তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল এবং শামসুন নাহার হলে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ নেত্রীরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ায় তারা ‘Thank you pm’ লিখে মোমবাতি প্রজ্বালনও করেন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদারের নেতৃত্বে সুফিয়া কামাল হলে এবং আরেক সহসভাপতি জিয়াসমিন শান্তার নেতৃত্বে শামসুন নাহার হলে মঙ্গলবার এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মুরাদের বিষয়ে তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ‘উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা ওনার পদত্যাগ এবং এই বক্তব্যের জন্য যেন উনি ক্ষমা চান সেটি চেয়েছি। গতকাল প্রধানমন্ত্রী ওনাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। উনি পদত্যাগও করেছেন আর ক্ষমাও চেয়েছেন। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুফিয়া কামাল হলের পক্ষ থেকে মোমবাতি প্রজ্বালন এবং আনন্দ মিছিল করেছি।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জিয়াসমিন শান্তার নেতৃত্বে শামসুন নাহার হলের প্রধান ফটকে ‘We Believe in You, HPM’ লিখে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।
শামসুন নাহার হলে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জ্বলনগত রোববার নাহিদ হাসান নামের এক ইউটিউবারের সঞ্চলনায় লাইভে ডা. মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য দেন।
সেই বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া এবং শামসুন নাহার হলের ছাত্রলীগ নেত্রীদের সম্পর্কে মুরাদ বলেন, ‘তারা শিষ্টাচারের সংজ্ঞাটা আমাদের শেখাতে চাচ্ছে। তসলিমা নাসরিনের মতো অনেক তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশে আছে। দুঃখ লাগে কোনটা জানেন? এরা আবার জয় বাংলার কথা বলে। এরা ছাত্রলীগ করছে নাকি? এরা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এরা নাকি আবার নেত্রী ছিল কোনো কোনো হলে৷ কিন্তু রাতের বেলা এরা নিজেদের হলে থাকতেন না, ঘুমাতেন হোটেলে হোটেলে৷ কারণ ফাইভ স্টার হোটেলে থাকার মজা, আর রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হলে থাকাটা কি এক কথা? আমি এর চেয়ে বেশি বললে মিছিল শুরু হয়ে যেতে পারে। আমি আর বেশি কিছু বলব না।’
মুরাদ হাসানের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নারী নেতারা। তারা এ বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ দাবি করে মুরাদ হাসানের শাস্তি চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন।