শর্মিলাদির পটের গান

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কৈলাশগঞ্জে শর্মিলা ইকো কটেজে পটের গানের আয়োজন। ছবি: লেখক

শর্মিলাদির পটের গান

শর্মিলাদির পটের গান সম্পূর্ণ সুন্দরবনকেন্দ্রিক। মায়ের মতো সুন্দরবনের আগলে রাখা, বাবার দৃঢ়তায় ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করা, বনে গাছ কাটা কিংবা হরিণ শিকার, চোরাকারবারির শাস্তি, পর্যটন, সুন্দরবন রক্ষায় পর্যটকদের করণীয়- কী নেই এই পটের গানে!

এক সময় পট (ছবি) দেখিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পটের গান শোনাতেন পটুয়ারা। কালের বিবর্তনে প্রায় হারাতে বসা সেই গীতিকারদের খোঁজে বন্ধু অমলের নেতৃত্বে কোভিড ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু।

গুলিস্তান থেকে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেসে মাওয়া হয়ে কাটাখালি পাঁচ ঘণ্টায়। কাটাখালি থেকে মাহেন্দ্র (এক ধরনের ত্রিচক্রযান) করে মোংলা রোডে দিগরাজ বাজার। দিগরাজের স্বল্প দূরত্বে পশুর নদীর খেয়াঘাট, ওপাড়ে বাজুয়া বাজার। খেয়া পারাপারে হাদিয়া জনপ্রতি ১০ টাকা। বাজুয়া থেকে কৈলাশগঞ্জের বুড়ির ডাবুর বাজার অটোরিক্সায় ৩০ টাকা প্রতিজন। জার্নি বাই লঞ্চ ইন সুন্দরবন-এ অভ্যস্ত আয়েশি পর্যটকদের কাছে যদিও এই যাত্রা দীর্ঘ প্যারা; আমাদের কাছে ওটা আনন্দ, খোঁজার-শেখার-জানার!

বুড়ির ডাবুর বাজার থেকে হাঁটা দূরত্বে শর্মিলা ইকো কটেজ। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কৈলাশগঞ্জের এই ইকো কটেজটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধিৎসু পর্যটকের জন্য চালু হয় ২০১৮ সালের শুরুর দিকে। মূলত, কমিউনিটি ইকো ট্যুরিজমকে প্রমোট করা এবং সুন্দরবনের বনজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্যই এই কার্যক্রম।

আমরা একই দল এর আগে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে গোপাল মুণ্ডার ইকো কটেজেও রাত্রিযাপন করেছি। সে গল্প অন্যদিন!

গুলিস্তান থেকে সকাল ৮টায় রওয়ানা দিয়ে বিকেল ৪টার দিকে শর্মিলাদির কটেজে।

ছিমছাম ছায়ানীড়। গোলপাতার ছাউনি ঘেরা দুটো ঘর, সংযুক্ত প্রক্ষালনকক্ষ। প্রত্যন্ত সুন্দরবনেও বিদ্যুৎ সুবিধা বিদ্যমান। সামনে একটা পুকুর, পুকুরের ওপর বসার জন্য একটা গোলঘর, কিছু হেমক রয়েছে নারকেল গাছ ঘিরে। বাড়ির পাশে সবজি বাগান। আগত অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে ক্ষেতের এই সতেজ সবজি খাবার টেবিলে রাজত্ব করে বলে জানালেন কটেজের স্বত্বাধিকারী শর্মিলা সরকারের স্বামী তপন সরকার।

স্নান ও জলযোগ সেরে বেরিয়ে পড়া। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা এই জনপদের মানুষেরা বনের মতোই উদার, লম্বাটে গাছের মতোই বিনয়ী। আশপাশ ঘুরে দেখলাম। পুরুষেরা ধানের কাজে ব্যস্ত, নারীরা পাটখড়িতে গোবর দিয়ে একধরনের জ্বালানি তৈরি করছে। একদম স্বচ্ছল না হলেও মোটামুটি সমৃদ্ধ গ্রাম।

সেদিন অষ্টমীর চাঁদ। দূর আকাশে কাস্তের মতো ওই চাঁদ মাঝনদীর আয়নায় নিজের মুখ দেখছিল, সেই ছবি আমাদের চোখে লেগে আছে এখনও।

সুন্দরবনের এক কোণে রাত্রিপ্রহরে নিঃস্তব্ধ অচেনা গ্রামে আরাম শীতনিদ্রা সারাদিনের ক্লান্তিকে বিদায় জানাতে যথেষ্ট।

পরের দিন সকালবেলা প্রাতঃরাশ সেরে ডিঙি নৌকায় সুন্দরবন ভ্রমণ। চাঁদপাই রেঞ্জের লাউডোবে ইঞ্জিনছাড়া নৌকায় আমরা ছয় জন।

মানিক, মাজেদ, বিজয়, অমল, ভিস্ম আর আমি। মাঝি অমিত জানাচ্ছিলেন, বছর দুয়েক আগে এই নদী পার হয়ে বাঘমামা লোকালয়ে উঠিছিল। বন্ধু অমল সাহস দিচ্ছিল- দুপুর বেলা নাকি বাঘ বেরোয় না! সত্য-মিথ্যা জানি না, তবে সেদিন দুপুরে অমলের কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলেছিল।

সারা বিকেল পুকুরে মাছ ধরে সন্ধ্যায় কাঙ্ক্ষিত পটের গান।

শর্মিলাদির নেতৃত্বে আনন্দময়ী শিল্পী গোষ্ঠীর আয়োজনে সুন্দরবন নিয়ে পটের গান।

শর্মিলার পটের গানের দলের সঙ্গে লেখকসহ 'ভবঘুরে শাস্ত্র' ভ্রমণ দলের সদস্যরা

পটের গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে। পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদেও এই গানের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশে এক সময় পটচিত্র দেখিয়ে ধানের বিনিময়ে গাজীর গান গেয়ে বেড়াত বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ। মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা এবং তার আশপাশের অঞ্চলে পটুয়া বেদেদের বিচরণ ছিল।

শর্মিলাদির পটের গান সম্পূর্ণ সুন্দরবনকেন্দ্রিক। মায়ের মতো সুন্দরবনের আগলে রাখা, বাবার দৃঢ়তায় ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করা, বনে গাছ কাটা কিংবা হরিণ শিকার, চোরাকারবারির শাস্তি, পর্যটন, সুন্দরবন রক্ষায় পর্যটকদের করণীয়- কী নেই এই পটের গানে! শুরুটা এভাবে-

সুন্দর সুন্দরী আমার-

ওই না সুন্দরবন,

বাঘ রক্ষা করতে হবে-

মোদের সুন্দরবন!

ক্রমান্বয়ে ছবিতে ছবিতে গোলপাতার উপকারিতা, বনের সৌন্দর্য, প্রাণীকুল, নদী, মৎস্য গুছিয়ে গুছিয়ে বর্ণিত হয়েছে ওই পটের গানে।

শেষটায় নিবিড় আহ্বান পটের গানে-

সুন্দরবন আমাদের সকলের,

একে ধ্বংসের হাত থেকে

রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।

এক সময় গভীর রাত ঘন হয়ে নেমে আসে কৈলাশগঞ্জে শর্মিলাদির কুটিরে। রাতভর কটেজ জুড়ে রেশ থেকে যায় পটের গানের। সকালে ঘুম ভাঙে তপনদার ডাকে। ফিরতে হবে। ফেরার পথে খাঁটি মধু সাতশ টাকা কেজি আর গোল পাতার গুড় শ টাকায়। সঙ্গে নিয়ে আসি স্মৃতিময় শর্মিলাদির দলের পটের গান। ফেরার আগে দিদি এগিয়ে দেন পরিদর্শন বহি।

কলম চলে-

এখানে এই শান্তিনীড়ে

মননের চিত্তাকাশে

শয়ন করে নিদ্রিত ক্লান্তি,

জাগ্রত চিবুকে শিস দেয়

রঙিন মাছরাঙা।

জমে থাকা আসুখেরা

বনের ওষুধে টনিকে ভাসে,

জঙ্গলরাত্রি জানান দেয়-

দিনশেষে প্রকৃতি তোমার সবচে আপন!

হিমাংশু পাল: শিক্ষক, ভ্রমণপিয়াসী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যে গ্রামে দেয়াল শিল্পিত

যে গ্রামে দেয়াল শিল্পিত

টিকোইল গ্রামের প্রতিটি ঘরই এমন আলপনায় সাজানো। ছবি: নিউজাবংলা

টিকোইল গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়ির দেয়ালে আলপনা আঁকা। গ্রামের বাসিন্দারা যেন পেয়ে গেছেন বিশাল বিশাল ক্যানভাস। প্রত্যেকে হয়ে উঠেছেন সৌন্দর্যপিপাসু শিল্পী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সড়কপথে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের টিকোইল গ্রামে ঢুকলে চোখে পড়বে বাড়িঘরের সামনের দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের আলপনা আঁকা। প্রায় সব বাড়ির দেয়ালে শিল্পকর্ম।

গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। পূজাপার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে বাড়িকে সাজিয়ে তুলতেই তারা এঁকে থাকেন আলপনা।

টিকোইল গ্রামের একটা বাড়ির নামই ‘আলপনা বাড়ি’। দোতলা বাড়িটির দেয়ালে বড় করে লেখা এ নাম। এ বাড়ি থেকেই পুরো গ্রামে দেয়ালে আলপনা করার চল শুরু হয়েছে।

বাড়ির মালিক দাসু বর্মন। বাড়ির সামনে যেতেই দেখা হলো দাসু বর্মনের স্ত্রী দেখন বর্মনের সঙ্গে। পরম আতিথেয়তায় তিনি নিয়ে যান বাড়ির ভেতরে। বাড়িতে ঢুকতেই মনে হলো, আলপনার রাজ্যে চলে এসেছি। মাটির দেয়াল যেন সৃষ্টিশীলতার বড় বড় ক্যানভাস। আর এসব ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে ফুল, লতাপাতা, পাখি।

একটু সামনে যেতেই দেখা মিলল দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি: বঙ্গবন্ধুর ছবি তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে কাজী নজরুল ইসলাম, ইলা মিত্র, শেখা হাসিনার ছবি।

ঘরের দেয়ালে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি

মাটির ঘরের পাশে ‘আলপনা বাড়ি’তে যুক্ত হয়েছে দুটো পাকা ঘর। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে এ ঘর। সেই ঘরগুলোর দেয়ালও আলপনায় রাঙিয়ে তুলেছেন বাড়ির মেয়েরা।

দেখন বর্মন বলেন, লেখাপড়া তিনি কিছুই জানেন না। নিজের মনে যা ভালো লাগে তাই আঁকেন। কবে থেকে আঁকা শুরু করেছেন, তার হিসাব মনে না থাকলেও বলেন, ‘বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এলাম, তখন বাড়ি লেপার সময় আমি লাল মাটি দিয়ে করতাম, এতে রং আসত। বিভিন্ন ধরনের মাটি ও বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতা দিয়ে রং তৈরি করলাম।

‘এরপর মনে হলো একটু নকশা করি। এভাবেই যখন যেটা মনে এসেছে, তারই নকশা করেছি। বাড়ির লোকেরা খুশি হতো, সবাই দেখত। এরপর বাড়তে বাড়তে গত ২০ বছর থেকে এখন দেশ-বিদেশ সব জায়গা থেকে মানুষ আসে দেখতে। গত দুই-তিন বছর থেকে প্রতিদিনই মানুষ আসে। সবাই বলে আপনি বিরক্ত হন না? আমি বলি না। কেউ বলে, কাকিমা একটা ছবি তুলব, সবার সাথেই কথা বলে আমার দিন কেটে যায়।’

আলপনা আঁকার কাজ করে থাকে শিশুরাও

আলপনা আঁকার খরচ কীভাবে ওঠে? দেখন বর্মনের উত্তর, ‘আমি দুটা কাপড় কম কিনে আলপনা আঁকি। বাড়িতে তিনটা গরু আছে। সেগুলো লালন-পালন করে চলে যায় সংসার। আমার কোনো ভিটেমাটি নেই। সরকারিভাবে বাড়িটা করে দিয়েছে। সেখানেই আছি।’

দেখন বর্মনের মেয়ে অনীতা বর্মন তাদের বাড়িতে রাখা একটা ভিজিটর বই বের করে এনে দেখান, বইয়ের পাতা ভরে গেছে দর্শনার্থীদের মন্তব্যে। অনীতা বর্মন বলছিলেন, নিজেদের ভালোলাগা থেকে এ আলপনাগুলো করলেও এখন সবাই দেখতে আসে। ভালোই লাগে।

অনীতা জানান, সাধারণ দুর্গাপূজার সময় আলপনা করেন তারা। এছাড়া কীর্তনের সময়ও নতুন করে আলপনা আঁকা হয়। তবে কোনো আলপনার রং চটে গেলে আবার আঁকেন। যেহেতু এখন দূরদূরান্ত থেকে লোক আসে দেখতে। এ কারণে দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে সুযোগ পেলেই আলপনা আঁকেন তারা।

দেখন বর্মনের আরেক মেয়ে জয়া বর্মন, মায়ের এমন সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে গর্ব অনুভব করেন। একজন নারী হয়ে তার মা গ্রামের অন্যদের পথ দেখিয়েছেন।

জয়া বলেন, ‘আমার মায়ের কারণে জেলা প্রশাসকসহ দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় মানুষ এসেছেন। যাদের কাছে আমরা কোনোদিনই যেতে পারতাম না, তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। আমার মায়ের এই আলপনার জন্যই এ গ্রামটা সবার কাছেই পরিচিতি পেয়েছে। টিকোইল গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে ‘আলপনা গ্রাম’ নামে।’

একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন জয়া বর্মন। বলেন, তাদের বাড়ির পেছনে থাকা সরকারি পুকুরটি সংস্কার করে সেখানে একটি বা দুটি ছোট নৌকা রাখা গেলে দর্শনার্থীরা নৌকার চড়ে আরও কিছুটা সময় গ্রামীণ পরিবেশে কাটাতে পারতেন।

আলপনায় তুলে ধরা হয় নানা মোটিফ

টিকোইল গ্রামে আলপনা আঁকার পথ দেখানো দেখন বর্মনের কাছে আলপনা আঁকা শিখেছেন তার নাতনি সাথী বর্মন। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়া সাথী বর্মন বলছিলেন, তার আলপনা আঁকতে ভালো লাগে, তার দাদির কাছে গ্রামের সবাই আলপনা আঁকা শিখে এখন আলপনা করে বাড়িতে।

গ্রামের অন্য বাড়িগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মেয়ে ও বধূরা আলপনা আঁকা শিখে নিয়েছেন। টিকোইল গ্রামের শ্রীমতী শম্পা রাণী তেমনি একজন। তিনি এখন নিজ বাড়িতে আলপনা নিজেই আঁকতে পারেন।

শম্পা রাণী বলেন, তাদের গ্রামে অনেকেই আসেন আলপনা দেখতে, এটা তাদের ভালোই লাগে।

নেজামপুর গ্রামের সমাজকর্মী মনিরুল ইসলামের মতে, টিকোইল গ্রামের নারীদের করা আলপনার কারণে তাদের ইউনিয়ন নাচোল উপজেলায় সবার কাছে পরিচিত হয়েছে, পেয়েছে নতুন মাত্রা। এ গ্রামের কারণেই এখানে পাকা রাস্তা হয়েছে, বসেছে সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি, জেলা প্রশাসনসহ সবার নজরে পড়েছে গ্রামটি। এর সুফল পাচ্ছে এলাকার সবাই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এ গ্রাম দেখতে এসেছেন গোলাম রশিদ। তিনি জানান, এই গ্রামটি সবার কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিল না। এখানকার নারীদের করা আলপনায় গ্রামটি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও পরিচিত হয়ে উঠেছে।

সৃজনশীল দেখন বর্মনের একটা ইচ্ছা সবস ময়ই উঁকি দেয়। কোনো একদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পৌঁছাবেন তার এ শিল্পকর্মের কথা, তার আলপনার কথা। কথার কথায় তিনি বলেন, ‘এত মানুষ আমার কাজ দেখে, যদি প্রধানমন্ত্রীর সাথে একবার দেখা করার সুযোগ হতো, তাহলে আমার আলপনা গ্রামে তাকে দাওয়াত দিতাম, আমাদের গ্রামের মানুষের করা আলপনা দেখে তিনি খুশি হতেন।’

শেয়ার করুন

শামীম রেজার সুবর্ণজয়ন্তীতে সংবর্ধনা সভা

শামীম রেজার সুবর্ণজয়ন্তীতে সংবর্ধনা সভা

আয়োজনে কবি শামীম রেজার কীর্তিময় জীবনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে, যেটি নির্মাণ করেছেন হারুন অর রশীদ। আয়োজনে সংগীত পরিবেশন ও কবিতাপাঠ ছাড়াও আছে শুভেচ্ছা পর্ব, যেখানে সাহিত্যাঙ্গনের অনেকেই কবিকে শুভেচ্ছা জানাবেন। 

নব্বই দশকের অন্যতম কবি শামীম রেজার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে ৮ মার্চ বিকেল ৪ টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে সংবর্ধনা-সভা। শামীম রেজা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পর্ষদ এটি আয়োজন করছে।

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হক বলেন, 'আয়োজনে কবি শামীম রেজার কীর্তিময় জীবনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে, যেটি নির্মাণ করেছেন হারুন অর রশীদ। আয়োজনে সংগীত পরিবেশন ও কবিতাপাঠ ছাড়াও আছে শুভেচ্ছা পর্ব, যেখানে সাহিত্যাঙ্গনের অনেকেই কবিকে শুভেচ্ছা জানাবেন।'

কবি শামীম রেজার জন্ম ৮ মার্চ, ১৯৭১ সালে, বরিশালের ঝালকাঠি জেলার বিষখালী নদীর কোলঘেঁষা থানা কাঠালিয়ার জয়খালি গ্রামে, মামাবাড়িতে। সাউদপুর ও রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েছেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক। বরিশালের বিএম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নিম্নবর্গের মানুষ : বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার কবিতা-তুলনামূলক আলোচনা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি অর্জন করেছেন তিনি। সম্পাদনা করেছেন লিটলম্যাগ ‘ধানসিড়ি’।

জীবিকার শুরুতে বেশ অনেকটা বছর কেটেছে কয়েকটি দৈনিক সংবাদপত্রের দায়িত্বপূর্ণ পদে। ছাত্র অবস্থায় সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে আজকের কাগজের ‘সুবর্ণরেখা’ সম্পাদনা ও দৈনিক কালের কণ্ঠের ‘শিলালিপি’ সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘদিন। ২০০৩ মে থেকে নভেম্বর ২০১১ পর্যন্ত ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা শেষে ডিসেম্বর ২০১১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগদান করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট’। এখন তিনি ইনস্টিটিউটটির পরিচালক।

‘যখন রাত্তির নাইমা আসে সুবর্ণনগরে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রবর্তিত ‘কৃত্তিবাস’ পুরস্কার লাভ করেছেন ২০০৭ সালে। লেখালেখির প্রয়োজনে গিয়েছেন ভারত, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, চেক রিপাবলিক ও পর্তুগাল।

শেয়ার করুন

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৯ কীর্তিমান

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৯ কীর্তিমান

পদক পাচ্ছেন কবি মহাদেব সাহা, নাট্যজন আতাউর রহমান ও গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

কর্মে ও অবদানে জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। তাদের পাশাপাশি গবেষণা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলকে (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) এ পদক দেয়া হচ্ছে।

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের মনোনীতদের তালিকা রোববারই প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা দেয়া হয়।


এবার পদক পাচ্ছেন-

  • ১. মরহুম এ কে এম বজলুর রহমান (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ)(মরণোত্তর)

  • ২. শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ)(মরণোত্তর)

  • ৩. মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ) (মরণোত্তর)

  • ৪. মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু (স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ) (মরণোত্তর)

  • ৫. ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি)

  • ৬. মহাদেব সাহা (সাহিত্য)

  • ৭. আতাউর রহমান (সংস্কৃতি)

  • ৮. গাজী মাজহারুল আনোয়ার (সংস্কৃতি)

  • ৯. অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন (সমাজসেবা/জনসেবা)

শেয়ার করুন

ওসামা বিন লাদেনের ছেলে এখন চিত্রকর

ওসামা বিন লাদেনের ছেলে এখন চিত্রকর

ওসামা বিন লাদেনের ছেলে ওমর বিন লাদেন ও তার পেইন্টিং। ছবি: ভাইস নিউজ

ওমরের ল্যান্ডস্কেপগুলোতে রয়েছে আফগানিস্তানের তোরা বোরা পার্বত্য এলাকার ছাপও। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নজর এড়িয়ে ওই এলাকায় অনেক বছর লুকিয়ে ছিলেন তার বাবা ওসামা বিন লাদেন।

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে লকডাউনের মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে দারুণ এক উপায় খুঁজে নিয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেনের ছেলে ওমর বিন লাদেন। ঘরে অলস সময় না কাটিয়ে পেইন্টিং শিখেছেন তিনি।

বলা যায়, লকডাউন শাপেবর হয়েছে ওমরের জন্য, এখন তিনি চিত্রকর। আঁকিবুঁকিতেই সময় কাটছে তার। লুকেও এনেছেন পরিবর্তন। এখন দেখতে অনেকটা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মতন।

উগ্রপন্থি ইসলামি সংগঠন আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের চতুর্থ ছেলে ওমর। বিয়ে করেছেন যুক্তরাজ্যের চিত্রকর জাইনাকে; স্ত্রীকে নিয়ে থাকছেন উত্তর ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে।

আঁকিবুঁকির বিদ্যাটা স্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছেন ওমর। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভাইস নিউজের বরাতে আরব নিউজ লিখেছে, তার পেইন্টিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়াদি স্পষ্ট। অথচ দেশটি কখনই যাননি তিনি।

আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জিহাদের’ ডাক দেন ওমরের বাবা ওসামা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে হামলা চালানোর দায়ও দেয়া হয়ে থাকে ওসামাকে। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো অভিযানে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে প্রাণ হারান তিনি। তার মরদেহ ডুবিয়ে দেয়া হয় সাগর তলে।

ওমরের ল্যান্ডস্কেপগুলোতে রয়েছে আফগানিস্তানের তোরা বোরা পার্বত্য এলাকার ছাপও। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নজর এড়িয়ে ওই এলাকায় অনেক বছর লুকিয়ে ছিলেন ওসামা বিন লাদেন।

এক সাক্ষাৎকারে ওমর বলেছিলেন, তার বাবার কারণে শৈশবে জেদ্দায় নিজেদের বাড়ি ছেড়ে সুদান, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানসহ একাধিক জায়গায় নানান মানসিক ধকলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

ওমর পরে তার বাবা ওসামাকে ছেড়ে আফগানিস্তান থেকে চলে আসেন। নিজের সেই সময়কার অভিজ্ঞতা একাধিকার তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে।

শেয়ার করুন

জয়িতা চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

জয়িতা চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে উৎসব উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নারী নির্মাতারা যাতে আরও চলচ্চিত্রমুখী হন সে জন্য সরকারের পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহযোগিতা করা হবে।

মুজিব জন্মশতবর্ষ ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘জয়িতা চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১’ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম মুভমেন্ট আয়োজিত এ উৎসবে ছয় নারী নির্মাতার সিনেমা প্রদর্শিত হবে।

শনিবার সকাল ১১টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে উৎসব উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই কিন্তু ইতিহাস রচিত হয়, যা মানুষের চেতনা ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিন্তু প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে পড়ে।’

এ সময় নারী নির্মাতারা যাতে আরও চলচ্চিত্রমুখী হন সে জন্য সরকারের পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়িতা ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম মুভমেন্টের সভাপতি দিলদার হোসেন, এসএস কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুমন প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা নারগিস আক্তার, শাহনেওয়াজ কাকলী ও নানজিবা খানকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।

উৎসবে প্রদর্শিত হবে কোহিনুর আক্তার সুচন্দার হাজার বছর ধরে, নারগিস আক্তারের মেঘলা আকাশ, সামিয়া জামানের রানী কুঠির বাকি ইতিহাস, মৌসুমীর কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, শাহনেওয়াজ কাকলীর উত্তরের সুর ও নানজিবা খানের দা ওয়ান্টেড টুইন সিনেমা।

উৎসবটি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৬ থেকে ৮ মার্চ প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যশালা মিলনায়তনে চলবে এ সিনেমা প্রদর্শনী।

শেয়ার করুন

শুভ জন্মদিন গাবো

শুভ জন্মদিন গাবো

মার্কেজের জীবনে সাফল্য আর খ্যাতির পেছনে সবচেয়ে বেশি যার অবদান, তিনি হলেন মিশরীয় বংশজাত কলম্বিয়ান স্ত্রী মের্সেদেস বার্চা।  মার্কেজের বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ বছর আর মের্সেদেসের বয়স আট। তখনই তাদের প্রথম দেখা হয়। প্রথম দেখা হয়েছিল উত্তর কলম্বিয়ার মাগদালেনা তীরবর্তী ছোট শহর মাগানগেতে। সেই দেখাতেই প্রেমে পড়ে যান; আর সেদিনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘এই বালিকাই একদিন আমার স্ত্রী হবে।’ ১৯৪৫ সালে তাকে নিয়ে কবিতাও লিখেছিলেন। সত্যিই সত্যি সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয় ১৯৫৮ সালে। দীর্ঘদিনের প্রেমের পরিণত হয় বিয়ের বন্ধনে।

সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ একটি বিশেষ নাম। সাহিত্যে নোবেলজয়ী (১৯৮২) মার্কেজ জাদুবস্তবতাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দৃঢ়ভাবে। আজ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের জন্মদিন। আদর করে তাকে সাহিত্যামোদীরা ডাকেন, গাবো বলে।
১৯২৭ সালের ৬ মার্চ কলম্বিয়ার আরাকাতকায় জন্মেছিলেন দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত এই কথাসাহিত্যিক। মাতা-পিতার বিচ্ছেদের কারণে দাদা-দাদির কাছে তার শৈশব কাটে। ধারণা করা হয়, তখনই তার ভেতর কল্পনা বাস্তবতার মিলমিশে একটা অনন্য জগৎ তৈরি হয়। দাদার কাছে শোনা রাজনৈতিক, সামাজিক, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক তথ্যগুলো তাকে সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী করে তোলে। আর দাদির কাছে শোনা রূপকথা ও কল্পকাহিনি তাকে নিয়ে যায় অনন্যসাধারণ লোকে। একই সঙ্গে তিনি বিবিধ সত্তা নিয়ে বেড়ে ওঠেন।
মার্কেজের জীবনে সাফল্য আর খ্যাতির পেছনে সবচেয়ে বেশি যার অবদান, তিনি হলেন মিশরীয় বংশজাত কলম্বিয়ান তার স্ত্রী মের্সেদেস বার্চা। মার্কেজের বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ বছর আর মের্সেদেসের বয়স আট। তখনই তাদের প্রথম দেখা হয়। প্রথম দেখা হয়েছিল উত্তর কলম্বিয়ার মাগদালেনা তীরবর্তী ছোট শহর মাগানগেতে। সেই দেখাতেই প্রেমে পড়ে যান; আর সেদিনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘এই বালিকাই একদিন আমার স্ত্রী হবে।’ ১৯৪৫ সালে তাকে নিয়ে কবিতাও লিখেছিলেন। সত্যিই সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয় ১৯৫৮ সালে। দীর্ঘ দিনের প্রেমের পরিণত হয় বিয়ের বন্ধনে।
লেখা শুরু করে প্রথম পর্বে পেশা হিসেবে লেখালেখি গ্রহণ করেননি। তার উল্লেখযোগ্য ও সাড়া জাগানো কয়েকটি লেখা এখানে উল্লেখ করা যায়। তার উপন্যাস হলো : শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা (১৯৬৭), কলেরার দিনগুলোতে প্রেম (১৯৮৫), কর্নেলকে কেউ চিঠি নিবে না (১৯৮৫)। আরও রয়েছে চমৎকার কয়েকটি উপন্যাস ও গল্প।
আজ আমি গাবোর জন্মদিন উপলক্ষে সম্প্রতি পড়া আমার প্রিয় উপন্যাস ‘লাভ ইন দা টাইম অব কলেরা’ কিছু বলতে চাই। ‘লাভ ইন দা টাইম অফ কলেরা’ নায়িকার সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা হয়েছে। আসলে লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ এর ক্ষমতা। তিনি যেভাবে প্রকাশ করেছেন, যেভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, নারীকে, তাতে সম্মানিত বোধ করার কথা পাঠকের৷

গাবোর আলোচিত উপন্যাস ‘লাভ ইন দ্যা টাইম অব কলেরা’র প্রচ্ছদ
গল্পের নায়িকা ফারমিনা দাসা যখন প্রেমে পড়েন নায়ক ফ্লোরেন্তিনো আরিজার তখন একমনে তাকেই চেয়েছিলেন। বাবার বুলেটের ভয়ে ফারমিনা নিজেকে সরিয়ে নেন। কারণ, জীবন না থাকলে প্রেম কোথায়? ধারণা করি লেখক তাই বোঝাতে চেয়েছেন।
ফারমিনা বিয়ের পর স্বামী সংসারকে জীবন জ্ঞান করেছেন। যেন এ-ও এক সম্মান দেখানো, জীবনকে। তার ডাক্তার স্বামী জড়িয়েছেন অন্য নারীতে। তাতেও ফারমিনার ভালোবাসা দমেনি স্বামীর প্রতি - এ-তো নারীর উদারতাই বোঝায়। একজন মেয়ে যেকোনো মূল্যে চায় সংসার টিকে যাক।
লেখক বলেছেন - 'ভালো বিয়ের উদ্দেশ্য কেবল সুখী হওয়াই নয়, বরং টিকে থাকাও।' নারী আর পুরুষের ধৈর্য্য ও প্রেমের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। লেখক সুনিপুণ ভাবে অত্যন্ত সুক্ষ্মতা ও দক্ষতার সাথে তা-ই তুলে ধরেছেন।
প্রতিটি নারী চরিত্র এখানে লক্ষ্যণীয়। প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণ দাবি করে। প্রকৃত আধুনিকতা হলো- নিজেকে সময় ও জীবনের সাথে এক তালে এগিয়ে নেয়া। যুদ্ধ বা দ্বন্দ্ব মানুষকে খণ্ডে খণ্ডে রূপান্তরিত করে। ফারমিনার জীবনে দুজন পুরুষ দেখা যায়, দুজনেই একাধিক নারীর প্রতি আকর্ষিত। মজার কথা কেউ তা অস্বীকার করেন না।
হ্যাঁ, ফারমিনার স্বামীর মৃত্যুর পর প্রথম প্রেমিক বহু চেষ্টায় পুনরায় তার জীবনে আগমন করেন ততোদিনে পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় শেষ। ফারমিনার দ্বিধা ছিলো এই সময় নিয়ে। ফ্লোরেন্তিনো বলেন - তিপ্পান্ন বছর, সাত মাস, এগারো দিন তিনি অপেক্ষায় ছিলেন তার প্রিয়তমার জন্য। ফ্লোরেন্তিনো যে কথা দিয়েছেন আজীবন থাকবেন। তাঁর প্রেমের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং একাগ্রতা ফারমিনার সকল দ্বিধাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

কলেরার প্রাদুর্ভাব এই কাহিনীতে ছিলো এক স্থির ভিত্তি হয়ে। শেষ মুহূর্তেও দেখা যায় তাদের নিয়ে ভেসে চলা জাহাজ কলেরার পতাকা টানানো হয়। তখন তাদের বয়স একজনের সত্তর অন্যজনের বাহাত্তর।
প্রেমের চিরন্তন জয়ের গাঁথা গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ এর - 'লাভ ইন দা টাইম অফ কলেরা'। সবশেষে গাবো'র একটি উক্তি দিয়ে শেষ করি -
ভালোবাসার মতো কিছু না কিছু সবসময় রয়ে যায়।

শুভ জন্মদিন প্রিয় গাবো।


তাইমুন পিয়া; কবি ও কথাসাহিত্যিক

শেয়ার করুন

ঢাকায় নারীশিল্পীদের দেয়ালচিত্র 'রাইট টু সিটি'

ঢাকায় নারীশিল্পীদের দেয়ালচিত্র 'রাইট টু সিটি'

গুলশান ২ এর ৮৪ নম্বর সড়ক দেয়ালচিত্র আঁকছেন নারী শিল্পীরা। ছবি: নিউজবাংলা। 

গুলশানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা। প্রচুর রঙ তুলি আর শিল্পীদের উৎসবমুখর হইচই। সব শিল্পীই নারী। নারী দিবস উদযাপনে ২০ নারী শিল্পী আঁকছেন ৭২ ফুট দীর্ঘ দেয়ালচিত্র।

গুলশান ২ এর ৮৪ নম্বর সড়ক। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা। সামনে, প্রচুর রঙ তুলি আর শিল্পীদের উৎসবমুখর হইচই। সব শিল্পীই নারী।

নারী দিবস উদযাপন করতেই ২০ নারী শিল্পী আঁকছেন ৭২ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রস্থের দেয়ালচিত্র। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে ফারিহা জেবার নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় কাজ করা শিল্পীদের। আয়োজনের নাম, 'রাইট টু সিটি'। শিল্পীরা মনে করছেন এই দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে আবদ্ধ রাস্তাটির দৃষ্টিসীমা প্রসারিত করছেন তারা।

শিল্পী ফারিহা জেবা বলেন, '৮ মার্চ নারী দিবস উপলক্ষে আমরা সমবেত হয়েছি। ৬ তারিখ সকাল থেকেই শুরু করেছি এ দেয়ালচিত্রের কাজ। আমরা এটি নিয়েছি একটি উৎসবের মতো করে, প্রথমে দেয়ালটি সবাই ভাগ করে নিয়েছি লে আউট অনুযায়ী, আশা করি কালকের (৭মার্চ) মধ্যে আঁকাটি শেষ হয়ে যাবে।'

দেয়ালে উজ্জ্বল রঙে শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলছেন আনন্দ

তিনি বলেন, 'আমরা এখন পর্বতে উঠতে পারি, আমরা দেয়ালে ছবি আঁকতে পারি। এই দেয়ালচিত্র কোনো দুঃখের গ্লানির কথা নয়, আমরা আনন্দ আঁকতে চাই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য আমাদের আনন্দ আমাদের ভালোলাগাগুলো উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে এই দেয়ালে তুলে রাখা। আশা করি এই উজ্জ্বলতা সবার মধ্যে সঞ্চারিত হবে।'

ফারিহা জেবার সঙ্গে নারীশিল্পীদের এই দলে আছেন, নুজহাত তাবাসসুম, কাজী ইস্তেলা আহমেদ, ইসমত আরা মিতু, মাহমুদা আকতার লুৎফা, সুরভী আক্তার, মানসী বণিক, আতিয়া মাইবাম, সারিয়া আহমেদ, সাইকা চৌধুরী, দিবারাহ মাহমুদ, নিপা নিপবীথি দাশ, লায়লা ফজল, পাপিয়া সারোয়ার দিঠি, মন্দ্রিলা মধুরিমা, লায়লা ফজল।

ঢাকার বাইরে থেকে তিন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বশীল নারী অংশ নিয়েছেন, তারা হলেন আলভী চাকমা, রূপশ্রী হাজং এবং আতিয়া মাইবাম।

এই প্রতিবেদকের মতো প্রচুর পথচারীরাই থমকে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন দেয়ালচিত্রটি দেখতে, সম্পূর্ণ কাজ হয়ে গেলে এই দেয়ালচিত্রের সামনে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যাবে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg