তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক

তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক

তাড়াশের এক লিচু ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বললেন, ‘ভেবেছিলাম বাগান থেকে লিচুর ভালো ফল পাব। কিন্তু রোদে পুড়ে লিচু ফেটে যাচ্ছে। লিচুর রং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই লোকসান কীভাবে পোষাব জানি না।’

মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আভাস ছিল। কিন্তু টানা অনাবৃষ্টি আর কয়েক দিনের গরমে সিরাজগঞ্জ আর পাবনায় লিচু ফেটে ঝরে পড়ছে মাটিতে। কৃষকেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওখাদা গ্রামের বাগানমালিক লিয়াকত আলী মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অনেক আশা নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে মোজাফফর, চিনি চম্পা, চায়না থ্রিসহ বেশ কয়েক জাতের লিচুর চাষ করেছি। প্রথমে গাছে ভালো ফুল এলেও এখন আমি হতাশ।’

আরেক বাগানমালিক আয়শা খাতুন বলেন, ‘পারিবারিক ৩৩ বিঘা জমিতে আমরা পরিবারের সবাই ভাগাভাগি করে লিচু চাষ করি। আমাদের দেখে এখন এলাকার অনেকেই লিচু বাগান করছে।

‘ভেবেছিলাম বাগান থেকে লিচুর ভালো ফল পাব। কিন্তু রোদে পুড়ে লিচু ফেটে যাচ্ছে। লিচুর রং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই লোকসান কীভাবে পোষাব জানি না।’

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লুনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলনবিল অঞ্চলের তাড়াশে এখন বিভিন্ন রকমের ফসলের পাশাপাশি লিচু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। চলতি বছর লিচুর পরাগায়নের সময় তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ফলন কম হতে পারে। আমরা বাগানমালিকদের সব সময় ফল রক্ষায় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক

পাবনা থেকে প্রতিনিধি জানান, এ বছর পাবনার চাটমোহর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, সুজানগর উপজেলায় ৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ঈশ্বরদীতে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪১ হাজার টন। তবে প্রচণ্ড খরার কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ লিচু নষ্ট হয়ে গেছে। ফলন বিপর্যয় হয়েছে বলে স্বীকার করলেও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।

লিচু ব্যবসায়ীরা জানান, পাবনার ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ থেকে লিচু পাড়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আঁটি লিচুগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে। আরও সপ্তাহখানেক এই লিচু পাড়া হবে। এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে আসবে বম্বে লিচু।

তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক

লিচু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান শামিম জানান, প্রথম থেকেই এবার বাগান থেকে প্রতি ১০০ লিচু প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার এ রকম চড়া থাকলে বম্বে লিচু বাজারজাত করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও জানান, এখনও ২৫ শতাংশ লিচু পাড়া হয়নি। প্রতিদিন ঈশ্বরদী থেকে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক লিচু দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাজারজাত করার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে ফলন বিপর্যয় হওয়ায় এক থেকে দুই সপ্তাহের বেশি লিচুর ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।

লিচু চাষের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গাছ থেকে লিচু পাড়া, বাছাই, প্যাকেট করা ও ট্রাকে লিচু লোড করাসহ পুরো এলাকায় এখন লিচু নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ এ ব্যস্ততা থাকবে বলে জানান বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা।

তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক

লিচুচাষি আব্দুস সালাম জানান, তিনি এ বছর তিনটি বাগানে লিচুর আবাদ করছেন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে তিনটি লিচুবাগান কিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার লিচু বিক্রির টার্গেট থাকলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে এখন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তার তিনটি বাগানে দেড় শতাধিক লিচুগাছ। বেশির ভাগই হাইব্রিড বম্বে জাতের লিচু। এ ছাড়া রয়েছে দেশি প্রজাতির আঁটি লিচুর গাছ। একটি বড় গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার লিচু পাওয়া গেলেও এ বছর বড় গাছ থেকে ১০ হাজারের বেশি লিচু পাচ্ছেন না তিনি।

খরার কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ লিচু নষ্ট হয়ে গেছে বলে কৃষকরা দাবি করলেও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল কাদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লিচুর ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

সোলার ফ্যান নিয়ে মাঠে কাজ করার সময় রাজু। ছবি: নিউজবাংলা

রাজু বলেন, ‘আমি একদিন একটা ক্ষেতের সাইডে বইসে আছিলাম। দেখলাম, মেলা রইদের জন্যে এক কৃষক ফিড (অজ্ঞান) অয়ে (হয়ে) গেলো গা। পরে সবাই ধরাধরি কইরে মাথাত পানি দিল। তারপর ওই বেডা আস্তে আস্তে বালা (ভালো) অইলো (হলো)। এরপর আমি চিন্তা করলাম, কৃষকদের জন্যে কী করন যায়। পরে ৯ মাস গবেষণা কইরে কৃষকের ছায়া আর বাতাসের জন্যে আমি সোলার ফ্যান বানাই।’

জামালপুর সদরের শরিফপুর ইউনিয়নের বেপারীপাড়ার রাজু আহম্মেদ পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর টানা ২৫ বছর ধরে করছেন ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ।

বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান ঠিক করা এবং এর কয়েল বাঁধানো রাজুর প্রধান কাজ হলেও কৃষিযন্ত্র নিয়ে কাজ করা তার নেশা।

এটি করতে গিয়ে রাজু এমন একটি ফ্যান তৈরি করেছেন, যা জীবন বাঁচাতে পারে তীব্র রোদে মাঠে কাজ করা কৃষকদের।

এ ফ্যানে বাতাস যেমন মেলে, সঙ্গে ছায়াও পাওয়া যায় রোদ থেকে। ফ্যান চলে সোলার প্যানেলের সূর্যের আলোর শক্তিতে। এ কারণে এর নাম দিয়েছেন ‘সোলার ফ্যান’। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ যেমন লাগে না, পাশাপাশি সোলার প্যানেলটি এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যাতে মাথায় ছায়াও পাওয়া যায়।

বহন করাও কষ্টদায়ক নয়। মাত্র আড়াই কেজির সোলার ফ্যানটি কাঁধে লাগিয়ে মাঠজুড়ে কাজ করতে পারেন কৃষক।

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজু জানান, এ ধরনের ফ্যান তৈরির চিন্তা তার মাথায় আসে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

তিনি বলেন, ‘আমি একদিন একটা ক্ষেতের সাইডে বইসে আছিলাম। দেখলাম, মেলা রইদের জন্যে এক কৃষক ফিড (অজ্ঞান) অয়ে (হয়ে) গেলো গা। পরে সবাই ধরাধরি কইরে মাথাত পানি দিল। তারপর ওই বেডা আস্তে আস্তে বালা (ভালো) অইলো (হলো)।

‘এরপর আমি চিন্তা করলাম, কৃষকদের জন্যে কী করন যায়। পরে ৯ মাস গবেষণা কইরে কৃষকের ছায়া আর বাতাসের জন্যে আমি সোলার ফ্যান বানাই।’

রাজু কাজ করেন শরিফপুর বাজারে ছোট্ট একটি দোকানে ইলেকট্রিশিয়ানের সহযোগী হিসেবে। সেই দোকানেই তার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

রাজু বলেন, ‘কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে গবেষণা কইরেই আমার দিন যাইতাছে। এরপরে যা কামাই করি তার অর্ধেক সংসারে দেই আর অর্ধেক গবেষণার জন্যে মাল (যন্ত্রপাতি) কিনি। আমি পয়লা ২০১১ সালে আম পাড়ার ডিজিটাল একটা যন্ত্র বানাই।

‘এইডেই প্রথম। এরপরে ২০১৬ সালে কইডা (কয়েকটা) মেশিন বানাইছিলাম। যেডে (যেটা) দিয়ে ঘাস কাটা যায়, মাটির ঢেলা পরিষ্কার করা যায়, ক্ষেত নিড়ানো যায়, হাল দেয়া যায়, মই দেয়া যায়, ভুট্টার বীজ বপন করা যায়।

‘এরপর ২০১৭ সালে মোবাইল দিয়ে পাখি তাড়ানোর এডা (একটা) মেশিন বানাই। সরকারি লোকেরা এডার নাম দিছিলো ডিজিটাল কাকতাড়ুয়া।’

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

তিনি জানান, ওই যন্ত্রগুলো এখন আর তার কাছে নেই। বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তারা এসে নিয়ে গেছেন, কিন্তু পরে আর সাড়া পাননি।

এসব কারণে ২০১৭ সালে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অভাবেও পড়েন। এরপর টানা তিন বছর এ ধরনের কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপরই ক্ষেতের পাশে বসে থাকা অবস্থায় কৃষকের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ওই ঘটনাটি দেখেন।

তারপরই ফ্যানটি তৈরি করেন তিনি। যন্ত্রটি তৈরি করতে রাজু ২০ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল, ১২ ভোল্টের ডিসি দুটি ছোট ফ্যান, দুটি সুইচ, একটি বেল্ট ও বডি মেকানিক্যাল ব্যবহার করেছেন।

রাজু বলেন, ‘এইটা বানাইতে আমার অনেক খরচ হইছে। ব্যাটারি দিলে অনেক ওজন হয়, আর কারেন্টের বানাইলে কৃষকের খরচ বেশি হইব। তাই সোলার ফ্যান বানাইছি।

‘প্রথমে দুইটা ফ্যানের ওজন বেশি হওয়ায় বাদ দিয়ে দিছি। পরে এখন এইটা বানাইছি। এইটার ওজন আড়াই কেজি। এইডা বানাইতে আমার চৌদ্দ শ টাকা খরচ হইছে।’

সোলার ফ্যান নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যদি সরকারি সহায়তা পাই, তাহলে এই ফ্যানটি চারভাবে নির্মাণ করে বাজারে ছাড়মু। এর ফলে কৃষকরা অনেক উপকৃত হইব। যদি ভালোভাবে বানাতে পারি তাইলে কৃষকরা ৩০০ থাইকে শুরু কইরে ১ হাজার টাকার মধ্যে এই ফ্যান কিনতে পারব।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে রাজু বলেন, ‘আমি একটা ইঞ্জিন বানাইছি। যেইডে (যেটা) কোনো জ্বালানি ছাড়া শুধুমাত্র বাতাস দিয়ে চলব। এর কাজ ৯০ শতাংশ শেষ।

‘কিছু কাজ বাকি আছে। এর জন্যে অনেক টাকার প্রয়োজন, তাই সরকারি সহায়তার খুব প্রয়োজন।’

রাজুর সোলার ফ্যানে বাতাসের সঙ্গে মেলে ছায়াও

রাজুর ফ্যান ব্যবহারকারী এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে ক্ষেতে কাম করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাইতাম। ঘাম হইত, অসুখ হইত, মাতা বেন্দা (ব্যথা) করত। এহন এই ফ্যান ব্যবহার করলে অনেক বাতাসও লাগে আবার ছায়াও আসে। তাই আমি মাঝে মধ্যে রাজু ভাইরে ডাক দিয়ে আইনে এই ফ্যান ব্যবহার করি।’

শরিফপুর ইউনিয়নের আরেক কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘রাজু যে ফ্যানডা বানাইছে। এইডে আমারসহ সব কৃষকেরই দরকার। কিন্তু রাজুর কাছে টাকা নাই। তাই চাহিদা থাকলেও ফ্যান সাপ্লাই দিবার পাইতাছে না।’

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন আনসারী সুমন বলেন, ‘যাদের রৌদ্রে বের হতে সমস্যা হয়, তারা এই সোলার ফ্যানটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে রোদ থেকে বাঁচা যাবে আর বাতাসও পাওয়া যাবে।’

শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার পরিষদের পক্ষ থেকে রাজুকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার করব। এতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।’

রাজুর সোলার ফ্যান নিয়ে জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজু উদ্ভাবন পাগল একজন মানুষ। সে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে খুবই ভালোবাসে। তবে সে অত্যন্ত গরিব বলে এই যন্ত্রটি উন্নত করতে পারছে না।’

তিনি জানান, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে তারা জয়দেবপুরে কৃষি প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাজুকে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা করা যায় কি না সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

খুব সকালে নয়তো গোধূলিবেলায় কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ শিকার করেন জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ে বাগদা চিংড়ি, বোয়াল, কালবাউশ, বাইনসহ নানা প্রজাতির মাছ।

কয়েক দিন ধরে গোমতী নদীতে জেলেদের জালে দুই-একটা করে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। এগুলো নদীর পাড় থেকেই কিনে নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের ডুমুর নামক স্থানে উৎপন্ন হয়ে ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করে কুমিল্লা সদর উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর গোলাবাড়ী, টিক্কারচর, কাপ্তানবাজার হয়ে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, কোম্পানীগঞ্জ, দাউদকান্দি হয়ে জোয়ারভাটাহীন নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে।

গোমতীর আলেখারচর অংশে শনিবার বিকেলে জেলেদের জালে চিংড়ি কালবাউশের সঙ্গে একটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলে আবদুর রহিম বলেন, ‘মাজে মইধ্যে দুই একডা ইলিশা মাছ পাই। ইলিশাটি ছোডু। মাঝে মইধ্যে আবার বড়ও ধরা পড়ে। কয়দিন আগে এক কেজি ওজনের একটা পাইছিলাম। আশটে শ (৮০০) টেহায় বেচ্চি।’

গোমতীতে ধরা পড়ছে ইলিশ

গোমতী নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া নিয়ে বিস্মিত নন নদীপাড়ের মানুষ।

নদীটির আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, ‘মইধ্যে মইধ্যে এক-দুইডা ইলিশ পাওন যায়। জাউল্লাডি (জেলেরা) জাল দিয়া বেড় দেয়। একটা-দুইডা ইলিশ উডে। এডি আবার মাইনষে বেশি দামে কিন্না লইয়া যায়।’

গোমতী নদীতে ইলিশ পাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মো. শাহজাহান ভূঁইয়া।

তিনি জানান, ইলিশ মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য উজানের পদ্মা, মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে আসে।

তিনি আরও বলেন, ‘গোমতী নদীটি মেঘনার সঙ্গে মিলেছে। প্রজননের সময় পদ্মা ও মেঘনা হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দু-চারটে ইলিশ গোমতীতে চলে আসতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না।’

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

সাতক্ষীরায় টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। তিন মাস আগে জলোচ্ছ্বাস ইয়াসের প্রভাবে ঘেরের ১৬ কোটি টাকার ক্ষতির পর এখন মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

সাতক্ষীরায় অতিবৃষ্টিতে পুকুর উপচে পানিতে ভেসে গেছে রোপা আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের। পানিতে থইথই করছে সাত উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন আর দুই পৌরসভার নিম্নাঞ্চল।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, তিন দিনের বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সাড়ে ১৯ হাজারের মতো চিংড়ির ঘের। তিন মাস আগে জলোচ্ছ্বাস ইয়াসের প্রভাবে ঘেরের ১৬ কোটি টাকার ক্ষতির পর এখন মাত্র তিন দিনের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার বেশির ভাগ নিচু এলাকা এখন পানির নিচে। পৌরসভার ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা হাসান ঔরঙ্গীন (ময়না) জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এ এলাকা তলিয়ে যায়। আর বৃহস্পতিবার থেকে যে বৃষ্টি, তাতে চারদিকে পানি থইথই করছে। চারদিকে আটকানো পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। এই অবস্থা থেকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থাও নেই।

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল জানান, পৌরসভায় পানিনিষ্কাশনের যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। গুটি কয়েক লোক পৌরসভার মধ্যে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

গত দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পৌরসভার ইটাগাছা, কামাননগর, রসুলপুর, মেহেদিবাগ, মধুমোল্লারডাঙ্গী, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোল, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুড্ডিরডাঙি, কাটিয়া মাঠপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙা ইউনিয়নের বিলগুলোতে রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণসায়ের খালও পানি টানতে পারছে না। প্লাবিত এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

অতিবৃষ্টির ফলে গদাইবিল, ছাগলার বিল, শ্যাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, কচুয়ার বিল, চেলারবিল, পালিচাঁদ বিল, বুড়ামারা বিল, হাজিখালি বিল, আমোদখালি বিল, বল্লীর বিল, মাছখোলার বিলসহ কমপক্ষে ২০টি বিল ডুবে গেছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে গেছে পানিতে।

বেতনা নদীর তীরবর্তী বিলগুলোর পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে না পেরে পৌর এলাকার ভেতরে ঢুকছে। সবজি ক্ষেতগুলো ভাসছে পানিতে। মানুষের যাতায়াতেও ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনিসহ জেলার সাতটি উপজেলা। সেখানে প্রধান রাস্তার ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থইথই করছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি, কৈখালী, রমজাননগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নেরও চিত্র একই। বসতবাড়িতে উঠেছে পানি। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার মানুষ।

তালা উপজেলার ইসলামকাটি, মাগুরা, কুমিরা, খেশরা, তেঁতুলিয়া, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।

কালীগঞ্জের রতনপুর, কালিকাপুর, বিষ্ণুপুর, মথুরেশপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও সবজিক্ষেত ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেবহাটার কোমরপুর, পারুলিয়া, সখীপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়েছে পুকুর ও ঘের।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

কলারোয়ার জয়নগর, ধানদিয়া, যুগিখালি, সোনাবাড়িয়া, শ্রীপতিপুর, ব্রজবকসসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি ওঠায় ব্যহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৫ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। আর ৮৬০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ হেক্টর জমির সবজিরও নষ্ট হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় মাছের ক্ষতি হয় ১৭৬ কোটি টাকা। ইয়াসের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতি হয় ১৬ কোটি টাকা। সবশেষ এই বৃষ্টিতে ব্যাপক বর্ষণে ৫৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে আশাশুনির শ্রীউলা এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আলাউল ইসলাম বলেন, ‘বছরে তিন থেকে চারবার আমাদের মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেই। ৫০ বিঘার একটি ঘেরে আম্পানে আমার ক্ষতি হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। ইয়াসে ক্ষতি ছিল ৫ লাখ টাকা। আর বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে ঘের ভেসে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।’

ঘের ব্যবসা আগামীতে বাদ দেবেন বলে জানিয়েছেন আলাউল ইসলাম।

বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় ভাসল ১৯ হাজারের বেশি ঘের

শ্যামনগরের পদ্মপুকুর এলাকার ঘের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, তার ১০০ বিঘার একটি ঘের রয়েছে। তার ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবেন এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তা আছেন।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবু জর গিফারী বলেন, ‘আমার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ২০ টন চাল দেয়া হয়েছে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার ১৯ হাজার ৪৫৯টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মাছের ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘর-বাড়িসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আজকের মধ্যে পেয়ে যাব। তখন কোথায় কেমন বরাদ্দ করতে হবে তা বুঝতে পারব।

তিনি আরও বলেন, ‘চলমান অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলাব্যাপী ঘেরের সকল অবৈধ নেট-পাটা স্থাপনকারীকে স্ব-উদ্যোগে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় নেট-পাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলিয়ে ৯৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্ষা ঋতুর দ্বিতীয় মাস শ্রাবণে সাধারণত টানা বৃষ্টি থাকে দেশে। তবে শ্রাবণের অর্ধেক চলে গেলেও পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দেখা নেই বৃষ্টির। এতে অনেকটা প্রকৃতিনির্ভর আমন চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে।

মূল মৌসুমে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বৃষ্টি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিগুলোতে এখনও চারা রোপণ করতে পারেননি কৃষকরা। এতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

পঞ্চগড় কৃষি বিভাগ জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বর্ষাকালে ঠিকমতো বৃষ্টির দেখা মিলছে না। গত বছর জুলাই মাস পর্যন্ত জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫১০ মিলিমিটার। সেখানে এ বছর জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১ হাজার ৪২৭ মিলিমিটার।

এমন পরিস্থিতিতে সেচযন্ত্র ব্যবহার করে কৃষকদের আমন চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এভাবে কৃষকরা আমন চারা রোপণের কাজ শেষ করবেন বলে আশা কৃষি বিভাগের।

কৃষকরা জানান, হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোতে বন্যার প্রকোপ কম থাকায় নিচু ও অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে প্রকৃতিনির্ভর আমন ধান চাষ করা হয়। বর্ষার শুরুতেই চারা রোপণ শুরু হয়। এরপর হওয়া বৃষ্টির পানিতেই উঠে আসে আবাদ। আলাদা করে সেচ দিতে হয় না।

এ বছরও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ার পর আমন চারা রোপণ শুরু করেন কৃষকরা। তবে শেষদিকে এসে পানির অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে চারা রোপণের কাজ। নিচু জমিতে চারা রোপণ শেষ হলেও প্রায় ১৪ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে পানির অভাবে এখনও চারা লাগানো যায়নি। আগে চারা লাগানো অনেক জমির পানিও শুকিয়ে গেছে।

আমনের চারা লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এসব জমিতে আর চারা রোপণের সময় থাকবে না। চারা রোপণ করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কায়েত পাড়ার চাষি আনিসুর রহমান জানান, পানির অভাবে ১০ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগাতে পারছেন না। সময়মতো রোপা লাগাতে না পারলে ফলন নেমে আসবে অর্ধেকের কমে।

সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হাশেম আলী বলেন, ‘আমি এবার প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করব। ইতোমধ্যে ১৫ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগানো হয়েছে। পানির অভাবে এখনও ৩ বিঘা জমিতে চারা লাগাতে পারিনি।

‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে এ জমিগুলো পতিত রাখতে হবে। আরেক সমস্যা হলো, যেসব জমিতে চারা লাগিয়েছি সেগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি না হলে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিতে হবে। এতে করে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।’

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় মিলিয়ে ৯৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এরই মধ্যে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশ জমিতে আমন চারা লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বাকি জমিতে চারা লাগানোর কাজ থমকে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে সেচ দিয়ে হলেও জমিতে চারা রোপণের পরামর্শ দিচ্ছি। আমাদের পরামর্শ মোতাবেক অনেক কৃষক শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি, আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে জমিতে আমন চারা রোপণের কাজ শেষ করতে পারবেন চাষিরা।’

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে অনাবৃষ্টির কারণে নষ্ট হচ্ছে আমনের চারা। ছবি: নিউজবাংলা

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। বৃষ্টির অপেক্ষায় চলে যাচ্ছে আমন রোপণের মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকে তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন।

বন্যা কারও জন্য আশীর্বাদ, কারো জন্য সর্বনাশ। যে শ্রাবণ মাসে নদ-নদী, পুকুর-খাল-বিলে পানি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, সেখানে উল্টো চিত্র কুড়িগ্রামে। ভারী বৃষ্টিপাত নেই। ফলে তাপপ্রবাহ চলছে জেলায়।

১৬টি নদ-নদীর কুড়িগ্রাম জেলায় রয়েছে ৩১৬ কিলোমিটার নদীপথ। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী এবং রাজিবপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদই রয়েছে ৩৭ কিলোমিটার।

তিস্তা নদী রাজারহাট, উলিপুর এবং চিলমারীতে ৩৫ কিলোমিটার। ধরলা নদী ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম সদর এবং উলিপুরে ৩৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ নদী এখন প্রায় পানিশূন্য। ভারতের উজান থেকে নদ-নদী দিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মেট্রিক টন পলি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদী দিয়ে আসে। ফলে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন- এই চার মাস নদীগুলোতে কানায় কানায় পানি থাকে। বছরের বাকি আট মাসের মধ্যে কার্তিক, অগ্রহায়ণ- দুই মাস পানি মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায়। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ মাসে পানি একেবারে কমে আসে।

উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে পানিপ্রবাহ কমে আসায় নদীগুলোতে পানিসংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম
সেচের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে আমনের চারা

কুড়িগ্রামে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে চলে যাচ্ছে আমন রোপণের মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকেই তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন। চড়া রোদের কবল থেকে চারা বাঁচাতে অনেকে দফায় দফায় সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচও। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছ না পেয়ে জেলেরা অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি এলাকার কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, সেচ দিয়ে চারা লাগানোর পরও তীব্র খরায় জমি ফেটে যাচ্ছে। বারবারেই সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। অথচ এই সময় তারা বৃষ্টির পানিতেই আবাদ করেন।

কিন্তু এ বছর আবাদ শুরুতেই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সামনে বৃষ্টি না হলে আগাম খরা দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

পাঁচগাছি ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক স্বপন আহমেদ বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে রোপণ বিলম্বিত হওয়ায় চারার বয়স বেড়ে রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ছত্রাক ধরে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা।

এ অবস্থায় আমন রোপণ নিয়ে সংকটে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। বাড়তি খরচে সেচ দেয়ার সংগতি নেই যাদের, সেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি রয়েছেন বিপাকে।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম


ধরলা নদী জেলে মকবুল হোসেন বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তেমন বৃষ্টি নেই। প্রচণ্ড গরম। নদীতেও পানি নেই। গত বছর এই সময় বন্যা থাকায় তার মাছ ধরে সংসার চলেছে। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিও নেই, নদীতে পানিও নেই।

মকবুল হোসেন আরও বলেন, ‘নদীর পাড়ত আসলে চোখে পানি আসে। সারা দিন রোদে বসি থাকি হাফ কেজি মাছও পাও না। লকডাউন চলতেছে, তেমন কাজও নাই। এখন সংসার চালানো কঠিন।’

পৌরসভার সিঅ্যান্ডবি এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, এবার শ্রাবণ মাসেও তাপমাত্রা কমছে না। তাপমাত্রা বেশি থাকায় গরমে জ্বর, চুলকানি, ঘা-পাঁচড়া, ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকায়। এই ভ্যাপসা গরমে শিশু আর বয়স্কদের খুব কষ্ট হচ্ছে। রোদে জমির পটোল, করলা, বেগুনক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামে অর্ধশতাধিক নদ-নদী রয়েছে, সেগুলোর পরিচর্যা করা হয় না। ফলে অনেক নদী ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বাকিগুলো ভরাট হয়ে পড়ছে।

‘এতে বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে অল্পতেই বন্যা এবং নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে করে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফসলের ক্ষতি হয়, জমির ক্ষতি হয়। যে বছর বৃষ্টি কম হয়, সে বছর পানির স্তর কমে যায়।

ভরা বর্ষায় খরার মুখে কুড়িগ্রাম


‘গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলার কারণে মাটির উপরিভাগের গঠন নষ্ট হয়ে যায়। কুড়িগ্রামের নদীগুলোকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংস্কার এবং খনন করে সারা বছর পানিপ্রবাহ ধরে রাখা যায়।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, মধ্য আগস্ট পর্যন্ত চারা রোপণের সময় থাকলেও চারার বয়স বেড়ে গেলে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কৃষকদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চারা রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। জেলায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক গভীর নলকূপসহ প্রায় সব সেচপাম্প চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ করেছেন কৃষকরা। এর ৮০ ভাগই সেচের সাহায্যে রোপণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও রংপুর অঞ্চলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বর্তমানে লঘুচাপটি স্থল নিম্নচাপ আকারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাব কেটে যাওয়ার কারণে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে এই মুহূর্তে অতিভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার পূর্বাভাস নেই।

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

ঘের ভেসে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি, নষ্ট ২০০ হেক্টর বীজতলা

ঘের ভেসে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি, নষ্ট ২০০ হেক্টর বীজতলা

খুলনায় জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে গেছে মৎস্য ঘের, আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে খুলনা জেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে ২০০ হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে। মৎস্য ঘেরে ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৫০ কোটি টাকা। অনেক ঘর-বাড়ি ও সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমিনুল আজাদ জানান, খুলনায় বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২১ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া কয়রায় বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ মিলিমিটার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, জোয়ারের প্রভাবে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে দুই ফুট বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছার নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ডুবে গেছে মৎস্য ঘের, আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কয়রার গাতিরঘের এলাকার বাসিন্দা মওলা বক্স জানান, জোয়ার ও বর্ষার পানিতে তার উঠান ও গোয়ালঘরে পানি উঠে গেছে। ফলে পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে দারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পাইকগাছার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার জানিয়েছেন, পানির চাপে পাইকগাছার গদাইপুর, রাড়ুলী, চাঁদখালী, লস্কর, কপিলমুনি ও হরিঢালীসহ বিভিন্ন স্থানে মৎস্য ঘের, আমন বীজতলা ও ফসলী জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পাইকগাছার মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী ইউনুছ আলী জানান, দুই দিনের টানা বৃষ্টিপাতে তার ১০ বিঘার মৎস্য ঘের পানিতে ডুবে গেছে। জাল ও নেট দিয়ে রক্ষার চেষ্টা চলছে।

দাকোপের ঘের ব্যবসায়ী সোহাগ আহমেদ বলেন, ৫ বিঘার ঘেরে সব পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সব মাছ পানিতে ভেসে গেল। এখন আর কোনো উপায় রইল না।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিবর্ষণে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে চরম ভোগান্তির তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া দুই দিনের বৃষ্টিতে এলাকার মানুষের আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে আমন চাষ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার বিশ্বাষ বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে খুলনা জেলায় ডুবে যাওয়া মৎস্য ঘেরে অন্তত ৫০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

খুলনা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, ভাটা শেষ না হতেই জোয়ার শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে বর্ষা হচ্ছে। এ অবস্থায় খুলনা জেলায় ২ শ’ হেক্টর আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে রয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন

বড়শিতে ধরা পড়ল ১৬ কেজির কাতল

বড়শিতে ধরা পড়ল ১৬ কেজির কাতল

কুড়িগ্রামের মামুন ব্যাপারীর বড়শিতে ধরা পড়েছে ১৬ কেজির কাতল মাছ। ছবি: নিউজবাংলা

মামুন বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে ধরলা নদীতে ৯টি বড়শি ফেলি। আমার সঙ্গে প্রতিবেশী আতিকুল, সফিকুল ও সাজুও ছিল। বড়শি ফেলে সবাই গল্প করছিলাম। রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি বড়শিতে বড় মাছ আটকা পড়েছে বলে বুঝতে পারি।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ধরলা নদীতে এক যুবকের বড়শিতে ধরা পড়েছে ১৬ কেজি ওজনের কাতল মাছ।

উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় বুধবার ভোরে মাছটিকে নদীর তীরে তোলা হয়।

মাছটি ধরেছেন একই ইউনিয়নের সিতাইঝাড় ব্যাপারীপাড়া গ্রামের মামুন ব্যাপারী।

মামুন বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে ধরলা নদীতে ৯টি বড়শি ফেলি। আমার সঙ্গে প্রতিবেশী আতিকুল, সফিকুল ও সাজুও ছিল। বড়শি ফেলে সবাই গল্প করছিলাম। রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি বড়শিতে বড় মাছ আটকা পড়েছে বলে বুঝতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে বন্ধুদের সহযোগিতায় মাছটিকে নদী থেকে ওপরে তুলি। বড়শিতে ধরা পড়া কাতল মাছটির ওজন ১৬ কেজি।’

মামুনের প্রতিবেশী আতিকুল বলেন, ‘মামুনের নেশা রাত জেগে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা। আমরাও মাঝেমধ্যে বড়শি নিয়ে আসি। হঠাৎ এত বড় মাছ বড়শিতে আটকা পড়ায় আমরা বেশ অবাক হয়েছি।’

মামুনের বাবা এবং পাঁচগাছী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা তিন ভাই মিলে মাছটি কেটে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছি।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় বলেন, ‘এর আগে ধরলা নদী থেকে এত বড় কাতল মাছ বড়শি দিয়ে তোলা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। বর্তমান বাজারে এই ওজনের মাছের দাম অন্তত ১৬ হাজার টাকা।’

আরও পড়ুন:
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম
বৈশাখেই মিলছে লিচু
লিচুগাছে আম!

শেয়ার করুন