খলিলের আঙিনায় আমের বাহার

খলিলের আঙিনায় আমের বাহার

খলিলুর রহমান বলেন, ‘ফল গাছ রোপণ করা আমার শখ। বিশেষ করে আমগাছ। সেই শখের বসে আমার বাড়িতে বিভিন্ন জাতের আমগাছ লাগিয়েছি। চাঁপাই, রাজশাহী ও বগুড়া থেকে চারাগুলো এনেছি।’

বাড়ির আঙিনায় ছোট ছোট আমগাছ। ফলের ভারে নুয়ে আছে ডালগুলো। একেক গাছে একেক রকম আম।

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খটকপুর গ্রামের খলিলুর রহমান শখের বসেই বছর দেড়েক আগে রোপণ করেন আমগাছগুলো।

প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটানো খলিলের এত প্রজাতির আম দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রতিবেশীরা।

আঙিনায় ১৫ জাতের আমের চারা রোপণ করেছিলেন খলিল। এর মধ্যে রয়েছে আশ্বিনা, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, বারি-৪, ল্যাংড়া, ক্ষীরমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, দুধিয়া, দাদভোগ, ফুনিয়া, দিলশাদ, কাঞ্চন ও মতিচুর।

বাহারি আম দেখতে আসা খটকপুর এলাকার বাসিন্দা সোবহান মিয়া বলেন, ‘টিভিতে দেখছি এত আম। এহন আমডার গ্রামের খলিল মিয়ার বাড়ির গাছে ধইরা রইছে কত ঢহের আম।’

খলিলের আঙিনায় আমের বাহার

ওই এলাকার বৃদ্ধা আসমতুন্নেছা বলেন, ‘কত ঢহের (ধরনের) আম। আমডার সময় এত রইঙ্গা (রকমের) আম আছিল? যুগ হল্ডাইছে (পাল্টিয়েছে)। আরও কত আম আইব। হুনছি আমডি খাইতেও হদ (মজা) আছে।’

খলিলের আঙিনায় আমের বাহার

এ বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘ফল গাছ রোপণ করা আমার শখ। বিশেষ করে আমগাছ। সেই শখের বসে আমার বাড়িতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়েছি।

‘চাঁপাই, রাজশাহী ও বগুড়া থেকে চারাগুলো এনেছি। প্রথমবারেই ভালো ফলন হয়েছে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করেছি।’

খলিলের আঙিনায় আমের বাহার

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘প্রবাসী খলিলুর রহমান তার বাড়িতে আমগাছ রোপণ করেছেন। তিনি পরামর্শ চেয়েছেন। তাকে পরামর্শ দিয়েছি।

‘এখন তার বাড়ির গাছগুলোর ডালে থরথরে ঝুলে আছে নানান প্রজাতির আম। দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। আম ছাড়াও নানান জাতের ফলদ বৃক্ষ রোপণ করেছেন তিনি।’

খলিলের আঙিনায় আমের বাহার

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিল সদস্য বাংলাদেশ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাউন্সিল সদস্য বাংলাদেশ

রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তর। ফাইল ছবি

বিশ্বের ১৮৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে চলমান ৪২তম এফএও কনফারেন্সে বাংলাদেশকে সর্বসম্মতিক্রমে সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে ২০২২-২০২৪ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিশ্বের ১৮৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে চলমান ৪২তম এফএও কনফারেন্সে বাংলাদেশকে সর্বসম্মতিক্রমে সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র দূর করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অন্যান্য কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে এখন বাংলাদেশ নীতি ও নির্বাহী পর্যায়ে এফএওর কার্যক্রম, বাজেট বাস্তবায়ন, ফলাফল ভিত্তিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণসহ প্রশাসনিক দিকগুলো তদারকিতে নেতৃত্ব দেবে। এক্ষেত্রে রোমে বাংলাদেশের দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ এমন এক সময় এ সদস্যপদ লাভ করল যখন ঢাকায় ৩৬তম এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এফএও আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

২০২২ সালের ৮-১১ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে ৪৬টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রোমের এফএও সদর দপ্তরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে চলমান কনফারেন্সে বাংলাদেশের আট সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও এফএওর স্থায়ী প্রতিনিধি মো. শামীম আহসান।

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

আউশে আগ্রহ কমেছে নেত্রকোণার চাষিদের

আউশে আগ্রহ কমেছে নেত্রকোণার চাষিদের

পূর্বধলা উপজেলার মৌদাম গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আউশ আবাদের লাইগ্যা কৃষি অফিসের কেউই কিচ্ছু কইছে না। মাঠের মধ্যে অহন কোনো ফসল নাই। আউশ করলে পোকায় দরে। খরচা বেশি অইয়া যায়। সরকারে সহযোগিতা করলে তো করলাময়েই।’

এ বছর বোরো ধানে ব্যাপক সফলতার পর আউশ ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

সরকারি কর্মকর্তারা কৃষি প্রণোদনা দিয়েছেন জানালেও চাষিরা বলছেন তারা প্রণোদনার কথাই শোনেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, নেত্রকোণার ১০ উপজেলায় চলতি বছর আউশ ধান আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৭৩ টন।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২ হাজার ৪০০ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে পাঁচ কেজি বীজ ও ৩০ কেজি সার। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে। ধান লাগানো হয়নি ২৪০ হেক্টর জমিতে। গত বছর ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হয়েছিল আউশের আবাদ।

কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রণোদনার পরও অনীহার কারণে এবার আউশের আবাদ কম হয়েছে।

তবে কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

কলমাকান্দা উপজেলার পাগলা এলাকার কনুড়া গ্রামের কৃষক মনতোষ বিশ্বশর্মা এবার তার জমিতে আউশের আবাদ করেননি। তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিসের কেউ আউশ আবাদের লাইগ্যা কইছে না। সরকার প্রণোদনা দিছে আপনের থেইক্যা পয়লা হুনলাম। বীজ, সার দিলে আমরাও করলাময়েই।’

পূর্বধলা উপজেলার মৌদাম গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আউশ আবাদের লাইগ্যা কৃষি অফিসের কেউই কিচ্ছু কইছে না। মাঠের মধ্যে অহন কোনো ফসল নাই। আউশ করলে পোকায় দরে। খরচা বেশি অইয়া যায়। সরকারে সহযোগিতা করলে তো করলাময়েই।’

মৌদাম গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তারও বলেন, ‘সরকার আগাইয়া আইলে আমরা কৃষকেরা আউশ লাগাইলাময়। কৃষি আফিসের লোকেরা তো কই কী করে হেরাই জানে। হেরা কি আর আমরার কাছে আয়ে?’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, বোরো আবাদের পরপরই জমিতে আউশ আবাদ শুরু হয়। এ সময় হাওরে আর কোনো ফসল থাকে না। এ কারণে আউশ আবাদে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের বেশি খরচ ও খাটনি হয়।

এসব কারণে কৃষকরা আউশ আবাদে কম ঝোঁকেন। তা ছাড়া এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় চাল উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার টনেরও বেশি। এতে কৃষকরা অনেকটা নিশ্চিন্ত আছেন।

এ অবস্থায় কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের চেষ্টার পরেও জেলায় আউশ আবাদে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

১৯৮২ সালে ৫৪ একর ভূমির ওপর দেশের বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। সংস্কার না হওয়ায় এর মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

জনবল-সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি।

সাত বছর ধরে কেন্দ্রটির ৮৩ পদের ৫৯টিই রয়েছে খালি। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে পোনা উৎপাদন।

কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কেন্দ্র চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

১৯৮২ সালে ৫৪ একর ভূমির ওপর দেশের বৃহত্তম এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে। এখানে রয়েছে ৭৫টি পুকুর। সংস্কার না হওয়ায় এর মধ্যে ৩০টি পুকুর কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কেন্দ্রর ৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আছেন মাত্র ২৪ জন। সাত বছর ধরে শূন্য রয়েছে একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ছয়জন বৈজ্ঞানিক ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চারজন মৎস্য সম্প্রসারণ সুপারভাইজার ও একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ৫৯টি পদ।

কেন্দ্রটিতে রয়েছে সাতটি আবাসিক ভবন। লোকবল না থাকায় একটি চার তলা ও তিনটি এক তলা ভবন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

পুকুরের পাড়গুলোও ভেঙে গেছে। বছরের বেশির ভাগ সময় পুকুরগুলোয় পানি-সংকট থাকে। ফলে রুই, কাতল, কালবাউশ ও মৃগেলের মা মাছ মরে যায়।

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

স্থানীয় মাছচাষি মশিউর রহমান মিটু, আবদুল আজিজসহ কয়েকজন নিউজবাংলার কাছে অভিযোগ করেন, প্রকৃত মাছচাষিরা পোনা পাচ্ছেন না। চাষি নন এমন লোকও পোনা পাচ্ছেন।

এসব অনিয়ম ও জনবল সংকট দূর হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং কেন্দ্রটির পুরোনা ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

হ্যাচারির কর্মচারী মোক্তার মিয়াসহ কয়েকজন জানান, জনবল সংকটের কারণে রাত-দিন কাজ করতে হয়। একই সংকটের কারণে ঠিকমতো পোনা উৎপাদন করা যাচ্ছে না। হিমশিম খেতে হয়।

তাদের একজন বলেন, ‘তারপরও প্রতিষ্ঠানের পোনা উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ কোনো রকমে চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। একসময় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা যে কাজ করতেন, এখন সে কাজ করানো হয় হ্যাচারির গার্ড ও ফিশারম্যানদের দিয়ে।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে শূন্য পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

৮৩ পদের ৫৯টিই খালি ৭ বছর

কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনবল সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর আটজন ফিশারম্যানের পদসহ ৫৯টি পদ খালি রয়েছে। জনবল সংকটের পরও গত অর্থবছরে প্রায় ৬২ লাখ টাকার রেণু পোনা বিক্রি হয়েছে। জনবল সংকট না থাকলে এ বছর চাহিদার দ্বিগুণ রেণু উৎপাদন করা যেত।

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ

ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ

‘দুই বিঘা জমিতে দুই হাজার গাছ লাগিয়েছেন। খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ। এই গাছগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেবে। সব কিছু ঠিক থাকলে দুই বছরের মধ্যে উঠে আসবে পুঁজি।’

চাকরি ভালো লাগে না। চেয়েছেন উদ্যোক্তা হতে। ইউটিউব দেখে শুরু করেন চাষাবাদ। নিজের জমিতে ড্রাগন ফলের গাছ লাগান। বছর ঘুরতেই ফল এসেছে বাগানে। সপ্তাহ খানেক পরে পরিপক্ক ফল যাবে বাজারে।

এই গল্প কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ছেপাড়া গ্রামের তরুণ আবুল ফয়েজ মুন্সীর।

২০১৬ সালে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। চাকরি না করে মনোযোগী হন কৃষিকাজে।

ফয়েজ মুন্সি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্নাতকোত্তর শেষে নিজে কিছু করার চেষ্টা করেছি। চাকরি ভালো লাগে না। তাই বাবার জমিতে শুরু করি ফল চাষ। আমার বাগানে ড্রাগন, কলা, কুল ও ত্বিন ফল গাছ রয়েছে।’

তিনি জানান, ইউটিউব দেখে তিনি ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। দুই বিঘা জমিতে দুই হাজার গাছ লাগিয়েছেন। খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ। এই গাছগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেবে। সব কিছু ঠিক থাকলে দুই বছরের মধ্যে উঠে আসবে পুঁজি ।

ফয়েজ মুন্সী এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ। তিনি প্রাথমিকভাবে কিছু ফল বিক্রিও করেছেন।

ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ


কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, জেলায় ড্রাগন চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। অনেকটা ক্যাকটাসের মতো এই গাছ। চাষিরা সিমেন্টের পিলার ও রড-টায়ার দিয়ে মাঁচা করেন। কারণ একবার গাছ বড় হলে টানা ৩০ বছর ফল দেয়। ড্রাগন গাছটিকে সোজা রাখতেই এত শক্ত করে মাঁচা করতে হয়।

দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান বলেন, ‘ওয়াহেদপুর, মোহাম্মদপুর, ইউসুফপুর মধ্যপাড়া, সাইতলা, ছেপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। আমরা চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘ড্রাগন অনেক পুষ্টিকর ফল। কুমিল্লার মাটি এই ফল চাষের উপযোগী। বিশেষ করে যেখানে পানি জমে না সেখানে ড্রাগন চাষ করা যায়। দেবিদ্বার ছাড়া বড় পরিসরে চান্দিনা, বরুড়া, লালমাই ও সদর দক্ষিণে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

ঝুঁকি এড়াতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

ঝুঁকি এড়াতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি- ২০২১’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে এবং দেশে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় পরিবেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তা থেকে রক্ষা পেতে বেশি করে গাছের চারা লাগানোর ওপর জোর দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২১’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে এবং দেশে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় পরিবেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি আন্দোলনে পরিণত করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ আন্দোলনটি পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের ও বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী ১৯৮১ সালে জীবন বাজি রেখে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৩ সালে নানান প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি কৃষক লীগের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু দেশের নয়, বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য নজির স্থাপন করেন।

এ সময় মন্ত্রী জানান কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ মাঠপর্যায়ের অফিস ও কর্মকর্তারা এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হবে ও কৃষক লীগকে সহযোগিতা করবে।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ পরপর তিনবার বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থান ধরে রাখতে যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়াকে টপকে এ স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ। এটি প্রমাণ করে করোনা ও নানান দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে ক্রমাগত ভালো করছে ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এবং বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন

‘প্রণোদনায় মজবুত খাদ্য-কৃষির অবস্থান’

‘প্রণোদনায় মজবুত খাদ্য-কৃষির অবস্থান’

সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী কৃষিতে আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সেটা বর্তমান সরকারের সময়ও ধরে রেখেছে।

বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষির অবস্থা খুব মজবুত অবস্থানে আছে বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী মঙ্গলবার খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৪২তম সম্মেলনে ‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার’ আয়োজনে বাংলাদশের অবস্থা তুলে ধরে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলক কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ওই সম্মেলনে যুক্ত হন।

সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী কৃষিতে আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০ বছর আগে ১৯৯৯-২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। সেটা বর্তমান সরকারের সময়ও ধরে রেখেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নয়নে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনতে নানামুখী প্রণোদনা দেয়া হয়। এ ছাড়া কৃষিখাতে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘কোভিড পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও নির্দেশনায় দেশে কৃষির উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহের ধারা অব্যাহত থাকে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ১১ লাখ রোহিঙ্গাও দেশে রয়েছে। যা আমাদের সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’

তিনি এ সময় উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এফএও ৩৬তম এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওনাল কনফারেন্স (এপিআরসি-৩৬) ২০২২ সালের মার্চের ৮-১১ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলন সাফল্যমণ্ডিত করতে কৃষিমন্ত্রী এফএও দেশগুলোর সহযোগিতা চান।

গত বছর এপিআরসি ৩৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশ ৩৬তম সম্মেলনের আয়োজক হিসাবে মনোনীত হয়।

করোনার কারণে ভার্চুয়ালি ১৪-১৮ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।

ঢাকা থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার, যুগ্ম সচিব তাজকেরা খাতুন, উপসচিব আলী আকবর ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব বিধান বড়াল অংশগ্রহণ করছেন।

ইতালির রোম থেকে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও ইকনোমিক কাউন্সিলর মানস মিত্র।

আরও পড়ুন:
জমছে না চাঁপাইয়ের আমের বাজার
ঢাকার পথে আমের ট্রেন
আম রপ্তানি: প্রশিক্ষণে বিদেশ যাবেন ১০ কর্মকর্তা
এক জেলাতেই ১৫০০ কোটি টাকার আম

শেয়ার করুন