× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

google_news print-icon

যে কারণে সাইবার হেনস্তার শিকার নারী

যে-কারণে-সাইবার-হেনস্তার-শিকার-নারী
মন্তব্যের বেশিরভাগই এক ধরনের আধিপত্যবাদী ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই আধিপত্য লৈঙ্গিক, যেখানে ধরে নেয়া হয় নারী মাত্রেই পুরুষের তুলনায় নিম্নবর্গের। ফলে অধিপতি পুরুষের অধিকার বা হক হলো নারীকে হেয় করা।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে দিয়ে শুরু করছি। আইইডিসিআরের এ পরিচালক করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জনসমক্ষে এসে অনলাইনে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ফেসবুকে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও ট্রল করা হয়েছে অগুণতি। তার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য শাড়ির সংখ্যা গোনা থেকে শুরু করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে নানারকম গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

আরেকজন চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরী করোনা নিয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির দায়ে ধরা পড়েন। সাবরিনার অপরাধের চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছিল তার সাজপোশাক, ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে, মডেলিংয়ে আগ্রহ ইত্যাদি।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শিশুকন্যাও এই সাইবার হেনস্তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। সূর্যমুখী ফুলের বাগানে ফুলের মতো ফুটফুটে একটি মেয়েকে নিয়ে নানা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ছুঁড়তে দ্বিধা করেনি সাইবার অপরাধীরা। রেহাই পায়নি তার স্ত্রীও, যখন তিনি জানিয়েছিলেন যে কন্যার ছবিতে এসব নোংরা মন্তব্যে ভাবিত নন তারা।

কক্সবাজারে দুর্ভাগ্যজনক হত্যার শিকার হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। কিন্তু ঘটনা মোড় নিল অন্যখাতে। শুরু হলো তার সহকর্মী শিপ্রার জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক পোস্টমর্টেম। হত্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেল তার ব্যক্তিগত অভ্যাস। ফেসবুক ঘেঁটে বের করা হলো কবেকার সিগারেট বা এলকোহল পানের ছবি ইত্যাদি।

হালের মিডিয়া ক্রেজ মিথিলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন কলকাতার চলচ্চিত্রকার সৃজিত মুখার্জীর সঙ্গে। আর যায় কোথা! তাদের পিছু লাগলেন অসংখ্য অনলাইন ব্যবহারকারী। মিথিলা যাই করেন তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন তারা।

দেখা যাচ্ছে, ঘটনা যাই হোক না কেন তাতে কোনো নারী জড়িত থাকা মানেই তা রগরগে হতে বাধ্য। নারীর সামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিবেচিত হয়েছেন তাদের লৈঙ্গিক পরিচয় দিয়ে।

সাইবার অপরাধ সচেতনতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাইবার ক্রাইম এওয়ারনেস ফাউন্ডেশনে’র জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৬৮ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হয় নারী। বিশেষ করে কিশোরীরা এই নির্যাতনের সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার কারা করেন? কেন করেন?

পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মন্তব্যের বেশিরভাগই এক ধরনের আধিপত্যবাদী ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই আধিপত্য লৈঙ্গিক, যেখানে ধরে নেয়া হয় নারী মাত্রেই পুরুষের তুলনায় নিন্মবর্গের। ফলে অধিপতি পুরুষের অধিকার বা হক হলো নারীকে হেয় করা।

এক্ষেত্রে নারীর জন্য ‘মানানসই’ একটি জীবনধারণকে ‘মান’ হিসাবে মাথায় রেখে সেই মানের আলোকে ‘সঠিক’ পথ বাতলে দেয়াকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে অধিপতি পুরুষ। ফলে নির্দেশনা দেয়া হয়ে দাঁড়ায় অধিপতি পুরুষের অভীষ্ট লক্ষ্য।

কেবল পুরুষই নয় পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য প্রশ্নহীনভাবে মেনে নেয়া যে কোনো ব্যক্তিই এমন কাজ করেন। এটা এক ধরনের অনলাইন সামাজিক পুলিশি কর্মকাণ্ড যা লৈঙ্গিক শ্রেণিবাদকে বাস্তব জীবন থেকে অনলাইনে প্রতিস্থাপন করেছে।

এই আধিপত্যবাদী চিন্তায় মানুষের লৈঙ্গিক পরিচয়ই মুখ্য, এমনকি একজন শিশুরও। অনলাইনে কোনো ব্যক্তিকে জানার সুযোগ বাস্তবের চেয়ে কম, সেহেতু নারীর লৈঙ্গিক পরিচয়ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এই সামান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একজন অচেনা-অজানা নারীকে তার ব্যক্তি জীবন পরিচালনা করার ব্যাবস্থাপত্র (কী করতে পারবে বা পারবে না) দিতে থাকেন আধিপত্যবাদীরা।

যারা এই ব্যবস্থাপত্রের বাইরে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে চান, তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে অনলাইনের পরিবেশ সাফসুতরো রাখাই থাকে অধিকাংশ অনলাইন পুলিশি তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য। যার ফলে ছড়িয়ে পড়ে নারীর প্রতি ঘৃণা।

নারীর বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং শুধু যে আধিপত্যের ধারণা থেকেই আসে এমন নয়। যেহেতু অনলাইন এক ধরনের সামাজিক সমাগমস্থলে পরিণত হয়েছে সেহেতু আমরা আমাদের স্বর ছড়িয়ে দিতে চাই। এই স্বর তৈরি করতে চাওয়া এক ধরনের অস্তিত্ববাদী আকাঙ্ক্ষা।

ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রাম – মাধ্যম যাই হোক না কেন, এগুলো একজন ব্যক্তির জন্য ভার্চুয়াল স্পেস তৈরি করে। এই স্পেসের মাধ্যমে ব্যক্তি তার চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা প্রভৃতি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। ফলে আশেপাশের সবাই যখন ভার্চুয়ালি নিজেকে তুলে ধরতে থাকে, তখন স্বভাবতই ব্যক্তি এতে এক ধরনের চাপ বোধ করেন। অংশগ্রহণ করতে না পারলে বিচ্ছিন্নতাবোধ করেন এবং এ থেকে নিজের স্বতন্ত্র সত্তা তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ হন।

এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তি এক ধরনের সামজিক স্তরায়নে যুক্ত হয়। ব্যক্তি মনে করতে থাকে আমিও তো কিছু না কিছু করছি, আমি কেন এই সামজিকতায় অংশগ্রহণ করব না? আমারও তো প্রতিভা আছে। এই স্তরায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তি আকর্ষণীয় অথবা আক্রমণাত্মক এই দুই ধরণের কৌশল অবলম্বন করে।

ব্যক্তি ক্রমাগত এটা করতে থাকে ‘নিজ’কে নির্মাণের তাগিদ থেকে। অনেক সময় অনলাইনে ব্যক্তি এমন এক ধরনের ‘নিজ’ তৈরি করে, যে ‘নিজ’ অফলাইন ব্যক্তির সাথে সাংঘর্ষিকও হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাপারটি অনেকটা ডক্টর জেকিল ও মিস্টার হাইডের কাহিনির বাস্তবতার মতো। অর্থাৎ ব্যক্তিচরিত্র প্রেক্ষিতভেদে একেবারে বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যকেও ধারণ করতে সক্ষম। যা মোটাদাগে ভালো-মন্দ বনাম অনলাইন-অফলাইন এ রকম বৈপরীত্যকে হাজির করে।

বেশিরভাগ সময় অনলাইন বাস্তবতা আমাদের মধ্যে এক ধরনের মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশের চাপ তৈরি করে। সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়। অনলাইনে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হওয়ায় ব্যক্তি নিজের ভিতরের অস্থিরতা কমাতেও সেখানে প্রশান্তি খোঁজে।

অনলাইন কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তির কারও কাছে জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে অনলাইন আচরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির দায়দায়িত্ব নেই বললেই চলে। মানুষ এমন কিছু হয়তো করে বা বলে যা অফলাইনে চট করে করতে বা বলতে চাইবে না। কারণ ব্যক্তির মাথায় থাকে যে একটি পোস্ট দিয়ে বা কমেন্ট করে সেটি মুছে ফেলা যায়। এভাবে ব্যক্তিগত অস্থিরতা কমাতে গিয়ে মানুষ এমন অনলাইন ব্যবহারকারীকেও আঘাত করে, যার সঙ্গে তার পরিচয় নেই।

অনলাইনে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি একটি জনপ্রিয় প্রবণতা হলো নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণা উগড়ে দেয়া। এটি করা হয় দীর্ঘদিনের লৈঙ্গিক ভিন্নতা ও সামাজিক নির্মিতি এবং পুরুষতান্ত্রিক ভাবাদর্শকে পুঁজি করে। সচেতনভাবে অথবা অসচেতনভাবে হোক আমরা অনেকেই এটা করে থাকি।

ফলে একজন নারীও যখন অন্য নারীকে সাইবার হেনস্তা করে, তখন তার মাথায় দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা সামাজিক উচ্চক্রমের পুনরুৎপাদন ঘটে। যেমন, সাকিব আল হাসানের শিশুকন্যাকে নিয়ে যারা আপত্তিকর মন্তব্য করলেন, তাদের ব্যাপারে সাকিবের স্ত্রী শিশির যখন জানালেন যে তারা বিষয়টি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাচ্ছেন না। অনেকেই ক্ষেপে গিয়ে মন্তব্য করলেন, শিশির স্বার্থপর, অকর্মণ্য গৃহিণী, ঘিলুহীন নারী বা স্বামীর আলোয় আলোকিত ইত্যাদি।

অথচ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে তারাও তাদেরই মতো আচরণ করলেন যারা সাকিবকন্যার প্রতি আজেবাজে মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছিল। দুই পক্ষের কেউই কোনো অংশে কম নেতিবাচকতা প্রকাশ করলেন না। প্রকৃতপক্ষে ঘৃণা যে রূপেই প্রকাশিত হোক না কেন তা ঘৃণাই।

অনলাইন ব্যবহারকারীরা সাধারণত এক ধররনের ভাবনা বা দৃষ্টিভঙ্গিকে মান ধরে নিয়ে এই ঘৃণা প্রকাশ করে। কোনো দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ না হলে সাথে সাথে আঘাত করে, ঘৃণাযুক্ত মেসেজ, হুমকিযুক্ত ইমেল, মিথ্যা তথ্য সাজিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিয়ে, আপত্তিকর ছবি, ভিডিও তৈরি ও প্রচার করে সাইবার হেনস্তা ঘটায়। এটি মূলত আন্তঃব্যক্তিক হেনস্তার এক সাম্প্রতিক ধরন।

নারীর প্রতি অনলাইন হেনস্তার চিত্র তুলে ধরতে কিছু শব্দমালা ব্যবহার করা হয়, যেমন, ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য,’ ‘বিকৃত রুচির পোস্ট,’ ‘নোংরা মানসিকতার ফেসবুক ব্যবহারকারী,’ ‘যেনতেন লোকজন ব্যবহারের ফলে অনলাইন পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে’ ইত্যাদি।

লক্ষ্যণীয়, এসব শব্দমালা ব্যবহার করা মূলত অনলাইনকে অফলাইন বাস্তবতা থেকে আলাদা করে দেখতে চাওয়ার প্রবণতা। এতে করে আমরা বোঝাতে চাই যে অনলাইন হবে ‘ভালো’, ‘সুন্দর’ ও ‘সুশীল’ মননধারীদের জায়গা। কিন্তু আদতে অনলাইন কুরুচি, বিকৃতি, নোংরামি – এসব বিষয়কে অফলাইন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিদিনই এটা ঘটছে।

বিশেষ করে, নারীর প্রতি কুরুচি বা বিকৃতি বা ঘৃণা যেভাবে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে নানাভাবে ছড়িয়ে আছে, চর্চিত হচ্ছে, তার অনলাইন সংস্করণ হচ্ছে সাইবার হেনস্তা বা হয়রানি। অফলাইন বাস্তবতার চাইতে অনলাইনে বরং এসব আচরণ অনেক সহজ। কেননা অনলাইনে সহজে নামহীন হওয়া যায়, পরিচয় লুকিয়ে ফেলা যায়, চাইলে আইডিও মুছে ফেলা যায়। এই যে নাম-পরিচয়হীন হয়ে যাওয়ার সুযোগ এটিও ব্যক্তিকে নারীর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

ঘটনা অনলাইনে ঘটলেও তার প্রভাব অফলাইন বা বাস্তব জীবনেও পড়ে। বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা গেছে, সাইবার হেনস্তার শিকার নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও ভয়ংকর চাপ তৈরি হয়। বয়ে আনে হতাশা, বিষণ্ণতা, অনিদ্রা ইত্যাদি। একটি মিথ্যা গুজব ডেকে আনে অসহনীয় বিপর্যয়।

বিশেষ করে শিশু-কিশোরীরা, যারা ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অনলাইনে পড়াশোনা, গেইমিং, চ্যাট করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের অনুপোযুক্ত ভাষা ও বিষয়ের মুখোমুখী হচ্ছে। যেমন, গালাগালি, বর্ণবাদ বা যৌনতা, যা তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সামনে ফেলছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তারা তা জানে না। বাবা-মা-অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করতে ভয় পায়। কারও কাছে বলতে না পেরে, চাপ সামলাতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করে বা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালায়।

এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৬ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের সঙ্গে অনলাইন ব্যবহার ও আচরণ নিয়ে আলোচনা করেন। তবে অনেক অভিভাবকই জানেন না যে তার সন্তানরা অনলাইনে কী করে।

করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলগামী ছেলেমেয়েরা অনলাইন ক্লাসের জন্য দিনের বেশিরভাগ সময়ই কম্পিউটারে কাটাচ্ছে। জেনে, না জেনে অথবা কৌতুহলের বশে তারা অনলাইন প্রতারণা, হেনস্তা, নির্যাতনের শিকার হতে পারে। খুব সচেতনতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।

পিতামাতা এবং অভিভাবকদের সবসময় নজর রাখতে হবে ছেলেমেয়েরা কম্পিউটারে কী করছে। সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ‘বাবা-মা জানলে বকা দেবে বা কষ্ট পাবে’ এসব ভেবে তারা যেন বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে চেপে না রাখে। এ বিষয়ে বাবা-মাকেই এগিয়ে আসতে হবে।

সাইবার হেনস্তা-অপরাধ কী বা এ থেকে কীভাবে মুক্ত থাকা যায়, এ বিষয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতে হবে অভিভাবকদের। সন্তানদের আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। তারা যেন একা একা কোনো সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করতে না যায়। শিশু-কিশোরী বা নারী প্রত্যেককেই ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে অনলাইন আচরণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

অনলাইন যে একটি আলাদা জগত সেটি বুঝতে হবে। এখানে হেঁয়ালি করার সুযোগ নেই। এখানেও ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা, আচরণ জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়। ফলে নিজের আচরণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।

কিছু একটা লিখলে বা করলে একসাথে অনেক ব্যবহারকারী দেখতে পায়, সেটি রেফারেন্স হিসাবে থেকে যায়, কোনো পোস্ট বা কমেন্ট মুছে ফেললেও তা যে চিরতরে মুছে যায় না বরং রেকর্ড থেকে যায় সেটিও বুঝতে হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের অনেকেই হয়তো জানে না যে সাইবার হয়রানির ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে রিপোর্ট করা যায়। সাইবার হয়রানির শিকার যে কেউ সরাসরি কথা বলতে পারেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়াটার্সে। এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন অথবা ইমেইলে অভিযোগ করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।

এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১০৯২১ নম্বরে নারীর প্রতি যে কোনো নির্যাতন-সহিংসতার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা যায়। অথবা সরকারের ৯৯৯ ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন নম্বরেও সেবা পাওয়া যাবে।

আশার কথা বাংলাদেশে সাইবার হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে নারীর প্রতি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আচরণের বদল না আসা পর্যন্ত অনলাইন বা অফলাইনে হয়রানি বা নির্যাতন বন্ধ হবে না। এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন।

সাদিয়া আফরিন: নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক

আরও পড়ুন

বিশ্লেষণ
Special arrangement for prisoners to watch World Cup football match in Tangail

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইলে কারাবন্দিদের ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ ভাগাভাগির ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক। ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ যখন উত্তর আমেরিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সকল দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তখন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক উদ্যোগ নিলেন জেলা কারাগারে বন্দিরাই কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে।

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের ১৮টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে টিভির ব্যবস্থা করার মাধ্যমে কারাবন্দিদের জন্য খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি নিয়মিত জেলা কারাগার পরিদর্শনে গেলে কারাবন্দিরা অনুরোধ করেন তাদের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব্যবস্থা করার। একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই কারাবন্দিরও অধিকার রয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দে শরীক হওয়ার। তাই এই ধারণা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি মর্মে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান।

জেল সুপার বলেন, ‘জেলা কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য টিভি স্থাপনের মাধ্যমে কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মন্তব্য

বিশ্লেষণ
Sight is the greatest blessing in human life KCC Admin

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দৃষ্টিশক্তি: কেসিসি প্রশাসক

দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল সঠিক চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্ব বরণ করছেন। অর্থের অভাবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। সেই সকল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিংয়ের এই মহতী আয়োজন। সংস্থাটির এই সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সকল পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার (১০ জুন) সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। খুলনা জেলা বাস মালিক-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এই মহতী কাজে এগিয়ে আসায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি পরিবহন শ্রমিকদের খুবই উপকৃত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদের চক্ষু পরীক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সংস্থাটি চলতি সনের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার পরিবহন শ্রমিকদের চক্ষু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে যাদের মধ্যে শতকরা ৮০ভাগ শ্রমিকদের চশমার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি, ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।

মন্তব্য

বিশ্লেষণ
Allegation of contractual recruitment withholding of promotion in state owned industrial enterprise Keru

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরুতে পদোন্নতি আটকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য পদে বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৬তম গ্রেডভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী কর্মচারীদের পদোন্নতি না দিয়ে একই ব্যক্তিদের বারবার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি কেরুর প্রশাসন বিভাগের একাধিক অফিস আদেশ এবং বিভিন্ন বিক্রয় অফিসে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের তালিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসে বর্তমানে একাধিক ব্যক্তি ১৬তম গ্রেডভুক্ত পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হাসান এবং স্টোর কিপার মো. রায়সুল ইসলাম রাহাত। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, কক্সবাজার সেলস অফিসের বিক্রয় সহকারী শেখ কাওসার ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদও রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব পদ মূলত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী জুনিয়র কেরানি ও অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না।

এদিকে কেরুর প্রশাসন বিভাগের জারি করা একটি অফিস আদেশ (সূত্র:কেরু/প্রশা/সংস্থা-৪/৩৩৮৫, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬) অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিক্রয় অফিসের পাচ কর্মীকে ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ দিনের জন্য পুনরায় কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, তারা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই তালিকায় রয়েছেন ১৬তম গ্রেডের বিক্রয় সহকারী মো. তোফায়েল আহমেদ, শেখ কাওসার ইসলাম, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ আহমেদ এবং ২০তম গ্রেডের দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. সাজেদুর রহমান (বকুল) ও মো. নাজমুল হাসান।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৮৯ দিন পরপর একই ব্যক্তিদের পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে কার্যত স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তাদের মতে, বিক্রয় সহকারী ও স্টোর কিপারের মতো পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পদে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ, নগদ অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসব দায়িত্ব এমন কর্মীদের হাতে রয়েছে, যাদের স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটির মতো সুবিধা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই নিয়োগপ্রাপ্তদেরই ধারাবাহিকভাবে ৮৯ দিন পরপর পুনর্নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মচারীরা পদোন্নতির ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তারা অবিলম্বে কেরুর শূন্য পদগুলো বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সব সেলস সেন্টারে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেই। কয়েকটি অফিসে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেন বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ চলবে? আর এতে প্রকৃতপক্ষে কারা লাভবান হচ্ছেন, সেই উত্তর খুজছেন কেরুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মন্তব্য

বিশ্লেষণ
140 families in Lalmohan are afraid of the embankment of Tentulia river

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১৪০ পরিবার ছবি: সংগৃহীত

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়িবাধ ভেঙে বর্ষা ও অতি জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবাসনের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি।

উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসনসংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনে বসবাসকারীদের মাঝে দুর্দশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুটি স্থানে বেড়িবাধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতি বছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিওব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙে নদীর সাথে মিশে যায়।

করতোয়া আবাসনের বাসিন্দা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ার হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকে আবাসন এলাকায় পানি টইটম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।

ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।’

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য

বিশ্লেষণ
Youth Dal leader Khorshed Bala died after being bitten by a Russell viper

রাসেল ভাইপারের কামড়ে যুবদল নেতা খোরশেদ বালার মৃত্যু

রাসেল ভাইপারের কামড়ে যুবদল নেতা খোরশেদ বালার মৃত্যু

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের কামড়ে মো. খোরশেদ বালা (৫০) নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত খোরশেদ বালা সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং ওই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম বালার ছেলে। বুধবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে খোরশেদ বালা চরসেনসাস বাজারে নিজের দোকানের কাজ শেষ করে পাশের অন্য একটি দোকানে যাচ্ছিলেন। পথে রাস্তার পাশে থাকা একটি খড়ের স্তূপ থেকে হঠাৎ বিষধর সাপটি বের হয়ে তাকে কামড় দেয়। প্রথমে স্থানীয়রা তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, পরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে রাতেই স্বজনরা তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. নাসির উদ্দিন জানান, সাপে কাটা রোগীকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে রাসেল ভাইপার সাপে কামড় দিয়েছিল।

সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মাসুম বালা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খোরশেদ বাজারে দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পথে সাপের কামড়ের শিকার হন।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইনও সাপের কামড়ে যুবদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য

বিশ্লেষণ
102 varieties of local and foreign mangoes are being cultivated on 65 acres of land

৬৫ একর জমিতে চাষ হচ্ছে দেশি-বিদেশি ১০২ জাতের আম

৬৫ একর জমিতে চাষ হচ্ছে দেশি-বিদেশি ১০২ জাতের আম ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী সেচ প্রকল্পসংলগ্ন ৬৫ একর জমিতে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী আমের রাজ্য। এখানে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে প্রায় ১০২ জাতের আম। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে দেশি-বিদেশি নানা স্বাদের আম। এই বিশাল বাগানটি পরিচিত সোয়াস এগ্রো কমপ্লেক্স নামে।

এক বাগানে শতাধিক আমের এক বিশাল রাজ্য গড়ার উদ্যোক্তা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান। ১৯৮৬ সালে অবসরের পর তিনি বিদেশমুখী না হয়ে বেছে নেন কৃষিকে। ১৯৯২ সালে মাত্র ৬ একর জমি ও তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন যাত্রা। ধীরে ধীরে সেই খামারই এখন ৬৫ একরের সমন্বিত কৃষি প্রকল্প। খামারে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার আমগাছ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত আমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান ও চীনের আম জাতও রয়েছে এখানে।

উদ্যোক্তা মেজর (অব.) সোলায়মানের দাবি, ‘শুধু মৌসুমে নয়, ১২ মাসই কোনো না কোনো জাতের আম পাওয়া যায় এই বাগানে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০-১০০ টন আম উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।

এই বাগানে সাধারণ জাতের আম কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা এবং বিশেষ কিছু জাত ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, বাগানের আম বাজারে নিতে হয় না, ক্রেতারাই খামারে এসে কিনে নিয়ে যান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ার সার্ভিস ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আম পাঠানো হচ্ছে।

মেজর (অব.) সোলেমানের দাবি, খামারে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। বছরে মাত্র একবার মুকুল আসার আগে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, বাকি সময় ব্যবহার করা হয় জৈব সার। ব্যাগিং পদ্ধতিতেও আম উৎপাদন হচ্ছে। বাগানে স্থায়ী কর্মচারী আছেন ২৫ জন, আর দৈনিকভিত্তিতে আরও ১০ জন কাজ করেন।

খামার ম্যানেজার ও সাবেক সেনা সদস্য হেলাল হোসেন জানান, সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় ফরমালিনমুক্ত আমের চাহিদা ব্যাপক। প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ কেজি আম বিক্রি হচ্ছে খামার থেকেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আসা ক্রেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এখানকার আম সুস্বাদু, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ। সন্তানদের জন্য নিশ্চিন্তে কিনতে পারি। তাই আমি প্রায়ই এই বাগানের আম কেনার জন্য আসি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় খামারে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।

উপপরিচালক মো. আতিক উল্যাহ জানান, এ মৌসুমে ১০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আম বাগানটির মালিক মেজর (অব.) সোলায়মান জানান, বিদেশে না গিয়ে আম চাষ করেও যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারে। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন বলেই তিনি এখনো সুস্থ ও কর্মক্ষম। তার বিশ্বাস কৃষিকে সময় ও যত্ন দিলে কৃষিও সাফল্য ফিরিয়ে দেয়।

১০২ জাতের আমের এই বাগান শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয় এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক- যেখানে স্বপ্ন, পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনায় কৃষিই হতে পারে সমৃদ্ধির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

মন্তব্য

বিশ্লেষণ
Three members of Sundarbans Jonab force were arrested along with arms and ammunition

অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর তিন সদস্য আটক

অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর তিন সদস্য আটক

অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড; অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃত ডাকাত আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬) সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন কালিঞ্চি সুইচগেইট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর ওই তিন জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতদের তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত দিন রাত ১১ টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ডাকাত দল দীর্ঘদিন যাবৎ জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের চলমান এ সকল কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচার সত্ত্বেও কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

p
উপরে