× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

পোপ পলের ভাস্কর্য নিয়ে সমালোচনা

পোপ-পলের-ভাস্কর্য-নিয়ে-সমালোচনা-
পয়জনড ওয়েল

প্রয়াত পোপ দ্বিতীয় সেন্ট জন পলের একটি ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার জন্মভূমি পোল্যান্ডে।

জন পলের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশটির রাজধানী ওয়ারসর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন হয়। এরপর থেকে এ নিয়ে চলছে সমালোচনা।

‘পয়জনড ওয়েল’ (বিষাক্ত কুয়া) নামের ভাস্কর্যটিতে দেখা যায়, লাল জলে একটি পাথরখণ্ড নিক্ষেপ করছেন পোপ।

ভাস্কর্যটির নির্মাতা পোল্যান্ডের ৭৬ বছর বয়সী নাগরিক ইয়ারজে কালিনা বলেন, ১৯৮০ সালে পোল্যান্ড থেকে সাম্যবাদ মুক্ত করতে সহায়তা করেছিলেন পোপ। ভাস্কর্যটির লাল জল সাম্যবাদের প্রতিনিধিত্ব করছে।

ক্যাথলিক খ্রিষ্টান কালিনা জানান, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বিরুদ্ধে এক ধরনের সতর্কবার্তা পয়জনড ওয়েল। একই সঙ্গে ‘ক্লিয়ার ওয়েলের’ (পরিশুদ্ধ কুয়া) প্রত্যাবর্তনকে উৎসাহিত করছে এই ভাস্কর্য।

পোল্যান্ডে ধর্মবিশ্বাসী কমে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে কালিনার পয়জনড ওয়েলে।

ভাস্কর্যটির সমালোচকরা বলছেন, ১৯৯৯ সালে নির্মিত ইতালির ভাস্কর মৌরিৎজিও কাত্তিলানের ‘লা ননা অরা’র পাল্টা জবাব পয়জনড ওয়েল।

পোপ পলের ভাস্কর্য নিয়ে সমালোচনা

লা ননা অরা

তারা মনে করছেন, ভাস্কর্যটি রক্ত ও সহিংসতা তুলে ধরেছে।

ওয়ারসর জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলেছে, কাত্তিলানের লা ননা অরার পাল্টা জবাব দিয়েছেন কালিনা।

কাত্তিলান তার ভাস্কর্যে দেখিয়েছিলেন, দুর্বল বৃদ্ধ পোপ জন পলকে ধরাশায়ী করেছে এক বিশাল উল্কাপিন্ড।

পয়জনড ওয়েলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কালিনা জানান, ২০০০ সালে লা ননা অরার প্রদর্শনীর সময় প্রতিবাদ করা উচিত ছিল তার। তা করতে না পারায় নিজের ওপর বিরক্ত ছিলেন তিনি।

কালিনা বলেন, ‘এখন আমি কাত্তিলানের ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছি। দুর্বল পরাজিত পোপের বিপরীতে আমি একজন শক্তিশালী পোপকে তুলে ধরেছি।’

১৯৭৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ছিলেন জন পল।

সমালোচকদের মতে, পোপ থাকাকালীন শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো পাদ্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন পল।

সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Another Bangladeshi Babar Ali won Everest after 11 years

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর ১১ বছর পর এভারেস্ট জয় করা বাংলাদেশি বাবর আলী। ছবি: ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স
বাবর আলীকে ট্যাগ করে ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার’ নামের সংগঠনের ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘অবশেষে!! পৃথিবীর শীর্ষ এভারেস্ট ছুঁয়েছি আমরা!!! ১১ বছর প্রতীক্ষার পর আজ তৃতীয় মেরুতে উড়েছে লাল-সবুজ!!’

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছেন চট্টগ্রামের বাবর আলী।

তার এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে ১১ বছর পর ফের এভারেস্ট বিজয় হলো বাংলাদেশের।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে আটটায় (বাংলাদেশের সময় পৌনে ৯টা) বাবর এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান বলে জানায় ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার’ নামের সংগঠন।

বাবর আলীকে ট্যাগ করে তাদের ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘অবশেষে!! পৃথিবীর শীর্ষ এভারেস্ট ছুঁয়েছি আমরা!!! ১১ বছর প্রতীক্ষার পর আজ তৃতীয় মেরুতে উড়েছে লাল-সবুজ!!

‘ঠিক শুনছেন। আমাদের স্বপ্নসারথি বাবর আলী আজ সকাল স্থানীয় সময় ০৮:৩০ (বাংলাদেশের সময় ০৮:৪৫ -এ) আকাশ ছুঁয়েছে।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং লাখো শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়ায় প্রকৃতিমাতা বাবরকে ক্ষণিকের জন্য স্থান দিয়েছেন নিজের চূড়ায়। খানিক আগে বেজ ক্যাম্প ম্যানেজার এবং আউটফিট মালিক আমাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।’

বাবর এখন ক্যাম্প-৪-এ নামার পথে আছেন উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, ‘ওই ডেথ জোনে যোগাযোগ সম্ভব নয়। তাই অভিযানের ছবি পেতে সময় লাগবে। আমরা ভীষণ আনন্দিত, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না আমাদের মূল লক্ষ্য কিন্তু শুধু এভারেস্ট নয়, লোৎসেও। তাই দোয়াতে থাকুক বাবর আলী।’

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

এদিকে ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাবর আলীর এভারেস্ট জয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, ‘পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম অভিযান পরিচালিত হয় আজ থেকে শতাধিক বছর আগে। ১৯২১ সালে মাউন্ট এভারেস্টে সাফল্য-ব্যর্থতার গল্পগাথার শুরু, তবে পৃথিবীর এই শীর্ষবিন্দুতে বাংলাদেশি পর্বতারোহীদের এভারেস্ট অভিযান হয়েছে আরও পরে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে।

‘২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে চার বছরে পাঁচজন বাংলাদেশি ছয়বার মাউন্ট এভারেস্ট সামিট করেন, কিন্তু এরপরই এভারেস্ট অভিযানে নেমে আসে খরা। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বাংলাদেশি সফল অভিযান হয়নি পৃথিবীর তৃতীয় মেরুতে। আজ ১১ বছরের সেই খরা কাটিয়ে সকাল নেপালের স্থানীয় সময় সাড়ে আটটায় মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন বাবর আলী। আজ ভোরে বেজ ক্যাম্প টিমের বরাতে আমাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান।’

বাবরের এভারেস্ট যাত্রা

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে বাবর আলী নেপালের উদ্দেশে রওনা হন গত ১ এপ্রিল। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে তিন দিন পরই (৪ এপ্রিল) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তিনি উড়ে যান পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক বিমানবন্দর লুকলাতে। সেই লুকলা থেকে পথচলা শুরু করে ১০ এপ্রিল বাবর পৌঁছে যান এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে।

এভারেস্ট অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো একাধিকবার উচ্চতায় ওঠানামা করে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া, কিন্তু কয়েক দিন অপেক্ষার পরও নেপালের দায়িত্বরত দল পথ তৈরি করতে পারেনি। তাই বাবর বিকল্প বেছে নেন। তিনি ১৬ এপ্রিল সামিট করেন ২০ হাজার ৭৫ ফুট উচ্চতার লবুচে ইস্ট পর্বত।

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

পরে আবারও বেজ ক্যাম্পে ফিরে পর্বতের নিচ অংশের পথ খুলে গেলে ২৬ এপ্রিল বেজ ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করে ক্যাম্প-২ পর্যন্ত ঘুরে এসে শেষ করেন উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার পর্ব। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শুভাকাঙ্ক্ষী আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশের কাছ থেকে পাওয়া গেল ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল থাকবে চূড়ার পরিবেশ কিছুটা শান্ত। এরপরই ১৪ এপ্রিল মাঝরাতে বেজ ক্যাম্প থেকে শুরু হয় বাবরের স্বপ্নের পথে যাত্রা। প্রথম দিনেই সরাসরি উঠে আসে ক্যাম্প-২-এ, যার উচ্চতা ২১ হাজার ৩০০ ফুট। পরিকল্পনা অনুসারে সেখানে দুই রাত কাটিয়ে বাবর ১৮ মে উঠে আসেন ২৪ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ এবং ১৯ মে আসেন ক্যাম্প-৪-এ।

‘২৬ হাজার ফুট উচ্চতার এ ক্যাম্পের ওপরের অংশকে বলা হয় ডেথ জোন। অবশেষে ১৮ মে মাঝ রাতে আবারও শুরু হয় বাবরের যাত্রা এবং ভোরের প্রথম কিরণে ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের পতাকা।’

বাবরের লক্ষ্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তবে অভিযান কিন্তু এখনও শেষ নয়! বাবরের আসল লক্ষ্য শুধু এভারেস্ট নয়, সাথে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। আজ ক্যাম্প-৪-এ নেমে মাঝরাতে আবারও শুরু করবেন দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রা এবং সব অনুকূলে থাকলে ভোরে পৌঁছে যাবেন এর চূড়ায়।

‘উল্লেখ্য যে, এই লোৎসেতে ইতোপূর্বে কোনো বাংলাদেশি সামিট করেননি এবং কোনো বাংলাদেশি একই অভিযানে দুইটি আট হাজারী শৃঙ্গ চড়েননি। তাই লক্ষ্য পূরণ হলে বাবর আলী করবেন এই বিপজ্জনক খেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’

নেপালের ‘স্নোয়ি হরাইজন’ নামক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে এই সামিটে বাবরের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পর্বতারোহণ গাইড বীর বাহাদুর তামাং।

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

বাবরের ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের পক্ষ থেকে প্রধান অভিযান সমন্বয়ক ফরহান জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবর আলীর এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের বিষয়। এটি আমাদের দেশের তরুণদের আরও বড় স্বপ্ন দেখার এবং সেগুলি পূরণ করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।

‘এই অভিযানের পেছনে ছিল অসংখ্য মানুষের অবদান এবং স্বপ্ন। আমরা তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

অধ্যাবসায়ের শুরু যখন থেকে

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কাগজে-কলমে বাবর আলীর এই অভিযান আজ থেকে দেড় মাস আগে শুরু হলেও তার কঠিন অধ্যাবসায় শুরু হয়েছিল ১০ বছর আগে। ২০১৪ সালে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স প্রতিষ্ঠার পর হতেই ক্লাব সতীর্থদের নিয়ে নেপাল এবং ভারতের বহু পর্বতে অভিযান করেছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সামিট করেছেন নেপালের আমা দাবলাম পর্বত। পর্বতারোহণ তার নেশা হলেও সাইক্লিং, ম্যারাথন, স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার অ্যাকটিভিটিতেও নিয়মিত জড়িত ছিলেন। অ্যাডভেঞ্চারের তাড়নায় হেঁটে ঘুরেছেন দেশের ৬৪ জেলা, সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর পথ।

‘বান্দরবান থেকে হিমালয়, সুন্দরবন থেকে দক্ষিণ ভারত, যে জনপদেই তিনি গেছেন, সাক্ষী হয়েছেন অভূতপূর্ব কিছু মুহূর্তের। প্রকৃতির প্রতি তার এই ভালোবাসা এবং বিস্ময় প্রতিনিয়তই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরেই অবশেষে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া থেকে পৃথিবী দেখার স্বপ্নও সার্থক করেছেন এই তরুণ পর্বতারোহী।’

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

কে এই বাবর আলী

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স জানায়, নানাবিধ দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডের কারণে মূলত পরিচিতি হলেও বাবর পেশায় মূলত চিকিৎসক। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বুড়িশ্চর এলাকার লেয়াকত আলী এবং লুৎফুন্নাহার বেগমের দ্বিতীয় সন্তান বাবর।

তিনি চট্টগ্রামের ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে (চমেক) ভর্তি হন। চমেকের ৫১তম ব্যাচের এ ছাত্র কিছুদিন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করলেও আগের অভিযানের সময় ছুটি না মেলাতে ত্যাগ করেন চাকরির মোহ।

১১ বছর পর এভারেস্ট জয় আরেক বাংলাদেশি বাবর আলীর
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া

অভিযানে খরচ কত

ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের ভাষ্য, বাবর আলীর এভারেস্ট অভিযানের মোট খরচ ৪৫ লাখ টাকা, যাতে মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে ভিজ্যুয়াল নীটওয়্যার লিমিটেড। এ ছাড়া সহপৃষ্ঠপোষক ছিল এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ঢাকা ডাইভার্স ক্লাব, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ব্লু জে, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনী, গিরি, ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।

অভিযানের জন্য গণতহবিল সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন দেশে-বিদেশে নানা সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন এবং অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী। অভিযানের সার্বিক সমন্বয় করেছে বাবর আলীর নিজের ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।

আরও পড়ুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসবেন তাই সরলো বাবরের সেই গাড়ি
শোয়েব লঙ্কার জন্য পেইসারদের টিপস দিয়েছেন: বাবর
অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয়
মায়ের বানানো বিশেষ পতাকা নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায়
আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League worker injured in Natore

নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

নাটোরে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম মাহফুজ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে মো. বাবু ও মেহেদীসহ ১০ থেকে ১৫ জন আমার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবু চাপাতি দিয়ে কোপানো শুরু করে। পরে আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়।’

নাটোরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের চন্দ্রকলা এস. আই উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত মাহফুজ হোসেন সদর উপজেলার দোলেরভাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের সমর্থক।

সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চন্দ্রকলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ মাঠ থেকে খেলাধুলা করে বাড়ি ফেরার পথে মাহফুজের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ সময় মাহফুজের পায়ের বিভিন্ন অংশে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ফেলে চলে যায় তারা।

পরে স্থানীয়রা মাহফুজকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ওসি জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজানের সমর্থক মো. বাবুকে মারধরের মামলার আসামি ছিলেন মাহফুজ। ওই ঘটনার জেরেই মাহফুজের ওপরে হামলা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

আহত মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে মো. বাবু ও মেহেদীসহ ১০ থেকে ১৫ জন আমার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবু চাপাতি দিয়ে কোপানো শুরু করে। পরে আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়।’

আহত মাহফুজের পরিবার এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে হামলাকারীদের শনাক্তসহ আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে জানান ওসি মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে হলছাড়া, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
ইবি ছাত্রলীগের এক সহসভাপতি পদের দাবিদার দুই সিরাজ
ছাত্রলীগের সহসভাপতির নামে গরু ছিনতাইয়ের মামলা
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
আট বছর পর ইবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The child was stuck in the school toilet for 6 hours

স্কুলের টয়লেটে ৬ ঘণ্টা আটকে ছিল শিশু

স্কুলের টয়লেটে ৬ ঘণ্টা আটকে ছিল শিশু প্রতীকী ছবি
পরীক্ষা শেষে বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর রাফিন টয়লেটে যাওয়ার পর স্কুলের দপ্তরি খোকন খান টয়লেট চেক না করেই বাইরে থেকে রশি দিয়ে আটকিয়ে দেন।

মাদারীপুরে একটি স্কুলের টয়লেটে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ছুটির পর সবাই বাড়ি চলে গেলেও টয়লেটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিশুটি। এ ঘটনার ৬ ঘণ্টা পর তাকে সেখান থেকে বের করা হয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর পাঁচখোলা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে। তবে এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে শনিবার।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম রাফিন। সে পাঁচখোলা এলাকার মৃত্যু নুরুল হকের ছেলে এবং ৯ নম্বর পাঁচখোলা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও স্কুলে গিয়েছিল রাফিন। তখন তাদের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা শেষে বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর রাফিন টয়লেটে যাওয়ার পর স্কুলের দপ্তরি খোকন খান টয়লেট চেক না করেই বাইরে থেকে রশি দিয়ে আটকিয়ে দেন। পরে শিশুটি দরজাটি খোলার জন্য ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পায়নি। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে বারবার দরজা খুলতে চিৎকার করতে থাকে সে। প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর সে এক পর্যায়ে টয়লেটের দরজা খুলতে সক্ষম হয়।

এদিকে ছুটির পর রাফিন বাড়িতে না ফেরায় তার বাড়ির লোকজন বিভিন্ন ছাত্র ও আত্মীয়ের বাড়িতে খুঁজতে থাকে। অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৬টার পর বিদ্যালয়ের তিনতলা থেকে এক মুদি দোকানীকে বিদ্যালয়ের গেট খোলার জন্য ডাকাডাকি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়ে রাফিন। এরপর কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী এ ঘটনাকে ১৯৮০ সালের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র সঙ্গে তুলনা করে বলে, ‘৬ ঘণ্টা পর স্কুলের বাথরুম থেকে জীবিত ফিরে এলেও আর কিছু সময় হলেই ছুটির ঘণ্টা বেজে যেত শিশুটির।’

ওই মুদি দোকানদার বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাথরুমের আটকা পড়ার পরে কোনোমতে দরজা খুলেই তিনতালার বেলকনি থেকে আমাদের ডাক দেয় রাফিন। পরে আমরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, ‘ওইদিন আমি একটি মিটিংয়ে ছিলাম। বের হবার আগপর্যন্ত এমন কিছু আমার নজরে পড়েনি। আমি পরে জানতে পেরেছি। বিষয়টির সঙ্গে কে জড়িত রয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা হবে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনহত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Daily demand of eggs in Sylhet is 29 lakhs production is only 4 lakhs

সিলেটে ডিমের প্রাত্যহিক চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ

সিলেটে ডিমের প্রাত্যহিক চাহিদা ২৯ লাখ, উৎপাদন মাত্র ৪ লাখ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াপসা আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ভিসি প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা। ছবি: নিউজবাংলা
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণিজ আমিষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হ্যাচারি নেই বললেই চলে।

সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ২৫ লাখ ডিমের ঘাটতি রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রতিদিন হাঁস ও মুরগির ডিমের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ। চাহিদার বিপরীতে সিলেটে মাত্র ৪ লাখ ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে অন্তত ২৫ লাখ ডিম বাইরে থেকে এনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

শনিবার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াপসা বিবি) বিভাগীয় কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি। এতে অন্য কোনো এলার্জেন্স নেই। দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ প্রাণিজ আমিষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হলো পোল্ট্রি শিল্প। অথচ সিলেট অঞ্চলে লেয়ার খামার ও পোল্ট্রি হ্যাচারি নেই বললেই চলে।

তারা বলেন, সিলেট অঞ্চলে কর্মক্ষম যুব সমাজকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের পোল্ট্রি শিল্পে নিয়োজিত করতে পারলে এ অঞ্চলে মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পোল্ট্রি শিল্পেও কৃষির মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিলের পরিবর্তে আবাসিক বিল প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের সুবিধা বাড়াতে হবে।

সিলেট কৃষি বিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা।

অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা লাকীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় চিফি এপিডেমিউলজিস্ট ডা. আছির উদ্দিন, ওয়াস্টার পোল্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়াপসা বিবির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুব-ই-ইলাহী, অধ্যাপক ড. এম রাশেদ হাসনাত।

কর্মশালায় জানানো হয়, সিলেট জেলায় সোনালী জাতের মুরগির চাহিদা রয়েছে এক লাখ। অথচ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ হচ্ছে ১০ হাজারের মতো। কর্মশালায় বায়ু নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রান্তিক চাষী পর্যায় থেকে বাজার পর্যন্ত ডিমের দামের বৈষম্য কমানোর তাগিদ দেয়া হয়।

সিলেটে হাওরাঞ্চলে হাঁস পালনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে ব্যক্তি পর্যায়ে কাজে লাগানো যায় বলেও সুপারিশ করেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
আলুর হিমাগারে ছিল ২১ লাখ ডিম, ২৪ হাজার কেজি মিষ্টি
এক লাফে হোল্ডিং ট্যাক্স কয়েক শ গুণ বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ সিলেট নগরবাসী
উজানের ঢল আর বৃষ্টিতে গ্রীষ্মেই সিলেটে বন্যার পদধ্বনি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Half of the electrical products in the market are counterfeit and unauthorized
এমডব্লিউবির গবেষণা

বাজারের ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের অর্ধেকই নকল ও অনুমোদনহীন

বাজারের ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের অর্ধেকই নকল ও অনুমোদনহীন ঢাবির মার্কেটিং বিভাগে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে এমডব্লিউবি। ছবি: নিউজবাংলা
গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে। যেহেতু দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি, তাই আগামী দিনগুলোতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে আরও বেশি আধিপত্য বিস্তার করবে বলে আশা এমডব্লিউবির।

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক্যাল ও লাইটিং পণ্যের সম্মিলিত বাজারের আকার ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এসব পণ্যের বাজার গত দুই দশক ধরে অব্যাহতভাবে বেড়ে চললেও এর অর্ধেক স্থান দখল করে আছে নন-ব্র্যান্ডেড অর্থাৎ নিম্নমানের নকল ও অনুমোদনবিহীন পণ্য।

ইলেকট্রিক্যাল ও লাইটিং পণ্যের ওপর মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের (এমডব্লিউবি) করা একটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমডব্লিউবির করা গবেষণার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডব্লিউবির সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান ও আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল ও দিকনিদেশর্না তুলে ধরেন।

এ সময় মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম ও আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাজিয়া বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এমডব্লিউবির পক্ষ থেকে জানানো জানানো হয়, এই গবেষণায় গুণগত (কোয়ালিটেটিভ) ও পরিমাণগত (কেয়ান্টিটেটিভ)- দুই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই গবেষণার জন্য সারা দেশের ২ হাজার ১৬ জন ব্যবহারকারী, ১০৩ জন খুচরা বিক্রেতা ও ৯৯ জন ইলেক্ট্রিশিয়ানকে নমুনা হিসেবে বেছে নেয়া হয়। এছাড়া ৫ জন বৈদ্যুতিক পণ্য বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই গবেষণার আওতাধীন পণ্যগুলো ছিল- সুইচ, সকেট, হোল্ডার, মাল্টি-প্লাগ, সার্কিট ব্রেকার, মিটার ও বিভিন্ন হালকা পণ্য যেমন: এলইডি লাক্স, এলইডি টিউব, এলইডি প্যানেল, ব্র্যাকেট এলইডি, জিএলএস, অ্যানার্জি এফিশিয়েন্সি বাল্ব ও ইমার্জেন্সি লাইটিং।

প্রতিবেদন অনুসারে, এটি একটি বড় ও অপার সম্ভাবনাময় শিল্প। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার খুচরা বিক্রেতা এবং ২ হাজার ৫০০ উদ্যোক্তাসহ মোট ৫ লাখেরও বেশি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। দুই ক্যাটাগরির পণ্যের সম্মিলিত বাজারের আকার সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্যের বাজার তিন হাজার ৩৭৫ কোটি এবং লাইটিং পণ্যের বাজার ২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

গবেষণা বলছে, পণ্যের গড় প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ। যদি আগামী দিনগুলোতে এই প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই খাতটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বড় খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, এই বাজারের প্রায় অর্ধেকই নন-ব্র্যান্ডেড অর্থাৎ নিম্নমানের নকল ও অনুমোদনবিহীন পণ্য দখল করে আছে। তবে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে ব্যাপকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে।

যেহেতু দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি, তাই আগামী দিনগুলোতে দেশীয় কোম্পানিগুলো বাজারে আরও বেশি আধিপত্য বিস্তার করবে বলে আশা এমডব্লিউবির। আর এজন্য তারা গ্রে-মার্কেটের কার্যক্রম হ্রাসে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানায়।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুপারস্টার গ্রুপ উভয় প্রকার পণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে আছে।

গবেষণার তথ্যানুসারে, ইলেক্ট্রিক্যাল ব্র্যান্ডেড পণ্যের মার্কেট শেয়ারে সুপারস্টার ২৯ শতাংশ, ওয়ালটন ১৭ শতাংশ, ক্লিক ১৭ শতাংশ, এনার্জি প্যাক ৯ শতাংশ, ওসাকা ৪ শতাংশ এবং ব্লিঙ্ক, এমইপি ও লাক্সারি প্রত্যেকে ৩ শতাংশ করে বাজার দখল করে আছে। অন্যদিকে, ব্রান্ডেড লাইটিং পণ্যের মার্কেট শেয়ারে সুপারস্টার ২৫.৫৯ শতাংশ, ক্লিক ১৩ শতাংশ, ওয়ালটন ১২ শতাংশ, ট্রান্সটেক ১০ শতাংশ, এনার্জি প্যাক ৮ শতাংশ ও ফিলিপস ৭ শতাংশ বাজার দখল করে আছে।

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাকসেসরিজ ও লাইটিং পণ্যে গুরুতর কী কী সমস্যা দেখা যায় সেসবও জানতে চাওয়া হয় গবেষণায় অংশ নেয়াদের কাছ থেকে।

সেই তথ্যানুসারে, ২৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছে, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাকসেসরিজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা লুজ কানেকশন। দ্বিতীয় প্রধান সমস্যা হলো ইলেক্ট্রিক্যাল শর্ট সার্কিট। ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

বাকি সমসস্যগুলো হলো- ওয়ারেন্টি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই পণ্য ড্যামেজ হয়ে যাওয়া, ওভারহিটিং ইত্যাদি।

অন্যদিকে, লাইটিং পণ্যের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাইটের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, লাইটের ক্ষণস্থায়ী জীবন, মিটমিট করা, অধিক বিদ্যুৎ গ্রহণ করা ও ওভারহিটিং।

এমডব্লিউবি বলছে, এই শিল্পের অগ্রগতির পেছনে মূলত গত ২৫ বছরে ব্যাপক বিদ্যুতায়ন, অব্যাহত জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান আয়, দ্রুত ও পরিকল্পিত নগরায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সরকারের গৃহীত সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

এই শিল্পের কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটিও তুলে ধরা হয়েছে গবেষণার ফল উপস্থাপনে। গ্রে-মার্কেটের আধিপত্য, অসম প্রতিযোগিতা, ব্যবহারকারীদের ব্র্যান্ডের পণ্য নিয়ে সচেতনতার অভাবসহ আরও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।

দুর্দান্ত সম্ভাবনাময় এই শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য সুপারিশ হিসেবে এমডব্লিউবির সহ-প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্রে-মার্কেটের কার্যক্রম হ্রাসে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, দেশীয় কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের বিদ্যমান ট্যাক্স পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন করতে হবে যাতে কোম্পানিগুলো কম ব্যয়ে পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে পারে।

পাশাপাশি এ সমস্ত শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ গড়ে তোলার জন্য সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং জনগণের মধ্যে নিরাপদ ও মানসম্মত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক মিজান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I will fight anti national forces with my life Nashim

জীবন দিয়ে দেশবিরোধী অপশক্তি মোকাবেলা করব: নাছিম

জীবন দিয়ে দেশবিরোধী অপশক্তি মোকাবেলা করব: নাছিম আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ছবি: নিউজবাংলা
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি বলেন, ‘বিদেশি প্রভুদের কাছে যারা নালিশ করে এবং ধরনা দিয়ে গণতন্ত্র নষ্ট করে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে।’

দেশবিরোধী অপশক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি, স্বৈরাচারী শক্তি, বিরাজনীতিকরণের শক্তিকে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শনিবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

নাছিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে চাই। বিদেশি প্রভুদের কাছে যারা নালিশ করে এবং ধরনা দিয়ে গণতন্ত্র নষ্ট করে ক্ষমতায় যেতে চায় তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে।’

শোভাযাত্রাটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

আনন্দ শোভাযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিট থেকে আগত নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-৮ আসনে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় বাহাউদ্দিন নাছিমের
স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এখনও ষড়যন্ত্র করছে: বাহাউদ্দিন নাছিম
ইফতারের নামে দামি হোটেলে বসে ষড়যন্ত্র করে বিএনপি: বাহাউদ্দিন নাছিম
সাশ্রয়ী হতে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী
বিএনপি-জামায়াত শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়: নাছিম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two people including a child died after taking a bath in Mahananda

মহানন্দায় গোসলে নেমে শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু

মহানন্দায় গোসলে নেমে শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু প্রতীকী ছবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও ভোলাহাট উপজেলায় মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে যান কলেজছাত্র রায়হান আলী শুভ ও ১২ বছরের সোনিয়া। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও ভোলাহাট উপজেলায় মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- সদর উপজেলার স্বরূপনগরের মো. জিকেনের ছেলে ও শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রায়হান আলী শুভ ও ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের পীরগাছি গ্রামের জহর আলীর মেয়ে সোনিয়া। দুজনের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, ‘মহানন্দা সেতুর রাবার ড্যাম এলাকায় তিন-চার বন্ধু মিলে নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে যায় শুভ। পরে অন্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ভোলাহাট থানার ওসি সুমন কুমার জানান, উপজেলার বজরাটেক এলাকায় নানা জমরুদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসে দুপুরে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমেছিল সোনিয়া। এরপর তাকে খুঁজে না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদী থেকে সোনিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
কুড়িগ্রামে পুকুরের পানিতে খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

মন্তব্য

p
উপরে