20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
নিজস্বতায় অনন্য হামিদুর রহমান

ফাইল ছবি

নিজস্বতায় অনন্য হামিদুর রহমান

প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে নিজের মতো করে শিল্পচর্চার মাধ্যমে নিজস্বতা তৈরি করেন হামিদুর রহমান, যার প্রতিফলন তার দেখা যায় ম্যুরালগুলোতে।

জাতীয় শহীদ মিনারের রূপকার, একুশে পদকপ্রাপ্ত স্থপতি ও প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমানের প্রয়াণ দিবস আজ।

১৯৮৮ সালের ১৯ নভেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার জন্ম ১৯২৮ সালে পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে।

হামিদুর রহমান ঢাকার কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টস (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে চিত্রকলার উপর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন (১৯৪৮-৫০)।

পরে প্যারিসের ‘Ecole des Beaux Arts’ এবং ‘Central School of Art and Design’ থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর তিনি ইতালির ‘Academia de belle arti di roma’ নামক প্রতিষ্ঠান থেকে ম্যুরাল পেইন্টিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

১৯৮০ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।

হামিদুর রহমান সমসাময়িক পাশ্চাত্য চিত্র রীতির অনুরাগী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে সব চিত্রশিল্পী ক্যানভাসে বাস্তবতার বিমূর্ত রূপকে ফুটিয়ে তোলেন তাদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন তিনি।

হামিদুর রহমান এ ধারার অনুসরণ করেছেন। তবে তিনি কখনো একই রীতিতে আবদ্ধ থাকেননি।

প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে নিজের মতো করে শিল্পচর্চার মাধ্যমে নিজস্বতা তৈরি করেন তিনি, যার প্রতিফলন তার দেখা যায় ম্যুরালগুলোতে।

জাতীয় শহীদ মিনারের নকশা করার দায়িত্ব পাওয়ার পরই ভাষা আন্দোলনকে ধারণ করে এমন কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি।

হামিদুর রহমানের নকশা অনুসারে ১৯৬২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কিছুটা পরিবর্তিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এক বছর পর ২১ ফেব্রুয়ারি নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদদের প্রতীক হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে যে শহীদ মিনার তার মূল স্তম্ভটি জননী-জন্মভূমির প্রতীক। যেন জননী তার সন্তানের দিকে ঝুঁকে আছেন। দুই পাশে দাঁড়ানো রয়েছে তার চার শহীদ সন্তান, যারা মাতৃভাষার জন্য, মাতৃভূমির জন্য জীবন দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য