অনলাইনেই জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

অনলাইনেই জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটের নিউ প্রিন্স ডেইরি ফার্মে ১৩০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যেই অনলাইনে ৫৩টি গরু বিক্রি করেছেন।

ফেসবুক এখন আর শুধু নিজেদের তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়। ফেসবুকে রীতিমতো জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানির পশু বেচাকেনার অনলাইন হাট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিটি উপজেলায় কোরবানির পশু বিক্রির জন্য খোলা হয়েছে ফেসবুক পেজ।

খামারিরা তাদের পশুর তথ্য ছবিসহ আপলোড করছেন সেই পেজে। ক্রেতারা তথ্য পড়ে, ছবি দেখে কিনছেন মনমতো গরু।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ হাজার ৩৭০টি তালিকাভুক্ত পশুর খামার আছে। এই খামারগুলোতে এবারের ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৭৭টি পশু।

এর পাশাপাশি অনেকেই ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য পারিবারিকভাবে পশু পালন করেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২টি।

অনলাইনে পশু বিক্রি হবে কি না এই শঙ্কা কাটতে শুরু করেছে খামারিদের। এভাবে গরু কিনে নতুন অভিজ্ঞতা পেয়ে খুশি অনেক ক্রেতাও।

পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটের নিউ প্রিন্স ডেইরি ফার্মে ১৩০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যেই অনলাইনে ৫৩টি গরু বিক্রি করেছেন। তাদের খামারে ১ লাখ টাকা থেকে ৬ লাখ টাকার গরু আছে।

খামারের মালিক মো. নাসিরউদ্দিন জানান, তিনি প্রতিদিনই গরু বিক্রি করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের জেলা থেকে ক্রেতারা এসে খামার থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। তার আগেই অনলাইনে ঠিক করে রাখছেন পছন্দের গরু।

অনলাইনেই জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

নাইমা হাম্বা ফ্যাক্টরি নামের খামারে আছে ২১টি গরু। তার মধ্যে অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে পাঁচটি।

এর মালিক পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শরীফ ভান্ডারি জানান, এ বছরই তিনি খামারটি করেছেন। আগামীতে আরো বেশি গরু লালনপালন করবেন।

কাউসার এগ্রো ফার্মে আছে ফাইটার, খাসা, শাহিওয়াল, হরিয়ান ও নেপালি জাতের গরু।

রূপচান্দ বিবি ডেইরি খামারের মালিক জানান, অনলাইনের পাশাপাশি সরকার হাট বসানোর অনুমতি দেয়ায় তারা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত।

শুধু একক উদ্যোগেই নয়, নবীনগর উপজেলার বড়াইল গ্রামে ১২ বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন স্বপ্ন ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম।

তাদের ফার্মের ৩৯টি গরুর মধ্যে ১১টিই অনলাইনে বিক্রি করে ফেলেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ. বি. এম সাইফুজামান বলেন, ‘কোরবানির পশু নিয়ে খামারি বা ক্রেতাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি উপজেলায় ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। অনলাইনে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই পশু কেনাবেচা চলছে।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমন চাষে বীজ-সংকট

আমন চাষে বীজ-সংকট

পাইকগাছার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিলারগের কাছে বীজ আছে। তারা দাম তিন গুণ বেশি করে নেচ্ছে। যে বীজ সরকার তাদের দিছিল তার সব বীজ তো লাগেনি। তাহলে বাকি বীজ কোথায় গেল?’

খুলনায় আমন ধান চাষে দেখা দিয়েছে বীজসংকট। সরকারি গুদামে নেই বীজ। খোলা বাজারেও চাহিদা অনুযায়ী বীজ মিলছে না।

দ্বিতীয় দফায় বীজতলার জন্য চারা উৎপাদনে এ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে এবার কৃষকদের একটি বড় অংশ চাষবাদ থেকে বঞ্চিত হবে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর খুলনার ৯ উপজেলায় ৯২ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর জন্য ৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বীজতলায় চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

কৃষকরা আমনের চারার জন্য ৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করে। কিন্তু গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার কৃষকরা।

কয়রা উপজেলার কৃষক মোস্তাজিবুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমবার পানিতি চাতর (বীজতলা) নষ্ট হয়ে গেছে। শ্রাবণ মাসের অর্ধেকের বেশি পার হয়ে গেছে। নতুন করে চারা বানাইয়ে ধান লাগাতে নাবি (দেরি) হয়ে যাবেনে। বীজ তো পাওয়াই যাচ্ছে না।’

উপজেলার বেদকাশী ইউনিয়নের কৃষক আল আমিন সানা বলেন, ‘বৃষ্টিতে বিলির পানি সরিনি। সব বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন বীজতলার জন্যি ৪০০ টাকা বস্তার ধান কিনিছি ১২০০ টাকা দিয়ে। এ বছর জমি চাষে খরচ বেশি হয়ে যাবেনে। খরচ পুষাই নিয়াও কঠিন হবেনে।’

আমন চাষে বীজ-সংকট

দাকোপ উপজেলার কৃষক নিরঞ্জন বৈদ্য জানান, গত কয়েক দিন উপজেলা সদরে খোঁজ করেও আমনের বীজ পাননি তিনি। গ্রামের একজনের বাড়িতে অতিরিক্ত পাঁচ কেজি আমন বীজ ছিল। সেগুলো দিয়ে নতুন করে বীজতলা করার চেষ্টা করছেন তিনি।

পাইকগাছার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিলারগের কাছে বীজ আছে। তারা দাম তিন গুণ বেশি করে নেচ্ছে। যে বীজ সরকার তাদের দিছিল তার সব বীজ তো লাগেনি। তাহলে বাকি বীজ কোথায় গেল?’

খুলনা কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বীজ) উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খুলনার গুদামে উপকূলীয় অঞ্চলে চাষের মতো কোনো বীজ নেই। লবণসহিষ্ণু জাতের ধান আমরা আগেই ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করেছি। এখন শুধু ৩৪ জাতের ধান রয়েছে গুদামে। এগুলোতে পোলাও-বিরিয়ানির চাল হয়। এটা খুলনায় চাষের জন্য উপযুক্ত না।’

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এর জন্য ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ৯৬৫ হেক্টর জমির বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

কৃষকদের বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ কেনায় কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।

কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কয়রা উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। বৃষ্টির কারণে ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলা ও পাশের জেলাগুলো থেকে বীজ এনে সমন্বয় করতে।’

বীজ-সংকটের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা উদ্বৃত্ত বীজের খোঁজ নিচ্ছি। তবে কৃষকরা জমির প্রকৃতি বুঝে ধানের জাত নির্বাচন করেন। যেখানে যে ধান প্রয়োজন সেখানে সেই ধানের বীজ এবার হয়তো পাবেন না তারা। সে ক্ষেত্রে কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। এরপরও আমরা পাশের জেলাগুলোতে খোঁজ নিয়ে চাহিদা অনুযায়ী বীজধান সরবরাহের চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

কৃষি পণ্য বেচাকেনার জন্য সদাই অ্যাপ

কৃষি পণ্য বেচাকেনার জন্য সদাই অ্যাপ

বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিপণ্য কেনাবেচার অ্যাপ সদাইয়ের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ সকল কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে, উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। এসব উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিপণনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকেরা যে পণ্য উৎপাদন করে তা অনেক সময় বাজারজাত করতে পারেন না, সঠিক মূল্য পান না। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি ভোক্তাকে সঠিক মূল্যে, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য কেনার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সদাই অ্যাপটি কাজ করবে।

দেশে কৃষি পণ্য বেচাকেনার জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপ সদাই নিয়ে এসেছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিপণ্য কেনাবেচার এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

‘সদাই’ বাস্তবায়ন করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

‘সদাই’ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রথম কৃষি বিপণন অ্যাপ। এর ভাষা বাংলা। এটির মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার সরাসরি যোগাযোগ হবে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ‘সদাই’ প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও ক্রয়বিক্রয় মনিটরিং করবে। পণ্যের উপযুক্ত দাম নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তার নিবন্ধন বাতিল করবে। অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা ও অধিদপ্তর পরিচালিত কল সেন্টার থাকবে।

কৃষক ও উদ্যোক্তাগণ ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে কমিশনবিহীন বিক্রির সুযোগ পাবে। মোবাইল ব্যাংকিং পেমেন্ট এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি পেমেন্টের সুযোগ পাওয়া যাবে। মূল্য যাচাইয়ের সুযোগ ও অর্ডারকৃত পণ্যের ট্র্যাকিং সুবিধা রয়েছে। অধিদপ্তর কৃষক ও উদ্যোক্তাগণকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকবে। ক্ষেত্র বিশেষে কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা পাওয়া যাবে।

ভোক্তা ও উদ্যোক্তাদার জন্য সদাই অ্যাপ আলাদা। প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। লিংক: ১) সদাই (ভোক্তা): https://play.google.com/store/apps/details?id=com.dam.sodai; ২) সদাই (উদ্যোক্তা)-https://play.google.com/store/apps/details?id=com.dam.ku

উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য কেনাবেচায় ‘সদাই’ অ্যাপটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ অ্যাপটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, কৃষিপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে কাজ করবে। একইসঙ্গে, ভোক্তারা যাতে না ঠকে, প্রতারণার শিকার না হয় এবং নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য পায় সেজন্য অ্যাপটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ সকল কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে, উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। এসব উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিপণনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকেরা যে পণ্য উৎপাদন করে তা অনেক সময় বাজারজাত করতে পারেন না, সঠিক মূল্য পান না। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি ভোক্তাকে সঠিক মূল্যে, নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পণ্য কেনার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ‘সদাই’ অ্যাপটি কাজ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

সোলার ফ্যান নিয়ে মাঠে কাজ করার সময় রাজু। ছবি: নিউজবাংলা

রাজু বলেন, ‘আমি একদিন একটা ক্ষেতের সাইডে বইসে আছিলাম। দেখলাম, মেলা রইদের জন্যে এক কৃষক ফিড (অজ্ঞান) অয়ে (হয়ে) গেলো গা। পরে সবাই ধরাধরি কইরে মাথাত পানি দিল। তারপর ওই বেডা আস্তে আস্তে বালা (ভালো) অইলো (হলো)। এরপর আমি চিন্তা করলাম, কৃষকদের জন্যে কী করন যায়। পরে ৯ মাস গবেষণা কইরে কৃষকের ছায়া আর বাতাসের জন্যে আমি সোলার ফ্যান বানাই।’

জামালপুর সদরের শরিফপুর ইউনিয়নের বেপারীপাড়ার রাজু আহম্মেদ পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর টানা ২৫ বছর ধরে করছেন ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ।

বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান ঠিক করা এবং এর কয়েল বাঁধানো রাজুর প্রধান কাজ হলেও কৃষিযন্ত্র নিয়ে কাজ করা তার নেশা।

এটি করতে গিয়ে রাজু এমন একটি ফ্যান তৈরি করেছেন, যা জীবন বাঁচাতে পারে তীব্র রোদে মাঠে কাজ করা কৃষকদের।

এ ফ্যানে বাতাস যেমন মেলে, সঙ্গে ছায়াও পাওয়া যায় রোদ থেকে। ফ্যান চলে সোলার প্যানেলের সূর্যের আলোর শক্তিতে। এ কারণে এর নাম দিয়েছেন ‘সোলার ফ্যান’। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ যেমন লাগে না, পাশাপাশি সোলার প্যানেলটি এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যাতে মাথায় ছায়াও পাওয়া যায়।

বহন করাও কষ্টদায়ক নয়। মাত্র আড়াই কেজির সোলার ফ্যানটি কাঁধে লাগিয়ে মাঠজুড়ে কাজ করতে পারেন কৃষক।

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজু জানান, এ ধরনের ফ্যান তৈরির চিন্তা তার মাথায় আসে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

তিনি বলেন, ‘আমি একদিন একটা ক্ষেতের সাইডে বইসে আছিলাম। দেখলাম, মেলা রইদের জন্যে এক কৃষক ফিড (অজ্ঞান) অয়ে (হয়ে) গেলো গা। পরে সবাই ধরাধরি কইরে মাথাত পানি দিল। তারপর ওই বেডা আস্তে আস্তে বালা (ভালো) অইলো (হলো)।

‘এরপর আমি চিন্তা করলাম, কৃষকদের জন্যে কী করন যায়। পরে ৯ মাস গবেষণা কইরে কৃষকের ছায়া আর বাতাসের জন্যে আমি সোলার ফ্যান বানাই।’

রাজু কাজ করেন শরিফপুর বাজারে ছোট্ট একটি দোকানে ইলেকট্রিশিয়ানের সহযোগী হিসেবে। সেই দোকানেই তার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

রাজু বলেন, ‘কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে গবেষণা কইরেই আমার দিন যাইতাছে। এরপরে যা কামাই করি তার অর্ধেক সংসারে দেই আর অর্ধেক গবেষণার জন্যে মাল (যন্ত্রপাতি) কিনি। আমি পয়লা ২০১১ সালে আম পাড়ার ডিজিটাল একটা যন্ত্র বানাই।

‘এইডেই প্রথম। এরপরে ২০১৬ সালে কইডা (কয়েকটা) মেশিন বানাইছিলাম। যেডে (যেটা) দিয়ে ঘাস কাটা যায়, মাটির ঢেলা পরিষ্কার করা যায়, ক্ষেত নিড়ানো যায়, হাল দেয়া যায়, মই দেয়া যায়, ভুট্টার বীজ বপন করা যায়।

‘এরপর ২০১৭ সালে মোবাইল দিয়ে পাখি তাড়ানোর এডা (একটা) মেশিন বানাই। সরকারি লোকেরা এডার নাম দিছিলো ডিজিটাল কাকতাড়ুয়া।’

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

তিনি জানান, ওই যন্ত্রগুলো এখন আর তার কাছে নেই। বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তারা এসে নিয়ে গেছেন, কিন্তু পরে আর সাড়া পাননি।

এসব কারণে ২০১৭ সালে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অভাবেও পড়েন। এরপর টানা তিন বছর এ ধরনের কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপরই ক্ষেতের পাশে বসে থাকা অবস্থায় কৃষকের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ওই ঘটনাটি দেখেন।

তারপরই ফ্যানটি তৈরি করেন তিনি। যন্ত্রটি তৈরি করতে রাজু ২০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ডিসি দুটি ছোট ফ্যান, দুটি সুইচ, একটি বেল্ট ও বডি মেকানিক্যাল ব্যবহার করেছেন।

রাজু বলেন, ‘এইটা বানাইতে আমার অনেক খরচ হইছে। ব্যাটারি দিলে অনেক ওজন হয়, আর কারেন্টের বানাইলে কৃষকের খরচ বেশি হইব। তাই সোলার ফ্যান বানাইছি।

‘প্রথমে দুইটা ফ্যানের ওজন বেশি হওয়ায় বাদ দিয়ে দিছি। পরে এখন এইটা বানাইছি। এইটার ওজন আড়াই কেজি। এইডা বানাইতে আমার চৌদ্দ শ টাকা খরচ হইছে।’

সোলার ফ্যান নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যদি সরকারি সহায়তা পাই, তাহলে এই ফ্যানটি চারভাবে নির্মাণ করে বাজারে ছাড়মু। এর ফলে কৃষকরা অনেক উপকৃত হইব। যদি ভালোভাবে বানাতে পারি তাইলে কৃষকরা ৩০০ থাইকে শুরু কইরে ১ হাজার টাকার মধ্যে এই ফ্যান কিনতে পারব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে রাজু বলেন, ‘আমি একটা ইঞ্জিন বানাইছি। যেইডে (যেটা) কোনো জ্বালানি ছাড়া শুধুমাত্র বাতাস দিয়ে চলব। এর কাজ ৯০ শতাংশ শেষ।

‘কিছু কাজ বাকি আছে। এর জন্যে অনেক টাকার প্রয়োজন, তাই সরকারি সহায়তার খুব প্রয়োজন।’

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজুর ফ্যান ব্যবহারকারী এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে ক্ষেতে কাম করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাইতাম। ঘাম হইত, অসুখ হইত, মাতা বেন্দা (ব্যথা) করত। এহন এই ফ্যান ব্যবহার করলে অনেক বাতাসও লাগে আবার ছায়াও আসে। তাই আমি মাঝে মধ্যে রাজু ভাইরে ডাক দিয়ে আইনে এই ফ্যান ব্যবহার করি।’

শরিফপুর ইউনিয়নের আরেক কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘রাজু যে ফ্যানডা বানাইছে। এইডে আমারসহ সব কৃষকেরই দরকার। কিন্তু রাজুর কাছে টাকা নাই। তাই চাহিদা থাকলেও ফ্যান সাপ্লাই দিবার পাইতাছে না।’

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন আনসারী সুমন বলেন, ‘যাদের রৌদ্রে বের হতে সমস্যা হয়, তারা এই সোলার ফ্যানটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে রোদ থেকে বাঁচা যাবে আর বাতাসও পাওয়া যাবে।’

শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার পরিষদের পক্ষ থেকে রাজুকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার করব। এতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।’

রাজুর সোলার ফ্যান নিয়ে জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজু উদ্ভাবন পাগল একজন মানুষ। সে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে খুবই ভালোবাসে। তবে সে অত্যন্ত গরিব বলে এই যন্ত্রটি উন্নত করতে পারছে না।’

তিনি জানান, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে তারা জয়দেবপুরে কৃষি প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাজুকে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা করা যায় কি না সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

খুব সকালে নয়তো গোধূলিবেলায় কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ শিকার করেন জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ে বাগদা চিংড়ি, বোয়াল, কালবাউশ, বাইনসহ নানা প্রজাতির মাছ।

কয়েক দিন ধরে গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। এগুলো নদীর পাড় থেকেই কিনে নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের ডুমুর নামক স্থানে উৎপন্ন হয়ে ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করে কুমিল্লা সদর উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর গোলাবাড়ী, টিক্কারচর, কাপ্তানবাজার হয়ে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, কোম্পানীগঞ্জ, দাউদকান্দি হয়ে জোয়ারভাটাহীন নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে।

গোমতীর আলেখারচর অংশে শনিবার বিকেলে জেলেদের জালে চিংড়ি কালবাউশের সঙ্গে একটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলে আবদুর রহিম বলেন, ‘মাজে মইধ্যে দুই একডা ইলিশা মাছ পাই। ইলিশাটি ছোডু। মাঝে মইধ্যে আবার বড়ও ধরা পড়ে। কয়দিন আগে এক কেজি ওজনের একটা পাইছিলাম। আশটে শ (৮০০) টেহায় বেচ্চি।’

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া নিয়ে বিস্মিত নন নদীপাড়ের মানুষ।

নদীটির আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘মইধ্যে মইধ্যে এক-দুইডা ইলিশ পাওন যায়। জাউল্লাডি (জেলেরা) জাল দিয়া বেড় দেয়। একটা-দুইডা ইলিশ উডে। এডি আবার মাইনষে বেশি দামে কিন্না লইয়া যায়।’

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া।

তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

তিনি আরও বলেন, ‘গোমতী নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে। প্রজননের সময় পদ্মা ও মেঘনা হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দু-চারটে ইলিশ গোমতীতে চলে আসতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

সাতক্ষীরায় টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। তিন মাস আগে জলোচ্ছ্বাস ইয়াসের প্রভাবে ঘেরের ১৬ কোটি টাকার ক্ষতির পর এখন মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

সাতক্ষীরায় অতিবৃষ্টিতে পুকুর উপচে পানিতে ভেসে গেছে রোপা আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের। পানিতে থইথই করছে সাত উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন আর দুই পৌরসভার নিম্নাঞ্চল।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। তিন মাস আগে জলোচ্ছ্বাস ইয়াসের প্রভাবে ঘেরের ১৬ কোটি টাকার ক্ষতির পর এখন মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার বেশির ভাগ নিচু এলাকা এখন পানির নিচে। পৌরসভার ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা হাসান ঔরঙ্গীন (ময়না) জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকা তলিয়ে যায়। আর বৃহস্পতিবার থেকে যে বৃষ্টি, তাতে চারদিকে পানি থইথই করছে। চারদিকে আটকানো পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। এই অবস্থা থেকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থাও নেই।

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল জানান, পৌরসভায় পানিনিষ্কাশনের যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। গুটি কয়েক লোক পৌরসভার মধ্যে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

গত দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পৌরসভার ইটাগাছা, কামাননগর, রসুলপুর, মেহেদিবাগ, মধুমোল্লারডাঙ্গী, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোল, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুড্ডিরডাঙি, কাটিয়া মাঠপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙা ইউনিয়নের বিলগুলোতে রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণসায়ের খালও পানি টানতে পারছে না। প্লাবিত এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

অতিবৃষ্টির ফলে গদাইবিল, ছাগলার বিল, শ্যাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, কচুয়ার বিল, চেলারবিল, পালিচাঁদ বিল, বুড়ামারা বিল, হাজিখালি বিল, আমোদখালি বিল, বল্লীর বিল, মাছখোলার বিলসহ কমপক্ষে ২০টি বিল ডুবে গেছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে গেছে পানিতে।

বেতনা নদীর তীরবর্তী বিলগুলোর পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে না পেরে পৌর এলাকার ভেতরে ঢুকছে। সবজি ক্ষেতগুলো ভাসছে পানিতে। মানুষের যাতায়াতেও ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনিসহ জেলার সাতটি উপজেলা। সেখানে প্রধান রাস্তার ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থইথই করছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি, কৈখালী, রমজাননগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নেরও চিত্র একই। বসতবাড়িতে উঠেছে পানি। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার মানুষ।

তালা উপজেলার ইসলামকাটি, মাগুরা, কুমিরা, খেশরা, তেঁতুলিয়া, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।

কালীগঞ্জের রতনপুর, কালিকাপুর, বিষ্ণুপুর, মথুরেশপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও সবজিক্ষেত ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেবহাটার কোমরপুর, পারুলিয়া, সখীপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়েছে পুকুর ও ঘের।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

কলারোয়ার জয়নগর, ধানদিয়া, যুগিখালি, সোনাবাড়িয়া, শ্রীপতিপুর, ব্রজবকসসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি ওঠায় ব্যহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৫ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। আর ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ হেক্টর জমির সবজিরও নষ্ট হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় মাছের ক্ষতি হয় ১৭৬ কোটি টাকা। ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতি হয় ১৬ কোটি টাকা। সবশেষ এই বৃষ্টিতে ব্যাপক বর্ষণে ৫৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে আশাশুনির শ্রীউলা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আলাউল ইসলাম বলেন, ‘বছরে তিন থেকে চারবার আমাদের মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেই। ৫০ বিঘার একটি ঘেরে আম্পানে আমার ক্ষতি হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। ইয়াসে ক্ষতি ছিল ৫ লাখ টাকা। আর বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে ঘের ভেসে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।’

ঘের ব্যবসা আগামীতে বাদ দেবেন বলে জানিয়েছেন আলাউল ইসলাম।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

শ্যামনগরের পদ্মপুকুর এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, তার ১০০ বিঘার একটি ঘের রয়েছে। তার ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবেন এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তা আছেন।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবু জর গিফারী বলেন, ‘আমার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ২০ টন চাল দেয়া হয়েছে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার ১৯ হাজার ৪৫৯টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘর-বাড়িসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আজকের মধ্যে পেয়ে যাব। তখন কোথায় কেমন বরাদ্দ করতে হবে তা বুঝতে পারব।

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলাব্যাপী ঘেরের সকল অবৈধ নেট-পাটা স্থাপনকারীকে স্ব-উদ্যোগে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় নেট-পাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলিয়ে ৯৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্ষা ঋতুর দ্বিতীয় মাস শ্রাবণে সাধারণত টানা বৃষ্টি থাকে দেশে। তবে শ্রাবণের অর্ধেক চলে গেলেও পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দেখা নেই বৃষ্টির। এতে অনেকটা প্রকৃতিনির্ভর আমন চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে।

মূল মৌসুমে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বৃষ্টি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলোতে এখনও চারা রোপণ করতে পারেননি কৃষকরা। এতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

পঞ্চগড় কৃষি বিভাগ জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বর্ষাকালে ঠিকমতো বৃষ্টির দেখা মিলছে না। গত বছর জুলাই মাস পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫১০ মিলিমিটার। সেখানে এ বছর জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১ হাজার ৪২৭ মিলিমিটার।

এমন পরিস্থিতিতে সেচযন্ত্র ব্যবহার করে কৃষকদের আমন চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এভাবে কৃষকরা আমন চারা রোপণের কাজ শেষ করবেন বলে আশা কৃষি বিভাগের।

কৃষকরা জানান, হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে বন্যার প্রকোপ কম থাকায় নিচু ও অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে প্রকৃতিনির্ভর আমন ধান চাষ করা হয়। বর্ষার শুরুতেই চারা রোপণ শুরু হয়। এরপর হওয়া বৃষ্টির পানিতেই উঠে আসে আবাদ। আলাদা করে সেচ দিতে হয় না।

এ বছরও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ার পর আমন চারা রোপণ শুরু করেন কৃষকরা। তবে শেষদিকে এসে পানির অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে চারা রোপণের কাজ। নিচু জমিতে চারা রোপণ শেষ হলেও প্রায় ১৪ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে পানির অভাবে এখনও চারা লাগানো যায়নি। আগে চারা লাগানো অনেক জমির পানিও শুকিয়ে গেছে।

আমনের চারা লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এসব জমিতে আর চারা রোপণের সময় থাকবে না। চারা রোপণ করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কায়েত পাড়ার চাষি আনিসুর রহমান জানান, পানির অভাবে ১০ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগাতে পারছেন না। সময়মতো রোপা লাগাতে না পারলে ফলন নেমে আসবে অর্ধেকের কমে।

সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হাশেম আলী বলেন, ‘আমি এবার প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করব। ইতোমধ্যে ১৫ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগানো হয়েছে। পানির অভাবে এখনও ৩ বিঘা জমিতে চারা লাগাতে পারিনি।

‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এ জমিগুলো পতিত রাখতে হবে। আরেক সমস্যা হলো, যেসব জমিতে চারা লাগিয়েছি সেগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি না হলে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিতে হবে। এতে করে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।’

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলিয়ে ৯৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এরই মধ্যে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশ জমিতে আমন চারা লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বাকি জমিতে চারা লাগানোর কাজ থমকে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সেচ দিয়ে হলেও জমিতে চারা রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। আমাদের পরামর্শ মোতাবেক অনেক কৃষক শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি, আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে জমিতে আমন চারা রোপণের কাজ শেষ করতে পারবেন চাষিরা।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে অনাবৃষ্টির কারণে নষ্ট হচ্ছে আমনের চারা। ছবি: নিউজবাংলা

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। বৃষ্টির অপেক্ষায় চলে যাচ্ছে আমন রোপণের মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকে তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন।

বন্যা কারও জন্য আশীর্বাদ, কারো জন্য সর্বনাশ। যে শ্রাবণ মাসে নদ-নদী, পুকুর-খাল-বিলে পানি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, সেখানে উল্টো চিত্র কুড়িগ্রামে। ভারী বৃষ্টিপাত নেই। ফলে তাপপ্রবাহ চলছে জেলায়।

১৬টি নদ-নদীর কুড়িগ্রাম জেলায় রয়েছে ৩১৬ কিলোমিটার নদীপথ। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী এবং রাজিবপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদই রয়েছে ৩৭ কিলোমিটার।

তিস্তা নদী রাজারহাট, উলিপুর এবং চিলমারীতে ৩৫ কিলোমিটার। ধরলা নদী ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম সদর এবং উলিপুরে ৩৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। ভারতের উজান থেকে নদ-নদী দিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদী দিয়ে আসে। ফলে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন- এই চার মাস নদীগুলোতে কানায় কানায় পানি থাকে। বছরের বাকি আট মাসের মধ্যে কার্তিক, অগ্রহায়ণ- দুই মাস পানি মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায়। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ মাসে পানি একেবারে কমে আসে।

উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে পানিপ্রবাহ কমে আসায় নদীগুলোতে পানিসংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম
সেচের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে আমনের চারা

কুড়িগ্রামে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে চলে যাচ্ছে আমন রোপণের মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকেই তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন। চড়া রোদের কবল থেকে চারা বাঁচাতে অনেকে দফায় দফায় সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচও। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছ না পেয়ে জেলেরা অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকার কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, সেচ দিয়ে চারা লাগানোর পরও তীব্র খরায় জমি ফেটে যাচ্ছে। বারবারেই সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। অথচ এই সময় তারা বৃষ্টির পানিতেই আবাদ করেন।

কিন্তু এ বছর আবাদ শুরুতেই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সামনে বৃষ্টি না হলে আগাম খরা দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

পাঁচগাছি ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক স্বপন আহমেদ বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে রোপণ বিলম্বিত হওয়ায় চারার বয়স বেড়ে রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ছত্রাক ধরে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা।

এ অবস্থায় আমন রোপণ নিয়ে সংকটে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। বাড়তি খরচে সেচ দেয়ার সংগতি নেই যাদের, সেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি রয়েছেন বিপাকে।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম


ধরলা নদী জেলে মকবুল হোসেন বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তেমন বৃষ্টি নেই। প্রচণ্ড গরম। নদীতেও পানি নেই। গত বছর এই সময় বন্যা থাকায় তার মাছ ধরে সংসার চলেছে। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিও নেই, নদীতে পানিও নেই।

মকবুল হোসেন আরও বলেন, ‘নদীর পাড়ত আসলে চোখে পানি আসে। সারা দিন রোদে বসি থাকি হাফ কেজি মাছও পাও না। লকডাউন চলতেছে, তেমন কাজও নাই। এখন সংসার চালানো কঠিন।’

পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এবার শ্রাবণ মাসেও তাপমাত্রা কমছে না। তাপমাত্রা বেশি থাকায় গরমে জ্বর, চুলকানি, ঘা-পাঁচড়া, ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকায়। এই ভ্যাপসা গরমে শিশু আর বয়স্কদের খুব কষ্ট হচ্ছে। রোদে জমির পটোল, করলা, বেগুনক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামে অর্ধশতাধিক নদ-নদী রয়েছে, সেগুলোর পরিচর্যা করা হয় না। ফলে অনেক নদী ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বাকিগুলো ভরাট হয়ে পড়ছে।

‘এতে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে অল্পতেই বন্যা এবং নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে করে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফসলের ক্ষতি হয়, জমির ক্ষতি হয়। যে বছর বৃষ্টি কম হয়, সে বছর পানির স্তর কমে যায়।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম


‘গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলার কারণে মাটির উপরিভাগের গঠন নষ্ট হয়ে যায়। কুড়িগ্রামের নদীগুলোকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংস্কার এবং খনন করে সারা বছর পানিপ্রবাহ ধরে রাখা যায়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, মধ্য আগস্ট পর্যন্ত চারা রোপণের সময় থাকলেও চারার বয়স বেড়ে গেলে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কৃষকদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। জেলায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক গভীর নলকূপসহ প্রায় সব সেচপাম্প চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ করেছেন কৃষকরা। এর ৮০ ভাগই সেচের সাহায্যে রোপণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও রংপুর অঞ্চলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বর্তমানে লঘুচাপটি স্থল নিম্নচাপ আকারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাব কেটে যাওয়ার কারণে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে এই মুহূর্তে অতিভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার পূর্বাভাস নেই।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন