নেত্রকোণার ‘যুবরাজের’ দাম ১১ লাখ টাকা

নেত্রকোণার ‘যুবরাজের’ দাম ১১ লাখ টাকা

নেত্রকোণার পূর্বধলায় ভাই ভাই খামারে পালন করা যুবরাজ। ছবি: নিউজবাংলা

যুবরাজের পরিচর্যার দায়িত্বে নিয়োজিত সুলতান মিয়া বলেন, ‘দিনে দুইবার খাবার দিই যুবরাজকে। প্রতিদিন গম, নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি, ধানের গোড়া, মশুরের ডালের ভুসি খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ কেজি খাবার লাগে।’

জন্মের কয়েক মাস পরে চালচলনে আভিজাত্য দেখে তার নাম রাখা হয় যুবরাজ। সাড়ে তিন বছর বয়সী যুবরাজের ওজন এখন প্রায় ১ হাজার কেজির বেশি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে যুবরাজের দাম ১১ লাখ হেঁকেছেন কলেজ ও খামারি তুহিন মোজাম্মেল হক।

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার বানিয়াকান্দা গ্রামে যুবরাজকে দেখতে প্রতিদিনই ভাই ভাই ডেইরি খামারে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। সাড়া জাগানো যুবরাজকে ঘিরে এলাকায় খামারে গরু পালনেও উৎসাহী হয়ে উঠছেন অনেকে।

পূর্বধলা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক তুহিন মোজাম্মেল হক। শিক্ষকতার পাশাপাশি চার বছর আগে ৫২ হাজার টাকায় কেনা একটি ফ্রিজিয়ান গাভি দিয়ে গড়ে তোলেন ভাই ভাই ডেইরি খামার।

তিনি বলেন, ‘খামার শুরুর কয়েক মাস পরেই জন্ম হয় যুবরাজের। চালচলনে আভিজাত্য দেখে এই নাম রাখি। খামারেই বড় হতে থাকে সে। একই সঙ্গে খামারে গরুর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ১৫টিতে।’

যুবরাজকে প্রাকৃতিক পরিবেশে লালনপালন করার কথা জানিয়ে তুহিন বলেন, ‘অবসর সময়ে গরুর খামারের পরিচর্যার কাজ করি। দেখাশোনার জন্য দুজনকে নিয়োগ দিয়েছি। তিন জনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই যুবরাজ।’

তবে লকডাউনের কারণে যুবরাজকে বিক্রি করা নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথাও জানালেন তিনি। অন্য খামারিদের মতোই আশঙ্কায় আছেন, যুবরাজকে ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন কি না।

খামারের কর্মচারি ও যুবরাজের পরিচর্যার দায়িত্বে নিয়োজিত সুলতান মিয়া বলেন, ‘দিনে দুইবার খাবার দিই যুবরাজকে। প্রতিদিন গম, নেপিয়ার ঘাস, খড়, ভুসি, ধানের গোড়া, মশুরের ডালের ভুসি খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ কেজি খাবার লাগে।’

তিনি বলেন, ‘বড় গরু রাখা এখন তো কঠিন হয়ে গেছে। রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয় যুবরাজের।’ তুহিনের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়েছে এলাকার যুবসমাজ। গ্রামে এখন বেশ কয়েকটি খামার গড়ে উঠেছে।

বানিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা নুর উদ্দিন বলেন, ‘তুহিন ভাই বেকার সমাজের সামনে আদর্শ হয়ে উঠেছেন। আমাদের এলাকায় অনেকেই এখন খামার করছেন। এতে এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন ধর বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিক খামারে প্রায় এক লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গরুর মালিকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শসহ টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে জেলায় গরু বেচাকেনা নিয়ে দু:শ্চিন্তার তেমন কিছু নেই। অনলাইনেও গরু কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
পিরোজপুরের ‘শান্ত’র দাম হাঁকা হচ্ছে ২০ লাখ
নৌকা ভর্তি ভারতীয় গরু জব্দ
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গরুর হাট
এবার কী হবে বাহাদুর ও কালো মানিকের
খানসামা গরুর হাটে তিলঠাঁই নেই

শেয়ার করুন

মন্তব্য