জীবন বদলালেও ন্যায্য দামের শঙ্কা

পঞ্চগড়ে একটি সমতলের চা বাগানে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

জীবন বদলালেও ন্যায্য দামের শঙ্কা

চা-চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কিন্তু হঠাৎ করে চা-পাতার দাম ৩৮ টাকা থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় তেমন আর লাভ হচ্ছে না। একেক দিন একেক দামে চা-পাতা কেনে কারখানাগুলো। এ ছাড়া চা-পাতা নেয়ার পর তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২০-৪০ শতাংশ কেটে নেয়।’

হিমালয়ের পাদদেশে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। দুই দশক আগেও পতিত অবস্থায় পড়ে থাকত জেলার বেশির ভাগ উঁচু জমি। পরে সেসব জমিতে চা চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে এই জেলার মানুষের।

ইতিমধ্যে দেশের তৃতীয় চা-অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে পঞ্চগড়।

মার্চের শুরু থেকে মৌসুমে প্রথম চা কাটা ও সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়। বাগান থেকে চাষিরা তাদের চা-পাতা কাটার পর স্থানীয় কারখানায় বিক্রি করেন। চায়ের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা স্বাবলম্বী হলেও গত দুই বছর ধরে দাম ওঠানামা করায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা।

চাষিদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া পাতার ২০-৪০ শতাংশের দাম দেন না কারখানার মালিকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে পঞ্চগড়ে চা চাষ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক চাষে সফলতার পর ২০০০ সাল থেকে শুরু হয় বাণিজ্যিক চাষ। জেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় হাজারও চা-বাগান।

২০২০ সালে চা উৎপাদনে পার্বত্য জেলা চট্টগ্রামকে ছাড়িয়ে গেছে পঞ্চগড়। জেলার পাঁচ উপজেলায় কমবেশি চা-বাগান গড়ে উঠলেও সবচেয়ে বেশি চা-বাগান রয়েছে তেঁতুলিয়ায়। সড়কের পাশে বা উঁচু পতিত জমিতে কিংবা পুকুরপাড়ে এমনকি বাড়ির আঙিনায় রয়েছে চা-বাগান। আবার কেউ কেউ সুপারি, আম, তেজপাতা বাগানের সাথি ফসল হিসেবে করছেন চায়ের চাষ।

চা বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পঞ্চগড়ে চা চাষের উপযোগী ১৬ হাজার একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ৮ হাজার ৬৪২ একর জমিতে চাষ বেড়েছে। চা চাষ বাড়ায় জেলায় গড়ে উঠেছে ১৭টি চা-কারখানা।

গত বছর পঞ্চগড়ে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক কোটি কেজি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছে প্রায় তিন লাখ কেজি। জেলায় বর্তমানে ৯টি নিবন্ধিত চা-বাগান (টি অ্যাস্টেট), ১৬টি অনিবন্ধিত চা-বাগান, ৯৯৮টি নিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তন চা-বাগান এবং ৫ হাজার ৫০০ অনিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তন চা-বাগান রয়েছে।

তেঁতুলিয়ার আজিজনগরের চা-চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার উঁচু জমিতে কোনো ফসল না হওয়ায় পতিত ছিল। পরে ওই জমিতে চা চাষ করি। ভালো দাম পাওয়ায় আমি অনেক লাভবান হয়েছি এবং নতুন করে বাগান লাগিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু হঠাৎ করে চা-পাতার দাম ৩৮ টাকা থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় তেমন আর লাভ হচ্ছে না। একেক দিন একেক দামে চা-পাতা কেনে কারখানাগুলো। এ ছাড়া চা-পাতা নেয়ার পর তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২০-৪০ শতাংশ কেটে নেয়।’

সদর উপজেলার অরখানা মডেলহাট এলাকার চাষি শাহরিয়ার হোসেন শুভ বলেন, ‘কারখানাগুলো তাদের মনগড়া দামে পাতা সংগ্রহ করে। এতে আমাদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে। পঞ্চগড়ে একটি চায়ের অকশন বাজার করলে আমরা ন্যায্য দাম পাব।’

গ্রিন কেয়ার চা কারখানার ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘চা চাষে কৃষকদের পাশাপাশি শ্রমিক ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, এটি সত্য নয়। চা-পাতার দাম অকশন বাজারের ওপর নির্ভর করে৷ এক কেজি চায়ের অর্ধেক পাবে কৃষক আর অর্ধেক পাবে কারখানা। সেই অনুযায়ী চায়ের মূল্য নির্ধারণ হয়।’

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হাসনুর রশিদ বাবু বলেন, ‘সমতলের চা দার্জিলিংয়ের চা-কেও হার মানায়। চা চাষ করে চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি বেকার ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। তবে অকশন বাজার দূরে হওয়ায় কৃষকরা চা-পাতার দাম তেমন পান না।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘চায়ের বাজার স্থিতিশীল থাকলে পঞ্চগড়ের চা-শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে চা চাষ করে অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছে। বেকার ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

নর্দান বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের চা দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি হয়। চা-চাষিদের আমরা সকল প্রকার সেবা ও পরামর্শ দিচ্ছি। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়ে যেন একটি অকশন বাজার স্থাপন করা হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়ার স্তূপ, বেচতে পারছেন না কৃষক

ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়ার স্তূপ, বেচতে পারছেন না কৃষক

কৃষকের বাড়ির সামনে এভাবেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে মিষ্টি কুমড়া। ছবি: নিউজবাংলা

সদর উপজেলার নারগুন এলাকার কৃষক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করি। আশা করেছিলাম প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভালো দাম পাব, কিন্তু বাজারের বর্তমান দামের কথা বিবেচনা করে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। খরচের টাকা উঠবে কিনা সে নিয়ে চিন্তায় আছি।’ 

গত বছর ভালো ফলনের পর সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে এবার অনেক চাষি বিস্তীর্ণ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেন। কৃষি বিভাগের বিনা মূল্যের বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের অনুপাতে দাম কম হওয়ায় বিক্রি করা যাচ্ছে না, ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টের মিষ্টি কুমড়া।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় এ বছর ১ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে খরিপ-১ জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়। আর রবি জাতের মিষ্টি কুমড়া হয় ৯৫০ হেক্টর জমিতে। জেলায় এবার সুইটি, মিতালি, সিটি সেরা ও সোহাগীসহ নানা জাতের মিষ্টি কুমড়া আবাদ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা জানান, সদর উপজেলার নারগুন, ভুল্লি, বড় বালিয়া, ছোট বালিয়া, আউলিয়াপুর, পুরাতন ঠাকুরগাঁও, আখানগর, ঢোলারহাট এলাকায় মিষ্টিকুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত থেকে তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে কুমড়া জমিতেই রেখে দিয়েছেন। এতে বিপুল পরিমাণে কুমড়া পচে যাচ্ছে।

আকচা ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘এবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনা মূল্যে বীজ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ কারণে ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে মিষ্টি কুমড়ার দাম না থাকায় কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাষি হাবলু বলেন, ‘গত বছর ভালো ফলনের পর সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় এ বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছিলাম। এ মৌসুমে ২৮ একর জমিতে কুমড়া লাগাই। কিছুদিন আগে বাজারে মণপ্রতি দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা থাকলেও এখন এক থেকে দেড় শ টাকায় মণ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে লোকসানের মুখে পড়লাম।’

সদর উপজেলার নারগুন এলাকার কৃষক মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করি। আশা করেছিলাম প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভালো দাম পাব, কিন্তু বাজারের বর্তমান দামের কথা বিবেচনা করে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। খরচের টাকা উঠবে কিনা সে নিয়ে চিন্তায় আছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুই ধরনের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে, এর মধ্যে খরিপ-১-এর বিক্রি শেষের দিকে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘জেলায় এবার মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। এখন দাম কিছুটা কম থাকলেও সামনে বাড়বে বলে আশা করছি।’

তিনি জানান, কৃষকের মাঝে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ বিতরণ করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়েও কৃষককে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

আসছে রুই মাছের নতুন জাত ‘সুবর্ণ রুই’

আসছে রুই মাছের নতুন জাত ‘সুবর্ণ রুই’

নতুন উদ্ভাবিত এই রুই মাছ দ্রুত বাড়ে। এটি খেতে সুস্বাদু। দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়। মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ হলে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি মাছ বেশি উৎপাদন হবে।

দেশের বিজ্ঞানীরা রুই মাছের নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা ২০ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে হালদা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের রুই মাছের মধ্যে সংকর করে এটি উদ্ভাবন করেছেন।

বৃহস্পতিবার এটি সাধারণ চাষীদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।

এটিকে তারা বলছেন, চতুর্থ প্রজন্মের রুই মাছ। কারণ এর আগে একই পদ্ধতিতে আরও তিনটি জাত উদ্ভাবন হয়েছে গত এক যুগে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চতুর্থ প্রজন্মের মাছটির নামকরণ করা হয়েছে 'সুবর্ণ রুই'।

বিএফআরআই থেকে জানা যায়, রুই মাছের নতুন এই জাত দ্রুত বাড়ে। এটি খেতে সুস্বাদু। দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, নতুন উদ্ভাবিত এই মাছ মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ হলে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি মাছ বেশি উৎপাদন হবে।

হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্পজাতীয় মাছে জেনেটিক অবক্ষয় হয়। এছাড়া অন্তঃপ্রজননজনিত সমস্যার কারণে মাছের কঠিন। এ থেকে উত্তরণের জন্যই 'সুবর্ণ রুই' উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহা আলী জানান, তিন নদীর রুই মাছের মধ্যে দ্বৈত অ্যালিল ক্রসিংয়ের মাধ্যমে ৯টি গ্রুপ থেকে প্রথমে বেইজ পপুলেশন তৈরি করা হয়েছে। পরে বেইজ পপুলেশন থেকে সিলেকটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ২০০৯ সালে রুই মাছের উন্নত জাতের প্রথম প্রজন্মের মাছ উদ্ভাবন করা হয়।

পরবর্তী সময়ে সিলেকটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে রুই মাছের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের জাত উদ্ভাবন করা হয়।

সবশেষে ২০২০ সালে উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের জাত উদ্ভাবনে সাফল্য এসেছে।

আসছে রুই মাছের নতুন জাত ‘সুবর্ণ রুই’

বৃহস্পতিবার বিএফআরআইয়ের ময়মনসিংহের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভা শেষে নতুন জাতের এ মাছটি অবমুক্ত করা হয় এবং হ্যাচারি-মালিকদের কাছে এই মাছের পোনা হস্তান্তর করা হয়।

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ‘সুবর্ণ রুই’ মাছ স্বাদু পানি ও আধা লবণাক্ত পানির পুকুর, বিল, বাওড় এবং হাওরে চাষ করা যাবে। এ ছাড়া এ জাতের রেণুপোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে নার্সারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকেই লাভবান হতে পারবেন। অর্থাৎ দ্রুত বর্ধনশীল এই মাছটি চাষিদের মুখে হাসি ফোটাবে।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা

বিনামরিচ-১ জাতের ফলন (গ্রিন চিলি) প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পাওয়া যায়। জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ১৩০ থেকে ১৪০ ভাগ বেশি ফলন দেয়। আর বিনারসুন-১ জাতটি প্রতি হেক্টরে ১৩ থেকে ১৫ টন উৎপাদন করা সম্ভব। যা অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মরিচ ও রসুন কৃষকদের কাছে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

ময়মনসিংহ সদরের সুতিয়াখালির কাশিয়ারচর এলাকায় বিনার তত্ত্বাবধানে বিনামরিচ-১ চার বিঘা জমিতে চলতি বছরের (অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর) ও বিনারসুন-১ পাঁচ বিঘা জমিতে শীতকালীন মৌসুমে চাষাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, এ জাতের মরিচের ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় অনেক বেশি হয়। ঝাল তুলনামূলকভাবে কম ও সুগন্ধিযুক্ত এবং সাকুলেন্ট (পানি শোষণের ক্ষমতা)। এ গাছটি আকারে খাটো ও ঝোপালো। প্রথম মরিচ সংগ্রহের পর গাছে ফলনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটি আকারে বড় ও মাংসল।

চারা লাগানোর মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর গাছে ফুল আসা শুরু করে এবং পরবর্তী ২৮ দিনের মধ্যে কাঁচা মরিচ পাওয়া যায়। সাধারণত এভাবে ৯ থেকে ১২ বার কাঁচা মরিচ তোলা যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিনারসুন-১ জাতটি প্রতি হেক্টরে ১৩ থেকে ১৫ টন উৎপাদন করা সম্ভব। যা অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি। ঝাঁজ বেশি হওয়ায় রান্নায় রসুনের পরিমাণও লাগবে কম।

এ ছাড়া প্রচলিত জাতের তুলনায় এ রসুনের কার্যক্ষমতা বেশি। রোপণের পর মাত্র ১৩৫ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যে রসুন ঘরে তোলা যায়। আকারে বড় হওয়ায় উৎপাদন বেশি হয়। এ রসুনের উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে খুবই কম।

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা


এ দুটি জাতের উদ্ভাবক বিনার বিজ্ঞানী ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বিনামরিচ-১ জাতটি দেশের বিভিন্ন মসলা উৎপাদনকারী অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোনো ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়নি।

তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ, থ্রিপস এবং জাবপোকার প্রতি সহনশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। সে ক্ষেত্রে জমিতে চারা রোপণের আগে ডিডি মিকচার বা ফুরাডন-৫ জি দ্বারা মাটি শোধন করে নিলে এসব রোগের প্রকোপ নিশ্চিত কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মিউট্যান লাইন Chilid75P1-এর জার্মপ্লাজমটি ২০১২ সালে চীনের স্থানীয় জাত (Landrace) থেকে কৌলিক সারি হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। এই কৌলিক সারিটি সাইবারডর্ফ ল্যাবরেটরি ভিয়েনা, অস্ট্রিয়ায় বীজে বিভিন্ন মাত্রায় রেডিয়েশন (৭৫ গ্রে, ১৫০ গ্রে এবং ৩০০ গ্রে) প্রয়োগের ফলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।

‘সেখান থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম মিউট্যান্ট প্রজন্ম ময়মনসিংহ, ঈশ্বরদী, মাগুরা, রংপুর, বগুড়া, খাগড়াছড়ি ও কুমিল্লার উপকেন্দ্র এবং কৃষকের মাঠে ৪ থেকে ৫ বছর শীত মৌসুমে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তুলনামূলক ফলন মূল্যায়ন করা হয়।

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা


‘এরপর অগ্রগামী মিউট্যান্টটি (ChiliD75P1) শীত মৌসুমে রোপণের জন্য (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য এপ্রিল) ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০১৭ সালে বিনামরিচ-১ উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে চাষাবাদের জন্য নিবন্ধিত হয়। আমরা বিনা মূল্যে চাষিদের এ জাতটি দিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পরিকল্পনা করছি।’

বিনারসুন-১-এর উদ্ভাবনের সাফল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, উচ্চফলনশীল জাতের অপ্রতুলতার কারণে বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় রসুনের ফলন কম৷ ফলে এর উন্নত জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু হয়।

ভারতের নদীয়া থেকে রসুনের তিনটি জেনোটাইপ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে AC-৫ কোলিক সারিটির ফলন বাংলাদেশে চাষাবাদকৃত অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি এবং দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে যথাযথভাবে ট্রায়াল সম্পন্ন করে জেনোটাইপটি বিনারসুন-১ নামে ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক কৃষক পর্যায়ে সারা দেশে চাষাবাদের জন্য নিবন্ধিত হয়। এর আগে দীর্ঘ তিন বছর এ জাতটি নিয়ে গবেষণা করে সাফল্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, বিনামরিচ-১ জাতের ফলন (গ্রিন চিলি) প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পাওয়া যায়। জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ১৩০ থেকে ১৪০ ভাগ বেশি ফলন দেয়।

নতুন জাত উদ্ভাবন, মরিচ-রসুনে বিপ্লবের আশা


এ ছাড়া বিনারসুন-১ জাতটি অন্যান্য জাতের তুলনায় আকারে বড় হয়। এর প্রতিটি রসুনের কন্দে ২৪ থেকে ৩০টি কোয়া থাকে। এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে খুবই কম।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘দীর্ঘ গবেষণার পর এই জাতগুলো উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের চাষিদের কাছে এ জাতটি ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ দুটি জাত চাষাবাদ করলে খরচ কমার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হবে চাষিরা।’

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

পরিবেশ বিপর্যয় ও অতি আহরণের ফলে পিয়ালি সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের সাফল্যে চাষের মাধ্যমে খাবার টেবিলে ফিরবে মাছটি।

দীর্ঘ তিন বছর গবেষণার পর কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা পিয়ালি মাছের রেণু উৎপাদনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা।

পরিবেশ বিপর্যয় ও অতি আহরণের ফলে এটি এখন সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের এই সাফল্যে চাষের মাধ্যমে খাবার টেবিলে ফিরবে পিয়ালি।

বিএফআরআই সূত্রে জানা যায়, বগুড়া জেলার সান্তাহার প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার পর পিয়ালি মাছের রেণু উৎপাদনে সফল হয়েছেন।

এই মাছ দ্রুত বর্ধনশীল ও খুবই সুস্বাদু। মাছটি আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম পিয়ালি মাছে ৭৫০ মিলিগ্রাম মেথিয়োনিন, ৪২০ মিলিগ্রাম সিস্টিন, ৪৩০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৬৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৫০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ১২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম জিংক, ২৫ মিলিগ্রাম আয়রন, ৮ দশমিক ২১ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ ও ১ দশমিক ৪০ মিলিগ্রাম কপার রয়েছে। অন্য অনেক দেশীয় ছোট মাছের তুলনায় এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে এই মাছ অত্যন্ত কার্যকরী।
এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

গবেষক দলে ছিলেন প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডেভিড রিন্টু দাস, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও মালিহা খানম।

ডেভিড রিন্টু দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিন বছর গবেষণার পর পাঁচজোড়া পিয়ালি মাছে এ বছর জুনের প্রথম সপ্তাহে ১:১ দশমিক ৫ অনুপাতে হরমোন প্রয়োগ করা হয়। হরমোন প্রয়োগের ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর মাছগুলো ডিম ছাড়ে এবং ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর নিষিক্ত ডিম থেকে রেণু উৎপাদিত হয়।

‘ডিম নিষেকের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে রেণুগুলো পালন করা হচ্ছে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই পিয়ালি মাছকে চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, মে থেকে আগস্ট এবং ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে নদীতে প্রজননক্ষম স্ত্রী পিয়ালি মাছ পাওয়া যায়। এ ছাড়া জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জলাশয়ে পিয়ালির পোনার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এই মাছের ডিম ধারণ ক্ষমতা আকারভেদে দেড় হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার।’

উপকেন্দ্রে আরও ২৫ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ নিয়ে গবেষণা চলছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, গবেষণায় এ পর্যন্ত পাবদা, গুলশা, টেংরা, বাটা, ফলি, মহাশোল, খলিশা, বৈরালী, জাতপুঁটি, গজার, আঙ্গুস, খলিসা, মেনি, বালাচাটা, দাতিনা, গুতুম, ঢেলা, বাতাসি ও পিয়ালিসহ বিলুপ্তপ্রায় ২৯টি প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শাহা আলী জানান, পিয়ালি মাছ এলাকাভেদে জয়া, পিয়ালি বা পিয়াসী নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাসপিডোপারিয়া জায়া (Aspidoparia jaya)। এ মাছটি সিপ্রিনিডি (Cyprinidae) পরিবারভুক্ত মিঠা পানির একটি মাছ।

বাংলাদেশ (পদ্মা ও যমুনা এবং তাদের শাখা নদীতে), ভারত (আসাম, উত্তরাঞ্চল, উত্তরপ্রদেশ), নেপাল, ইরান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও আফগানিস্তানে এই মাছের বিস্তৃতি রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা, যমুনার শাখা নদীর এলাকার মানুষের কাছে মাছটি পরিচিত।

একসময় পদ্মা, যমুনা ও শাখা নদী এবং বাঙ্গালী ও আত্রাই নদীতে প্রচুর পাওয়া যেত এই মাছ।

শাহা আলী বলেন, ‘এই মাছ দৈর্ঘ্যে পাঁচ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর দেহ লম্বা ও পার্শ্বীয়ভাবে চাপা। পরিণত পুরুষ মাছের পেট হলুদাভ থাকে এবং স্ত্রী মাছের চেয়ে আকারে অপেক্ষাকৃত বড় হয়। স্ত্রী মাছের পেট ধবধবে সাদা ও হালকা স্ফীতাকার হয়।’
এবার খাবার টেবিলে আসছে চাষের পিয়ালি

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, বাঙ্গালী ও আত্রাই নদীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পিয়ালি মাছের পোনা সংগ্রহ করে উপকেন্দ্রের পুকুরে নিবিড়ভাবে প্রতিপালন করা হয়েছে। গবেষকরা পিয়ালি মাছের খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে খাবার সরবরাহ করেন।

তিনি জানান, প্রাকৃতিক জলাশয়ের পিয়ালি মূলত প্লাংকটন (শ্যাওলা) খেয়ে থাকে। তা ছাড়া বছরব্যাপী জেনেরিক সিস্টেম ইমেজ (জিএসআই) ও হিস্টোলজি পরীক্ষার মাধ্যমে পিয়ালি মাছের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ করা হয়। এ প্রজাতির মাছ সাধারণত বর্ষাকালে অগভীর জলাশয়ে প্রজননে অংশগ্রহণ করে থাকে।

ইয়াহিয়া আরও জানান, শিগগিরই আরও দুটি দেশীয় মাছের পোনা উৎপাদনের সাফল্যের খবর আসছে। গত ১২ বছরে চাষের মাধ্যমে দেশীয় ছোট মাছের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএফআরআইয়ের ময়মনসিংহে অবস্থিত স্বাদুপানি কেন্দ্রে ২০২০ সালে একটি ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং পোনা উৎপাদনে গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০২০ সালে ‘একুশে পদক’ পায়।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

গোখাদ্যের সন্ধানে উত্তাল পদ্মা পাড়ি

গোখাদ্যের সন্ধানে উত্তাল পদ্মা পাড়ি

রাজবাড়ী গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় সারা বছরই থাকে গোখাদ্যের সংকট। ছবি: নিউজবাংলা

নদী তীরবর্তী এলাকার এসব মানুষের অধিকাংশ নদীভাঙনের শিকার ভূমিহীন কৃষক। সম্পদ বলতে কিছু গরু-ছাগলই তাদের সম্বল। কিন্তু নিজেদের জমি না থাকায় তারা পশু পালনে ঘাস চাষও করতে পারেন না। এ জন্য দুর্গম চরাঞ্চলে ঘাসই তাদের ভরসা।

রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় সারা বছরই থাকে গোখাদ্যের সংকট। গবাদিপশুর খাবারের উচ্চমূল্য আর এলাকায় প্রয়োজনীয় কাঁচা ঘাস না পাওয়ায় এ নিয়ে সমস্যা পোহান কৃষক-কৃষানিরা।

বর্ষায় এ সংকট কিছুটা কাটে। এ সময় পদ্মার বিভিন্ন চরে জন্মায় প্রচুর পরিমাণে কড়চা, বন, দুবলা ও বাকশীজাতীয় ঘাস। তবে দুর্গম চরের এসব ঘাস কাটতে জীবনে ঝুঁকি নিয়ে তাদের পাড়ি দিতে হয় উত্তাল পদ্মা।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদী তীরবর্তী এলাকার এসব মানুষের অধিকাংশ নদীভাঙনের শিকার ভূমিহীন কৃষক। সম্পদ বলতে কিছু গরু-ছাগলই তাদের সম্বল। কিন্তু নিজেদের জমি না থাকায় তারা পশু পালনে ঘাস চাষও করতে পারেন না। এ জন্য দুর্গম চরাঞ্চলে ঘাসই তাদের ভরসা।

গৃহপালিত পশুর খাবার সংগ্রহ করতে তাই এখন প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন এ এলাকার শ শ নারী-পুরুষ।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এ নিয়ে কথা হয় কৃষক ওসমান খানের সঙ্গে। তিনি জানান, তার তিনটি গাভি, একটি ষাঁড় ও চারটি ছাগল আছে। সহায়সম্পদ বলতে এগুলোই। নিজের কোনো জমিজমা নেই। সব নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, এসব গরু-ছাগল পালনে প্রচুর খাবার লাগে। খড়, কুঁড়া, ভুসির দাম অনেক। এ জন্য বর্ষা মৌসুমে চর থেকে ঘাস কেটে এনে খাওয়ান।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর সাত্তার মেম্বারের পাড়ার সরূপী বেগম জানান, গোখাদ্যের সংকটে নিজের দুটি গরু ও পাঁচটি ছাগলের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করে আনেন।

ঝুঁকির বিষয়ে বলেন, ‘নিজেরা ঠিকমতো খাইবার পাই না পাই, বোবা গাই-বাছুর গুলানরে তো আর ক্ষিধায় কষ্ট দিবার পারি না। তাই শত কষ্ট অইলেও ওগের জন্যি পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিয়া দুর্গম চরে যাই ঘাস আনতে।’

স্থানীয় নুরজাহান বেগম, রুস্তম কাজী, আব্দুল বেপারিসহ ২৫-৩০ নারী-পুরুষ ঘাস কাটতে যেতে উঠছিলেন একটি ট্রলারে।

তারা জানান, সকালে পান্তা ভাত বা হালকা নাশতা করে ট্রলারে ওঠেন। সঙ্গে কিছু খাবার নেন দুপুরের জন্য। সারা দিন চরে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ঘাস কাটেন। ফেরেন বিকেলে।

ঝুঁকি ও কষ্ট হলেও বোবা প্রাণীগুলোর আহার জোগাতে এ ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই বলে জানান তারা।

ট্রলারচালক নাদের মাঝি জানান, তার মতো আরও বেশ কয়েকটি ট্রলারে প্রতিদিন অনেক নারী-পুরুষ বিশ্বনাথপুর, ভাবৈল, বনভাবৈল, চর পালন্দ, আখ পালন্দসহ বিভিন্ন দুর্গম চরে গিয়ে ঘাস নিয়ে আসেন। জনপ্রতি তারা ভাড়া নেন ৪০ টাকা।

তিনি আরও জানান, এ সময় চরে প্রচুর পরিমাণে কড়চা, বন, দুবলা ও বাকশীজাতীয় ঘাস পাওয়া যায়। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত চরগুলোতে যায়।

যাওয়ার সময় তেমন ঝুঁকি না থাকলেও ফেরার সময় অতিরিক্ত লোড থাকায় বেশ ঝুঁকি থাকে। ভরা বর্ষায় তীব্র স্রোত ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

আমের ক্রেতা নেই, বড় ক্ষতির মুখে চাষি

আমের ক্রেতা নেই, বড় ক্ষতির মুখে চাষি

নওগাঁয় প্রখর রোদে সারি সারি ভ্যানের ওপর আম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

পোরশা উপজেলা সদরের আমচাষি মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি প্রায় ১০ মণের মতো আম নিয়ে এসেছি। দুই ঘণ্টা ধরে ভ্যানের ওপর রোদে বসে আছি, ক্রেতার দেখা নেই। একজন নাগফজলি আমের দাম ১৩৫০ টাকা করে মণ বলে গেলেন। এ দামে আম বিক্রি করলে কোনো লাভই হবে না। অন্যদিকে বাগানে আম পেকে যাওয়ার সময় হয়েছে, দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে বিপুল ক্ষতি হয়ে যাবে।’

নওগাঁর হাটবাজার, আড়ত ভরে গেছে নানা জাতের আমে। ২৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরুর পর যে হারে আম বাজারে আসছে সেই অনুপাতে ক্রেতা নেই।

করোনার ব্যাপক সংক্রমণ ও বিশেষ লকডাউনের কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলাসহ জেলা সদরে ঢুকছেন না। এতে আমের বেচা-কেনায় নেমেছে ধস।

আমের বাজারগুলোতে মান ও আকারভেদে প্রতিমণ গোপালভোগ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, ক্ষীরশাপাতি ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা, নাগফজলির ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এবার ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টরে আমের ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৫ শ কোটি টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে করোনার প্রকোপ ও লকডাউনে আমের বাজারগুলোতে এবার বাইরের পাইকাররা কম আসছেন।

প্রখর রোদে সারি সারি ভ্যানের ওপর আম নিয়ে মাথায় গামছা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন চাষিরা। একটু ভালো দামের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তারপরও ন্যায্য দাম ও ক্রেতা না পেয়ে অনেক চাষি আম নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। অনেক চাষি ব্যবসায়ীদের চাওয়া পানির দরে ছেড়ে দিচ্ছেন কষ্টে উৎপাদিত আম।

গত বছর জাতভেদে আমের যে দাম ছিল, এবার তার অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমের বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

নিয়ামতপুরের আমচাষি মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সাত বিঘা জমিতে আমের আবাদ করেছি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আমের দামই তেমন বলছেন না। গোপালভোগ ও ক্ষীরশাপাতি জাতের ছয় মণ আম এনেছি বিক্রি করতে। গোপালভোগ আমের দাম বলছে ১২০০ টাকা মণ আর ক্ষীরশাপাতি ১৩০০ টাকা।

‘গত বছর গোপালভোগ বিক্রি করেছি ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং ক্ষীরশাপাতি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা করে মণ। এবার আমের যে দাম আমরা লাভের মুখ দেখব না। লোকসানে পড়ে যাব।’

করমুডাঙ্গা গ্রামের চাষি মনিরুল ইসলাম আম নিয়ে এসেছেন সাপাহার সদরের আড়তে বিক্রি করতে। তিনি জানান, ‘২০ বিঘা জমিতে আমের আবাদ করেছি। সকাল থেকে দুটি ভ্যানে করে নাগফজলি ও গুটি জাতের আট মণ আম নিয়ে বসে আছি, ক্রেতা তেমন নেই। কয়েকজন ক্রেতা এসে যে দামে আম কিনতে চাচ্ছেন সেটা বলার মতো নয়।

‘গুটি আমের দাম বলছেন ৫০০ টাকা মণ আর নাগফজলির দাম বলছেন ১৪০০ টাকা। আম আবাদে প্রতি বিঘায় শ্রমিক, সেচ, নিড়ানি, ভিটামিনজাতীয় ওষুধ প্রয়োগে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এত কম দামে আম বিক্রি করলে লাভ করতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘বাইরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা নওগাঁয় আম কিনতে আসছেন না করোনার সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে। অন্য জেলায় পাইকাররা ৫৫ টাকা কেজিতে প্রতি মণ হিসেবে আম কেনেন। আর আমরা ৪৫ কেজিতে মণ হিসেবে আম বিক্রি করি। এসব কারণেই নাকি ক্রেতা সংকট ও আমের দাম কম।’

পোরশা উপজেলা সদরের আমচাষি মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি প্রায় ১০ মণের মতো আম নিয়ে এসেছি। দুই ঘণ্টা ধরে ভ্যানের ওপর রোদে বসে আছি, ক্রেতার দেখা নেই। একজন নাগফজলি আমের দাম ১৩৫০ টাকা করে মণ বলে গেলেন। এ দামে আম বিক্রি করলে কোনো লাভই হবে না। অন্যদিকে বাগানে আম পেকে যাওয়ার সময় হয়েছে, দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে বিপুল ক্ষতি হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যেন দ্রুত আমের বাজার মনিটরিং করে। বাইরের ব্যবসায়ীরা যেন আসতে পারেন, সে জন্য উদ্যোগ না নিলে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

সাপাহার উপজেলা সদরের আম ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, ‘লকডাউন ও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নওগাঁয় কম আসছেন। যারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমের অর্ডার করেন, তারাও কম অর্ডার করছেন। এ কারণে চাষিদের কাছ থেকে বেশি আম কিনতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবসায়ীদের আম কেনার জন্য নওগাঁয় প্রবেশে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ব্যবসায়ীরা পুরোদমে নওগাঁ আসতে শুরু করলে আমের বাজার দাঁড়িয়ে যাবে, বেচা-কেনা বাড়বে, চাষিরাও ভালো দাম পাবেন।’

সাপাহার আম আড়তদার সমিতির সভাপতি কার্ত্তিক সাহা জানান, রাজশাহী বিভাগে আমের মূল পাইকারি ব্যবসায়ীরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট ও ভোলাহাট উপজেলার। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না। আড়তে আসা শ্রমিকদেরও করোনার পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখনও বাজারে আসা শুরু করেননি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে এক টন হিসাবে জেলায় ৩ লাখ ৬২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৫০০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় বিশেষ লকডাউন চলছে। তবে আম বেচাকেনার জন্য চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বাস্থবিধি মেনে অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন

পদ্মার ২০ কেজির বাগাড়

পদ্মার ২০ কেজির বাগাড়

২০ কেজির বাঘা আইড় কোলে জেলে ও ব্যবসায়ী। ছবি: নিউজবাংলা

দৌলতদিয়া মাছের আড়তের ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ জানান, জেলে জাহিদ বাগাড়টি আড়তে বিক্রির জন্য আনেন। তিনি সেটি ১২৫০ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। পরপরই ঢাকার এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

রাজবাড়ীতে পদ্মা থেকে পাওয়া ২০ কেজি ওজনের বাগাড় মাছ ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন মাছ ব্যবসায়ী।

দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের অদূরে মঙ্গলবার সকালে জেলে জাহিদ হালদারের জালে আটকা পড়ে মাছটি।

গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এখন পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছের আকাল থাকলেও বড় বড় বাগাড়, বোয়াল, কাতল, রুই, পাঙ্গাশসহ নানা মাছ পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ফেরিঘাট এলাকায় নয়, পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায়ও বড় মাছ রয়েছে।

দৌলতদিয়া মাছের আড়তের ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ জানান, জেলে জাহিদ বাগাড়টি আড়তে বিক্রির জন্য আনে। তিনি সেটি ১২৫০ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। পরপরই ঢাকার এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ২ দিনে ১৪ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৪২%
২৩ বার কর্মকর্তা বদলেও এগোয়নি গির্জায় বোমা হামলার তদন্ত
হাসপাতাল থেকে সেফহোমে বুদ্ধদেব
ভারতে পাচারের ৭৭ দিন পর পালিয়ে এসে তরুণীর মামলা
উপাচার্য পদে ড. আনোয়ারের পুনর্নিয়োগ

শেয়ার করুন