20201002104319.jpg
পোপ পলের ভাস্কর্য নিয়ে সমালোচনা

পয়জনড ওয়েল

পোপ পলের ভাস্কর্য নিয়ে সমালোচনা

প্রয়াত পোপ দ্বিতীয় সেন্ট জন পলের একটি ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার জন্মভূমি পোল্যান্ডে। 

জন পলের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশটির রাজধানী ওয়ারসর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন হয়। এরপর থেকে এ নিয়ে চলছে সমালোচনা।

‘পয়জনড ওয়েল’ (বিষাক্ত কুয়া) নামের ভাস্কর্যটিতে দেখা যায়, লাল জলে একটি পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করছেন পোপ। 

ভাস্কর্যটির নির্মাতা পোল্যান্ডের ৭৬ বছর বয়সী নাগরিক ইয়ারজে কালিনা বলেন, ১৯৮০ সালে পোল্যান্ড থেকে সাম্যবাদ মুক্ত করতে সহায়তা করেছিলেন পোপ। ভাস্কর্যটির লাল জল সাম্যবাদের প্রতিনিধিত্ব করছে। 

ক্যাথলিক খ্রিষ্টান কালিনা জানান, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বিরুদ্ধে এক ধরনের সতর্কবার্তা পয়জনড ওয়েল। একই সঙ্গে ‘ক্লিয়ার ওয়েলের’ (পরিশুদ্ধ কুয়া) প্রত্যাবর্তনকে উৎসাহিত করছে এই ভাস্কর্য। 

পোল্যান্ডে ধর্মবিশ্বাসী কমে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে কালিনার পয়জনড ওয়েলে।    

ভাস্কর্যটির সমালোচকরা বলছেন, ১৯৯৯ সালে নির্মিত ইতালির ভাস্কর মৌরিৎজিও কাত্তিলানের ‘লা ননা অরা’র পাল্টা জবাব পয়জনড ওয়েল। 

লা ননা অরা

তারা মনে করছেন, ভাস্কর্যটি রক্ত ও সহিংসতা তুলে ধরেছে।   

ওয়ারসর জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলেছে, কাত্তিলানের লা ননা অরার পাল্টা জবাব দিয়েছেন কালিনা। 

কাত্তিলান তার ভাস্কর্যে দেখিয়েছিলেন, দুর্বল বৃদ্ধ পোপ জন পলকে ধরাশায়ী করেছে এক বিশাল উল্কাপিন্ড।   

পয়জনড ওয়েলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কালিনা জানান, ২০০০ সালে লা ননা অরার প্রদর্শনীর সময় প্রতিবাদ করা উচিত ছিল তার। তা করতে না পারায় নিজের ওপর বিরক্ত ছিলেন তিনি। 

কালিনা বলেন, ‘এখন আমি কাত্তিলানের ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছি। দুর্বল পরাজিত পোপের বিপরীতে আমি একজন শক্তিশালী পোপকে তুলে ধরেছি।’

১৯৭৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ছিলেন জন পল। 

সমালোচকদের মতে, পোপ থাকাকালীন শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো পাদ্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন পল। 

সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস

শেয়ার করুন