১৭ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো চিত্রকর্মের সন্ধান

১৭ হাজার ৩০০ বছর আগের শিলাচিত্র (বামে) ও তার প্রতিলিপি। ছবি: ড্যামিয়েন ফিঞ্চ

১৭ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো চিত্রকর্মের সন্ধান

প্রাচীন আদিবাসীদের শিলাশিল্পের জন্য সুপরিচিত পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিমবেরলি অঞ্চল। অঞ্চলটিতে সম্প্রতি অনুসন্ধান চালান গবেষক ড্যামিয়েন ফিঞ্চ ও তার দল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের একটি গুহায় তিনি খুঁজে পান হাজার বছর আগের এই শিলাশিল্প।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো একটি চিত্রকর্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

দুই মিটার (৬.৫ ফুট) উচ্চতার চিত্রকর্মটি ক্যাঙারুর। এটি আঁকা হয়েছে পাথরের ওপর।

নেচার হিউম্যান বিহেভিয়র নামের জার্নালে বৃহস্পতিবার এ খবর ছাপা হয়।

প্রাচীন আদিবাসীদের শিলাশিল্পের জন্য সুপরিচিত পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিমবেরলি অঞ্চল।

অঞ্চলটিতে সম্প্রতি অনুসন্ধান চালান গবেষক ড্যামিয়েন ফিঞ্চ ও তার দল।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই অঞ্চলের একটি গুহায় তিনি খুঁজে পান হাজার বছর আগের এই শিলাশিল্প।

তিনি বলেন, ‘গুহার একটি পাথরে শিলাকর্মটি আঁকা হয়েছিল। পাথরের নিচের অংশে হলদে রং দিয়ে আঁকা হয়েছিল এটি।’

গবেষক দলের সদস্য সেভেন ওজম্যান ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক। তিনি বলেছেন, ক্যাঙারুর এই চিত্রের সঙ্গে প্রাচীন অন্য জাতিগোষ্ঠীর মিল রয়েছে।

‘ঠিক এ ধরনের শিলাশিল্পের খোঁজ আজ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মিলেছিল। এ থেকে আমরা ধারণা করতে পারি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের একটা সম্পর্ক ছিল।’

এ বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো গুহাচিত্রের সন্ধান পান গবেষকরা।

ওই গবেষকদের দাবি, ৪৫ হাজার বছর আগে আঁকা হয়েছিল শূকরের এই শিল্পকর্ম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বইমেলায় লিটলম্যাগের স্টল বরাদ্দ শুরু রোববার

বইমেলায় লিটলম্যাগের স্টল বরাদ্দ শুরু রোববার

১৮ মার্চ শুরু হচ্ছে বইমেলা। আর লিটলম্যাগ চত্বরে স্টল বরাদ্দের আবেদন শুরু হচ্ছে রোববার। ফাইল ছবি

লিটলম্যাগ চত্বরে স্টল বরাদ্দ পেতে রোববার থেকে শুরু হবে স্টল বরাদ্দের আবেদন। আবেদন করা যাবে ৮ মার্চ পর্যন্ত।

করোনা মহামারির কারণে এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা দেড় মাস পিছিয়ে শুরু হচ্ছে আগামী ১৮ মার্চ। মেলায় বিভিন্ন ধারার প্রকাশনা সংস্থার পাশাপাশি একটা বিশেষ অংশজুড়ে থাকে লিটলম্যাগ চত্বর।

সেই লিটলম্যাগ প্রকাশনা নিয়ে লিটলম্যাগ চত্বরে স্টল নিতে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।

রোববার থেকে শুরু হবে লিটল ম্যাগাজিনের স্টল বরাদ্দের এই আবেদন গ্রহণ। আবেদন করা যাবে ৮ মার্চ পর্যন্ত।

শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির ফোকলোর উপবিভাগের উপপরিচালক ও লিটল ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কবি ড. আমিনুর রহমান সুলতান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার যেসব লিটল ম্যাগাজিন বইমেলায় স্টল নিতে আগ্রহী তাদের আগামীকাল রোববার থেকে ৮ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।’

আমিনুর রহমান জানান, আবেদন করার জন্য যেকোনো লিটলম্যাগের কমপক্ষে তিনটি প্রকাশিত সংখ্যা থাকতে হবে। আর, আবেদনপত্র বাছাইয়ের পরেই লটারির মাধ্যমে স্টল বরাদ্দ দেয়া হবে।

২০০৬ সাল থেকে বইমেলায় সংযোজিত হয় লিটলম্যাগ কর্নার। প্রতিবছর বইমেলার একাডেমি প্রাঙ্গণেই সাজানো হতো লিটলম্যাগ চত্বর।

তবে বইমেলার পরিসর বাড়ায় ২০২০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তরিত হয় লিটলম্যাগ চত্বর।

শেয়ার করুন

শিল্পকলায় সাধুসঙ্গের ২৩তম আসর বসবে শুক্রবার

শিল্পকলায় সাধুসঙ্গের ২৩তম আসর বসবে শুক্রবার

শিল্পকলা একাডেমিতে সাধুসঙ্গের ২২তম আসরের ছবি

শিল্পকলা একাডেমির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আয়োজনের শুরুতে বাউল দলের শিল্পীদের কণ্ঠে ফকির লালন সাঁইজির ভাববাণী এবং শিল্পকলা একাডেমি বাউল দলের ভাববাণী পরিবেশিত হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে পূর্ণিমা তিথির মাসিক সাধুসঙ্গের ২৩তম আসর বসবে শুক্রবার।

একাডেমির বটতলায় সাধুসঙ্গের ২৩তম এই আসরের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পযন্ত।

বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আয়োজনের শুরুতে বাউল দলের শিল্পীদের কণ্ঠে ফকির লালন সাঁইজির ভাববাণী এবং শিল্পকলা একাডেমি বাউল দলের ভাববাণী পরিবেশিত হবে।

আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উপস্থিত থাকবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক সোহাইলা আফসানা ইকো।

আলোচনা শেষে সাধুগুরুদের পরিবেশনায় বাউল সংগীত পরিবেশন করবেন প্রাজ্ঞ সাধক শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, চন্দনা মজুমদার, সমির বাউল, কাঙ্গালিনী সুফিয়া, পাগলা বাবলু ও কুদ্দুস বাউল।

এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করবেন বাউল কামাল, ম্যাজিক বাউলিয়ানা চ্যাম্পিয়ন শিবলী সাদিক, বাউল সাইদুল, বাউল দিল বাহার খান, বাউল মমতাজ, বাউল ফারুক নুরী এবং আশালতা।

২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথিতে মাসিক ‘সাধুমেলা’ আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

তারই ধারাবাহিকতায় ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সব পর্যায়ের বাউল সাধক, বাউল শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাধুমেলার ২৩তম এই আসরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মান্নান হীরা স্মরণে ‘মরমী নাট্যমেলা’

মান্নান হীরা স্মরণে ‘মরমী নাট্যমেলা’

মান্নান হীরা রচিত ‘স্বর্ণজননী’ নাটকের একটি দৃশ্য। ফাইল ছবি

উৎস নাট্যদলের সভাপতি ইমরান হোসেন ইমু বলেন, ‘মান্নান হীরা ও উৎস নাট্যদলের মধ্যে ছিল নিবিড় সম্পর্ক। প্রিয় নাট্যবন্ধুকে আমরা তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্মরণ করতে চাই।’

বাংলাদেশের পথনাটক আন্দোলনের পথিকৃৎ মান্নান হীরা স্মরণে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘মরমী নাট্যমেলা’।

এদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর বেইলি রোডের নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে উৎস নাট্যদল আয়োজিত এই উৎসব উদ্বোধন করবেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

এই আয়োজন নিয়ে উৎস নাট্যদলের সভাপতি ইমরান হোসেন ইমু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে নাটকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবার অন্যতম এক কারিগরের নাম মান্নান হীরা।’

তিনি বলেন, ‘মান্নান হীরা ও উৎস নাট্যদলের মধ্যে ছিল নিবিড় সম্পর্ক। প্রিয় নাট্যবন্ধুকে আমরা তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্মরণ করতে চাই।’

তিনি জানান, ‘স্মরিবার তরে রহিয়াছি মোরা, গাহিতে তোমার জয়গান’ শিরোনামে এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে আরণ্যক নাট্যদল, সময় নাট্যদল, নাট্যলোক সিরাজগঞ্জ ও উৎস নাট্যদল।

চার দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন দলের নাটক মঞ্চায়িত হবে।

মান্নান হীরা রচিত নাটক নিয়েই সাজানো হয়েছে এই ‘মরমী নাট্যমেলা’।

উৎসবের প্রথম দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি উৎস নাট্যদল মঞ্চায়ন করবে নাটক ‘স্বর্ণজননী’। এর নির্দেশনা দিয়েছেন ইমরান হোসেন ইমু।

দ্বিতীয় দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি আরণ্যক নাট্যদল মঞ্চায়ন করবে নাটক ‘ময়ূর সিংহাসন’। এর নির্দেশনা দিয়েছেন শাহ আলম দুলাল।

তৃতীয় দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সময় নাট্যদল মঞ্চায়ন করবে নাটক ‘ভাগের মানুষ’। এর নির্দেশনা দিয়েছেন আলী যাকের।

চতুর্থ দিন ও শেষ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি নাট্যলোক সিরাজগঞ্জ মঞ্চায়ন করবে নাটক ‘ধীবর গাথা’। এর নির্দেশনা দিয়েছেন আইরিন পারভিন লোপা।

শেয়ার করুন

শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব

শিল্পকলায় শুরু পিঠা উৎসব

আছে সব মজার-সুস্বাদু ও নজরকাড়া পিঠা। নামগুলোও মনোহর। বিবিখানা, চিকেন কলসি পুলি, আলো ডোবা, মাছ পিঠা, মুগ পাকন, নানখাতা পিঠা, মালাই ঝিনুক, হৃদয় হরণসহ নানান নতুন সব পিঠা আছে উৎসবে।

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য পিঠা উৎসব শুরু হয়েছে শিল্পকলা একাডেমিতে।

মঙ্গলবার চতুর্দশ জাতীয় পিঠা উৎসব-২০২১ উদ্বোধন করা হয়েছে। চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত।

জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি উৎসবের আয়োজন করেছে। এবারের উৎসবে সারা দেশ থেকে অর্ধশতাধিক স্টল অংশ নিয়েছে।

পিঠা উৎসব ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী সব পিঠার সমাহার। পরিচিতের মধ্যে ভাপা, পুলি, দুধ পুলি, পোয়া পিঠা তো আছেই। আছে সব মজার-সুস্বাদু ও নজরকাড়া পিঠা। নামগুলোও মনোহর। বিবিখানা, চিকেন কলসি পুলি, আলো ডোবা, মাছ পিঠা, মুগ পাকন, নানখাতা পিঠা, মালাই ঝিনুক, হৃদয় হরণসহ নতুন সব পিঠা আছে উৎসবে।

মাছ পিঠা বানানো হয় রুই মাছের পুর দিয়ে। আলো ডোবা পিঠা দেখতে আলুর মতো, যা রসে ডোবানো হয় বলে এমন নাম।

চিরুনি ঝিনুক পিঠা দেখতে অনেকটা ঝিনুকের মতো, যার মুখে আবার রয়েছে চিরুনির মতো দাঁত। আর হৃদয় হরণ পিঠা দেখতে মানুষের হৃদয়ের মতো। চিকেন কলসি পুলি পিঠা দেখতে অনেকটা কলসির মতো।

বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মঞ্চসারথি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, নৃত্যগুরু আমানুল হক।

প্রধান বক্তা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ম হামিদ। উৎসবের উদ্বোধনে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পিঠা উৎসবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম।

15

উদ্বোধনের পর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এ সময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘পিঠা উৎসব এ দেশের সংস্কৃতির অংশ। গ্রামগঞ্জে আগে এগুলো হতো। তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে পিঠা উৎসব চার দেয়ালের মধ্যে এসে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে যেখানে যে পিঠার কদর রয়েছে, জাতীয় পিঠা উৎসবে আমরা সেই পিঠা দেখতে পাচ্ছি। করোনার কারণে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেমেই গিয়েছিল। এখন সেটা শুরু হয়েছে।’

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ। পিঠা উৎসবও দেশের বাঙালি জীবন চর্চার অংশ।’

শেয়ার করুন

মাতৃভাষা দিবসে পথ বইমেলা

মাতৃভাষা দিবসে পথ বইমেলা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নাটোরে আয়োজিত পথ বইমেলায় অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

মেলায় নাটোরের শতাধিক লেখকের বইসহ দেশের খ্যাতিমান লেখকদের বই স্থান পায়। এ ছাড়া পাঁচ জন লেখকের বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নাটোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে পথ বইমেলা।

রোববার সকালে স্থানীয় দৈনিক প্রান্তজনের আয়োজনে শহরের কানাইখালী এলাকায় ব্যতিক্রমী এই বইমেলার উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শেখর কুমার সান্যাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, ঔপন্যাসিক মুজিবুল হক শাওন, কবি মোহাম্মদ কামাল, শাহানা আকতার মহুয়া, আসলাম লিটন, কামাল খাঁসহ বিভিন্ন জেলার কবি-সাহিত্যিকরা।

মেলায় নাটোরের শতাধিক লেখকের বইসহ দেশের খ্যাতিমান লেখকদের বই স্থান পায়।

এ ছাড়া পাঁচ জন লেখকের বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করা হয়।

এই বইগুলো হলো নাজমুল হাসানের কাব্যগ্রন্থ দত্তপাড়ার আকাশ, কামাল খাঁর ছড়ার বই রঙ্গে ভরা ছড়া, ডন শিকদারের গল্পের বই অণুগল্পের পরে, আসলাম লিটনের ছোটদের গল্পের বই ডানপিঠে ও আসাদ জামানের কবিতার বই বুকপকেটে চাঁদ, প্যান্ট পকেটে জোসনা।

কবি শাহানা আকতার মহুয়া বলেন, পথ বইমেলার জন্য সুদূর কানাডা থেকে নাটোরে এসেছি। এখানে লেখক-পাঠকের এই মিলনমেলা উপভোগ করি।

বইমেলা উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

একুশে পদক পেলেন ২১ জন

একুশে পদক পেলেন ২১ জন

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। করোনার জন্য সকলেরই এ বন্দি অবস্থা।’

বাংলাদেশের সব অর্জন সংগ্রামের মাধ্যমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘সংগ্রাম করেই সব অর্জন করতে হয়েছে। কেউ এমনি কিছু করেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই কিন্তু আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতা অর্জনটাই ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা পর্যায়েই আন্দোলন-সংগ্রাম করে অধিকার আদায় করতে হয়েছে। সেধে কেউ কিছু দেয়নি। এটা মনে রাখতে হবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কোনো জাতিকে ধ্বংস করত হলে প্রথমে ভাষা-সংস্কৃতিতে আঘাত করতে হয়। পাকিস্তানিরা সেটাই করেছিল। আমরা জাতির পিতার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে স্বাধীনতা পেয়েছি।’

এ সময় ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সত্তরের নির্বাচনের পর পুরো পাকিস্তানেই যখন বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল, তখন কিন্তু তারা ক্ষমতা দেয়নি। ১৯৭১ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির যে অনুষ্ঠান, সেখানে জাতির পিতা গিয়েছিলেন শহিদ মিনারে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

‌‘সেখানে ফুল দেয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘‘১৯৫২ সালের আন্দোলন শুধু ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।” ভাষা আন্দোলন থেকেই কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে তিনি সংগ্রাম করে যান। আর এ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের মাকে মা বলে ডাকার অধিকার পাই, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।’

একুশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর কানাডাপ্রবাসী দুজন বাঙালি সালাম এবং রফিক বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের মাতৃভাষা সংরক্ষণ করার একটি কমিটি করেন।

‘সে সময় জাতিসংঘে তারা আবেদন করেন যেন ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এটা কোনো ব্যক্তি বা ছোট গ্রুপের থেকে এলে হবে না। জাতিসংঘ জানিয়ে দেয় যে সদস্যভুক্ত কোনো দেশের পক্ষ থেকেই এ অনুরোধটা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন এটা জানতে পারলাম, সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা এ পদক্ষেপটা নেব। আমাদের পক্ষ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রস্তাব পেশ করলাম। এটা পেশ করার সাথে সাথে ইউনেস্কোর সাথে কাজ শুরু করলাম।

‘১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিটি দেশ আমাদের সমর্থন দিয়েছিল। এরপর থেকেই সারা বিশ্বে দিনটি পালনে ভূমিকা নেয়া হয়।’

এ বছর জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক পেলেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক। শনিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত না থাকতে পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। করোনার জন্য সকলেরই এ বন্দি অবস্থা।’

এ বছর ভাষা আন্দোলনে তিন জন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিন জন, শিল্পকলায় সাত জন, ভাষা ও সাহিত্যে তিন জন এবং সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, সমাজসেবা ও অর্থনীতিতে এক জন করে একুশে পদক পেয়েছেন।

একুশে পদক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার।

ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য এবারের একুশে পদক (মরণোত্তর) পান মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক ও অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদ।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য পদক পান পাপিয়া সারোয়ার (সংগীত), রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সালমা বেগম সুজাতা (অভিনয়), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দীন জাকি (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (আবৃত্তি) এবং পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য এবার একুশে পদক পান গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ ইসাবেলা (মরণোত্তর)।

সাংবাদিকতায় একুশে পদক দেয়া হয়েছে অজয় দাশগুপ্তকে। গবেষণায় অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন ড. সমীর কুমার সাহা।

এ ছাড়া শিক্ষায় মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মির্জা আব্দুল জলিল ও সমাজসেবায় অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান একুশে পদক পেয়েছেন।

এ বছর ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক দেয়া হয়েছে তিন জনকে। তারা হলেন কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg