মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও নুরুল হাসান সোহান নিশ্চয়ই আফসোসই করছেন এখন। সৌম্য সরকারকে তারা ফেরাতে পারতেন প্রথম ওভারেই। অথচ সেটি না হওয়ায়, সৌম্য শেষ পর্যন্ত করেছেন ৬২।
সেই ৬২ আর লিটন দাসের ফিফটিতে, মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের স্কোরবোর্ডে ১৭৫। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাঁচা-মরার ম্যাচে রাজশাহী করতে পারল মাত্র ১৩৯, তাতে জুটলো ৩৬ রানের হার।
আর এই হারে প্লে-অফে সুযোগ পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ল রাজশাহীর জন্য। বেক্সিমকো ঢাকার বিপক্ষে ফরচুন বরিশাল হারলেই কেবল রাজশাহীর জায়গা হবে প্লে-অফে।
দিনের প্রথম ওভারেই সাইফুদ্দিনের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে শট খেলার চেষ্টা করেন সৌম্য। ব্যাটে-বলে না হওয়ায়, বল চলে যায় উইকেটকিপার সোহানের কাছে। ব্যাটের বেশ কাছে দিয়ে যাওয়া বল নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কোনো আবেদন করেননি রাজশাহীর কোন খেলোয়াড়।
অথচ আল্ট্রাএজে দেখা গেলো, ঠিকই ব্যাটে লেগেছিল বল। শুন্য রানে বেঁচে যাওয়া সৌম্য এরপর লিটন দাসের সঙ্গে গড়েন ১২২ রানের জুটি।
এই জুটিটি ছিলো এই টুর্নামেন্টে সৌম্য ও লিটনের চতুর্থ পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি। তবে শনিবারই সেটি প্রথম পৌছায় তিন অংকের ঘরে।
সৌম্য নিজের পঞ্চাশ তুলে নেন ৪০ বলে, অন্যদিকে পঞ্চাশ ছুঁতে লিটন নেন ৩৮ বল।
কিন্তু, দুই ওপেনার পরপর ওভারে ফিরে গেলে খেই হারায় চট্টগ্রাম। আনিসুল ইমনের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সৌম্য। রেজাউর রহমানকে স্কুপ করতে গিয়ে স্টাম্প ছত্রভঙ্গ হয় লিটনের।
ইমনের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন, বেশিক্ষণ ক্রিজে টেকেননি মোসাদ্দেক হোসেনও। সাইফুদ্দিনের শর্ট বল মোসাদ্দেকের ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায় হাওয়ায়, সেই ক্যাচ নেন সাইফুদ্দিন নিজেই।
চাপ ধরে রাখতে পারেনি রাজশাহী। ১৯তম ওভারে এসে দুটি নো বলে ছয়সহ মোট তিনটি ছয় হজম করেন রেজাউর রাজা। দুটি বিমার করায় বোলিং থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে।
সাইফুদ্দিনের করা শেষ ওভারে আসে ১৩। শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানে পৌছায় চট্টগ্রাম। ১৮ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন শামসুর রহমান।
রাজশাহীর হয়ে দুটি উইকেট পান ইমন, একটি করে উইকেট পান রেজাউর ও সাইফুদ্দিন।
জবাবে শুরুতে বেসামাল হয়ে পড়ে রাজশাহী। নাহিদুল ইসলামের পরপর দুই ওভারে বিদায় নেন দুই ওপেনার ইমন ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে ফিরে যান রনি তালুকদারও।
পুরো ইনিংসে কোনো বড় জুটি গড়তে পারেননি রাজশাহী ব্যাটসম্যানরা। কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। আর তাতেই রান তাড়ায় ঠিক সুবিধা করতে পারেনি রাজশাহী।
মেহেদি হাসান তিনটি ছয় মেরে আশা দেখান। তবে জয় পাইয়ে দিতে পারেননি দলকে। শেষ পর্যন্ত ১৩৯ রানে আটকে চট্টগ্রামকে ৩৬ রানের জয় উপহার দিয়েছে রাজশাহী। সঙ্গে নিজেদের প্লে-অফে খেলবার সম্ভাবনাকে ফেলেছে শঙ্কায়।
চট্টগ্রামের হয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন নাহিদুল, দুটি উইকেট পান জিয়াউর রহমান। একটি করে উইকেট পান মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও রকিবুল হাসান।