বুস্টার শট নিলে চীনা টিকাগ্রহীতাদেরও ঢুকতে দেবে সৌদি

বুস্টার শট নিলে চীনা টিকাগ্রহীতাদেরও ঢুকতে দেবে সৌদি

সৌদি আরবের জেদ্দায় প্রবেশ করছেন এক বিদেশি পর্যটক। ছবি: সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়

ট্যুরিস্ট ই-ভিসা পাওয়ার জন্য ভিজিটসৌদি ডটকম পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন ৪৯টি দেশের নাগরিকরা। এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ।

চীনের দুই প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাগ্রহীতারাও সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এ জন্য তাদের বুস্টার শট নেয়া থাকতে হবে।

রিয়াদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুস্টার শটটি নিতে হবে সৌদি আরবে অনুমোদিত টিকাগুলোর যেকোনো একটি থেকে।

সৌদি আরবের ই-ভিসা পোর্টালে বলা হয়, ‘সিনোফার্ম বা সিনোভ্যাকের করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নেয়া অতিথিদেরও স্বাগত জানাবে রিয়াদ। তবে তারা সৌদি আরবে অনুমোদিত চারটি টিকার যেকোনো একটি থেকে অতিরিক্ত আরেক ডোজ বা তৃতীয় ডোজ নিলে এ দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।’

সৌদি আরবে যে চারটি প্রতিষ্ঠানের টিকা অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসন আর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য ১ আগস্ট থেকে সীমান্ত খুলে দেয় সৌদি আরব। টিকা নেয়া থাকলে সৌদিতে এখন থেকে ভ্রমণ হবে কোয়ারেন্টিনবিহীন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকরা নিজ দেশে প্রশাসনের অনুমোদিত টিকা সনদ দেখিয়ে সৌদিতে ঢুকতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে শেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ ফলও দেখাতে হবে তাদের।

রিয়াদের নতুন ইলেকট্রনিক পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে ডোজসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে পর্যটকদের। ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপেও এসব তথ্যের রেকর্ড রাখা হবে। যেকোনো জায়গা দর্শন বা ভ্রমণের আগে অ্যাপটিতে নিজেদের তথ্য দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন তারা।

ট্যুরিস্ট ই-ভিসা পাওয়ার জন্য ভিজিটসৌদি ডটকম পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ওশানিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ৪৯টি দেশের নাগরিকরা।

এ তালিকায় নেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ।

রিয়াদ জানিয়েছে, আগে ইস্যু করা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে আসা পর্যটকদের সৌদি বিমানবন্দরে পৌঁছে অতিরিক্ত ১০ ডলার জমা দিতে হবে। করোনাসংশ্লিষ্ট চিকিৎসা খরচ বহনে বিমা হিসেবে নেয়া হবে এ অর্থ।

দেড় বছরের বেশি সময়ে মহামারিতে সৌদি আরবে আট হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। ছোঁয়াচে রোগটি শনাক্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেহে।

দেশটির ৫৮৭টি টিকাকেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন কোটি ডোজ দেয়া হয়েছে।

বিদেশি পর্যটকদের জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম নিজেদের দরজা খুলে দেয় সৌদি আরব। এরপর প্রথম ছয় মাসে দেশটি প্রায় চার লাখ মানুষকে ভিসা দেয়।

এরপরই মহামারির কারণে ভ্রমণ নিষিদ্ধের পাশাপাশি সব সীমান্ত আর বন্দর বন্ধ করে দেয় রিয়াদ।

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস জানায়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ড।

সোমবার থেকে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন নেয়া শুরু করছে বাংলাদেশে দেশটির দূতাবাস। রোববার ঢাকার থাই দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে গত ১০ মে থেকে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল থাইল্যান্ড।

রোববার বিজ্ঞপ্তিতে থাই দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন চালু করার ঘোষণা করছে রয়েল থাই দূতাবাস। সোমবার থেকে দূতাবাস সব ভিসা এবং সিওই আবেদন নেয়া শুরু করবে।

এতে আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে যায় পর্যটনের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও অনেকে দেশটিতে যান।

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফের সারবাংয়ে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক পর্যটন নগরী। এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

কক্সবাজার সৈকতের ঘোলা পানি নিয়ে আক্ষেপের দিন শেষ হতে চলেছে। সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক।

পর্যটন পার্কটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বলছে, এটি চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আমূল বদলে যাবে।

বেজা জানিয়েছে, পর্যটনের জন্য বিশেষ এ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ শেষ, এখন চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ। সেটি শেষ হলেই স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এই পর্যটন পার্কের পরিকল্পনা করা হয় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর। শুরুতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে এলাকাটি উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পায় বেজা।

২০১৪ সালে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে ৯৬৭ একর জমিতে এ পর্যটন পার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা। তবে এতে দেশি পর্যটকরাও যেতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বে নির্মাণ হচ্ছে এই পার্ক।

দেশে বিদেশি পর্যটকের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সরকারি হিসেবে প্রতি বছর দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ বিদেশি নাগরিকের আনাগোনা থাকে। এর মধ্যে পর্যটক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ীরাও। সরকার আশা করছে, সাবরাং পর্যটন পার্ক যাত্রা শুরু করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।

বলা হচ্ছে, এই পার্কে প্রতিদিন পায় ৩৯ হাজার পর্যটক পর্যটন সেবা নিতে পারবেন।

নির্মিতব্য এই বিশেষ পর্যটন এলাকাটির অবস্থান কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার আর টেকনাফ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের সাথে এলাকাটির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অবস্থান বঙ্গোপসাগরের। কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে সাবরাং যেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

এখন পর্যন্ত এই সাবরাং পর্যটন পার্কে বিনিয়োগ এসেছে ২৪ কোটি ডলারেরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক এক পর্যটন নগরী।

এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন মাঝ পর্যায়ের কাজগুলো চলছে। প্লট তো দেয়া হয়ে গেছে। ক্যানেলের কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে একটি প্রশাসনিক ভবন করছিলাম সেটার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

‘মাটি ভরাটের টেন্ডার ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার, সেটার পর্যবেক্ষণ চলছে। মাটি ভরাট হলেই আসলে ডেভেলপার যারা প্লট নিয়েছে তারা কাজ শুরু করে দেবে।’

সাবরাং পর্যটন পার্কটি তৈরি হয়ে গেলে পুরো কক্সবাজারের পর্যটন খাত বদলে যাবে বলে মনে করছে বেজা। মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর কারণ হলো এটা সমুদ্রের কাছে। তারপর এটা আমরা পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করছি। এতে খোলা জায়গা থাকবে, ক্যানেল থাকবে, ভেতরে এমিউজমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। মানে একটা অত্যাধুনিক পরিকল্পনা করে আমরা সামনে এগুচ্ছি।

‘কক্সবাজারে যেটা হয়েছে, সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছে, করেছে। এখানে কিন্তু সেটা না। প্লট দেয়া হলেও একটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখেই ভবন করতে হবে। ভেতরে সবুজ বাতাবরণ থাকবে। পরিবেশটাই হবে অন্যরকম। যখন এটা চালু হবে, আমার মনে হয় পর্যটকরা অবশ্যই এখানে আসবে।’

সাবরাং থেকে মাত্র আধাঘণ্টায় যাওয়া যায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস। এর ফলে পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনেই সেখান থেকে ফিরে আসতে পারবেন। আর এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকা সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ বৈচিত্রও রক্ষা পাবে।

মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখান থেকে আবার সেন্ট মার্টিন দেখা যায়, খুব কাছেই। এ কারণে এটিই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এখানে আবার আমরা একটি ফটো কর্নার করেছি, ক্লক টাওয়ারের মতো।

‘এটা চালু হলে এই এলাকার অর্থনীতিই বদলে যাবে পাশাপাশি মানুষের রুচিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।’

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হলেও এটিতে যেতে পারবেন দেশি পর্যটকরাও। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা এক্সক্লুসিভলি বিদেশি পর্যটকদের জন্য হবে না। যদিও এখন আমরা যে পলিসি তৈরি করছি তাতে বিদেশি পর্যটকই আমাদের মূল টার্গেট। বৈদেশিক মুদ্রা মূল টার্গেট। কিন্তু এর মধ্যে দেশিরা যে আসতে পারবে না তা না।

‘এখানে যে হোটেল রিসোর্টগুলো হবে, সেগুলোতে একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। যেমন, যদি ধরা যায় রয়্যাল টিউলিপ হোটেল, এটাতে তো বিদেশি ও দেশি উভয় পর্যটকই থাকতে পারে। ঠিক এ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। ভেতরে যে কেউ যেতে পারবে, ঘুরতে পারবে। সুন্দর একটা গেট করছি, টেন্ডার হয়ে গেছে। যখন মূল কাজগুলো হয়ে যাবে, তখন বিনিয়োগকারীরা আসবে, কাজ করতে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই পর্যটনের বিকাশ হবে না, বরং মনোযোগ দিতে হবে ব্র্যান্ডিংয়ে।

পর্যটন বিষয়ক পত্রিকা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহেদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম একটি পার্ক বা পর্যটন অঞ্চল যদি করা যায়, এটি নিঃসন্দেহে খুব ভালো একটি উদ্যোগ। তবে যে কোনো ভাল উদ্যোগকে সমর্থনের জন্য ভাল নীতিও থাকতে হয়। আমাদের দেশের ট্যুরিজম পলিসিটাই তো এখনও ঠিক হয়নি। পর্যটনের জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যানও নেই।

‘এই যে একটা ভাল জিনিস আমরা করছি, এটাকে মার্কেটিং কীভাবে করব? কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের এখানে আসতে উদ্বুদ্ধ করব? আমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা দিতে পারব – এই বিষয়গুলোও একই সাথে ভাবতে হবে। দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের তো অনেক প্রডাক্ট রয়েছে, যেমন সুন্দরবন বা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত অথবা বুদ্ধিস্ট হ্যারিটেজ। কিন্তু এগুলো কি আমরা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে পারছি?’

তিনি বলেন, ‘শুধু কিছু অবকাঠামো তৈরি করেই যদি আত্মতুষ্টিতে ভুগি, তাহলে কিন্তু সুফল পাওয়া যাবে না। পর্যটকবান্ধব একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে, ব্র্যান্ডিং করতে হবে। সর্বোপরি পর্যটন খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

ধসে পড়লে সংস্কার?

ধসে পড়লে সংস্কার?

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার ক্যাসেল জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি: নিউজবাংলা

শহরের আদালত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল ভবন আলেকজান্ডার ক্যাসেল ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে মার্বেল পাথরের দুটি ভাস্কর্যের হাত।

বছরের পর বছর আশ্বস্ত করা হচ্ছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার ক্যাসেল বা লোহার কুঠি সংস্কার করা হবে। কার্যত ফলাফল শূন্য। ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীদের প্রশ্ন, ধসে পড়লেই কী এটি সংস্কার করবে কর্তৃপক্ষ?

শহরের আদালত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল এ ভবনটি ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে মার্বেল পাথরের দুটি ভাস্কর্যের হাত। বাকি অংশে ময়লা জমেছে।

দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ফটকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লিখে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। তবু ভবনটির ছাদের নিচে বসে কিংবা চারদিকে ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন অনেকে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮৭৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার শতবর্ষ উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয় তৎকালীন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের স্ত্রী আলেকজান্দ্রাকে। তার নামেই এর নামকরণ হয় ‘আলেকজান্ডার ক্যাসেল’।

এর নির্মাতা মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সুকান্ত সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের পারে প্রায় ২৭ একর জমির বাগানবাড়িতে সুরম্য অট্টালিকাটি নির্মাণ করেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

এটি তৈরিতে লোহার ব্যবহার বেশি হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘লোহার কুঠি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে এটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতল ভবনের ছাদে অভ্র ও চুমকি ব্যবহার করে প্রাসাদের ভেতর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বহু গুণীজন ময়মনসিংহ সফরকালে এখানে এসে থেকেছেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

১৯২৬ সালে সফরে এসে ভবনটিতে থেকেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একই বছর আসেন মহাত্মা গান্ধী। আরও এসেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা, লর্ড কার্জন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, ওয়াজেদ আলী খান পন্নীসহ অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব।

স্থানীয় শাহরিয়ার মেহেদী মোল্লা নামের একজন ব্যবসায়ী জানান, বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে কেউ ময়মনসিংহে এলে এই ভবনটি এক নজর হলেও দেখতে আসেন। তবে বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় দূরের দর্শনার্থী নেই বললেই চলে।

ধসে পড়লে সংস্কার?

নাদিম পারভেজ নামে এক ভবন ডিজাইনার বলেন, ‘ভবনটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে একবার ধসে পড়লে ময়মনসিংহের ইতিহাসের একটি সাক্ষী বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

স্থাপনাটির ছাদের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন ফিরোজ নামে এক যুবক। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি শহরের আকুয়া এলাকায় বসবাস করি। সপ্তাহে এক দিন হলেও বিকেলে এই ভবনটির সামনে কিছুক্ষণ বসে থাকি।

‘একদিকে নিরিবিলি পরিবেশ আর অন্যদিকে আকর্ষণীয় ঐতিহ্যবাহী ভবন। তবে ছাদের নিচে বসে মাঝেমধ্যেই অনেককে আড্ডা দিতে দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ লেখাটা কেউ মানতেই চান না। যদি কারও মাথায় ধসে পড়ে তাহলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।’

ধসে পড়লে সংস্কার?

ছায়ানট ময়মনসিংহের সভাপতি আপেল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ভবনটির বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে। কী কারণে এটি সংস্কার করা হচ্ছে না, আমাদের জানা নেই। তবে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে আমাদের খুব বেশি কিছু সরকারের কাছে চাওয়ার নেই। আমরা চাই আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক।’

এদিকে স্থাপনাটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। তারা এটিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা হিসেবে অভিহিত করেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

সামাজিক সংগঠন ময়মনসিংহ জন-উদ্যোগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির ফটকে ঝুঁকিপূর্ণ লিখে শুধু একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই ক্ষান্ত কর্তৃপক্ষ। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, অথচ এটির নিচে বসে মানুষ গল্প করে। অনেকে ভবনটির নিচে বসে থাকে। তখন ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে, এর দায় নেবে কে?’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের এই চিহ্ন ধরে রাখা প্রয়োজন। আর ভাস্কর্য যতটুকু এখনও টিকে আছে, ততটুকু রক্ষার জন্য প্রহরী দিয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা দরকার।

ধসে পড়লে সংস্কার?

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘আর কিছু দিন এই অবস্থায় থাকলে ভবনটির সম্পূর্ণ অংশই খসে পড়বে। ইতিমধ্যে মার্বেল পাথরে নির্মিত আকর্ষণীয় ভাস্কর্যগুলোর হাত ভেঙে গেছে।

‘ভবনটির চারপাশে ঝোপঝাড়। ইতিহাস টিকিয়ে রাখতে স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’

ধসে পড়লে সংস্কার?

এই বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ময়মনসিংহের কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলেকজান্ডার ক্যাসেলটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। করোনার কারণে স্থাপনাটিকে দর্শনীয় হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়নি। তবে আশা করছি, দ্রুত এর সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

ছুটির দিনে হাওরবিলাস

ছুটির দিনে হাওরবিলাস

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাকরিজীবী মানুষ, ছুটি পাই না। ফেসবুকে হাওরের ছবি, ভিডিও অনেক দেখেছি। আজকে শুক্রবার ছুটির দিন, তাই এলাম। জায়গাটা অনেক সুন্দর।’

হাওরে ভেসে চলেছে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের নৌকা। তাতে আছেন দেশের নানা প্রান্তের ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবার নিয়ে। নৌকাতেই চলছে খাওয়া-দাওয়া।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমায় পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার পর প্রতি সাপ্তাহিক ছুটিতেই দেখা যায় সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের এমন দৃশ্য।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় শুক্রবার সকাল থেকেই আসতে শুরু করেন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। তাদের লক্ষ্য নৌকায় করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা ফরহাদ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাকরিজীবী মানুষ, ছুটি পাই না। ফেসবুকে হাওরের ছবি, ভিডিও অনেক দেখেছি। আজকে শুক্রবার ছুটির দিন, তাই এলাম। জায়গাটা অনেক সুন্দর।’

কলেজশিক্ষার্থী রিফাত আফরোজ বলেন, ‘ভারতের পাহাড় ঘেঁষা এই জলাভূমি সত্যিই অসাধারণ।’

টাঙ্গুয়ার হাওর প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এর মাঝে আছে হিজল, করচের বন। গাছগুলোর বেশির ভাগটাই ডুবে আছে হাওরের পানিতে।

ছুটির দিনে হাওরবিলাস

তাহিরপুরের বাসিন্দা আবু জাহান তালুকদার বলেন, ‘ইকানো অন্য দিন অত পর্যটক আয় না কিন্তু শুক্রবার, শনিবার অতিরিক্ত পর্যটক আয়। এ সময় নৌকা ভাড়া বেড়ে যায়। অনেক সময় আগাম বুকিং না দিলে নৌকাই পাওয়া যায় না।’

সুনামগঞ্জ লেগুনা স্টেশনের ম্যানেজার শাকির হোসেন প্রদীপ জানান, শুক্রবারে তারা প্রতিটি লেগুনা ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় ভাড়া দেন। পৌঁছে দেন তাহিরপুর ঘাটে। ফেরার দিন ঘাট থেকেই আবার যাত্রীরা লেগুনায় ওঠেন।

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

বিশ্ব পর্যটন সংস্থায় নেতৃত্ব পেল বাংলাদেশ

বিশ্ব পর্যটন সংস্থায় নেতৃত্ব পেল বাংলাদেশ

বিশ্ব পর্যটন সংস্থা জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক বিশ্ব সংস্থা। ৬টি আঞ্চলিক সংগঠনের সমন্বয়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যার মধ্যে কমিশন ফর সাউথ এশিয়া অন্যতম।

দুই বছরের জন্য বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মহাসচিব জুরাব পোলোলিকাশভিলি এর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণে কমিশন ফর এশিয়া প্যাসিফিক ও কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার যৌথ ভার্চুয়াল সম্মেলন হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ ভাইস-চেয়ার নির্বাচিত হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ইরানও পরবর্তী দুই বছরের জন্য ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে। এর আগে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার ভাইস চেয়ার ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

বিশ্ব পর্যটন সংস্থা জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক বিশ্ব সংস্থা। ৬টি আঞ্চলিক সংগঠনের সমন্বয়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যার মধ্যে কমিশন ফর সাউথ এশিয়া অন্যতম।

দেশের এই নেতৃত্ব অর্জনের পর প্রতিক্রিয়ায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন সংস্থার কমিশন ফর সাউথ এশিয়ায় ভাইস চেয়ার পদে নির্বাচিত হওয়ায়, বাংলাদেশ এই অঞ্চলের পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের স্থানে আসীন হলো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের এই অর্জন পর্যটন উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অদম্য গতিতে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বসভার বিভিন্ন সংস্থায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কমিশন ফর সাউথ এশিয়ার ভাইস চেয়ার নির্বাচিত হল বাংলাদেশ।’

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন

সৈয়দপুর-কক্সবাজার বিমান চলাচল অক্টোবরে

সৈয়দপুর-কক্সবাজার বিমান চলাচল অক্টোবরে

বিমান কর্মকর্তা জিয়া উদ্দীন জানান, অক্টোবরে সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমান চলাচল শুরু হলে স্থানীয়ভাবে থাকবে বাস সার্ভিস। এর আওতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুরের যাত্রীদের বিনা মূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) মাইক্রোবাসে সেবা দেয়া হবে।

দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সামনের মাসেই সৈয়দপুর-কক্সবাজার আকাশ পথে চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস।

নীলফামারী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) জিয়া উদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, ফ্লাইট চালু হলে রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ সরাসরি পর্যটন শহর কক্সবাজারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সপ্তাহে তিন দিন এই রুটে সেবা দেবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা। যাত্রীর চাপ থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে।

এর আগে ডিসি অফিস চত্বরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুর শহরে বিমান যাত্রীদের আনা নেয়ার জন্য এসি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন জিয়া উদ্দীন।

বিমান কর্মকর্তা জিয়া জানান, অক্টোবরে সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমান চলাচল শুরু হলে স্থানীয়ভাবে থাকবে বাস সার্ভিস। এর আওতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুরের যাত্রীদের বিনা মূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) মাইক্রোবাসে সেবা দেয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে নীলফামারী-পঞ্চগড়েও এ বাস চলাচল করবে বলে জানান যুগ্ম সচিব জিয়া উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর ডিসি হাফিজুর রহমান চৌধুরী।

উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের জিএম মেজর তাগির, স্থায়ীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মুরাদ হাসান বেগ, বিমানের নীলফামারী জেলা ম্যানেজার হারুন আর রশীদ, জেলা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ সরকার ও এস এম সফিকুল আলম ডাবলু, চেম্বারের পরিচালক ফরহানুল হক।

আরও পড়ুন:
টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি
হজ শেষে বিশাল পর্যটন পরিকল্পনা সৌদি আরবের

শেয়ার করুন