রপ্তানি দেড় হাজার টন, লক্ষ্য নির্ধারণ এক লাখ

রপ্তানি দেড় হাজার টন, লক্ষ্য নির্ধারণ এক লাখ

গত কয়েক বছরে আমচাষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে দেশে। তবে যত উৎপাদন হয়, সে তুলনায় রপ্তানি খুবই কম

দেশে উৎপাদিত আমের বিরাট অংশ-গড়ে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ সংগ্রহের সময় নষ্ট হয়। তবে খিরসাপাত আম নষ্ট হয় ৩৭ শতাংশ। ফজলি আম নষ্ট হয় ২৯ শতাংশ। এতে ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

বিশ্বের অন্যতম সেরা আম বাংলাদেশে হলেও রপ্তানি এখনও তলানিতেই। এর মধ্যে চলতি বছর রপ্তানির চিত্র খানিকটাও হলেও আশা দেখাতে পারে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর রসাল ফলটির রপ্তানি পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে। গত বছর ২৮৩ মেট্রিকটন আম রপ্তানি হলেও এবার রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৬২৩ মেট্রিকটন।

তবে আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ মেট্রিকটন নির্ধারণের লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে প্রতিবছর এক লাখ মেট্রিকটন আম রপ্তানির লক্ষ্যে নির্ধারণ করতে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সোমবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে হর্টেক্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমের উন্নত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।

রপ্তানি দেড় হাজার টন, লক্ষ্য নির্ধারণ এক লাখ
চলতি বছর রপ্তানি পাঁচ গুণ বাড়লেও তা উৎপাদনের তুলনায় বেশ কম

কর্মশালায় জানান হয়, দেশে উৎপাদিত আমের বিরাট অংশ-গড়ে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ সংগ্রহের সময় নষ্ট হয়। তবে খিরসাপাত আম নষ্ট হয় ৩৭ শতাংশ। ফজলি আম নষ্ট হয় ২৯ শতাংশ। এতে ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

দেশে বছরে ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অথচ রপ্তানি হয় মাত্র কয়েকশ টন আম। বছরে এক লাখ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, রোডম্যাপ প্রণয়ন ও আমের নতুন বাজার খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। রপ্তানির বাধাসমূহ চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে, নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে।’

রপ্তানি দেড় হাজার টন, লক্ষ্য নির্ধারণ এক লাখ
‘আম রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমের উন্নত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ।

কর্মশালায় আম রপ্তানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, রপ্তানি চাহিদা অনুযায়ী উন্নতজাত নির্বাচন, ফাইটোস্যানিটারি পদ্ধতি ও আমদানিকারক দেশের উত্তম কৃষি চর্চা মেনে আম উৎপাদন, সার্টিফিকেশন, উন্নত প্যাকিং, উন্নত সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থা, রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ, বিমান বন্দরে সুষ্ঠু কার্গো ব্যবস্থাপনার উপর কর্মশালায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

মধুপুর-ভাওয়ালে কাজুবাদাম, কফি চাষের সম্ভাবনা

মধুপুর-ভাওয়ালে কাজুবাদাম, কফি চাষের সম্ভাবনা

মধুপুর গড়। ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।”

পাহাড়ি, বরেন্দ্র ও মধুপুর-ভাওয়াল অঞ্চলে কাজুবাদাম ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের বেরিবাইদে বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষকদের মধ্যে কফির চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ওই সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্র ও মধুপুর ভাওয়াল অঞ্চলের অনেক জায়গায় কাজুবাদাম ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, “সারা দেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।”

কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, কাজু বাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্যোগে এ অঞ্চলে ৫ জন কৃষকের ৫০ শতাংশ জমিতে কফি ও কাজুবাদামের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এক কৃষকের জমিতে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা জাতের দুটি কফির চারা রোপণ করেন।

শেয়ার করুন

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য

গত এক বছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গত চার বছর ধরে খাতটির রপ্তানি আয় বাড়ছে। অবশ্য করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ৫ শতাংশ কমেছিল। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে খাতটির রপ্তানি আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। যদিও পুরো বছরটিই করোনা মহামারির মধ্যেই কেটেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন আশা জাগাচ্ছে কৃষিপণ্য। করোনা মহামারির মধ্যেই গত অর্থবছরে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে এই খাত। চলতি অর্থবছরেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বাজেটে কৃষিপণ্যের ছয় খাতে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়েছে; তার প্রভাবে রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ১০ বছর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে ৪০ কোটি ডলার বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আড়াই গুণের বেশি বেড়ে ১০২ কোটি ৮১ লাখ ডলারে পৌঁছে।

বর্তমান বাজারদরে টাকার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের হিস্যাই বেশি।

গত চার বছর ধরে খাতটির রপ্তানি আয় বাড়ছে। অবশ্য করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ৫ শতাংশ কমেছিল। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে খাতটির রপ্তানি আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। যদিও পুরো বছরটিই করোনা মহামারির মধ্যেই কেটেছে।

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য
রপ্তানির জন্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছেন শিক্ষিত যুবকরা। ফাইল ছবি

গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আশাব্যঞ্জক বিদেশি মুদ্রা আসার পর ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

ইপিবির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের শুরুটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছে। প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে ২০ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় হয়েছে। টাকার হিসাবে এই অর্থ ১ হাজার ৭৬৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এই দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

যেসব পণ্য রপ্তানি

কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় রুটি, বিস্কুট ও চানাচুরজাতীয় শুকনা খাবার, ভোজ্যতেল ও সমজাতীয় পণ্য, ফলের রস, বিভিন্ন ধরনের মসলা, পানীয় এবং জ্যাম-জেলির মতো বিভিন্ন সুগার কনফেকশনারি।

বিস্কুট, রুটিজাতীয় শুকনা খাবার রপ্তানি করে বিদায়ী অর্থবছরে দেশীয় কোম্পানিগুলো ২৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এর বাইরে চা, শাকসবজি ও ফলমূলও রপ্তানি হয়েছে।

একসময় চা রপ্তানি করে বেশ ভালোই আয় করত বাংলাদেশ। কিন্তু এখন তা তলানিতে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে মাত্র ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের চা রপ্তানি হয়েছে।

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য
রপ্তানির জন্য টম্যাটো প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। ফাইল ছবি

তবে এখন শাকসবজি রপ্তানি থেকে বেশ আয় করছে বাংলাদেশ। প্রতিবছরই বাড়ছে এ খাতের রপ্তানি। গত অর্থবছরে ১১ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিদেশি মুদ্রা এসেছিল শাকসবজি রপ্তানি থেকে। এবার লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ডলার। জুলাই-আগস্ট মাসে এসেছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০২ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ৩৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

জুলাই-আগস্ট সময়ে শুকনা খাবার রপ্তানি করে ৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। তামাক রপ্তানি করে এসেছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মসলা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ডলার।

মোট রপ্তানির ১৬ শতাংশই করে প্রাণ

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে ২০টি। এগুলোর সবাই কম-বেশি রপ্তানি করছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে বর্তমানে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার।

কৃষিপণ্যের রপ্তানির বড় অংশ করে প্রাণ গ্রুপ। ২০২০-২১ অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা (৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার), যা এ খাতের মোট রপ্তানির ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

১৯৯৭ সালে ফ্রান্সে খাদ্যপণ্য রপ্তানি শুরু করা এই শিল্পগোষ্ঠী বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকা, পাশের দেশ ভারতসহ ১৪৫টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। ফ্রুট ড্রিংক, পানীয়, বিস্কুট, সস, নুডলস, জেলি, মসলা, সুগন্ধি চাল, পটেটো ক্র্যাকার, চানাচুর, ঝাল-মুড়ি ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রপ্তানি আরও বাড়বে

আগামী দিনে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের সম্ভাবনা ব্যাপক। তৈরি পোশাক মানুষ যেমন গ্রহণ করছে, তেমনি তৈরি খাদ্যও মানুষ কিনছে ও খাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদিত হয় না। তারা মূলত আমদানিনির্ভর। সব মিলিয়ে আগামী দিনে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা আরও বাড়বে। পণ্যটির রপ্তানি বাড়াতে হলে আমাদের দেশের কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য
চলতি বছর কৃষিপণ্য হিসেবে আমের রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘কেবল ধান উৎপাদন করলে হবে না। পাশাপাশি বেশি মূল্যের ফলমূল, বাদাম, মসলা, বীজজাতীয় শস্য উৎপাদনে যেতে হবে। তাছাড়া বন্দরের সক্ষমতা, অবকাঠামোর উন্নয়ন ও স্বল্প খরচের উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও মানে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না।

‘তদারকি সংস্থাগুলোরও সচেতন হতে হবে। ভারতের মতো আমাদের দেশেও ফুড পার্ক করা যেতে পারে। তা ছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানে থাকা থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। তাহলে আমাদের উদ্যোক্তারা নতুন কিছু শিখবে। শিল্পটিও এগিয়ে যাবে।’

কৃষিপণ্য উৎপাদনে ১০ বছরের কর অবকাশ

করোনাভাইরাসের এই সংকটের সময়ে দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং বিনিয়োগ খরা কাটাতে উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু খাতে কর ছাড় দেয়া হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে। এর মধ্যে কৃষিপণ্যের ছয় খাতে থাকছে ১০ বছরের কর অবকাশ।

ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন, সম্পূর্ণ দেশীয় কৃষি হতে শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্প এবং কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগে থাকবে ১০ বছরের করমুক্তি সুবিধা।

২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যারা এ খাতে বিনিয়োগ করবেন, তারা এই আয়কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন। এই করমুক্তি সুবিধা নিতে ন্যূনতম এক কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বিডার নিবন্ধন নিতে হবে। কাঁচামাল পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হতে হবে।

এর যুক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেশীয় কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের আমদানি বিকল্প তৈরির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ও কমর্সংস্থান সম্ভব। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের এ যুগে কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন ও বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের দখল নেয়া সম্ভব।’

সরকারের এই করমুক্তি সুবিধা কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক এম আসাদুজ্জামান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তারা যদি সরকারের এই সুবিধা নিয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসে, তাহলে কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকে আরও বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আম-টম্যাটোসহ আমাদের অনেক কৃষিপণ্য পচে নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো যদি ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা যায় তাহলে একদিকে যেমন বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে, অন্যদিকে কৃষকও ভালো দাম পাবেন।’

আম কূটনীতিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ

কৃষিপণ্য আম উৎপাদনে বাংলাদেশ অষ্টম থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এবার দেশে প্রায় ১৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু আমের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে একেবারে তলানিতে; নামমাত্র কিছু আম রপ্তানি হয়। এগুলোও আবার প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য রপ্তানি করা হয়।

গত ১৮ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয়ে ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয়’ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমচাষিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় দেশে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম চাষ এবং আমের আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেয়া হয়।

ওই সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালে থাইল্যান্ড বিশ্বের সর্বোচ্চ ৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের আম রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ও পাকিস্তান ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের আম রপ্তানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ৫০ হাজার ডলারের (৪২ লাখ টাকা) আম রপ্তানি করেছে, যার বড় অংশ মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য রপ্তানি করা হয়েছে।

বিদেশে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে, রপ্তানিযোগ্য উন্নত জাতের আমের অভাব। দেশের আমের জাতগুলোর সেলফ লাইফ কম, অর্থাৎ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সংগ্রহ-পরবর্তী পর্যায়ে শনাক্তকরণের অভাব, আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাব। আর দেশের আমের ব্র্যান্ডিং ইমেজ সৃষ্টি না হওয়া এবং রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব।

আম রপ্তানি বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘দেশের আমকে আমরা ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য রপ্তানি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষিচর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেয়ার কাজ চলছে।’

ফলে আগামী বছর আম রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী।

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাদু আম উপহারের বিষয়টি এবার বেশ আলোড়ন তুলেছিল। শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নয়, বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে ফলের রাজা আম।

এই আম উপহারের ফলে বাংলাদেশের সুস্বাদু আম নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এসেছে বিষয়টি।

‘এই এখন রপ্তানিতে কাজে লাগাতে হবে’ জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘একটা ভালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটাকে কাজে লাগাতে পারলে আম রপ্তানি থেকে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।’

শেয়ার করুন

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি

চাঁদপুরে মুক্তাচাষ শুরু করেছেন মাছচাষী কৃষ্ণা চন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুক্তাচাষী কৃষ্ণা চন্দ্র জানান, ২০ হাজার ঝিনুক চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ঝিনুক নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও বাকি যা রয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময় শেষে এখান থেকে তার ৪০ লাখ টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মুক্তা চাষ শুরু করেছেন চাঁদপুরের মতলবের চাষি কৃষ্ণা চন্দ্র। এখনো পরিপূর্ণভাবে সৃষ্টি হয়নি ঝিনুকের ভেতর মুক্তার আবরণ। সময় লাগবে বেশ কিছুটা।

তবে বাড়তি খরচ না থাকায় লাভের আশা করছেন কৃষ্ণা। তাকে দেখে মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার অনেকেই।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে-বিদেশে মুক্তার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছ চাষের পাশাপাশি পরিকল্পিত মুক্তা চাষে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব।

মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষ্ণা পুকুরে মাছ চাষ করেন প্রায় ১১ বছর ধরে। চার মাস আগে তিনি দুটি পুকুরে মাছের পাশাপাশি ঝিনুক চাষ শুরু করেন। ইউটিউবে ঝিনুক চাষ দেখেই তার এই কাজে আগ্রহ তৈরি হয়।

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি
বিশেষ উপায়ে ঝিনুকে ছাঁচ ঢুকিয়ে উৎপন্ন করা হয় নকশাযুক্ত মুক্তা। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষ্ণা চন্দ্র বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে মাছ চাষ শুরু করছি। প্রথমে এক লাখ টাকা দিয়া শুরু করি। এহন আমার বিনিয়োগ প্রায় ২০ লাখ। শুরুতে একটা পুকুরে চাষ করলেও এহন আমি ছয়ডা পুকুরে মাছ চাষ করি।

‘ইন্টারনেট দিয়া ইউটিউবে মাছ চাষের টেকনিকের (কৌশল) পাশাপাশি ঝিনুক চাষও দেখি। দেইখাই আগ্রহ পাই।’

প্রায় চার মাস আগে গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করেন বলে জানান কৃষ্ণা। পরে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রতিটি ঝিনুকের ভেতর নানা ধরনের নকশার ছাঁচ ঢুকিয়ে দেন।

১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ঝিনুকের ভেতর নকশাকারে মুক্তা উৎপন্ন হবে। বর্তমানে তার ঝিনুকে মুক্তার লেয়ার খুব ভালো পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কৃষ্ণা।

তিনি জানান, ২০ হাজার ঝিনুক চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ঝিনুক নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও বাকি যা রয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময় শেষে এখান থেকে তার ৪০ লাখ টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি
ঝিনুকে মুক্তার ছাঁচ। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষ্ণা বলেন, মূলত গোল মুক্তা হতে প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগে। তবে বিশেষ পদ্ধতির ডিজাইন মুক্তা হতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে নকশার মুক্তার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মুক্তার লেয়ারের উপর ভিত্তি করে প্রতি পিস ডিজাইন মুক্তা আড়াইশ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

স্থানীয় যুবক হানিফ মিয়া বলেন, ‘আগে পরে কখনই কাউকে আমাদের এলাকায় মুক্তা চাষ করতে দেখিনি। মাছের পাশাপাশি মুক্তা চাষে আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই প্রায় সময়ই কৃষ্ণাদার কাছে এসে তার চাষাবাদ পদ্ধতি দেখছি। তার কাছ থেকে অনেক বিষয় বোঝার চেষ্টা করছি, যাতে আগামীতে আমিও মুক্তা চাষ করতে পারি।’

আবুল কালাম নামের আরেক যুবক বলেন, ‘মুক্তা চাষে বাড়তি কোনো খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না ঝিনুককে। মাছের খাবার থেকেই এরা খাবার সংগ্রহ করে থাকে। তাই কম খরচে লাভের আশা বেশি। কৃষ্ণা দাদার মতো আমারও ভবিষ্যতে পুকুরে ঝিনুক চাষের ইচ্ছা আছে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলায় প্রথমবারের মতো সাথী ফসল হিসেবে মাছের পাশাপাশি মুক্তা চাষ শুরু করেছেন কৃষ্ণা। তার এই কাজে মৎস্য বিভাগ থেকে আমরা কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় শেষ না হওয়ায় মুক্তা এখনও পরিপূর্ণভাবে উৎপন্ন হয়নি। তবে আমরা আশা করছি তিনি সফলতা পাবেন। আর তিনি মুক্তা চাষে সফলতা পেলে জেলার অন্য মাছ চাষিদের মাছ চাষের পাশাপাশি মুক্তা চাষে উদ্বুদ্ধ করা যাবে।’

কৃষ্ণা চন্দ্র বলেন, ‘বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে মুক্তা চাষ একটি ভালো মাধ্যম। মাছের খাবারের বাইরে ঝিনুকের জন্য আলাদা খাবারের প্রয়োজন না হওয়ায় লাভও অনেক বেশি। সরকারি সহায়তা পেলে আমি আগামীতে আরও বড় পরিসরে মুক্তা চাষাবাদ করতে চাই। এতে নিজে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব।’

শেয়ার করুন

ভাসমান ধাপের মাচায় ঝুলছে তরমুজ

ভাসমান ধাপের মাচায় ঝুলছে তরমুজ

স্থানীয় ইকবাল কাজী বলেন, ‘আগে জানতাম চৈত্র মাসে তরমুজের চাষ হয়। এখন দেখি বর্ষাকালে নতুন পদ্ধতিতে ধাপের ওপর ভাসমান বেডে চাষ হচ্ছে। আগামীতে আমরাও এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করব।’

তরমুজের মৌসুম পেরিয়ে গেছে আগেই। তবে হানিফের ভাসমান ধাপের মাচায় ঠিকই ঝুলে আছে ফলটি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের নকড়িরচর গ্রামের কৃষক হানিফ মল্লিক এ বছরই প্রথম এভাবে তরমুজ চাষ করেছেন। পেয়েছেন সফলতাও।

হানিফ নিউজবাংলাকে জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বর্ণি বাওড়ের কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান ধাপ তৈরি করে শাকসবজি চাষ করেন। এ বছর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে চারটি ভাসমান ধাপে লাগান থাইল্যান্ডের সুইট ব্লাক-টু জাতের তরমুজের চারা।

৫০ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট চওড়া প্রতিটি বেডের মাঝে বাঁশ আর নেট দিয়ে করে দিয়েছেন মাচা। সেই মাচায় ঝুলে আছে তরমুজ।

ভাসমান ধাপের মাচায় ঝুলছে তরমুজ

তিনি বলেন, ‘৫০ দিনে তিনশর বেশি তরমুজ ধরছে। ওজন হইছে ২ থেকে ৩ কেজি। প্রতিটা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বেচতেছি।’

ভাসমান ধাপে অসময়ে তরমুজ চাষে খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। হানিফের ধারণা, তরমুজ বিক্রি থেকে উঠে আসবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

অন্য চাষিরাও উৎসাহিত হয়েছেন এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে।

ভাসমান ধাপের মাচায় ঝুলছে তরমুজ

স্থানীয় ইকবাল কাজী বলেন, ‘আগে জানতাম চৈত্র মাসে তরমুজের চাষ হয়। এখন দেখি বর্ষাকালে নতুন পদ্ধতিতে ধাপের ওপর ভাসমান বেডে চাষ হচ্ছে। আগামীতে আমরাও এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করব।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় জানান, এতদিন কৃষকরা ধাপের ওপর সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। এবার তরমুজ চাষেও সফলতা পাওয়া গেল। এলাকার আরও কৃষক আগামী বছর থেকে এভাবে তরমুজ চাষ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

রংপুরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয় না কেন

রংপুরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয় না কেন

ফাইল ছবি

কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘কোন দিন কীভাবে লটারি হয়েছে, আমরা জানি না। অনেকের থেকে শুনেছি, এর-ওর নাম লটারিতে উঠেছে। ওদের ধান কোনোদিন বাড়িতে গেছে বলে দেখিনি। ওরা কীভাবে কৃষক হলো?’

কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গত মৌসুমের মতো এবারও ব্যর্থ হয়েছে রংপুর খাদ্য বিভাগ। চলতি বোরো মৌসুমে আট উপজেলার কৃষকের কাছ থেকে ১৭ হাজার ৪০৩ টন ধান কেনার কথা থাকলেও নেয়া হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৪০ টন।

কৃষক নেতাদের অভিযোগ, ধান সংগ্রহের জন্য কৃষক বাছাইয়ের যে প্রক্রিয়া, তা স্বচ্ছ না। প্রকৃত কৃষকরা এ কারণে ধান দিতে পারছেন না। তবে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা তাদের কাছে ধান বিক্রি করেন না।

এর আগের আমন মৌসুমে ১০ হাজার ৩৮২ টন ধান সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত থাকলেও কেবল পীরগঞ্জ থেকে কেনা হয়েছে ২ টন। অন্য সাত উপজেলা থেকে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ।

ধান দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা

রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘কোন দিন কীভাবে লটারি হয়েছে, আমরা জানি না। কম হোক, বেশি হোক, আমরা গ্রামে ধান বিক্রি করেছি।

‘অনেকের থেকে শুনেছি, এর ওর নাম লটারিতে উঠেছে। ওদের ধান কোনোদিন বাড়িতে গেছে বলে দেখিনি। ওরা কীভাবে কৃষক হলো? মৌসুমে ধান কমদামে বিক্রি করেছি। এখন এসব কথা বলে কোনো লাভ নাই।’

কৃষক আরিফুল ইসলাম, মজিবর রহমান, জয়নাল আবেদীনসহ অনেকেই জানালেন, লটারিতে তাদের নাম ধান বিক্রয়কারী কৃষকের তালিকায় ওঠেনি।

রংপুরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয় না কেন


যেভাবে ধান সংগ্রহ হয়

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার জন্য লটারি করে উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটি।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই কমিটির সভাপতি। এর সদস্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ কয়েকজন।

উপজেলায় ধান চাষ করেছেন এমন কৃষকের তালিকা থাকে কৃষি অফিসে। তাদের মধ্য থেকে যারা কৃষি ভর্তুকি পান, তাদের নাম যায় ক্রয় কমিটির প্রধানের কাছে। এটি সরবরাহ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

ওই তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করে ক্রয় কমিটি। বাছাইয়ের তালিকা উপজেলা চত্বর ও উপজেলা খাদ্যগুদামের সামনে টানিয়ে দেয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ার সময় কৃষকরা কোথাও উপস্থিত থাকেন না। অনেকে জানেনই না যে তার নাম লটারিতে উঠেছে।

এতে দেখা যায়, তালিকায় থাকা অনেক কৃষক ধান দিচ্ছেন না। আবার ধান থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম নেই বলে বিক্রি করতে পারছেন না অনেকে। এসব কারণে সংগ্রহের লক্ষ্যও পূরণ হচ্ছে না।

রংপুরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয় না কেন


রংপুর কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘ধান দেয়ার জন্য যে তালিকা অফিসের সামনে ঝোলানো হয়, তা কর্মকর্তাদের করা, নাকি কোনো কৃষকের করা, সেটি বোঝা মুশকিল। কারণ কৃষকরা জানেনই যে তাদের নাম কোনো লটারিতে দেয়া হচ্ছে, কিংবা লটারিতে উঠেছে। জানলে তো তারা অবশ্যই ন্যায্যমূল্যে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতেন।

‘নানা অজুহাত খাঁড়া করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে দালালদের মাধ্যমে তালিকায় কয়েক জনের নাম তোলা হচ্ছে। এতে দালাল-ফড়িয়া ও কিছু অসাধু কৃষি ও খাদ্য কর্মকর্তা লাভবান হচ্ছেন। তালিকায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কৃষকদের উপস্থিতিতে লটারি করতে হবে।’

পলাশ মনে করেন, হাটে-বাজারে সরকারি উদ্যোগে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা উচিত।

খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকৃত কৃষকের নাম দেয়ার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। এটি প্রচারের দায়িত্ব তথ্য বিভাগের। পরিসংখ্যান বিভাগ তালিকা সংরক্ষণ করে সমন্বয় করবেন। সব মিলিয়ে যে তালিকা আসবে, সেখান থেকে খাদ্য বিভাগ লটারি করবে। তবে, কৃষি বিভাগ তাদের কাজ ঠিকমতো করে না। সমন্বয়হীনতা রয়েছে তথ্য ও পরিসংখ্যান বিভাগেরও।

রংপুরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয় না কেন


লটারি হওয়া উচিত কৃষকের উপস্থিতিতে

দীর্ঘদিন কৃষি নিয়ে কাজ করেন রংপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আফতাব হোসেন। তিনি মনে করেন, উপজেলায় নির্দিষ্ট দিনে প্রকৃত কৃষকদের উপস্থিতিতে লটারি করতে হবে। বিজয়ীদের নাম-মোবাইল ফোন নম্বরসহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তাহলেই ধান সংগ্রহ সঠিকভাবে হবে।

তিনি বলেন, ‘এখন যে প্রক্রিয়ায় ধান কিনতে লটারি করে কৃষকের নাম বাছাই করা হচ্ছে, তাতে কোনোভাবেই প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা সম্ভব না। এই প্রক্রিয়ায় দালাল, ফড়িয়ার দাপট বেড়ে যাবে, যাচ্ছেও। অস্বচ্ছতা আসবে খাদ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে; সে অভিযোগও এর মধ্যে উঠে আসছে। এভাবে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব না।’

আফতাব আরও জানান, খাদ্য বিভাগ যেভাবে কৃষকের কাছ থেকে শুকনো ধান কিনতে চায়, তা কখনই সম্ভব নয়। মাড়াই মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে ধান শুকিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করলে লক্ষ্যও পূরণ হবে, কৃষকরাও লাভবান হবেন।

দায় কৃষকের, বলছে খাদ্য বিভাগ

রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত আমন মৌসুমে ধান কম কেনা হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক সংগ্রহ করা হয়েছে। এটা অনেক ভালো অর্জন।’

লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাজার দর এবং সংগ্রহমূল্য কাছাকাছি থাকায় কৃষকরা ধান দিতে আগ্রহী হন না।

তিনি জানান, এ মৌসুমে বোরো ধানের সরকারি দাম ছিল প্রতি কেজি ২৭ টাকা। সে অনুযায়ী প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৮০ টাকা। স্থানীয় বাজারে কৃষক ধান বিক্রি করেছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ টাকায়। তাদের ক্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ দিতে হয় বলে সরকারি দাম কৃষকদের পোষায় না। এ কারণে তারা ধান দিতে আগ্রহ পান না।

রংপুরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয় না কেন

তিনি বলেন, ‘যাদের নাম লটারিতে উঠে তাদের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে, ইউনিয়ন পরিষদে, খাদ্য অফিসে, অনলাইনে দেয়া হয়। মাইকিং করা হয়। আসলে যখন কৃষকরা বাজারে ভালো দাম পায় তখন তারা সরকারি গুদামে ধান দিতে চায় না।’

কৃষকদের উপস্থিতিতে লটারি করার দাবির বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেন, ‘হাটবাজারে গিয়ে ধান কেনা সম্ভব নয়। আমরা যে ধান কিনি, সেই ধান উন্নত মানের, শুকনো। যে ধান কেজিতে ২৮ টাকা দরে কেনা হয়, তা মিলাররা ২৯ টাকা দরে কিনে সে অনুযায়ী চাল দেন। আর কৃষক বাজারে যে ধান বিক্রি করেন তাতে কাঁচা, চিটি, পাতান, খুদ বেশি হয়।

‘ধান কেনার সময় অনেক কিছুই বিবেচনা করে কিনতে হয় যাতে সরকার লাভবান হয়। হাট থেকে কাঁচা, পাতান থাকা ধান কিনলে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া বাজারে গিয়ে ধান কেনার মতো লোকবল আমাদের নেই।’

শেয়ার করুন

‘লবণাক্ত এলাকায় হবে কৃষি বিপ্লব’

‘লবণাক্ত এলাকায় হবে কৃষি বিপ্লব’

খুলনার ডুমুরিয়ায় ঘেরের আইলে আগাম শিম, অসময়ের তরমুজ ও মরিচ চাষ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকাই উপকূলীয়। লবণাক্ততার কারণে এ এলাকায় সারা বছরে একটি ফসল হতো। এই প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে বছরে কীভাবে দুই বা তিনবার ফসল চাষ করা যায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে আসছি।’

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় কৃষি বিপ্লবের আশা করছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

খুলনার ডুমুরিয়ায় ঘেরের আইলে আগাম শিম চাষ, অসময়ের তরমুজ ও মরিচ চাষ পরিদর্শন শেষে রোববার সকালে এ আশার কথা জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক। এরই মধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা ধান, ডাল, তরমুজ, আলু, ভুট্টা, বার্লি, সূর্যমুখী, শাকসবজিসহ অনেক ফসলের লবণসহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন।

‘এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উপকূলবর্তী বিপুল এলাকার চাষিদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে। চাষিরা এসব ফসলের চাষ করলে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় নতুন করে কৃষি বিপ্লব ঘটবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকাই উপকূলীয়। লবণাক্ততার কারণে এ এলাকায় সারা বছরে একটি ফসল হতো। আমন ধান তোলার পর বছরের বাকি সময়টায় মাঠের পর মাঠ অলস পড়ে থাকত। এই প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে বছরে কীভাবে দুই বা তিনবার ফসল চাষ করা যায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে আসছি।

‘এরমধ্যে অনেক সাফল্য এসেছে। এটিকে আরো সম্প্রসারিত করা হবে যেন এ এলাকায় সারা বছর ধরে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায়।’

এ সময় মন্ত্রী জানান, সেচের পানির সমস্যা দূর করতে খুলনা ও বাগেরহাটে ৬০০’র বেশি খাল খনন বা পুনঃখনন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, উপকূলীয় এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ২৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষযোগ্য ২১ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর আর লবণাক্ত এলাকার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর। এ ছাড়া লবণ পানির ভয়াবহতার কারণে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় এলাকায় ৫ লক্ষাধিক হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যায়।

শেয়ার করুন