বিধবা, কারামুক্ত, স্বামী পরিত্যক্তা ও আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন নারী ও পুরুষের মধ্যে করোনাকালীন আয়ের উৎস হিসেবে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দারের অনুরোধে সমাজ সেবক মিজানুরর রহমানের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ১০ জনকে এই সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে। আরও ১০ জনের মধ্যে এই মেশিন বিতরণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সোমবার দুপুরে এগুলো বিতরণ করা হয়।
সোমা রানী দাস জানান, তার স্বামী তাকে ভরণপোষণ দেন না। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডে তিনি থাকতেন। এ নিয়ে মামলাও করেছেন তিনি।
সোমা বলেন, মেশিন পাওয়ায় সেলাই করে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করবেন তিনি।
বিধবা নাজমুন নাহার লইজুর স্বামী এটিএম বুথের নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করতেন। দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে তার সংসার। স্বামী মারা যাওয়ায় তার দুরাবস্থা নেমে আসে।
আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জান্নাতুল ফেরদৌস তিথী। গত ২ এপ্রিল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়ায় তিথী বুটিকস নামে তার দোকান পুড়ে শেষ হয়ে যায়।
কারামুক্ত জসিম উদ্দিন।বন্দি থাকা অবস্থায় জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা হলে তার কাছে মৌখিকভাবে সহায়তা চান তিনি। তখন জেল থেকে বের আবেদন করতে বলেন তিনি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, যারা সেলাইয়ের কাজ জানে না তারা বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে অনেক দানশীন ব্যক্তি আছেন যারা গরিবদের স্বাবলম্বী করতে ভূমিকা রাখতে চান।
তিনি বলেন, ‘দেশটাকে শুধু সরকারের একার নয়। সবাই মিলেই সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। করোনাকালীন সময়ে এই মেশিন দিয়ে অসহায় এই মানুষগুলো ঘরে বসে সেলাই কাজ করে আয় করতে পারবে।’