সামরিক খাতে ব্যয় কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতে যতটা ব্যয় করা প্রয়োজন রাষ্ট্রগুলো ততটা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
চট্টগ্রামে রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে শুক্রবার দুপুরে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট কনফারেন্স-২০২১ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেশে দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য অর্থ ব্যয় না করে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য, ভবিষ্যতের মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য মনযোগ দেয়া প্রয়োজন। যদিও রাষ্ট্রগুলো সামরিক ব্যয় কমিয়ে এ খাতে যেটুকু ব্যয় করা প্রয়োজন সেটুকু করছে না, এটিই বাস্তবতা।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর মানুষ অনেক উন্নতি করেছে কিন্তু পৃথিবীজুড়ে আজকে প্রচন্ড হানাহানি, অশান্তি। পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনা মহামারির মধ্যেও পৃথিবীতে শরণার্থীর সংখ্যা কয়েক কোটি বেড়েছে।
‘করোনা মহামারির মধ্যে দেখছি মানুষ একটি অদৃশ্য জীবাণুর কাছে কত অসহায়। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর দেশটিও অসহায়, পাশাপাশি সবচেয়ে দরিদ্র দেশটিও অসহায়।’
তিনি জানান, আজকের পৃথিবীটা মানুষকে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক করে ফেলেছে। মানুষ অনুভূতিহীন যন্ত্রের মতো হয়ে গেছে। মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য নিয়েই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি রাষ্ট্র রচনা করতে চাই যেটি বস্তুগত উন্নয়নের দিক দিয়ে একটা উন্নত রাষ্ট্র হবে, একই সঙ্গে মানবিক রাষ্ট্রও হবে। যে উন্নয়ন বস্তুগত হবে কিন্তু বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে দেবে; রাস্তায় দুর্ঘটনায় মানুষ কাতরাবে কিন্তু পাশ দিয়ে যাওয়া কেউ ফিরে তাকাবে না, কখন পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যাবে সেই উন্নয়ন ও সমাজ আমরা চাইনা।’
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি ইন্ডাস্ট্রি উৎপাদনে গেছে।
‘১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল যখন প্রতিষ্ঠা হবে তখন আমরা পুরো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারব। আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, আমরা উন্নত দেশে রূপান্তর করতে চাই। সেটি করতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ ও মাথাপিছু কৃষি জমির পরিমাণ অনেক কম হওয়ার পরও ঝড়-বন্যা-জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যা বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকেও অবাক করে দিয়েছে।
‘স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষে মানব উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সমস্ত সূচকে আমরা অনেক আগেই পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি। মানব উন্নয়ন ও সামাজিক সূচকে ভারতকে অনেক আগেই অতিক্রম করেছি। এখন মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতের চেয়ে এগিয়ে। এটি চাট্টিখানি কথা নয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে পৃথিবীতে মাত্র ২০টি দেশে পজিটিভ জিডিপি গ্রোথ রেট হয়েছে। সেই ২০টির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। করোনা মহামারির মধ্যে আমাদের মাথাপিছু আয় ২০০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে।’