যে গ্রামে দেয়াল শিল্পিত

টিকোইল গ্রামের প্রতিটি ঘরই এমন আলপনায় সাজানো। ছবি: নিউজাবংলা

যে গ্রামে দেয়াল শিল্পিত

টিকোইল গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়ির দেয়ালে আলপনা আঁকা। গ্রামের বাসিন্দারা যেন পেয়ে গেছেন বিশাল বিশাল ক্যানভাস। প্রত্যেকে হয়ে উঠেছেন সৌন্দর্যপিপাসু শিল্পী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সড়কপথে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের টিকোইল গ্রামে ঢুকলে চোখে পড়বে বাড়িঘরের সামনের দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের আলপনা আঁকা। প্রায় সব বাড়ির দেয়ালে শিল্পকর্ম।

গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। পূজাপার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে বাড়িকে সাজিয়ে তুলতেই তারা এঁকে থাকেন আলপনা।

টিকোইল গ্রামের একটা বাড়ির নামই ‘আলপনা বাড়ি’। দোতলা বাড়িটির দেয়ালে বড় করে লেখা এ নাম। এ বাড়ি থেকেই পুরো গ্রামে দেয়ালে আলপনা করার চল শুরু হয়েছে।

বাড়ির মালিক দাসু বর্মন। বাড়ির সামনে যেতেই দেখা হলো দাসু বর্মনের স্ত্রী দেখন বর্মনের সঙ্গে। পরম আতিথেয়তায় তিনি নিয়ে যান বাড়ির ভেতরে। বাড়িতে ঢুকতেই মনে হলো, আলপনার রাজ্যে চলে এসেছি। মাটির দেয়াল যেন সৃষ্টিশীলতার বড় বড় ক্যানভাস। আর এসব ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে ফুল, লতাপাতা, পাখি।

একটু সামনে যেতেই দেখা মিলল দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি: বঙ্গবন্ধুর ছবি তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে কাজী নজরুল ইসলাম, ইলা মিত্র, শেখা হাসিনার ছবি।

ঘরের দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি

মাটির ঘরের পাশে ‘আলপনা বাড়ি’তে যুক্ত হয়েছে দুটো পাকা ঘর। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে এ ঘর। সেই ঘরগুলোর দেয়ালও আলপনায় রাঙিয়ে তুলেছেন বাড়ির মেয়েরা।

দেখন বর্মন বলেন, লেখাপড়া তিনি কিছুই জানেন না। নিজের মনে যা ভালো লাগে তাই আঁকেন। কবে থেকে আঁকা শুরু করেছেন, তার হিসাব মনে না থাকলেও বলেন, ‘বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এলাম, তখন বাড়ি লেপার সময় আমি লাল মাটি দিয়ে করতাম, এতে রং আসত। বিভিন্ন ধরনের মাটি ও বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতা দিয়ে রং তৈরি করলাম।

‘এরপর মনে হলো একটু নকশা করি। এভাবেই যখন যেটা মনে এসেছে, তারই নকশা করেছি। বাড়ির লোকেরা খুশি হতো, সবাই দেখত। এরপর বাড়তে বাড়তে গত ২০ বছর থেকে এখন দেশ-বিদেশ সব জায়গা থেকে মানুষ আসে দেখতে। গত দুই-তিন বছর থেকে প্রতিদিনই মানুষ আসে। সবাই বলে আপনি বিরক্ত হন না? আমি বলি না। কেউ বলে, কাকিমা একটা ছবি তুলব, সবার সাথেই কথা বলে আমার দিন কেটে যায়।’

আলপনা আঁকার কাজ করে থাকে শিশুরাও

আলপনা আঁকার খরচ কীভাবে ওঠে? দেখন বর্মনের উত্তর, ‘আমি দুটা কাপড় কম কিনে আলপনা আঁকি। বাড়িতে তিনটা গরু আছে। সেগুলো লালন-পালন করে চলে যায় সংসার। আমার কোনো ভিটেমাটি নেই। সরকারিভাবে বাড়িটা করে দিয়েছে। সেখানেই আছি।’

দেখন বর্মনের মেয়ে অনীতা বর্মন তাদের বাড়িতে রাখা একটা ভিজিটর বই বের করে এনে দেখান, বইয়ের পাতা ভরে গেছে দর্শনার্থীদের মন্তব্যে। অনীতা বর্মন বলছিলেন, নিজেদের ভালোলাগা থেকে এ আলপনাগুলো করলেও এখন সবাই দেখতে আসে। ভালোই লাগে।

অনীতা জানান, সাধারণ দুর্গাপূজার সময় আলপনা করেন তারা। এছাড়া কীর্তনের সময়ও নতুন করে আলপনা আঁকা হয়। তবে কোনো আলপনার রং চটে গেলে আবার আঁকেন। যেহেতু এখন দূরদূরান্ত থেকে লোক আসে দেখতে। এ কারণে দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে সুযোগ পেলেই আলপনা আঁকেন তারা।

দেখন বর্মনের আরেক মেয়ে জয়া বর্মন, মায়ের এমন সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে গর্ব অনুভব করেন। একজন নারী হয়ে তার মা গ্রামের অন্যদের পথ দেখিয়েছেন।

জয়া বলেন, ‘আমার মায়ের কারণে জেলা প্রশাসকসহ দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় মানুষ এসেছেন। যাদের কাছে আমরা কোনোদিনই যেতে পারতাম না, তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। আমার মায়ের এই আলপনার জন্যই এ গ্রামটা সবার কাছেই পরিচিতি পেয়েছে। টিকোইল গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে ‘আলপনা গ্রাম’ নামে।’

একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন জয়া বর্মন। বলেন, তাদের বাড়ির পেছনে থাকা সরকারি পুকুরটি সংস্কার করে সেখানে একটি বা দুটি ছোট নৌকা রাখা গেলে দর্শনার্থীরা নৌকার চড়ে আরও কিছুটা সময় গ্রামীণ পরিবেশে কাটাতে পারতেন।

আলপনায় তুলে ধরা হয় নানা মোটিফ

টিকোইল গ্রামে আলপনা আঁকার পথ দেখানো দেখন বর্মনের কাছে আলপনা আঁকা শিখেছেন তার নাতনি সাথী বর্মন। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়া সাথী বর্মন বলছিলেন, তার আলপনা আঁকতে ভালো লাগে, তার দাদির কাছে গ্রামের সবাই আলপনা আঁকা শিখে এখন আলপনা করে বাড়িতে।

গ্রামের অন্য বাড়িগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মেয়ে ও বধূরা আলপনা আঁকা শিখে নিয়েছেন। টিকোইল গ্রামের শ্রীমতী শম্পা রাণী তেমনি একজন। তিনি এখন নিজ বাড়িতে আলপনা নিজেই আঁকতে পারেন।

শম্পা রাণী বলেন, তাদের গ্রামে অনেকেই আসেন আলপনা দেখতে, এটা তাদের ভালোই লাগে।

নেজামপুর গ্রামের সমাজকর্মী মনিরুল ইসলামের মতে, টিকোইল গ্রামের নারীদের করা আলপনার কারণে তাদের ইউনিয়ন নাচোল উপজেলায় সবার কাছে পরিচিত হয়েছে, পেয়েছে নতুন মাত্রা। এ গ্রামের কারণেই এখানে পাকা রাস্তা হয়েছে, বসেছে সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি, জেলা প্রশাসনসহ সবার নজরে পড়েছে গ্রামটি। এর সুফল পাচ্ছে এলাকার সবাই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এ গ্রাম দেখতে এসেছেন গোলাম রশিদ। তিনি জানান, এই গ্রামটি সবার কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিল না। এখানকার নারীদের করা আলপনায় গ্রামটি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সৃজনশীল দেখন বর্মনের একটা ইচ্ছা সবস ময়ই উঁকি দেয়। কোনো একদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পৌঁছাবেন তার এ শিল্পকর্মের কথা, তার আলপনার কথা। কথার কথায় তিনি বলেন, ‘এত মানুষ আমার কাজ দেখে, যদি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একবার দেখা করার সুযোগ হতো, তাহলে আমার আলপনা গ্রামে তাকে দাওয়াত দিতাম, আমাদের গ্রামের মানুষের করা আলপনা দেখে তিনি খুশি হতেন।’

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাষা-সংস্কৃতির আলাপের দশম বৈঠক শুক্রবার

ভাষা-সংস্কৃতির আলাপের দশম বৈঠক শুক্রবার

এবারের পর্বে বৈঠকের আলোচনার বিষয় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের উপন্যাস ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’। এই বৈঠক সঞ্চালনা করবেন উপন্যাসটির অনুবাদক রওশন জামিল চৌধুরী।

সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ছায়ানটের এক বছর মেয়াদি কোর্স ‘ভাষা-সংস্কৃতির আলাপ’-এর সপ্তম আবর্তনের দশম বৈঠক হবে শুক্রবার।

এ দিন বেলা ১১টায় জুমে হবে এ বৈঠক।

এবারের পর্বে বৈঠকের আলোচনার বিষয় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের উপন্যাস ‘দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’।

এই বৈঠক সঞ্চালনা করবেন উপন্যাসটির অনুবাদক রওশন জামিল চৌধুরী।

নিয়মিত শিক্ষার্থী ছাড়াও আগ্রহীরা অংশ নিতে পারবেন বৈঠকে। সে ক্ষেত্রে তাদের ১০০ টাকা অংশগ্রহণ ফি বিকাশে পরিশোধ করতে হবে।

বিকাশে পরিশোধের পর ক্লাস লিংক পেতে মার্চেন্ট বিকাশ নম্বর ০১৭৩০৪৮২৪৬২-এ পেমেন্ট মেসেজ, নাম, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ইমেইল আইডি পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

শঙ্খ ঘোষের জন্য গান স্যালুট চায় না পরিবার

শঙ্খ ঘোষের জন্য গান স্যালুট চায় না পরিবার

অবিচলিত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। কবির প্রয়াণে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বাংলা কবিতা। কবির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী অনাড়ম্বরভাবে কবির শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে কলকাতার নিমতলা শশ্মানে।

কবি শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণে শোক জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাইলে আপত্তি তোলেন কবির পরিবার।

প্রবাদপ্রতিম কবি সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন ভালবাসতেন। কবির ইচ্ছে ছিল, শেষ যাত্রা যেন অনাড়ম্বর হয়। শেষ বিদায়ে কবির ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তার জন্য অনাড়ম্বর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানই আয়োজন করতে চায় পরিবার।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘গান স্যালুট চান না, কবিকে নীরবে বিদায় দিতে চান কবির পরিবার।’

অবিচলিত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। কবির প্রয়াণে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বাংলা কবিতা। কবি জীবনানন্দ দাশ পরবর্তী শক্তি সুনীল শঙ্খ উৎপল বিনয়- চারজন আগেই চলে গেছেন। এবার চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ।

করোনা আক্রান্ত কবির চিকিৎসা বাড়িতেই চলছিল। মঙ্গলবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হয়। বুধবার সকাল আটটায় তিনি নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

পদ্মভূষণ, সাহিত্য অ্যাকাডেমি, জ্ঞানপীঠ, দেশিকোত্তমসহ বহু দেশি-বিদেশি পুরস্কারে সম্মানিত কবি শঙ্খ ঘোষের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, দিনগুলি রাতগুলি, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে, বাবরের প্রার্থনা, পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, মূর্খ বড় সামাজিক নয় ইত্যাদি।

বুধবার সন্ধ্যায় কবির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী অনাড়ম্বরভাবে কবির শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে কলকাতার নিমতলা শশ্মানে।

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

করোনায় কবি শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণ

করোনায় কবি শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করা শঙ্খ ঘোষের বয়স হয়েছিল ৮৯। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের বাংলা কবিতার উজ্জ্বল মুখ কবি শঙ্খ ঘোষ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। অবস্থার অবণতি হলে সকালে ভেন্টিলেটরে নেয়া হয় তাকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করা শঙ্খ ঘোষের বয়স হয়েছিল ৮৯।

‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’ তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে।

সাহিত্যজীবনে অনেক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন শঙ্খ ঘোষ।

এর মধ্যে ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করেও সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার। ২০১১ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননা দেয়।

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালামের তোলা আলোকচিত্র।

পেশায় হেলিকপ্টার পাইলট মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম। আর পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা, মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

‘কোনো কিছু দেখে নিজের যে অনুভূতি হয়, চেষ্টা থাকে আমার তোলা ছবিতে সেই ফিলটা তুলে আনতে। আর ক্যামেরা একটা যন্ত্র হলেও, এটা আমার আবেগ কেড়ে নেয়ার বদলে বাড়িয়ে দেয়’- বলছিলেন আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম।

শখের আলোকচিত্রী তিনি। নিজেকে শিক্ষার্থী বলতেই বেশি ভালোবাসেন। ক্যামেরায় চোখ রাখছেন বেশিদিন হয়নি। ২০১৪ সালে নিকন ৩৩০০ নিয়ে ইচ্ছাপূরণের কাজ শুরু খালিদের। ছোটবেলায় ক্যানভাসে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা বড়বেলায় ফ্রেম, কম্পোজিশন, এক্সপোজারে রুপান্তরিত হয়েছে।

শখের ফটোগ্রাফার, তাই ছবি তোলেন সময় পেলেই। অথচ সেই সময়টাই যেত হাতের মুঠোয় আসতে চায় না খালিদের।

তিনি বলেন, ‘আমি পেশায় একজন হেলিকপ্টার পাইলট। অফিস করতে হয় ৯টা টু ৫টা। ছবি তোলার জন্য যে আলোটা প্রয়োজন, সেই সময়টাতে আমার অফিস থাকে। তাই ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’

হেলিকপ্টারে যিনি আকাশে ওড়েন তার চোখে দৃশ্য ধরা দেয় অন্যরকমভাবে। এই কথায় সায় দিলেন খালিদ। বললেন, ‘উপর থেকে দৃশ্যগুলো অদ্ভুত সুন্দর। কিন্তু কাজে থাকার কারণে ক্যামেরা সঙ্গে নেয়া হয় না, ছবিও তোলা হয় না।’

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প
আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

খালিদের পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তাই তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। খালিদ বলেন, ‘এই ধরন ছাড়া আমার তেমন একটা উপায়ও নেই। কারণ কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি তুলতে গিয়ে বিচিত্র বিষয় পাওয়া আমার জন্য কঠিন।’

আর এভাবে শখের বসে ছবি তুলেই জমিয়ে ফেলেছেন তিন হাজারের মতো নান্দনিক শিল্প। খালিদ জানালেন, এসব থেকে দুইশ থেকে আড়াইশ ছবি তিনি আলাদা করে রেখেছেন প্রদর্শনীতে পাঠানোর জন্য।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনাল ফোটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড (পিআইপি) ২০২০ প্রতিযগিতায় ৬২ দেশের ৬০০ আলোকচিত্রীর ৬৭৩২ ছবি জমা পড়ে। সেখানে খালিদ ভুটান ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গোল্ড মেডেল, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ফোটোগ্রাফি রিবনসহ নয়টি একসেপট্যান্স অর্জন করেছেন।

এছাড়া, নিউ ইয়র্ক ফটো স্যালন ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় এফআইএপি অনারেবল মেনশনসহ বেশ কিছু একসেপট্যান্স রয়েছে তার।

খালিদ এশিয়ান ফটোগ্রাফার্স ইউনিয়নের আজীবন সদস্য, এছাড়া তিনি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ আমেরিকা, গ্লোবাল ফটোগ্রাফিক ইউনিয়নসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের সদস্য। বাংলাদেশ ফিনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একজন কার্যনির্বাহী সদস্যও তিনি।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

এত কিছুর মাধ্যমে খালিদ ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে চান। যেখানে সম্মান ও সুরক্ষা দুই-ই পাবেন একজন ফটোগ্রাফার। স্বপ্ন দেখেন নতুন নতুন কাজ করতে। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কিছু কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার, কিন্তু পরিবারের জন্য করতে পারি না। কোভিডের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে থেকে কাজগুলো করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

তিন সন্তান, স্ত্রী নিয়ে মিরপুরে থাকছেন খালিদ। সন্তানদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয় ক্যামেরা আর ফটোগ্রাফি নিয়ে। তবে কিছু কমন সমস্যার কথাও বললেন হাসতে হাসতে।

‘ফটোগ্রাফারের পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রীরা সময় না দেয়ার অভিযোগ করেন। অনেক সময় বলে যে, ওই ছবিটা ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি আমার বা আমাদের ছবি ভালো করে তুলে দাও নাই।’

তবুও পরিবারের সমর্থন আর ত্যাগেই খালিদ এগিয়ে যাচ্ছেন তার স্বপ পূরণে।

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

পুনর্নির্মাণ হচ্ছে মসুলের সেই মসজিদ

পুনর্নির্মাণ হচ্ছে মসুলের সেই মসজিদ

ইরাকের মসুল শহরের ঐতিহাসিক আল-নুরি মসজিদের নতুন নকশা। ছবি: এএফপি

মসজিদ কমপ্লেক্সটি ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাচীন শহর মসুলের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে ইউনেসকো।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ২০১৭ সালে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইরাকের মসুল শহরের বিখ্যাত আল-নুরি মসজিদটি। ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে নকশা জমা দিতে ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল ইউনেসকো। সে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে মিসরের আট স্থপতির একটি দল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থাটি বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করে।

প্রাচীন শহরটির পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করছে ইউনেসকো।

দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত মসজিদটি হেলানো মিনারের জন্য প্রসিদ্ধ। আইএসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকি সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের (মসুল যুদ্ধ) সময় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সরকারি বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই মসজিদটি আইএস সদস্যরা গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করে ইরাক সরকার।

ইউনেসকোর প্রতিযোগিতায় ১২৩টি নির্বাচিত নকশা থেকে একটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। বিজয়ী নকশার নাম ‘কোর্টইয়ার্ড ডায়ালগ’।

ইউনেসকোর মহাপরিচালক (ডিজি) অন্দ্রে আজোলে বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরটির পুনর্গঠন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে এই উদ্যোগটি যুগান্তকারী হতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, নিজেদের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক সব স্থাপনা মানুষের স্বকীয়তার জানান দেয়। স্থাপনা সেই কমিউনিটির মানুষের পরিচয় বহন করে।

মসজিদ পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ইরাক ও মসুলের চেতনা পুনরুজ্জীবিত হবে বলে মনে করেন ইউনেসকোর ডিজি।

মসুলের পুনর্বাসন

প্রতিযোগিতায় জেতা মিসরের মূল দলটিতে রয়েছেন চারজন। সালেহ এল দিন সামির হারেদি, খালেদ ফরিদ আল-দিয়াব, শরিফ ফারাগ ইব্রাহিম ও তারেক আলী মোহাম্মদ।

এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও চারজন স্থাপত্য নকশাবিদ ছিলেন। তারা হলেন নোহা মনসুর রায়ান, হাগের আব্দেল গনি গাদ, মাহমুদ সাদ গামাল ও ইশরা মোহাম্মাদ এল-বাহা।

‘মসুলের চেতনাকে পুনরুদ্ধার’ শিরোনামের ওই প্রতিযোগিতায় ইউনেসকো শহরটির পুনর্বাসন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

চলতি বছরের প্রথম থেকেই পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করে ইউনেসকো। এর মধ্যে রয়েছে আল-নুরি মসজিদের ঐতিহাসিক নামাজের কক্ষটি পুনর্নির্মাণ, প্রাচীন শহর মসুলের লাইব্রেরি ও মসজিদ কমপ্লেক্সটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা।

ইউনেসকো ২০২০ সালের নভেম্বরে ইরাকের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে প্রতিযোগিতাটি শুরু করে। এতে সহযোগিতা করছে ইরাকি সুন্নি অ্যাডোমেন্ট নামের সংস্থা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিজয়ী দলটিকে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেয় ইউনেসকো।

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

ভালোবাসায় গড়েছেন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ভান্ডার

ভালোবাসায় গড়েছেন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ভান্ডার

আসলাম জানান, বাংলাদেশে লোকসংগীতের বিকাশ ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করছেন। বহু বাদ্যযন্ত্র নতুন প্রজন্মের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তিনি সেগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম আসলাম। বর্তমানে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ছোটবেলা থেকেই বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। বিরল বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের আসক্তি থেকেই আজ অবধি ছুটে চলেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিভিন্ন জায়গা থেকে নষ্ট, ভাঙ্গা, পুরাতন বাদ্যযন্ত্রসহ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেছেন। কেউ আবার নিজ উদ্যোগে সস্তায় কিংবা বিনা মূল্যে দিয়েছেন পছন্দের বাদ্যযন্ত্রটি। এভাবে সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৬০০ বিরল বাদ্যযন্ত্র।

১৯৪৪ সালে দাদা নবাব আলী শহরের জি কে এম সি সাহা রোডের বড় বাজারে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নবাব এন্ড কোং’ নামে একটি বাদ্যযন্ত্রের দোকান। দাদার মৃত্যুর পর বাবা জালাল উদ্দিন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবসাটি পরিচালনা করেন। বংশপরম্পরায় স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯২ সালে বাবাকে সহযোগিতা করতে ব্যবসায় যোগ দেন আসলাম।

দোকানে অনেক পুরাতন বেহালা, সেতার ও তানপুরা পড়ে থাকতে দেখে সেগুলোর যত্ন নিতে শুরু করেন তিনি। এক সময় ঐতিহ্যবাহী এসব বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। বর্তমানে রেজাউল করিম আসলাম এই দোকানের স্বত্বাধিকারী।

‘নবাব অ্যান্ড কোং’ নামে দোকানটিতে গিয়ে দেখা যায়, দোকানটি এখন আর শুধু দোকান নয়, পরিপূর্ণ একটি বাদ্যযন্ত্রের ভান্ডারে পরিণত হয়েছে। এগুলো সংগ্রহে রাখার জন্য ইতিমধ্যে তিনি ‘এশিয়ান মিউজিক মিউজিয়াম’ নামে একটি জাদুঘর গড়ে তুলেছেন। নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠের বিপরীত দিকে একটি গির্জার নিচতলায় এই জাদুঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

বাদ্যযন্ত্র

কথা হয় আসলামের সাথে। তিনি নিউজবাংলাকে জানান, বাংলাদেশে লোকসংগীতের বিকাশ ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করছেন। মূলত শখের বশেই বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেন তিনি। বহু বাদ্যযন্ত্র নতুন প্রজন্মের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তিনি সেগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখন পুরাতন ভাঙ্গা বাদ্যযন্ত্র মেরামত করার কারিগররাও হারিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নিজেই বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র মেরামত করছেন।

তিনি আরও জানান, জাতীয় জাদুঘরের ২৮ নম্বর গ্যালারিতে তার সংগ্রহে থাকা ৩২টি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া ‘নোভিস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সাংস্কৃতি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ‘নোভিন আর্টিস্টিক এডুকেশন সেন্টার’ নামের একটি শিক্ষালয়ও পরিচালনা করছেন। সেখানে উপমহাদেশীয় ও পাশ্চাত্য রীতির সমন্বয়ে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, গিটার, বেহালা এবং দোতারার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আসলাম সবচেয়ে বেশি বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে। এ ছাড়া যাদের কাছে ভাঙা, পুরাতন বাদ্যযন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে তারা মেরামত করতে আসে। আবার অনেকে যৎসামান্য টাকায় বিক্রি করে দেয় অথবা বিনা মূল্যে দিয়ে দেয়। করোনা মহামারি শেষ হলেই সংগ্রহে থাকা বাদ্যযন্ত্রগুলোর স্থায়ী প্রদর্শনী করা হবে বলেও জানান তিনি।

আসলামের সংগ্রহে থাকা বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে রয়েছে- একতন্ত্রী বীণা, সেতার, সারেঙ্গি, এসরাজ, তম্বুরা, বেহালা, গোপীযন্ত্র, ব্যাঞ্জো, সারিন্দা, আনন্দ লহরি, সুরবাহার, ম্যান্ডেলিন, তুবড়ি, বাঁশি, শঙ্খ, সানাই, ক্ল্যারিওনেট, ট্রাম্পেট, হারমোনিয়াম, প্রেমজুড়ি, নাকাড়া, ঢোল, ডমরু, খঞ্জরি, মৃদঙ্গ, তবলা, ঝাঁঝর, ঘণ্টা, খঞ্জনি, করতাল, ঘড়ি, কৃষ্ণকাঠি, মেকুড়, নূপুর, সেকাস, পাখোয়াজ ও শারদ, চেম্পারেঙ, দভণ্ডি, চিকারা, যোগী সারঙ্গী, মুগরবন, অ্যাকোর্ডিয়ান, ঘেরা, পেনা, শিঙা ইত্যাদি।

বাদ্যযন্ত্র

এগুলো ছাড়াও আসলামের সংগ্রহে জলসাঘরের তৈজসপত্রও আছে। এর মধ্যে রয়েছে - ফুলের সাজি, ফুলদানি, প্যাঁচানো ফুলদানি, সুরাপাত্র, ঘণ্টা, হুঁকো, তামাপাত্র, পানিপাত্র, মোমদানি, দেয়াল নকশি, খানদানি হুঁকো, পিকদানি, ছাইদানি, দুধপাত্র ইত্যাদি।

সংগৃহীত বাদ্যযন্ত্রগুলো নিয়ে আসলাম ২০০৩ সালে ময়মনসিংহ লোকজ মেলায় প্রথম প্রদর্শনী করেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন উৎসবে বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শন করে আসছেন।

২০০৪ সালে প্রদর্শনী করেন জয়নুল সংগ্রহশালায়। ২০০৬ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ঢাকার বৈশাখী উৎসবেও আসলাম যন্ত্রগুলো প্রদর্শন করেন। ২০০৮ সালে জয়নুল উৎসব, ২০১২ সালে মোতাহার হোসেন বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী, ২০১২ সালে হালুয়াঘাটে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে, ২০১৬ সালে ঢাকায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব, ২০১৭ সালে সিলেটে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লোকজ উৎসবে আসলাম তার বাদ্যযন্ত্রগুলোর প্রদর্শন করেন। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় জাদুঘরের ২৮নম্বর গ্যালারিতে ৩২টি পুরনো বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শন করেন।

বাদ্যযন্ত্র

২০১৯ সালে হালুয়াঘাটের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে তিনি তার সংগ্রহশালা থেকে বাদ্যযন্ত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ ও যুদ্ধাস্ত্রসহ ১৪৯টি নিদর্শন দান করেন।

ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থা ময়মনসিংহের সভাপতি আপেল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক রেজাউল করিম আসলামের কাজগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দূরদূরান্ত থেকে তিনি ভাঙ্গা, নষ্ট, পুরাতন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের অনেকই দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের নামই জানে না। তাই সংগৃহীত দেশীয় বাদ্যযন্ত্রগুলো নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি হলে নতুন প্রজন্ম বাদ্যযন্ত্রের ধারণা ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবে। এ ছাড়া বাংলার সংস্কৃতি ধরে রাখতে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহ বহুরূপী নাট্য সংস্থার সচিব শাহাদাত হোসেন খান হীলু বলেন, ‘এখনকার অনেক ছেলে-মেয়ে একতারা চিনে না। বিদেশি ও আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার কমে যাওয়াসহ এর প্রদর্শনী নেই বললেই চলে। আলী আসলামের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন

করোনায় আক্রান্ত কবি শঙ্খ ঘোষ

করোনায় আক্রান্ত কবি শঙ্খ ঘোষ

কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে করোনাকালে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। এর মধ্যেই গত দুই দিন ধরে জ্বর ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়।

ওপার বাংলার কবি শঙ্খ ঘোষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। খবর আনন্দবাজার। গত দুই দিন কবি জ্বরে ভুগছিলেন। সেই সূত্রে করোনা পরীক্ষা করানো হয়। বুধবার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার জ্বর নেই। তবে শরীর বেশ দুর্বল।

কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে করোনাকালে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তার। এর মধ্যেই গত দুই দিন জ্বর ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়। তবে হাসপাতালে নয়, বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলবে বলে জানানো হয়েছে কবির পরিবার থেকে।

আরও পড়ুন:
পাশাপাশি ক্লাস রোল, প্রাণও হারালেন একসঙ্গে
সড়কের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
সরকারি গাড়িতে মাদক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কারাগারে
নিহত আট শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
ট্রাক্টর উল্টে খাদে: নিহত বেড়ে ৮

শেয়ার করুন