৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অনেক গভীর: খালিদ

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ। ছবি: নিউজবাংলা

৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য অনেক গভীর: খালিদ

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ৭ মার্চ উদযাপনে পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য অনেক গভীর বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ৭ মার্চ উদযাপনের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ ভাষণের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক শব্দ। ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে বঙ্গবন্ধুর লড়াইয়ের চূড়ান্ত আহ্বান। এই ভাষণে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতির পূর্ণ দিকনির্দেশনা। এ ভাষণ প্রকৃত অর্থেই ছিল বাঙালির স্বাধীনতার ঘোষণা।’

৭ মার্চ জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনে ঢাকাসহ সব জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমিতে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী দিবসটি উদযাপনে পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে ৭ মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ও ডকুড্রামাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন হবে।

এ ছাড়া রয়েছে শিশু-কিশোরসহ সারাদেশের আবৃত্তিশিল্পীদের নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সংগীত শিল্পী, নিত্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে নাটক, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সব জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, আবৃত্তি, চিত্রাংকন, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফিন ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকিত আলী লাকী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালামের তোলা আলোকচিত্র।

পেশায় হেলিকপ্টার পাইলট মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম। আর পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা, মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

‘কোনো কিছু দেখে নিজের যে অনুভূতি হয়, চেষ্টা থাকে আমার তোলা ছবিতে সেই ফিলটা তুলে আনতে। আর ক্যামেরা একটা যন্ত্র হলেও, এটা আমার আবেগ কেড়ে নেয়ার বদলে বাড়িয়ে দেয়’- বলছিলেন আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম।

শখের আলোকচিত্রী তিনি। নিজেকে শিক্ষার্থী বলতেই বেশি ভালোবাসেন। ক্যামেরায় চোখ রাখছেন বেশিদিন হয়নি। ২০১৪ সালে নিকন ৩৩০০ নিয়ে ইচ্ছাপূরণের কাজ শুরু খালিদের। ছোটবেলায় ক্যানভাসে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা বড়বেলায় ফ্রেম, কম্পোজিশন, এক্সপোজারে রুপান্তরিত হয়েছে।

শখের ফটোগ্রাফার, তাই ছবি তোলেন সময় পেলেই। অথচ সেই সময়টাই যেত হাতের মুঠোয় আসতে চায় না খালিদের।

তিনি বলেন, ‘আমি পেশায় একজন হেলিকপ্টার পাইলট। অফিস করতে হয় ৯টা টু ৫টা। ছবি তোলার জন্য যে আলোটা প্রয়োজন, সেই সময়টাতে আমার অফিস থাকে। তাই ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’

হেলিকপ্টারে যিনি আকাশে ওড়েন তার চোখে দৃশ্য ধরা দেয় অন্যরকমভাবে। এই কথায় সায় দিলেন খালিদ। বললেন, ‘উপর থেকে দৃশ্যগুলো অদ্ভুত সুন্দর। কিন্তু কাজে থাকার কারণে ক্যামেরা সঙ্গে নেয়া হয় না, ছবিও তোলা হয় না।’

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প
আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

খালিদের পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তাই তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। খালিদ বলেন, ‘এই ধরন ছাড়া আমার তেমন একটা উপায়ও নেই। কারণ কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি তুলতে গিয়ে বিচিত্র বিষয় পাওয়া আমার জন্য কঠিন।’

আর এভাবে শখের বসে ছবি তুলেই জমিয়ে ফেলেছেন তিন হাজারের মতো নান্দনিক শিল্প। খালিদ জানালেন, এসব থেকে দুইশ থেকে আড়াইশ ছবি তিনি আলাদা করে রেখেছেন প্রদর্শনীতে পাঠানোর জন্য।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনাল ফোটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড (পিআইপি) ২০২০ প্রতিযগিতায় ৬২ দেশের ৬০০ আলোকচিত্রীর ৬৭৩২ ছবি জমা পড়ে। সেখানে খালিদ ভুটান ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গোল্ড মেডেল, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ফোটোগ্রাফি রিবনসহ নয়টি একসেপট্যান্স অর্জন করেছেন।

এছাড়া, নিউ ইয়র্ক ফটো স্যালন ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় এফআইএপি অনারেবল মেনশনসহ বেশ কিছু একসেপট্যান্স রয়েছে তার।

খালিদ এশিয়ান ফটোগ্রাফার্স ইউনিয়নের আজীবন সদস্য, এছাড়া তিনি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ আমেরিকা, গ্লোবাল ফটোগ্রাফিক ইউনিয়নসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের সদস্য। বাংলাদেশ ফিনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একজন কার্যনির্বাহী সদস্যও তিনি।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

এত কিছুর মাধ্যমে খালিদ ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে চান। যেখানে সম্মান ও সুরক্ষা দুই-ই পাবেন একজন ফটোগ্রাফার। স্বপ্ন দেখেন নতুন নতুন কাজ করতে। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কিছু কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার, কিন্তু পরিবারের জন্য করতে পারি না। কোভিডের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে থেকে কাজগুলো করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

তিন সন্তান, স্ত্রী নিয়ে মিরপুরে থাকছেন খালিদ। সন্তানদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয় ক্যামেরা আর ফটোগ্রাফি নিয়ে। তবে কিছু কমন সমস্যার কথাও বললেন হাসতে হাসতে।

‘ফটোগ্রাফারের পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রীরা সময় না দেয়ার অভিযোগ করেন। অনেক সময় বলে যে, ওই ছবিটা ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি আমার বা আমাদের ছবি ভালো করে তুলে দাও নাই।’

তবুও পরিবারের সমর্থন আর ত্যাগেই খালিদ এগিয়ে যাচ্ছেন তার স্বপ পূরণে।

শেয়ার করুন

পুনর্নির্মাণ হচ্ছে মসুলের সেই মসজিদ

পুনর্নির্মাণ হচ্ছে মসুলের সেই মসজিদ

ইরাকের মসুল শহরের ঐতিহাসিক আল-নুরি মসজিদের নতুন নকশা। ছবি: এএফপি

মসজিদ কমপ্লেক্সটি ২০১৭ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাচীন শহর মসুলের পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে ইউনেসকো।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ২০১৭ সালে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইরাকের মসুল শহরের বিখ্যাত আল-নুরি মসজিদটি। ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে নকশা জমা দিতে ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল ইউনেসকো। সে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে মিসরের আট স্থপতির একটি দল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থাটি বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করে।

প্রাচীন শহরটির পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করছে ইউনেসকো।

দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত মসজিদটি হেলানো মিনারের জন্য প্রসিদ্ধ। আইএসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকি সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের (মসুল যুদ্ধ) সময় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সরকারি বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই মসজিদটি আইএস সদস্যরা গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করে ইরাক সরকার।

ইউনেসকোর প্রতিযোগিতায় ১২৩টি নির্বাচিত নকশা থেকে একটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। বিজয়ী নকশার নাম ‘কোর্টইয়ার্ড ডায়ালগ’।

ইউনেসকোর মহাপরিচালক (ডিজি) অন্দ্রে আজোলে বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরটির পুনর্গঠন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে এই উদ্যোগটি যুগান্তকারী হতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, নিজেদের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক সব স্থাপনা মানুষের স্বকীয়তার জানান দেয়। স্থাপনা সেই কমিউনিটির মানুষের পরিচয় বহন করে।

মসজিদ পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ইরাক ও মসুলের চেতনা পুনরুজ্জীবিত হবে বলে মনে করেন ইউনেসকোর ডিজি।

মসুলের পুনর্বাসন

প্রতিযোগিতায় জেতা মিসরের মূল দলটিতে রয়েছেন চারজন। সালেহ এল দিন সামির হারেদি, খালেদ ফরিদ আল-দিয়াব, শরিফ ফারাগ ইব্রাহিম ও তারেক আলী মোহাম্মদ।

এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও চারজন স্থাপত্য নকশাবিদ ছিলেন। তারা হলেন নোহা মনসুর রায়ান, হাগের আব্দেল গনি গাদ, মাহমুদ সাদ গামাল ও ইশরা মোহাম্মাদ এল-বাহা।

‘মসুলের চেতনাকে পুনরুদ্ধার’ শিরোনামের ওই প্রতিযোগিতায় ইউনেসকো শহরটির পুনর্বাসন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

চলতি বছরের প্রথম থেকেই পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করে ইউনেসকো। এর মধ্যে রয়েছে আল-নুরি মসজিদের ঐতিহাসিক নামাজের কক্ষটি পুনর্নির্মাণ, প্রাচীন শহর মসুলের লাইব্রেরি ও মসজিদ কমপ্লেক্সটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা।

ইউনেসকো ২০২০ সালের নভেম্বরে ইরাকের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে প্রতিযোগিতাটি শুরু করে। এতে সহযোগিতা করছে ইরাকি সুন্নি অ্যাডোমেন্ট নামের সংস্থা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিজয়ী দলটিকে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেয় ইউনেসকো।

শেয়ার করুন

ভালোবাসায় গড়েছেন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ভান্ডার

ভালোবাসায় গড়েছেন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ভান্ডার

আসলাম জানান, বাংলাদেশে লোকসংগীতের বিকাশ ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করছেন। বহু বাদ্যযন্ত্র নতুন প্রজন্মের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তিনি সেগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম আসলাম। বর্তমানে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ছোটবেলা থেকেই বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। বিরল বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের আসক্তি থেকেই আজ অবধি ছুটে চলেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিভিন্ন জায়গা থেকে নষ্ট, ভাঙ্গা, পুরাতন বাদ্যযন্ত্রসহ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেছেন। কেউ আবার নিজ উদ্যোগে সস্তায় কিংবা বিনা মূল্যে দিয়েছেন পছন্দের বাদ্যযন্ত্রটি। এভাবে সংগ্রহ করেছেন প্রায় ৬০০ বিরল বাদ্যযন্ত্র।

১৯৪৪ সালে দাদা নবাব আলী শহরের জি কে এম সি সাহা রোডের বড় বাজারে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নবাব এন্ড কোং’ নামে একটি বাদ্যযন্ত্রের দোকান। দাদার মৃত্যুর পর বাবা জালাল উদ্দিন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবসাটি পরিচালনা করেন। বংশপরম্পরায় স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯২ সালে বাবাকে সহযোগিতা করতে ব্যবসায় যোগ দেন আসলাম।

দোকানে অনেক পুরাতন বেহালা, সেতার ও তানপুরা পড়ে থাকতে দেখে সেগুলোর যত্ন নিতে শুরু করেন তিনি। এক সময় ঐতিহ্যবাহী এসব বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। বর্তমানে রেজাউল করিম আসলাম এই দোকানের স্বত্বাধিকারী।

‘নবাব অ্যান্ড কোং’ নামে দোকানটিতে গিয়ে দেখা যায়, দোকানটি এখন আর শুধু দোকান নয়, পরিপূর্ণ একটি বাদ্যযন্ত্রের ভান্ডারে পরিণত হয়েছে। এগুলো সংগ্রহে রাখার জন্য ইতিমধ্যে তিনি ‘এশিয়ান মিউজিক মিউজিয়াম’ নামে একটি জাদুঘর গড়ে তুলেছেন। নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠের বিপরীত দিকে একটি গির্জার নিচতলায় এই জাদুঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

বাদ্যযন্ত্র

কথা হয় আসলামের সাথে। তিনি নিউজবাংলাকে জানান, বাংলাদেশে লোকসংগীতের বিকাশ ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করছেন। মূলত শখের বশেই বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেন তিনি। বহু বাদ্যযন্ত্র নতুন প্রজন্মের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তিনি সেগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি এগুলো নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখন পুরাতন ভাঙ্গা বাদ্যযন্ত্র মেরামত করার কারিগররাও হারিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নিজেই বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র মেরামত করছেন।

তিনি আরও জানান, জাতীয় জাদুঘরের ২৮ নম্বর গ্যালারিতে তার সংগ্রহে থাকা ৩২টি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া ‘নোভিস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সাংস্কৃতি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ‘নোভিন আর্টিস্টিক এডুকেশন সেন্টার’ নামের একটি শিক্ষালয়ও পরিচালনা করছেন। সেখানে উপমহাদেশীয় ও পাশ্চাত্য রীতির সমন্বয়ে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, গিটার, বেহালা এবং দোতারার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

আসলাম সবচেয়ে বেশি বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে। এ ছাড়া যাদের কাছে ভাঙা, পুরাতন বাদ্যযন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে তারা মেরামত করতে আসে। আবার অনেকে যৎসামান্য টাকায় বিক্রি করে দেয় অথবা বিনা মূল্যে দিয়ে দেয়। করোনা মহামারি শেষ হলেই সংগ্রহে থাকা বাদ্যযন্ত্রগুলোর স্থায়ী প্রদর্শনী করা হবে বলেও জানান তিনি।

আসলামের সংগ্রহে থাকা বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে রয়েছে- একতন্ত্রী বীণা, সেতার, সারেঙ্গি, এসরাজ, তম্বুরা, বেহালা, গোপীযন্ত্র, ব্যাঞ্জো, সারিন্দা, আনন্দ লহরি, সুরবাহার, ম্যান্ডেলিন, তুবড়ি, বাঁশি, শঙ্খ, সানাই, ক্ল্যারিওনেট, ট্রাম্পেট, হারমোনিয়াম, প্রেমজুড়ি, নাকাড়া, ঢোল, ডমরু, খঞ্জরি, মৃদঙ্গ, তবলা, ঝাঁঝর, ঘণ্টা, খঞ্জনি, করতাল, ঘড়ি, কৃষ্ণকাঠি, মেকুড়, নূপুর, সেকাস, পাখোয়াজ ও শারদ, চেম্পারেঙ, দভণ্ডি, চিকারা, যোগী সারঙ্গী, মুগরবন, অ্যাকোর্ডিয়ান, ঘেরা, পেনা, শিঙা ইত্যাদি।

বাদ্যযন্ত্র

এগুলো ছাড়াও আসলামের সংগ্রহে জলসাঘরের তৈজসপত্রও আছে। এর মধ্যে রয়েছে - ফুলের সাজি, ফুলদানি, প্যাঁচানো ফুলদানি, সুরাপাত্র, ঘণ্টা, হুঁকো, তামাপাত্র, পানিপাত্র, মোমদানি, দেয়াল নকশি, খানদানি হুঁকো, পিকদানি, ছাইদানি, দুধপাত্র ইত্যাদি।

সংগৃহীত বাদ্যযন্ত্রগুলো নিয়ে আসলাম ২০০৩ সালে ময়মনসিংহ লোকজ মেলায় প্রথম প্রদর্শনী করেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন উৎসবে বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শন করে আসছেন।

২০০৪ সালে প্রদর্শনী করেন জয়নুল সংগ্রহশালায়। ২০০৬ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ঢাকার বৈশাখী উৎসবেও আসলাম যন্ত্রগুলো প্রদর্শন করেন। ২০০৮ সালে জয়নুল উৎসব, ২০১২ সালে মোতাহার হোসেন বাচ্চুর জন্মবার্ষিকী, ২০১২ সালে হালুয়াঘাটে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহে, ২০১৬ সালে ঢাকায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব, ২০১৭ সালে সিলেটে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লোকজ উৎসবে আসলাম তার বাদ্যযন্ত্রগুলোর প্রদর্শন করেন। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় জাদুঘরের ২৮নম্বর গ্যালারিতে ৩২টি পুরনো বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শন করেন।

বাদ্যযন্ত্র

২০১৯ সালে হালুয়াঘাটের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে তিনি তার সংগ্রহশালা থেকে বাদ্যযন্ত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ ও যুদ্ধাস্ত্রসহ ১৪৯টি নিদর্শন দান করেন।

ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থা ময়মনসিংহের সভাপতি আপেল চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক রেজাউল করিম আসলামের কাজগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দূরদূরান্ত থেকে তিনি ভাঙ্গা, নষ্ট, পুরাতন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের অনেকই দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের নামই জানে না। তাই সংগৃহীত দেশীয় বাদ্যযন্ত্রগুলো নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি হলে নতুন প্রজন্ম বাদ্যযন্ত্রের ধারণা ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবে। এ ছাড়া বাংলার সংস্কৃতি ধরে রাখতে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহ বহুরূপী নাট্য সংস্থার সচিব শাহাদাত হোসেন খান হীলু বলেন, ‘এখনকার অনেক ছেলে-মেয়ে একতারা চিনে না। বিদেশি ও আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার কমে যাওয়াসহ এর প্রদর্শনী নেই বললেই চলে। আলী আসলামের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’

শেয়ার করুন

করোনায় আক্রান্ত কবি শঙ্খ ঘোষ

করোনায় আক্রান্ত কবি শঙ্খ ঘোষ

কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে করোনাকালে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। এর মধ্যেই গত দুই দিন ধরে জ্বর ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়।

ওপার বাংলার কবি শঙ্খ ঘোষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। খবর আনন্দবাজার। গত দুই দিন কবি জ্বরে ভুগছিলেন। সেই সূত্রে করোনা পরীক্ষা করানো হয়। বুধবার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার জ্বর নেই। তবে শরীর বেশ দুর্বল।

কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে করোনাকালে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তার। এর মধ্যেই গত দুই দিন জ্বর ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়। তবে হাসপাতালে নয়, বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলবে বলে জানানো হয়েছে কবির পরিবার থেকে।

শেয়ার করুন

সালাহ উদ্দিন শুভ্রর ‘অন্যমনস্ক দিনগুলি’

সালাহ উদ্দিন শুভ্রর ‘অন্যমনস্ক দিনগুলি’

সালাহ উদ্দিন শুভ্র বলেন, ‘বাংলা উপন্যাসের নতুন একটি ভঙ্গিকে আমি এ উপন্যাসে হাজির করতে চেয়েছি। আমরা যাকে ইতিহাস বলি তা আসলে বর্তমানেই বিরাজ করে। এক-এগারর যে রাজনৈতিক জের তা বর্তমান সময়ে এসেও আমরা বুঝতে পারি। উপন্যাসটাকেও সেভাবে সাজানো হয়েছে।’

এক-এগারর অরাজনৈতিক সরকারের সময়কার ঘটনবলির ভিত্তিতে লেখা উপন্যাস ‘অন্যমনস্ক দিনগুলি’। অবরুদ্ধ সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক নেতা ও পরাক্রমশীল ব্যবসায়ীদের অবস্থা, অবরুদ্ধ সময়ের অলিগলিতে বেঁচে থাকা ব্যক্তি মানুষের প্রেম, সম্পর্ক, যৌনতার টানাপড়েন নিয়ে টানটান উপন্যাসটি লিখেছেন কথাসাহিত্যিক সালাহ উদ্দিন শুভ্র।

লেখক বলেন, ‘বাংলা উপন্যাসের নতুন একটি ভঙ্গিকে আমি এ উপন্যাসে হাজির করতে চেয়েছি। আমরা যাকে ইতিহাস বলি তা আসলে বর্তমানেই বিরাজ করে। এক-এগারর যে রাজনৈতিক জের তা বর্তমান সময়ে এসেও আমরা বুঝতে পারি। উপন্যাসটাকেও সেভাবে সাজানো হয়েছে।’

বইটির প্রকাশক মো. মাকসুদ বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়ে ব্যক্তি বা সমাজ হিসেবে মধ্যবিত্তের অবস্থাটা উপন্যাসে বুঝতে পারা যায়।’

এবারের বইমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে হাওলাদার প্রকাশনি। প্রচ্ছদ করেছেন আনিসুজ্জামান সোহেল। ‘অন্যমনস্ক দিনগুলি’ পাওয়া যাচ্ছে রকমারিতে। ২৫ শতাংশ কমিশনে বইটির দাম ১৯০ টাকা।

শেয়ার করুন

সংস্কৃতির যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন হয়েছে: সনজীদা

সংস্কৃতির যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন হয়েছে: সনজীদা

ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের অগ্রযাত্রাকে অক্ষুন্ন রেখে নেতিবাচক প্রবণতাকে রোধ করবার জন্যে অতীতের মতো সংস্কৃতি চর্চার প্রসার মানবিক সমাজ গঠনে অবলম্বন হয়ে উঠতে পারে বলে জানান সনজীদা খাতুন।

করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবারও রমনার বটমূলে বসেনি ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখ বরণ আয়োজন। অনলাইন ও বিটিভিতে সকাল ৭টায় প্রচার হয় সংকলিন অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে প্রাধান্য দিয়ে এবার সাজানো হয় ৪৮ মিনিটের আয়োজন। প্রতিবারের মতো এবারও অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুনের বক্তব্য। বক্তব্যটি আগেই ধারণ করে রাখা হয়েছিল।

সনজীদা খাতুন বলেন, ‘লাখো প্রাণের আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সংস্কৃতির যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন হয়েছে। পঞ্চাশ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ঈর্ষনীয়। যা আমাদের আশাবাদী করে তোলে।

‘পহেলা বৈশাখ শুধুই নববর্ষ উদযাপন নয়। আত্মপরিচয়ের সন্ধানে বাঙালি যে পথপরিক্রমায় অংশ নিয়েছে, সে পথ মসৃণ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, নববর্ষের আয়োজন সব ধর্মের বাঙালিকে ঐক্যসূত্রে যুক্ত করে, তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’

দেশের অগ্রযাত্রাকে অক্ষুন্ন রেখে নেতিবাচক প্রবণতাকে রোধ করবার জন্যে অতীতের মতো সংস্কৃতি চর্চার প্রসার মানবিক সমাজ গঠনে অবলম্বন হয়ে উঠতে পারে বলে জানান সনজীদা খাতুন।

সনজীদা খাতুনের এবারের বক্তব্যে নতুন অবয়বে উত্থিত ধর্ম-বিদ্বেষের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘ধর্মের আসল মর্মবাণী উপেক্ষা করে নতুন অবয়বে উত্থিত ধর্ম বিদ্বেষ, সম্প্রীতির সমাজকে বিনষ্ট করতে সচেষ্ট। লোভের বিস্তার বৈষম্যের বিস্তার করছে। খণ্ড ও বিচ্ছিন্নভাবে আত্মপ্রকাশ করছে সামাজিক অবক্ষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্ধকারের উৎস থেকে আলো উৎসারিত হবেই। নতুন বছর বয়ে আনবে সবার জন্য মঙ্গলবার্তা। আলো আসবেই।’

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন ছায়ানট সভাপতি।

১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অনুষ্ঠিত হয়নি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এর পর গত বছর এবং চলতি বছর আয়োজন হলো না বটমূলে।

শেয়ার করুন

ঢাবিতে নববর্ষের প্রতীকী উদযাপন

ঢাবিতে নববর্ষের প্রতীকী উদযাপন

নববর্ষ উপলক্ষে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক নিয়ে অনুষদের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্তভাবে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন দেখা যায়। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ওই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকারের দেয়া কঠোর বিধিনিষেধে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরোয়াভাবে বা সীমিত পরিসরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদযাপন করেছে প্রতীকীভাবে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বুধবার সকালে একটি ভিডিওবার্তা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে পাঠিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর।

পয়লা বৈশাখের আগে ধারণ করা ভিডিওটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক নিয়ে অনুষদের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্তভাবে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন দেখা যায়।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ওই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।

প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়াসহ চারুকলা অনুষদের কিছু সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবাইকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘আবহমান কাল থেকে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয়ার যে বর্ণিল উৎসব ও ঐতিহ্য, সেটি অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন। নানা বিবেচনায় বাংলা-১৪২৮ গুরুত্ববহ একটি বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সন্ধিক্ষণে বাংলা নববর্ষের আগমন ঘটল।’

করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করায় উপাচার্য চারুকলা অনুষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত মঙ্গল শোভাযাত্রা। কিন্তু চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে এ বছর পয়লা বৈশাখ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

‘আমরা আশা করি ভবিষ্যতে মহামারি-পরবর্তী বাংলাদেশে আগের রূপে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে পরব।’

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সংক্ষিপ্তভাবে প্রতীকী এই মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও চারুকলা অনুষদকে ধন্যবাদ জানান।

শেয়ার করুন