বহুজাতিক মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব আইপিওর আবেদনে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের গ্রাহকরা টেলিফোনে কিংবা সশরীরে এসে শেয়ারটিতে আবেদন করছেন।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, ‘আগে যারা কখনো আইপিওর আবেদন করেননি, তাদের এমন গ্রাহকরাও রবির আইপিওতে আবেদনের আগ্রহ জানাচ্ছেন।’
সিটি ব্রোকারেজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যে সাড়া লক্ষ করছি, তাতে আবেদন তিন-চার গুণ ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
তবে এখন পর্যন্ত কত আবেদন জমা পড়েছে, তা তারা জানাতে পারেননি। বলেন, প্রক্রিয়াটি চলমান। চূড়ান্ত হিসাব না আসা পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়।
একজন বিনিয়োগকারী নিজ ও যৌথ নামে দুটি আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫০০টি শেয়ার মিলবে। এ জন্য গুনতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা।
মোট ৫২ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার ছাড়বে রবি। এর মাধ্যমে বাজার থেকে তুলবে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ১৩৬ কোটি টাকা দেবেন কোম্পানিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাকিটা বরাদ্দ সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিযোগকারীরা পাবেন ২০ কোটি ৯৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৩৪টি শেয়ার, যা আইপিওর ৪০ শতাংশ।
যাদের পোর্টফোলিওতে কমপক্ষে এক কোটি টাকা থাকবে, তারাই প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। বর্তমানে দেশে এমন বিনিয়োগকারী রয়েছেন সোয়া দুই হাজারের মতো।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত আর্থিক বছরের হিসাবের ভিত্তিতে সম্প্রতি কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিএসইসি।
ওই হিসাব অনুযায়ী, রবির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস মাত্র চার পয়সা। আর প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি ১২ টাকা ৬৪ পয়সা।
রবি আজিয়াটার পরিশোধিত মূলধন ৫ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যা দেশে সর্বোচ্চ। তালিকাভুক্ত হলে এটিই হবে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোম্পানি।
২০০৯ সালে গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারে আসার ১১ বছর পর দ্বিতীয় মোবাইলফোন অপারেটর হিসেবে শেয়ারবাজারে আসছে কোম্পানিটি।
রবির আইপিওতে আবেদন করা যাবে ২৩ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।