করোনাকালে এইচএসসির মতো ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতেও পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে পাস করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা বললেও এর সঙ্গে পাস ফেলের কোনো সম্পর্ক নেই।
বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য ৩০ কার্যদিবসে শেষ করা যায়, এমন একটি পাঠক্রম তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি।
নতুন এই পাঠক্রম অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে। এই অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইনে দেয়া থাকবে। তবে যারা অনলাইনে নিতে পারবে না, তাদেরকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেবে।’
আরও পড়ুন: স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না
মন্ত্রী বলেন, ‘এটা এক ধরনের অটো পাস। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে তার অনুরোধ, তারা যেন শ্রেণি অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করে। এ বিষয়ে তাদের অভিভাবকরা যেন আরও সচেতন থেকে বিষয়টি তদারকি করেন।’
সেই অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়নে কোনো পাস বা ফেল থাকবে না। তাহলে মূল্যায়ন কেন?
মন্ত্রী বলেন, ‘এই মূল্যায়নের মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার জায়গাগুলো জেনে পরবর্তী শ্রেণিতে সেই অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সাজানো হবে।’
দীপু মনি বলেন, ‘পরবর্তী শিক্ষাক্রমে তাদের এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে, তা নির্ধারণ করা যাবে। তাদের এক্সট্রা কোনো ক্লাস বা বিশেষ ক্লাস দরকার হবে কি না তাও দেখা হবে।
‘এটি মূলত একটা রিভিশন পদ্ধতি হবে।’
তবে এই অ্যাসাইমেন্ট যেন শিক্ষার্থীদের ওপর কোন মানসিক চাপ তৈরি না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখার কথা বলেছেন মন্ত্রী।
আগামী শিক্ষাবর্ষ সময় মতো
করোনা পরিস্থিতিতে আগামী জানুয়ারিতে সময় মতোই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বলেন, ‘আমরা শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে এখনো যায়নি। জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা নতুন ক্লাসে যাবে এটাই এখন পর্যন্ত আমরা ভেবে রেখেছি।’
অষ্টম শ্রেণি সাময়িকী জেএসসি পরীক্ষা না হলে সনদের কী হবে, সে বিষয়েও পরে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।