মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

৬০ একর জমিতে ২০টি পুকুর থেকে বছরে ৩ কোটি টাকার পাঙাশ বিক্রি করেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার জয়নাল আবেদীন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, জয়নাল আবেদীন পুরোনো মৎস্য চাষি। অল্প সময়ে সফলতা পেয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন। এমন দৃষ্টান্ত দেখে নতুন করে অনেকে মাছ চাষে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া বহু বেকার যুবক মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তাদের খামারেও আশপাশের লোকজন শ্রমিক হিসেবে কাজ পেয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন।

মাছ চাষের পরিকল্পনা করেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার জয়নাল আবেদীন ১৯৯৫ সালে। সে সময়ে স্থানীয় এক মৎস্য চাষি বন্ধু তাকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেন।

লোকসানের কথা চিন্তা করে পরিবার তাকে নিরুৎসাহিত করলেও শক্ত মনোবলে প্রথমে পাঁচটি পুকুরে পাঙাশ চাষ শুরু করেন।

বর্তমানে ৬০ একর জমিতে ২০টি পুকুর থেকে বছরে ৩ কোটি টাকার পাঙাশ মাছ বিক্রি করেন তিনি।

পরিশ্রম আর মনোবলকে কাজে লাগিয়ে বদলেছেন ভাগ্যের চাকা। কিনেছেন জমি, গড়েছেন পাঁচতলা বাড়ি। মাছ চাষে এমন সফলতা পেয়ে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের কাছে জয়নাল এখন আইডল।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকায় তার মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির একেকটি পুকুর। পুকুর পরিচর্যাসহ মাছকে খাবার দিতে ব্যস্ত কর্মচারীরা। আশপাশের বেকার যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি।

কথা হয় কর্মচারী মামুন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অভাবের সংসারে তিনবেলা ঠিকমতো পেডে ভাত দিবার পারছে না পরিবার। এর মধ্যে লেহাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও করবার পারছি না। একটু বড় হতেই বিভিন্ন কাজকাম কইরা সংসার চালাইতাম।

মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

‘দূরে কাজ করলে থাইক্যা খায়্যা (থেকে-খেয়ে) সব ট্যাহা (টাকা) খরচ হয়। এ জন্য কয়েক বছর আগে মৎস্য খামারের মালিককে বললে তিনি এখানে কাজ দেন। এখন যা বেতন পাই, তা দিয়েই ভালোভাবে সংসার চলে।’

মামুনের মতো এখানে কাজ পেয়েছেন শরিফ, রমজান, জহিরুল, আবদুল্লাহ, সামাদ, আইজুল, হৃদয়সহ অন্তত ২০ জন। তাদের সবাই নিয়মিত কাজ করলেও অনেকে আবার বিভিন্ন কাজ শেষে হঠাৎ মাছ ধরা, ছাড়া ও পরিচর্যার কাজ করেও টাকা আয় করেন। নিজ এলাকার মৎস্য খামারে কাজ পেয়ে তারাও খুশি।

মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

স্থানীয়রা জানান, জয়নাল আবেদীন পুরোনো মৎস্যচাষি। অল্প সময়ে সফলতা পেয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন। এমন দৃষ্টান্ত দেখে নতুন করে অনেকে মাছ চাষে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া বহু বেকার যুবক মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তাদের খামারেও আশপাশের লোকজন শ্রমিক হিসেবে কাজ পেয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন।

জয়নালের খামার দেখতে যান নতুন মাছ চাষি আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নিজের জমিতে কৃষিকাজ করেই কোনো রকমে আমার সংসার চলত। তবে চোখের সামনে ওনার (জয়নাল আবেদীন) মাছ চাষের সাফল্য দেখে অবাক হই। মনে মনে ভেবেছিলাম, তিনি সফল হলে আমি কেন পারব না?

‘তখন আমার বেশ কিছু জায়গা পতিত ছিল। সেগুলো খনন করে পুকুরে পাঙাশ চাষ করি। আমিও অবিশ্বাস্য সাফল্য পেয়েছি। নিজে সুখে আছি, আমার খামারে সাতজন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করে তাদের সংসারও ভালো চলেছে।’

মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

আরেক পুরোনো মাছ চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জয়নাল আবেদীন মাছ চাষের মাত্র তিন বছরে অবিশ্বাস্য সাফল্য পেয়েছেন৷ এমন দৃশ্য দেখে আমিও ২৩ বছর যাবৎ মাছ চাষ করছি। প্রথম থেকেই লাভের মুখ দেখি৷ এতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

‘প্রথমে একটি পুকুরে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি। বর্তমানে ১২ একর জায়গায় বড় ছয়টি পুকুরে মাছ চাষ করছি। এখানে নিয়মিত ১১ জন কর্মচারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। আমি মাছ চাষে শতভাগ সফল হয়েছি।’

মাছ চাষে সফলতা পাওয়া জয়নাল আবেদীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৬ বছর হলো মাছ চাষে সম্পৃক্ত হয়েছি। লাভ না হলে এখানে টিকে থাকা সম্ভব ছিল না। তবে শুরুটা ছিল কঠিন। মনের ভেতর প্রচণ্ড সাহস আর আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে দ্রুত সফলতা পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্থানীয় এক বন্ধু মাছ চাষ করত। বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তার ফাঁকে হঠাৎ বলল, মাছ চাষে লাভ বেশি। তখন থেকেই মনে প্রবল ইচ্ছা ছিল মাছ চাষ করার। তখন বাসায় গিয়ে বাবাকে বিষয়টি বললে বাধা দেন। পরিবার তখন মনে করল আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথ বেছে নিচ্ছি।

মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

‘তবুও পরিবারকে বুঝিয়ে মাছ চাষের জন্য ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএফআরআই) গিয়ে মাছ চাষের পরামর্শ নিই। সেখান থেকে পাঙাশ মাছের পোনা সংগ্রহ করি। প্রথমে ছোট পাঁচটি পুকুরে পোনা প্রতিপালন করি। এক বছরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভ হয়েছিল। তখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় পুকুরের সংখ্যা আর মাছের পোনা ছাড়া বৃদ্ধি করি। এভাবে মাছ চাষে সফলতা পেয়েছি।’

জয়নাল আরও বলেন, ‘বেকার অনেক ছেলে আমার কাছে আসছে। তাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। অনেক যুবক এরই মধ্যে মাছ চাষে সফলতা পেয়েছে। এ ছাড়া যারা শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারাও আমাকে দেখে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন। এতে নিজের সফলতার পাশাপাশি বেকারত্ব ঘুচছে।’

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই পাঙাশ চাষ লাভজনক ছিল। এ কারণে ময়মনসিংহের অনেকেই পাঙাশ চাষে আগ্রহী হন। আগে পাঙাশের পোনা জেলার বিভিন্ন হ্যাচারিতে পাওয়া যেত। বর্তমানে বগুড়া ও সান্তাহার থেকে আনতে হয়। দুই বছর ধরে পাঙাশ দেশের বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। এ কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রপ্তানি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়।

‘এ ছাড়া তরুণদের এসএমই ঋণ দিয়ে মাছ চাষে আগ্রহী করতে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। এতে বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে।’

মাছ চাষিদের ‘আইডল’ জয়নাল

ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, জেলায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৮ টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে মাছের চাহিদা রয়েছে ১ লাখ টনের কিছু বেশি। উদ্বৃত্ত মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে সাড়ে ৪ লাখ টন পাঙাশ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ টন ময়মনসিংহে উৎপাদন হয়। সব ধরনের মাছ চাষের জন্য গত বছর তিন হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বহু শিক্ষিত যুবক মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ নতুন করে মাছ চাষে আগ্রহী হলে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ নিউজবাংলাকে জানান, পাঙাশ চাষের শুরু থেকেই বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা চাষিদের কারিগরিসহ নানাভাবে সহায়তা করছেন। দেশে পাঙাশের চাহিদার অর্ধেক ময়মনসিংহের খামারিরা জোগান দিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত, কর্মহীন ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি নির্বাচনে আসে না, বরং নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে চোরাগলি পথে ক্ষমতায় আসতে নানান পায়তারা করছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসতে হলে তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের ভোটে জয়ী হয়েই আসতে হবে।’

বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন দল বলে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ভয় পায়। তাই তারা চোরাগলি পথে ক্ষমতায় আনতে চায়।

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভা মিলনায়তনে শনিবার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত, কর্মহীন ও দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি নির্বাচনে আসে না, বরং নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে চোরাগলি পথে ক্ষমতায় আসতে নানান পায়তারা করছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসতে হলে তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের ভোটে জয়ী হয়েই আসতে হবে।

‘নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের বাইরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নিরপেক্ষ সরকার এরকম কোনো কিছুই গঠিত হবে না।’

এ সময় করোনাকালে সরকারের মানবিক সহায়তার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, ‘করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে গরীব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তা সারা বিশ্বে নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী সকল শ্রেণি-পেশার অসহায় মানুষকে জিআর, ২০ টাকা কেজিতে চাল, ৩০ টাকা কেজিতে ওএমএস চালসহ নানান সাহায্য ও সহযোগিতা দিয়েছেন। এর ফলে করোনাকালেও দেশে খাদ্যের কষ্ট নেই।

‘আমাদের মনে রাখতে হবে দেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এ সংখ্যাটি কম নয়। এই মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা মিলেও ১০ লাখ মানুষ নেই। এসব রোহিঙ্গাদেরকে খাবার ও আশ্রয় আমাদের দিতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন: যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন: যুবককে খুঁজছে পুলিশ

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ পুলিশের নজরে এসেছে। “Saddam K” নামের আইডি থেকে এক যুবক লাইভে এসে এক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনে সাহায্য করছেন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই স্থানটি রামনগর এলাকায়। 

দিনাজপুর শহরের রামনগরে ফেসবুকে লাইভে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গাঁজা সেবন করানোর অভিযোগে এক যুবককে খুঁজছে পুলিশ।

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ পুলিশের নজরে এসেছে। “Saddam K” নামের আইডি থেকে এক যুবক লাইভে এসে এক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনে সাহায্য করছেন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই স্থানটি রামনগর এলাকায়।

আসাদুজ্জামান জানান, ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে ভিডিওতে যাকে গাঁজা দেয়া হচ্ছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন, রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ান।

এ ঘটনার পর লাইভ করা সাদ্দাম নামের ওই আইডির মালিককে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির লোগো। ফাইল ছবি

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ওই দিন দুপুরে র‌্যাব সদরদপ্তরে তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রাহকের করা মামলার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ জন।

এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার আসিক আলীকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার কানসাটে গোপালনগর মোড় এলাকায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রেনুয়ারা বেগম ও দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের হারুন আলী।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে ২ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিদর্শক আরও জানান, হেলপার ট্রাকটি চালাচ্ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ও তার এক বছর বয়সী নাতি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফাজিলপুর এলাকায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বিয়ানীবাজার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলঢুপ পাতন গ্রামের ৭০ বছরের সফিক উদ্দিন ও তার নাতি আরিয়ান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সকালে ফাজিলপুর এলাকায় বিয়ানীবাজার থেকে যাওয়া প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় কানাইঘাটমুখী পিকআপ ভ্যানের। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে হুছনা বেগম, ফাতেমা আক্তার পপি, তামান্না ও নাসির উদ্দিনকে। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহদুটিও সেখানে নেয়া হয়েছে।

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন পিকআপচালক।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছেন।’

সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ছড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বলে মনে করছেন এসব নেতা।

ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবে সাংবাদিকদের মনে গভীর উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মসিউর রহমান বলেন, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কোনোদিন এরকম ঘটনা ঘটেনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি।

‘নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছে।’

বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন মসিউর রহমান। বলেন, ‘কারণ, গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারেনা।’

বিএফআইইউ সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তথ্য পাওয়ার আগেই তথ্য চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্যও জানতে চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মশিউর রহমান বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএফআইইউর দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি। কেননা এতে করে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যা কারো কাম্য নয়।’

সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসীর সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানান মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে বিবেচনায় আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয় তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।’

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমাজকে পাশে চেয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংকটে আপনারা আমাদের পাশে থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা আপনাদের পাশে চাই। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি ধামকিতে আমরা অতীতে যেমন পিছপা হইনি, ভবিষ্যতেও হব না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে কারণে ব্যাংক হিসেব তলব করে তার কিন্তু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন থাকে বা জঙ্গি অর্থায়নে সাস্পেক্ট করা হয়…তবে আমাদের এমন কোনো অভিযোগের কারণ নেই। আমি সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে তারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তথ্যমন্ত্রী ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলনে এসেছিলেন। ওনাকে জিজ্ঞেসা করেছি। উনিও বলছেন উনি কিছুই জানেন না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিকে উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আমরা বিস্মিত যে এভাবেও কোনো চিঠি হয়। তারা ১২ তারিখে চিঠি জারি করেছে। আমরা জেনেছি গণমাধ্যমে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএনপিপন্থি) বিএফইজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএনপিপন্থি) ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য বদল হানিফের

শেয়ার করুন