শেরপুরের নকলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক দম্পতি রোববার আত্মসমর্পণ করার পর তাদের হাতকড়া না পরিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত মামলায় তাদের জামিনও দিয়েছে।
নকলার চন্দ্রকোনা তদন্তকেন্দ্রে রোববার সকালে আত্মসমর্পণ করেন উপজেলার বাছুর আগলা গ্রামের লালমন মিয়া ও তার স্ত্রী লুৎফন বেগম। সেখানে হাতকড়া পরানোর পরিবর্তে তাদের হাতে দেয়া হয় গোলাপ ফুল।
নকলা থানা পুলিশ জানায়, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে ২০২০ সালে মারামারি ও ভাঙচুরের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন তাদের প্রতিবেশী। ওই মামলায় সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
কিছুদিন আগে চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে সেই পরোয়ানা পাঠানো হয়। পরে একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
একপর্যায়ে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুশফিকুর রহমান ও চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বিট পুলিশিং ও পথসভার মাধ্যমে তাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান।
রোববার সকালে ওই দম্পতি চন্দ্রকোনা তদন্তকেন্দ্রে আত্মসমর্পণ করলে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে হাতকড়া ছাড়াই তাদের নকলা আমলি আদালতে পাঠানো হয়। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের বিষয়টিও আদালতকে জানানো হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় আদালত তাদের জামিনে দেয়।
জামিনে মুক্তি পেয়ে লালমন মিয়া বলেন, ‘ওয়ারেন্টের কথা হুইন্না খুব ভয়ে আছিলাম। পুলিশ, কোর্ট-কাচারি এইগুলাত জড়াবার চাইন্না। তাই পলাইছিলাম।
‘পরে চিন্তাভাবনা কইরা পুলিশের কাছে ধরা দিই। কিন্তু পুলিশ আমগরে আশ্চার্য কইরা হ্যান্ডকাফের বদলে ফুল দিল। ইমুন পুলিশ জীবনেও দেহি নাই।’
তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মামলাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’
নকলা থানার ওসি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘শেরপুরের পুলিশ সুপার নাহিদ হাসান চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা বিট পুলিশিং ও পথসভা কার্যক্রম চালু করেছি। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি যাতে মানুষকে আরও জনমুখী সেবা দেয়া যায়।’