ৭-৮ মাস আগে থেকে টিকটক ব্যবহার শুরু করেন। টিকটকে পছন্দের কিছু গানের ২ থেকে ৩ লাইন গাইতেন। দ্রুতই টিকটকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচের সেই ভাইরাল ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে তোশিবার গাওয়া গানটি। মুজার সংগীতায়োজনে এই গানে বাঁশি বাজিয়েছেন মীম।

তোশিবা বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে ‘আইলারে নয়া দামান’ গানের দুই লাইন গেয়ে টিকটকে দিয়েছিলাম। অনেক মানুষ এটা পছন্দ করে। এটি দেখে মুজা ভাই (প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজা) যোগাযোগ করেন। তিনি তার সঙ্গে এই গানটি করার প্রস্তাব দেন। আমি এতে সম্মত হই।’

মাসখানেক আগে নয়া দামান গানের ‘মুজা ফিচারিং তোশিবা’ ভার্সন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন মুজা।

এরপরের গল্প তো সবার জানা। নেটিজেনদের মাঝে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।

শনিবার পর্যন্ত মুজার ইউটিউব চ্যানেলে এই গান শুনেছেন অর্ধকোটি শ্রোতা। এই গানের সঙ্গে খুলনার এক কনের নাচের ভিডিও ধারণ করে ইউটিউবে আপলোড করে ছায়াছবি নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। সেই ভিডিও দেখেছেন কোটি খানেক দর্শক।

আর করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচের ভিডিও তো সবার মোবাইলে মোবাইলে।

আগেকার দিনে শিল্পীদের তারকা হওয়ার মাধ্যম ছিল শুধু রেডিও-টেলিভিশন। জনপ্রিয় শিল্পীদের অনেকগুলো অ্যালবাম বের হতো। বছরজুড়ে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে গান গাইতেন।

কয় বছর আগেও এটিই ছিল বাস্তবতা। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। এখন আর শিল্পী হওয়ার জন্য রেডিও-টেলিভিশনের আশায় বসে থাকতে হয় না, প্রযোজকদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরতে হয় না।

প্রতিভা ও ইচ্ছা থাকলে সহজেই নিজের গান পৌঁছে দিতে পারেন মানুষের কাছে। পেয়ে যেতে পারেন তারকাখ্যাতি।

যেমন, তোশিবার কথাই ধরা যাক। রেডিও-টেলিভিশন তো দূরে থাক, জীবনে কোনো দিন কোনো অনুষ্ঠানেও গান করেননি। বের হয়নি কোনো অ্যালবাম। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তার সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে।

তোশিবা বেগম

তোশিবার নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। ‘তোশিবা বেগম’ নামের ওই ইউটিউব চ্যানেলে তিনি নিজের গাওয়া গান আপলোড করেন।

এ ছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ইমরানের চ্যানেল ‘মেড ইন বাংলাদেশের’ জন্য ৪-৫টা গান গেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে ‘দুই আনার পিরীত’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তোশিবাদের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। এখন থাকেন সিলেটের খাদিমপাড়ায়। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মেজো তোশিবার লক্ষ্য সিলেটের গান সারা বিশ্বে তুলে ধরা।

তোশিবা বলেন, ‘আমি সিলেটের পুরোনো গানগুলি গাইতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সিলেটের গানের বিপুল ভান্ডার তুলে ধরতে চাই। তবে ঠিক রাখতে চাই মূল সুর ও কথা, যাতে এগুলো বিকৃত হতে হতে হারিয়ে না যায়।

তবে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, তোশিবার গাওয়া এই রিমিক্সে তিনি গানের মূল সুর নষ্ট করেছেন।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি মূল সুর নষ্ট করিনি। রিমিক্স করা হয়েছে কিন্তু গানের সুর ঠিক রাখা হয়েছে।’

হঠাৎ করে পাওয়া এই তারকাখ্যাতি কেমন লাগে জানতে চাইলে তোশিবা বলেন, ‘সবাই নাম জানছে, গান শুনছে, প্রশংসা করছে। এটা ভালো লাগে। তবে আগামীতে আরও ভালো করতে চাই।’

তবে এই গান নিয়ে আক্ষেপও আছে তোশিবার। গানটি তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পেলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তার নাম তেমন আসছে না।

তোশিবার অভিযোগ, ‘টেলিভিশনে নিউজ হয়েছে কিন্তু আমার নাম সেভাবে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ছায়াছবি নাকি বিখ্যাত করেছে। অথচ ছায়াছবি আমার গান ব্যবহার করেছে।

‘ছায়াছবির অনেক আগে আমি টিকটকে গানের মাত্র দুই লাইন দিয়েছিলাম। সেটায় দুই লাখ ভিউ হয়েছে। মুজার চ্যানেলেও প্রচুর ভিউ হয়েছে। তোশিবা-মুজার মাধ্যমেই এই গান জনপ্রিয় হয়েছে।’

পুনশ্চ: ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে

গত ৩০ এপ্রিল ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে শিরোনামে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে নয়া দামান গানের উৎস, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, সময়কাল এই তথ্যগুলো খোঁজার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিবেদনে লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ ‘গীতিকারের নাম না থাকায় এটি লোকগান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তবে ২০১৩ সালে আমাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগীতজ্ঞ রামকানাই দাশ গানটি তার মা দিব্যময়ী দাশের রচনা বলে জানিয়েছিলেন। অবশ্য সে গানের কথায় দামান শব্দের বদলে জামাই শব্দ রয়েছে।’

পণ্ডিত রামকানাই দাশের মেয়ে কাবেরী দাশও এমন তথ্য জানিয়েছেন, যা ওই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রামকানাই দাশের বড় বোন শিল্পী সুষমা দাশ বলেছেন, এই গান কার লেখা তা তিনি জানেন না।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনটি পড়ে শুক্রবার রাতে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন রামকানাই দাশের কানাডাপ্রবাসী ছেলে পিনুসেন দাশ।

তিনি বলেন, ‘এই গানটি আমার ঠাকুরমা দিব্যময়ী দাশের। আমি ছোটবেলা থেকেই এটা শুনে আসছি। আমার বাবা রামকানাই দাশ বিভিন্ন বই ও সাক্ষাৎকারে তা বলে গেছেন। বাবা গীতিকার হিসেবে দিব্যময়ী দাশের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন জায়গায় এই গান গেয়েছেনও। ফলে এ নিয়ে বিতর্ক বা কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।’

দিব্যময়ী দাশের মেয়ে সুষমা দাশের না জানা প্রসঙ্গে পিনুসেন বলেন, ‘তার (সুষমা দাশ) অনেক ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যায়। এরপর তিনি স্বামীর বাড়ি চলে যান। ফলে ঠাকুরমার সব গান সম্পর্কে তিনি না-ও জানতে পারেন। এ ছাড়া ঠাকুরমার গানগুলো আমার বাবাই খুঁজে খুঁজে বের করেছেন।’

নিজের বড় বোনের বরাত দিয়ে পিনুসেন বলেন, ‘আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। তবে আমার বড় বোনের কাছে শুনেছি, আমার বাবার ছাত্রী এয়ারুন্নেছা খানম আমাদের বাড়ি থেকে গানটি নিয়ে এসে রেডিওতে গেয়েছিলেন।’

সুমনকুমার দাশকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রামকানাই দাশ বলেছেন, দিব্যময়ী দাশের লেখা গানের প্রথম লাইন ছিল ‘আইলারে নয়া জামাই’। এয়ারুন্নেছা গেয়েছেন ‘আইলারে নয়া দামান’। বর্তমানে দামান শব্দটিই গানে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

শব্দ বদলে ফেলা হলেও তখন কেন কোনো প্রতিবাদ করা হলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিনুসেন বলেন, ‘তখন বাবা আপত্তি করেছিলেন। তবে আরও জোরালো প্রতিবাদ করা দরকার ছিল।’

রেডিওর আর্কাইভে এই গানের গীতিকারের জায়গায় সংগৃহীত লেখা থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেডিওর তালিকাভুক্ত না হলে গীতিকারের নাম লেখা থাকে না।’

তোশিবাও বলেন, ‘এই গানটি দিব্যময়ীর বলে আমি শুনেছি। গান গাওয়ার সময় তার নাম উল্লেখ করা উচিত।’

তবে তোশিবাও জামাইয়ের পরিবর্তে দামান শব্দ ব্যবহার করেই গান গেয়েছেন।

শেয়ার করুন

অনলাইনে জমজমাট থ্রিলার বইমেলা

অনলাইনে জমজমাট থ্রিলার বইমেলা

‘করোনাকালীন লকডাউনে বই হোক সঙ্গী’ স্লোগানে ২২ এপ্রিল শুরু হওয়া থ্রিলার বইমেলাটি চলবে ৬ মে পর্যন্ত। ৩০টির বেশি প্রকাশনী যোগ দিয়েছে এবারের মেলায়।

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় থ্রিলার সাহিত্যভিত্তিক গ্রুপ ‘থ্রিলার পাঠকদের আসর’ এর আয়োজনে চলছে ‘টিপিএ বইমেলা ২০২১’।

ভার্চুয়াল বইমেলা হিসেবে এটিই এখন পর্যন্ত ফেসবুককেন্দ্রিক সবচেয়ে বড় অনলাইন বইমেলা।

‘করোনাকালীন লকডাউনে বই হোক সঙ্গী’ স্লোগানে ২২ এপ্রিল শুরু হওয়া থ্রিলার বইমেলাটি চলবে ৬ মে পর্যন্ত। ৩০টির বেশি প্রকাশনী যোগ দিয়েছে এবারের মেলায়।

সেবা প্রকাশনী, বাতিঘর প্রকাশনী, অবসর প্রকাশনা, আফসার ব্রাদার্স থেকে শুরু করে বর্ষাদুপুর, জাগৃতি, চলন্তিকা, বিবলিওফাইল-এর মতো বড় বড় প্রকাশনীও রয়েছে মেলায়। পাঠকদের জন্য আছে আকর্ষণীয় ছাড় এবং সহজে বই হাতে পাওয়ার ব্যবস্থা।

থ্রিলার পাঠকদের আসরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর করোনাকালীন বিপর্যয়ে একুশে বইমেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে প্রকাশনাগুলোর ক্ষতি পোষানো, অন্যদিকে করোনায় ঘরবন্দি মানুষের পাঠাভ্যাস ধরে রাখতেই অনলাইনে মেলার আয়োজন করেছে তারা।

মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে গ্রুপে লাইভে এসে নিজেদের বই নিয়ে কথা বলছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে পাঠকেরা সহজে জানতে পারছেন বিভিন্ন বইয়ের খোঁজখবর।

মেলায় অংশ নিয়েছে যেসব প্রকাশনী:

সেবা প্রকাশনী

বাতিঘর প্রকাশনী (অনলাইন পার্টনার: বাংলাবাজার বুকস)

অবসর প্রকাশনা সংস্থা (অনলাইন পার্টনার: বাংলাবাজার বুকস)

আফসার ব্রাদার্স (অনলাইন পার্টনার: বাংলাবাজার বুকস)

নালন্দা

বর্ণায়ন (অনলাইন পার্টনার: পুঁথি পুরান)

বিবলিওফাইল প্রকাশনী

জাগৃতি প্রকাশনী

বর্ষাদুপুর

ভূমিপ্রকাশ

নয়েস পাবলিকেশন

ঐশ্বর্য প্রকাশ

গ্রন্থরাজ্য

সতীর্থ প্রকাশনা

তরফদার প্রকাশনী

নন্দন

নহলী

প্রতিচ্ছবি প্রকাশনী

কুহক কমিক্স অ্যান্ড পাবলিকেশন

ঈহা প্রকাশ

বইপিয়ন প্রকাশনী

পেপার ভয়েজার

পেন্ডুলাম

ভিন্নধারা কমিক্স

অক্ষরবৃত্ত প্রকাশন

চলন্তিকা

পরিবার পাবলিকেশন্স

চন্দ্রভুক প্রকাশন

পুস্তক প্রকাশন

মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে এখানে ক্লিক করুন।

থ্রিলার পাঠদের আসর-এর ফেসবুক গ্রুপ লিঙ্ক পেতে ক্লিক করুন এখানে

শেয়ার করুন

শিল্পীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে ‘অনিয়ম’

শিল্পীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে ‘অনিয়ম’

‘মুখ চিনে অনুদান দেয়া হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। যারা প্রকৃত শিল্পী তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। যাদের অনুদান দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রেডিও, বেতার, নাটক, আবৃতি ও সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় জড়িত কেউ নেই। একইভাবে অনেকেই আছেন যারা আদৌ শিল্পীও নয়।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে খুলনা জেলায় ২৯৭ জন কর্মহীন শিল্পী, কলা-কুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের একজন সহসভাপতি বলেছেন, অনুদান দেয়া হচ্ছে, এমন খবরে তিনি মিলনায়তনে গিয়ে কয়েকজনকে চিনেছেন। বাকিরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, এমন কোনো তথ্য তিনি জানেন না।

গত ২২ এপ্রিল দুপুরে মহানগরীর বয়রা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে এ চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কর্মহীন শিল্পী, কলাকুশলীর মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে নিজেদের লোকদের মধ্যে অনুদান বিতরণের অভিযোগ এনে ২৫ এপ্রিল থেকে আন্দোলনে নামে বঞ্চিত প্রকৃত শিল্পী, কবি-সাহিত্যিকসহ সংস্কৃতিকর্মীরা।

তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেন।

সে সময় শিল্পী ও কলাকুশলীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অবস্থিত জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছেও এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন।

২৮ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মহানগরীর মৌলভীপাড়ার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে খুলনা জেলা লেখক-শিল্পী ঐক্য পরিষদের একটি সভা হয়। সেখানে প্রকৃত শিল্পী, কবি-সাহিত্যিকসহ সংস্কৃতিসেবীদের অনুদান না দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।

নগর নাট্যদলের নাট্য পরিচালক কামরুল কাজল বলেন, ‘মুখ চিনে অনুদান দেয়া হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। যারা প্রকৃত শিল্পী তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। যাদের অনুদান দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রেডিও, বেতার, নাটক, আবৃতি ও সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় জড়িতদের কেউ নেই। একইভাবে অনেকেই আছেন যারা আদৌ শিল্পীও নয়।’

তিনি দাবি করেন, একই পরিবারের দুইজন পেয়েছে এমন সংখ্যাও রয়েছে ১২ থেকে ১৪টি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলা কমিটির সহসভাপতি লুৎফুন্নাহার পলাশী বলেন, ‘আমি এই অনুদান সম্পর্কে টোটালি জানি না। ব্যাপারটা আরও ক্লিয়ার হওয়ার জন্যে নিজেই গত রোববার খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে যাই এবং জানতে পারি যে, করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ে এই ফর্মটি ছাড়া হয় অনলাইনে। তখন অনেকেই ফর্ম পূরণ করে।

‘এখন এই লিস্টে যারা আছে তাদের মধ্যে ২/৩ ছাড়া কাউকেই চিনি না। কারণ, এরা বেশিরভাগ খুলনার বাইরের।’

তিনি বলেন, ‘অনলাইনে যারা সব সময় থাকে, তারাই এই ফর্মটি সম্পর্কে জানে না, আর অনলাইন সম্পর্কে যাদের ধারণা নাই তারা কীভাবে এই ফর্মটি সম্পর্কে জানল? একটা সম্প্রদায়ের বড় একটা অংশ এই লিস্টে রয়েছেন। পরে ওখান থেকে বলা হয়েছে, যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তারাই এই ভাতার অন্তর্ভুক্ত।’

লুৎফুন্নাহার পলাশী বলেন, ‘আমি নিজেও বর্তমানে বেকার। তারপরেও বলব, সরকার যখন শিল্পীদের একটা সম্মানি দিচ্ছেন, এই অনুদান সব শিল্পীদেরই পাওয়া উচিত।’

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার সাহা বলেন, ‘গত বছর করোনার শুরুর প্রথম দিকেই আমরা তালিকা চেয়েছিলাম। যারা এখন আন্দোলন করছে তারা এসব তালিকায় নাম দেননি। আমরা সঠিকভাবে বণ্টনের চেষ্টা করেছি।

‘আন্দোলনকারী কবি-সাহিত্যিকরা আগে তো কখনও আসেননি। আমরা যখন তথ্য চেয়েছিলাম তারা তখন কোথায় ছিলেন? সেদিন তারা আমার অফিসে আসার পর আমি তাদের কাছে তালিকা চেয়েছিলাম তিন চার দিন হয়ে গেছে তারা এখনও তালিকা দেয়নি।’

শেয়ার করুন

‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে

‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে

‘নয়া দামান’ গানে ঢাকা মেডিক্যালের ৩ চিকিৎসকের নাচের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া।

অনেকেই দাবি করছেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী রামকানাই ও সুষমা দাশের মা দিব্যময়ী দাশ নয়া দামানের রচয়িতা। ফেসবুকে বৃহস্পতিবার এক পোস্টে নির্মাতা ও লেখক শাকুর মজিদ দিব্যময়ীর নাতনি কাবেরি দাশের বরাত দিয়ে এই কথা জানিয়েছেন। তবে শুক্রবার সকালে সুষমা দাশ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, এই গানটি কার লেখা তা তিনি জানেন না। মায়ের লেখা বলে তিনি কখনো শোনেননি।

কে আছে মজেনি এখনও, হৃদয়কাড়া সেই সুর আর সহজ কথার যাদুতে!

এখন তো সবার মুখে-মুখে, আর মোবাইল ফোনে ঘুরে বেড়াচ্ছে গানটি- ‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তেরা/ বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেড়া/ দামান বও দামান…’।

সিলেট অঞ্চলের এই গান একদল চিকিৎসকের মাধ্যমে ঝড় তুলছে সারা দেশে। ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। দেশের ভেতরে তো বটেই, দেশের বাইরে থাকা বাঙালিদের হৃদয়ও কেড়েছে গানটি। আর ফেসবুক-ইউটিউব-টিকটকে তরুণদের মধ্যে এই গান গাওয়ার রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। রিমিক্স-ফিউশনের মাধ্যমে নেচে গেয়ে তারা পরিবেশন করেছেন- নতুন বরকে বরণের এই গান।

হালের ট্রেন্ড হয়ে ওঠা এই গানটি কবেকার? গানটি কে লিখেছিলেন? সুরই বা কার? কে গেয়েছিলেন প্রথম? একেবারেই মানুষের মুখে মুখে, বিশেষত গ্রামীণ নারীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই গানের বিষয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সহজ নয়। তবুও নিউজবাংলা খোঁজার চেষ্টা করেছে গানটির উৎস।

গানের কথাই বলে দিচ্ছে, এটি মূলত সিলেট অঞ্চলের বিয়ের গান। আঞ্চলিক ভাষায় রচিত গানটি অর্ধশতাধিক বছর ধরে গীত হয়ে আসছে সিলেটের বিভিন্ন বিয়ের আসরে। হাস্যকৌতুক মিশ্রিত সহজ কথা আর বাংলার লোকসুরের এই গানের মাধ্যমে নতুন বরকে বরণ করা হয়।

এ গানে বরকে আকাশের তারার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর তাকে বসার জন্য ধানের খড় বিছিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পরের অন্তরাতেই নতুন বরকে পান খাওয়ার অনুরোধ করে কৌতুকচ্ছলে বলা হচ্ছে, যাওয়ার কথা বললে কান কেটে রাখা হবে।





সিলেটের ছেলে একুশ তাপাদার ঢাকার একটি পত্রিকার রিপোর্টার। তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই মায়ের মুখে এই গীত শুনে আসছি। বিয়ের আসরে কয়েকজন নারী মিলে এটি গাইতেন। হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলেই গাইতেন।’

সিলেটের নানা বয়সের আরও অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা হয় এই গান নিয়ে। সবাই জানালেন, বিয়ের আসরেই শুনেছেন এই গান। তবে এর গীতিকার বা সুরকার কে, তা কেউই বলতে পারেননি।

সিলেট অঞ্চলের বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য-গীত একটি আবশ্যিক অনুষঙ্গ। হিন্দু, মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বিয়েতেই স্বজন ও প্রতিবেশী নারীরা সম্মিলিতভাবে গান গেয়ে পরিবেশ আরও উৎসবমুখর করে তোলেন।

হালের কমিউনিটি সেন্টারনির্ভর বিয়ের আধিক্য আর বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে কিছুটা কমেছে যদিও, তবু গ্রামাঞ্চলে মুসলিম বিয়েতে নারীদের গানের আসর বসানোর দৃশ্য এখনও দুর্লভ নয়। আর বছর বিশেক আগে তো এটি প্রায় আবশ্যিকই ছিল।

এখন অবশ্য ভিন্ন ফর্মে আবার ফিরেছে তা। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে, বিয়ের ভিডিওচিত্র নির্মাণে ফিরে এসেছে নৃত্য-গীতের আয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘নয়া দামান’ গানের এমন ভাইরাল হওয়ার পেছনেও ভূমিকা রেখেছে এরকম একটি ভিডিওচিত্র। ছায়াছবি নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ইউটিউব পেজে দেয়া এই ভিডিওচিত্রে খুলনার এক কনের বন্ধু-স্বজন নারীদের এই গানে নাচতে-গাইতে দেখা যায়। এটা এরইমধ্যে কোটি দর্শক দেখে ফেলেছেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জফির সেতু সিলেট অঞ্চলের বিয়ের গান সংগ্রহ করে নিজ সম্পাদনায় বছর তিনেক আগে বের করেছিলেন ‘সিলেটের বিয়ের গীত’ নামে একটি বই।

বইটির ১৪৯তম পৃষ্ঠায় ‘বর-বরণ’ শিরোনামে ১৫ লাইনের পুরো ‘নয়া দামান’ গানটি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এখানেও গানের গীতিকার-সুরকারের নাম নেই।

অধ্যাপক সেতু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই গানটি সিলেট অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিয়ের গান। অনেক তথ্য তালাশ করেও এই গানের গীতিকার কে তা জানতে পারিনি। তবে সময়ের পরিক্রমায় গানের কথায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। আবার সিলেটেরই বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে গানের কথা কিছু বদলে গেছে।’





সিলেটের একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ লোকসঙ্গীত শিল্পী সুষমা দাশ। তার ভাই পণ্ডিত রামকানাই দাশও সংগীতে একুশে পদক পেয়েছেন। অনেকেই দাবি করছেন, রামকানাই ও সুষমা দাশের মা দিব্যময়ী দাশ নয়া দামানের রচয়িতা। ফেসবুকে বৃহস্পতিবার এক পোস্টে নির্মাতা ও লেখক শাকুর মজিদ দিব্যময়ীর নাতনি কাবেরি দাশের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, এই গানটি দিব্যময়ীর লেখা।

তবে শুক্রবার সকালে সুষমা দাশ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, এই গানটি কার লেখা তা তিনি জানেন না। মায়ের লেখা বলে তিনি কখনও শোনেননি।

sylhet
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ লোকসঙ্গীত শিল্পী সুষমা দাশ

নয়া দামানের গীতিকার হিসেবে অনেক জায়গায় হাছন রাজার নামও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ নিশ্চিত করেছেন, এটি হাছন রাজার নয়, এতটা পুরোনোও নয়।

তিনি বলেন, ‘গানের স্থায়ীটা (উৎসমুখ) একই রকম রেখে বাকি অন্তরাগুলোর বিভিন্ন সময় পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন হয়েছে। একেকজন একেকভাবে গেয়েছেন।

‘এই গানটি খুব বেশি পুরানো নয়। ৫০-৬০ বছর আগের হবে। গানের ভণিতায় গীতিকারের নাম না থাকায় বিভ্রান্তি বেড়েছে। ফলে এটি এতকাল ধরে লোকগান হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। লোকের মুখে মুখেই যা ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ২০১৩ সালে আমাকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে সংগীতজ্ঞ রামকানাই দাশ গানটি তার মায়ের রচনা বলে জানিয়েছিলেন। অবশ্য সে গানের পঙক্তিতে “দামান” শব্দের বদলে “জামাই” শব্দ রয়েছে।’

সিলেট বেতারের জন্য ১৯৭৩ সালের দিকে এয়ারুন্নেছা খানম নামের এক শিল্পীর কণ্ঠে গানটি প্রথম রেকর্ড হয় বলে জানান সুমন।

১৯৭৩-৭৪ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রথম এই গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন সিলেটের কয়েকজন শিল্পী। সেই দলে ছিলেন সিলেটের প্রবীণ সঙ্গীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস।

sylhet
প্রবীণ সঙ্গীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৭৩ কি ৭৪ সালে নওয়াজেশ আলী খানের পরিচালনায় ‘বর্ণালী’ অনুষ্ঠানে আমরা বিটিভিতে এই গানটি পরিবেশন করি। এর আগে সিলেট অঞ্চলের বাইরে এই গানটি পরিবেশন করা হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।’

গানের রচনাকাল সম্পর্কে হিমাংশু বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে সিলেট নগরের মিরের ময়দানে বাংলাদেশ বেতারের সিলেট কেন্দ্র স্থাপন হয়। এর পরই বেতারে গানটি প্রথমবারের মতো রেকর্ড করা হয়। এর আগে এর কোনো রেকর্ড ছিল না। তখন সিলেট বেতার কেন্দ্রে এই অঞ্চলের অনেক বিয়ের গান প্রচারিত হতো।

‘বেতারের জন্য এই গানটির সুর করেছিলেন সিলেট বেতারের সঙ্গীত প্রযোজক আলী আকবর খান। এখন তার সুরেই গানটি গাওয়া হয়।’

তবে গানটির গীতিকারের নাম জানা যায়নি বলে জানান তিনিও।

হিমাংশুর কথার সত্যতা মিলল বাংলাদেশ বেতারের সিলেট কেন্দ্রে খোঁজ নিয়েও। বেতারে ৩৫ বছর আগে কয়েকজন নারী শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া এই গানের একটি রেকর্ড রয়েছে।

বাংলাদেশ বেতারের সিলেট কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক প্রদীপ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের আর্কাইভে থাকা সবচেয়ে পুরোনো রেকর্ডে এই গানের সুরকার হিসেবে আলী আকবর খানের নাম রয়েছে। আর গীতিকারের জায়গায় লেখা রয়েছে অজ্ঞাত।’

আলী আকবর খান প্রয়াত হয়েছেন। তার ছেলে মতি খান বর্তমানে বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত। তিনিও এই গানের গীতিকার কে তা জানাতে পারেননি।

doctor
নয়া দামানের ঢাকা মেডিক্যাল ভার্সনের ভিডিওতে নাচতে দেখা গেছে ডা. শাশ্বত চন্দন ও ডা. আনিকা ইবনাত শামাকে



আমেরিকা প্রবাসী মিউজিশিয়ান মুজার উদ্যোগে সিলেটের সংগীত শিল্পী তোশিবা বেগমের গাওয়া ‘নয়া দামান’-এর নতুন ভার্সনটি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাতে বাঁশি বাজিয়েছেন মিম হক। অনেকেই তাদের গানের সঙ্গে নেচে ভিডিওচিত্র ধারণ করে ইউটিউবে ছাড়ছেন। সেগুলোও দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। এই ভার্সনটিই গায়ে হলুদের ভিডিওতে ব্যবহার করেছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ছায়াছবি’।

সম্প্রতি গানটির সবশেষ ভার্সনের সংগীত শিল্পী তোশিবা তার পোস্ট করা এক টিকটক ভিডিওতে অনুযোগ করে বলেন, গানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নাম সামনে আসলেও তার নাম রয়ে যায় আড়ালে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই গান সিলেট থেকে ভাইরাল হয়েছে, তার গায়কীতে গানটি এখন নতুন করে জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু আলোচনায় তার নাম কোথাও নেই। বরং আলোচিত হচ্ছে ছায়াছবির ভিডিও ও মুজা।

তবে এই গানটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি হইচই ফেলেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসক। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের উৎসাহ দিতে ঢাকা মেডিক্যালের করিডোরে এই গানের সঙ্গে তারা নেচেছেন। সেই ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, ব্যাপক প্রশংসিতও হয়েছে।

এ নিয়ে কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বৃহস্পতিবার ফেসবুকে লেখেন, ‘নয়া দামান। একটি লোকগান কী পরিমাণ নাড়া দিল মানুষকে! হাসপাতালের ডাক্তারদের নৃত্যসহযোগে গাওয়া গানটা যতবার দেখি মুগ্ধ হই। এটাই ফোকলোরের শক্তি। গ্রামগঞ্জের ওই হেঁদিপেদি জনগণের সংস্কৃতিই বাঙালির মূল সংস্কৃতি। গ্রামের আউল-বাউল-বয়াতি গায়েন-ফকিররাই শেষ পর্যন্ত বাঙাল মানুষের চিত্ত দখল করে নেয়।’

পুরো গানটির কথা

আইলারে নয়া দামান আসমানের তেরা

বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেরা।।

দামান বও, দামান বও।

বও দামান কওরে কথা খাওরে বাটার পান।

যাইবার লাগি চাওরে যদি কাটিয়া রাখমু কান।।

দামান বও, দামান বও।

আইলারে দামান্দের ভাই হিজলের মোরা।

ঠুনকি দিলে মাটি পড়ে ষাইট-সত্তইর উড়া।।

দামান বও, দামান বও।

আইলারে দামান্দের বইন কইবা একখান কথা।

কইন্যার ভাইর চেরা দেইখ্যা অইগেলা বোবা।।

দামান বও, দামান বও।

আইলারে দামান্দের বইন মোটা ভাইবৌ মোটা বটর গাইল।

উঠতে বইতে সময় লাগে করইন আইল তাইল।।

দামান বও দামান বও।

(এই গানের নানা ভার্সন রয়েছে। বিভিন্ন সময় কথার পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়েছে। এই কথাগুলো জফির সেতু সম্পাদিত সিলেটের বিয়ের গীত’বই থেকে সংগৃহিত।)

শেয়ার করুন

শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর ৮ দিন পর চলে গেলেন স্ত্রীও

শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর ৮ দিন পর চলে গেলেন স্ত্রীও

পরিবারের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কবি শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে প্রতিমার। হাসপাতালে যেতে চাননি। বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

বাংলা কবিতার উজ্জ্বল মুখ পশ্চিমবঙ্গের কবি শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর আট দিন পরে মৃত্যু হয়েছে তার স্ত্রী প্রতিমা ঘোষের।

পশ্চিমবঙ্গে নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে প্রতিমার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম।

প্রতিমা ঘোষের বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

গত ১৪ এপ্রিল একই সঙ্গে করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে শঙ্খ ও প্রতিমার। গত ২১ এপ্রিল মারা যান শঙ্খ ঘোষ।

পরিবারের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কবি শঙ্খ ঘোষের মৃত্যুর পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে প্রতিমার। হাসপাতালে যেতে চাননি। বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

প্রতিমা ছিলেন বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক। লেখালেখিও করতেন তিনি। তার দুটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম ‘আপনজন’ ও ‘নয় বোনের বাড়ি’।

জলপাইগুড়িতে জন্ম প্রতিমা ঘোষের। কলেজজীবন থেকেই পরিচয় কবির সঙ্গে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে শঙ্খ ঘোষের সহপাঠী ছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ৬৫ বছরের বৈবাহিক জীবন ছিল শঙ্খ ঘোষ ও প্রতিমার।

শেয়ার করুন