কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে আরাফাত নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক কোহিনুর বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, ভাতের হাঁড়িতে প্রস্রাব করে দিলে তিনি আরাফাতকে ধাক্কা দেন। এতে সে মারাত্মক আঘাত পেয়ে মারা যায়।
দৌলতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কোহিনুর বেগম এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকালে রান্না শেষে ভাতের হাঁড়ি রান্নাঘরে রাখা হয়। এ সময় পাশের বাড়ির দেড় বছর বয়সী শিশু আরাফাত হঠাৎ এসে ভাতের হাঁড়ির ভেতর প্রস্রাব করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোহিনুর শিশুটিকে জোরে ধাক্কা দেন। সেই ধাক্কাতেই শিশুটি ছিটকে পড়ে মারাত্মক আঘাত পেয়ে মারা যায়। পরে তিনি তড়িঘড়ি করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখেন।
শাহাদাৎ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোহিনুর বেগম পুলিশকে এমন তথ্য জানালেও শিশু আরাফাত হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। এজন্য আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা শরিফুল ইসলাম সোমবার মামলা করেছেন।
দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের দাড়েরপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে আরাফাত গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিন দৌলতপুর থানায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সোমবার দুপুরে প্রতিবেশী সফের মালির বাড়ির রান্নাঘর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন সফের মালির স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে আটক করে পুলিশে দেয়।