রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

১৯৮২ সালে ৫৪ একর ভূমির ওপর দেশের বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। সংস্কার না হওয়ায় এর মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

জনবল-সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি।

সাত বছর ধরে কেন্দ্রটির ৮৩ পদের ৫৯টিই রয়েছে খালি। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে পোনা উৎপাদন।

কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন্দ্র চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

১৯৮২ সালে ৫৪ একর ভূমির ওপর দেশের বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। সংস্কার না হওয়ায় এর মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কেন্দ্রর ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আছেন মাত্র ২৪ জন। সাত বছর ধরে শূন্য রয়েছে একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ছয়জন বৈজ্ঞানিক ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চারজন মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজার ও একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৫৯টি পদ।

কেন্দ্রটিতে রয়েছে সাতটি আবাসিক ভবন। লোকবল না থাকায় একটি চার তলা ও তিনটি এক তলা ভবন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

পুকুরের পাড়গুলোও ভেঙে গেছে। বছরের বেশির ভাগ সময় পুকুরগুলোয় পানি-সংকট থাকে। ফলে রুই, কাতল, কালবাউশ ও মৃগেলের মা মাছ মরে যায়।

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

স্থানীয় মাছচাষি মশিউর রহমান মিটু, আবদুল আজিজসহ কয়েকজন নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেন, প্রকৃত মাছচাষিরা পোনা পাচ্ছেন না। চাষি নন এমন লোকও পোনা পাচ্ছেন।

এসব অনিয়ম ও জনবল সংকট দূর হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং কেন্দ্রটির পুরোনা ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

হ্যাচারির কর্মচারী মোক্তার মিয়াসহ কয়েকজন জানান, জনবল সংকটের কারণে রাত-দিন কাজ করতে হয়। একই সংকটের কারণে ঠিকমতো পোনা উৎপাদন করা যাচ্ছে না। হিমশিম খেতে হয়।

তাদের একজন বলেন, ‘তারপরও প্রতিষ্ঠানের পোনা উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ কোনো রকমে চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। একসময় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা যে কাজ করতেন, এখন সে কাজ করানো হয় হ্যাচারির গার্ড ও ফিশারম্যানদের দিয়ে।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে শূন্য পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনবল সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর আটজন ফিশারম্যানের পদসহ ৫৯টি পদ খালি রয়েছে। জনবল সংকটের পরও গত অর্থবছরে প্রায় ৬২ লাখ টাকার রেণু পোনা বিক্রি হয়েছে। জনবল সংকট না থাকলে এ বছর চাহিদার দ্বিগুণ রেণু উৎপাদন করা যেত।

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

সাতক্ষীরায় টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। তিন মাস আগে জলোচ্ছ্বাস ইয়াসের প্রভাবে ঘেরের ১৬ কোটি টাকার ক্ষতির পর এখন মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

সাতক্ষীরায় অতিবৃষ্টিতে পুকুর উপচে পানিতে ভেসে গেছে রোপা আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের। পানিতে থইথই করছে সাত উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন আর দুই পৌরসভার নিম্নাঞ্চল।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। তিন মাস আগে জলোচ্ছ্বাস ইয়াসের প্রভাবে ঘেরের ১৬ কোটি টাকার ক্ষতির পর এখন মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার বেশির ভাগ নিচু এলাকা এখন পানির নিচে। পৌরসভার ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা হাসান ঔরঙ্গীন (ময়না) জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকা তলিয়ে যায়। আর বৃহস্পতিবার থেকে যে বৃষ্টি, তাতে চারদিকে পানি থইথই করছে। চারদিকে আটকানো পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। এই অবস্থা থেকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থাও নেই।

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল জানান, পৌরসভায় পানিনিষ্কাশনের যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। গুটি কয়েক লোক পৌরসভার মধ্যে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

গত দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পৌরসভার ইটাগাছা, কামাননগর, রসুলপুর, মেহেদিবাগ, মধুমোল্লারডাঙ্গী, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোল, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুড্ডিরডাঙি, কাটিয়া মাঠপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙা ইউনিয়নের বিলগুলোতে রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণসায়ের খালও পানি টানতে পারছে না। প্লাবিত এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

অতিবৃষ্টির ফলে গদাইবিল, ছাগলার বিল, শ্যাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, কচুয়ার বিল, চেলারবিল, পালিচাঁদ বিল, বুড়ামারা বিল, হাজিখালি বিল, আমোদখালি বিল, বল্লীর বিল, মাছখোলার বিলসহ কমপক্ষে ২০টি বিল ডুবে গেছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে গেছে পানিতে।

বেতনা নদীর তীরবর্তী বিলগুলোর পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে না পেরে পৌর এলাকার ভেতরে ঢুকছে। সবজি ক্ষেতগুলো ভাসছে পানিতে। মানুষের যাতায়াতেও ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনিসহ জেলার সাতটি উপজেলা। সেখানে প্রধান রাস্তার ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থইথই করছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি, কৈখালী, রমজাননগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নেরও চিত্র একই। বসতবাড়িতে উঠেছে পানি। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার মানুষ।

তালা উপজেলার ইসলামকাটি, মাগুরা, কুমিরা, খেশরা, তেঁতুলিয়া, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।

কালীগঞ্জের রতনপুর, কালিকাপুর, বিষ্ণুপুর, মথুরেশপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও সবজিক্ষেত ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেবহাটার কোমরপুর, পারুলিয়া, সখীপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়েছে পুকুর ও ঘের।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

কলারোয়ার জয়নগর, ধানদিয়া, যুগিখালি, সোনাবাড়িয়া, শ্রীপতিপুর, ব্রজবকসসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি ওঠায় ব্যহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৫ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। আর ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ হেক্টর জমির সবজিরও নষ্ট হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় মাছের ক্ষতি হয় ১৭৬ কোটি টাকা। ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতি হয় ১৬ কোটি টাকা। সবশেষ এই বৃষ্টিতে ব্যাপক বর্ষণে ৫৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে আশাশুনির শ্রীউলা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আলাউল ইসলাম বলেন, ‘বছরে তিন থেকে চারবার আমাদের মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেই। ৫০ বিঘার একটি ঘেরে আম্পানে আমার ক্ষতি হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। ইয়াসে ক্ষতি ছিল ৫ লাখ টাকা। আর বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে ঘের ভেসে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।’

ঘের ব্যবসা আগামীতে বাদ দেবেন বলে জানিয়েছেন আলাউল ইসলাম।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

শ্যামনগরের পদ্মপুকুর এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, তার ১০০ বিঘার একটি ঘের রয়েছে। তার ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবেন এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তা আছেন।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবু জর গিফারী বলেন, ‘আমার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ২০ টন চাল দেয়া হয়েছে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার ১৯ হাজার ৪৫৯টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘর-বাড়িসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আজকের মধ্যে পেয়ে যাব। তখন কোথায় কেমন বরাদ্দ করতে হবে তা বুঝতে পারব।

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলাব্যাপী ঘেরের সকল অবৈধ নেট-পাটা স্থাপনকারীকে স্ব-উদ্যোগে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় নেট-পাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলিয়ে ৯৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্ষা ঋতুর দ্বিতীয় মাস শ্রাবণে সাধারণত টানা বৃষ্টি থাকে দেশে। তবে শ্রাবণের অর্ধেক চলে গেলেও পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দেখা নেই বৃষ্টির। এতে অনেকটা প্রকৃতিনির্ভর আমন চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে।

মূল মৌসুমে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বৃষ্টি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলোতে এখনও চারা রোপণ করতে পারেননি কৃষকরা। এতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

পঞ্চগড় কৃষি বিভাগ জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বর্ষাকালে ঠিকমতো বৃষ্টির দেখা মিলছে না। গত বছর জুলাই মাস পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫১০ মিলিমিটার। সেখানে এ বছর জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১ হাজার ৪২৭ মিলিমিটার।

এমন পরিস্থিতিতে সেচযন্ত্র ব্যবহার করে কৃষকদের আমন চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এভাবে কৃষকরা আমন চারা রোপণের কাজ শেষ করবেন বলে আশা কৃষি বিভাগের।

কৃষকরা জানান, হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে বন্যার প্রকোপ কম থাকায় নিচু ও অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে প্রকৃতিনির্ভর আমন ধান চাষ করা হয়। বর্ষার শুরুতেই চারা রোপণ শুরু হয়। এরপর হওয়া বৃষ্টির পানিতেই উঠে আসে আবাদ। আলাদা করে সেচ দিতে হয় না।

এ বছরও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ার পর আমন চারা রোপণ শুরু করেন কৃষকরা। তবে শেষদিকে এসে পানির অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে চারা রোপণের কাজ। নিচু জমিতে চারা রোপণ শেষ হলেও প্রায় ১৪ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে পানির অভাবে এখনও চারা লাগানো যায়নি। আগে চারা লাগানো অনেক জমির পানিও শুকিয়ে গেছে।

আমনের চারা লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এসব জমিতে আর চারা রোপণের সময় থাকবে না। চারা রোপণ করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কায়েত পাড়ার চাষি আনিসুর রহমান জানান, পানির অভাবে ১০ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগাতে পারছেন না। সময়মতো রোপা লাগাতে না পারলে ফলন নেমে আসবে অর্ধেকের কমে।

সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হাশেম আলী বলেন, ‘আমি এবার প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করব। ইতোমধ্যে ১৫ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগানো হয়েছে। পানির অভাবে এখনও ৩ বিঘা জমিতে চারা লাগাতে পারিনি।

‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এ জমিগুলো পতিত রাখতে হবে। আরেক সমস্যা হলো, যেসব জমিতে চারা লাগিয়েছি সেগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি না হলে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিতে হবে। এতে করে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।’

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলিয়ে ৯৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এরই মধ্যে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশ জমিতে আমন চারা লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বাকি জমিতে চারা লাগানোর কাজ থমকে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সেচ দিয়ে হলেও জমিতে চারা রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। আমাদের পরামর্শ মোতাবেক অনেক কৃষক শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি, আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে জমিতে আমন চারা রোপণের কাজ শেষ করতে পারবেন চাষিরা।’

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে অনাবৃষ্টির কারণে নষ্ট হচ্ছে আমনের চারা। ছবি: নিউজবাংলা

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। বৃষ্টির অপেক্ষায় চলে যাচ্ছে আমন রোপণের মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকে তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন।

বন্যা কারও জন্য আশীর্বাদ, কারো জন্য সর্বনাশ। যে শ্রাবণ মাসে নদ-নদী, পুকুর-খাল-বিলে পানি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, সেখানে উল্টো চিত্র কুড়িগ্রামে। ভারী বৃষ্টিপাত নেই। ফলে তাপপ্রবাহ চলছে জেলায়।

১৬টি নদ-নদীর কুড়িগ্রাম জেলায় রয়েছে ৩১৬ কিলোমিটার নদীপথ। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী এবং রাজিবপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদই রয়েছে ৩৭ কিলোমিটার।

তিস্তা নদী রাজারহাট, উলিপুর এবং চিলমারীতে ৩৫ কিলোমিটার। ধরলা নদী ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম সদর এবং উলিপুরে ৩৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। ভারতের উজান থেকে নদ-নদী দিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদী দিয়ে আসে। ফলে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন- এই চার মাস নদীগুলোতে কানায় কানায় পানি থাকে। বছরের বাকি আট মাসের মধ্যে কার্তিক, অগ্রহায়ণ- দুই মাস পানি মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায়। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ মাসে পানি একেবারে কমে আসে।

উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে পানিপ্রবাহ কমে আসায় নদীগুলোতে পানিসংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম
সেচের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে আমনের চারা

কুড়িগ্রামে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে চলে যাচ্ছে আমন রোপণের মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকেই তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন। চড়া রোদের কবল থেকে চারা বাঁচাতে অনেকে দফায় দফায় সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচও। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছ না পেয়ে জেলেরা অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকার কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, সেচ দিয়ে চারা লাগানোর পরও তীব্র খরায় জমি ফেটে যাচ্ছে। বারবারেই সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। অথচ এই সময় তারা বৃষ্টির পানিতেই আবাদ করেন।

কিন্তু এ বছর আবাদ শুরুতেই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সামনে বৃষ্টি না হলে আগাম খরা দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

পাঁচগাছি ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক স্বপন আহমেদ বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে রোপণ বিলম্বিত হওয়ায় চারার বয়স বেড়ে রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ছত্রাক ধরে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা।

এ অবস্থায় আমন রোপণ নিয়ে সংকটে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। বাড়তি খরচে সেচ দেয়ার সংগতি নেই যাদের, সেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি রয়েছেন বিপাকে।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম


ধরলা নদী জেলে মকবুল হোসেন বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তেমন বৃষ্টি নেই। প্রচণ্ড গরম। নদীতেও পানি নেই। গত বছর এই সময় বন্যা থাকায় তার মাছ ধরে সংসার চলেছে। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিও নেই, নদীতে পানিও নেই।

মকবুল হোসেন আরও বলেন, ‘নদীর পাড়ত আসলে চোখে পানি আসে। সারা দিন রোদে বসি থাকি হাফ কেজি মাছও পাও না। লকডাউন চলতেছে, তেমন কাজও নাই। এখন সংসার চালানো কঠিন।’

পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এবার শ্রাবণ মাসেও তাপমাত্রা কমছে না। তাপমাত্রা বেশি থাকায় গরমে জ্বর, চুলকানি, ঘা-পাঁচড়া, ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকায়। এই ভ্যাপসা গরমে শিশু আর বয়স্কদের খুব কষ্ট হচ্ছে। রোদে জমির পটোল, করলা, বেগুনক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামে অর্ধশতাধিক নদ-নদী রয়েছে, সেগুলোর পরিচর্যা করা হয় না। ফলে অনেক নদী ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বাকিগুলো ভরাট হয়ে পড়ছে।

‘এতে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে অল্পতেই বন্যা এবং নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে করে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফসলের ক্ষতি হয়, জমির ক্ষতি হয়। যে বছর বৃষ্টি কম হয়, সে বছর পানির স্তর কমে যায়।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম


‘গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলার কারণে মাটির উপরিভাগের গঠন নষ্ট হয়ে যায়। কুড়িগ্রামের নদীগুলোকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংস্কার এবং খনন করে সারা বছর পানিপ্রবাহ ধরে রাখা যায়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, মধ্য আগস্ট পর্যন্ত চারা রোপণের সময় থাকলেও চারার বয়স বেড়ে গেলে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কৃষকদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। জেলায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক গভীর নলকূপসহ প্রায় সব সেচপাম্প চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ করেছেন কৃষকরা। এর ৮০ ভাগই সেচের সাহায্যে রোপণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও রংপুর অঞ্চলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বর্তমানে লঘুচাপটি স্থল নিম্নচাপ আকারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাব কেটে যাওয়ার কারণে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে এই মুহূর্তে অতিভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার পূর্বাভাস নেই।

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

ঘের ভেসে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি, নষ্ট ২০০ হেক্টর বীজতলা

ঘের ভেসে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি, নষ্ট ২০০ হেক্টর বীজতলা

খুলনায় জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে গেছে মৎস্য ঘের, আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে খুলনা জেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে ২০০ হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। মৎস্য ঘেরে ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৫০ কোটি টাকা। অনেক ঘর-বাড়ি ও সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমিনুল আজাদ জানান, খুলনায় বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২১ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া কয়রায় বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ মিলিমিটার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, জোয়ারের প্রভাবে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে দুই ফুট বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে গেছে মৎস্য ঘের, আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কয়রার গাতিরঘের এলাকার বাসিন্দা মওলা বক্স জানান, জোয়ার ও বর্ষার পানিতে তার উঠান ও গোয়ালঘরে পানি উঠে গেছে। ফলে পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে দারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পাইকগাছার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার জানিয়েছেন, পানির চাপে পাইকগাছার গদাইপুর, রাড়ুলী, চাঁদখালী, লস্কর, কপিলমুনি ও হরিঢালীসহ বিভিন্ন স্থানে মৎস্য ঘের, আমন বীজতলা ও ফসলী জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাইকগাছার মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী ইউনুছ আলী জানান, দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাতে তার ১০ বিঘার মৎস্য ঘের পানিতে ডুবে গেছে। জাল ও নেট দিয়ে রক্ষার চেষ্টা চলছে।

দাকোপের ঘের ব্যবসায়ী সোহাগ আহমেদ বলেন, ৫ বিঘার ঘেরে সব পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সব মাছ পানিতে ভেসে গেল। এখন আর কোনো উপায় রইল না।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিবর্ষণে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে চরম ভোগান্তির তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া দুই দিনের বৃষ্টিতে এলাকার মানুষের আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে আমন চাষ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার বিশ্বাষ বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে খুলনা জেলায় ডুবে যাওয়া মৎস্য ঘেরে অন্তত ৫০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

খুলনা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, ভাটা শেষ না হতেই জোয়ার শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে বর্ষা হচ্ছে। এ অবস্থায় খুলনা জেলায় ২ শ’ হেক্টর আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

ভেসে গেছে ৯ হাজার চিংড়িঘের

ভেসে গেছে ৯ হাজার চিংড়িঘের

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম রাসেল নিউজবাংলাকে জানান, গত দুই দিনে জেলার ৪৭টি ইউনিয়নের সাড়ে ৭ হাজার পুকুর, ৯ হাজার চিংড়িঘের ও ২৫০টি কাঁকড়াঘের ভেসে গেছে। চিংড়িতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা, চিংড়ির রেণুতে ২৬ লাখ টাকা, সাদা মাছে ২ কোটি টাকা, কাঁকড়ায় ১৫ লাখ টাকাসহ সাড়ে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে ৯ হাজার চিংড়িঘের।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে ৮৬ দশমিক ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর, মোরেলগঞ্জের পানগুছি, মোংলার পশুর, বাগেরহাটের ভৈরব, দড়াটানাসহ সব নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে জেলার চিংড়িঘের ও সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম রাসেল নিউজবাংলাকে জানান, গত দুই দিনে জেলার ৪৭টি ইউনিয়নের সাড়ে ৭ হাজার পুকুর, ৯ হাজার চিংড়িঘের ও ২৫০টি কাঁকড়াঘের ভেসে গেছে।

চিংড়িতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা, চিংড়ির রেণুতে ২৬ লাখ টাকা, সাদা মাছে ২ কোটি টাকা, কাঁকড়ায় ১৫ লাখ টাকাসহ সাড়ে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বাগেরহাটের রামপালের পেড়িখালী গ্রামের চিংড়িঘের ব্যবসায়ী জামাল শেখ বলেন, ‘আমার ১০ বিঘার একটি ঘের ভেসি গেইছে। তিন লাখ টাকার মাছ ছিল, সব শেষ। আমি পথে বইসে গেলাম ভাই।’

মোংলার জয়মনি এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আনোয়ার ব্যাপারী জানান, ঘরে হাঁটুসমান পানি। তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল ঘেরটি ডুবে গেছে। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে কী করবেন জানেন না।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টার ৮৬ দশমিক ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে মোংলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাটের নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব ফসলি জমি ডুবে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। তবে বৃষ্টি না থামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

দেশে সরকারি খাদ্যশস্য মজুতের রেকর্ড

দেশে সরকারি খাদ্যশস্য মজুতের রেকর্ড

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় সরকারি গোডাউন। ফাইল ছবি

দেশে সিএসডি ও এলএসডি গোডাউনে বর্তমান ধারণ ক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টন হলেও সরকারি খাদ্যগুদামে মোট মজুতের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৬৯ লাখ মেট্রিক টন। আগস্ট শেষে এ মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে। সরকারি গোডাউনে খাদ্যশস্য মজুতের পরিধি বাড়ানো নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার।

দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ১৬ দশমিক ৬৯ কোটি মেট্রিক টন বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দিয়ে মজুতের হিসেবে রেকর্ড করতে যাচ্ছে সরকার।

বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় খাদ্যশস্য মজুতের এ রেকর্ড হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলমান অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৭ জুলাই পর্যন্ত ৭ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৩ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন ধান এবং ১ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে।

১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বোরো সংগ্রহ অভিযান। অবশিষ্ট সময়ে আরও ৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের আশা করছে সরকার।

গত কয়েক মাসে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন চাল ও গম। আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল বিদেশ থেকে আসার অপেক্ষায় আছে।

দেশে সরকারি খাদ্যশস্য মজুতের রেকর্ড
দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ১৬ দশমিক ৬৯ কোটি মেট্রিক টন। এর মধ্যে দিয়ে মজুতের হিসেবে রেকর্ড করতে যাচ্ছে সরকার।

দেশে সিএসডি ও এলএসডি গোডাউনে বর্তমান ধারণ ক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টন হলেও সরকারি খাদ্যগুদামে মোট মজুতের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৬৯ লাখ মেট্রিক টন।

আগস্ট শেষে এ মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে। সরকারি গোডাউনে খাদ্যশস্য মজুতের পরিধি বাড়ানো নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার।

খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম বলেন, ‘এই মৌসুমে সরকারি সংগ্রহ মূল্য বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সংগ্রহ অভিযান সফল হওয়ার পথে। কৃষক এবার ফসলের নায্যমূল্য পেয়ে খুশি।’

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। একজন মানুষও যেন খাবারের কষ্ট না পায় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় সব সময় সচেষ্ট ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্য মজুত সক্ষমতা বাড়াতে ৩টি সাইলোর নির্মাণ কাজ শেষের পথে, ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি সাইলোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং চারটির টেন্ডার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

সম্প্রতি একনেকে ৩০টি পেডি সাইলোর অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ১৭০টি পেডি সাইলো নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। এগুলো নির্মিত হলে খাদ্য শস্য মজুত নিয়ে আর চিন্তা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন

গবেষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

গবেষণায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

সচিবালয়ে অফিস কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম প্রিসামিটের ‘খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরে বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো’ শীর্ষক সেশনে যোগ দেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

ইরি, সিমিট, ওয়ার্ল্ডফিশ, ইফরি, সিআইপিসহ সিজিআইএআরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ গত ৫০ বছর ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে রাজ্জাক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, চলমান কোভিডসহ নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানবিনিময়ের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অফিস কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম প্রিসামিটের ‘খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরে বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো’ শীর্ষক সেশনে এ আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক কৃষিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত সংগঠন (সিজিআইএআর) ও আন্তর্জাতিক কৃষক সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দসহ সবধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ধান, গম, ভুট্টা, ফল ও শাকসবজির অনেকগুলো উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

ধানের জাত উদ্ভাবনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-ব্রি ১০০টিরও বেশি ধানের উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে ২৬টি জাত বন্যা, খরা, লবণাক্ততাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসহিষ্ণু। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটও (বারি) জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসহিষ্ণু ধান ও অন্যান্য ফসলের বেশ কিছুজাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া, দেশের বিজ্ঞানীরা বিশ্বে প্রথম জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।

ইরি, সিমিট, ওয়ার্ল্ডফিশ, ইফরি, সিআইপিসহ সিজিআইএআরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ ৫০ বছর ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে রাজ্জাক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, চলমান কোভিডসহ নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের ফুড সিস্টেম সামিটে সিজিআইএআরের বিশেষ প্রতিনিধি কানায়ো এনওয়ানজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইথিওপিয়ার কৃষি প্রতিমন্ত্রী ফিকরু রিগাসা, মেক্সিকোর কৃষিমন্ত্রী ভিক্টর ভিল্লালোবোস, সিজিআইএআরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্লদিয়া সাদোফ, আন্তর্জাতিক কৃষক সংগঠনের মহাসচিব অ্যারিয়ানা জিওলিওদোরি, ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ বিজয়ী শকুন্তলা থিলস্টেডসহ অন্যন্যারা বক্তব্য রাখেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ‘ফুড সামিট ২০২১’ কে সামনে রেখে এ প্রাক-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৪৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। সম্মেলনটি শেষ হবে ২৮ জুলাই।

আরও পড়ুন:
প্রতি আসনে যাত্রী নিয়েই ছুটছে ট্রেন
‘রাইড শেয়ার বন্ধ হলে খাব কী?’
স্বাস্থ্যবিধি বাসের সিটে, লাইনে নেই
ধৈর্য ধরতে হবে: বাস সংকট নিয়ে কাদের
গাংনীতে করোনা টিকার সংকট

শেয়ার করুন